Tag: asthma

asthma

  • Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবন যাপনের ধরন। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগের দাপট। আন্তর্জাতিক একাধিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বের মোট ফুসফুসের রোগে আক্রান্তের ১২ শতাংশ ভারতীয়। ভারতের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। ভারতে ফুসফুসের রোগ অন্যতম প্রধান অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে। আর ফুসফুসের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জীবন যাপনের ধরন। এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

    কী বলছে নয়া তথ্য?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধূমপানের মতো অভ্যাস। তবে, ধূমপান ছাড়াও এমন একাধিক অভ্যাস রয়েছে, যা নিঃশব্দে ফুসফুসের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু অধিকাংশের মধ্যেই সে সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। প্রত্যেক বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটা বড় অংশ, এমন আছেন, যারা কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু তাঁরা ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, হাঁপানি এমনকি ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। প্রত্যেক দিনের জীবন যাপনের ধরন ফুসফুসের রোগের কারণ‌ হয়ে উঠছে!

    কোন অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    ল্যাপটপের সামনে ৮-১০ ঘণ্টা 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাজের ধরন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কর্মজগতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ দিনের ৮-১০ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাটায়। দীর্ঘসময় ল্যাপটপের সামনে একটানা বসে থাকতে হয়‌। আর দীর্ঘ সময় এই বসে থাকাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। হৃদপিন্ড এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও তাই কমে। এগুলো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে, যে কোনও ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    শরীর চর্চায় ঘাটতি বাড়ায় ঝুঁকি

    শরীর চর্চায় ঘাটতি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কাজের সময় এতটাই বেশি এবং অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়। এর ফলে দিনের বেলায় শরীর চর্চা করার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এতে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে। ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। ফলে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কিন্তু যোগাভ্যাসে অনীহা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জটিলতা তৈরি করছে‌।

    কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহারও কারণ

    ফুসফুসের সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহার। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের দূষণ নিয়ে আলোচনা হলেও, ঘরের ভিতরের দূষণ নিয়ে একেবারেই সচেতনতা তৈরি হয়নি। এর ফলে, বিপদ বাড়ছে। লাগাতার মশানাশক ওষুধের ধোঁয়া কিংবা অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ঘরে ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকেই কাঠে রান্না করেন। আবার শহরাঞ্চলে গ্যাসে রান্না করলেও কেউ কেউ জানলা বন্ধ করে রান্না করেন, এর ফলে ধোঁয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এই ধরনের অভ্যাস এ দেশে ফুসফুসের রোগের বোঝা বাড়াচ্ছে।

    কিছু নির্দিষ্ট পেশায় ঝুঁকি বেশি

    এর পাশপাশি কিছু নির্দিষ্ট পেশায় কর্মরত মানুষদের কাজের জন্য ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লা খনি কিংবা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষদের ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, লাগাতার ধুলো ও দূষিত ধোঁয়া ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, পেশাগত ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতখানি মানা হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

    ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে এই বিপুল সংখ্যক ফুসফুসের রোগের বোঝা, জনস্বাস্থ্যের বড় বিপর্যয় হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি। সব মহলে সতর্কতা না বাড়লে, বিপদ কমবে না। তাই দিনভর একজায়গায় বসে কাজ থাকলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করা জরুরি। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে আবার শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতাও ঠিকমতো চলবে।

    নিয়মিত যোগাভ্যাস

    ব্যস্ততা সত্ত্বেও যোগাভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁর জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান। কিন্তু দিনে তিরিশ মিনিট যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন না। ফলে, একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সচেতনতার মাধ্যমে এই মানসিকতা বদল প্রয়োজন। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের অন্যান্য কাজের মতোই যোগাভ্যাসকে নিয়মিত অভ্যাসে রপ্ত করতে হবে। তাহলেই নানান জটিলতা কমবে।
    তবে ধূমপান ফুসফুসের বিপদ সবচেয়ে বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান বর্জন করতেই হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Asthma Risk: প্রতি বছর ২ লাখ মৃত্যু! কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যাজমা? কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Asthma Risk: প্রতি বছর ২ লাখ মৃত্যু! কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যাজমা? কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি শিশু থেকে প্রৌঢ়, সকলেই প্রায় বিপদের সীমায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন! ফি-বছর উদ্বেগ বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশপাশি বাড়ছে মৃত্যু হার। অ্যাজমা ভারতের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্ব অ্যাজমা সচেতনতা দিবসে, এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার পাশপাশি, কীভাবে এই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে রেখে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো যায়, সেই সম্পর্কেও লাগাতার প্রচার কর্মসূচি চালানোর কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    ভারতে কতখানি বিপজ্জনক এই রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বক্ষঃরোগের দাপট দেশ জুড়ে বাড়ছে। ফুসফুসের একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের অ্যাজমার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশের সাড়ে তিন কোটি মানুষ অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। বিশ্বে মোট অ্যাজমা আক্রান্তের ১৩ শতাংশ এ দেশের মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মৃত্যু হার। প্রতি বছর ২ লাখ মানুষ অ্যাজমার কারণে মারা যান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে অ্যাজমার কারণে মৃত্যু হার অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ দেশে অ্যাজমা মৃত্যুর অন্যতম কারণ ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হওয়া এবং স্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহার না করা।

    কাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে নতুন করে অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে শিশুদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে নতুন ভাবে অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৫ শতাংশের বয়স ১৪ বছরের কম। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অত্যাধিক বায়ুদূষণ, ধোঁয়া, অ্যালার্জি থেকেই শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যাজমা মানেই মৃত্যু নয়। ঠিকমতো চিকিৎসা হলে এই রোগের জটিলতা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভারতে সময় মতো এই রোগের চিকিৎসা শুরু হয় না। তাই মৃত্যু হার এত বেশি। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, অ্যাজমার জটিলতা কমতে ইনহেলার ব্যবহার করা জরুরি। নিয়মিত প্রয়োজনীয় ইনহেলার ব্যবহার করলে আক্রান্তের শরীর ঠিক থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হবে না। মৃত্যুর আশঙ্কাও কমবে। তবে, ইনহেলার নিয়ে একাধিক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ, ইনহেলার কখন ব্যবহার করতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
    • বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ দেশে অ্যাজমা আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরেই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা জরুরি। আবার মাস্ক ব্যবহার নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    • তবে শিশু হোক বা বয়স্ক, অ্যাজমার মতো রোগ রুখতে ধুমপানে রাশ জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, যেকোনও ভাবেই ধূমপান শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। ফুসফুসের জন্য এই অভ্যাস বড় বিপদ তৈরি করে। পরিবারের কেউ ধূমপান করলে শিশু সেই পরিবেশে থাকলে, তার অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই অ্যাজমার মতো রোগের জটিলতা কমাতে এবং এই রোগের দাপট রুখতে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Asthma: দ্বিগুণ হারে বাড়ছে হাঁপানি! ভারতীয়দের ভোগান্তি কোথায়? কীভাবে সাবধান হবেন? 

    Asthma: দ্বিগুণ হারে বাড়ছে হাঁপানি! ভারতীয়দের ভোগান্তি কোথায়? কীভাবে সাবধান হবেন? 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বায়ুদূষণ। একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কটের কারণ হিসেবে বায়ুদূষণকেই দায়ী করছেন চিকিৎসক মহল। ভারতেও বায়ুদূষণের জেরে নানান স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে হাঁপানি (Asthma)। দেশ জুড়ে হাঁপানির দাপট বাড়ছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষার তথ্যে উদ্বিগ্ন দেশের স্বাস্থ্য মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট?

    সাম্প্রতিক প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশজুড়ে হাঁপানিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের প্রায় ২৮ শতাংশ মানুষ হাঁপানির জেরে স্বাভাবিক সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন না। এই সংখ্যা বিশ্বের মোট হাঁপানি আক্রান্তের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তার পাশপাশি মৃত্যুর পরিসংখ্যানও বেশ উদ্বেগজনক। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    কেন ভারতে হাঁপানির দাপট বাড়ছে? (Asthma)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাঁপানির ভোগান্তি বাড়ার অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতা, দিল্লি সহ দেশের একাধিক বড় শহরে বছরের বেশিরভাগ সময় বায়ুদূষণ মারাত্মক আকারে থাকে। কার্বন মনোক্সাইড সহ একাধিক বিষাক্ত উপাদানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকে। এর ফলেই ফুসফুসের রোগ দেখা দিচ্ছে। জনসচেতনতার অভাবকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করছেন‌ বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীপাবলি কিংবা বিবাহ অনুষ্ঠান, যে কোনও আনন্দ উৎসবেই নানান ধরনের আতসবাজি পোড়ানোর অভ্যাস বাড়ছে‌। এর ফলে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
    বায়ুদূষণের পাশাপাশি প্রতিদিনের নানান অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস হাঁপানির দাপট বাড়িয়ে তুলেছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে ফুসফুসের রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে‌। ধুমপানের পাশপাশি মদ‌পানের আসক্তি হাঁপানির (Asthma) সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মনে করছেন মদ্যপান যে কোনও উদযাপনের অংশ।‌ নিয়মিত মদ্যপান অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এতে লিভারের পাশপাশি ফুসফুস এবং শ্বাসনালীরও ক্ষতি করে। তাই হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে।
    এর পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেও অভ্যস্থ হয়ে পড়ছেন। নানা রকমের রাসায়নিক দেওয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার জেরে ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে হাঁপানির ঝুঁকিও বাড়ছে।
    শিশুদের হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ভিটামিনের অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের একাংশ নিয়মিত সবুজ সবজি খাচ্ছে না।‌ আবার রোদে বেরনোর অভ্যাসও তেমন তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে শরীরে ভিটামিন ডি সহ একাধিক ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। শরীরে ভিটামিনের অভাব হলে হাঁপানির ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    হাঁপানির ঝুঁকি কমাতে কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা বিশেষজ্ঞ মহলের?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাঁপানির ভোগান্তি এড়াতে সচেতনতা জরুরি। ধূমপান কিংবা মদ্যপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। সে সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এর পাশাপাশি ঋতু পরিবর্তনের সময়ে কিংবা দীপাবলির মতো উৎসবের সময়ে, যখন বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন বাইরে থাকলে মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এতে যে কোনও বায়ুঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
    তবে এর পাশপাশি নিয়মিত কিছু খাবার খেলে হাঁপানির মতো অসুখের ভোগান্তি কমতে পারে বলেই মনে করছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়া জরুরি। যে কোনও ধরনের লেবু, কিউই জাতীয় ফল নিয়মিত খেলে শরীরে ভিটামিন সি-র জোগান‌ বজায় থাকে। এতে ফুসফুস ও শ্বাসনালী সুস্থ থাকে। ফলে হাঁপানির (Asthma) ঝুঁকিও কমে।
    অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। তাই এই নিয়মিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেলে হাঁপানির ঝুঁকি কমে। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, আপেল, পেয়ারা, পালং শাকের মতো খাবার প্রতিদিনের মেনুতে রাখলে হাঁপানি মোকাবিলা সহজ হবে।
    মাছে থাকে ফসফরাস, পটাশিয়াম, আয়রন। এই উপাদানগুলো ফুসফুস সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই নিয়মিত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
    এছাড়া, রুটি, নাশপাতি, বাদাম জাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে দেহে ফাইবারের জোগান‌ ভালোভাবে হয়। এর ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে। হাঁপানির ঝুঁকি কমে।
    হাঁপানির অসুখ মোকাবিলায় একাধিক ভারতীয় মশলা বিশেষ সাহায্য করে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হলুদ, রসুন, দারুচিনি, এলাচ এবং লবঙ্গের মতো মশলা নিয়মিত রান্নায় ব্যবহার করলে যে কোনও ফুসফুসের অসুখের ঝুঁকি কমে। এই ধরনের মশলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভরপুর। পাশাপাশি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল। এর ফলে যে কোনও সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে পারে। ফুসফুস সুস্থ থাকে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Childhood Asthma: শৈশবেও জোরালো থাবা হাঁপানির! সন্তানকে কীভাবে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখবেন?

    Childhood Asthma: শৈশবেও জোরালো থাবা হাঁপানির! সন্তানকে কীভাবে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দূষণ বিশ্বজুড়ে এক গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠেছে। বিশেষত বায়ুদূষণ একাধিক রোগের কারণ! বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও বায়ুদূষণ একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। গত কয়েক বছরে কলকাতা, দিল্লির মতো বড় শহরে বায়ুদূষণ মারাত্মকভাবে বেড়েছে। আর তার ফল ভুগতে হচ্ছে শিশুদের (Childhood Asthma)। এমনটাই জানাচ্ছে সম্প্রতি প্রকাশিত এক সর্বভারতীয় সমীক্ষা। দেশ জুড়ে বাড়ছে হাঁপানির সমস্যা। বিশেষত শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বাড়ছে। তাই উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, হাঁপানির মতো রোগ নিয়ে সতর্কতা ও সচেতনতা না বাড়লে আরও বড় বিপদ হতে পারে।

    কী বলছে রিপোর্ট? (Childhood Asthma)

    সম্প্রতি প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে হাঁপানিতে ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষত শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দিচ্ছে। এক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সি ভারতীয় ছেলেমেয়েদের ৫ শতাংশ হাঁপানিতে আক্রান্ত। কিন্তু ২ থেকে ৬ বছর বয়সিদের ৮ শতাংশ শিশু হাঁপানিতে আক্রান্ত হচ্ছে। অর্থাৎ শিশুদের মধ্যে এই সমস্যার প্রকোপ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরেই শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    কেন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাঁপানি নিয়ে সচেতনতা কম। অধিকাংশ অভিভাবকেরা অনেক সময়েই এই রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। ফলে বড় বিপদ হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই সতর্কতা এবং সচেতনতা থাকলে শিশু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন‌যাপন করতে পারেন। তবে, ফুসফুসের রোগ নিয়ে সচেতনতা জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাঁপানির (Childhood Asthma) সমস্যা থাকলে অন্যান্য সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই ভাইরাস ঘটিত অসুখ থেকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। তাই সন্তানের ঘনঘন কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হলে একেবারেই সময় নষ্ট‌ করা উচিত নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ সন্তানের হাঁপানির মতো সমস্যা থাকলে অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় কর্মশালায় অংশগ্রহণ জরুরি। কীভাবে সন্তানকে সুস্থ জীবন‌যাপনে সাহায্য করা যায়, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকাও দরকার।

    হাঁপানি থাকলেও স্বাভাবিক জীবনযাপন কীভাবে সম্ভব? (Childhood Asthma)

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর হাঁপানির সমস্যা থাকলেই, সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে না, এমনটা একদম নয়। বরং, ঠিকমতো চিকিৎসা হলে, সে সুস্থভাবেই জীবনযাপন করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সচেতনতা এবং সতর্কতা জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয় নজর রাখলেই সেই কাজ হবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুকে এই রোগ সম্পর্কে জানানো জরুরি। সন্তান হাঁপানির (Childhood Asthma) মতো সমস্যায় ভুগলে, তাকে তার সমস্যা সম্পর্কে বুঝিয়ে বলা দরকার। যখন সে সুস্থ থাকবে, তখন তাকে ভালোভাবে বোঝাতে হবে, যাতে সে ভয় না পায়। কিন্তু সতর্ক থাকে। তার ইনহেলার বা যে ওষুধ, বিপদে সাহায্য করতে পারে, সেটাও ভালোভাবে চিনিয়ে দেওয়া জরুরি, যাতে তার বড় কোনও সমস্যা না হয়। সন্তানকে বোঝাতে হবে, এটা এমন কোনও বড় সমস্যা নয়, যার জন্য সে তার সমবয়সিদের মতো জীবনযাপন করতে পারবে না। কোনওভাবেই শিশুকে রোগ নিয়ে ভয় দেখানো চলবে না। খেলার মতো করেই সবটা বোঝাতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম প্লে থেরাপি।

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, সন্তান হাঁপানিতে আক্রান্ত হলে তার স্কুল কর্তৃপক্ষকেও এ ব্যাপারে জানিয়ে রাখা উচিত। যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে বড় দুর্ঘটনা না হয়। হাঁপানির মতো সমস্যা থাকলে যেহেতু অন্যান্য ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাই সন্তানকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। তাকেও এই ব্যাপারে বোঝানো দরকার বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাহলে বারবার ভোগান্তি কম হবে (Normal life)।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Diwali Festival: আলোর উৎসবে দেদার শব্দবাজি! কোন কোন রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দিতে পারে?

    Diwali Festival: আলোর উৎসবে দেদার শব্দবাজি! কোন কোন রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দিতে পারে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে শুরু হবে আলোর উৎসব (Diwali Festiva)। দীপাবলির উৎসবে মাতবেন সকলেই। তবে বাঙালির এই আনন্দ আলোর উৎসবেই আটকে থাকে না।‌ তার সঙ্গে জুড়ে যায় দেদার বাজি! আতসবাজি হোক কিংবা শব্দবাজি, কলকাতা থেকে রাজ্যের সর্বত্র দীপাবলির উৎসবে বাজির দাপট থাকেই। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। পরিবেশবিদদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনের সক্রিয়তাও সর্বত্র নেই। তাই প্রত্যেক বছর বাড়ে বাজির দাপট। তবে পরিবেশের এই দূষণ মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাজি নিয়ে সচেতনতা তৈরি না হলে বড় বিপদ হবেই। দেখে নেওয়া যাক, বাজির দাপট কোন রোগের প্রকোপ বাড়ায়?

    ফুসফুসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা (Diwali Festiva)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশ জুড়ে বাড়ছে ক্রনিক পালমোনারি ডিজিজ। এছাড়াও হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের মতো একাধিক ফুসফুসের সমস্যায় জেরবার অনেকেই। শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে ফুসফুসের রোগ। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের অসুখের অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। আর বাজি এই দূষণের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, আতসবাজি পোড়ানোর পরেই আকাশ সাদা ধোঁয়ায় ভরে যায়। আর এই ধোঁয়া বাতাসে কার্বন মনো-অক্সাইডের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর জেরে বায়ুদূষণ হয়। ফলে ফুসফুসের অসুখ বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের আগে অনেকেই ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এই সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ যথেচ্ছভাবে আতসবাজি পোড়ানো।

    শ্রবণ যন্ত্রের চিরস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে

    প্রত্যেক বছরেই দীপাবলির রাতে (Diwali Festiva) বাড়ে বাজির দাপট। কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্র শব্দের প্রকট আওয়াজ চলে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শব্দের এই দাপটের জেরে প্রত্যেক বছরেই শ্রবণ সমস্যা বাড়ছে।‌ বিশেষত শিশুদের শ্রবণশক্তি চিরস্থায়ী ক্ষতির মুখেও পড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ বিকট তীব্র আওয়াজের জেরে মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কানের ভিতরেও তার ফলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। আর তার জেরেই চিরস্থায়ী ভাবে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হয়।

    বাড়তে পারে চোখের সমস্যা (Diwali Festiva)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি চোখের জন্যও ক্ষতিকারক। দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং শুষ্ক চোখের সমস্যা বাড়ছে‌। জীবনযাপনের ধরনের জন্য শিশুরাও চোখের নানান সমস্যায় ভুগছে। আতসবাজি পোড়ানোর সময়ে একটা অদ্ভুত আলো দেখা যায়। এই আলো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এর ফলে কনজাংটিভাইটিসের মতো রোগের দাপট বাড়তে পারে। শুষ্ক চোখ অর্থাৎ চোখ লাল হয়ে যাওয়া, লাগাতার জল পড়া এবং একনাগাড়ে দেখায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আতসবাজিতে থাকে নানান ক্ষতিকারক রাসায়নিক। আগুনে পোড়ার সময়ে সেই রাসায়নিক বের হয়। তার জেরেই চোখে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    ত্বকের সংক্রমণ বাড়াতে পারে

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজির জেরে অনেকেই ত্বকের সমস্যায় ভুগতে পারে। অনেক সময়েই বাজির রাসায়নিক থেকে ত্বকে নানান অ্যালার্জি দেখা দেয়। ফলে বাজি পোড়ানোর আগে সে সম্পর্কেও সতর্কতা জরুরি।

    মাইগ্রেনের রোগীদের বাড়তি বিপদ!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শব্দবাজির হঠাৎ তীব্র আওয়াজ মানুষের শরীরে স্নায়ুর কাজে বাধা তৈরি করে। তাই মস্তিষ্কে এর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। বিশেষত যাঁরা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এই তীব্র আওয়াজ মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাব বাড়িয়ে দেয়। আবার বাজির দাপট মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও প্রভাব ফেলে। লাগাতার আওয়াজের জেরে মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা তৈরি হয়। যাঁরা নানান মানসিক রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য এমন পরিবেশ আরও সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল? (Diwali Festiva)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। তাই মানুষের শরীর এবং মনেও এর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। তাই পরামর্শ, দীপাবলি আলোর উৎসব (Festival of lights) হলেই তা মানুষ এবং পরিবেশ সকলের জন্য ইতিবাচক হবে। বাজির ক্ষতিকারক দিক নিয়ে আরও লাগাতার সচেতনতা জরুরি। প্রশাসনের তরফে সক্রিয়তাও প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবেশবান্ধব বাজি হিসেবে যেগুলি বাজারে পাওয়া যায়, তার গুণমান আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। তাছাড়া, নজরদারিও বাড়ানো প্রয়োজন। বাজির দাপট কমাতে না পারলে নানান রোগের দাপটও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Parthenium: দিনে দিনে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বাড়িরই আশপাশে গজিয়ে ওঠা ‘পার্থেনিয়াম’

    Parthenium: দিনে দিনে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বাড়িরই আশপাশে গজিয়ে ওঠা ‘পার্থেনিয়াম’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘পার্থেনিয়াম’ (Parthenium) নামটির সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। এটি আসলে একটি মারণ উদ্ভিদ। এই আগাছা কেড়ে নিতে পারে গবাদি পশু, এমনকী মানুষের জীবন। যে কোনও প্রতিকূল পরিবেশে বাঁচতে সক্ষম এই উদ্ভিদ। রাস্তার চারপাশে, বিশেষ করে গ্রাম্য এলাকায় এই উদ্ভিদ বেশি চোখে পড়ে।

    কিন্তু আগাছাটি অত্যন্ত ভয়ংকর। গবাদি পশু চরানোর সময় গায়ে লাগলে পশুর শরীর ফুলে যায়। এছাড়াও তীব্র জ্বর, বদহজম সহ নানা রোগে আক্রান্ত হয় সেই পশু। আর পশুর পেটে গেলে কেমন বিষক্রিয়া হতে পারে? এই গাছের বীজটিই সাধারণত বিষক্রিয়া ঘটায়। এই গাছ ৩ থেকে ৪ মাস বাঁচে। আর এই সময়ের মধ্যেই ২৫ হাজারের বেশি বীজের জন্ম দিতে সক্ষম। এই বীজ এতটাই ছোট যে মানুষের জুতোর নিচে চাপা পড়ে, গাড়ির চাকা, প্রভৃতির মাধ্যমে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। জমির পাশে হয়ে থাকা এই আগাছাগুলি ফসলের সঙ্গে, সেচের জলের সঙ্গে, এমনকী বাতাসের সঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে।

    কেন পার্থেনিয়াম এত বিষাক্ত? (Parthenium)

    পার্থেনিয়ামে রয়েছে Sesquiterpene Lactones নামক এক টক্সিন বিষ, যা মানুষ সহ অন্যান্য পশুপাখি, বিশেষ করে গবাদি পশুদের জন্য ক্ষতিকর। যেসব জমির পাশে এই গাছ জন্মায়, সেই সব জমিতে ফসলের উৎপাদন প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমিয়ে দিতে সক্ষম এই বিষাক্ত গাছ। যেসব মাঠে এই পার্থেনিয়াম গাছ দেখা যায়, সেই সব মাঠে গবাদি পশু চরানো হলে সেসব পশুর মধ্যে বিষক্রিয়া শুরু হয়। কয়েকদিনের মধ্যে এসব গবাদি পশুর শরীর ফুলে যায়, তীব্র জ্বলন সহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা যায়। শুধু গবাদি পশু নয়, মানুষের ক্ষেত্রেও এই বিষাক্ত আগাছা খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে মানুষের ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। অসহ্য মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ সহ উপসর্গ দেখা যায়। বাড়ির আশেপাশে, এমনকী ১০ মিটার দূরে থাকলেও সেই পার্থেনিয়াম গাছের ফুলের রেণু উড়ে এসে মানুষের অ্যালার্জি হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং চর্মরোগ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই আগাছা প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের চর্মরোগ এবং মানুষের শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ সৃষ্টি করে। এমনকী দেখা গিয়েছে, ভারতের পুনেতে পার্থেনিয়াম (Parthenium) জনিত বিষক্রিয়ার ফলে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে।

    কীভাবে ধ্বংস করবেন এই পার্থেনিয়াম?

    মানুষকে সজাগ হয়ে এই পার্থেনিয়াম (Parthenium) গাছ ধ্বংস করে ফেলতে হবে। এর জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। যেমন বাড়ির আশেপাশে হয়ে থাকা পার্থেনিয়াম গাছের গায়ে কেরোসিন স্প্রে করলে পার্থেনিয়াম খুব তাড়াতাড়ি মারা যায়। এর জন্য কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়, যাতে কেরোসিন অন্য কোন গাছে এবং জলাশয় না মেশে। তাই এটি সম্ভব না হলে চার থেকে পাঁচ লিটার জলে এক কেজি নুন মিশিয়ে ভালো করে স্প্রে করলে প্রায় দুদিনের মধ্যে এ পার্থেনিয়াম গাছ মারা যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Tobacco: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফুসফুসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে! এর অন্যতম কারণ কী জানেন?

    Tobacco: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফুসফুসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে! এর অন্যতম কারণ কী জানেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সিগারেট, বিড়ির মাধ্যমে কিংবা পান, গুটখার মাধ্যমে। তামাক বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি। একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তামাক (Tobacco) সেবনের প্রবণতা বাড়ছে। পুরুষদের পাশপাশি মহিলাদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের মধ্যেও তামাক সেবনের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষত ধূমপানে আসক্তি বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিশ্ব তামাক বিরোধী দিবসে চিকিৎসকদের একাংশ জানালেন, তামাক সেবন না করলে কমবে একাধিক রোগের ঝুঁকি। তাঁরা জানাচ্ছেন, তামাক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। সুস্থ জীবনযাপনের প্রথম শর্ত তামাকে আসক্ত না হওয়া। দেখে নিন, কোন কোন রোগের ঝুঁকি বাড়ায় তামাক?

    ১. ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় তামাক (Tobacco)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যে কোনও ধরনের তামাক শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, সিগারেট, বিড়ির মতো তামাকজাত দ্রব্য নিয়মিত ধূমপান করলে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। আবার পান, গুটখায় ব্যবহৃত তামাক মুখ ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, আলকাতরা সহ একাধিক উপাদান তামাকজাত দ্রব্যে থাকে, যার প্রভাব স্বাস্থ্যের উপরে ভয়ঙ্কর পরে। তাই তামাক ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

    ২. তামাক বাড়ায় ফুসফুসের অসুখ

    ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) থেকে অ্যাজমা, ফুসফুসের একাধিক রোগের কারণ তামাক। অতিরিক্ত ধূমপান ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।‌ ফুসফুসে বায়ু যাতায়াতের এক ধরনের জাল থাকে, তা নষ্ট করে দেয় তামাক। এর জেরে ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে। এর জেরেই সিওপিডি, অ্যাজমার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফুসফুসের সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ ধূমপানের অভ্যাস। তামাক ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে (Tobacco)।

    ৩. তামাক বাড়ায় স্ট্রোকের ঝুঁকি

    নিয়মিত তামাকজাত দ্রব্য সেবন করলে রক্ত ও স্নায়ুর উপরে চাপ পড়ে। রক্ত ও স্নায়ুর চাপ বাড়লে, মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব পড়ে। তার জেরেই হয় স্ট্রোক। তাই তামাকজাত দ্রব্য সেবন করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    ৪. হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় তামাক (Tobacco)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হৃদরোগ বিশেষত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় তামাক। তামাকজাত দ্রব্য শরীরে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি করে। এর সরাসরি প্রভাব হৃদপিণ্ডের উপরে পড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, তামাক সেবন করলে রক্ত সঞ্চালনে বাধা পড়ে। ফলে হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ঠিক মতো হয় না‌। এর জেরে একাধিক হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    ৫. মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে তামাক

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তামাকের রয়েছে নিকোটিন। তাই যে কোনও তামাকজাত দ্রব্য নিয়মিত সেবন করলে স্নায়ু ও হরমোন তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তামাকজাত দ্রব্যের জেরে এক ধরনের আসক্তি তৈরি হয়। এই নিকোটিনের জেরেই মানসিক স্বাস্থ্যে বিঘ্ন ঘটে। মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয় (Tobacco)। তাই তামাক শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ও খুবই ভয়ঙ্কর।

    ৬. বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ তামাক

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তামাকজাত দ্রব্য বাড়ায় বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বাড়ার অন্যতম কারণ তামাক সেবন। তামাক জরায়ু এবং ওভারির বিশেষ ক্ষতি করে। তবে শুধু মহিলাদের নয়, তামাক পুরুষদের মধ্যেও বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

    ৭. ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ায় তামাক (Tobacco)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিও বাড়ায় তামাক। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তামাক সেবনকারীরা ইনফ্লুয়েঞ্জায় বেশি আক্রান্ত হন। ভোগান্তিও বেশি হয়। বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের এই সমস্যা বেশি হয়।

    ৮. ডায়বেটিস রোগীদের বিপদ বাড়ায় তামাক সেবনের অভ্যাস

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী ধূমপানে অভ্যস্ত হলে কিংবা তামাক সেবন করলে আরও বিপদ বাড়ে। ডায়বেটিস আক্রান্তদের হৃদরোগ ও কিডনির রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি‌ বেশি থাকে। তার সঙ্গে ধূমপানের অভ্যাস সেই ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি, ডায়াবেটিস আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কম থাকে। ধূমপান করলে নানান রোগের ঝুঁকি বিশেষত সংক্রমণ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এই অভ্যাস ফুসফুস ও শ্বাসনালীকে দূর্বল করে দেয়। তাই ডায়বেটিস আক্রান্তদের ধূমপানের অভ্যাস বাড়তি বিপদ তৈরি করে (Tobacco)। 

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রতি বছর ৫০ লাখের বেশি মানুষ তামাক সেবনের জন্য মারা যাচ্ছে। সময়ের আগেই মৃত্যুর কারণের তালিকায় তামাক সেবনের জেরে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তামাকমুক্ত জীবন জরুরি। তবেই সুস্থ দীর্ঘ জীবনযাপন সম্ভব।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • World Lung Day: হাঁপানি, নিউমোনিয়ার মতো ফুসফুসের একাধিক রোগে জেরবার? সুস্থ থাকবেন কীভাবে?

    World Lung Day: হাঁপানি, নিউমোনিয়ার মতো ফুসফুসের একাধিক রোগে জেরবার? সুস্থ থাকবেন কীভাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে ফুসফুসের সমস্যা। তবে, ভারতীয়দের নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ফুসফুসের সমস্যার বোঝা বাড়ছে এ দেশে! তাই ওয়ার্ল্ড লাং ডে (World Lung Day) উপলক্ষ্যে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশেষ কিছু দিকে নজর দিলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে। কমবে ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি।

    ভারতে কোন ধরনের ফুসফুসের রোগ বাড়ছে? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের রোগ মানেই ক্যান্সার নয়। ক্যান্সার ছাড়াও একাধিক ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন বিভিন্ন বয়সীরা। তবে, ফুসফুসের রোগের তালিকায় প্রথমেই আছে হাঁপানি। দেশ জুড়ে বাড়ছে হাঁপানির সমস্যা। শিশুকাল থেকেই অনেকে হাঁপানির সমস্যায় ভুগছে। প্রত্যেক বছর ৪-৫ শতাংশ শিশু হাঁপানির সমস্যায় ভুগছে। 
    হাঁপানির পরেই ফুসফুসের যে রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে, তা হল নিউমোনিয়া। শিশু থেকে বৃদ্ধ, ভারতে সবচেয়ে বেশি ফুসফুসের রোগে মৃত্যুর কারণের পিছনে থাকে নিউমোনিয়া। ফুসফুসে জল জমে বিকল হয়ে যাওয়ার এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। 
    এর পাশাপাশি ক্রনিক পালমোনারি অবস্ট্রাক্টিভ ডিসঅর্ডার (সিওপিডি) ভারতে অন্যতম ফুসফুসের রোগ (World Lung Day)। গোটা বিশ্বের মোট সিওপিডি রোগীর ৩৮ শতাংশ ভারতীয়। এর থেকেই স্পষ্ট, এ দেশে ফুসফুসের সমস্যা ক্রমশ উর্ধ্বগামী।

    কীভাবে ফুসফুস সুস্থ রাখা যাবে (World Lung Day)? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ধূমপানের অভ্যাস একেবারেই ত্যাগ করতে হবে। ভারতে ধূমপায়ীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে কিশোর বয়স থেকেই ধূমপান করার প্রবণতা বাড়ছে। লাগাতার ধূমপানের জেরে যেমন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, তেমনি ফুসফুসের রোগের অন্যতম কারণ ধূমপান। হাঁপানি রোগীদের ধূমপানের অভ্যাস মৃত্যুর আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তোলে। আর কিশোরকাল থেকে লাগাতার ধূমপানের অভ্যাস সিওপিডি কিংবা লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। 
    নিজে ধূমপান বন্ধ করার পাশপাশি পরিবারের কেউ যাতে ধূমপান না করে, সে দিকেও সচেতন থাকা জরুরি। কারণ, ধূমপানের ধোঁয়া অর্থাৎ পরোক্ষ ধূমপানের জেরেও ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অর্থাৎ, অন্য কেউ ধূমপান করছে, সেই ধোঁয়া লাগাতার নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলেও বিপজ্জনক। তাতেও হাঁপানি, সিওপিডি-র ঝুঁকি বাড়তে থাকে। 
    নিয়মিত তুলসীপাতা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে মধু আর তুলসরপাতা একসঙ্গে খেলে ফুসফুস ভালো থাকে (World Lung Day)। এই অভ্যাস ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত একটি আপেল খাওয়ার অভ্যাস ফুসফুসকে সক্রিয় রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। কারণ, আপেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই ফুসফুস ভালো থাকে। এছাড়াও বেরি, অ্যাপ্রিকটের মতো ফল ফুসফুস ভালো রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। নিয়মিত সবজির তালিকায় টমেটো আর কুমড়ো রাখলে ফুসফুস ভালো থাকবে বলেও জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। কারণ, এই দুই সবজি ফুসফুসের সক্রিয়তা বাড়ায়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ

LinkedIn
Share