Tag: Ayodhya

Ayodhya

  • Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামমন্দির প্রকল্পের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ (Ram Mandir Trust) আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত নিল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। ২ সেপ্টেম্বর অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক নতুন পদাধিকারী নিয়োগ করা হয়েছে (Govind Dev Giri)। এর মধ্যে আধ্যাত্মিক নেতা গোবিন্দ দেব গিরিকে ট্রাস্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক, মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ, আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকে ট্রাস্টি এবং নির্মলা যাদবকে ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Ram Mandir Trust)

    নতুন নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের আন্তর্জাতিক সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী অলোক কুমার বিশেষভাবে গোবিন্দ দেব গিরিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর আশা, গিরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ট্রাস্টের কাজকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ট্রাস্টের এই সাংগঠনিক পরিবর্তনকে রামমন্দির প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি অযোধ্যায় সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্বও ট্রাস্টের উপর রয়েছে। সেই কাজ আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য।

    সাধারণ সম্পাদক পদে গোবিন্দ দেব গিরি

    গোবিন্দ দেব গিরির নিয়োগকে এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন দায়িত্বে তিনি ট্রাস্টকে প্রয়োজনীয় দিশা দিতে পারবেন। অলোক কুমার তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে শুভেচ্ছা জানিয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, গিরির অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের সাংগঠনিক কাজকে আরও শক্তিশালী করবে।

    রামমন্দির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজ ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক সমন্বয়, বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতের কাজের পরিকল্পনায় এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ মহেশ ভাগচন্দকা

    বৈঠকে মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তিনি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    অশোক সিংঘল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও তিনি হিন্দুত্বের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজে অবদান রেখেছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের মতে, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূল্যবান হবে (Govind Dev Giri)।

    কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দায়িত্বও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে সংগঠনটি (Ram Mandir Trust)।

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডে হলেন ট্রাস্টি

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকেও ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

    ট্রাস্টে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে আইনি ও বিচারিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে আইনি পরামর্শ, নথিপত্র, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ট্রাস্টকে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া জ্ঞান ট্রাস্টের কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।

    নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি, বাড়ল মহিলা প্রতিনিধিত্ব

    ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি হিসেবে নির্মলা যাদবের নিয়োগও উল্লেখযোগ্য। তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, এর ফলে ট্রাস্টে প্রতিনিধিত্বের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে রামমন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কাজে মহিলাদের ভূমিকার স্বীকৃতিও এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংগঠনটির বক্তব্য (Ram Mandir Trust)।

    অলোক কুমার মনে করেন, সীতা ও রামের পবিত্র ভূমির সঙ্গে যুক্ত এই বৃহৎ কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নির্মলা যাদবের উপস্থিতি ট্রাস্টের কাজের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা তৈরি করবে।

    প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র

    বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাঁকে অভিজ্ঞ, সম্মানিত এবং দক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে বলে সংগঠনটির আশা।

    পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয়, সময়সীমা বজায় রাখা এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন কাঠামো

    নতুন নিয়োগগুলির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক, আইনি, প্রশাসনিক, আর্থিক এবং সাংগঠনিক—বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। গোবিন্দ দেব গিরির আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মহেশ ভাগচন্দকার দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আর্থিক দায়িত্বের অভিজ্ঞতা, মদন মোহন পাণ্ডের আইনি জ্ঞান, নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি এবং জিতেন্দ্র মিশ্রের প্রশাসনিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ট্রাস্টের কাজের পরিধিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Ram Mandir Trust)।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শ্রী রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত বৃহৎ প্রকল্পের কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অযোধ্যার বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজকেও এগিয়ে (Govind Dev Giri) নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা সংগঠনটির।

    অলোক কুমার সমস্ত নবনিযুক্ত সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার এই কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির আশা, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে অযোধ্যায় চলা কাজ এমন এক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে, যা রামরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত আদর্শগুলিকে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে (Ram Mandir Trust)।

     

  • Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)। অপারেশন সিঁদুরের সময় আকাশপথে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুদ্ধকালীন অসামান্য নেতৃত্ব ও পরিষেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বিশিষ্ট (Ram Temple Trust) পরিষেবা সম্মান  ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’।

    যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চমানের পরিষেবার জন্য এই পদক দেওয়া হয়। গত ৪৬ বছরে মাত্র ১০ বার এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ফলে জিতেন্দ্রর এই স্বীকৃতি তাঁর সামরিক জীবনের বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)

    জিতেন্দ্রর আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার ভোপথপুরায়। অযোধ্যা থেকে সড়কপথে তাঁর গ্রামের দূরত্ব প্রায় তিন ঘণ্টা। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা জিতেন্দ্রর বাবা ছিলেন অধ্যাপক। দীর্ঘ সামরিক জীবনের পর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি অবসর নেন। এরপরই শ্রীরামের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

    রাম মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশাল মন্দির চত্বরের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব সামলাতে তাঁর দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে হল নির্বাচন প্রক্রিয়া?

    রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের ৬ জুলাই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকে চতুর্বেদী এবং পরমাণু বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে। প্রতিরক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    ১১ জুলাই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার মানদণ্ড চূড়ান্ত করা হয়। ১৪ জুলাই শিল্পপতি সমীর পাণ্ডাকে কমিটির সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাজ সামলানোর জন্য তাঁর নেতৃত্বে একটি দলও গঠন করা হয়। ১৮ জুলাই আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়। মোট ৫,৫৮৫টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ে আবেদনগুলি যাচাই ও মূল্যায়নের পর ১,৫৮০ জন আবেদনকারীকে যোগ্য ও উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয় (Jeetendra Mishra)।

    ৩ থেকে ৬ অগাস্ট যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ১০৮ জনের সঙ্গে অনলাইনে পারস্পরিক আলোচনা ও সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। এই ১০৮ জন ছিলেন যোগ্য ও উপযুক্ত আবেদনকারীদের শীর্ষ ৭ শতাংশের মধ্যে। এরপর ১১ ও ১২ আগস্ট অযোধ্যায় শ্রীরাম মন্দিরের গ্রিন হাউসে ১৬ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়।

    সার্চ কমিটির রিপোর্ট

    অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর সার্চ কমিটি ৭৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। একই সঙ্গে রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক পদের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেলের সুপারিশ করা হয়।

    এই পুরো প্রক্রিয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্রর নিয়োগ রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।

    সামরিক জীবনে অর্জিত কৌশলগত পরিচালন দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে মন্দির চত্বরের প্রতিদিনের বিপুল (Ram Temple Trust) কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণ সামলানোর ক্ষেত্রে জিতেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে (Jeetendra Mishra) পারেন বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Ram Mandir Scam: ‘রাম মন্দিরে কোনও বড়সড় দুর্নীতি হয়নি’! ৩,৩০০ কোটি টাকা অনুদানের হিসেব সম্পূর্ণ

    Ram Mandir Scam: ‘রাম মন্দিরে কোনও বড়সড় দুর্নীতি হয়নি’! ৩,৩০০ কোটি টাকা অনুদানের হিসেব সম্পূর্ণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাম মন্দিরের অনুদান (Ram Mandir Scam) ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক নানা জল্পনার মধ্যে সরকারি সূত্রের তরফে দাবি করা হয়েছে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কাছে জমা পড়া প্রায় ৩,৩০০ কোটি অনুদানের পুরো অর্থই হিসেবভুক্ত এবং অডিট করা হয়েছে। বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগকে সরকারি সূত্রগুলি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। সূত্রের দাবি, স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের বহিরাগত অডিটর -এর মাধ্যমে ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা হয়েছে। মন্দির নির্মাণে প্রায় ১,৮০০ কোটি এবং জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৪০০ কোটি ব্যয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই বড় অঙ্কের লেনদেনে নগদ ব্যবহার করা হয়নি এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া মেনেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।

    মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ নেই

    সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, যে চুরির ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি মেশিনে টাকা গণনার আগে ম্যানুয়ালি নগদ বাছাই ও গোনার সময় ঘটে যাওয়া একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ছয়জন বহিরাগত কর্মীকে চিহ্নিত করা হয়। তাঁরা সৈনিক সিকিউরিটি সার্ভিসের Sainik Security ServicesSSS)-এর মাধ্যমে নিযুক্ত ছিলেন। SSS আবার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) চুক্তিভিত্তিক পরিষেবা সংস্থা হিসেবে কাজ করছিল বলে সূত্রের দাবি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। সরকারি সূত্র স্পষ্ট করেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মন্দির প্রশাসন বা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না।

    সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত

    ঘটনার তদন্তের জন্য পুনর্গঠিত সিট (SIT) কাজ করছে। তদন্ত প্রক্রিয়াটি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে রয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকদের নেতৃত্বে তদন্ত চালানো হচ্ছে, যাতে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে। সূত্রের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এলাকায় জমির বাজারদর বেড়ে যাওয়া এবং জমির সঙ্গে থাকা বাণিজ্যিক কাঠামোর নিষ্পত্তির কারণে অধিগ্রহণের খরচ বেশি হয়েছে।

  • UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে বোমা তৈরির তথ্য-সম্বলিত হাতে লেখা একটি নোট উদ্ধারের ঘটনায় আরও বাড়ানো হয়েছে তদন্তের পরিসর (Jai Shri Ram Kurta)। তদন্তের সূত্র এবার পৌঁছেছে বলরামপুরে। অযোধ্যা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। ঘটনার পর প্রথম বর্ষের প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে নাইট শিফট শেষ হওয়ার পর হাতে লেখা ওই নোটটি পাওয়া যায়। কর্মীরা নোটটি কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

    বলরামপুরে সরফরাজের বাড়িতে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)

    ৩১ জুলাই, শুক্রবার গভীর রাতে অযোধ্যা পুলিশের একটি দল বলরামপুরের সিটি কোতয়ালি এলাকার পুরাইনিয়া তালাবে সরফরাজের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও সরফরাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে পুলিশ। পরের দিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ওই বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তালা ঝুলছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সরফরাজ মিশুকে স্বভাবের ছিল। এলাকায় কোনও বিবাদ বা ঝামেলায় তাঁকে কখনও জড়াতে দেখা যায়নি।

    বাড়িওয়ালার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    তদন্তের সময় সরফরাজ গত ছ’মাস ধরে যে ভাড়া বাড়িতে থাকছিল, সেখানেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যান। ঘর থেকে গেরুয়া রঙের একটি কুর্তা উদ্ধার হয়েছে, যাতে “জয় শ্রী রাম” লেখা ছিল। হলুদ রংয়ের একটি ধুতিও পাওয়া যায়। বাড়িওয়ালার দাবি, সরফরাজ ওই গেরুয়া কুর্তা ও হলুদ ধুতি পরে একাধিকবার অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, কয়েকজনের সঙ্গে সরফরাজ সরযূ নদীতে স্নানও করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা বা কোথা থেকে এসেছিলেন, তা জানেন না বলে জানান বাড়িওয়ালা। এরপরেই তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—সরফরাজ কেন হিন্দু ধর্মীয় পোশাক পরে অযোধ্যায় যাতায়াত করতেন? তাঁর ওই সফরের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, নাকি সেগুলি ছিল নিছকই ব্যক্তিগত সফর—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া হলুদ ধুতিটি পরীক্ষার জন্য নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ঘর থেকে হাতে লেখা একটি কবিতাও উদ্ধার হয়েছে। সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (Jai Shri Ram Kurta)।

    কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা?

    ১ অগাস্ট সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। মর্নিং শিফটে কর্মরত পড়ুয়ারা রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে রুমের ভেতরে হাতে লেখা একটি কাগজ দেখতে পান। ওই কাগজে বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নির্দেশনা লেখা ছিল বলে খবর। পড়ুয়ারা সঙ্গে সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেন।অনলাইনে প্রকাশিত নোটটির একটি অনুলিপি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা কাগজে ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট, অ্যালুমিনিয়াম কার্বোনেট, লাল ফসফরাস, সালফার, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং কার্বলিক অ্যাসিডের মতো একাধিক রাসায়নিকের উল্লেখ রয়েছে। আগুন ধরানো, তাপ ও বিস্ফোরণের বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপাদান চিহ্নিত করা হাতে আঁকা কিছু চিত্রও রয়েছে, যেগুলি বিস্ফোরক যন্ত্রের নকশার মতো দেখতে।নথিতে ব্যাখ্যামূলক টীকা এবং একটি মোটামুটি আঁকা রেখাচিত্রও রয়েছে। এর থেকে তদন্তকারীদের ধারণা, যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করতে পারে তা বোঝানোর উদ্দেশ্যেই নোটটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নোটটি অনলাইনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়ে থাকতে পারে।

    সরফরাজের দাবি

    দর্শন নগর থানার পুলিশ সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তাঁর সঙ্গে নাইট শিফটে কাজ করছিলেন অভিষেক। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সুলতানপুরের বাসিন্দা আর এক সহকর্মী সুভাষ অবশ্য ওই দিন সকালেই নিজের গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে সরফরাজ দাবি করেন, নাইট শিফটে তাঁর ঘুম আসছিল না। সেই সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপে ভগত সিংকে নিয়ে একটি সিনেমা দেখতে শুরু করেন। তাঁর দাবি, সেই সিনেমায় বোমা তৈরির কিছু পদ্ধতি দেখানো হয়েছিল। তিনি সেগুলি একটি কাগজে লিখে রেখেছিলেন, এবং পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, পরে সাফাইকর্মী ও সকালের শিফটে কর্মরত কর্মীদের হাতে কাগজটি আসে (Jai Shri Ram Kurta)। সরফরাজের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ইন্টারনেট অনুসন্ধানের তথ্য পান। তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণ সংক্রান্ত একাধিক ছোট ভিডিওর সন্ধান মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এসব অনুসন্ধান নিছকই কৌতূহলবশে করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    সরফরাজের বন্ধুদেরও খোঁজ

    সরফরাজের রুমমেটের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি বস্তিতে নিজের বাড়িতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সরফরাজ যখন অযোধ্যায় যেতেন, তখন তাঁর সঙ্গে যে বন্ধুরা থাকতেন বলে জানা যাচ্ছে, তাঁদের পরিচয়ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সরফরাজ সবার ছোট। তাঁর দাদা বলরামপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। আর এক ভাই শ্রাবস্তীতে একটি দাঁতের চিকিৎসাকেন্দ্র চালান। অন্য এক ভাই সৌদি আরবে কাজ করেন, এবং পরিবারে আর্থিক সাহায্য করেন। প্রায় দেড় বছর আগে সরফরাজের বাবা মারা যান। তাঁর মা ও অবিবাহিত বোন বলরামপুরে থাকেন। বিবাহিত এক বোন মুম্বইয়ে থাকেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সরফরাজ প্রায় প্রতি শনিবার বাড়িতে ফিরতেন, সোমবার ফিরতেন অযোধ্যায়।

    পুলিশের বক্তব্য

    ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল, এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও করছেন তদন্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। প্রতিটি তথ্য যাচাই করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে অনুমান বা গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)।

     

  • FIR: রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে সংসদে অভিনয়, পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা

    FIR: রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে সংসদে অভিনয়, পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারাণসীর কোতয়ালি থানায় পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কাশীর পাতালপুরী মঠের জগৎগুরু বালক দাস দেবাচার্য-সহ কয়েকজন সাধুর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা হয়েছে (Pappu Yadav)। অভিযোগ, গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সংসদ চত্বরে বিরোধী সাংসদদের অংশগ্রহণে রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে একটি হিন্দুবিদ্বেষী ব্যঙ্গাত্মক অভিনয় করা হয়।

    প্রণামী চুরির অভিনয় (FIR)

    ঘটনাটি ৩১ জুলাই ২০২৬, চলতি বাদল অধিবেশনের সময়ের। অভিযোগ, অযোধ্যার রাম মন্দিরে সংগৃহীত অনুদানে কথিত অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের প্রতিবাদে ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা সংসদের মকর দ্বারের কাছে বিক্ষোভ দেখান। সেই বিক্ষোভের অংশ হিসেবেই পাপ্পুকে গেরুয়া পোশাকে, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা এবং পুরোহিতের সাজে দেখা যায়। তাঁর পাশে রাখা ছিল অনুদানের বাক্স, হাতে ছিল ভগবান রামের ছবি। অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ বিরোধী নেতারা অভিনয়ের অংশ হিসেবে ওই অনুদানের বাক্সে টাকা দেন। এরপর পাপ্পু যাদব সেই টাকা নিজের পকেটে ঢোকান এবং অনুদানের বাক্স নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে অযোধ্যার রাম মন্দিরে কথিত “প্রণামী চুরি”-র অভিযোগকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়।

    ভগবান রামের অপমান

    অযোধ্যা-সহ ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদও ওই অভিনয়ে অংশ নেন। তিনি পাপ্পুর কলার ধরে তাঁকে “চোর পুরোহিত” বলে অভিহিত করে শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভে “চাঁদা চোর, গদি ছোড়” এবং “অমিত শাহ ইস্তফা দাও”-এর মতো স্লোগানও দেওয়া হয়। মন্দিরের অনুদান নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়টিও বিক্ষোভে তুলে ধরা হয়। এই অভিনয়কে ঘিরে বারাণসীর সাধু-সন্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গেরুয়া পোশাক ব্যবহার করে মন্দিরের পুরোহিতকে চোর হিসেবে দেখানোর ঘটনাকে তাঁরা সনাতন ধর্ম, সাধু সমাজ এবং ভগবান রামের অপমান বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন (FIR) তাঁরা। কাশী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার গৌরব বনসল জানিয়েছেন, কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সাধু-সন্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাপ্পুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংসদ চত্বরে হওয়া ওই বিক্ষোভের যে ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলিও তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অভিযোগ দায়ের দিল্লিতেও

    এদিকে, দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী থানায়ও  পাপ্পু, রাহুল, ডিম্পল যাদব, অবধেশ প্রসাদ-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন সমাজকর্মী সূর্য মৈথিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুতো পরে প্রতীকী অনুদানের বাক্সে টাকা রাখা এবং পরে সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিনয় ধর্মীয় প্রতীকগুলির প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। বিশেষ করে রামলালার ছবিকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের আগে আইনি মতামত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে। এদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, তাঁদের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করা নয়। রাম মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় কথিত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। পাপ্পুও পরে দাবি করেন, তাঁর অভিনয়ের লক্ষ্য ছিল ধর্মের নামে হওয়া চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। এই জাতীয় বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা করেছেন (Pappu Yadav) বিজেপি নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এই অভিনয়ের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে (FIR) সনাতন ধর্ম ও গেরুয়া রঙকে।

     

  • Ayodhya Ram Mandir: রামমন্দিরে অনুদান তছরুপ-কাণ্ডের পর পবিত্রতা পুনঃস্থাপনে আয়োজিত ১০ দিনের প্রায়শ্চিত্তের আচার শেষ

    Ayodhya Ram Mandir: রামমন্দিরে অনুদান তছরুপ-কাণ্ডের পর পবিত্রতা পুনঃস্থাপনে আয়োজিত ১০ দিনের প্রায়শ্চিত্তের আচার শেষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার পূর্ণাহুতির মাধ্যমে শেষ হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) অনুদান তছরুপ-কাণ্ডের জেরে শুরু হওয়া ১০ দিনের প্রায়শ্চিত্তের ধর্মীয় আচার। ১৫ জুলাই শুরু হওয়া এই আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল (Donation Theft) শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের পবিত্রতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ দিনে মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। ট্রাস্টের ট্রাস্টি মহন্ত দীনেন্দ্র দাস এবং কৃষ্ণ মোহন পূর্ণাহুতি দেন। পরে হয় ব্রাহ্মণ ভোজন। স্থানীয় ব্রাহ্মণদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল ভোজনের।

    ১০ দিনের ধর্মীয় আচার (Ayodhya Ram Mandir)

    মহন্ত দীনেন্দ্র দাস জানান, এই ১০ দিনের ধর্মীয় আচারে অযোধ্যার ৭০ জন বৈদিক আচার্য অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, হোম, রুদ্রাভিষেক এবং রামার্চা পুজো হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পুরো সময়টা ধরে বিষ্ণুর সহস্রনাম পাঠ করেন। ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ স্বামী গোবিন্দ দেব গিরির নির্দেশে এই প্রায়শ্চিত্তের আচার সম্পন্ন হয়। ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, মন্দিরে চুরি, অপবিত্রতা বা অনুরূপ কোনও ঘটনা ঘটলে তার পবিত্রতা পুনঃস্থাপনের জন্য এই ধরনের প্রায়শ্চিত্তের আচার পালনের বিধান রয়েছে। গত মাসে রামমন্দিরের অনুদানের অর্থ তছরুপের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। অনুদানের হিসাবপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর মন্দির কর্তৃপক্ষ পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরে উত্তরপ্রদেশ সরকার এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

    তদন্তকারীদের সন্দেহ

    বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক ন’পাতার রিপোর্টে উঠে আসে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, নিরাপত্তা, নজরদারি এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর ত্রুটির সুযোগ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই তছরুপ চলেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকজন কর্মী পোশাক ও জুতোর মধ্যে নগদ অর্থ লুকিয়ে বাইরে নিয়ে যেতেন। আবার তাঁদের সহকর্মীদের একাংশ এই কাজে সহযোগিতা করেছেন বা ঘটনাগুলি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ (Ayodhya Ram Mandir)। প্রতিবেদনে নগদ অনুদান গণনার প্রক্রিয়ায় একাধিক গাফিলতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গণনাকক্ষে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় কর্মীদের যথাযথ তল্লাশি করা হত না। নির্ধারিত পোশাকবিধিও মানা হচ্ছিল না। এমনকি ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও গণনাকক্ষে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি ছিল। এদিকে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। নগদ অনুদান গণনার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩০ জন কর্মী এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন। তাঁদের অতীত পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Donation Theft)।

    প্রায় পাঁচ দিন আগে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রতিবেদন জমা পড়ার পর নতুন করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, নতুন বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে একজন ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিক থাকতে হবে। তাঁর মতে, এই তদন্ত এখন একটি নির্ণায়ক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে (Ayodhya Ram Mandir)।

     

  • Fundraising Challenges: অযোধ্যায় বিকল্প মসজিদ প্রকল্পে তহবিল-সঙ্কট, জানুন নেপথ্যের কারণ

    Fundraising Challenges: অযোধ্যায় বিকল্প মসজিদ প্রকল্পে তহবিল-সঙ্কট, জানুন নেপথ্যের কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ (Ayodhya New Mosque) মামলার নিরসন হয়েছিল ২০১৯ সালে। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল (Fundraising Challenges)। জমির পরিমাণ পাঁচ একর। দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে হিন্দু পক্ষের দাবি করা জমিতেই গড়ে ওঠে রাম মন্দির। সরকারের দেওয়া ওই জমিতে একটি আধুনিক মসজিদ-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল মুসলিম পক্ষরা। তারপর কালের নিয়মে মানুষের মনে ফিকে হয়ে গিয়েছে অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ বিতর্কের রং। রামের জন্মভূমিতে গড়ে উঠেছে সুদৃশ্য মন্দির। জাঁকজমক করে হয়েছিল মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন।  করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। তার পর থেকে ভারতের পর্যটন মানচিত্রে ঠাঁই করে নিয়েছেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের আপন দেশ।

    সরকারের দেওয়া জমিতে হয়নি মসজিদ (Fundraising Challenges)

    অথচ, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, এখনও যোগী সরকারের দেওয়া জমিতে মসজিদ তৈরি হয়নি।  সম্প্রতি প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ) জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় না হওয়ায় আগের বিরাট পরিকল্পনা বাতিল করে অনেক ছোট পরিসরে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রাম জন্মভূমির বিতর্কিত জমি হিন্দু পক্ষকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয়, সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্‌ফ বোর্ডকে অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর বিকল্প জমি দিতে হবে, যাতে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা যায়। আদালতের এই নির্দেশের পর ওই জমিতে শুধু একটি মসজিদ নয়, একটি বহুমুখী হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, কমিউনিটি কিচেন এবং অন্যান্য সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় মুসলমানদের পক্ষ থেকে।

    কী বলছে আইআইসিএফ

    সম্প্রতি, আইআইসিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আগের সেই বিরাট পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সংস্থার চেয়ারম্যান জুফর আহমদ ফারুকি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহের অভাব রয়েছে। যে পরিমাণ অনুদান পাওয়া গিয়েছে, তা মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই এখন আমরা আগের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক ছোট একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত (Ayodhya New Mosque) নিয়েছি।” ফারুকির বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন পরিকল্পনা মতো মসজিদ গড়তে গেলে প্রয়োজন হবে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা। অথচ, এখনও পর্যন্ত জোগাড় হয়েছে সাকুল্যে দেড় কোটি টাকার মতো। ফলে প্রকল্পের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক অংশ আপাতত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম (Fundraising Challenges)।

    সম্প্রদায়ের মধ্যেই মতপার্থক্য

    এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে না যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড়ে ব্যর্থতা। শুধু তা-ই নয়, মুসলমান সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই এখনও মনে-প্রাণে এই মসজিদের কনসেপ্ট সমর্থন করেন না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই স্বপ্নের মসজিদ গড়তে যে ফান্ডের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা যায়নি। মুসলিম সমাজের একাংশের বক্তব্য, বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, এবং সেই কারণেও অর্থ সংগ্রহে আসেনি প্রত্যাশিত গতি (Ayodhya New Mosque)। জমি বরাদ্দ হওয়ার পর পাঁচ বছর কেটে গেলেও, মসজিদ তৈরি না হওয়ার কারণ নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত মহলে। ভাষ্যকারদের একাংশের দাবি, বাবরি মসজিদ মামলার রায় মুসলিম সমাজের একটি অংশ এখনও মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। তাদের মতে, সেই কারণেই বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ পাচ্ছে না প্রত্যাশিত জনসমর্থন। অবশ্য, এই ব্যাখ্যাকে সর্বজনস্বীকৃত হিসেবে দেখা হয় না। কোনও কোনও বিশ্লেষকের মতে আবার, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা, দাতাদের অগ্রাধিকার এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমজনতার আগ্রহ কমে যাওয়াও, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে (Fundraising Challenges)।

    “একবার ওয়াকফ, চিরকাল ওয়াকফ”

    এহেন আবহে “একবার ওয়াকফ, চিরকাল ওয়াকফ” ধারণাটিও বারবার উঠে আসছে। ইসলামি আইন অনুযায়ী, কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে নিবেদিত হলে তা ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে এই ধারণার ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যেও মতদ্বৈততা রয়েছে। ফলে এই নীতিকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের সকলের অভিন্ন অবস্থান রয়েছে—এমন অতিসরলীকরণ দাবি আদৌ করা যায় না (Ayodhya New Mosque)। অন্যদিকে, হিন্দু সংগঠনগুলির একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে বহু দশকের আইনি বিরোধের অবসান হয়েছে, এবং রাম মন্দির নির্মাণ সেই রায়েরই বাস্তব প্রতিফলন। তাদের দাবি, এখন সকল পক্ষের উচিত আদালতের রায়কে চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে (Fundraising Challenges) যাওয়া।

    ভূখণ্ডের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

    যদিও, ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় ভূমি কিংবা ভূখণ্ডের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই যুক্তি তুলে ধরে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাশ্মীর, প্যালেস্তাইন এবং স্পেনের আন্দালুসিয়া প্রসঙ্গও টানা হয়েছে। তাঁদের মতে, বহু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর কাছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কোনও ভূখণ্ডের দাবি ছেড়ে দেওয়া তারা সহজে মেনে নেয় না। অবশ্য, এই ধরনের ব্যাখ্যা সর্বজনস্বীকৃত নয়। ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক ও মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই বিষয়েও ভিন্নমত রয়েছে। বহু মুসলিম ধর্মীয় নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আদালতের রায় মেনে নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। ফলে সমগ্র মুসলিম সমাজের অবস্থানকে একরৈখিক হিসেবে দেখার সুযোগই নেই।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্যায় নবনির্মিত রাম মন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। তারপর থেকেই সেখানে প্রতিদিন বিপুল ভক্ত সমাগম হচ্ছে। আর, ধন্নিপুরে বিকল্প মসজিদ প্রকল্প এখনও নির্মাণপর্বেই পৌঁছতে পারেনি। ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা (Fundraising Challenges)। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে অনুদান সংগ্রহের অগ্রগতি, ট্রাস্টের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের ওপর (Ayodhya New Mosque)। আপাতত আইআইসিএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে একটি মসজিদ নির্মাণই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে (Fundraising Challenges)।

     

  • Ram Mandir: রামমন্দিরে দানসামগ্রী আত্মসাত করার অভিযোগে গ্রেফতার ৮, পাঠানো হল হেফাজতে

    Ram Mandir: রামমন্দিরে দানসামগ্রী আত্মসাত করার অভিযোগে গ্রেফতার ৮, পাঠানো হল হেফাজতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রামমন্দিরে (Ram Mandir) ভক্তদের দান আত্মসাত করার অভিযোগে চলা তদন্তে (Donation Embezzlement Case) বড় পদক্ষেপ উত্তরপ্রদেশ পুলিশের। শুক্রবার সকালে এই মামলায় এফআইআরে নাম থাকা আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব। আদালত বন্ধ থাকায় তাঁদের সোমবার পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই দিনই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিশেষ আদালতে তোলা হবে তাঁদের।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যেসব ধারায় মামলা (Ram Mandir)

    পুলিশ ও প্রসিকিউশনের দাবি, সুভাষ ছাড়া বাকি সাত অভিযুক্তের কাছ থেকে মোট ৭৯ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৯৩ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এঁরা সকলেই মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা, বাছাই এবং বান্ডিল তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) প্রাথমিক রিপোর্ট এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের এক সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ ও ৩(৫) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়।এদিকে, তদন্তের মধ্যেই নৈতিক দায় স্বীকার করে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। যদিও তাঁদের কারও নাম এফআইআরে নেই। প্রথমে চম্পত দান চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরে সিটের তদন্তকে স্বাগত জানান তিনি। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের।

    ৫০ কোটিরও বেশি টাকার সম্পত্তি অটোচালকের!

    ধৃতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিন্নু। একসময় তিনি অযোধ্যায় অটোরিকশা চালাতেন। পরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদে (VHP) যোগ দিয়ে চম্পতের ব্যক্তিগত চালক হন এবং করসেবকপুরমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরের দানবাক্সের চাবি তাঁর কাছেই থাকত এবং দানের নিরাপত্তা, গণনা ও ব্যাঙ্কে পৌঁছে দেওয়ার পুরো ব্যবস্থার ওপর তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল। অভিযোগ, নগদ অর্থ, সোনা, রুপো ও হিরের অলঙ্কার আত্মসাৎ করে তিনি ৫০ কোটিরও বেশি টাকার সম্পত্তি করেছেন। যদিও টিন্নুর দাবি, তিনি দান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, এবং ২০০৮ সালেই অটো চালিয়ে উপার্জিত অর্থে (Ram Mandir) ওই সম্পত্তি কিনেছিলেন। টিন্নুর ভাইপো মনীশও দান গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকেও চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার হয়েছে। রামশঙ্কর মিশ্র ওরফে রবি দীর্ঘদিন ধরে দান আত্মসাতের চক্রে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নিয়ম ভেঙে আর্থিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করতেন এবং তাঁর ছেলে অনুকল্প এবং জামাই লবকুশ মিশ্রকেও এই কাজে যুক্ত করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে নগদ অর্থ বাছাই করতে দেখা গিয়েছে (Donation Embezzlement Case)।

    উদ্ধার লাখ লাখ টাকা

    অনুকল্প রামশঙ্করের ছেলে এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের আত্মীয়। তিনি অযোধ্যার মিল্কিপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাড়ি থেকেও নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। লবকুশও দানসামগ্রী গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তদন্তে দাবি, অনুকল্পের সঙ্গে মিলে তিনি অর্থ আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। সিসিটিভিতে তাঁর কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে এবং তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। মন্দিরের পরিচারক হিসেবে দানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার দলে ছিলেন অবিনাশ। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ পুরো নগদ গণনা ব্যবস্থার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। এদিকে, করুণেশের বিরুদ্ধে দানের আর্থিক নথিতে কারচুপি করার অভিযোগ উঠেছে। আট অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজনের সরাসরি যোগ রয়েছে ট্রাস্টের সদ্য পদত্যাগী দুই পদাধিকারীর সঙ্গে। টিন্নু ছিলেন চম্পতের চালক এবং মনীশ তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আবার, রামশঙ্কর, তাঁর ছেলে অনুকল্প এবং জামাই লবকুশ ট্রাস্টি অনিলের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত (Ram Mandir)।

    কী বলছে সিসিটিভির ফুটেজ?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, দানবাক্সে জমা পড়া অর্থ এবং ব্যাঙ্কে জমা হওয়া অর্থের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর মন্দির কর্তৃপক্ষ গোপন ক্যামেরা বসায় (Donation Embezzlement Case)। সেই ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্তরা সিসিটিভির সামনে দাঁড়িয়েই গোপনে কিছু টাকা পকেটে পুরে ফেলছেন। কখনও বান্ডিলে অতিরিক্ত নোট ঢুকিয়ে পরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার পথে সেই নোট বের করে নেওয়া হত। নগদের পাশাপাশি ভক্তদের দেওয়া কিছু গয়নাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে মন্দিরে দান করা (Donation Embezzlement Case) ২০০ কেজি রুপো চুরির দাবি তদন্তে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে (Ram Mandir)।

     

  • Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গে যারা বাবরি মসজিদ করতে চাইছে, তাদের সঙ্গে জোট করে না বিজেপি”, সাফ জানালেন শাহ

    Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গে যারা বাবরি মসজিদ করতে চাইছে, তাদের সঙ্গে জোট করে না বিজেপি”, সাফ জানালেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) ধাঁচে কোনও কাঠামো নির্মাণে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে জোট করার চেয়ে বিজেপি আগামী ২০ বছর বিরোধী আসনে বসতেই বেশি পছন্দ করবে।” শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে একটি স্টিং অপারেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কথাগুলি বলেন তিনি।

    স্টিং ভিডিও (Amit Shah)

    গত বছর অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে পশ্চিমবঙ্গে একটি মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা করতে গিয়ে চর্চায় চলে আসেন হুমায়ুন। চলতি মাসেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন। তার কয়েক সপ্তাহ আগে, একটি স্টিং ভিডিও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। তৃণমূলকে হারানোর জন্য ১,০০০ কোটি টাকার একটি চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। হুমায়ুনের এহেন দাবিকে প্রচারের হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল এবং কংগ্রেস। যদিও হুমায়ুন এবং বিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ভুয়ো, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে (Amit Shah)।

    কী বললেন শাহ?

    এই বিতর্কের জবাবে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন হাজার হাজার ভিডিও তৈরি করতে পারেন।”  তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিজেপি ও কবীরের লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা।” তিনি তাঁদের পার্থক্যকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বিজেপি কখনওই তাঁকে (হুমায়ুন) সহযোগিতা করবে না (Babri Masjid)।” উল্লেখ্য, এর আগে, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ হুমায়ুনকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “তিনি ১০০ কোটি টাকারও যোগ্য নন, ১,০০০ কোটি তো দূরের কথা (Amit Shah)!”

    অভিযোগ অস্বীকার হুমায়ুনের

    হুমায়ুনও এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভিডিওটি তাঁর বদনাম করতে এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুসলিম ভোট হারানোর ভয়ে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করার অভিযোগও আনেন। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, প্রমাণ না দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে (Babri Masjid)। তাঁর ব্যাখ্যা সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে বিতর্ক। অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM), যারা হুমায়ুনের দলকে সমর্থন করেছিল, তারাও জানিয়ে দিয়েছে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে দেওয়া হয়েছে (Amit Shah)।

  • Ram Mandir: ধর্মীয় নগরী থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে অযোধ্যা, কীভাবে জানেন?

    Ram Mandir: ধর্মীয় নগরী থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে অযোধ্যা, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাম জন্মভূমি (Ram Mandir) মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি হয় এর উদ্বোধন। এই ঐতিহাসিক আয়োজন শুধু ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনাকেই পুনর্জাগরিত করেনি, বরং অযোধ্যাকে (Ayodhya) কেবল ধর্মীয় নগরী থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এর পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিশেষভাবে অবদান রেখেছে।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ (Ram Mandir)

    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় মন্দিরগুলি শুধু আস্থার কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকাঠামো বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিরুপতি, বৈষ্ণোদেবী ও শিরডির মতো তীর্থস্থানগুলি তার উদাহরণ। এখন অযোধ্যাও আধুনিক অগ্রগতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ের এক নতুন মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম), লখনউ “দ্য ইকোনমিক রেনেসাঁ অব অযোধ্যা, ইন্ডিয়া: এ কেস স্টাডি অন শ্রী রাম মন্দির” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে এই পবিত্র স্থানটি অযোধ্যার অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে (Ram Mandir)।

    মন্দির অর্থনীতি

    মন্দির অর্থনীতি বলতে মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সব অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে বোঝায়—দর্শনার্থীদের আগমন, তীর্থ পর্যটন, মন্দির পরিচালনা, প্রসাদ, ফুলের মালা, আবাসন, পরিবহণ-সহ অন্যান্য পরিষেবা। প্রাচীনকালে স্থানীয় অর্থনীতি যখন প্রধান ছিল, তখন মন্দিরগুলি আশপাশের জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করত। তীর্থযাত্রা দোকানদার, কারিগর, পুরোহিত, গাইড-সহ বহু মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করত। বারাণসী, মাদুরাই, পুষ্কর ও উজ্জয়িনীর মতো শহরগুলি বড় শিল্পনগরী হিসেবে নয়, বরং মন্দির ও তীর্থকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত (Ayodhya)। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মন্দিরকেন্দ্রিক অর্থনীতি এসব শহরকে টিকিয়ে রেখেছে। প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থেও উল্লেখ রয়েছে যে মন্দিরগুলিকে সমাজের সব স্তরের, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে।

    কী বলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা

    স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ভারতের মন্দির অর্থনীতি প্রতিবছর প্রায় ৩.০২ লক্ষ কোটি থেকে ৬ লক্ষ কোটি টাকা অবদান রাখে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২.৩ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ। একইভাবে রাম মন্দির অযোধ্যার অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে এবং শহরটিকে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ তীর্থস্থানগুলির তালিকায় লিপিবদ্ধ করেছে (Ram Mandir)। রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে সরকারকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা কর দিয়েছে। এর মধ্যে ২৭০ কোটি টাকা জিএসটি এবং ১৩০ কোটি টাকা অন্যান্য কর হিসেবে জমা হয়েছে। মন্দির থেকে সরকার প্রায় ৪০০ কোটি টাকা জিএসটি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে (Ayodhya)।

    অযোধ্যার অর্থনৈতিক প্রভাব

    মন্দির উদ্বোধনের পর অযোধ্যার অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় পর্যটন পরিবহণ, হোটেল, খাদ্য, ব্যবসা ও দান-খয়রাতিকে  বিশেষভাবে চাঙা করেছে। আইআইএম লখনউয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩.৭৭ কোটি ভক্ত অযোধ্যা পরিদর্শন করেছেন এবং বছরের শেষে এই সংখ্যা ১৬–১৮ কোটিতে পৌঁছায়। তুলনায় ইতালির ভ্যাটিকান সিটি প্রতিবছর প্রায় ০.৯ কোটি দর্শনার্থী পায়। মুসলমানদের পবিত্রতম তীর্থস্থান মক্কায় প্রায় ২ কোটি মানুষ যান। অযোধ্যাও অন্যান্য ধর্মীয় কেন্দ্রকে ছাড়িয়ে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি পর্যটন আয় অর্জন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে (Ram Mandir)।

    অর্থনৈতিক প্রভাব ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি

    এসবিআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবর্ষে অযোধ্যায় তীর্থযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অর্থনৈতিক প্রভাব ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এতে পর্যটন, আতিথেয়তা, খুচরো ব্যবসা ও পরিবহণ খাতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের পর একদিনেই দানের পরিমাণ ৩ কোটিরও বেশি হওয়ায় মন্দিরের জনপ্রিয়তা স্পষ্ট হয়। উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২৫ অর্থবর্ষে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব পেয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ছে (Ayodhya)। অযোধ্যায় হোটেল ও লজ খাতে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। ১৫০টির বেশি হোটেল ও লজ নির্মিত হয়েছে বা নির্মাণাধীন। তাজ হোটেলস, রেডিসন ও ওয়ো-র মতো ব্র্যান্ড সেখানে বিনিয়োগ করছে। সারা বছর হোটেলের গড় দখলের হার ৬০–৭০ শতাংশ, আর উৎসবের মরশুমে তা ১০০ শতাংশ (Ram Mandir)। ডোমিনোজ ও পিৎজা হাটের মতো আন্তর্জাতিক খাদ্যচেইনও শাখা খুলেছে।

    ব্যাপক কর্মসংস্থান

    মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনায় সরাসরি ১,০০০-এর বেশি মানুষ কাজ করছেন। মন্দির নির্মাণের সময় ৫০,০০০-এর বেশি শ্রমিক যুক্ত ছিলেন। মন্দির সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১.২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। জমির মূল্য ২০২০ সালের আগে যেখানে প্রতি বর্গফুট ৪০০–৮০০ টাকা ছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৪,০০০–১০,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। অযোধ্যা মাস্টার প্ল্যান ২০৩১-এর আওতায় ৮৫,০০০ কোটিরও বেশি বিনিয়োগ ঘোষণা করা হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, স্মার্ট ট্রাফিক, বাস টার্মিনাল ও নগর সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। ২০২৫ অর্থবর্ষে ১.১ কোটি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ ৪২৩ শতাংশ। ভবিষ্যতে বছরে ১০ কোটি যাত্রী পরিবহণের পরিকল্পনা রয়েছে (Ayodhya)।

    অযোধ্যা ধাম জংশন আধুনিকীকরণ

    অযোধ্যা ধাম জংশন আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। লখনউ, বারাণসী, প্রয়াগরাজ ও গোরখপুরের সঙ্গে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ স্থাপন হয়েছে। ই-রিকশার সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭,০০০। হোটেলের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০। ব্যাঙ্কের শাখা ১৫ থেকে ৬০ (Ram Mandir)। ইলেকট্রনিক্স দোকান ১০৮ থেকে ৪০১। পেট্রোল ও সিএনজি পাম্প ৫০-এর কম থেকে ৭৫-এর বেশি। ফুটপাতে বিক্রেতার সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ২,০০০। ফৈজাবাদ, বস্তি, সুলতানপুর, আমেঠি, লখনউ ও গোরখপুরেও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। হোটেল, গেস্ট হাউস, ধর্মশালা এবং লজিস্টিক সেবার সম্প্রসারণ ঘটেছে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে, মোদি ও যোগী সরকার শুধু রাম মন্দির নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অযোধ্যাকে বিশ্বমানের তীর্থনগরী (Ayodhya) হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনায় কাজ করছে (Ram Mandir)।

     

LinkedIn
Share