মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি ত্রাণের ত্রিপল আত্মসাৎ এবং তা কালোবাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগে আসানসোল পুরনিগমের এক তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরকে (Arrested Asansol TMC Councillor) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত জনপ্রতিনিধির নাম মোহিত শর্মা (বাপ্পা), যিনি আসানসোলের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাসকদলের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজ বাসস্থান থেকে জাহিদুল হক বৈদ্য নামে এক তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ত্রাণের ত্রিপল চুরি মামলায় অভিযুক্ত। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত দুর্নীতির চাপে অবসাদ থেকে মৃত্যু।
গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ লোগোযুক্ত সরকারি ত্রিপল উদ্ধার (Arrested Asansol TMC Councillor)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য সরকারি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল বরাদ্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ, কাউন্সিলর মোহিত শর্মা (Arrested Asansol TMC Councillor) সেই ত্রাণের ত্রিপল দুস্থদের মধ্যে বণ্টন না করে, নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা একটি গুদামে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ত্রিপলগুলি খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে এই দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার পর, পুলিশ আধিকারিকরা আসানসোলের সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালান। তল্লাশি চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ লোগোযুক্ত সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ মজুতকরণের বিষয়ে কাউন্সিলর কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় এবং নথিপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
আরও বড় কোনো চক্র সক্রিয়
এদিকে এই ঘটনার পর আসানসোলের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এই রূপ দুর্নীতি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দল কোনও রূপ দুর্নীতি বা অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। আইন আইনের পথেই চলবে এবং প্রশাসন এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বর্তমানে ধৃত কাউন্সিলরকে (Arrested Asansol TMC Councillor) পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারোও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
মানসিক অবসাদেই আত্মহনন
উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজ বাসস্থান থেকে জাহিদুল হক বৈদ্য নামে এক তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বাদুড়িয়ার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান (Baduria TMC Panchayat Pradhan) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদের কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে তীব্র আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছিল। গত ৩১ মে এলাকার অধিবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। স্থানীয়দের দাবি, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতাধীন যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য বরাদ্দ ১২টি অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার সরকারি গাড়ি তিনি গোপনে বিক্রি করে দেন এবং সেই অর্থ সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেন।
তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপে ছিলেন
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা প্রধানের (Baduria TMC Panchayat Pradhan) বাসভবনের সম্মুখে সমবেত হয়ে তীব্র গণবিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। এই প্রেক্ষিতে স্থানীয় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপে ছিলেন ওই জনপ্রতিনিধি।
বৈবাহিক জীবনেও চরম পারিবারিক অশান্তি
মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন যে, জাহিদুল হক বৈদ্য নিজ গৃহের অভ্যন্তরে আত্মঘাতী হয়েছেন। খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঝুলন্ত অবস্থা থেকে প্রৌঢ়ের দেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল শেষে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মৃতের পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ ছাড়াও জাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে গভীর আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন। একই সাথে তাঁর বৈবাহিক জীবনেও চরম পারিবারিক অশান্তি চলছিল। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আকস্মিক প্রয়াণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
