Tag: bangla khabar PM Modi

  • Vaibhav Sooryavanshi: ভেঙে যাবে সচিনের ৩৭ বছর আগের রেকর্ড! ভারতীয় দলে অভিষেকের অপেক্ষায় বৈভব

    Vaibhav Sooryavanshi: ভেঙে যাবে সচিনের ৩৭ বছর আগের রেকর্ড! ভারতীয় দলে অভিষেকের অপেক্ষায় বৈভব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান! আর মাত্র দু’মাস পরেই সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। আইপিএল শেষ হওয়ার পর জুনে আয়ারল্যান্ড সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ১৫ বছরের বৈভবকে রাখা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি সত্যিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় বৈভবের, তবে সবচেয়ে কম বয়সে ভারতের হয়ে খেলার রেকর্ড গড়বে বৈভব। ভেঙে দেবে সচিনের ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ড।

    ভাঙার মুখে সচিনের রেকর্ড

    প্রায় চার দশক আগে বাইশ গজ দেখেছিল এক বিস্ময় বালককে। ১৯৮৯ সালে ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। সেই শুরু বাকিটা ইতিহাস। চলতি আইপিএল শেষের পরেই জুন মাসে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। ২৬ ও ২৮ জুন বেলফাস্টে আয়োজিত হবে ম্যাচগুলি। একাধিক রিপোর্টে প্রকাশ, এই সিরিজের জন্য পূর্ণশক্তির দল নামাবে না ভারত। তরুণ ক্রিকেটারদের দেখে নিতে চায় বিসিসিআই। তাই সুযোগ পেতে পারে বৈভব। বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ট্যুরে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে রয়েছে বৈভব। বাকি অনেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে ওর নামও তালিকায় রেখেছেন নির্বাচকরা।’আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটলে তখন বৈভবের বয়স হবে ১৫ বছর ৯১ দিন।

    আয়ারল্যান্ডের পর জিম্বাবোয়ে

    আয়ারল্যান্ডে ভাল খেলতে পারলে পরবর্তী জিম্বাবোয়ে সফরের দলেও বৈভবকে রাখা হবে বলে খবর। সেখানে ২৩ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ভারতের তিনটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। যেহেতু আয়ারল্যান্ড এবং জিম্বাবোয়ের মতো তুলনায় দুর্বল দু’টি দলের সঙ্গে ভারতের খেলা রয়েছে, নির্বাচকেরা এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, আর অপেক্ষা না করে বৈভবকে এখনই জাতীয় দলে খেলানো হোক। বোর্ডেরই প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ এবং বর্তমান আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল কিছু দিন আগেই সামাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “এ বারের আইপিএলে বৈভব সূর্যবংশীর কী অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শনী! ওর পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে এই বলতেই হয়, এই বিস্ময়কর প্রতিভা অবশ্যই সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের হয়ে অভিষেকের দাবি রাখে। এত কম বয়সে এমন প্রতিভাবান কাউকে খুঁজে পাওয়া বিরল। ভারতের সর্বকনিষ্ঠ অভিষেককারী হিসেবে ওর খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত।”

    বিস্ময় বালক বৈভব

    ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন বিসিসিআই-এর কাছে বৈভবকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। এ বারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের প্রথম ম্যাচেই চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে বৈভব ১৭ বলে ম্যাচ জেতানো ৫২ রান করে। তার পরেই ভন এই মন্তব্য করেন। এর পর ইরফান পাঠান, হরভজন সিং-সহ আরও অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার বিসিসিআইকে বলেছেন, আইপিএলের পরেই বৈভবকে ভারতীয় দলে নেওয়া হোক। অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি অবশেষে এই আবেদনে সাড়া দিচ্ছে বলে অনুমান ক্রিকেট মহলের। গত মরশুমে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএল অভিষেকের পরেই চর্চায় উঠে আসে বৈভব। তারপর ভারতের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে নজর কেড়েছে সে। টেস্ট হোক বা টি-টোয়েন্টি, যে কোনও ফর্ম্যাটেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে ১৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার। তাই বৈভবকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে আরও।

  • Assembly Election 2026: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন?’ ভবানীপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত, দাবি শুভেন্দুর

    Assembly Election 2026: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন?’ ভবানীপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত, দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে জিতবে বিজেপিই। ভবানীপুরে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে লড়তে ভয় পাচ্ছেন, দাবি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে জনসংযোগ করার সময় শুভেন্দু জানিয়েছেন, “কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, অন্তত ২৫ হাজার ভোটে আমি জিতব।” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) ভবানীপুর কার পাশে দাঁড়াবে? এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে লড়বেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এত ভয় কেন?

    ভবানীপুরে হেভিওয়েট ডুয়েলের আগে কোমর বেঁধে ভোট ময়দানে নেমেছেন দুজনেই। নন্দীগ্রামের অফিসারকে ভবানীপুরে বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। আর তারই জবাব দিতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে খোঁচা দিলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। বললেন, “নিজের বাড়ি, তাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত কেন ভয়?” রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন? নিজের বাড়ি। নিজের জায়গা। যেখানে তিনি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করেন বলে বলেন। তাহলে কেন এসব বলছেন? উনি হারের আতঙ্ক থেকে এই ধরনের কথা বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারবেন। বিজেপি জিতবে। ভবানীপুর বিজেপির জায়গা। ২০১৪ সালে তথাগত রায় প্রথম দক্ষিণ কলকাতায় লড়েছিলেন এবং ভবানীপুরে লিড হয়েছিলেন। আমার পরম প্রাপ্তি তথাগত রায় আমায় মেসেজ করেছেন, আমি এই বয়সেও তোমার জন্য ভবানীপুরে কিছু করতে চাই। কি করতে হবে বলো, কবে যেতে হবে বলো। কর্মসূচিগুলো আমায় সূচনা দেবে। এটা পরম প্রাপ্তি আমার কাছে।”

    বিজেপির জয় সময়ের অপেক্ষা

    ভবানীপুরের নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের হিসাবও দিলেন শুভেন্দু। বললেন, “তিন দফাতে ৫১ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। প্রথমে ৪৫ হাজার। পরে ২ হাজার। আর বিবেচনাধীন তালিকায় প্রায় ৪ হাজার। এই ৫১ হাজার ভুয়ো ভোটের মালিক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যথাটাও জানি। যন্ত্রণাটাও জানি। বুঝতে পারছেন আগামিদিনে কী হবে। পৃথিবীর কোনও শক্তি, কোনও মেডিসিনি নেই, এই কোমাতে চলে যাওয়া তৃণমূলকে পুনরুজ্জীবিত করে, বিজেপির জয় এখন সময়ের অপেক্ষা।” ভবানীপুরের পাশাপাশি, নন্দীগ্রাম নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “সেখানকার মানুষ জানেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় আমার ভূমিকা, সেখানকার মানুষ জবাব দেবে।” বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভবানীপুরে রামনবমীর মিছিলে তিনি থাকবেন বলেও এদিন জানিয়ে দেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এবছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফায় রয়েছে ১৫২টি আসন, ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসন, ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ভোটগণনা হবে ৪ মে ।

  • IPL 2026: জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া, দেশে জ্বালানি সংকট! পিছিয়ে যাবে আইপিএল? বিসিসিআই বলল…

    IPL 2026: জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া, দেশে জ্বালানি সংকট! পিছিয়ে যাবে আইপিএল? বিসিসিআই বলল…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোটা দেশে এলপিজি সংকট। আমেরিকা-ইরানের লড়াইয়ের ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে ইরান। যার জেরে জ্বালানি সরবরাহ ধাক্কা খেয়েছে। বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, মুম্বইয়ের মতো প্রথমসারির শহরে একাধিক রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই আবহে আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা আইপিএল টুর্নামেন্ট আয়োজন নাও হতে পারে বা পিছিয়েও যেতে পারে। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্লেয়াররা আসবেন। তাঁদের থাকা, যাতায়াত সবেতেই লাগবে জ্বালানি।

    হোটেলে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাব

    আইপিএল চেয়ারম্য়ান অরুণ ধূমাল জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সেই মতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইপিএল আয়োজনের সময় দেশের তো নয়, বিদেশের প্রচুর প্লেয়ার আসেন। তাঁদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয় বিভিন্ন শহরের ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে। এছাড়াও অনেকের পরিবার-পরিজনরাও আসেন। হোটেলে পর্যাপ্ত জ্বালানির ব্যবস্থা না থাকলে তা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ের মত বড় বড় শহরে গত কয়েক দিন ধরে এলপিজি জ্বালানির সংকট দেখা গিয়েছে।

    যুদ্ধে জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া

    যুদ্ধে জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া। হরমুজ প্রণালীতে আটকে আছে বহু জাহাজ। প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ‘নিয়ন্ত্রণ’-এর রাস্তায় হেঁটেছে কেন্দ্র। বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় মুম্বইয়ের অন্তত ২০ শতাংশ হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে, সেখানকার হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলির সংগঠন ‘আহার’। সংগঠনের দাবি, জোগান স্বাভাবিক না-হলে, কয়েক দিনের মধ্যে শহরের অন্তত ৫০ শতাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হবে। বাণিজ্য নগরীর পাশাপাশি, এলপিজি সঙ্কটে ভারতের সিলিকন ভ্যালিও। বেঙ্গালুরুতেও দেখা দিয়েছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের আকাল।

    আইপিএল-এর প্রস্তুতি শুরু

    ইতিমধ্যেই আইপিএল-এর একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি তাদের ক্যাম্পেইন শুরু করে দিয়েছে। চেন্নাই সুপার কিংস প্রতিদিন ১০ জন প্লেয়ারকে ট্রেনিং দিচ্ছে।পাঞ্জাব কিংসও ১০ জন প্লেয়ারকে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সমস্যাটা শুধু এলপিজি সরবরাহ নিয়ে নয়। আসল সমস্যাটা হচ্ছে পরিকাঠামো নিয়ে। জ়িম্বাবোয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্লেয়াররা এখনও বাড়ি ফিরতে পারেননি, আর তাঁরা না ফিরলে কী ভাবে আইপিএল-এ অংশগ্রহণ করবেন সেই প্রশ্নটাও থাকছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে যেভাবে মাঝেমধ্যেই যাত্রিবাহী বিমান বন্ধ থাকছে তাতে প্লেয়ারদের ভারতে আসাটাও বড় প্রশ্নের মুখে। এই পরিস্থিতিতে বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয় সেই দিকে নজর সকলের।

    বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও সমস্যা

    একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আইপিএলের পূর্ণাঙ্গ সূচি তৈরি করতে সমস্যায় পড়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কর্তারা। যদিও ২৮ মার্চ থেকে আইপিএল শুরু হওয়া নিশ্চিত। প্রাথমিক ভাবে প্রথম ২০ দিনের সূচি প্রকাশ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু এবং কেরলে বিধানসভা নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন এখনও নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেনি। এই পরিস্থিতিতে আইপিএলের সূচি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে বিসিসিআই। নির্বাচনের সময় আইপিএলের ম্যাচের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা হয়। তাই সব দিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন বিসিসিআই কর্তারা।

  • Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে তিনি ‘অজিত দাদা’ নামেই পরিচিত। শরদ পাওয়ারের ভাইপো হলেও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি ব্যাপক ভাবেই গড়ে তুলেছিলেন অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মোট ৬ বার। বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইট। অজিত পাওয়ার সহ কোনও যাত্রীই বেঁচে নেই। ডিজিসিএ জানিয়েছে, পুণে জেলা ও বারামতী অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ানের সময় অত্যন্ত ঘন কুয়াশার মুখে পড়ে বিমানটি, যার ফলে ফ্লাইটের শেষ পর্যায়ে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। মহারাষ্ট্রের বরামতীর কাছে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিলেন পাইলট, যাতে বাঁচানো যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভেঙে পড়ার পরেই মুহূর্তে আগুন ধরে যায় বিমানে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    ডিজিসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বারামতীর কাছে পাহাড়ি ভূখণ্ডের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি পাথুরে এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে, মুম্বই থেকে উড়ানের প্রায় এক ঘণ্টা পর। ঘটনার তদন্তে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। ডিজিসিএ-র সিনিয়র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার বিশ্লেষণ করা হবে। ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নথিভুক্ত ও ছবি তোলা হবে, যাতে আঘাতের সময় বিমানের গতি, দিক এবং কোণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে তদন্ত

    এছাড়াও বিমানটির ব্ল্যাক বক্স—যার মধ্যে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার রয়েছে—উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা হবে। এই যন্ত্রগুলি থেকে বিমানের অবস্থান এবং দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোতে পাইলটদের পদক্ষেপ ও কথোপকথন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ককপিট রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে হওয়া যোগাযোগও খতিয়ে দেখবেন, কোনও সতর্কবার্তা বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না তা জানার জন্য। একই সঙ্গে উড়ানের আগে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করে দেখা হবে, বিমানটি নিরাপদ ও সমস্ত নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেছিল কি না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও কম দৃশ্যমানতায়, বিশেষ করে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস-এর

    দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি লিয়ারজেট  মডেল ৪৫। এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম নন-শিডিউল বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা। লিয়ারজেট একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার-লাইট বিজনেস জেট, যা তার গতি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং উচ্চ-উচ্চতায় উড়ানের জন্য সুপরিচিত। এর ডানার বিস্তার ৪৭ ফুট এবং সর্বোচ্চ ওজন ৯,৭৫২ কেজি। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর এই বিমানে করে মহারাষ্ট্রের বরামতীতে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। অজিত পাওয়ার ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই পাইলট ও পাওয়ারের দুই নিরাপত্তারক্ষীর। লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমান অতীতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ানের সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমান। সেটিতেও অবতরণের সময়েই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এই মডেলের বিমানগুলিতে দু’টি ইঞ্জিন থাকে। সাধারণত এই বিজনেস জেট বিভিন্ন কর্পোরেট এবং ভিআইপি-দের সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। মাঝারি মাপের এই বিমানটি স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের উড়ানের জন্য উপযুক্ত। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়া এই লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি পরিচালনা করছিল ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’ নামে এক সংস্থা। সেই ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’-এর বিমান দুর্ঘটনাতেই এবার মৃত্যু হল মহরাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিতের।

    অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    অজিতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অজিতের উত্থান এবং রাজনৈতিক দক্ষতার কথা স্মরণ করে একটি এক্স পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সমাজের তৃণমূল স্তরের সঙ্গে অজিতের দৃঢ় যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন তিনি। পরিশ্রমী এবং সর্বজন সম্মানিত অজিতের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মোদির কথায়, ‘‘প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর (অজিত) বোধগম্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, গরিব এবং নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো।’’ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং — সকলেই শোকপ্রকাশ করেছেন। অজিতের মৃত্যুতে তিনি বিধ্বস্ত, এমনই জানিয়েছেন শরদ পাওয়ারের কন্যা অজিতের বোন সুপ্রিয়া সুলে।

    শোকবার্তা ভারতীয় ক্রিকেটারদের

    অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই মহারাষ্ট্র সহ গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, অনেকেই শোক জ্ঞাপন করেছেন। শচিন তিনি লিখেছেন, মহারাষ্ট্র আজ একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতাকে হারাল। এই রাজ্যের জন্য তিনি যথেষ্ট কাজ করেছেন। এই কঠিন সময়ে ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। ওম শান্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহানে লিখেছেন, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দাদার মৃত্যুকে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।

    বারামতীতেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু

    যে বারামতীতে আজ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এনসিপি নেতা, সেখানেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি অজিতের। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বরামতীতে চিনির কারখানায় কোঅপারেটিভ বোর্ডের মেম্বার হয়ে যান। এটাই অজিতের প্রথম ভোটে জয়। ১৯৯১ সালে বরামতী থেকেই লোকসভায় নির্বাচিত হন অজিত পাওয়ার। এটাই সংসদীয় রাজনীতিতে প্রথম জয় তাঁর। তবে তারপরে আর লোকসভায় লড়াই করেননি তিনি। একেবারে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। এরপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতেই নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি। আজ যেখানে প্লেন ক্র্যাশ হল, সেই বরামতীই পাওয়ার পরিবারের ঘাঁটি বলা যায়। বরামতী থেকেই বারবার বিধায়ক হয়েছেন অজিত পাওয়ার।

  • PM Modi: নয়া উচ্চতায় ভারত–জার্মানি সম্পর্ক, মোদি-মের্ৎসের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হল একগুচ্ছ মউ

    PM Modi: নয়া উচ্চতায় ভারত–জার্মানি সম্পর্ক, মোদি-মের্ৎসের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হল একগুচ্ছ মউ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা, অভিবাসন ও কর্মী যাতায়াত, প্রযুক্তি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হল ভারত ও জার্মানি (Germany)। এনিয়ে গুজরাটে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনও করেন দুই দেশের দুই প্রতিনিধি। যৌথ বিবৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও জার্মানির মতো অর্থনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর কথায়, দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে এখন নতুন বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার ফলাফলে রূপান্তরিত করার সময় এসেছে।

    সুস্পষ্ট রোডম্যাপ (PM Modi)

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশ একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির দিকে এগোচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে জার্মানির প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান। অতীতে এই জটিলতাই দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং দেশীয় উৎপাদন জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। জার্মানির সহজতর ক্রয় প্রক্রিয়া যৌথ প্রকল্প ও সরবরাহকারী অংশগ্রহণ দ্রুততর করতে পারে। দুই দেশ অভিবাসন ও দক্ষ কর্মী যাতায়াত নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এর মাধ্যমে জার্মানির শ্রমবাজারের চাহিদা এবং ভারতের দক্ষ মানবসম্পদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবে এই উদ্যোগকে অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে (PM Modi)।

    ভারত–জার্মানি কৌশলগত অংশীদারিত্ব

    মোদি জানান, গত বছর ভারত–জার্মানি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং চলতি বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর উদযাপিত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক এই অংশীদারিত্বে নতুন গতি এনেছে, যার প্রভাব (Germany) পড়বে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও। দুই দেশ যৌথভাবে ভারত–জার্মানি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে। এই কেন্দ্র জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে (PM Modi)। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, নগর উন্নয়ন ও আরবান মোবিলিটির ক্ষেত্রে একাধিক নতুন প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারত ও জার্মানির সংস্থাগুলির অংশগ্রহণে একটি বৃহৎ সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্পকে ভবিষ্যতের জ্বালানি ক্ষেত্রে “গেম-চেঞ্জার” হিসেবেও তুলে ধরা হয়।

    স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতে চ্যান্সেলর মের্ৎসকে স্বাগত জানিয়ে মোদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ ও ম্যাডাম কামার মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই সফর সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দিচ্ছে (PM Modi)।” চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, “জার্মানি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে চায়। এর আগে তিনি মহাত্মা গান্ধীর জন্মভূমিও পরিদর্শন করেন (Germany)। এই সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একাধিক মউ স্বাক্ষরিত হয়।

LinkedIn
Share