Tag: Bangla khabor

Bangla khabor

  • Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গে যারা বাবরি মসজিদ করতে চাইছে, তাদের সঙ্গে জোট করে না বিজেপি”, সাফ জানালেন শাহ

    Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গে যারা বাবরি মসজিদ করতে চাইছে, তাদের সঙ্গে জোট করে না বিজেপি”, সাফ জানালেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) ধাঁচে কোনও কাঠামো নির্মাণে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে জোট করার চেয়ে বিজেপি আগামী ২০ বছর বিরোধী আসনে বসতেই বেশি পছন্দ করবে।” শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে একটি স্টিং অপারেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কথাগুলি বলেন তিনি।

    স্টিং ভিডিও (Amit Shah)

    গত বছর অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে পশ্চিমবঙ্গে একটি মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা করতে গিয়ে চর্চায় চলে আসেন হুমায়ুন। চলতি মাসেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন। তার কয়েক সপ্তাহ আগে, একটি স্টিং ভিডিও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। তৃণমূলকে হারানোর জন্য ১,০০০ কোটি টাকার একটি চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। হুমায়ুনের এহেন দাবিকে প্রচারের হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল এবং কংগ্রেস। যদিও হুমায়ুন এবং বিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ভুয়ো, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে (Amit Shah)।

    কী বললেন শাহ?

    এই বিতর্কের জবাবে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন হাজার হাজার ভিডিও তৈরি করতে পারেন।”  তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিজেপি ও কবীরের লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা।” তিনি তাঁদের পার্থক্যকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বিজেপি কখনওই তাঁকে (হুমায়ুন) সহযোগিতা করবে না (Babri Masjid)।” উল্লেখ্য, এর আগে, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ হুমায়ুনকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “তিনি ১০০ কোটি টাকারও যোগ্য নন, ১,০০০ কোটি তো দূরের কথা (Amit Shah)!”

    অভিযোগ অস্বীকার হুমায়ুনের

    হুমায়ুনও এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভিডিওটি তাঁর বদনাম করতে এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুসলিম ভোট হারানোর ভয়ে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করার অভিযোগও আনেন। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, প্রমাণ না দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে (Babri Masjid)। তাঁর ব্যাখ্যা সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে বিতর্ক। অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM), যারা হুমায়ুনের দলকে সমর্থন করেছিল, তারাও জানিয়ে দিয়েছে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে দেওয়া হয়েছে (Amit Shah)।

  • Vikram Misri: হোয়াইট হাউসে বৈঠক মিশ্রি-রুবিওর, আগামী মাসে ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব

    Vikram Misri: হোয়াইট হাউসে বৈঠক মিশ্রি-রুবিওর, আগামী মাসে ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করতে জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Vikram Misri)। এরই প্রেক্ষিতে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি হোয়াইট হাউসে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর (Marco Rubio) সঙ্গে বৈঠকে বসেন। দুই দেশের ওই বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলেই খবর। এই বৈঠক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই আলোচনা হয়েছে, যখন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে উভয় দেশই তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে।

    আলোচনার বিষয় (Vikram Misri)

    আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার নয়া উদ্যোগ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক শুল্ক-সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে। উভয় পক্ষ এখন ২০২৬ সালের একটি বাণিজ্য সমঝোতা এগিয়ে নেওয়া, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং উন্নত উৎপাদন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায়, একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals) নিয়ে সহযোগিতা, যা এখন বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Vikram Misri)। এই সম্পদগুলি জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। ভারত ও আমেরিকা একটি স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে। উভয় দেশ যৌথ সামরিক মহড়া বাড়াচ্ছে, পারস্পরিক সামঞ্জস্য উন্নত করছে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে (Vikram Misri)। এই আলোচনা ফের একবার কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়লগের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে (Marco Rubio)। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের সময়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে, উভয় দেশ উদীয়মান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করার সুযোগ পেয়েছে। জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করা, সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক উত্তেজনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া—এই বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল, যা সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার অভিন্ন ইচ্ছাকে নির্দেশ করে (Vikram Misri)।

    সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো

    মিশ্রির আলিশন হুকারের সঙ্গে সমান্তরাল বৈঠকে ডিসেম্বরের ফরেন অফিস কনসালটেশনসের পরবর্তী অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রগুলিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনায় (Marco Rubio)। এদিকে, রুবিও আগামী মাসে ভারত সফরে আসবেন বলে খবর। একে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই সফর বৃহত্তর কৌশলগত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যার মধ্যে সম্ভাব্য কোয়াড পর্যায়ের বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং এটি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন উদ্যোগের পথ খুলে দিতে পারে।

    সব মিলিয়ে, এই আলোচনা একটি পরিণত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দেয়, যা ভূ-রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অভিন্ন স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত। বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি (Marco Rubio) স্থিতিশীল ও বহু- মেরু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে ক্রমশ আরও বেশি কাছাকাছি আসছে (Vikram Misri)।

     

  • Arindam Sil: ‘কর্পূর’ নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল আদালত পর্যন্ত, কেন জানেন?

    Arindam Sil: ‘কর্পূর’ নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল আদালত পর্যন্ত, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিচালক অরিন্দম শীলের (Arindam Sil) বাংলা সিনেমা ‘কর্পূর’ (Korpur) নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল আদালত পর্যন্ত। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯ মার্চ। এই ছবির দুই চরিত্রে অভিনয় করছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং বিদায়ী মন্ত্রী তৃণমূলেরই ব্রাত্য বসু। ঘটনাচক্রে দুজনেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে হাজির ভোট-বাজারে। সেই কারণেই এই ছবির প্রদর্শন বন্ধের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা।

    বিতর্কের কেন্দ্রে ‘কর্পূর’ (Arindam Sil)

    বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে ১৪ মার্চ। তারপরেই রাজ্যজুড়ে এই সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। অভিযোগ, বড় পর্দা ও প্রচারের হোর্ডিংকে হাতিয়ার করে নিজেদের কেন্দ্রেও কার্যত পরোক্ষভাবে ভোটের প্রচার সারছেন এই দুই তৃণমূল নেতা। বিরোধীদের দাবি, সিনেমার প্রচারের মাধ্যমে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মামলাকারীদের পক্ষে আবেদনে ২০১৯ সালের একটি ছবির নজির টেনে নিয়ে আসা হয়েছে। সেই সময় লোকসভা নির্বাচনের আগে ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ বায়োপিকটির মুক্তি ঠিক একইভাবে পিছিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে ‘কর্পূর’-এর ক্ষেত্রে কমিশন কেন নীরব? এই প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, কমিশনে অভিযোগ জানানোর পরেও লাভ হয়নি।

    মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্য

    জানা গিয়েছে, নয়ের দশকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা হয়নি আজও। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি এই ছবি অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে। রাজনৈতিক থ্রিলারধর্মী এই ছবির পোস্টার মুক্তি পেয়েছিল আগেই। এবার প্রকাশ্যে এল ছবির প্রথম ঝলক। সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের চরিত্রে এই ছবিতে দেখা যাবে কুণাল ঘোষকে। এই ছবির মাধ্যমেই বড়পর্দায় অভিনেতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে কুণালের। ‘কর্পূরে’ মনীষা মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন ব্রাত্য বসু, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এক বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে খোদ অরিন্দম শীলকেও (Arindam Sil)।

    বাস্তব ঘটনার প্রেরণায় নির্মিত এই রাজনৈতিক থ্রিলার, বহু অজানা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে দর্শককে। ‘কর্পূরে’র প্রথম ঝলক থেকে যা জানা গেল, তা মোটামুটি অনেকটা (Korpur) এই রকম। ১৯৯৭ সাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মৌসুমী সেন আচমকাই উধাও হয়ে যান। বহু আলোচিত ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতিকাণ্ডের মধ্যেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। খবরে প্রকাশিত হয়, তিনি নাকি লন্ডনে পালিয়ে গিয়েছেন। যদিও তদন্তে যুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক, যাঁর কণ্ঠ পরে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, সন্দেহ করেছিলেন এর নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের (Arindam Sil)।

     

  • NIA: মালদায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাওয়ের তদন্তে ১২ মামলা দায়ের এনআইএ-র

    NIA: মালদায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাওয়ের তদন্তে ১২ মামলা দায়ের এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মালদায় (Malda) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাও করার ঘটনার তদন্তে ১২টি মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)।

    এনআইএ-র বিবৃতি (NIA)

    গভীর রাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে এনআইএ-র তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের জন্য তারা ফের মালদা জেলার মোথাবাড়ি থানায় ৭টি এবং কালিয়াচক থানায় ৫টি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ মালদায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এনআইএ-র তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই এই মামলাগুলির বিস্তারিত তদন্তের জন্য মালদায় পৌঁছে গিয়েছে।”

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার শীর্ষ আদালত মালদায় সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও সংক্রান্ত মামলাগুলি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আমলাতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় ও সরকারি দফতরে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পানচোলির বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ১ এপ্রিলের ঘটনাসংক্রান্ত ১২টি মামলা হস্তান্তর করে (NIA)। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো একটি চিঠির ভিত্তিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে। ওই চিঠিতে একটি ভয়াবহ রাতের বিবরণ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন মহিলা এবং পাঁচ বছরের একটি শিশু-সহ জুডিশিয়াল অফিসারদের ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খাদ্য ও জল ছাড়াই আটকে রাখে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

    হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ

    মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে তিরস্কার করে। ঘটনার দিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় নারিয়ালাকে ক্ষমাও চাইতে বলে শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বেঞ্চের নির্দেশ, গ্রেফতার হওয়া ২৬ জন অভিযুক্তকে মামলার নথিপত্র-সহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে, কারণ এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের ওপর ভরসা করা যাচ্ছে না (NIA)। আদালত এনআইএকে এই ঘটনার হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেয় এবং জানিয়ে দেয়, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে (Malda)।

    মূল অভিযুক্ত হেফাজতে

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা আদালতে জানান, মূল অভিযুক্ত মফাকেররুল ইসলাম এবং মৌলানা মহম্মদ শাহজাহান আলি কাদরি ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা রয়েছেন হেফাজতে। সেদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা প্রকাশ করে এবং এটি শুধুমাত্র জুডিশিয়াল অফিসারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ করার শামিল। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ৭০০ জুডিশিয়াল অফিসার বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬০ লক্ষেরও বেশি আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে তাঁদের।

    সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে,  হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল এবং তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপিকে গ্রুপ কল করেছিলেন। পরে তাঁরা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছন এবং মধ্যরাতের পর আটক বিচারপতিদের মুক্ত করা হয় (NIA)। প্রধান বিচারপতি এও জানান, উদ্ধার হওয়ার পরেও জুডিশিয়াল অফিসারদের গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়, হামলা চালানো হয় লাঠি এবং ইট দিয়েও (Malda)।

  • West Bengal Assembly Election: ‘‘তৃণমূলের চিট ও চিটিংবাজি বন্ধ করবে বিজেপি”, হলদিয়ার জনসভায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    West Bengal Assembly Election: ‘‘তৃণমূলের চিট ও চিটিংবাজি বন্ধ করবে বিজেপি”, হলদিয়ার জনসভায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাঁচ বছর আগে পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল নন্দীগ্রাম। এ বার তার পুনরাবৃত্তি হবে ভবানীপুরেও। গোটা পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হবে।” বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় আয়োজিত জনসভায় এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এদিন তিনি প্রচার শুরু (West Bengal Assembly Election) করেন হলদিয়া থেকেই। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় সভায় পৌঁছতে খানিক দেরি হয় প্রধানমন্ত্রীর। শুভেন্দু অধিকারী-সহ ১৪ পদ্ম প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করেন তিনি।

    তৃণমূল সরকারের বিদায়ের ঝড় (West Bengal Assembly Election)

    এদিনের মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি পরিবর্তনের ঝড়, তৃণমূল সরকারের বিদায়ের ঝড়। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল। এ বার তার পুনরাবৃত্তি হবে ভবানীপুরে। গোটা পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হবে।” সভায় ‘বিকশিত বাংলা’র আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পশ্চিমবাংলার নির্বাচন সামান্য নয়, বাংলার বৈভব স্থাপনের নির্বাচন। নির্মম সরকারের বিদায় হলেই বিকশিত বাংলা হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে ভারতে। অনেক রাজ্য উন্নতির পথে চলছে, কিন্তু তৃণমূলের নির্মম সরকার বাংলাকে ক্রমশ নীচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর তাই হলদিয়ার কারখানায় তালা ঝুলছে।’’

    রোজগার মেলা

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি-শাসিত রাজ্যে রোজগার মেলা হয়। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরে এ রাজ্যেও শুরু হবে রোজগার মেলা।” তিনি বলেন, “যার যা অধিকার, সেটাই দেবে বিজেপি। এটাই মোদির গ্যারান্টি।” বিজেপি সরকার সংবিধান মেনেই কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা কেন প্রয়োজন, এদিন সেই কৈফিয়তও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী এক সঙ্গে কাজ করলেই বাংলার লাভ। তাই রাজ্যে চাই ডাবল ইঞ্জিন সরকার।” রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তৃণমূলের সরকার শুধু অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বাড়িয়েছে। তৃণমূলের নির্মম সরকার শুধু নকল নথি বানিয়েছে। তৃণমূলের রাজনীতি শুধু ভয়ের ওপর নির্ভরশীল। মা-বোনেদের জীবন এবং মানসম্মানের ওপর আর কিছুই হতে পারে না। আর এই গ্যারান্টিই দেয় বিজেপি।”

    ‘পিএম’ শব্দে আপত্তি তৃণমূলের!

    মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর নয় বাংলা। সে প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় মাছের এত চাহিদা, কিন্তু এই রাজ্য মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর (West Bengal Assembly Election) নয়। চাহিদা মেটাতে অন্য রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হয়। গত ১৫ বছরে মৎস্য উৎপাদনে তৃণমূল সরকার কোনও উদ্যোগই নেয়নি।” তৃণমূলের ‘চিটিংবাজি’ও বন্ধ করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘তৃণমূলের চিট ও চিটিংবাজি বিজেপি বন্ধ করবে। সরকারি চাকরি নির্দিষ্ট সময়ে হবে। সব চাকরি হবে দুর্নীতিমুক্ত। চাকরির জন্য কোনও কাটমানি নয় (PM Modi)। এটা হবে বিজেপির আমলে।’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইংরেজিতে ‘প্রাইম মিনিস্টার’ শব্দের দুই আদ্যক্ষর ‘পিএম’ শব্দে আপত্তি রয়েছে তৃণমূলের। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আগে ‘পিএম’ লেখা থাকলে তৃণমূল সরকার তা রাজ্যে চালু করে না। পিএম শব্দটিও পছন্দ করে না তৃণমূল। তাই পিএম নাম বাদ দিয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত, পিএম জনআরোগ্য যোজনার মতো প্রকল্প এখানে চালু হতে দেয়নি।”

    ‘ছয় গ্যারান্টি’

    হলদিয়ার জনসভায় ‘ছয় গ্যারান্টির’ কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১) ভয়ের জায়গায় ভরসা দেওয়া হবে (West Bengal Assembly Election)। ২) সরকার মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। ৩) দুর্নীতি এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারের সব ফাইল খোলা হবে। ৪) রাজ্যের যে-ই দুর্নীতি করুন, তাঁর জায়গা হবে জেলে। মন্ত্রিসান্ত্রী হলেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ হবে। তৃণমূলের কোনও গুন্ডাকে ছাড়া হবে না। পয়সা খেতে দেওয়া হবে না। ৫) যাঁরা শরণার্থী, তাঁদের সব অধিকার মিলবে। দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে অনুপ্রবেশকারীদের। ৬) বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে চালু হবে সপ্তম পে কমিশন।”

    এদিন এ রাজ্যে আরও দুটি সভা করার কথা প্রধানমন্ত্রীর। একটি সভা হবে আসানসোলে, অন্যটি সিউড়িতে (PM Modi)। এদিকে, শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা এবং  খড়গপুর সদরে সভা করার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। শনিবার ফের একবার পশ্চিমবঙ্গে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি জনসভা করবেন (West Bengal Assembly Election) কৃষ্ণনগর, জিয়াগঞ্জ ও কুশমণ্ডিতে।

  • EC: ‘বুথ দখল, বুথ জ্যামিং-সহ কোনও অনিয়ম চলবে না’, তৃণমূলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

    EC: ‘বুথ দখল, বুথ জ্যামিং-সহ কোনও অনিয়ম চলবে না’, তৃণমূলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন (EC)। তার আগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে কড়া সতর্কবার্তা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন সাফ (Violence Less Vote) জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণভাবে অবাধ এবং সুষ্ঠু। কমিশন এও জানিয়েছে, কোনও ধরনের নির্বাচনী অনিয়ম—যেমন বুথ দখল, বুথ জ্যামিং, এবং ‘সোর্স জ্যামিং’ (অর্থাৎ ভোটারদের সংগঠিত হওয়া বা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছনোয় বাধা)—সহ্য করা হবে না। নির্বাচন হতে হবে ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, ভীতি প্রদর্শনমুক্ত এবং কোনও প্রলোভন বা জোরজবরদস্তি ছাড়াই।

    ভয়মুক্ত ভোটের বার্তা কমিশনের (EC)

    এক্স হ্যান্ডেলে নির্বাচন কমিশন লিখেছে, “এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন অবশ্যই হবে—ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, ভীতি প্রদর্শনমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত এবং কোনও রেড, বুথ জ্যামিং বা সোর্স জ্যামিং ছাড়াই।” কমিশনের এহেন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দলের নেতারা। তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র এই সতর্কবার্তাকে একপ্রকার আল্টিমেটাম বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তৃণমূলের আর এক সাংসদ সাকেত গোখলে মুণ্ডপাত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জানতে চান, একই ভাষা কি বিজেপির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে?

    পশ্চিমবঙ্গে হিংসার ইতিহাস বহু পুরানো

    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিংসার ইতিহাস বহু পুরানো। বাম জমানা তো বটেই, তৃণমূলের আমলেও নানা স্তরের নির্বাচনকে ঘিরে অনেক ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের উৎসব শেষ হয়েছে শোকের আবহে। তাই কমিশনের এই সতর্কবার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে (ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল) ১,৩০০-এরও বেশি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ২৫ জনের। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছিলেন। এনিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছিল অভিযোগ (Violence Less Vote)। বস্তুত, গত দু’দশক ধরে নির্বাচনী সংঘর্ষ ও ভীতি প্রদর্শন এ রাজ্যে একটি বড় সমস্যা হিসেবেই রয়ে গিয়েছে (EC)। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

    অগ্নিপরীক্ষা

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে দু’দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা কড়া হওয়ায়, আসন্ন  নির্বাচন শাসক দল ও নির্বাচন কমিশন—উভয়ের পক্ষেই হয়ে উঠেছে আক্ষরিক অর্থেই অগ্নিপরীক্ষা। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল কমিশনের। সেই বৈঠকও বেশ উত্তপ্ত হয়েছিল বলে খবর। যার জেরে দু’পক্ষের মধ্যেই অবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছে (Violence Less Vote)।তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের আগে ৪৮৩ জন প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে  বদলি করা হয়েছে। এটি প্রভাবিত করতে পারে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে। কমিশন অবশ্য এই বদলিকে সমর্থন করে জানিয়েছে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং হিংসা বা পক্ষপাত এড়ানোর জন্য এটি প্রয়োজনীয়। আরও একটি বড় বিতর্কের বিষয় হল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (EC)। তৃণমূলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় অসমভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে বিজেপিকে। তৃণমূলের দাবি, পর্যালোচনার জন্য থাকা ৬০ লাখ নামের মধ্যে প্রায় ২৭ লাখেরই নাম বাদ গিয়েছে। তাই রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

     

  • Iran: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

    Iran: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পর দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরেই খুলে দেওয়া হয়েছিল হরমুজ প্রণালী। যদিও ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই ফের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হল ওই প্রণালীতে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। তাদের দাবি, লেবাননে হিজবুল্লাদের টার্গেট করে ইজরায়েল ১০০টি বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইজরায়েলের ওই হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস ইরানকে অবিলম্বে প্রণালী খুলে দিতে বলেছে। যদিও হরমুজ প্রণালী বন্ধের আগে দু’টি জাহাজকে প্রণালী পার হতে দেওয়া হয়েছিল।

    লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয় (Iran)

    ইজরায়েলের মতে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়, যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তেহরান বলেছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় ইজরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর হামলা-সহ সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হবে। এক শীর্ষ ইরানি আধিকারিক লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস ইহুদি আগ্রাসনের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি সবার জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।” ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা তথা বিদেশনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজেই এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস জায়নিস্ট আগ্রাসনের জবাবে এখনই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে হবে… লেবাননের মানুষ আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমরা তাদের এক মুহূর্তও একা ছেড়ে দিতে পারি না। যুদ্ধবিরতি হয় সব ফ্রন্টে হবে, নয়তো কোথাও নয়।” এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে প্রণালী খুলতে হবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিয়েছে।

    ইরানি আধিকারিকের বক্তব্য

    প্রবীণ এক ইরানি আধিকারিক জানান, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা হওয়ার আগে বৃহস্পতি বা শুক্রবারের মধ্যে ইরান অবরোধ কিছুটা শিথিল করতে পারে, যদিও জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতি লাগবে। হরমুজ প্রণালী ইরান এবং ওমান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে অবস্থিত একটি সঙ্কীর্ণ জলপথ। এটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বের দৈনিক তেল এবং এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই হয় এই প্রণালী-পথে। এসবই ঘটে যখন ইজরায়েল লেবাননে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা চালায় এদিন, যদিও হিজবুল্লাহ উত্তর ইজরায়েলে আক্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল এবং মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তির মধ্যেই ছিল ইজরায়েলি বাহিনীও।

    বেইরুটে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

    এদিন বেইরুটে শক্তিশালী বিস্ফোরণের জেরে শহর কেঁপে ওঠে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার মেঘ। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সংঘাতের সবচেয়ে বড় যৌথ হামলা চালিয়েছে, যেখানে বেইরুট, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে ১০০টিরও বেশি হিজবুল্লাহ ঘাঁটি টার্গেট করা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মতে, অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের ক্ষেত্রে ছ’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননে প্রযোজ্য নয়। তাই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।” উল্লেখ্য, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ শরিফ বলেছিলেন লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অধিকাংশ হামলা জনবহুল এলাকায় হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী।

    বর্বর আগ্রাসন

    এদিকে, হিজবুল্লাহ এই হামলাকে বর্বর আগ্রাসন বলে নিন্দে করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, “বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি কাঠামোর মধ্যে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।” ইরানের ইসলামিক রিভলুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা চললে তার জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হিজবুল্লাহর কারণে লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তিনি একে আলাদা সংঘর্ষ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও তিনি বলেন বিষয়টি সমাধান করা হবে। হোয়াইট হাউসের তরফেও একই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে ১,৫০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩০-এরও বেশি শিশু ও ১০০-এরও বেশি নারী রয়েছে। উল্লেখ্য যে, হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইজরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া শুরু করেছে।

     

  • PM Modi: জোরকদমে ভোট চলছে কেরল-অসম-পুদুচেরিতে, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: জোরকদমে ভোট চলছে কেরল-অসম-পুদুচেরিতে, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জোরকদমে ভোটগ্রহণ চলছে কেরল, অসম এবং পুদুচেরি বিধানসভায় (Assembly Elections)। আজ, ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) আহ্বান, তাঁরা যেন বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিশেষভাবে যুবসমাজ এবং মহিলাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কেরলের জনগণকে বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। রেকর্ড অংশগ্রহণ কেরলের গণতান্ত্রিক চেতনায় নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে। বিশেষ করে রাজ্যের যুবক-যুবতী এবং মহিলাদের আমি অনুরোধ করছি, তাঁরা যেন এগিয়ে এসে অধিক সংখ্যায় ভোট দেন।” কেরলে ২.৬ কোটিরও বেশি ভোটার রয়েছেন। রাজ্যের ১৪০টি বিধানসভা আসনে ৮৮৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে শাসক বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF), কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (UDF) এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর মধ্যে।

    অসমবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    অসম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি অসমের জনগণকে বৃহৎ সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। আশা করি, রাজ্যের যুবসমাজ এবং মহিলা ভোটাররাও উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন এবং এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের উৎসবে পরিণত করবেন (PM Modi)।” অসমে ২.৫ কোটিরও বেশি ভোটার ১২৬ সদস্যের বিধানসভা গঠনের জন্য ভোট দেবেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭২২ জন। ভোট হচ্ছে পুদুচেরিতেও। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রতিটি ভোটারকে অনুরোধ করছি যেন তাঁরা রেকর্ড সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে যুবসমাজ এবং মহিলা ভোটারদের প্রতি আমার আবেদন, তাঁরা যেন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এগিয়ে আসেন। প্রতিটি ভোট পুদুচেরির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ (Assembly Elections)।” পুদুচেরিতে ভোটার রয়েছেন ১০,১৪,০৭০ জন। এঁদের মধ্যে ৫,৩৯,১২৫ জন মহিলা, ৪,৭৪,৭৮৮ জন পুরুষ এবং ১৫৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ১৮-১৯ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ২৪,১৫৬ এবং ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ ভোটার রয়েছেন ৬,০৩৪ জন।

    সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন

    এদিকে, এদিন সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন পড়ছে অসম, কেরল এবং পুদুচেরির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। কেরলের ১৪০টি, অসমের ১২৬টি এবং পুদুচেরির ৩০টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে এক দফায়ই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে (PM Modi)। অসমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন শাসক দল বিজেপি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে লড়ছে। আর কংগ্রেস ২০১৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ফের ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ, বিধানসভার স্পিকার বিশ্বজিৎ দৈমারি, বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া, এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল, রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ এবং অসম জাতীয় পরিষদের প্রধান লুরিঞ্জ্যোতি গগৈ (Assembly Elections)।

    লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন যাঁরা

    শাসক জোট এনডিএর প্রধান দলগুলি হল বিজেপি, অসম গণ পরিষদ (AGP) এবং বডো পিপলস ফ্রন্ট (BPF)। বিরোধী জোটে রয়েছে কংগ্রেস, রাইজর দল, অসম জাতীয় পরিষদ, সিপিআই(এম), এপিএইচএলসি এবং সিপিআই(এমএল)। কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে লড়ছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এখানে তৃতীয় শক্তি বিজেপি। কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে ভোটার রয়েছেন ৯.৫০ লাখ। পুদুচেরিতে ২৩টি, কারাইকালে ৫টি এবং মাহে ও ইয়ানামে ১টি করে বিধানসভা আসন রয়েছে। এআইএনআরসি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস, ডিএমকে ও ভিসিকের জোট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের (Assembly Elections) দল টিভিকের অংশগ্রহণ বড় প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে (PM Modi)।

  • Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে আপাতত বিরতি। কারণ দুই দেশের মধ্যে হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি (Strait of Hormuz Conflict)। এর ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—এলপিজি (LPG) এবং তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ—এখন অনেকটাই কমেছে। ইরান ও আমেরিকা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে।

    স্বস্তিতে ভারত (Strait of Hormuz Conflict)

    সমুদ্রপথের বাধা দূর হওয়ার এই খবর ভারতকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। এখন তেল ও গ্যাসবাহী ভারতীয় জাহাজগুলি সহজে এবং দ্রুত ভারতে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। তার পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্বের ২০–২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এটি ভারতের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। সংঘাতের আবহে অনেক জাহাজ সেখানে আটকে পড়ে। ভারতে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়, কালোবাজারি বাড়ে। আতঙ্কের জেরে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। তবে এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণার ফলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

    হরমুজ অঞ্চলে আটকে একাধিক ভারতীয় জাহাজ

    বাস্তবে, ভারতীয় তেলবাহী জাহাজগুলির একটি বড় অংশ এখনও হরমুজ অঞ্চলে আটকে রয়েছে (Strait of Hormuz Conflict)। ইরান ভারতকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, তা খুব ধীরগতিতে চলছে। এই কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে, যার অধিকাংশই এলপিজি ট্যাঙ্কার ভর্তি। গত কয়েক দিনে বেশ কিছু জাহাজ ভারতীয় বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এগুলি হাজার হাজার টন গ্যাস ও তেল বহন করছিল, যা দেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (LPG)। তবে এখনও ১৬টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে। এগুলিতে রয়েছেন শত শত ভারতীয় নাবিক। এই জাহাজগুলিও তেল এবং গ্যাসে ভর্তি।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে

    এখন যেহেতু হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এই জাহাজগুলিও খুব শীঘ্রই যাত্রা শুরু করতে পারবে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদে ভারতে পৌঁছে যাবে (Strait of Hormuz Conflict)। অর্থাৎ, তেল ও গ্যাসবাহী সম্পূর্ণ বহরই শীঘ্রই দেশে পৌঁছে যাবে। হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় ভারতের একাধিক সুবিধা হবে। প্রথমত, তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। দ্বিতীয়ত, গ্যাসের কালোবাজারি বন্ধ হবে। তৃতীয়ত, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যাবে।
    গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহও স্বাভাবিক হবে (LPG)।

    প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে

    এছাড়া, এর প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও। এতে অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে, কারণ তেল ও গ্যাস আমদানি সহজ হবে। আগে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হত, এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগত। এখন সরাসরি সমুদ্র পথ খুলে গিয়েছে। তাই সাশ্রয় হবে অর্থ এবং সময়। ভারত কীভাবে সমাধান করল এই সমস্যার? ভারতের বিদেশমন্ত্রক এবং জাহাজমন্ত্রক আগেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছিল। এখন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ায় বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদ। নাবিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সব  নাবিকের নিরাপত্তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে (Strait of Hormuz Conflict)।

    হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় শুধু ভারত নয়, উপকৃত হবে গোটা বিশ্বই। ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ভারত-সহ তেল আমদানিকারী দেশগুলি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাবে (LPG)। এখন ধারাবাহিকভাবে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছবে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা সহজেই পূরণ করবে। বাকি ১৬টি জাহাজও পৌঁছে গেলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও মজবুত হবে (Strait of Hormuz Conflict)।

     

  • Assam Election: অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস ছাড়লেন প্রার্থী

    Assam Election: অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস ছাড়লেন প্রার্থী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিরাট ধাক্কা খেল কংগ্রেস (Congress)। অসমের (Assam Election) উদালগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সুরেন দাইমারি দল ছেড়ে দিয়েছেন। ভোটের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের আগে নিজের প্রার্থীপদও প্রত্যাহার করেছেন তিনি। বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে কংগ্রেস প্রার্থীর এহেন আচরণ দলের পক্ষে এক বিরাট ধাক্কা বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

    কংগ্রেসকে আক্রমণ (Assam Election)

    দল ছাড়ার আগে দাইমারি কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়ে জানান, “মুসলিম তোষণ রাজনীতিই তাঁর দলত্যাগের কারণ। তিনি বলেন, “দল আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কারণ কোনও শীর্ষ নেতা আমার হয়ে প্রচারে আসেননি।” তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে তফশিলি উপজাতি (ST)-বিরোধী মনোভাব রয়েছে। তারা ব্যস্ত সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতিতে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, উদালগুড়ি ও আশপাশের অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

    অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন অসম বিধানসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রাজ্যে ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার হবে ভোটগ্রহণ। অসমের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ গোয়েল জানান, সংশ্লিষ্ট সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন (Congress)। আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী ব্যয়-সহ সব বিষয় কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে (Assam Election)। এসভিইইপি কর্মসূচির আওতায় রাজ্যজুড়ে ভোটারদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারও চালানো হয়েছে। পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩১,৪৯০টি ভোটকেন্দ্রেই (৩১,৪৮৬টি প্রধান ও ৪টি সহায়ক কেন্দ্র) এই সুবিধা চালু রয়েছে। এর ফলে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, প্রধান নির্বাচন আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে রিয়েল-টাইমে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা হবে।

    জোরদার নিরাপত্তার ব্যবস্থা

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, যার মধ্যে রয়েছেন সিআরপিএফ (CRPF) কর্মীরাও, মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তাই সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলিতে নিয়োগ করা হয়েছে মাইক্রো-অবজারভারও (Assam Election)। সব ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, ব্যবস্থা করা হয়েছে পানীয় জল, অপেক্ষা করার জায়গা, শৌচাগার এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার। ভোটারদের লাইনের পাশে বসার ব্যবস্থা (বেঞ্চ) এবং মোবাইল ফোন নিরাপদে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে (Congress)। নির্বাচন পরিচালনায় মোট ১,৫১,১৩২ জন ভোটকর্মী নিয়োজিত। ভোটগ্রহণের জন্য ৪১,৩২০টি ব্যালট ইউনিট, ৪৩,৯৭৫টি কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৪৩,৯৯৭টি ভিভিপ্যাট মেশিন রাখা হয়েছে।

    চুম্বকে ভোট তত্ত্ব

    সব মিলিয়ে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২,৫০,৫৪,৪৬৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১,২৫,৩১,৫৫২ জন পুরুষ, ১,২৫,২২,৫৯৩ জন মহিলা এবং ৩১৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ৬৩,৪২৩ জন সার্ভিস ভোটারও রয়েছেন। ভোটারদের মধ্যে ১৮–১৯ বছর বয়সী রয়েছেন ৬,৪২,৩১৪ জন, ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন ২,৫০,০০৬ জন এবং ২,০৫,০৮৫ জন প্রতিবন্ধীও রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ৬০(সি) অনুযায়ী ৮৫ বছরের বেশি বয়স্ক নাগরিক ও চিহ্নিত প্রতিবন্ধীদের জন্য বাড়ি থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৬,০৩২ জন প্রবীণ (৮৫+) এবং ৮,৩৭৩ জন প্রতিবন্ধী এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন (Congress)। প্রধান নির্বাচন আধিকারিক অনুরাগ গোয়েল সব পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রত্যেক নাগরিক তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন (Assam Election)।

     

LinkedIn
Share