Tag: bangla khobar

  • SIR: বঙ্গের ভোটার তালিকায় মেশানো হয়েছিল জল? এক ব্যক্তির সন্তান সংখ্যা ৩৮৯!

    SIR: বঙ্গের ভোটার তালিকায় মেশানো হয়েছিল জল? এক ব্যক্তির সন্তান সংখ্যা ৩৮৯!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন কলিযুগের ধৃতরাষ্ট্র! ব্যক্তি একজনই। অথচ তাঁর সন্তান-সন্ততির সংখ্যা শত শত। আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনই আজবকাণ্ড ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের (SIR) ছাঁকনিতে। জানা গিয়েছে, এ রাজ্যে গত কয়েকটি নির্বাচনে এমন একাধিক উদাহরণ সামনে এসেছে, যেখানে শত শত ভোটারের নথিতে একজন ব্যক্তিকেই তাঁদের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (Election Commission)। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায়, বিধানসভা কেন্দ্র নম্বর ২৮৩ (আসানসোল জেলার বারাবনি), এক ব্যক্তিকে ৩৮৯ জন ভোটারের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ (SIR)

    এই ধরনের ভুল তথ্যকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও জয়মাল্য বাগচির  বেঞ্চের সামনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এই তথ্য তুলে ধরেন আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী। তিনি বলেন, “এই ধরনের ভোটারদের যে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হল নথি সংশোধন করা। সঠিকভাবে পিতা-মাতার নাম নথিভুক্ত করার জন্য প্রাসঙ্গিক নথি পেশ করার দায় সংশ্লিষ্ট ভোটারেরই।”

    নির্বাচন কমিশনের হলফনামা

    নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, বিধানসভা কেন্দ্র নম্বর ১৬৯ (হাওড়া জেলার বালি)-তেও এক ব্যক্তিকে ৩১০ জন ভোটারের বাবা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, সাতজন ব্যক্তিকে ১০০ জনের বেশি ভোটারের অভিভাবক হিসেবে দেখানো হয়েছে, ১০ জনকে ৫০ জন বা তার বেশি ভোটারের অভিভাবক হিসেবে, আরও ১০ জনকে ৪০ জন বা তার বেশি ভোটারের পিতা হিসেবে, ১৪ জনকে ৩০ জন বা তার বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ৫০ জনকে ২০ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ৮,৬৮২ জনকে ১০ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ২,০৬,০৫৬ জনকে ছ’জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে এবং ৪,৫৯,০৫৪ জনকে পাঁচ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (SIR)।

    ভারতে গড় পারিবারিক সদস্য সংখ্যা

    হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (২০১৯–২১) অনুযায়ী, ভারতে গড় পারিবারিক সদস্য সংখ্যা ৪.৪। দ্বিবেদী বলেন, “এর অর্থ, গড়ে প্রতিটি পরিবারে ২–৩ জন সন্তান রয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একজন অভিভাবকের সঙ্গে ৫০ জনেরও বেশি ভোটার যুক্ত। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া জরুরি।” নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, “যেসব ক্ষেত্রে ছ’জন বা তার বেশি ভোটার নিজেদের একজন ব্যক্তিকেই অভিভাবক হিসেবে যুক্ত করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে ওই সম্পর্কের বৈধতা নিয়ে বাড়তি যাচাই প্রয়োজন। এই কারণে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা নোটিশ জারি করছেন, যাতে যাচাই করা যায় এই মিল সঠিকভাবে হয়েছে কি না এবং কোনও প্রতারণামূলক ম্যাপিং হয়েছে কি না, যা বাদ দেওয়া যায়।”

    ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বিভাগে আরও চারটি কারণে ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেগুলি হল, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখের ভোটার তালিকায় ভোটারের নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় থাকা নামের সঙ্গে না মেলা, ২০২৫ সালের তালিকা অনুযায়ী ভোটারের (Election Commission) বয়স ও ২০০২ সালের এসআইআর তালিকা অনুযায়ী গণনা করা অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়া, ভোটারের বয়স ও অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি হওয়া, ভোটারের বয়স ও দাদু-ঠাকুমার বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম হওয়া (SIR)।

  • Udhayanidhi Stalin: সনাতন ধর্মকে অপমান, মাদ্রাজ হাইকোর্টে তিরস্কৃত তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন

    Udhayanidhi Stalin: সনাতন ধর্মকে অপমান, মাদ্রাজ হাইকোর্টে তিরস্কৃত তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সনাতন ধর্মকে অপমান করা এবং ঘৃণা-ভাষণ দেওয়ার জন্য তামিলনাড়ুর উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনকে চরম ভর্ৎসনা করল মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ।  সেই সঙ্গে বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর বাতিল করা হল। হাইকোর্ট জানিয়েছে, একটি বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া অন্যায়, বিশেষত যখন সেই বক্তব্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি। এই এফআইআরটি দায়ের করা হয়েছিল মালব্যের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা কিছু পোস্টের কারণে, যেখানে তিনি ‘সনাতন ধর্ম’ (Sanatana Dharma) নিয়ে মন্তব্য করার জন্য উদয়নিধি স্ট্যালিনের (Udhayanidhi Stalin) কড়া সমালোচনা করেছিলেন।

    মালব্যের প্রতিক্রিয়া আইন লঙ্ঘন করেনি (Udhayanidhi Stalin)

    বিচারপতি এস শ্রীমতী বলেন, “অমিত মালব্য কেবল তামিলনাড়ুর মন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনের একটি প্রকাশ্য বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়া ভুল এবং ক্ষতিকর হবে।” বিচারপতি এও বলেন, “মালব্যের প্রতিক্রিয়া কোনও আইন লঙ্ঘন করেনি এবং মামলাটি চালু রাখলে তা আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার হবে।” লাইভ ল–এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আদালত এই প্রসঙ্গে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালত উল্লেখ করেছে, যে মন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি, অথচ সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। বিচারপতি বলেন, “এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে যাঁরা আপত্তিকর বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন, তাঁরা প্রায়ই পার পেয়ে যান, কিন্তু যাঁরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    লাইভ ল–এর প্রতিবেদনে আদালতের পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “এই আদালত অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, যাঁরা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সূচনা করেন, তাঁরা সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকেন, কিন্তু যাঁরা সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান, তাঁরা আইনের কঠোরতার মুখে পড়েন। এমনকি আদালতও প্রতিক্রিয়া জানানো ব্যক্তিদের প্রশ্ন করছে, কিন্তু যারা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে না (Udhayanidhi Stalin)।” প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ‘সনাতন বিলোপ সম্মেলন’ (Sanatana Abolition Conference) নামে একটি অনুষ্ঠানে উদয়নিধি স্ট্যালিন সনাতন ধর্মের তুলনা করেছিলেন ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের সঙ্গে (Sanatana Dharma)। একে বিলোপ করার কথাও বলেছিলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল এবং বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল।

    স্ট্যালিনের মন্তব্য

    এই বক্তব্যের পর অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভাষণের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন এবং মন্ত্রীর বক্তব্যের অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং ভ্রান্ত তথ্য প্রচারের অভিযোগে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অনুষ্ঠানে উদয়নিধি স্ট্যালিন যে বক্তব্য দেন, তার একটি আনুমানিক অনুবাদ নীচে দেওয়া হল, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। “কিছু বিষয়ের বিরোধিতা করা যায় না, সেগুলিকে নির্মূল করতে হয়। আমরা শুধু ডেঙ্গি, মশা, ম্যালেরিয়া বা করোনার বিরোধিতা করতে পারি না, সেগুলি নির্মূল করতে হয়। সনাতনের ক্ষেত্রেও কেবল বিরোধিতা নয়, একে নির্মূল করা উচিত।”

    স্ট্যালিনের এই প্রতিক্রিয়ায় অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন (Sanatana Dharma), “তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের পুত্র ও ডিএমকে সরকারের মন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন সনাতন ধর্মকে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গির সঙ্গে তুলনা (Udhayanidhi Stalin) করেছেন। তাঁর মতে, এর বিরোধিতা নয়, একে নির্মূল করা উচিত। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি ভারতের ৮০ শতাংশ জনসংখ্যাকে গণহত্যার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাঁরা সনাতন ধর্ম অনুসরণ করেন।” মালব্য আদালতে জানান, তিনি কেবল প্রকাশ্যে দেওয়া একটি বক্তব্যই শেয়ার করেছিলেন এবং তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁর পোস্টগুলির অপব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Udhayanidhi Stalin)।

     

  • Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাতীয় স্বার্থ কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের একচেটিয়া বিষয় হতে পারে না। এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এদিন তিনি সৌরাষ্ট্র–কচ্ছ অঞ্চলের রাজকোটে অনুষ্ঠিত ‘প্রমুখজন বিচার গোষ্ঠী’তে ভাষণ দেন। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    সংঘের কার্যপ্রণালী (Mohan Bhagwat)

    ভাগবত বলেন, “অবহেলা, বিরোধিতা ও বারবার নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, আরএসএস যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা একমাত্র হিন্দু সমাজের আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে। যাঁরা জাতির জন্য কাজ করেন, তাঁরা সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকুন বা না থাকুন, আরএসএস তাঁদের নিজেদের স্বয়ংসেবক হিসেবেই মনে করে।” সংঘের কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করে ভাগবত বলেন, “আরএসএস কাউকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করে না। সংঘের কাজের ভিত্তি হল সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক স্নেহ ও আত্মীয়তার অনুভূতি। শাখা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল্যবোধ সঞ্চার করা হয় এবং স্বয়ংসেবকদের প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁরা নিজেদের বিবেক ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণের সিদ্ধান্ত নেন।”

    হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা

    হিন্দুত্বের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা। সংঘ ভারতের সংবিধানের সঙ্গে একই দার্শনিক ভিত্তিতে কাজ করে। ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র, এই কারণেই এখানে সব পথ, সম্প্রদায় ও ঐতিহ্যকে স্বাগত জানানো হয় এবং সম্মান করা হয়।” সরসংঘ চালক বলেন, “‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, এই ভারতীয় নীতি সত্যিকারের বিশ্বায়নের প্রতীক। অন্য দেশগুলি বিশ্বকে বাজার হিসেবে দেখে (RSS), আর আমরা বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখি (Mohan Bhagwat)।” প্রশ্নোত্তর পর্বে সরসংঘচালক বলেন, “জেন-জেড প্রজন্মের তরুণরা ‘সাদা খাতা’র মতো এবং তারা গভীরভাবে সৎ। সমাজকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল রপ্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভু হতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন মানুষের প্রভু না হয়ে ওঠে, এবং তা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে।”

    মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তির প্রয়োজন

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতিবেশী এক দেশে হিন্দু–মুসলিম বিদ্বেষ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে, এমন বিভাজনমূলক চিন্তা ভারতে ছড়াতে দেওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, “দুর্নীতি ব্যবস্থার চেয়ে মানুষের মনে বেশি বিদ্যমান, আর মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তি গড়ে উঠলেই দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব।” রাজকোটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে বিশেষ পরিবেশবান্ধব কলম ব্যবহার করা হয়, ব্যবহার শেষে সেগুলি টবে রোপণ করা হলে মাটিতে মিশে গিয়ে উদ্ভিদে পরিণত হয়। এই উপলক্ষে পশ্চিম ক্ষেত্র সংঘচালক জয়ন্তিভাই ভাদেশিয়া, সৌরাষ্ট্র প্রান্ত সংঘচালক মুকেশভাই মালাকান-সহ (RSS) শিল্পপতি, চিকিৎসক, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন (Mohan Bhagwat)।

  • RSS Swayamsevak: ফের খবরে বীরভূমের নানুর, এবার আরএসএসের স্বয়ংসেবককে অপহরণের অভিযোগ

    RSS Swayamsevak: ফের খবরে বীরভূমের নানুর, এবার আরএসএসের স্বয়ংসেবককে অপহরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আতঙ্কের মেঘে ঢেকে গিয়েছে বীরভূমের নানুরের আকাশ। এই সেই জায়গা, যেখানে নৃশংসভাবে সিপিএমের হার্মাদদের হাতে খুন হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন কৃষক (Mamata Govt)। সেই নানুরই ফের চলে এল খবরের শিরোনামে। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বীরভূম জেলার আঙ্গোরা গ্রামের বাসিন্দা, আরএসএসের স্বয়ংসেবক রিন্টু পাল (RSS Swayamsevak)। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সমালোচকেরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে তৃণমূল কংগ্রেসের ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    আরএসএস কর্মীদের অভিযোগ (RSS Swayamsevak)

    স্থানীয় বাসিন্দা এবং আরএসএস কর্মীদের অভিযোগ, রিন্টুকে তৃণমূল কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে জোরপূর্বক একটি দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ভয় দেখানো হয়, করা হয় অপমান। হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রিন্টুর একমাত্র ‘অপরাধ’ আরএসএসের সঙ্গে তাঁর আদর্শগত সম্পর্ক। এটি ভারতের সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত। জানা গিয়েছে, রিন্টুকে যেসব হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি স্পষ্ট ও ভয়াবহ। অভিযোগ, রিন্টুকে জনতার হাতে মারধর খাওয়ানো এবং ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যদি তিনি আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। প্রাণভয়ের আশঙ্কায় তাঁকে জোর করে আরএসএস থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তবে (Mamata Govt) তা এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতাকে সামনে আনে—পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে এখন আদর্শগত পরিচয়ই নিপীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (RSS Swayamsevak)।

    নানুর রয়েছে নানুরেই

    নানুরের বহু মানুষের কাছে এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বিরোধী দলের সমর্থক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন আদর্শগত সংগঠন অভিযোগ করে আসছে যে, স্থানীয় তৃণমূল ক্যাডাররা কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতার সম্প্রসারিত হাত হিসেবে কাজ করছে এবং ভয়ের মাধ্যমে আনুগত্য চাপিয়ে দিচ্ছে। সামাজিক বয়কট থেকে শুরু করে শারীরিক হুমকি পর্যন্ত, ভিন্নমতকে অভিযোগ অনুযায়ী ব্যালট বাক্সে পৌঁছানোর অনেক আগেই দমন করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ বারবার সামনে আসা সত্ত্বেও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অস্বীকার, নীরবতা বা নির্বাচনী পদক্ষেপের অভিযোগ উঠছে। সমালোচকদের মতে, এই নীরবতাই স্থানীয় দাপুটে নেতাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে রাজনৈতিক সুরক্ষা তাদের সমস্ত পরিণতি থেকে রক্ষা করবে।

    আরএসএস নেতৃত্বের বক্তব্য

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে প্রায়ই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। কিন্তু নানুরের মতো ঘটনা কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনে দেয়। বিশ্বাসের জন্য যদি কোনও নাগরিককে অপহরণ করা হয়, তবে স্বাধীনতার অর্থ কী? আর গণতন্ত্রই বা কী, যখন রাজনৈতিক আনুগত্য নির্ধারিত হয় ভয়ের দ্বারা, পছন্দের (RSS Swayamsevak) দ্বারা নয়? জনরোষ আরও বেড়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, শাসক দলের স্বার্থ জড়িত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী (Mamata Govt) বাহিনী দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে চায় না। প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার এই কথিত অবক্ষয় নানুরকে শাসনব্যবস্থার এক সতর্কতামূলক উদাহরণে পরিণত করেছে, যেখানে ন্যায়বিচারের চেয়ে ক্ষমতার প্রাধান্যই বেশি। আরএসএস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, প্রশাসনিক উদাসীনতা আর সহ্য করা হবে না। ন্যায়বিচার না মিললে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ আরও জোরদার হবে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। গণআন্দোলনের ডাক ক্রমশ জোরালো হলেও, দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের ওপরেই বর্তায় (RSS Swayamsevak)।

  • EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।” মঙ্গলবার দাভোসে এ কথাই বললেন ইইউয়ের প্রধান (EU Chief) উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি বলেন, “এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তবে আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কেউ কেউ একে সব চুক্তির জননী বলছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বাজার গড়ে উঠবে, যা বৈশ্বিক মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” ইইউর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    ফন ডার লায়েনের বক্তব্য (EU Chief)

    ফন ডার লায়েন জানান, এই বাণিজ্য উদ্যোগের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও যুক্ত রয়েছে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠক শেষে আগামী সপ্তাহান্তে তিনি ভারত সফরে যাবেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই হল, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, “ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং সহযোগিতা গভীর করার জন্য এখনও উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।” উরসুলা ফন ডার লায়েন (EU Chief) ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান অতিথি। ভারত সফরকালে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তার সঙ্গে তিনি যৌথভাবে ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্বও করবেন।

    প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি

    ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে ইউরোপের বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ফন ডার লায়েন বলেন, “ইউরোপ বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে উন্মুক্ত এবং সক্রিয় সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে।”
    তিনি বলেন, “ইউরোপ সব সময় বিশ্বকেই বেছে নেবে, এবং বিশ্বও ইউরোপকে বেছে নিতে প্রস্তুত”। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইইউর দৃঢ় সংকল্পের কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও জানিয়েছিলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তা হবে ভারতের স্বাক্ষরিত সবচেয়ে বড় চুক্তি। তিনি বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত সাতটি চুক্তি সম্পন্ন করেছি, সবই উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে। কিন্তু এটি হবে সব চুক্তির জননী।”

    গোয়েল এও বলেন, “আমরা একটি অত্যন্ত ভালো চুক্তি পাচ্ছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলিতেও আমরা তাদের জন্য আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছি। এটি অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে হবে। সবচেয়ে ভালো দিক হল, আমরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করি না, আমাদের স্বার্থ ভিন্ন।” গোয়েলের আগে, বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, উভয় পক্ষ ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টির আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং ২৬ জানুয়ারির (FTA) মধ্যে আলোচনার বাকি অংশ শেষ করার চেষ্টা চলছে (EU Chief)।

  • Calcutta High Court: বেলডাঙায় পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে ব্যবহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: বেলডাঙায় পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে ব্যবহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে থাকা পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে (BSF) ব্যবহার করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশও দিতে পারে।

    উত্তাল হয়েছিল বেলডাঙা (Calcutta High Court)

    প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্র ও শনিবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল মুসলিম অধ্যুষিত বেলডাঙা। পথ অবরোধ, ভাঙচুর-সহ নানা অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। এই অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। মঙ্গলবার সেই মামলারই শুনানি হয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। এই মামলার শুনানি হয় দু’দফায়। দুপুর দুটোর পর শুরু হয় দ্বিতীয় দফার শুনানি। সেই সময়ই একাধিক নির্দেশ দেয় উচ্চতর আদালত। আদালত জানিয়েছে, বেলডাঙায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে গত বছরের অশান্তির পর ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছিল, সেই নির্দেশই আপাতত বহাল থাকবে। এর অর্থ হল, ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

    আদালতের নির্দেশ

    আদালতের নির্দেশ, এলাকায় যাতে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে জেলাশাসককে। নতুন করে যাতে কোথাও অশান্তির আগুন জ্বলে না ওঠে, তার ওপরও নজর রাখতে হবে জেলা প্রশাসনকে। আদালত এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন, তাহলে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। এ ছাড়া দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এই সময়সীমার মধ্যে পাল্টা বক্তব্য জানাতে পারবেন মামলাকারীরা (Calcutta High Court)।

    এদিন শুনানির প্রথম দফায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, মুর্শিদাবাদ জেলা সাম্প্রদায়িক দিক থেকে রাজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল জায়গা। ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদের নামে জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং ভাঙচুর করা হয়। কর্তব্যরত এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগে স্বতঃস্ফূর্ত মামলা দায়ের করে  পুলিশ। ওই ঘটনায় গ্রেফতারও করা হয়েছে চারজনকে। জেলার পুলিশ সুপার স্বয়ং জানিয়েছেন, হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল পূর্ব পরিকল্পনা মতোই।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশের দাবি 

    আইনজীবী বিল্বদল আদালতে জানান, মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ানে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও, বেলডাঙায় অশান্তির সময় তাদের কাজে লাগায়নি রাজ্য। এই অশান্তির জেরে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নর্থ-ইস্টের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগও। এর পরেই তিনি আদালতের (BSF) কাছে আর্জি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হোক। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি এবং সরকারি সম্পত্তি যাতে নষ্ট না হয়, তাই এলাকায় জারি করা হোক ১৬৩ নম্বর ধারা। রাজ্যে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হোক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ। রাজ্যের তরফে আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা নিয়ে রাজ্যের কী মতামত? কল্যাণ বলেন, “আমাদের কোনও আপত্তি নেই। ইতিমধ্যেই এলাকায় টহল দিচ্ছে পাঁচ কোম্পানি। আরও পাঁচ কোম্পানি লাগলে দেওয়া হোক, আমাদের (BSF) কোনও আপত্তি নেই (Calcutta High Court)।”

     

  • Biswa Ijtema: ভোটমুখী বাংলায় বিশ্ব ইজতেমা, কড়া নজর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের

    Biswa Ijtema: ভোটমুখী বাংলায় বিশ্ব ইজতেমা, কড়া নজর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কাছে পুঁইনান গ্রামে শেষ হল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি সমাবেশ। চার দিনের বিশ্ব ইজতেমা (Biswa Ijtema) শেষ হয়েছে  ৫ জানুয়ারি। ৩৪ বছর পর এই প্রথম ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হল বিশ্ব ইজতেমা। এর আগে এই সমাবেশ হয়েছিল ১৯৯২ সালে, হাওড়ার নিবড়া এলাকায় (Terror Recruitment Risks)। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন হওয়ায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আধিকারিকদের আশঙ্কা, এত বড় আন্তর্জাতিক জমায়েত তাদের আদর্শিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে, অপব্যবহার করা হতে পারে গোপন নেটওয়ার্ক গঠনের কাজেও।

    ইজতেমা ভারতে ফেরাতে সক্রিয় তৃণমূল! (Biswa Ijtema)

    জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচনজনিত বিধিনিষেধ এবং আয়োজক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে হিংসাত্মক অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মূল ইজতেমা বাতিল হওয়ায় এবারের বিশ্ব ইজতেমা ঠাঁই বদলে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই ইজতেমা ভারতে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রস্তুতি তদারকি করেন। রাজ্য সচিবালয় নবান্নে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত রকম ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয় (Terror Recruitment Risks)। তৃণমূলের দুই প্রবীণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্যানিটেশন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা এই আয়োজনে রাজ্য সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততাকেই স্পষ্ট করে।

    আখেরি মুনাজাত

    যদিও অনুষ্ঠানটি ঐতিহ্যবাহী আখেরি মুনাজাত—বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতির জন্য চূড়ান্ত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে, তবুও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির উদ্বেগ কাটছে কই! শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রগুলির মতে, অতীতে এই ধরনের সমাবেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি দুর্বল ব্যক্তিদের শনাক্ত, প্রভাবিত ও তাদের নিয়োগ করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে (Biswa Ijtema)। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তাবলিঘি জামাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রাক্তন সদস্য পরবর্তীকালে নিষিদ্ধ বা কট্টর সংগঠন যেমন পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (PFI) এবং জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল, যা আদর্শিক সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বড় সতর্কবার্তা

    সূত্রের খবর, একটি বড় সতর্কবার্তা ছিল বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা মৌলানা সাদ কান্ধলভির উপস্থিতি ও তাঁর বক্তব্য। তিনি তাবলিঘি জামাতের নিজামুদ্দিন মারকাজ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চরমপন্থা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আশঙ্কায় বাংলাদেশে তাঁর অংশগ্রহণ আগে সীমিত করা হয়েছিল। দিল্লির নিজামুদ্দিনে বসবাসকারী কান্ধলভির বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় একটি এফআইআরও দায়ের হয়েছিল। গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, তাঁর উপস্থিতি উগ্র মতাদর্শকে উসকে দিতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে তাবলিঘি জামাতের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে (Terror Recruitment Risks)।

    ইজতেমার জায়গা

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও একটি গুরুতর দুর্বলতার দিক তুলে ধরেছে। সেটি হল, ইজতেমার জন্য যে জায়গাটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সেটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অত্যন্ত কাছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, অতীতে এই অঞ্চল আইএসআই–সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন যেমন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB), হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি (HuJI), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT) এবং হিজবুত-তাহরির (HuT) কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে (Biswa Ijtema)। মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো সীমান্ত জেলাগুলিকে, যেখানে সক্রিয় স্লিপার সেল নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, সমাবেশ চলাকালীন বাড়তি নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছিল।

    সমাবেশে রাজনৈতিক বার্তা

    মার্চ–এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা আধিকারিকরা মনে করছেন, এই সমাবেশে রাজনৈতিক বার্তাও নিহিত ছিল। সূত্রের মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতি ও কল্যাণমূলক ভাবমূর্তি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার এই অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তাঁরা সতর্ক করেছেন, সীমান্তবর্তী রাজ্যে দীর্ঘদিনের আন্তঃসীমান্ত উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের ইতিহাস থাকায়, এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি (Biswa Ijtema)।

    যদিও সমাবেশ চলাকালীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কোনও ঘটনা ঘটেনি, তবুও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। আধিকারিকরা জানান, অংশগ্রহণকারীদের গতিবিধি, অর্থের উৎস এবং ডিজিটাল যোগাযোগের ওপর অনুষ্ঠান-পরবর্তী নজরদারি এখনও চলছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও (Terror Recruitment Risks) বিলম্বিত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয় কি না, তা মূল্যায়ন করা যায় (Biswa Ijtema)।

     

  • BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। সোমবার রাতেই তাতে পড়ল সিলমোহর। বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে বিজেপির কনিষ্ঠতম সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জেপি নাড্ডার পর বিজেপির এই পদের দায়িত্ব সামলাবেন নিতিন।

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP)

    সোমবারই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। গত ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষ্মণ জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময়সীমা পেরনোর পর দেখা যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন।  এদিন নির্বাচিত হওয়ার আগেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন। সোমবার রাতেই তিনি বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, সুনীল বনসল, মঙ্গল পান্ডে এবং অমিত মালব্যর সঙ্গে।

    বাংলায় আসতে পারেন নিতিন

    সূত্রের খবর, সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি মাসেই বাংলায় আসতে পারেন নিতিন। তখনই তিনি বৈঠক করবেন রাজ্য সংগঠনের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে। সোমবার রাতের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে খুঁটিনাটি জানতে চান নিতিন। তাঁর বাবা প্রয়াত বিজেপি নেতা নবীন কিশোর সিনহা। এবিভিপির হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। ২০১০ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি। জয়ীও হন বিহারের বাঁকিপুর আসনে। তারপর থেকে এই কেন্দ্রেই ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে আসছেন নিতিন (Nitin Nabin)।  দেশের রাজনীতিতে নবীন মুখ হলেও, বিহারে নিতিন খুবই পরিচিত। তাঁর জন্ম পাটনায়। বাবা বিজেপি (BJP) নেতা হওয়ায়, শৈশব থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেই বেড়ে উঠেছেন নিতিন। গত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন নিতিন। প্রত্যাশিতভাবেই তাঁর ঠাঁই হয় নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায়।

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হলেন নিতিন। নাড্ডার জায়গায় নিতিনকে বসানোর মূল কারণ হল বিজেপির পাশাপাশি আরএসএসেরও ভরসা রয়েছে নিতিনের ওপর। নিতিন নির্বাচনটাও বোঝেন ভালো। এই সব কারণেই অনায়াস হয় নিতিনের পদ প্রাপ্তি। শোনা যায়, নিতিন আরএসএস ঘনিষ্ঠ। সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সমন্বয় রক্ষা করেছিলেন বিজেপি এবং জেডিইউয়ের। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকেও বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন নিতিন। ছত্তিশগড় বিধানসভায় তিনি কাজ করেছেন বিজেপির ইনচার্জ হিসেবে। ঝুলিতে এতসব অভিজ্ঞতা থাকায় নিতিনকে বেছে নেওয়া হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে।

    নিতিন নবীন আমার বস

    বিশ্বের সব চেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব গ্রহণ করায় নিতিনকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মুখে শোনা যায় নিতিনের ভূয়সী প্রশংসা। তিনি বলেন, “নিতিন নবীনকে এতদিনে যা যা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নিতিন সেই প্রজন্মের মানুষ, যিনি ছেলেবেলায় রেডিও দেখেছেন, আর বর্তমানে এআই ব্যবহার করছেন।” এর পরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। পঞ্চাশ বছরের কম বয়সে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন (BJP)। এসব একটা জায়গায় রয়েছে। কিন্তু এর থেকেও বড় পরিচয় হল আমি বিজেপির একজন কর্মী। দলের ক্ষেত্রে আমি কর্মকর্তা, আর নিতিন নবীন আমার বস।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি (BJP) এক সংস্কার, এক পরিবার। এই দলে মেম্বারশিপের চেয়েও বেশি রিলেশনশিপ রয়েছে। নেতৃত্ব বদলায়, কিন্তু দিশা বদলায় না (Nitin Nabin)।”

     

  • India: “ভারত আজ নিজের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করতে পারছে”, বললেন ডব্লুইএফ প্রধান

    India: “ভারত আজ নিজের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করতে পারছে”, বললেন ডব্লুইএফ প্রধান

     মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের (India) ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি দেশটিকে এমন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে যে, যেখানে আজ তারা সম্পূর্ণ নিজেদের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারছে।” এমনই মন্তব্য করলেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লুইএফ) সভাপতি বোরগে ব্রেন্ডে (Borge Brende)। দাভোসে অনুষ্ঠিত ফোরামের ৫৬তম বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    কী বললেন ডব্লুইএফ প্রধান?

    ব্রেন্ডে বলেন, “গত কয়েক বছরে ভারতের উত্থান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশের দরকষাকষির ক্ষমতাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। এর ফলে নয়াদিল্লি এখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে, কখন এবং কার সঙ্গে সে বাণিজ্য চুক্তি করবে।” তাঁর কথায়, “এই আত্মবিশ্বাস কোনও কথার কথা নয়, বরং পরিসংখ্যান দ্বারা সমর্থিত।” তিনি বলেন, “ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বে বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতই সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং বৈশ্বিক মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রাখছে। এটা সত্যিই অসাধারণ।” এই মাত্রা ও গতি থাকায় ভারতের আর তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করার বা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি। ব্রেন্ডের ভাষায়, “ভারত আজ নিজের স্বার্থ দেখে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যখন প্রয়োজন হবে, তখনই ভারত সেই চুক্তি করবে।” তিনি এও বলেন, “ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি অনেক বৈশ্বিক পর্যবেক্ষককে বিস্মিত করেছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এত ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার হয়েছে, যেটা অবিশ্বাস্য।”

    মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

    ব্রেন্ডে মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা এবং অর্থনৈতিক পরিপূরকতা সেই পথেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে (India)। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখনই দু’পক্ষের এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। অতীতে কিছু জটিলতা থাকলেও, বর্তমানে ভারত ও ইউরোপ, উভয়েই এই চুক্তি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে।” ব্রেন্ডে বলেন, “আমি মনে করি, এখনই ভারত ও ইউরোপের সময়। ঐতিহাসিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু এই চুক্তি কার্যকর হলে দু’পক্ষই উপকৃত হবে।” তিনি এও বলেন, ইউরোপ আগের তুলনায় এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনেক বেশি সক্রিয়। তাঁর ভাষায়, “লাতিন আমেরিকার বহু দেশ এখন ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না, বিশেষ করে কৃষির মতো জটিল ইস্যুর কারণে (Borge Brende)।”

    বিশ্ব বাণিজ্য ভেঙে পড়ছে না

    শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভাজনের কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা থাকলেও, ব্রেন্ডে সাফ জানিয়ে দেন, “বিশ্ব বাণিজ্য ভেঙে পড়ছে না। বরং আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়ছে।” তিনি বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্যে যে রদবদল চলছে, তার পরেও এ বছর বাণিজ্যে প্রায় ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে আমরা আশা করছি। অর্থাৎ বাণিজ্য সংকুচিত হচ্ছে না, কেবল আগের মতো দ্রুত বাড়ছে না। বাণিজ্য জলের মতো, যে নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেয়।” ব্রেন্ডের মতে, ভারতের উত্থান বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক বাণিজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির একটি। যখন বড় বড় অর্থনীতি অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, ধারাবাহিক সংস্কার এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক প্রভাব দেশটিকে শক্ত অবস্থানে থেকে দরকষাকষির ক্ষমতা দিয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে, ভারত এখন আর শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবণতার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না, বরং (Borge Brende) সেই প্রবণতাগুলি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে (India)।

  • Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে লস্কর-ই-তৈবার (এলইটি) (Lashkar E Taiba) শীর্ষ কমান্ডার আবদুল গফফারের। এর ফলে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক জঙ্গির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হল। জানা গিয়েছে, আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়, যা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

    আবদুল গফফার (Pakistan)

    আবদুল গফফারকে লস্কর-ই-তৈবার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এর আগে একটি ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল লস্কর প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের ছেলের সঙ্গে। সেই ছবি গফফারের প্রভাব ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ মহলে তাঁর প্রবেশাধিকারকে স্পষ্ট করেছিল।গফফারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লস্করের শীর্ষ নেতৃত্ব জোর ধাক্কা খেয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এমনকি হাফিজ সইদও সম্পূর্ণভাবে হতবাক হয়ে গিয়েছেন। আরও এক শীর্ষ জঙ্গির আকস্মিক মৃত্যু পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী লালন-পালন করেছে, সেই গোটা জঙ্গি পরিকাঠামোর মধ্যেই ভয়ের আবহ তৈরি করেছে। গফফারের মৃত্যু একটি সুস্পষ্ট ও ক্রমবর্ধমান ধারার মধ্যেই পড়ছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ‘অর্গানাইজার’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩২ জন জঙ্গি অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছে, যাদের বড় অংশই পাকিস্তানের ভেতরে মারা গিয়েছে। এদের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং পাকিস্তান-সমর্থিত অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের উচ্চমূল্যের অপারেটিভরা রয়েছে, যারা ভারতে জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী (Pakistan)।

    একের পর এক খতম

    বিভিন্ন সময় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাইফুল্লাহ খালিদ। লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ জঙ্গি, সিন্ধে নিহত হন। বেঙ্গালুরুর আইআইএসসিতে গুলি চালানো এবং রামপুর সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলার মূল চক্রী বলে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি (Lashkar E Taiba)। আবু কাতাল। হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ঝিলমে গুলিতে নিহত হন। মুফতি শাহ মীর। পাকিস্তানের আইএসআই-ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় নেতা, কুলভূষণ যাদব অপহরণ মামলায় অভিযুক্ত। খুন হয়েছেন বালুচিস্তানে। মাওলানা কাশিফ আলি। লস্করের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ও হাফিজ সইদের শ্যালক, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত। মুফতি ফয়্যাজ। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে মৃত্যু। আবদুল্লাহ শাহিন। লস্করের সিনিয়র (Pakistan) প্রশিক্ষক, রহস্যজনকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু। হাজি উমর গুল। লস্করের অর্থদাতা,  সহযোগীদের সঙ্গে গুলিতে নিহত। হাবিবুল্লাহ। কুখ্যাত লস্কর রিক্রুটার,  অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত। আদনান আহমেদ। ২০১৬ সালের পাম্পোর সিআরপিএফ গণহত্যার মূল চক্রী, করাচিতে নিহত। ইউনুস খান। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, বাজৌরে গুলিতে নিহত। মোহাম্মদ মুজাম্মিল ও নঈমুর রহমান। লস্করের ক্যাডার,  সিয়ালকোটে গুলিতে নিহত। মওলানা রহিম উল্লাহ তারিক। জইশ-ই-মহম্মদের নেতা, করাচিতে খতম। আক্রম খান ওরফে আক্রম গাজি। লস্করের প্রাক্তন নিয়োগ প্রধান, বাজৌরে নিহত। খাজা শাহিদ। সুনজওয়ান হামলার সঙ্গে যুক্ত,  নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে শিরঃচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার দেহ। আমির সরফরাজ তাম্বা। সরবজিৎ সিং হত্যাকাণ্ডে যুক্ত, লাহোরে নিহত। আসিম জামিল। উগ্রপন্থী ধর্মপ্রচারকের ছেলে, খানেওয়ালে নিহত। দাউদ মালিক। মওলানা মাসুদ আজহারের সহযোগী, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গুলিতে মৃত্যু (Lashkar E Taiba)।

    বিমান ছিনতাইয়ে যুক্ত

    এছাড়াও আইসি-৮১৪ বিমান (Pakistan) ছিনতাই, হিজবুল মুজাহিদিনের লজিস্টিক সহায়তা এবং পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বিভিন্ন চরমপন্থী সেলের সঙ্গে যুক্ত বহু জঙ্গি একইভাবে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলি পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোর ভঙ্গুর ভিতকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে দায়মুক্তির সঙ্গে কাজ করা জঙ্গি নেতারা এখন একের পর এক হিংস্র পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যার ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ তদন্ত পাকিস্তান কোনওটিই করছে না। রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনা, আকস্মিক গুলি চালানো এবং অজানা হামলা এখন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

    দীর্ঘায়িত হচ্ছে তালিকা

    আবদুল গফফারের মৃত্যু আরও একবার এই ধারণাকে জোরালো করল যে, পাকিস্তান ক্রমশই সেই শক্তিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, যাদের একসময় সে নিজেই সৃষ্টি করেছিল ও আশ্রয় দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই বা নীরব ‘ক্লিন-আপ অপারেশন’, কারণ যাই হোক না কেন, ফল একই- শীর্ষ জঙ্গিরা একে একে খতম হচ্ছে (Lashkar E Taiba)। মৃত চরমপন্থীদের তালিকা যত দীর্ঘ হচ্ছে, বার্তাও তত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসের বাস্তুতন্ত্র এখন নিজের দিকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে সংগঠনের কমান্ডাররাই হয়ে উঠছেন সবচেয়ে বেশি অ-সুরক্ষিত। সেই তালিকায়ই সর্বশেষ সংযোজন, আবদুল গফফার (Pakistan)।

     

LinkedIn
Share