Tag: Bangladesh Border

Bangladesh Border

  • Bangladesh Border: জঙ্গি যোগ! বাংলাদেশ সীমান্তে ধরা পড়ল উর্দু ও আরবিতে সন্দেহজনক ‘কোড’ বার্তা

    Bangladesh Border: জঙ্গি যোগ! বাংলাদেশ সীমান্তে ধরা পড়ল উর্দু ও আরবিতে সন্দেহজনক ‘কোড’ বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তে (Bangladesh Border) উর্দু এবং আরবি ভাষায় সন্দেহজনক সিগন্যাল ধরা পড়ল। এতেই বেড়েছে উদ্বেগ। আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানেই জানানো হয়েছে, মাসদুয়েক ধরে রাতের দিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় সেরকম সিগন্যালের হদিশ পেয়েছেন অপেশাদার হ্যাম রেডিয়োর অপারেটররা। জানা গিয়েছে, বাংলা (বাংলাদেশি টানে), উর্দু এবং আরবিতে সাংকেতিক ভাষায় সেইসব সিগন্যাল ধরা পড়েছে। এতেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ 

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে (Bangladesh Border) এখন যা অবস্থা এবং যেভাবে সে দেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে সাংকেতিক ভাষায় ওইসব সন্দেহজনক সিগন্যাল ধরা পড়ায় জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নজরে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের। সংশ্লিষ্ট সমস্ত মহলকে করা হয়েছে সতর্ক। পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে সেই সাংকেতিক ভাষায় সিগন্যালের বিষয়টি সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ও বনগাঁ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকায় সাংকেতিক ভাষায় বাংলা, উর্দু ও আরবি এরকম অনুমোদনহীন সিগন্যালের হদিশ মিলেছে। এরপরেই তা তড়িঘড়ি জানানো হয় কেন্দ্রীয় সরকারকে। এরপরেই ট্র্যাকিংয়ের জন্য বিষয়টি পাঠানো হয় কলকাতায় ইন্টারন্যাশনাল মনিটরিং স্টেশনের (রেডিও) কাছে। ভবিষ্যতে আবারও এরকম সিগন্যালের হদিশ মিললে তা সঙ্গে সঙ্গে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাত ১ টা থেকে রাত ৩ টের মধ্যে সিগন্যাল

    এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ (Bangladesh Border) রেডিও ক্লাবের এক শীর্ষ পদাধিকারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘রাত একটা থেকে রাত তিনটের মধ্যে সেই সন্দেহজনক সিগন্যাল ধরা পড়েছে। মূলত বাংলা (বাংলাদেশি ধাঁচে কথা), উর্দু ও আরবি ভাষায় সেই সাংকেতিক বার্তা ছিল। কখনও কখনও এমন কোনও (Ham Radio) ভাষায় সিগন্যাল ধরা পড়েছে, যেটা আমরা বুঝতে পারিনি। যখনই আমরা ওই লোকজনকে নিজেদের পরিচয় দিতে বলেছি, তখনই ওরা চুপ করে গিয়েছে।’’

    প্রথম এমন সিগন্যাল ধরা পড়েছিল সোদপুরে

    পিটিআইয়ের তরফে প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ (Bangladesh Border) রেডিও ক্লাবের ওই পদাধিকারী জানিয়েছেন যে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে প্রথমবার এমন সিগন্যাল ধরা পড়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘প্রাথমিকভাবে আমরা তেমন গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু তারপর একইরকম সিগন্যাল ধরা পড়েছে বসিরহাট, বনগাঁ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকেও। জানুয়ারির মাঝামাঝি যখন গঙ্গাসাগর মেলা হচ্ছিল, তখনও একাধিক হ্যাম রেডিয়ো ব্যবহারকারী এরকম সন্দেহজনক সিগন্যালের হদিশ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।’’

    কেন উদ্বেগ ছড়াচ্ছে এমন সিগন্যাল?

    কিন্তু কেন ওইসব সিগন্যাল নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করা হচ্ছে, সেটাও সংবাদমাধ্যমের সামনে ব্যাখ্যা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ (Bangladesh Border) রেডিও ক্লাবের ওই পদাধিকারী। সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানিয়েছেন যে হ্যাম রেডিও ব্যবহাকারীদের ক্ষেত্রে যে বিশ্বব্যাপী নিয়ম আছে, সেটা কোনওভাবেই মানা হচ্ছে না এক্ষেত্রে। এরকম ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষকে নিজেদের ‘রেডিও আইডেন্টিফিকেশন কোড’ বা ‘রেডিও কল সাইন’ দিয়ে পরিচয় দিতে হয়। কিন্তু এইসব ঘটনার ক্ষেত্রে পরিচয় জানতে চাওয়া হলেই সব কিছু স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    এরকম সিগন্যাল উদ্বেগের, জানাচ্ছেন বিএসএফের

    এমন পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের ওই পদাধিকারীর বাড়িতে এসেছেন ভারতের সুরক্ষা এজেন্সির এক আধিকারিক। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তবে ভারতীয় সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফের তরফে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিএসএফের এক শীর্ষ আধিকারিক এবিষয়ে জানিয়েছেন, এরকম সিগন্যালের বিষয়টি উদ্বেগের।

    জঙ্গি সংগঠনগুলি মাঝেমধ্যেই হ্যাম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে 

    ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, পাচারকারী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলি মাঝেমধ্যেই হ্যাম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে থাকে। কারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক বা মোবাইলের তুলনায় হ্যাম রেডিও-র যোগাযোগের ওপরে নজরদারি চালানো কঠিন। উল্লেখযোগ্যভাবে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। জানা যাচ্ছে, ২০০২-০৩ সালে এরকম সন্দেহজনক সিগন্যাল ধরা পড়েছিল। তখন অভিযান চালিয়ে ছয় উগ্রপন্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের ওই পদাধিকারী।

    জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে বাংলাদেশে

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকেই ব্যাপক উত্তপ্ত বাংলাদেশ। প্রতিটি জেলায় দাপট দেখাচ্ছে মৌলবাদীরা। লাগাতার ওপার বাংলা থেকে দেওয়া হচ্ছে হিংসায় উসকানি। জঙ্গি গতিবিধির ব্যাপক হদিশও মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে এমন সন্দেহজনক সঙ্কেত মেলায় চিন্তা বেড়েছে সরকারের। এই সঙ্কেত ট্র্যাকিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে কলকাতায় ইন্টারন্যাশনাল মনিটরিং স্টেশনে।

  • Bangladesh border: বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়ছে ভিড়, ফাঁকা জায়গায় কাঁটাতার বসাতে তৎপর বিএসএফ

    Bangladesh border: বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়ছে ভিড়, ফাঁকা জায়গায় কাঁটাতার বসাতে তৎপর বিএসএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অশান্ত বাংলাদেশে ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দুরা। মৌলবাদী দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে মানুষের জীবন বিপন্ন। জামাত এবং বিএনপি সমর্থক গুন্ডাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে (Bangladesh border) বাংলাদেশি হিন্দুদের ক্রমশ ভিড় বাড়ছে। এই ভিড়ের বেশির ভাগ মানুষ ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার। তাঁরা শরণার্থী হিসাবে হয়তো আশ্রয় চান ভারতে। একই ভাবে সেই দেশের জঙ্গিরাও অবৈধ অনুপ্রবেশ করে নাশকতা মূলক ঘটনা ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফ (BSF), এতদিন পর্যন্ত খোলা পড়ে থাকা বর্ডারগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া দিতে অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেছে। প্রশাসন এবং বিএসএফ দ্রুত কদমে কাজ শুরু করেছে।

    ২২৪ কিমি সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে তোরজোড় (Bangladesh border)  

    সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২২০০ কিলোমিটার জুড়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত (Bangladesh border) রয়েছে। তাঁর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসেছে। বাকি যেখানে এখনও তার বসেনি, তার একটা বড় অংশ আবার নদী দিয়ে ঘেরা। এখন ২২৪ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর তোরজোড় চলছে। জমির বন্দোবস্ত করার চেষ্টাও চলছে জোরকদমে। ইতিমধ্যে ৪৩ কিমি এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। আবার মমতার মন্ত্রিসভা ২৬৭ কিমি জমি কেনার বিষয়ে ছাড়পত্র দিয়েছে। অপরদিকে, ১১২.৩ কিমি জমি কিনতে রাজ্যকে ২২১ কোটি টাকা সাহায্য পাঠিয়েছে কেন্দ্র। আরও ১৫৪ কিমি জমি কেনার হিসেব কেন্দ্রকে দিয়েছে রাজ্য। ফলে সীমান্তকে সুরক্ষিত করা বিএসএফের কাছে প্রাথমিক বিষয়। বাংলাদেশের অশান্ত এবং উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রচুর জেলবন্দি দুষ্কৃতীরা ছাড়া পেয়েছে। ফলে জেএমবি বা আল-কায়েদা জঙ্গিরা যাতে অবাধে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেই দিকের কথা মাথায় রেখে বিএসএফ (BSF) এই কোচবহার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ ‘‘বাংলাদেশের পর এবার ভারতের পালা’’! হুমকি দিয়ে যুবক গ্রেফতার, মিলল জঙ্গি-যোগ

    হিন্দুদের সুরক্ষার বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারকে

    বাংলাদেশে গঠন হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মোট ১৭ সদস্যের একটি নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়েছে। প্রধান করা হয়েছে নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূসকে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তেই সেই দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধদের টার্গেট করেছে মৌলবাদী দুষ্কৃতীরা। আওয়ামি লিগের অবশ্য দাবি, সবটাই ছাত্র আন্দোলনের নামে জামাত শিবির এবং বিএনপির ষড়যন্ত্র। দেশে হিন্দুদের ধর্মীয়স্থল মন্দির, মঠে আগুন দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। একাধিক জেলায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, ব্যবসার কেন্দ্রে ব্যাপক ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। হিন্দু মহিলাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগও উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক জায়গার অত্যচার-আর্তনাদের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে হিন্দুদের জীবন-সম্পত্তি সুরক্ষা করার বার্তা পাঠিয়েছেন। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সীমান্তকে (Bangladesh border) আরও সুরক্ষিত করতে ময়দানে নেমে পড়েছে বিএসএফ (BSF)।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: ‘‘ধর্ষণ করছে, মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে’’, বাংলাদেশি হিন্দু নারীদের মুখে দুর্দশার কথা

    Bangladesh Crisis: ‘‘ধর্ষণ করছে, মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে’’, বাংলাদেশি হিন্দু নারীদের মুখে দুর্দশার কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর থেকেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি (Bangladesh Crisis) যেন ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। বর্তমানে দেশের দখল নিয়েছে সেনাবাহিনী। কিন্তু তাতে অবস্থার যে খুব একটা উন্নতি হয়েছে এমনটা নয়। দেশজুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িঘর, মন্দির এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। এমনকী, বর্বরোচিত অত্যাচারের হাত থেকে বাদ যাননি হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলারাও (Hindu women in Bangladesh)। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের হিন্দু নারীদের ওপর ব্যপক অত্যাচার চলছে। শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের মত অভিযোগও উঠেছে। 

    হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলাদের ওপর অত্যাচার (Bangladesh Crisis)

    এই চরম অস্থিরতার সময় বাংলাদেশি হিন্দু নারীদের ওপর যেভাবে অত্যাচার চলেছে এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন নির্যাতিতারা। ৮ অগাস্ট স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ভিডিওতে বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন হিন্দু মহিলা (Hindu women in Bangladesh) তাঁদের দুর্দশার কথা বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ভুক্তভোগী বলেন, ”ওরা তলোয়ার ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। বাড়ি থেকে সব নিয়ে গেছে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য, আমাদের কাছে যা ছিল সবই দিয়েছি।” আরেক মহিলা বলেন, ”রাতে, ওরা এসেছিল। আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর করে সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। আমি লুকিয়ে ছিলাম। কিন্তু ওরা আমার ভাইয়ের স্ত্রীকে ধরে অন্য ঘরে নিয়ে যায়। তাঁকে ধর্ষণ করে। পরে আমরা তাঁকে উদ্ধার করি। সে সময় তাঁর মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। ওরা তাঁর গলা কেটে ফেলতে চেয়েছিল। ওকে বাঁচানোর জন্য আমরা আমাদের সব সোনার গয়না দিয়ে দিয়েছি।”     

    অন্যদিকে, তৃতীয় আরেক মহিলা (Hindu women in Bangladesh) অনুরূপ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ”আমরা রাতে ঘুমাচ্ছিলাম। তখনই ওরা এসেছিল। ওদের সঙ্গে অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ওরা আমাদেরকে সতর্ক করে বলেছিল, ‘আমাদের পঞ্চাশ জন লোক তোমার বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে, তোমার পালানোর কোনও পথ নেই।’ এরপর ওরা সবকিছু লুট করেছে। আমাকে ধরে বিছানায় নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। আমি তাদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম যে হয় আমাকে রেহাই দাও অথবা আমাকে মেরে ফেলো। এরপর ওরা আমাকে কান্না থামানোর জন্য হুমকি দিতে থাকে। আমাদের কাছে যা কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল সব দিতে বলেছিল ওরা। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তাই আমি বাধ্য হয়ে আমার সমস্ত গয়না ওদের দিয়ে দিয়েছিলাম। সেসব নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায় ওরা।” 

    হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত, ভাঙচুর মন্দিরে (Bangladesh Crisis)

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করেছে। অশান্তির সঙ্গে সঙ্গে এবার সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের অভিযোগ ও উঠতে শুরু করেছে। হিন্দু মহিলাদের নির্যাতনের পাশাপাশি জলছে সংখ্যালঘুদের ঘর। একাধিক মন্দিরে ও হামলা চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করে, সেদেশের ২৯টি জেলায় সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলা চালানো হয়েছে। অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষের বাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ভাঙা হয়েছে মন্দিরও।  

    জানা গিয়েছে, নাটোর, ঢাকার ধামরাই, পটুয়াখালির কলাপাড়া, শরিয়তপুর ও ফরিদপুরের একাধিক মন্দিরে ভাঙচুর (Bangladesh Crisis) করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনি শহরের দুর্গামন্দির, দিনাজপুরের পার্বতীপুর কালীমন্দির সহ আরও পাঁচটি মন্দির, যেখানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের ২ নম্বর ইউনিয়নের শ্মশান মন্দিরে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং নেত্রকোনা শহরে রামকৃষ্ণ মিশন এবং ইস্কন মন্দিরে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুড়িয়ে ছাই হয়ে যায় জগন্নাথ বিগ্রহ। একইসঙ্গে যশোর, নোয়াখালি, মেহেরপুর, চাঁদপুর ও খুলনার একাধিক বাড়িঘরে হামলা চলেছে। 

    এমনকী, দিনাজপুরে হিন্দুদের ৪০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। যশোরে অন্তত ৫০টি হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায় উন্মত্ত জনতা। ভাঙচুর, লুটপাট, ডাকাতির মতো ঘটনার পর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বাড়িগুলিতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোকানে ভাঙচুর করে মালপত্র লুট করা হয়। এহেন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের আশ্বস্ত করতে জেলায়-জেলায় হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে বাংলাদেশ সেনা। 

    ভারত আসতে চাইছেন বাংলাদেশি হিন্দুরা

    এদিকে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার (Bangladesh Crisis) পরেই আতঙ্কে ভারত বাংলাদেশ বর্ডারের কাছে বহু বাংলাদেশি জড়ো হয়েছিলেন বলে খবর।  বুধবার দুপুর ১ টা নাগাদ প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি ভারতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেন। তবে কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার আগেই তাদের আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে বিএসএফ। শরণার্থীদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে অনুরোধ করলে শরণার্থীরা জানান, বিএসএফ পারলে গুলি করে তাঁদের মেরে দিক, কিন্তু তাঁরা দেশে ফিরে যাবেন না। এ প্রসঙ্গে, হলদিবাড়ি ছিটমহলের বাসিন্দা জয়প্রকাশ রায় বলেন, ‘‘মহিলারা আর্তনাদ করছেন। বাঁচান বাঁচান বলে চিৎকার করছেন। একটু আশ্রয় চাইছেন। এ দৃশ্য দেখা যায় না!’’ 

    আরও পড়ুন: ‘‘বাঁচান, আশ্রয় দিন…’’! ভারত-সীমান্তে ভিড় বাংলাদেশি শরণার্থীদের, রুখল বিএসএফ

    কী জানাল ভারতের বিদেশমন্ত্রক?   

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার (Bangladesh Crisis)প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে যে, গোটা বিষয়গুলি সম্পর্কে কেন্দ্র অবগত। একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোটা না ফেরা পর্যন্ত উদ্বেগ রয়েছে। আইন ও সরকারের দায়িত্ব হল সমস্ত নাগরিকদের সুরক্ষা যাতে বজায় থাকে। এটা সেই দেশের স্বার্থরক্ষার জন্য দরকার। বৃহত্তরক্ষেত্রে এটা দরকার। 

    বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করে বলেন, ”কোনও ইসলামিক দেশে গণতন্ত্র সফল হয় না, এটা তার প্রমাণ। কিছু গণ্ডগোল হলেই ওখানে হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার হয়। তারা পালিয়ে আসেন। আবার সেটা হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের হয়ে কেউ কথা বলছে না। কেউ জামাতিদের কথা বলছে, কেউ স্বৈরতন্ত্রের কথা বলছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হলে এখানে তার প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের সেখানে সরকার বদলের অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা বলে প্রতিবার সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।” 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন চালু থাকলেও দিল্লিতে ফিরলেন বহু কর্মী, কেন?

    Bangladesh Crisis: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন চালু থাকলেও দিল্লিতে ফিরলেন বহু কর্মী, কেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক সংকটে বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis)। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধারাবাহিক হিংসার ঘটনায় বাংলাদেশে ২৩২ জন নিহত হয়েছেন। এমত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হল বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলি। অন্যদিকে, এবার বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাইকমিশনের (Indian High Commission) অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনল ভারত। জানা গিয়েছে, এই অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। 

    ঢাকা থেকে দিল্লি এলেন ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মচারীরা 

    বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের (Bangladesh Crisis) পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ঘিরে রাজনৈতিক ডামাডোল চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন থেকে নিজেদের কর্মীদের একাংশকে ফিরিয়ে এনেছে ভারত। ভারতীয় হাইকমিশন (Indian High Commission) সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে একান্ত জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঢাকা থেকে দিল্লি এসে পৌঁছেছেন সকলে। তবে কূটনীতিকরা বাংলাদেশেই থাকছেন। হাইকমিশনের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু আছে। এ প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ”বর্তমানে বাংলাদেশে আনুমানিক ১৯,০০০ ভারতীয় নাগরিক রয়েছে যার মধ্যে প্রায় ৯০০০ জন ছাত্র। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই, আমরা আমাদের কূটনীতিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছি।” 

    আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ভাঙা পড়েছে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি, ‘মানা যায় না’, বলছে ভাষা-শহিদের পরিবার

    বন্ধ বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলি

    এখনও স্বাভাবিক নয় বাংলাদেশের পরিস্থিতি (Bangladesh Crisis)। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তগুলিতে সতর্ক ভাবে পাহারায় রয়েছে বিএসএফ। এমত পরিস্থিতিতে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হল বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলি। বুধবার ভারতীয় ভিসা সেন্টারের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশিকা না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থিত সব ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলি বন্ধ থাকবে। ভারতীয় ভিসা সেন্টারের ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী কবে ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে, তা এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। 

    উল্লেখ্য, হাসিনার দেশ ছাড়ার পর বৃহস্পতিবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার কথা। আপাতত ১৫ সদস্যের সরকার গঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: ‘‘বাঁচান, আশ্রয় দিন…’’! ভারত-সীমান্তে ভিড় বাংলাদেশি শরণার্থীদের, রুখল বিএসএফ

    Bangladesh Crisis: ‘‘বাঁচান, আশ্রয় দিন…’’! ভারত-সীমান্তে ভিড় বাংলাদেশি শরণার্থীদের, রুখল বিএসএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখনও অশান্ত বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis)। প্রতিবেশী দেশটিতে হিংসার শিকার হচ্ছেন বহু সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুরা। বাংলাদেশের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি ভারতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেন। তবে কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার আগেই তাদের আটকে দিতে সক্ষম হয় বিএসএফ (BSF on Bangladesh Border)। যদিও এর জন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে কোনও রকম কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়নি। গুলি চালানোরও কোনও দরকার পড়েনি। 

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় সজাগ ও তৎপর বিএসএফ (Bangladesh Crisis)

    বাংলাদেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই শয়ে শয়ে শরণার্থীরা কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসতে চাইছেন। বুধবার দুপুর থেকেই দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের সীমান্তে ভিড় করেছেন বহু বাংলাদেশি। কার্যত কাঁটাতারহীন সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির সীমান্তে দেখা গিয়েছে, কাতারে কাতারে মানুষ ভারতে প্রবেশ করার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। 

    তবে, এমন ঘটনা (Bangladesh Crisis) যে ঘটতে পারে তার আন্দাজ আগে থেকেই পেয়েছিল বিএসএফ। তাই সোমবারের পর থেকেই সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বুধবার কিছু মানুষ আসা পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিএসএফ (BSF on Bangladesh Border) সীমান্তেও বাহিনী সংখ্যা বাড়ায়। শরণার্থীদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন সকলে। বিএসএফের দাবি, এই বাংলাদেশিরা মূলত সানসেরপুরা, ধামেরঘাট, চিরাকুটি, লাখিপাড়া, বোনাগ্রাম, কাঠুমারি, পানিডুবি ও বানিয়াপাড়ার বাসিন্দা। এই গ্রামগুলি সীমান্ত থেকে মাত্র ২-৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 

    আরও পড়ুন: ‘‘হিন্দুদের ওপর, মন্দিরে হামলায় উদ্বিগ্ন’’, বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ইজরায়েলের

    শরণার্থীদের দাবি (Bangladesh Crisis) 

    বিএসএফ জানায়, প্রায় ৩০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক যারা মূলত হিন্দু তারা এসে জমায়েত করেন জলপাইগুড়ি জেলার মানিকগঞ্জের সাতকুড়া সীমান্তে। প্রত্যেক শরণার্থীদের দাবি ছিল, বিএসএফ পারলে গুলি করে তাঁদের মেরে দিক, কিন্তু তাঁরা দেশে ফিরে যাবেন না। এ প্রসঙ্গে, হলদিবাড়ি ছিটমহলের বাসিন্দা জয়প্রকাশ রায় বলেন, ‘‘মহিলারা আর্তনাদ করছেন। বাঁচান বাঁচান বলে চিৎকার করছেন। একটু আশ্রয় চাইছেন। এ দৃশ্য দেখা যায় না!’’ তবে বিএসএফ সূত্রে খবর, উপরতলায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত শরণার্থীদের কোনও পরিস্থিতিতেই এ পারে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: অশান্ত বাংলাদেশ, অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা প্রবল! জল-স্থল সীমান্তে সতর্ক বিএসএফ

    Bangladesh Crisis: অশান্ত বাংলাদেশ, অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা প্রবল! জল-স্থল সীমান্তে সতর্ক বিএসএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis)। চারিদিকে শুধুই হাহাকার আর কান্নার রোল। অন্যদিকে, একদলের উন্মত্ত উল্লাস। সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার সীমাহীন। সোনার বাংলা ভূলুণ্ঠিত। শুধু সংখ্যালঘুরাই নয়, আক্রান্ত হচ্ছেন আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরাও। প্রাণভয়ে অনেকে পালিয়ে আসছেন সীমান্তপারে। বাংলাদেশের এই চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে তাই ভারতীয় সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিল বিএসএফ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জলসীমানা অনেকটা। তাই কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে জলসীমায়। বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ডাঙাতেও হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিএসএফের (BSF) পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। কাঁটাতার ঘেরা সীমান্তে রাত-টহলের জন্য নাইট ভিশন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে জওয়ানের সংখ্যাও।

    সুন্দরবনে জলসীমায় কড়া পাহাড়া

    বাংলাদেশের (Bangladesh Crisis) বর্তমান পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের ভারত-বাংলাদেশ জলসীমানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুন্দরবনের নদী ও সমুদ্রে হাই অ্যলার্ট জারি করা হয়েছে। এখন বাংলাদেশ ও ভারতের জলসীমানায় ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে জলে-স্থলে চলতে পারা ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর হোভারক্রাফ্ট। এদিন বেলায় ফ্রেজারগঞ্জ ঘাঁটিতে পৌঁছে গিয়েছে বিশেষ এই হোভারক্রাফ্ট। উপকূলরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা হোভারক্রাফ্টে চেপে বঙ্গোপসাগরে ভারত-বাংলাদেশ জলসীমানায় টহলদারি শুরু করেছেন। অনেক সময়ে বাংলাদেশ থেকে জলদস্যু বা মৎস্যজীবীরা জলসীমানা পেরিয়ে চলে আসে এ পারে‌। ট্রলারে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ আটকাতে এই হোভারক্রাফ্ট অনেকটাই কাজে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। উপকূলরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি সুন্দরবনের উপকূল এলাকার প্রতিটি থানাই জলপথে পেট্রোলিং চালাচ্ছে। এ দিন সকাল থেকে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার স্পিডবোট এবং এফআইবি বোট নদী এবং সমুদ্রে টহল দিয়েছে।

    গ্রামবাসীদের দল

    সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে এবার একজোট হলেন গ্রামবাসীরাও। গ্রামে গ্রামে টিম করে সচেতনতা প্রচার চালাচ্ছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। জেল ভাঙা জামাত জঙ্গিরা যে কোনও সময় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতে পারে, এমন প্রচারও চালাচ্ছে বিএসএফ (BSF)। মূলত বাংলাদেশের এই পরিস্থিতির মধ্যে যাতে কোনও ভাবে অনুপ্রবেশ না ঘটে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিতেই, নদিয়া,  জলপাইগুড়ি, কোচবিহারের সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএসএফ। গেদে ৩২ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের উদ্যোগে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে নদিয়ায় বৈঠকে বসেন পঞ্চায়েত প্রধান সদস্য-সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা। কোনও অপরিচিত মানুষ দেখলে গ্রামবাসীদের কী কর্তব্য সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছে সেনা-আধিকারিকরা।

    গ্রামবাসীদের করণীয়

    বুধবার সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রামে গিয়ে অনুপ্রবেশ (Bangladesh Crisis) রুখতে গ্রামবাসীদের কী করণীয় তা বুঝিয়ে বলেন বিএসএফ (BSF) আধিকারিকরা। গ্রামবাসীদের তাঁরা বলেন, ‘‘অচেনা কাউকে গ্রামে দেখলে বিএসএফ বা পুলিশকে জানাবেন। রাতে খুব দরকার না হলে বাড়ির বাইরে বেরোবেন না। আর বেরোলেও সীমান্তের কাটাতারের দিকে যাবেন না।’’ তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতির কোনও প্রভাব সীমান্তের এপারে পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন না গ্রামগুলির বাসিন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, বিএসএফ ও পুলিশের পাহারায় নিরাপদে রয়েছেন তাঁরা।

    উত্তরবঙ্গে সতর্কতা

    উত্তরবঙ্গের ফুলবাড়ি সীমান্তে সরদারপাড়া, ধদাগছ, লক্ষ্মীস্থান, নারায়ণজোতসহ প্রায় ১২টি সীমান্তবর্তী গ্রাম রয়েছে। সেখান থেকে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছে বিএসএফ (BSF)। এব্যাপারে গ্রামবাসীদের সতর্ক করেছেন বিএসএফ আধিকারিকরা। বুধবার গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। বিএসএফের নর্থবেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের আইজি সুর্যকান্ত শর্মা বলেন, “সম্প্রতি বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ, অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাতেও গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হচ্ছে যাতে কোনও সন্দেহজনক কাওকে বা অপরিচিত কাউকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বা পুলিশকে জানানো হয়।” দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে কোচবিহার পর্যন্ত উত্তরের পাঁচ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৯৩৬ কিলোমিটার নর্থবেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের অধীনে। সীমান্তে নজরদারির জন্য চারটি সেক্টরে মোট ১৮টি বিএসএফ ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, ভারতের উদ্বেগের একাধিক কারণ

    সীমান্তের কাছেই সেনা

    বিএসএফ (BSF) সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গে ১০৯ কিলোমিটার খোলা সীমান্ত রয়েছে। সেই ফাঁকা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দাদের অনেকে। বিএসএফের তরফে ফাঁকা সীমান্তে জওয়ানদের নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। চ্যাংরাবান্ধা এবং ফুলবাড়ির মতো সীমান্ত থেকে এক দেড় কিলোমিটার দূরে রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীকে। সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি হলে তড়িঘড়ি যাতে সেনাকে কাজে লাগানো যেতে পারে, সেজন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বিএসএফের উত্তরবঙ্গের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (পিআরও) অমিত ত্যাগী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘নিয়ম মেনে অনেকেই ওপার বাংলা থেকে ভারতে আসছেন। অনিয়মে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকেও নামানো হবে। তবে কাঁটাতারহীন কিছু এলাকায় জওয়ানদের তরফেই অস্থায়ী বেড়া দেওয়া রয়েছে।’’

    সতর্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

    সোমবার বাংলাদেশে (Bangladesh Crisis) হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে চূড়ান্ত নৈরাজ্য শুরু হয়েছে সীমান্তের ওপারে। বিদায়ী শাসকদল আওয়ামি লিগ নেতা ও হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চলছে সীমান্তের ওপারে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সীমান্ত পাহারায় মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি বিএসএফ জওয়ান। তবে তাতেও জল – জঙ্গলে ভরা সীমান্তে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। টহলদারির পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারির জন্য ড্রোন ওড়াচ্ছে বিএসএফ (BSF)। অনুপ্রবেশ রুখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা জওয়ান।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Indo–Myanmar Border: পাকিস্তান, বাংলাদেশের পরে মায়ানমার সীমান্তে বসছে কাঁটাতারের বেড়া

    Indo–Myanmar Border: পাকিস্তান, বাংলাদেশের পরে মায়ানমার সীমান্তে বসছে কাঁটাতারের বেড়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা মতো এবার বেড়া বসছে ভারত মায়ানমার সীমান্তে (Indo–Myanmar Border)। প্রসঙ্গত, এতদিন পর্যন্ত এই সীমান্তে কোনও বেড়া ছিল না। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ বর্ডারেই ছিল বেড়া। জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গল ঘেরা মায়ানমারের দুর্গম সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে একটি রাষ্ট্রের সংস্থাকে। যার নাম, ‘বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন’। ভারতবর্ষের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বেশিরভাগ সড়ক এবং পরিকাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে এই সংস্থা। সাধারণভাবে ভারতীয় সেনার এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিককে ‘বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন’- এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    গত সপ্তাহেই ইঙ্গিত দেন অমিত শাহ 

    প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অসমের তেজপুরে সভায় তিনি জানিয়েছিলেন, মায়ানমার সীমান্তকে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা হবে। আবার গুয়াহাটিতে অসম পুলিশের একটি কর্মসূচিতে অমিত শাহ নিজের বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ সীমান্তের (Indo–Myanmar Border) মতোই মায়ানমার সীমান্তকে সুরক্ষিত করা হবে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “অসমের সমস্ত বন্ধুকে জানাতে চাই, নরেন্দ্র মোদীর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মায়ানমার সীমান্ত ধরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে।”

    মায়ানমারের অনুপ্রবেশ কেন্দ্রের কাছে চিন্তার বিষয়

    জানা গিয়েছে, মায়ানমারে বর্তমানে যে সামরিক জুন্টা সরকার চলছে, সেই সরকারের সঙ্গে তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছে। শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। এর ফলে অসংখ্য শরণার্থী মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছেন। এটাই কেন্দ্রের কাছে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, মায়ানমার সীমান্তের (Indo–Myanmar Border) কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে বেড়া বসানোর কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। মণিপুরের দশ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া বসানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে চলছে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে মায়ানমারের স্থল সীমান্ত রয়েছে ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার। মায়ানমারের সীমান্তে (Indo–Myanmar Border) ভারতের রাজ্যগুলি হল নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ এবং মণিপুর।

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Gold Smuggling: বাংলাদেশ থেকে পাচারের সময় বিএসএফের হাতে পাকড়াও, উদ্ধার ৩৬ লাখ টাকার সোনা

    Gold Smuggling: বাংলাদেশ থেকে পাচারের সময় বিএসএফের হাতে পাকড়াও, উদ্ধার ৩৬ লাখ টাকার সোনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচারের (Gold Smuggling) সময় বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে গেল এক চোরাকারবারি। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ধৃতের নাম দেবাশিষ দেবনাথ। সে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫৮১ গ্রাম সোনা, যার মূল্য ৩৬ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। বিএসএফ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তিকে পরবর্তী পদক্ষেপ করার জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে তেঁতুলিয়া শুল্ক দফতরের হাতে। এই ব্যক্তির সঙ্গে বড় কোনও চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখাই তদন্তকারী সংস্থার মূল লক্ষ্য।

    কীভাবে ধরা পড়ল ওই যুবক?

    সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, বিএসএফের জওয়ানরা গোপন সূত্রে নির্দিষ্ট খবর পেয়ে নেমেছিলেন স্পেশাল অপারেশনে। আমুদিয়ার দিক থেকে মোটর সাইকেলে আসছিল এক ব্যক্তি। সন্দেহ হওয়ায় তার পথ আটকান জওয়ানরা। বিপদ বুঝে ওই ব্যক্তি তখন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে পাকড়াও করে নিয়ে আসা হয় বর্ডার পোস্ট-এ। সেখানেই তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি সোনার বিস্কুট, যেগুলি থাইয়ে টেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, এগুলি বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার (Gold Smuggling) করা হচ্ছিল।

    জিজ্ঞাসাবাদে আরও কী জানা গেল?

    ধৃত ওই ব্যক্তি বিএসএফের জেরায় জানিয়েছে, সে বাংলাদেশের নাগরিক গোগান মন্ডলের কাছ থেকে হোয়াটস অ্যাপে একটি কল পেয়েছিল ১৫ দিন আগে। তাতে বলা হয়েছিল, তাকে পাঁচটি সোনার বিস্কুট দেওয়া হবে, যেগুলি শায়েস্তানগরের নয়ন নামে একজনের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এই কাজের (Gold Smuggling) জন্য তার পারিশ্রমিক বরাদ্দ হয়েছিল ২০০০ টাকা। টাকার লোভেই সে এই কাজে সম্মতি জানিয়েছিল। এই ঘটনা ফের পরিস্কার করে দিল, সীমান্তে চোরাকারবারিরা এখনও কতটা সক্রিয়। তাই বিএসএফ নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Border: সক্রিয় পাচার চক্র! বিএসএফের গুলিতে পাচারকারীর মৃত্যু, উদ্ধার শতাধিক গরু-মোষ

    Bangladesh Border: সক্রিয় পাচার চক্র! বিএসএফের গুলিতে পাচারকারীর মৃত্যু, উদ্ধার শতাধিক গরু-মোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেলায় জেলায় সক্রিয় গরু পাচার (Cattle Smuggling) চক্র! অব্যাহত গরু পাচার। নদিয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে (Bangladesh Border) বিএসএফের (BSF) সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে এক বাংলাদেশি পাচারকারীর। সোমবার দুপুর পর্যন্ত জানা যায়নি মৃতের পরিচয়। এদিকে, পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার সীমানায় পাচারের সময় আটক শতাধিক গরু ও মোষ। গ্রেফতার করা হয় গাড়ির চালক ও খালাসি সহ মোট ৫০ জনকে।

    এদিন নদিয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের (Bangladesh Border) বিষ্ণুপুর এলাকায় টহল দিচ্ছিল বিএসএফ। টহলদার জওয়ানদের নজরে আসে রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে গরু। বাধা দেন বিএসএফের জওয়ানরা। এর পরেই আক্রমণ করে পাচারকারীরা। পাল্টা গুলি চালায় বিএসএফও। মৃত্যু হয় এক বাংলাদেশি পাচারকারীর। অন্ধকারের সুযোগে গা ঢাকা দেয় বাকিরা। পাচারকারীদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

    এদিকে, রবিবার দুপুরের পর ফের সন্ধে। আবারও উদ্ধার হল পাচার হতে যাওয়া গরু। এদিন দুপুরে আসানসোলের মাইথন থানার পুলিশ পাঁচটি গরু সহ একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে। এদিনই রাতে গরু-মোষ উদ্ধার হয় পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়ার হুড়ার কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে ২৭টি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল গবাদি পশুগুলিকে। ঘটনাটি নজরে পড়ে যুব তৃণমূলের কয়েকজন সদস্যের। হাতেনাতে ধরা হয় পাচারকারীদের। সব মিলিয়ে গ্রেফতার করা হয় ৫০ জনকে। উদ্ধার হয় শতাধিক গরু-মোষ। তার আগেই মৃত্যু হয়েছে ৮টি বাছুরের। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেলায় কিছু কিছু বেআইনি কাজকর্ম চলছে। যুব তৃণমূলের ছেলেরা তৎপরতার সঙ্গে ২৭টি গরু ভর্তি গাড়ি ধরেছে। এসব কাজে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই আমরা নিজেরাই তা ধরতে নেমেছি।

    আরও পড়ুন : গরু পাচারকাণ্ডে এবার বেসরকারি ব্যাংক কর্তাদের তলব সিবিআইয়ের! কী জানতে চাইল তারা?

    চলতি বছরেরই ২৩ অগাস্ট রাতে এই ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে একটি নামী দুধের কোম্পানির কন্টেনারে করে পাচার করা হচ্ছিল গরু। গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় ফাঁস হয়ে যায় পাচারচক্রের পর্দা। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তিনজনকে। পাচার রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। তার পরেও নিরাপত্তার ফোকর গলে যে পাচার চলছে, এদিনের ঘটনায় তার প্রমাণ মিলল ফের একবার।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Muslim Population in West Bengal: সীমান্তে মুসলিম জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, কোন পথে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ?

    Muslim Population in West Bengal: সীমান্তে মুসলিম জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, কোন পথে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সীমান্ত (Bangladesh Border) বরাবর অঞ্চলে মুসলিম (muslim) জনসংখ্যা (population) লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় এই জনসংখ্যা বিস্ফোরণ  রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। নিউ জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, ইসলামপুর, মালদা টাউন, মুর্শিদাবাদ – শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই ফুটে উঠছে এই ছবি। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে এখানে ডেরা বাঁধছে প্রচুর মুসলিম। নানান উপায়ে বর্ডার ক্রস করে তারা চলে আসছে এপারে। তারপর কয়েক বছর থাকার পর এখানকারই বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছে। কোণঠাসা হয়ে পড়ছে স্থানীয় হিন্দুরা। অনুপ্রবেশের (infiltration) ফলে বদলে যাচ্ছে এলাকায় এলাকায় জনসংখ্যার বাস্তব চিত্র (demography)।

    শুধু কোণঠাসা হয়ে পড়াই নয়, একসময় প্রাণের ভয়ে এখানকার হিন্দুরা চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন কোনও নিরাপদ স্থানে। বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্যে বাধ্য হয়েই নিজভূমে তাঁরা পরবাসী হয়ে যাচ্ছেন। উদ্বাস্তু হয়ে আসা মুসলিমরা প্রথমে ভাগচাষী হয়ে কাজ শুরু করছে। অনেকে কাজ নিচ্ছে হিন্দু বাড়িতে। তারপর তিন চার বছর যাওয়ার পর অন্য মূর্তি ধারণ করছে । সংখ্যাধিক্যের সুযোগ নিয়ে মনিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে কসুর করছে না তারা । অশান্তির জেরে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে অনেক হিন্দু পরিবার।  এমনকি জলের দরে বিক্রি করে দিচ্ছে নিজেদের বাস্তু ভিটে, চাষের জমি। 

    এভাবেই ডেমোগ্রাফি (demography) বা জনসংখ্যার স্ট্যাটিসটিক্স বদলে গেছে ঝাড়খন্ডের ৫ জেলায়। গত তিন দশক ধরে সেখানে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে নজিরবিহীন ভাবে। একই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশেও। সেখানে ১৬টি জেলার ডেমোগ্রাফি বদলে গেছে। জনসংখ্যার নিরিখে বিহারের ৮টি জেলায় মুসলিম আধিক্য বেশি হয়ে গেছে। আর অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যাটা রীতিমতো উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এরাজ্যের ১৪টি জেলায় অনুপ্রবেশের ফলে জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বদলে গেছে। এবং ধীরে ধীরে এই সব এলাকা নানা দেশদ্রোহী  কার্যকলাপের (jihad) আখড়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে।   

    আরও পড়ুন: ভারত সফর শুরুর আগেই মোদির ভূয়সী প্রশংসা হাসিনার গলায়, কেন জানেন?

    বাংলাদেশ লাগোয়া এরাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার বহু গ্রামে এখন মুসলিমদের বাস ৭০ শতাংশ। হিন্দুরা সেখানে মাত্র তিরিশ শতাংশ। গ্রামে বসবাস করলেও অনেক মুসলিমই বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন। সেখানে তৈরি হয়েছে প্রচুর মাদ্রাসা, নার্সিং ও ফার্মা কলেজ। বাংলাদেশ লাগোয়া এই ঝাঁ চকচকে প্রতিষ্ঠানগুলির দিকে তাকালে তাক লেগে যাবে। কোথা থেকে এত টাকা আসছে, তা নিয়ে নজরদারি নেই প্রশাসনের। জানা যাচ্ছে, সীমান্ত লাগোয়া এইসব স্থানে পুলিশ-প্রশাসনেও মুসলিম আধিক্য বেশি। ফলে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রশাসনের একটা গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ উঠছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এমনকি বেশ কিছু মাদ্রাসায় অবৈধ কাজকর্ম চলে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  

    এই সব এলাকা থেকে প্রতি বছর ৫০ জন যুবক সৌদি আরবে ধর্মীয় পাঠ পড়তে যান। বেশিরভাগই ইমাম বা বুখারি হয়ে ফিরে আসেন। এখানে মাদ্রাসায় তাঁরা শিক্ষকতা করেন। প্রচার করেন তাঁদের ভাবনা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে টাকা আসে। টাকা আসে সৌদি আরব থেকে। আবার সরকারের সমস্ত সুযোগ সুবিধাও ভোগ করে এই মাদ্রাসাগুলি। 
    এলাকায় গেলেই বোঝা যাবে, মেয়েদের মধ্যে বিজ্ঞান পড়ার ঝোঁক বাড়লেও, মুসলিম যুবকদের মধ্যে উগ্র মৌলবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। 

    এই উগ্র মৌলবাদী চিন্তাধারা এখানকার অনেক যুবককেই ঠেলে দিচ্ছে দেশদ্রোহিতার পথে। তারা যোগ দিচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে। বিভিন্ন নাশকতার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে তারা। এই মৌলবাদী ভাবধারার পাশাপাশি এক শ্রেণির মুসলিম আটকে আছেন তাঁদের সাবেকি চিন্তাধারা নিয়ে।  অনেক মুসলিমই এখানে দু-তিনটি বিয়ে করেছেন। তাঁদের বহু সন্তান। এক মুসলিম তো বলেই ফেললেন, তাঁদের সমাজে কম সন্তান হওয়া মানে গুণাহ বা অপরাধ। মুসলিম মহিলাদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানাচ্ছেন, এটাই তাঁদের রীতি। ফলে আধুনিক চিন্তাধারা এখানে পৌঁছচ্ছে না। বরং বেশ কিছু মাদ্রাসায় যেভাবে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেভাবেই ধ্যান ধারণা তৈরি হচ্ছে  স্থানীয়দের মধ্যে। এভাবেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা। সাহায্য আসছে আরব সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। নিঃশব্দেই বাড়ছে মুসলিম আধিপত্য। আর ক্রমশ অসহায় হয়ে পড়ছেন সীমান্ত লাগোয়া বসবাসকারী অসংখ্য হিন্দু পরিবার।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share