Tag: bangladeshi muktijoddhas

bangladeshi muktijoddhas

  • Vijay Diwas 2024: ‘‘পড়শিকে উপেক্ষা করতে পারি না’’, একাত্তরের যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য, মত মুক্তিযোদ্ধাদের

    Vijay Diwas 2024: ‘‘পড়শিকে উপেক্ষা করতে পারি না’’, একাত্তরের যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য, মত মুক্তিযোদ্ধাদের

    সুশান্ত দাস, মাধ্যম: ‘‘পরিবার বদলাতে পারি। ইতিহাস বদলাতে পারি। কিন্তু, পড়শিকে (রাষ্ট্র) উপেক্ষা করতে পারি না। একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান উপেক্ষা করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভারতীয় সেনা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা অনস্বীকার্য৷’’ (Vijay Diwas 2024) বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৩তম বর্ষপূর্তিতে ভারতীয় সেনার বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এপার বাংলায় এসে ঠিক এভাবেই দু’দেশের সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্কের হয়ে সওয়াল করলেন ওপার বাংলা থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধারা (Bangladeshi Muktijoddhas)। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের গলায় ধরা পড়ল ‘আক্ষেপের সুর’। কারও কারও মতে, বোধ হয় পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষাদানে তাঁদের কোনও খামতি থেকে গিয়েছিল। তাই হয়ত, এই পরিস্থিতির সম্মুখীন বাংলাদেশ। যদিও, এর সঙ্গেই তাঁদের সংযোজন, ‘বাংলাদেশ ভালো আছে।’

    ভারতের জয়ে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ

    প্রতি বারের মতো এ বছরও বিজয় দিবস (Vijay Diwas 2024) পালন করল ভারতীয় সেনা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ভারতীয় সেনার (1971 War Heroes) কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল প্রায় ৯৩ হাজার পাক সেনা। আত্মসমর্পণপত্রে স্বাক্ষর করেন পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল একে নিয়াজি। আত্মসমর্পণের নথিতে স্বাক্ষর করার সময়, নিজের রিভলভারটি ভারতীয় সেনার তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার হাতে তুলে দেন নিয়াজি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতের এই জয়ের ফলে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ।

    মুক্তিযোদ্ধাদের আসা নিয়ে ছিল সংশয়

    ভারতের সেই ঐতিহাসিক জয় উদযাপন (Vijay Diwas 2024) করতে সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর ফোর্ট উইলিয়ামে (Fort William) বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতি বছর, এই অনুষ্ঠানে নিয়ম করে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযোদ্ধা (Bangladeshi Muktijoddhas) ও সামরিক অফিসারদের প্রতিনিধিদল কলকাতায় আসেন। তবে, বর্তমানে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের আমলে যে হারে সে দেশে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অত্যাচার শুরু হয়েছে, তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। 

    বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির কূটনীতির জোর!

    এই পরিস্থিতিতে, এ বছর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিদল ভারতে আসবে কি না, তা নিয়ে ছিল জোর সংশয়। কিন্তু, অবশেষে ওপার বাংলা থেকে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন ৮ মুক্তিযোদ্ধা সহ ৯ জনের প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি, প্রথা মেনে বাংলাদেশেও গিয়েছে ভারতের প্রতিনিধিদলও। অনেকে বলছেন, ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির কূটনীতির জোরেই এটা সম্ভব হয়েছে। ভারতের দৌত্যের জন্যই এদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের (Bangladeshi Muktijoddhas) পাঠাতে এবং বিজয় দিবসের পরম্পরা বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছে মহম্মদ ইউনূস প্রশাসন। এদিন, বিজয় স্মারকে (Vijay Diwas 2024) পুষ্পস্তবক দান থেকে শুরু করে সামরিক ট্যাটু— সব অনুষ্ঠানেই অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সেদেশের সেনা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ আমিনুর রহমান। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের পক্ষে শহিদ স্মৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম চৌধুরী (অবসরপ্রাপ্ত) এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ আমিনুর রহমান।

    ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য

    সেনাবাহিনীর মাঠে আয়োজিত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত একটি প্রদর্শনী ঘুরে দেখে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। সেদিনকার স্মৃতিবিজড়িত দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন (Vijay Diwas 2024)। পরে ভারতীয় গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তাঁরা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভারতীয় সেনা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা অনস্বীকার্য৷ সেই সময় থেকে ভারতের সঙ্গে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তা আজীবন থাকবে৷ পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট থাকবে৷’’

    পড়শিকে উপেক্ষা করতে পারি না…

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (Bangladeshi Muktijoddhas) কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কাজী সাজ্জাদ আলি জাহির বলেন, ‘‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে চিড় ধরার কোনও জায়গা নেই৷ কারণ, আমরা পরিবার বদলাতে পারি। ইতিহাস বদলাতে পারি। কিন্তু, পড়শিকে উপেক্ষা করতে পারি না৷ এটাই দুই বাংলার বৈশিষ্ট্য৷ একাত্তরে ভারতীয় সেনার (1971 War Heroes) ভূমিকা কোনওভাবেই ভোলার নয়৷ আমরা সেটা সবসময় স্বীকার করি৷’’ সাম্প্রতিক কিছু ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে কাজী সাজ্জাদ আলি বলেন, ‘‘ইতিহাসের অনেক পর্যায় রয়েছে। সম্পর্কের উত্থান-পতন দুটোই ঘটে। পঁচাত্তরের নির্মম গণহত্যার পর একটি সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমরা তা অতিক্রম করতে পেরেছি। বাংলাদেশে অনেক সমস্যা হয়েছে, ভারতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু তারপরেও আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছি। বন্ধুত্বের এই সম্পর্ক স্থায়ী এবং ইতিহাসের ভিত্তিতেই তা টিকে থাকবে।’’

    কোনও খামতি থেকে গিয়েছিল…

    আগত মুক্তিযোদ্ধাদের (Bangladeshi Muktijoddhas) অনেকেই যেমন মনে করেন, দু-একজনের মন্তব্য সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অটুট রয়েছে৷ বর্তমান পরিস্থিতিতেও সম্পর্কে চিড় ধরেনি৷ কাজী সাজ্জাদ আলি বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক দেশে অনেকেই অনেক কিছু বলে। কোনও মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের মাপকাঠি ঠিক করে দেয় না৷’’ তবে, আগত মুক্তিযোদ্ধাদের (Vijay Diwas 2024) কয়েকজনের মুখে ধরা পড়েছে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপের সুর। তাঁদের মতে, বোধ হয় পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষাদানে তাঁদের কোনও খামতি থেকে গিয়েছিল। তাই হয়ত, এই পরিস্থিতির সম্মুখীন বাংলাদেশ। তাঁদের আরও দাবি, হয়তো সঠিক পথে নিজের সন্তানদের পরিচালনা করলে আজ এই দশা দেখতে হত না পদ্মাপাড়ের মানুষকে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Vijay Diwas 2024: সেনার ৫৩তম বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে না বাংলাদেশ?

    Vijay Diwas 2024: সেনার ৫৩তম বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে না বাংলাদেশ?

    সুশান্ত দাস

     

    আশঙ্কা ছিল। এবার তৈরি হল ধোঁয়াশা। প্রতি বছর ’৭১-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন উদযাপন করতে ‘বিজয় দিবস’ (Vijay Diwas 2024) পালন করে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। বিশেষ করে এই দিনটির উদযাপনে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা যায় কলকাতাস্থিত সেনার ইস্টার্ন কমান্ডে (Army Eastern Command)। কারণ, এই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর (1971 Victory Day) ইস্টার্ন কমান্ডের তৎকালীন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সামনে আত্মসমর্পণ করেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল একে নিয়াজি। 

    ভারতীয় সেনার পাক-জয়ের বর্ষপূর্তি

    ভারতীয় সেনার পাক-জয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের স্মরণে প্রতি বছর নিয়ম করে এই দিবস (Vijay Diwas 2024) পালিত হয়ে আসছে। আর এই উৎসবে যোগ দিতে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের (Bangladeshi Muktijoddhas) দল, বাংলাদেশ সেনার পদস্থ কর্তারা এবং তাঁদের পরিবার-পরিজন উপস্থিত হন কলকাতায়। এমনকী, উপস্থিত থাকেন সেদেশের মন্ত্রী থেকে শুরু করে কলকাতাস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার। 

    ‘‘এ বিষয়ে পরে জানানো হবে’’

    কিন্তু, এ বছর ছন্দপতন। কারণ, আগামী ১৬ ডিসেম্বর, ভারতীয় সেনার আয়োজিত বিজয় দিবসের (Vijay Diwas 2024) অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধিদল হয়ত আসছে না। হয়ত, এই শব্দ ব্যবহার করতে হল কারণ, শুক্রবার সেনার তরফে স্পষ্ট করে কিছুই জানানো হয়নি এ বিষয়ে। এদিন কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামস্থিত সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের কর্তা মেজর জেনারেল অফ জেনারেল স্টাফ (এমজিজিএস) মোহিত শেঠকে আসন্ন বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি ছোট্ট উত্তরে বলেন, ‘‘এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।’’ ফলত, সেনার এই কথায় ধোঁয়াশা জিইয়ে থাকল।

    বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল আসবে কি?

    তবে, সেনার অন্য সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বছর বিজয় দিবস (Vijay Diwas 2024) অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনী বা বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা কার্যত নেই। ফোর্ট উইলিয়ামের এক সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও), বিদেশ মন্ত্রক বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এখনও কোনও সবুজ সঙ্কেত আসেনি। কোনও বার্তা আসেনি বাংলাদেশের তরফেও। ফলে, বিষয়টা কার্যত পরিষ্কার যে— ভারতীয় সেনার ৫৩তম বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে না বাংলাদেশ। 

    উপস্থিত না থাকার কারণ?

    উপস্থিত না থাকার কারণ? সেটা আরও পরিষ্কার। ফোর্ট উইলিয়ামের কোনও সেনাকর্তা এ বিষয়ে মুখ না খুললেও, তা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্স জানার প্রয়োজন নেই। কারণটা অবশ্যই, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলা কূটনৈতিক টানাপোড়েন। যার শুরুটা হয়েছিল শেষ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই। পরবর্তীকালে, যা আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন প্রতিবেশি রাষ্ট্রে নির্বিচারে হিন্দু-নিধন ও নিপীড়ন শুরু করে দেয় কট্টরপন্থী ইসলামি মৌলবাদীরা। হামলা চলেছে মন্দিরে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিগ্রহ। লোপাট হচ্ছে গয়না। ভূলুণ্ঠিত হিন্দু মা-বোনেদের আব্রু। যত্রতত্র লুটপাট করা হয়েছে হিন্দুদের সম্পত্তি। নির্বিচারে হত্যালীলা চলেছে। কোথাও জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, যখন হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় দাস প্রভুর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীর মামলা ঠুকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কারণ, তিনি সেদেশে অত্যাচারিত ও দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া হিন্দুদেরকে লড়াইয়ের সাহস জুগিয়েছিলেন। অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য হিন্দুদেরকে আহ্বান করেছিলেন চিন্ময়। ভারতের তরফে তাঁর গ্রেফতারির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করা হয়। 

    বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ বৃদ্ধি

    শুধু সেদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের ওপর মৌলবাদীরা হামলা চালাচ্ছে তাই নয়। পদ্মাপাড়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের ঘটনাতেও অসন্তুষ্ট দিল্লি। সম্প্রতি, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে যে, সেদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে ভারতীয় পতাকা সকলে পায়ে মাড়িয়ে তার ওপর দিয়ে হাঁটছে। আবার, আগরতলা থেকে কলকাতাগামী বাসে হামলা চালাচ্ছে মৌলবাদীরা। বাসে ভারতীয় যাত্রীদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রভাব গিয়ে পড়ে আগরতলায়। হামলার প্রতিক্রিয়ায় আগরতলাস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই-কমিশনের দফতরে বিক্ষোভ দেখাতে উত্তেজিত জনতা (Vijay Diwas 2024)। কয়েকজন ভিতরেও ঢুকে পড়ে। ভারত কিন্তু, এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করলেও, বাসে হামলার ঘটনায় কোনও দুঃখপ্রকাশ করেনি বর্তমানে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকার। এখানে এখন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করছে পাকিস্তান। যাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে একাত্তরে যুদ্ধ (1971 Bangladesh Liberation War) করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল সেদেশের মানুষ। বাংলাদেশের বন্দরে এখন আসছে পাকিস্তানের জাহাজ। ৫৩ বছরে এই প্রথম। কারণ, এই বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নয়। বর্তমানে তারা পুরোটাই চালিত হচ্ছে মৌলবাদী জামাত ও কট্টরপন্থী বিএনপির নির্দেশমতো।

    ভুল বার্তা এড়াতেই কি?

    এই পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থেকে থাকে, তাহলে তা আদ্যান্ত যথার্থ। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের মধ্যে, বিশেষ করে বঙ্গবাসীদের ও বাংলাভাষীদের মধ্যে ওপার বাংলায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ নিয়ে একটা নেতিবাচক ভাবধারা জন্মেছে। অধিকাংশের মনে রাগ, ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সেনার অনুষ্ঠানে (Vijay Diwas 2024) বাংলাদেশের উপস্থিত হলে হয়ত একটা ভুল বার্তা যেত জনমানসে। দেশের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তা বিলক্ষণ জানেন ও বোঝেন যে, দেশবাসীর ভাবাবেগে অবশ্যই আঘাত লাগবে। ফলে, অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তাঁরা যদি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে, তা সমর্থনযোগ্য। 

    দুদেশের কূটনৈতিক যুদ্ধ

    সেনার এক প্রাক্তন কর্তা দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধারা (Bangladeshi Muktijoddhas) বর্তমান বাংলাদেশে আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁরা কেউ আসতে চাইছেন না। বা আসা সম্ভব নয়। এটা আংশিক সত্য হলেও, পুরোটা নয়। কারণ, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যক্তিগতস্তরে আমন্ত্রণ পাঠানো হয় না। যা করা হয়, ভারতের প্রতিরক্ষা ও বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে। ফলত, যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এই মুহূর্তে সৌহার্দ্যের সম্পর্ক কার্যত রসাতলে, যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যুদ্ধ চলছে, তাদের এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর কোনও গ্রহণযোগ্য যুক্তি নেই। যে দেশে ভারতীয় পতাকার অসম্মান হয়, বিজয় দিবসের (Vijay Diwas 2024) উদযাপনে সেই দেশের প্রতিনিধিদলকে এদেশে ডেকে এনে অতিথি আপ্যায়ন করার কোনও প্রয়োজন আছে কি?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Vijay Diwas 2023: ’৭১-এর যুদ্ধজয়ের ৫২ বছর, বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে থাকবেন বাংলাদেশের ৩০ মুক্তিযোদ্ধা

    Vijay Diwas 2023: ’৭১-এর যুদ্ধজয়ের ৫২ বছর, বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে থাকবেন বাংলাদেশের ৩০ মুক্তিযোদ্ধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ভারতের সামরিক ইতিহাসের পাতায় এক সোনালি অধ্যায়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় করে নিজের নাম সামরিক ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করেছিল ভারত। ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা এদিন আত্মসমর্পণ করেছিল ভারতের সামনে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাদ দিলে এটাই বিশ্বে এখনও পর্যন্ত যে কোনও যুদ্ধে সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণের ঘটনা। এদিন জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ (Bangladesh Liberation War)। তাই প্রতি-বছর ঘটা করে এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করা হয় দুই বাংলায়। ১৬ ডিসেম্বর একদিকে যেমন স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপন করে পদ্মা-পারের দেশ। তেমনই, এপারে তা পালিত হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ের দিবস (Vijay Diwas 2023) হিসেবে। 

    শহিদ স্মরণ ও যুদ্ধজয় উদযাপন

    ১৯৭১ সালের যুদ্ধ জয়কে প্রতি বছর উদযাপন করে আসছে ভারতীয় সেনা। এবছর বিজয় দিবস ৫২ বছরে পদার্পণ করল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশ) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল ভারতীয় সেনা। মুক্তিযোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাক-বাহিনীকে পরাস্ত করছিল। সেই যুদ্ধে ভারতীয় সেনার কৌশল ও রণনীতি তৈরি ও পরিচালিত হয়েছিল সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম থেকে (Bangladesh Liberation War) তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে। ’৭১-এর যুদ্ধে যে সকল ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছেন, তাঁদের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাতে এবং যুদ্ধে প্রাণের বলিদান দেওয়া বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করতে ফি-বছর ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের তরফে শ্রদ্ধার্ঘ দেওয়া হয় (Vijay Diwas 2023)। একইসঙ্গে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ও ঘটা করে পালনও করা হয় এই দিনে। 

    আসছেন ৩০ মুক্তিযোদ্ধার প্রতিনিধিদল

    এবছরও তার অন্যথা হচ্ছে না। সেনার পূর্বাঞ্চলীয় দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এবছরও বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহিদ-স্মরণ ও যুদ্ধজয় উদযাপন করা হবে। প্রতি বছরের মতো, এবারও বিজয় দিবসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির বর্ষপূর্তি (Bangladesh Liberation War) পালিত হবে এখানে। এর জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা কলকাতায় আসছেন ভারতীয় সেনার এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে (Vijay Diwas 2023)। এছাড়া আসছেন বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর ৬ জন কর্মরত আধিকারিক। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের ওই প্রতিনিধি দল ১৪ তারিখ কলকাতায় পৌঁছবেন। পরের দু’দিন তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

    একগুচ্ছ অনুষ্ঠান আয়োজনে সেনা

    সেনা জানিয়েছে, বিজয় দিবস (Vijay Diwas 2023) উপলক্ষে বাহিনীর তরফে একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১৫ তারিখ আরসিটিসি মাঠে মিলিটারি ট্যাটু প্রদর্শিত হবে। এখানে বিভিন্ন সামরিক কসরত ও ক্রীড়া আয়োজিত হবে। আকাশে কেরামতি দেখাবে সামরিক কপ্টার। পরের দিন, অর্থাৎ, ১৬ তারিখ সকালে ফোর্ট উইলিয়ামের বিজয় স্মারকে শহিদ বীরদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানানো হবে (Bangladesh Liberation War)। অনুষ্ঠানের পৌরহিত্য করবেন সেনার পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর পি কলিতা। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্তারা। এছাড়া, উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। বিকেলে, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আয়োজিত হবে। 

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share