Tag: basanta Panchami

  • Saraswati Puja 2026: সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের পোশাক কেন পরা হয়? কী এর মাহাত্ম্য?

    Saraswati Puja 2026: সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের পোশাক কেন পরা হয়? কী এর মাহাত্ম্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বসন্ত পঞ্চমী। আজ সরস্বতী পুজো। চারদিকে চলছে বাগদেবীর আরাধনা। সরস্বতী পুজোয় (Saraswati Puja 2026) হলুদ রঙের পোশাক পরার চল রয়েছে। এই দিন কিশোর ছেলেদের হলুদ পাঞ্জাবি ও কিশোরীদের হলুদ শাড়ি পরতে দেখা যায়। তবে ঠিক কোন কারণে হলুদ পরা হয়? সে কারণই আমরা জানব। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে (Saraswati Puja) আরাধিত হন দেবী সরস্বতী। অনেকে মনে করেন, এই দিন থেকেই আগমন ঘটে বসন্ত ঋতুর। তাই একে বসন্ত পঞ্চমীও বলা হয়ে থাকে। সরস্বতী পুজোর সঙ্গে হলুদ রঙের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলেই জানাচ্ছেন শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা।

    হলুদ রঙকে শুভ বলে মানা হয় (Saraswati Puja 2026)

    হলুদ রঙকে শুভ বলে মানা হয়। এতে দেবী সরস্বতী সন্তুষ্ট হন বলেই ভক্তদের বিশ্বাস। মনে করা হয় বসন্ত পঞ্চমী থেকেই শীত ঋতুর অবসান ও বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয়। দেবীকে হলুদ ফুল অর্পণ করা হয়। সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা ভালো বলে মনে করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, হলুদ রঙ জীবনে আনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। ঠিক এই কারণেই মা সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা হয়। অন্যদিকে এর বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। মনে করা হয়, হলুদ রঙ মানসিক চাপ দূর করে মনে গভীর শান্তি আনে। এর পাশাপাশি হলুদ রঙ আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে।

    হলুদ রঙে থাকে পজিটিভ এনার্জি

    সরস্বতী পুজোর সময়ে সর্ষে ফুলে (Saraswati Puja 2026) ছেয়ে যায় চারিদিকে। তাই কেউ কেউ বলেন, হলুদ ফুল দিয়ে ঘর সাজালে পজিটিভ এনার্জি থাকে। একইসঙ্গে হলুদ রঙকে সুখ, আশা, জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও রোদের প্রতীক বলে মানা হয়। বসন্ত ও বন্ধুত্বের রঙও হল হলুদ।

    বাস্তুশাস্ত্র মতেও হলুদ রঙের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে

    বাস্তুশাস্ত্র মতেও হলুদ রঙের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। হলুদ রঙের অর্থ কোনও কিছুর নতুন সূচনা। হলুদ রঙ শুভ ও মঙ্গলদায়ক শক্তির দিকে আমাদের আকর্ষণ করে। হলুদ রঙ আশার রঙ হিসেবেও পরিচিত অনেকের কাছে। একে জীবনের এবং শুভবুদ্ধির রঙ বলে মানা হয়। বসন্তের শুরুতে এই রঙ মনে নতুন আশার সঞ্চার (Saraswati Puja 2026) ঘটায় আবার সুস্বাস্থ্যেরও প্রতীকও হলুদ রঙ।

  • Saraswati Puja 2026: কেন বসন্ত পঞ্চমীতে হয় সরস্বতী পুজো? বাগদেবীর পৌরাণিক গল্পগুলি জানুন

    Saraswati Puja 2026: কেন বসন্ত পঞ্চমীতে হয় সরস্বতী পুজো? বাগদেবীর পৌরাণিক গল্পগুলি জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘ওম জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে… ’’

    আজ বসন্ত পঞ্চমী। ধুমধাম করে ঘরে-ঘরে, স্কুল-কলেজে, পাড়ায়-পাড়ায় পালিত হচ্ছে সরস্বতী পুজো। সকাল থেকেই চলছে বাগদেবীর আরাধনা। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পালা। তবে, সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja 2026) গুরুত্ব বর্তমানে দেবী আরাধনার মধ্যেই আটকে নেই। পুজো পুজো ভাব প্রায় ১ মাস আগেই শুরু হয়ে যায়, বালক বা বালিকারা এইসময় মনে করে সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) দিনই কুল খাওয়া শুরু করতে হয়। এর আগে কুল খেলে পরীক্ষার ফল খারাপ হতে পারে। যেমনটা আমরা সবাই ছেলেবেলায় বা মেয়েবেলায় ভাবতাম। বয়ঃসন্ধিকালে এই পুজোর দিন মনে প্রেমভাব জাগ্রত হয় না এমন কিশোর-কিশোরী খুঁজে পাওয়া যায় না। স্কুল কলেজে আলপনা, চিত্রপ্রদর্শনী, পুষ্পাঞ্জলি, পাত পেড়ে খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণে জমজমাট হয়ে ওঠে সরস্বতী পুজো।

    সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক কাহিনীগুলি…

    গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত‍্যের “নবরত্ন” সভার কথা নিশ্চয় সবাই শুনেছি। এখানে অন‍্যতম শ্রেষ্ঠরত্ন ছিলেন মহাকবি কালিদাস। ঋক বৈদিক যুগ থেকেই সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) প্রচলন শুরু হলেও, দেবী সরস্বতীর পৌরাণিক আখ্যান মূলত কালিদাসের সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু কীভাবে? আসুন জেনে নিই।

    কালীদাস ও সরস্বতী

    প্রথম জীবনে খুবই বোকা ছিলেন কালিদাস। বিভিন্ন কাহিনী অনুযায়ী তিনি থাকতেন উজ্জ্বয়িনীতে শিপ্রা নদীর তীরে। কথিত আছে উজ্জ্বয়িনীর রাজকন্যার কাছে তর্কে পরাস্ত হয়ে তাঁকে জব্দ করতে চাইছিলেন পরাজিত পণ্ডিতদের দল। পণ্ডিতরা ভাবলেন রাজকন্যার সঙ্গে একজন বোকার বিয়ে যেভাবেই হোক দিতে হবে। এতেই জব্দ করা যাবে রাজকন্যাকে।

    পথে যেতে যেতে এক জায়গায় পণ্ডিতরা দেখলেন, একজন লোক একটি গাছের ডালের ডগায় বসে তার গোঁড়ার দিকটা কুড়ুল দিয়ে কাটছে। কিন্তু কাটার পর ডালটা যে তাকে নিয়েই মাটিতে পড়বে, সেটা বোঝার মতো জ্ঞান তার নেই। ইনিই কালিদাস। এরপর কোনওভাবে রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হল লোকটির। চরম প্রতিশোধ নিলেন পণ্ডিতরা। বিছানায় মশারির দরজা খুঁজে না পেয়ে কালিদাস ঝাঁপ দিলেন রাজকন্যার গায়েই। এবার রাজকন্যা বুঝে গেলেন, দেশের পণ্ডিতরা তাঁর সঙ্গে এক নির্ভেজাল বোকার বিয়ে দিয়েছে!

    কালিদাস স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন। মনের জ্বালায় শুরু হল কালিদাসের অনিশ্চিত পথ চলা। চলতে চলতে একটি সরোবরের ধারে এসে বিশ্রাম। ঠিক করলেন, এখানকার জলে ডুবেই প্রাণ বিসর্জন দেবেন। কিন্তু তার আগেই অবাক হয়ে কালিদাস দেখলেন, সরোবরের ঘাটের পাথরের ওপর গর্ত। মেয়েরা জল নিতে এসে ওই পাথরের ওপরেই কলসি রাখে আর তাতেই ক্ষয়ে গেছে কঠিন পাথর। দেখে কালিদাস ভাবলেন, শক্ত পাথর যদি ক্ষয় হতে পারে, তবে তার বুদ্ধি হবে না কেন! ওখানেই শুরু হলো কালিদাসের সরস্বতী তপস্যা। তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja) কালিদাসকে দেখা দিয়ে শ্রেষ্ঠ কবি হবার বর দিলেন। বর পেয়েই সরস্বতীর (Saraswati Puja) বরপুত্র মুখে মুখেই রচনা করে ফেললেন সরস্বতী বন্দনা।

    বীরভূমের নানুরে “সরস্বতী তলা”

    অনেকেই বলেন, তাঁর সাধনস্থল বীরভূম জেলার নানুরের “সরস্বতী তলা।” কেউ বলেন, তাঁর সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের ব‍র্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায় মেদিনীপুরের কাঁথি এলাকার সমুদ্র উপকূল। তাই তিনি মেদিনীপুরের কাঁথির লোক। আরেকটি মতবাদ প্রচলিত আছে, বীরভূম জেলার নানুরের কাছে বেলুটি গ্রামে মহাকবি কালিদাসের আবির্ভাব ও সরস্বতী সাধনায় সিদ্ধিলাভ ঘটে। এখানে আজও রয়েছে কালিদাসের স্মৃতিবিজড়িত “সরস্বতী তলা।”

    আরও পৌরাণিক কাহিনিি

    অপর একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, বসন্ত পঞ্চমীর দিনেই জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছিলেন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা ছিলেন ব্রহ্মা। যখন তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন, তখনই তিনি অনুভব করেছিলেন কোনও কিছু অনুপস্থিত রয়েছে। ধরাধামে শব্দ সঞ্চারের জন্য তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে পৃথিবীতে জল ছিটিয়ে দেন। আর ঠিক সেই সময়তেই পৃথিবী কাঁপিয়ে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja 2026)। দেবীর হাতে ছিল বীণা, জপমালা ও বই। তখনই দেবীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সারাবিশ্ব জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়। তাই বসন্ত পঞ্চমীর দিন সরস্বতীর বিশেষ পুজো করা হয়। বসন্ত পঞ্চমী জীবনের নতুন শুরুর প্রতীক বলে মনে করা হয়। বসন্ত ঋতুতে ফসল পাকতে শুরু করে। হালকা শীতের মনোরম আবহাওয়ায় প্রকৃতি রঙে ভরে ওঠে, চারিদিক রঙিন ফুলে ঢেকে যায়। গাছে গাছে নতুন পাতা, রঙিন ফুল ও ফল ধারণ করে। এই দিনটিকে নতুন জিনিস শুরু করার জন্য শুভ বলে মনে করা হয়।

LinkedIn
Share