মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ। তার জেরেই তৃণমূল কর্মীর ওপর হামলা করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীর লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে, ওই তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বসিরহাটের (Basirhat) ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিশপুর চরপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সিরাজুল মোল্লা।
ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (Basirhat)
সিরাজুলসাহেবের বাড়ি বসিরহাটের (Basirhat) ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিশপুর চরপাড়া এলাকায়। তিনি আবাস যোজনার ঘর পেয়েছিলেন। জমিতে আবাস যোজনার ঘর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। জমিতে বাড়ি করার জন্য ভিত খোঁড়া হয়। এর মধ্যেই সিরাজুল সাহেবের ব্যক্তিগত জমিতে পার্টি অফিস করার জন্য দলীয় পতাকা লাগিয়ে জমি দখলের চেষ্টার করে তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীর লোকজন। অভিযোগ, চলতি মাসের ১৯ তারিখ সিরাজুল সাহেবের ওই জমি দখল করে তাতে পতাকা লাগাতে যায় তৃণমূলের অপর গোষ্ঠী। সেই নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। পতাকা লাগাতে বাধা দেন ওই তৃণমূল কর্মী। অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে সিরাজুলকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালে। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। পরে, সেখান থেকে ওই তৃণমূল কর্মীকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। তবে, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়নি। যদিও, এই ঘটনায় এখনও তৃণমূলের পক্ষ থেকে কেউ মুখ খুলতে চাইনি।
কী বললেন পরিবারের লোকজন?
মৃত তৃণমূল কর্মীর মা নুরুন্নাহার খাতুন ঢালি বলেন, আমাদের নিজের জমিতে জোর করে তৃণমূলের একটা গোষ্ঠী দখল করে পতাকা লাগিয়ে দেয়। ওই জমিতে পার্টি অফিস করার চেষ্টা করছিল তারা। আমার ছেলেও তৃণমূল করে। কিন্তু, জোর করে পার্টি অফিস করার প্রতিবাদ করলে ওকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মৃতের স্ত্রী শাহনাজ বিবি জানান, সরকারি ঘর পেয়েছি। কিন্তু, সেই ঘরে আমাদের আর থাকা হল না। আমার একটি সন্তান রয়েছে, তাঁকে নিয়ে আমি এবার কোথায় যাব? গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বসিরহাট (Basirhat) থানার পুলিশ।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।