Tag: Beijing

Beijing

  • China AI Stocks: চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে মহাধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য

    China AI Stocks: চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে মহাধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় গাড্ডায় চিন! ড্রাগনের দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলির শেয়ারবাজারে (China AI Stocks) ব্যাপক ধস নেমেছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের দর যখন টালমাটাল, তখন চিনের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারগুলির পতন আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দরপতনে চিনের শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য মুছে গিয়েছে। গত চার মাসেরও কম সময়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রধান সূচক স্টার৫০ প্রায় ৪০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা নিয়ে সংশয়, চিনা পণ্যের রফতানিতে বিধিনিষেধ এবং সংস্থাগুলির অত্যধিক মূল্যায়ন—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা টাল খেয়েছে (Market Loss) বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    বিশ্বের দুর্বল শেয়ারবাজারের জন্য এই পতন যথেষ্ট উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের সম্প্রসারণে অর্থ জোগাতে সাধারণ মানুষকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বেজিংয়ের উদ্যোগও ধাক্কা খেয়েছে। গত দু’বছরের ঊর্ধ্বমুখী বাজারের প্রবণতা থমকে গিয়েছে। পুরনো উত্থান-পতনের চক্রের বদলে বাজারকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা চিন সরকার করেছিল, তা-ও বাধার মুখে। দেশের প্রধান বৃহৎ সংস্থাগুলির সূচক সিএসআই৩০০ জুন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নেমে এসেছে।

    বেজিংয়ের বিনিয়োগ তহবিল পরিচালনাকারী ডং বাওঝেনের কথায়, “শেয়ারবাজার এক উন্মত্ত জল্পনানির্ভর ঊর্ধ্বগতিতে পরিণত হয়েছিল। আর এখন আমরা সেই বুদ্‌বুদ ফেটে যেতে দেখছি।”

    নেমেছে নাসডাক সূচক (China AI Stocks)

    চিনের বাজারে এই পতন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গত কয়েক বছরে চিনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের উত্থান পশ্চিমের দেশগুলি এবং এশিয়ার অন্যান্য বাজারকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল। তুলনায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলির শেয়ারে এখনও পর্যন্ত বড় ধাক্কা লাগেনি। তবে তিন সপ্তাহ আগে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছনোর পর নাসডাক সূচক প্রায় ৬ শতাংশ নেমেছে।

    বাজারের লেনদেনকারীদের মতে, চিনের শেয়ারবাজারে এই পতনের পিছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। শেয়ারের অত্যধিক দাম, করের বোঝা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্য দেশগুলির তরফে তথ্যকেন্দ্রে চিনা যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির আশঙ্কা—এই সবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

    গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, চিনের মূল ভূখণ্ডের ‘এ’ শ্রেণির শেয়ার এবং হংকংয়ের ‘এইচ’ শ্রেণির শেয়ার মিলিয়ে বাজারের মোট মূলধনের ৪২ শতাংশ দখল করেছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত সংস্থাগুলি। মোট লেনদেনের ক্ষেত্রেও তাদের অংশ ছিল ৫৭ শতাংশ। চিনের বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বেশি হওয়ায় এই পতনের ধাক্কা এড়ানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে (China AI Stocks)।

    ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পছন্দের সংস্থাগুলির শেয়ারেও ধস

    চিনের রোবট নির্মাতা সংস্থা ইউনিট্রির শেয়ারের দর অগাস্টে বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। সংস্থাটির শেয়ার কেনার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রস্তাবিত শেয়ারের তুলনায় প্রায় আট হাজার গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।

    চিনের চিপ নির্মাতা সংস্থা সিএক্সএমটির বাজারমূল্য গত এক মাসে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমেছে। অন্য দুই চিপ নির্মাতা মেটাএক্স ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস এবং মুর থ্রেডস টেকনোলজির শেয়ার গত বছর বাজারে আত্মপ্রকাশের সময় যথাক্রমে ৭০০ শতাংশ ও ৪০০ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু জুলাই মাসের পর থেকে উভয় সংস্থার শেয়ারের মূল্যও অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।

    দক্ষিণ চিনের হাইনান প্রদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী চেন ওয়েনশেং জানান, সরকারি সমর্থন রয়েছে—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতিতে অংশ নিয়েছিলেন। ইউনিট্রির মতো সংস্থায় সরকারি সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগ তহবিলের অংশগ্রহণ তাঁর আস্থার অন্যতম কারণ ছিল। কিন্তু এখন চেন এবং তাঁর বন্ধুরা বিনিয়োগে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

    হতাশা বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে…

    বেজিংয়ের সমর্থনপুষ্ট একটি বিনিয়োগের প্রবণতা এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। অনেকেই ঝুঁকি কম এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পক্ষে নতুন করে শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে (Market Loss)।

    যন্ত্রাংশ নির্মাতা সংস্থা ঝংজি ইনোলাইট এবং ইওপ্টোলিংক টেকনোলজির শেয়ারের দর জুন ও জুলাই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। এর অন্যতম কারণ, মার্কিন প্রশাসন চিনা সংস্থাগুলিকে আমেরিকার তথ্যকেন্দরে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা থেকে বিরত রাখার পথে এগোচ্ছে। একসময় যে সংস্থাগুলির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল, তারাই এখন অনিশ্চয়তার (China AI Stocks) মুখে।

    পতনের পরেও স্টার৫০ সূচকের সংস্থাগুলির শেয়ার তাদের গত এক বছরের আয়ের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ দামে লেনদেন হচ্ছে। একসময় এই অনুপাত প্রায় ২৫০ গুণে পৌঁছেছিল। তবু তা মার্কিন নাসডাক১০০ সূচকের প্রায় ৩০ গুণ আয়ের অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগে শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে।

    হংকংয়ের লোটাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ও প্রধান বিনিয়োগ আধিকারিক হং হাও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতির ফলে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা বহু সংস্থার পরিকল্পনা থমকে যাবে।”

    ‘সব বুদ্‌বুদই শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়’

    শেয়ারবাজারে এই উন্মত্ত উত্থান এবং পরবর্তী পতন চিন সরকারের বাজারকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঋণনির্ভর বিনিয়োগ এবং অতিদ্রুত লেনদেনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কমানো ও বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল প্রশাসন। বাজারের অতিরিক্ত উত্থান ঠেকাতে সরকারি সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রি করেছিলেন।

    গত সপ্তাহে সংবাদ সংস্থার পাঠানো প্রশ্নের জবাবে চিনের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা চিন সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের গোড়ায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান উ ছিং শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করেন। মূলধনবাজারের উন্নতির উপায় নিয়ে তাঁদের পরামর্শ শোনাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে বিনিয়োগ মহলের একাংশের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাগুলির অতিরিক্ত উত্থান বাজারের কাঠামোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে (China AI Stocks)।

    ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টায় বহু বিনিয়োগকারী…

    বেজিংয়ের কিয়ানচুয়াং ক্যাপিটালের অংশীদার লিও ওয়াং বলেন, “প্রযুক্তিগত গুরুত্বকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া—অর্থাৎ বড় সূচকগুলিতে বাজারমূল্যের নিরিখে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির অংশ বাড়িয়ে তোলা—মূলধনের ব্যবহারে বিচ্যুতি, এমনকি বিকৃতিও তৈরি করে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহ জল্পনামূলক বুদ্‌বুদ তৈরি হয়েছে এবং অন্য ক্ষেত্রগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ মূলধন সরে গিয়েছে।”

    তবে কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই পতন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাঁদের যুক্তি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাজারের সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আয়, বিশেষত নিয়মিত আয়ের সুযোগ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার পক্ষে এই পতন অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর নয়।

    এইচএসবিসির গবেষণা অনুযায়ী, গত তিন মাসে চিনা শেয়ার বিক্রি করলেও এশিয়ার বিনিয়োগ তহবিলগুলির বড় অংশ এখনও চিনের বাজারে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ ধরে রেখেছে।

    চলতি মাসের গোড়ায় প্রকাশিত নতুন সুপারিশের তালিকায় গোল্ডম্যান স্যাকস চিনের কয়েক ডজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত সংস্থার মধ্যে ইনোলাইট এবং সিএক্সএমটিকে রেখেছে। অন্যদিকে, বিএনপি পারিবাস সিকিউরিটিজের কৌশলবিদ উইলিয়াম ব্র্যাটন মনে করেন, সতর্ক বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বাজারে শেয়ার কেনার সুযোগ রয়েছে (China AI Stocks)।

    অন্য শিল্পক্ষেত্রে নজর বিনিয়োগকারীদের

    তবু চিনের মূল ভূখণ্ডের বহু বিনিয়োগকারী এখন অন্য শিল্পক্ষেত্রের দিকে নজর দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার শেয়ারের দাম আরও কমার অপেক্ষা করছেন।

    সাংহাইয়ের ঝুওঝু ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের অংশীদার ও তহবিল পরিচালনাকারী ওয়াং ঝুও বলেন, “চিনের অন্যান্য উৎপাদনকারী সংস্থার মতো চিপ নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও শেষ পর্যন্ত মূল্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে (Market Loss)।” তিনি আরও বলেন, “এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। সব বুদ্‌বুদই শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে চিনের শেয়ারবাজারে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। অতিরিক্ত মূল্যায়ন কাটিয়ে ওঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই (China AI Stocks) আপাতত বাজারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

     

  • India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেজিংয়ে দু’দিনের সফরে গিয়ে মঙ্গলবার চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA Ajit Doval) অজিত ডোভাল। বৈঠকে ভারত-চিন (India China Talks) সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

    ডোভালের চিন সফর (India China Talks)

    ডোভালের চিন সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠক। মঙ্গলবারই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সেই বৈঠকে বসার কথা ডোভালের। সীমান্ত-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ২৫ অগাস্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা

    সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা ২০০৩ সালে গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য হল ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। এর আগে ২০২৫ সালের অগাস্টে ২৪তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা হয়েছিল (NSA Ajit Doval)। এবারের বৈঠকও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এবারের আলোচনায় সীমান্ত প্রশ্নের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা।

    “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” আলোচনা

    ডোভাল ও ওয়াং ই-র মধ্যে এর আগে জুন মাসে নয়াদিল্লিতে সাক্ষাৎ হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে পার্শ্ববৈঠকে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক দুই পক্ষের আলোচনাকে “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” বলে বর্ণনা করেছিল। তখন সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য ছিল, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (India China Talks)। ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছিল। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক দফায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি দেখা যায়।

    মোদি-জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক

    এর পর ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি এবং অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় (NSA Ajit Doval)। ওই বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল সহযোগিতা শুধু দুই দেশের উন্নয়নের জন্যই নয়, বহুমেরু বিশ্ব এবং বহুমেরু এশিয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডোভালের বেজিং সফরের গুরুত্ব

    অজিত ডোভালের এবারের বেজিং সফর সেই বৃহত্তর সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, তেমনই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে আস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ফলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানোই আপাতত নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য (India China Talks)।আগামী দিনের ভারত-চিন সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হবে, তার ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, সামরিক উত্তেজনা এড়ানো এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্ব অনেকটাই নির্ভর করছে। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র ২৫তম দফার বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে (NSA Ajit Doval) আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ (India China Talks)।

     

  • Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সরকারি সফরে চিনে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh PM) বিএনপির তারেক রহমান। সোমবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ (Teesta Project Talks) ফ্লাইট চিনের দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    তারেকের কর্মসূচি (Bangladesh PM)

    এই সফরে তারেক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স (সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬)-এ অংশ নেবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সফরের মধ্যেই বেজিংয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ২৪ জুন তিনি বৈঠক করবেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। পরে দ্রুতগতির ট্রেনে তিনি যাবেন দালিয়ান থেকে বেজিংয়ে। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, বাংলাদেশের নয়া সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বহুমাত্রিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সমন্বয় জোরদার করার সুযোগ হিসেবে চিন এই সফরকে দেখছে (Bangladesh PM)।

    ভারতের নজর

    এদিকে, তারেকের এই সফরে তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে কোনও অগ্রগতি বা ঘোষণা করা হয় কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখছে ভারত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না (POWERCHINA) তিস্তা যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (Teesta Comprehensive Management and Restoration Project) মউয়ের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি করে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হল, তিস্তা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন বাঁধ নির্মাণ ও পুরোনো বাঁধ সংস্কার, খনন করা মাটি ব্যবহার করে জমি পুনরুদ্ধার এবং শুখা মরশুমে জল সংরক্ষণের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা (Bangladesh PM)। এই প্রকল্পে চিন যুক্ত হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছে ভারত। কারণ তিস্তা অববাহিকার অবস্থান ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেকে’র কাছেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই এলাকায় চিনের প্রভাব বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে নয়া উদ্বেগ তৈরি (Teesta Project Talks) হতে পারে।

    ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্স’

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশে চিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। চিনের দাবি, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা গভীর হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণের জন্যই ইতিবাচক ফল নিয়ে আসছে। এই সফরে বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সমঝোতা সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য আর্থিক সাহায্য নিয়ে আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ঢাকা চিনকে প্রযুক্তি, শিল্প বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অর্থায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশ-চিন সম্পর্কের ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্সে’ প্রবেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    এদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারত সফরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। ওই সূত্রের বক্তব্য, কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বর্তমানে সেই পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হয়নি (Teesta Project Talks)। যদিও বাংলাদেশ মনে করে, ভারত ও চিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনওভাবেই ‘জিরো-সাম গেম’ নয়, বরং (Bangladesh PM) উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা।

     

  • Tiananmen Square: তিয়ানানমেন স্কোয়ারে কী ঘটেছিল? ৩৭ বছর পরেও কেন ১৯৮৯-এর সেই গণহত্যাকে ভয় পায় চিন?

    Tiananmen Square: তিয়ানানমেন স্কোয়ারে কী ঘটেছিল? ৩৭ বছর পরেও কেন ১৯৮৯-এর সেই গণহত্যাকে ভয় পায় চিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্রের নিজস্ব কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু একনায়কতন্ত্রের চেয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনেক ভালো। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার জন্য বহু দেশের মানুষ প্রতিবাদ করেছে, লড়াই করেছে, এমনকি প্রাণও দিয়েছে। ১৯৮৯ সালে চিনে এমনই একটি সাহসী কিন্তু ব্যর্থ আন্দোলন ঘটেছিল। ৪ঠা জুন তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যার ৩৭ বছর পূর্ণ হলো, যাকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP) হালকা করে দেখায় এবং এটিকে ‘৪ঠা জুনের ঘটনা’ বলে অভিহিত করে। তিয়ানানমেন স্কোয়ারের (Tiananmen Square) প্রতিবাদ ১৯৮৯ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল এবং ৩রা ও ৪ঠা জুন ১৯৮৯-এর মধ্যে একটি হিংসাত্মক সামরিক দমনপীড়নের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। অন্তর্নিহিত ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও, চিনে আর কখনো এই ধরনের ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দেখা যায়নি। যেহেতু সিসিপি (CCP) চিনকে একটি কমিউনিস্ট ইউটোপিয়া (আদর্শ রাষ্ট্র) হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তাই চিনের ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়টি মনে রাখা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

    তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদ: গণতন্ত্রের সন্ধানে

    ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং গৃহযুদ্ধে জয়ী হয়ে ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ প্রতিষ্ঠা করার পর রিপাবলিকান নেতা চিয়াং কাই-শেক তাইওয়ানে চলে যান। এরপর থেকে চিন কখনো গণতন্ত্র দেখেনি। চিনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র বড় প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালের এপ্রিলে।

    ১৯৮৯ সালের ১৫ই এপ্রিল কমিউনিস্ট পার্টির সংস্কারপন্থী প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হু ইয়াওবাং-এর মৃত্যুর পর এই গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তাকে ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখা হতো। বেজিংয়ের তিয়ানানমেন স্কোয়ারে বিপুল সংখ্যায় শোকগ্রস্ত মানুষ সমবেত হন। এই সমাবেশ শীঘ্রই মুদ্রাস্ফীতি, দুর্নীতি, সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে এবং বাক-স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সহ রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে একটি ব্যাপক প্রতিবাদের রূপ নেয়।

    যখন হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিয়ানানমেন স্কোয়ারে জড়ো হয়েছিল, তখন সিসিপি-র মুখপত্র ‘পিপলস ডেইলি’ এই প্রতিবাদকে “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত” বলে আখ্যায়িত করে।

    ১৯৮৯ সালের মে মাসের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ছাত্র স্কোয়ার সমবেত হন এবং ১৩ই মে থেকে অনশন শুরু হয়। আন্দোলনকারী ছাত্ররা বিপুল জনসমর্থন পান এবং শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকরাও শীঘ্রই তাদের সাথে যোগ দেন। ঝাও জিয়াং-এর মতো মধ্যপন্থী নেতারা আন্দোলনকারীদের কাছে গিয়ে সহানুভূতি জানালেও, শেষ পর্যন্ত শীর্ষ নেতা ডেং জিয়াও পিং এবং চিনের প্রিমিয়ার লি পেং-এর সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

    সামরিক আইন ঘোষণা এবং কুখ্যাত তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যা

    ডেং জিয়াও পিং এবং অন্যান্য কমিউনিস্ট পার্টি নেতারা তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদকে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন।

    তিয়ানানমেন প্রতিবাদ দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায়, স্টেট কাউন্সিল ২০শে মে সামরিক আইন (Martial Law) ঘোষণা করে এবং বেজিংয়ের রাস্তায় ৩,০০,০০০-এরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করে। চিনের প্রিমিয়ার লি পেং আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামরিক আইন ঘোষণা করেছিলেন।

    সৈন্যরা বেজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ১৯৮৯ সালের ৪ঠা জুনের ভোররাতে রাজধানী শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র এই সৈন্যরা প্রদর্শনকারী ছাত্র এবং সাধারণ নাগরিক উভয়কেই হত্যা করে। চিনা সেনারা এমনকি পথচারী বা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষদেরও রেহাই দেয়নি।

    যদিও চিনা সরকারি পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে যে, এই ক্র্যাকডাউনে পিএলএ সেনাসহ মাত্র ২০০-৩০০ জন মারা গেছে, তবে স্বতন্ত্র সূত্রগুলোর অনুমান অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১০,০০০-এরও বেশি। সিসিপি তাদের সিংহাসনের প্রতি এই হুমকিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষকে আহত বা গ্রেফতার করা হয়েছিল। আর এই আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল রাজনৈতিক নেতা ঝাও জিয়াংকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং গৃহবন্দী করে রাখা হয়।

    রাজনীতি সংবাদ বিশ্লেষণ, ইনস্যুরেন্স, সোশ্যাল মিডিয়া নিউজ

    তিয়ানানমেন স্কোয়ারের গণহত্যা ছিল চিনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট; সিসিপি নিশ্চিত করেছিল যে রাজনৈতিক উদারীকরণ যেন থমকে যায়। এরপর সিসিপি সরকার এমন অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করে, যাকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে আসলে সেটা এই গণহত্যাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এবং অর্থনৈতিক উন্নতির চাকচিক্যে গা ভাসিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। হাতের কাছে থাকা প্রতিটি কৌশল ব্যবহার করে সিসিপি তিয়ানানমেন গণহত্যার ইতিহাস মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।

    গত কয়েক বছর ধরে সিসিপি একটি কাল্পনিক আখ্যান তৈরি করার চেষ্টা করছে যে, আন্দোলনকারী ছাত্ররা ছিল মার্কিনপন্থী এবং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কাজ করছিল। কমিউনিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে এই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে যে, তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘শাসনবদল অভিযান’ (regime change operation), যা তারা শক্ত হাতে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

    ১৯৮৯ সালে যখন চিনা কমরেডরা ছাত্রদের হত্যা করছিল, তখন ভারতের কমিউনিস্টরা নীরব

    ভারতের কমিউনিস্টরা বিশ্বজুড়ে থাকা কমিউনিস্ট শাসনগুলোর প্রতি, বিশেষ করে চিনের প্রতি গভীর আনুগত্য পোষণ করে। ভারতের কমিউনিস্ট নেতারা চিনকে একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করেন। সম্ভবত এই মোহগ্রস্ততার কারণেই ভারতের কমিউনিস্টরা ১৯৮৯ সালের তিয়ানানমেন গণহত্যার নিন্দা না করে এক সুবিধাজনক নীরবতা বেছে নিয়েছিল।

    দুই বছরের লজ্জাজনক নীরবতার পর, ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে সিপিআই(এম) মাদ্রাজের ১৪তম কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সেখানে তারা তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রগতিশীল আন্দোলনকে “সফলভাবে” দমন করার জন্য তারা সিসিপি-র প্রশংসা করেছিল। সিপিআই(এম) তিয়ানানমেন প্রতিবাদ এবং গণহত্যাকে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে খারিজ করে দেয় এবং আন্দোলনকারীদের ‘উচ্ছৃঙ্খল’ বা ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ বলে অভিহিত করে।

    নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির (JNU) কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠনগুলো তিয়ানানমেন স্কোয়ারে প্রতিবাদকারী চিনা ছাত্রদের ‘সিআইএ-র দালাল’ (CIA lackeys), ‘কিশোর অপরাধী’ (juvenile delinquents) এবং ‘বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীল’ (bourgeois reactionaries) বলে ডাকত।

    সিসিপি দেশের ভেতরে তিয়ানানমেন ঘটনার তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলা নিশ্চিত করেছে, অনলাইনে ও অফলাইনে যেকোনো আলোচনা, স্মরণসভা বা পরোক্ষ উল্লেখ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে। সিসিপি এমনকি তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যার কোনো প্যাটার্ন বা পরোক্ষ উল্লেখ খোঁজার জন্য এআই (AI) টুল ব্যবহার করে। ইন্টারনেট ফায়ারওয়াল, পরিমার্জিত স্কুলের পাঠ্যক্রম এবং মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে চিনের তরুণ প্রজন্ম ১৯৮৯ সালের গণহত্যা সম্পর্কে খুব কমই জানে বা কিছুই জানে না। শোকগ্রস্ত মানুষ, কর্মী, শহীদদের পরিবার—সবাইকে কয়েক দশক পরেও তিয়ানানমেন স্কোয়ারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বললে হয়রানি ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়।

    ২০২১ সালে, চিনের ইনস্টাগ্রামের মতো একটি স্টার্টআপ ‘শিয়াওহংশু’ (Xiaohongshu), ১৯৮৯ সালের তিয়ানানমেন স্কোয়ার ক্র্যাকডাউনের বার্ষিকী ৪ঠা জুনে একটি পোস্ট শেয়ার করে লিখেছিল, “জোরে বলো, আজ কত তারিখ?” পোস্টটি খুব দ্রুত নামিয়ে নেওয়া হয় এবং কোম্পানিটিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। চিনে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। কমিউনিস্ট শাসন তিয়ানানমেন প্রতিবাদকে তাদের ক্ষমতার জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখেছিল এবং তিন দশক পরেও তারা ১৯৮৯ সালের গণহত্যার সত্য ও স্মৃতিকে তাদের ক্ষমতার জন্য একটি হুমকি হিসেবেই দেখে চলেছে।

LinkedIn
Share