Tag: Bengal Assembly Polls

  • ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন (Bengal Polls 2026) করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই জন্যই কোনওরকম অভাব-অভিযোগ এড়িয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল কমিশন। জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (Complaint Redressal Cell)। এই সেল যে খোলা হবে, তা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।

    ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (ECI)

    কমিশন সূত্রে খবর, সেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেলে প্রয়োজন ৯জন আধিকারিকের। যদিও আপাতত কমিশনের তিন আধিকারিক এবং ছ’জন মাইক্রো অবজারভার এই কাজ করবেন। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রায় কয়েক লাখ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হয়। সেই জন্যই নবান্নের কাছে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আধিকারিক চেয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কমিশন। আপাতত অভিযোগ জানানো যাবে ১৯৫০-এই টোল ফ্রি নম্বরে। অভিযোগ জানানোর আট ঘণ্টার মধ্যেই তার নিষ্পত্তি করা হবে। এই নম্বরের পাশাপাশি কমিশনের ই-মেইল আইডি-ও জানিয়ে দেওয়া হবে আমজনতাকে। কোনও বুথ এলাকার কোথাও যদি কোনও ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় কিংবা ভয় দেখানো হয়, তাহলে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কমিশন।

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    এদিকে, যে ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল, তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজারের। নয়া যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হবে, সেখানে থাকবে অ্যাডিশন এবং ডিলিশন। অ্যাডিশনে থাকবে যাঁদের নাম উঠবে, আর ডিলিশনে থাকবে তাঁদের নাম, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে (ECI)। এদিকে, বুধবারের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন সব অবজারভার। এঁদের মধ্যে সাধারণ অবজারভার ২৯৪ জন, পুলিশ অবজারভার ৮৪ জন, এক্সপেন্ডিচার অবজারভার ১০০ জন। নির্ধারিত এলাকায় কাজও শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, বঙ্গে দু’দফায় হবে বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ। প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল, সেদিন ভোট হবে রাজ্যের ১৬টি জেলায়। শীঘ্রই ওই জেলাগুলি সফর করবেন (Free and Fare Polls) মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জেলাওয়াড়ি ভোটের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে, সেটাই খতিয়ে দেখবেন তিনি (ECI)।

     

  • West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ মার্চ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল। আর এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন দিকে শাসকদলের অন্দরে শুধু হয়েছে চাপানউতোর। কারও অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি হয়েছে। কেউ বলছেন, দল তাঁকে ব‍্যবহার করে তেজপাতা করে দিয়েছে। কেউ টিকিট না পেয়ে ‘তৃণমূল হারবে’ বলে দলকে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন। কেউ আবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে ছাড়লেন দল! সব মিলিয়ে প্রার্থীতালিকা নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় তৃণমূল।

    তমলুকে ইস্তফা সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীর

    দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী শিবানী দে কুণ্ডু। নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও তিনি। তমলুক সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীও তিনি। মঙ্গলবার রাতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিবানী দে কুণ্ডুর দাবি, জেলায় মহিলা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই কারণেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, মহিলাদের ৫০% আসন সংরক্ষণের কথা দল বললেও কার্যক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। এই কারণেই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিবানী। বুধবারেই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন বলেও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

    আরাবুল-শওকত নিয়ে ভাঙড়-ক্যানিংয়ে অস্বস্তি তৃণমূলে

    আবার ভোটের মুখে গরম ভাঙড়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়ে দল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম। তাঁর নিশানায় মমতা, ফিরহাদ, শওকত। দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ আরাবুলের। দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাইজার-ও। সব মিলিয়ে ভাঙড়ে তৃণমূলের অস্তিত্বের সঙ্কট! ক্যানিং পূর্বের বদলে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সওকত মোল্লাকে। যা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা চৌমাথা বাজারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ তৃণমূলের। তাঁদের দাবি, ক্যানিং পূর্বে শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করতে হবে। টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী আমডাঙার ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান। আমডাঙা-কাঁকিনাড়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ তাঁর অনুগামীদের।

    খণ্ডঘোষে গণ-ইস্তফা, মন্তেশ্বরে বোমাবাজি, মিনাখাঁয় আগুন

    প্রার্থী ঘোষণা হতেই মঙ্গলবার প্রকাশ্যে খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বরের তৃণমূল নেতৃত্বের ঝামেলা৷ একদিনে মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে চলল বোমাবাজি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে হয় । ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে, খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নবীন বাগের নাম ঘোষণার পরেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে দলের অন্দরে। নেতা কর্মীদের একাংশ সাফ হুঁশিয়ারি দেন, প্রার্থী বদল না হলে খণ্ডঘোষের ব্লক সভাপতি, একাধিক অঞ্চল সভাপতি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা দলের পদ ছেড়ে নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় থাকবেন৷ যার জেরে এদিন রাত পর্যন্ত সরগরম খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বর বিধানসভা এলাকা। মিনাখাঁয় ঊষারানি মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে দল। প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই সেখানে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের একাংশের। হাড়োয়ায় রোড অবরোধ। বাঁশ-লাঠি দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ। ঘটনায় জখম তৃণমূলের ২ কর্মী। জখম তৃণমূল কর্মীরা হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি।

    “আমি কি চাকর নাকি”, টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী বিধায়ক

    প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতে না হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল। বিপ্রদাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিপ্রদাসপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং তাঁর অনুগামীরাই। ভোটের মুখে শাসকদলের এই প্রকাশ্য কোন্দল ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উপপ্রধানের অভিযোগ, বর্তমান বিধায়ক তথা প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা এই হামলা চালিয়েছেন। টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ চুঁচুড়ার তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদার। প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘আমরা তো চুনোপুটি লোক, তাহলে আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলবে?’ ‘আমি মনে করেছি খামতি নেই, ওরা মনে করেছে আমার খামতি আছে। না হলে তিনবার আমাকে দিল এবার দিল না কেন? দলের লোকের আমাকে ভালোবাসে, ওদের মন ভেঙে গেছে। ধন্যবাদ জানালাম দলকে।’ অসিত বলেন, “রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।” এরপরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “দল কাজ করতে বললে কী করবেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “দল কাজ করতে বললেই করতে হবে নাকি, আমি কি চাকর নাকি?”

    “এবার তৃণমূল হারবে”, টিকিট না পেয়ে হুঁশিয়ারি বিধায়কের

    জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ আসনে পরপর চারবার জয়ী হওয়ার পরেও বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে ছাব্বিশের ভোটে প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হল এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মনকে৷ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন খগেশ্বর। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি। বিদায়ী বিধায়ক বলেন, “আমার প্রতি যে অবিচার হল, তার জন্য দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। রাজগঞ্জ আসন এবার তৃণমূল হারবে। এখানে দলের ভিত আমি তৈরি করেছি। অন্য দলে যাব কি না তা এখনও চিন্তা করিনি। তবে দলকে চিঠি পাঠালাম। দেখি দল কী সিদ্ধান্ত জানায়।” তাঁর আক্ষেপ, “টাকার কাছে হেরে গেলাম!” প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি ‘বহিরাগত’ বা ‘অরাজনৈতিক’ প্রার্থী হঠানোর স্লোগানও ওঠে।

  • West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “এখানে বেড়াতে আসেননি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। কাজ ঠিকমতো না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে রাজ্যের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, “বাংলায় ভোটের যে কালচার ছিল, এবার তার পরিবর্তন হবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলায় ভোট মানেই হিংসার অভিযোগ—এবার সেই সংস্কৃতি বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কমিশন।

    দু’দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত

    সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর সিইও জানান, দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় নির্বাচন হবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    • ● প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল — ১৫২টি আসন
    • ● দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল — ১৪২টি আসন
    • ● ভোটগণনা: ৪ মে
    • ● সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ: ৬ মে

    আসনসংখ্যা ও সংরক্ষণ

    পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এর মধ্যে—

    • ● ৬৮টি এসসি (তফশিলি জাতি)
    • ● ১৬টি এসটি (তফশিলি উপজাতি) আসন সংরক্ষিত

    কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা

    কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৫৫টি ক্রিটিক্যাল বুথ চিহ্নিত হয়েছে। স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর বুথের তালিকা এখনও প্রস্তুত হচ্ছে, ফলে সংখ্যা বাড়তে পারে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের। প্রতি দফায় ভোট করাতে কত করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, তারও আভাস দিলেন মনোজ। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও তুলে ধরেন তিনি। সেই বিষয়ে জানাতে গিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি গুরুত্বের কথা বলেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিআরপিএফ ঠিক ভাবে কাজ করবে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।’’ কমিশন জানিয়েছে, বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেক্টর অফিসে জানাবে। তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করবে। বুথের মধ্যে যে কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই। সিইও বলেন, ‘‘সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোট করাতে হবে সকলকে। দায়িত্বে গাফিলতি হলে পদক্ষেপ করা হবে।’’ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—

    • ● প্রতিটি দফায় ২২০০–২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা
    • ● প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং
    • ● প্রয়োজনে ড্রোন নজরদারি
    • ● ২৯৪টি আসনে ২৯৪ জন পর্যবেক্ষক
    • ● পুলিশ প্রশাসনের ওপর কড়া নজর

    মনোজ জানান, প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং থাকবে, যা তিনটি আলাদা কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। কোনও বুথের ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে, সেই ক্ষেত্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করা হবে। এছাড়া, রাজ্যের ২৮টি পুলিশ জেলা ও ৬টি পুলিশ কমিশনারেটে দুজন করে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। কলকাতায় ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ

    থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র বা বোমা মজুত থাকলে ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ভোট চলাকালীন বা ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্য পুলিশকেই জবাবদিহি করতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। সিইও সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ধরা পড়লে সংবিধানের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করা হবে।

    ভোট প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যোগ

    স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—

    • ● প্রতিটি ইভিএমে থাকবে প্রার্থীদের রঙিন ছবি
    • ● ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশন দেবে
    • ● বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ পৌঁছে দেবেন
    • ● এই স্লিপে থাকবে ভোটারের নাম, বুথের বিবরণ ও পার্ট নম্বর।

    ভোটার তালিকা ও বিশেষ উদ্যোগ

    ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিচারাধীন ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে। এই কাজে রাজ্যজুড়ে ৭০৫ জন বিচারপতি নিযুক্ত রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১.৫-২ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

    বয়স্ক ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    • ● ৮৫ বছরের ঊর্ধ্ব ভোটারদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা (ওলা/উবারের সঙ্গে আলোচনা)
    • ● বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট
    • ● রাজ্যে ১০০ বছরের বেশি ভোটার: ৬,৬৫৩ জন

    মনোজ বলেন, ‘‘ভোটার ইনফর্মেশন স্লিপে কিউআর কোড থাকবে। এর আগে রাজনৈতিকদল ওই স্লিপ দিত। এ বার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন।’’ ৮৫ বা তার বেশি বয়সি ভোটারেরা বাড়ি থেকে ভোটদান করতে পারবেন। সিইও বলেন, ‘‘ওই ভোটারেরা বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট দিতে পারবেন। বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভোট নিয়ে আসা হবে।’’

  • Bengal Assembly Polls: ১ মার্চ রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ, বাংলায় ভোট কবে?

    Bengal Assembly Polls: ১ মার্চ রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ, বাংলায় ভোট কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি, এমনই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তারপরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly elections 2026) দামামা বেজে যাবে। আগামী ১ মার্চ দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছে নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই)-র পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার (Bengal Assembly Polls) তালিকা প্রকাশের পরদিনই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও), পশ্চিমবঙ্গ মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের বৈঠকে এই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

    মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা

    সিইও দফতরের এক সূত্র জানিয়েছে, কলকাতায় পৌঁছে কমিশনের (Election Commission Of India) সদস্যরা সিইও-র পাশাপাশি অতিরিক্ত সিইও, যুগ্ম সিইও, ডেপুটি সিইও এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসআইআর-পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই হবে এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। এর পরপরই রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে বলে সূত্রের খবর। সিইও দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “নয়াদিল্লির বৈঠকে কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে যে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।”

    কত দফায় ভোটগ্রহণ রাজ্যে

    বৈঠকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কত দফায় ভোটগ্রহণ (Bengal Assembly Polls) হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, সিইও একদফায় নির্বাচন করার পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন এবং জানিয়েছেন যে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা গেলে রাজ্য প্রশাসন একদফা ভোটের জন্য প্রস্তুত। যদিও কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে তিন দফার বেশি ভোট হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে শেষ একদফা বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০০১ সালে। এরপর লোকসভা ও বিধানসভা—উভয় ক্ষেত্রেই ছয় থেকে আট দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। সিইও দফতরের মতে, একদফা ভোটের ক্ষেত্রে যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনই রয়েছে চ্যালেঞ্জও। একদফা ভোট হলে বিভিন্ন এলাকা থেকে সমর্থক জড়ো করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ কমতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলি তাদের সমর্থকদের এক পকেট থেকে অন্য পকেট পর্যন্ত একত্রিত করতে পারবে না এবং এর ফলে ভোটের দিন বা তার আগের দিন বহিরাগতদের একত্রিত করতে পারবে না। তবে একই দিনে গোটা রাজ্যে ভোট করতে গেলে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। কমিশন সেই ব্যবস্থা করতে পারলে একদফা নির্বাচন বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলেই মত প্রশাসনিক সূত্রের।

LinkedIn
Share