Tag: Bengal Cabinet

  • Suvendu on Recruitment: চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার চাকরির ঘোষণা শুভেন্দুর! বোনাস পাবেন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরাও

    Suvendu on Recruitment: চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার চাকরির ঘোষণা শুভেন্দুর! বোনাস পাবেন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষের শুরুতেই সুখবর। বুধবার, চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Recruitment)। একই সঙ্গে পুজোর জন্য বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘এটাই তো আসল পরিবর্তন। রাজ্যএ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল। ’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভা। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মন্ত্রিসভার বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের প্রশংসা করার পাশাপাশি রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান এবং চা-শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বোনাস ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ

    শুভেন্দু জানান, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ ২৫ বছরের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ইংরাজি এবং বাংলায় এই প্রস্তাব প্রধামন্ত্রীর দফতরে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া থেকে শুরু করে শান্তিনিকেতনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেওয়ার কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম, ইসকন থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার কথাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সব স্কুল ও মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তা চালুও হয়ে গিয়েছে। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ বড় ভূমিকা নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    রাজ্যে কোথায় কত নিয়োগ

    কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এদিন বড়সড় ঘোষণা করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা (Bengal Cabinet)। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোট ৪৫ হাজার ১৮৫টি নতুন শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষা দফতরেই নিয়োগ হবেন ৩৩ হাজার ১৯৯ জন। প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, সহকারী শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুভেন্দুর ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুলেই সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হচ্ছে। ৩৩,১৯১ জনের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (প্রাইমারি) ৪৪৩২ জন, আপার প্রাইমারিতে ৬০৫২ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার ১২,৩৪৩ জন, ফার্স্ট গ্রেড টিচার ১০৩২ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (পিজি) ২৩ জন, এবং ৪,৩৯৪ জন হেডমাস্টার নিয়োগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে ৭ হাজার ১১৯ জন, পুলিশে ৯৯৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতরে ১ হাজার ৮৮৬ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। অর্থ দফতর এই পদগুলিতে ছাড়পত্র দিয়েছে এবং নিয়ম মেনে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কবে শুরু হবে নিয়োগ-প্রক্রিয়া

    নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার কথা বলা হলেও, কোন পদে কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে, আবেদন করার যোগ্যতা কী হবে এবং পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি কী—সেই বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট দফতরের সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মহালয়াতেই রাজ্যের ১১ হাজার পুলিশ কনস্টেবলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, নভেম্বরের শেষে আরও ৯ হাজার চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরই মধ্যে ৪৫ হাজার চাকরি নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন তিনি।

    চা-শ্রমিকদের জন্য বোনাসের ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগানগুলির শ্রমিকদের মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে রাজ্য। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা ২১ টি চা-বাগানের ১৯ হাজার ৫২৪ জন শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে পুজো বোনাস দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন হল শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন। বেতন বা বোনাস পাওয়ার প্রশ্নই নেই। আর তাই বন্ধ চা শ্রমিকদের জন্য মানবিক সরকারের ছোট্ট প্রয়াস।’’ যাঁদের বয়স ৬০ ছরের নীচে, মূলত তাঁরাই শ্রম দফতরের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাবেন। পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমে দুর্গাপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত সাধারণ রেশনের ৩৫ কেজি চালের সঙ্গে এই পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত 50 কেজি করে চাল দেওয়া হবে। চা-শ্রমিকদের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পেও ছাড়পত্র মিলেছে বলে নবান্ন জানিয়েছে।

    পুজো থেকে ফুটবল

    রাজ্যের দুর্গাপুজো নিয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর রাজ্যে ৪৫ হাজার পুজো হলেও এ বছর তা বেড়ে ৫৮ হাজার হয়েছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে আরও ৮০০টি ক্লাবকে পুজোর অনুমতি ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সমাজকে ‘অপমান’ করার অভিযোগে কড়া আইনি ব্যবস্থার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি ওসব ভয়টয় করার লোক নই। সিপিএমের সূর্য যখন মধ্যগগনে তখন আমি লক্ষণ শেঠকে হারিয়েছি। আমি দু’বার মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়েছি ওর বাড়িতে এসে।” এর পাশাপাশি পুজোয় অগ্নিবিধি মেনে চলতে এবং মণ্ডপগুলিকে বিপদমুক্ত রাখতে দমকলের একটি সচেতনতামূলক প্রচার ভিডিও-ও এদিন প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বড় বড় ফুটবল ম্যাচ সুষ্ঠভাবে আয়োজনের প্রসঙ্গ উঠলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা ফুটবল ভালবাসে। এ বিষয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীকে সবরকম স্বাধীনতা দেন তিনি।

     

     

     

LinkedIn
Share