Tag: bengal durga puja

bengal durga puja

  • Durga Puja 2024: পুজোয় চাই টানটান উজ্বল ত্বক! এই পাঁচ ঘরোয়া উপকরণেই রয়েছে সমাধান

    Durga Puja 2024: পুজোয় চাই টানটান উজ্বল ত্বক! এই পাঁচ ঘরোয়া উপকরণেই রয়েছে সমাধান

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর মাত্র কয়েকদিন! তার পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শুরু! দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সময়ে বাঙালি যেমন খাবারে নতুনত্ব চায়, তেমনি পোশাক আর সাজসজ্জাতেও থাকে বিশেষ নজর। কিন্তু দূষণের জেরে এখন অনেকেই ত্বকের নানান সমস্যায় ভুগছেন। খুব কম বয়স থেকেই ব্রণ, কালো ছোপ দাগ-এমন নানান ত্বকের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজার চলতি নানান রাসায়নিক ক্রিম ত্বকের ক্ষতি করে। এমন একাধিক ক্রিম নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অভিযোগ, বহু ক্রিম মাত্রাতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহার করে। এর ফলে ত্বকে সাংঘাতিক ক্ষতি হয়। তাই দ্রুত ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে এবং ত্বকের সমস্যা মেটাতে ঘরোয়া উপকরণেই আস্থা রাখছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আসুন, দেখে নিই, কোন পাঁচ ঘরোয়া উপাদানে মসৃণ ত্বক সম্ভব?

    চিনির সঙ্গে পাতিলেবুর মিশ্রণ (Durga Puja 2024)

    ত্বক বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, লেবু ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত যে কোনও ধরনের লেবু খেলে ত্বকের অধিকাংশ সমস্যা কমে যায়। ত্বকে পাতিলেবুর রস ব্লিচের মতো কাজ করে। সমস্ত কালো ছোপ সহজেই বেরিয়ে যায়। তবে সরাসরি ত্বকের উপরে পাতিলেবু লাগাতে বারণ করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, চিনির সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে বৃত্তাকারে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে মুখ পরিষ্কার জলে ধুয়ে ফেললে কালো ছোপ সহজেই মুছে যাবে।

    শশার রস বাড়াবে ত্বকের উজ্জ্বলতা

    বায়ুদূষণের জেরে অনেকেই ত্বকের উজ্জ্বলতা হারান। বিশেষত যাদের নিয়মিত বাড়ির বাইরে যেতে হয়, তাদের এই ধরনের সমস্যা আরও বেশি হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, শশা তাদের জন্য বিশেষ উপকারী। শশার রসে সহজেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে। তাঁদের পরামর্শ, একটা গোটা শশা বেটে নিয়ে, তার সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। দিনে একাধিকবার সেই মিশ্রণ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে দ্রুত ত্বক মসৃণ হবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়বে (Durga Puja 2024)।

    ব্রণ-র জীবাণু রুখতে সাহায্য করবে মধু

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মধু ত্বকের (Bright skin) জন্য খুবই উপকারী। তাঁরা জানাচ্ছেন, মধু ত্বক কোমল করে, উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে, আবার ব্রণ-র জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তেও সাহায্য করে। তাই মধু ত্বকে লাগালে ত্বকের একাধিক উপকার পাওয়া যায়। তাঁদের পরামর্শ, সরাসরি ত্বকের উপরে মধু ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। তবে দ্রুত উজ্জ্বলতা পাওয়ার জন্য দই কিংবা শশার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে দ্রুত উজ্জ্বলতা বাড়ে‌। আবার ব্রণ-র সমস্যাও কমে।

    ত্বক মসৃণ করবে কলা (Durga Puja 2024)

    ত্বক মসৃণ করতে কলা খুবই উপকারী বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলা ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। কলা খুব মিহি করে মেখে, তার সঙ্গে দুধ মিশিয়ে ত্বকে লাগালে খসখসে ভাব সহজেই চলে যায়। ত্বক মস‌ৃণ হয়ে ওঠে।

    মুসুর ডাল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার

    আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে অনেকেই ত্বকের ভিজে ভাব হারাচ্ছেন‌। খুব কম বয়সিদের মধ্যেও তাই ত্বকের শুষ্কতার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, মুসুর ডাল ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, মসুর ডাল বেটে ভালো ভাবে ত্বকে লাগিয়ে রাখতে হবে। কিছু সময় পরে ত্বকে সেগুলো শুকিয়ে গেলে ভালোভাবে পরিষ্কার জলে ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলেই ত্বকের স্বাভাবিক ময়েশ্চারাইজার ফিরে আসবে। ত্বকের শুষ্কতার সমস্যা কমবে (Durga Puja 2024)।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: ১১৪ বছর ধরে একই রীতি! একনলা বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয় সন্ধি পুজো

    Durga Puja 2024: ১১৪ বছর ধরে একই রীতি! একনলা বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয় সন্ধি পুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একনলা বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয় সন্ধি পুজো। ১১৪ বছর ধরে একই রীতিতে বৈষ্ণব নিয়মে পূজিত চৌধুরী বাড়ির দেবী দুর্গা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল বালুরঘাটের নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বইদুল গ্রামের চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024)। চৌধুরী বাড়ি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চৌধুরী পরিবারে দুর্গাপুজোর শুভারম্ভ হয় ১৯১১ সালে পান্নালাল চৌধুরী-র হাত ধরে। পান্নালাল চৌধুরী মারা যাওয়ার পরে তাঁর ছয় ছেলে পালাক্রমে এই দুর্গাপুজো চালিয়ে আসেন। বংশানুক্রমে চলে আসা বইদুল গ্রামের চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো আশপাশের গ্রামের মানুষদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

    মঙ্গলচণ্ডীর গানের আসর (Durga Puja 2024)

    কালক্রমে পুজোর জৌলুস বাড়লেও রীতিতে হয়নি কোনও বদল। ষষ্ঠী থেকে নবমী অবধি দেবী দুর্গাকে এখানে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় ফল ও মিষ্টি। দশমীতে অন্নভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে ষষ্ঠী থেকে দশমী অবধি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বসে মঙ্গলচণ্ডীর গানের আসর। যে গান শুনতে ভিড় জমান আশপাশের গ্রামের মানুষ। চৌধুরী বাড়ির পুজোকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন গোটা গ্রামের বাসিন্দারা। পুজোর পাঁচ দিন গ্রামের সবাই এক সঙ্গে পুজোর (Durga Puja 2024) আচার অনুষ্ঠান করে থাকেন। এক গ্রামবাসী বলেন, আমাদের গ্রামের চৌধুরী বাড়ির পুজো দীর্ঘদিনের পুরনো পুজো। এই পুজো শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে পান্নালাল চৌধুরী-র হাত ধরে। আজও সেই নিয়ম মত করে পুজো হয়ে যাচ্ছে।

    ধুনুচি নাচের আসর

    চৌধুরী পরিবারের দুই সদস্য বাপ্পাদিত্য চৌধুরী এবং বিশ্বদেব চৌধুরী জানিয়েছেন, পুজোতে (Durga Puja 2024) পরিবারের ৬৫ জন ছেলের নামেই দেবীর উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করা হয়। ১১৪ বছর ধরে একই রীতিতে বৈষ্ণব নিয়মে পূজিত আমাদের বাড়ির দেবী দুর্গার পুজো। অষ্টমীর দিন একনলা বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয় সন্ধি পুজো (Sandhi Puja)। পুজোর দিনগুলিতে প্রতিদিনই প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পুজোর দিনগুলিতে মন্দির প্রাঙ্গণে বসে ধুনুচি নাচের আসর। সব মিলিয়ে চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো ঘিরে পুজোর দিনগুলিতে আনন্দে মেতে উঠেন বইদুল সহ আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: ৫০০ বছরের প্রাচীন রানাঘাটের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজোয় সাবেকিয়ানার ছোঁয়া

    Durga Puja 2024: ৫০০ বছরের প্রাচীন রানাঘাটের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজোয় সাবেকিয়ানার ছোঁয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রানাঘাট শুধু নয়, নদিয়ার প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজো। ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে চৈতন্যচরণ ঘোষ হুগলি জেলার আকনা থেকে আসেন ব্রহ্মডাঙ্গায়, যা পরে রানাঘাট নামে পরিচিত হয়। এখানে তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সূচনা করেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর ছোট ভাই মকারন্ধ ঘোষের বংশধররা দুর্গাপুজো করে আসছেন। বর্তমানে ২৯ তম বংশপরম্পরায় এই পুজো হচ্ছে। এই বংশের ২৯ তম পুরুষ রণজিৎ ঘোষ বলেন, দুর্গাপুজো প্রথম শুরুর যে মাটি দিয়ে পাটা তৈরি হয়েছিল, সেই মাটি দিয়ে আজও পাটা তৈরি হয়ে আসছে। তুলে রাখা হয় কিছু মাটি। সেই মাটি দিয়েই পাটা তৈরি হয় বছরের পর বছর। এই ভাবে হয়ে আসছে দেবীমূর্তি।

    ১৯৩৪ সালে পাঁঠাবলি বন্ধ (Durga Puja 2024)

    ৫০৪ বছর ধরে হয়ে আসছে এই পুজো। এ বছর পড়ল ৫০৫ তম বছরে। একটা সময় ৫১টি পাঁঠা ও মোষ বলি হত। ১৯৩৪ সালে পাঁঠাবলি বন্ধ হয়ে যায় স্বপ্নাদেশে এবং ঘোষ বংশের রামগোপাল ঘোষ মারা যান, ক্ষয়ক্ষতিও হয়। তার পর থেকে আর বলি হয়নি। পঞ্চমীতে বোধন শুরু হয়, ষষ্ঠীতে নয়। তার পর অধিবাসের সময় রক্ষা প্রদীপ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রদীপ জ্বালান এই বংশের পুরুষ, যে প্রদীপ নেভে না। বিসর্জন হয়ে গেলে পাঠ ভেঙে সেই রক্ষা প্রদীপের থেকে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই প্রদীপের আলোতে ১০৮বার দুর্গা নাম লেখা হয় কলাপাতার ওপর। তার পর চূর্ণী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়, নয়তো তুলসী তলায় দেওয়া হয়। এরপর মুড়ি-মুড়কি, পকান্ন দেওয়া হয় (Ranaghat)।

    দশমীর দিন শুক্ত, মাছ, ভাত খাইয়ে বরণ

    নবমীর দিন (Durga Puja 2024) থোর ও মোচার ভোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাদা খেলা হয়। রান্না করা ভোগ অষ্টমী দিন দেওয়া হয়। আর অন্য দিনগুলিতে মশলা, চাল ইত্যাদি কাঁচা ভোগ দেওয়া হয়। দশমীর দিন শুক্ত, মাছ, ভাত খাইয়ে বরণ করা হয়। ওই দিন টাটকা ফুলে পুজো হয় না, বাসি ফুলে পুজো হয়। এই প্রাচীন পুজো দেখতে  দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন, পাশাপাশি এখানে পুজো ও অঞ্জলি দেন অনেকে। রানাঘাটের ঘোষবাড়ির পুজো আজও তার ঐতিহ্য বহন করে চলেছে (Ranaghat)। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: বর্গিদের হাত থেকে সুন্দরবনবাসীকে রক্ষা করতে শুরু হয়েছিল মা দুর্গার আরাধনা!

    Durga Puja 2024: বর্গিদের হাত থেকে সুন্দরবনবাসীকে রক্ষা করতে শুরু হয়েছিল মা দুর্গার আরাধনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটু একটু করে সময় যত এগিয়েছে, বেড়েছে পুজোর (Durga Puja 2024) বয়স। এই বছর ৩০৬ তম বর্ষে পদার্পণ করল ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজো। ১১৫২ সালে ভগীরথ ঘোষ এই ঘোষবাড়ির পুজোর সূচনা করেন। শোনা যায়, সে যুগে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা প্রায়ই বন্যার কবলে পড়ত। এর পাশাপাশি বর্গিদের আক্রমণও চলত সমানতালে। আর সেই বন্যার প্রকোপের হাত থেকে রক্ষা পেতে ও বর্গিদের আক্রমণ থেকে নিজেদের, প্রজাদের ও সকল গ্রামবাসীর সুরক্ষার্থে করঞ্জলী অঞ্চলে সেই সময় জমিদার ভগীরথ ঘোষ ধুমধাম করে শুরু করেন দুর্গাপুজো। শোনা যায়, সেই সময় জমিদার ভগীরথ ঘোষ কুলপি সহ আশপাশের বেশ কিছু জায়গা কিনে প্রচুর ভূসম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছিলেন। সুবিশাল ছিল তাঁর রাজ্যপাট, ছিল প্রজাবর্গ।

    আর হয় না পাঁঠা বলি (Durga Puja 2024)

    এই দুর্গাপুজোর সময় নাকি দূরদূরান্তের প্রজারা আসতেন এই জমিদার বাড়িতে। পুজোর ক’টা দিন তাঁদের থাকা-খাওয়ার জন্য ছিল আলাদা আলাদা ঘর, আলাদা আলাদা ব্যবস্থাপনা। এই পুজোকে কেন্দ্র করে ছিল বলিদান প্রথা। আর তার জেরেই মাংস মহাপ্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করতে পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে প্রজারা জড়ো হতেন। পাশাপাশি ভোগপ্রসাদ তৈরির জন্য ছিল বিশাল বিশাল উনুন। সময়ের সঙ্গে রাজবাড়ি থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে কালক্রমে করোনা মারণব্যাধির সময় থেকে ঘোষ পরিবারের সদস্যরা পাঁঠা বলি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাই সেই সময় থেকে আর হয় না পাঁঠা বলি।

    অনুষ্ঠিত হত নাটক, যাত্রা

    তৎকালীন সময়ে দুর্গাদালানের সামনে অনুষ্ঠিত হত নাটক, যাত্রা থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠান (Durga Puja 2024)। ঘোষবাড়ির প্রবেশের সম্মুখে বাঁদিকে তাকালেই চোখে পড়বে সেই যাত্রাদলের ভগ্নপ্রায় গ্রিনরুমের দৃশ্য। এখন সেসবই অতীত। তবে সেই সময়কার জৌলুশ কালক্রমে ধরে রাখা সম্ভব না হলেও এখনও নির্দিষ্ট রীতি মেনে শ্রদ্ধা, নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁরা পুজো করে চলেছেন প্রত্যেক বছর। তবে দুর্গাপুজোর পাশাপাশি দুর্গাদালানের পাশেই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে ‘শ্যামসুন্দর জীউ’-এর মন্দির, যেখানে নিত্যপুজোর পাশাপাশি তিনদিন সাড়ম্বরে পালিত হয় রাস উৎসব। জমিদার আর নেই, জমিদারের জমিদারিত্ব অনেকাংশ কমে গিয়েছে। তবে বংশধরেরা এখনও পর্যন্ত নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে মা দুর্গার আরাধনা করে চলেছেন। দূরদূরান্তের সমস্ত আত্মীয় পুজোর সময় উপস্থিত হন এই ঘোষ পরিবারে। পুজোর চারটে দিন খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে গমগম করে এই ঘোষ পরিবার।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: মৃৎশিল্পী না হয়েও সুদর্শন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে নজির গড়লেন এক কলেজ পড়ুয়া!

    Durga Puja 2024: মৃৎশিল্পী না হয়েও সুদর্শন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে নজির গড়লেন এক কলেজ পড়ুয়া!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রাজুয়েশন করার পর নিজের শিল্পসত্ত্বাকে ধরে রাখতে চান নদিয়ার শান্তিপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩ বছর বয়সি যুবক সৌম্যদীপ মণ্ডল। এ বছর দু’ফুট উচ্চতার সুদর্শন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে এক অনন্য নজির গড়লেন তিনি। বাবা সন্দীপ মণ্ডল, পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। সংসারের হাল ধরতে একমাত্র ছেলে সৌম্যদীপ। চার বছর আগে তিনি বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রথমে দু’ফুট উচ্চতা, পরে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার প্রতিমা (Durga Puja 2024) তৈরি করেছিলেন। এরপর সেই প্রতিমা পাড়ি দিয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এ বছর আবারও তিনি প্রতিমা তৈরির বরাত পান, কলকাতা নিবাসী এক বাঙালি দুর্গাপ্রতিমা তৈরির বরাত দেন সৌম্যদীপকে। সেইমতো দু’ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি প্রায় শেষ করেছেন সৌম্যদীপ।

    সাজসজ্জার পুরোটাই মাটির (Durga Puja 2024)

    প্রতিমাতে রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। দেবী দুর্গা মহিষাসুর এবং সিংহের সাজসজ্জা, পুরোটাই মাটির তৈরি। পিছনের সুদর্শন চালি, দেবীর দশ হাতের অস্ত্র থেকে শুরু করে পুরোটাই তৈরি করা হয়েছে, মাটির সাজে। সৌম্যদীপের কথায়, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন আর্ট-এর ওপর ঝোঁক ছিল। স্কুল জীবনে যখন বাড়ি ফিরতেন, কুমোরপাড়ায় গিয়ে প্রতিমা তৈরি করা দেখতেন। এরপর কলেজে পড়াশোনা শুরু করেও সেই নেশা কাটেনি। কুমোরপাড়ায় মৃৎশিল্পীদের তৈরি কাজ নিজের (College Student) চোখে দেখে সেখান থেকেই শুরু হয় প্রতিমা তৈরি করার ইচ্ছে।

    লক্ষ্য শিল্পকে ধরে রাখা

    চার বছর আগে শুরু করেন বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা (Durga Puja 2024) তৈরি। এর আগেও অতি ক্ষুদ্র কালীপ্রতিমা তৈরি করে নজর কেড়েছিলেন। এ বছরও একটি ক্ষুদ্র কালীপ্রতিমা তৈরি প্রায়ই করে ফেলেছেন। আর সেই প্রতিমা পাড়ি দেবে আবারও কলকাতার উদ্দেশে। সৌম্যদীপের বাড়িতে রয়েছে তাঁর মা ও বাবা। একমাত্র সন্তান হিসেবে পরিবারের হাল ধরে রাখতে বিকল্প সৌম্যদীপ ছাড়া আর কেউ নেই। ইতিমধ্যে গ্রাজুয়েশন পাশ করে তাঁর আগামী দিনের লক্ষ্য শিল্পকে ধরে রাখা। আগামীতে তাঁর হাতের ক্ষুদ্র কাজ যাতে বিশ্বের দরবারে পৌঁছায়, সেই চেষ্টাই চালাবেন সৌম্যদীপ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja Health: উৎসব মানেই খাবারে অনিয়ম! শরীরের জন্য কতখানি বিপদ ডেকে আনছেন?

    Durga Puja Health: উৎসব মানেই খাবারে অনিয়ম! শরীরের জন্য কতখানি বিপদ ডেকে আনছেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শুরু বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব! দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে উঠেছেন আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ। আর বাঙালির উৎসব উদযাপনের সঙ্গে সব সময় জড়িয়ে থাকে বিশেষ খাওয়া-দাওয়া! পুজোর দিনে ভালো খাবার না খেলে বাঙালির উৎসব উদযাপন সম্পূর্ণ হয় না। তবে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ভালো-মন্দ খাবারের সঙ্গে যুক্ত হয় খাবারের সময় এবং পরিমাণ নিয়ে চূড়ান্ত অনিয়ম! যা শরীরের জন্য বাড়তি বিপদ‌ (Durga Puja Health) তৈরি করে।‌ তাই পুজোর দিনে খাদ্যাভ্যাসের পাশপাশি খাবারের সময় এবং পরিমাণ নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। না হলে বড় রকমের শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

    কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে? (Durga Puja Health)

    চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, পুজোর পরেই বহু মানুষ পেটের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত শিশুদের অনেকেই পেটব্যথা, বমির মতো সমস্যায় ভোগে। আবার পেটের গোলমালও দেখা দেয়। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লাগাতার খাওয়ার জন্য এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পুজোর সময়ে অনেকেই অত্যাধিক পরিমাণে চটজলদি খাবার যেমন রোল, চাউমিন, মোগলাই খান। বাদ যায় না বিরিয়ানি থেকে পিৎজা। তাই তিন-চারদিন টানা এই ধরনের খাবার খাওয়ার জেরে লিভার এবং পাকস্থলীর মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। 
    পাশপাশি স্থূলতার সমস্যা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধরনের চটজলদি খাবার খাওয়ার জেরে শরীরের ওজন অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষত যাঁরা স্থূলতার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা আরও বেশি সমস্যায় (Durga Puja Health) পড়তে পারেন। 
    পুজোর সময়ে অনেকেই সময়মতো খাবার খান‌ না। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্ত্রের একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুজোর সময়ে অনেক রাত করে তেলমশলা জাতীয় খাবার খান। আর এর জেরেই হজমের মারাত্মক গোলমাল হয়।
    পাশপাশি ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগা রোগীদের এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস জটিল পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, খাবারের সময়ে বেশি অনিয়ম হলে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের রক্তে শর্করার পরিমাণ ওঠানামা করতে পারে। আর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অতিরিক্ত তেলমশলা জাতীয় নোনতা খাবার হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তাই এই ধরনের সমস্যা থাকলে‌ বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    সুস্থ থাকার কী পরামর্শ‌ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন,‌ সুস্থ থাকার জন্য দরকার নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিত খাবার। তাঁরা জানাচ্ছেন, পুজোর দিনে (Festival) কমবেশি সকলেই অন্য রকম খাবার খাবেন। সব সময় সব কিছু নিয়ন্ত্রণ হয়তো সম্ভব হয় না।‌ তবে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের মিষ্টিজাতীয় খাবারে নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। পেস্ট্রি, কেক কিংবা মিষ্টি, একেবারেই খাওয়া চলবে না। এতে নানান শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। আবার উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কারণ কোলেস্টেরল যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, দেহে যাতে বাড়তি মেদ তৈরি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি (Durga Puja Health)। 
    তবে‌ এর পাশাপাশি মদ্যপানেও রাশ জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মদ্যপান লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। উৎসবের দিনে অনেকেই অতিরিক্ত মদ্যপান করেন। যা শরীরের হৃদরোগ থেকে লিভারের জটিল অসুখের মতো একাধিক শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে এই দিকগুলো নজরে রাখা জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: জমিদার তাঁর বন্দুক থেকে শূন্যে গুলি ছুড়লেই শুরু হত সন্ধিপুজো

    Durga Puja 2024: জমিদার তাঁর বন্দুক থেকে শূন্যে গুলি ছুড়লেই শুরু হত সন্ধিপুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় পরম্পরার বিচারে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও কম যায় না। এখানেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন পুজো, যেগুলি জমিদার আমল থেকে বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। কোথাও হয়তো জাঁকজমক বা আতিশয্য কম। কিন্তু আন্তরিকতায় কেউ কম যায় না। উত্তরবঙ্গের এমনই এক জেলা হল দক্ষিণ দিনাজপুর। এই জেলার গঙ্গারামপুরের ফুলবাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার দূরে উদয় গ্রাম। বসতি থাকলেও গ্রামটি নিরিবিলি। গ্রামের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জমিদার হৃষিকেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। শোনা যায়, সন্ধিপুজো শুরুর আগে জমিদার তাঁর বন্দুক থেকে শূন্যে গুলি ছুড়তেন। তার পর শুরু হত মায়ের পুজো (Durga Puja 2024)। জমিদার এখন নেই। নেই জমিদারি প্রথাও। তাই এখন আর সন্ধিপুজোর আগে শূন্যে ছোড়া গুলির শব্দও শোনা যায় না। তবে জমিদারের বংশধররা বছরের পর বছর নিয়মনিষ্ঠা ধরে রেখেছেন।

    পঞ্চমুণ্ডির আসন প্রতিষ্ঠিত করে দুর্গাপুজো শুরু (Durga Puja 2024)

    আরও শোনা যায়, প্রজাদের মঙ্গল কামনায় জমিদার হৃষিকেশ বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গারামপুরের উদয় গ্রামে পঞ্চমুণ্ডির আসন প্রতিষ্ঠিত করে দুর্গাপুজো শুরু করেন। মা দুর্গার আসনটি পঞ্চমুণ্ডির আসন হওয়ায় এক সময় মহিষ বলি দেওয়া হত। পুজোর পাঁচদিন পাত পেড়ে প্রজাদের খাওয়ানো হত। দুঃস্থদের হাতে তুলে দেওয়া হত নতুন বস্ত্র। পুজোমণ্ডপ চত্বরে বসত যাত্রাগান ও মঙ্গলচণ্ডী গানের আসর। বসত মেলাও। জমিদারের পুজো ঘিরে কয়েকটা দিন উদয় গ্রাম জমজমাট থাকত (Sandhipujo)। তবে এখনও জমিদারের পুজোয় ১০৮টি বেলপাতা দিয়ে যজ্ঞ হয়। জমিদার হৃষিকেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত হওয়ার পর পুজোর দায়িত্বভার একে একে কাঁধে তুলে নেন তাঁর বংশধররা। এবারে পুজোর (Durga Puja 2024) দায়িত্বে রয়েছেন জমিদারের অষ্ঠম পুরুষ স্বপন শর্মা রায়, বাবুন শর্মা রায়, দেবাশিস শর্মা রায় ও সমীর শর্মা রায়রা।

    পুজোর চারদিন সারাক্ষণ যজ্ঞের আগুন জ্বলে

    এবিষয়ে জমিদার বাড়ির বংশধররা বলেন, পুজোর (Durga Puja 2024) পুরনো রীতি আমরা এখনও ধরে রেখেছি। পুজোর চারদিন সারাক্ষণ আমাদের যজ্ঞের আগুন জ্বলে। বাবুন শর্মা রায় বলেন, ‘বাপঠাকুরদার মুখে শুনেছি আমাদের এই পুজো বহু পুরনো। তাঁর স্মৃতি হিসেবে বলি দেওয়ার খড়্গ, কাঁসার বাসনপত্র সহ বেশ কিছু জিনিস রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: লক্ষ্য শিল্পের পুনরুজ্জীবন, মা দুর্গার চিন্ময়ী রূপ ফুটে উঠেছে পাটের কারুকার্যে!

    Durga Puja 2024: লক্ষ্য শিল্পের পুনরুজ্জীবন, মা দুর্গার চিন্ময়ী রূপ ফুটে উঠেছে পাটের কারুকার্যে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ এক অন্য দুর্গা (Durga Puja 2024)। এখানে মা শুধু মূর্তি নন। তিনি একটি সম্প্রদায়ের কাছে ভবিষ্যৎ জীবন ধারণের আশা ও ভরসার প্রতীক। একটি উঠে যেতে বসা শিল্পের পুনরুজ্জীবনের বার্তাবাহক। শিল্পী এখানে মূর্তি গড়েছেন এক অনন্য ভাবনা নিয়ে। মূল বিষয়ে ঢোকার আগে একটু পিছন ফিরে তাকানো যাক। আমরা অনেকেই জানি, স্বাধীনতার পর দেশভাগের ফলে পাট চাষের অধিকাংশ জমিই চলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ভাগে। উল্টোদিকে আবার বেশির ভাগ পাটকল চলে এসেছিল ভারতের দিকে বা পশ্চিমবঙ্গে। মুর্শিদাবাদ জেলায় চাষিদের মধ্যে পাট চাষের আগ্রহ ছিল প্রবল। কিন্তু হলে কী হবে, আখ চাষের মতো পাট চাষেও মূল্য না পেয়ে এই চাষ থেকে তাঁরা ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকেন। কিন্তু চিরদিনই তো সমান যায় না। এরপর পলিথিন বা প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে ফের তাঁরা আশার আলো দেখতে শুরু করেন। সবার মনেই আশা জাগে, বোধহয় পাঠ শিল্প এবার ঘুরে দাঁড়াবে। ঘুরে দাঁড়াবে কি না, সেটা এই মুহূর্তে লাখ টাকার প্রশ্ন। সেদিকে না গিয়ে পরিবেশ সচেতনতার কথা মাথায় রেখে বহরমপুরের রাজেশ দাস এবার কান্দির এক পুজো কমিটির জন্য মা দুর্গার চিন্ময়ী রূপ তুলে ধরছেন পাঠ শিল্পের মাধ্যমেই।

    সময় লেগেছে সাড়ে তিন মাস (Durga Puja 2024)

    রাজেশ দাস প্রতি বছরই মা দুর্গার মূর্তিতে অভিনবত্ব তুলে ধরেন। এবার তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম শিল্প পাটকে নিয়ে খুব সুন্দর দুর্গা প্রতিমা কান্দির এক পুজো কমিটির জন্য তৈরি করছেন, যার প্রস্তুতি শেষের দিকে। কিন্তু কীভাবে এই কাজটা করছেন তিনি? দেখা গেল, তিনি এবার পাটের তৈরি বস্তা এবং দড়ি দিয়েই মা দুর্গার মূর্তি তৈরি করছেন। প্রতিমা তৈরি করতে তাঁর সময় ব্যয় হয়েছে সাড়ে তিন মাস। এখন কাজ (Durga Puja 2024) প্রায় শেষের দিকে। তিনি বলেন, বর্তমানে পলিথিনের রমরমা অবস্থায় পাট শিল্প বিলীনের পথে। তাই এই পাটকে মা দুর্গার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে এবছর পাটের দুর্গা প্রতিমার তিনি তৈরি করলেন, যাতে মা দুর্গার সংস্পর্শে এসে পাট আবার তার শ্রেষ্ঠ আসন নিতে পারে এবং পাট চাষিরাও উৎসাহিত হয়ে ওঠেন।

    আগ্রহ ফেরানোই লক্ষ্য

    তিনি বলেন, পাট শিল্পীরা যাতে আবার পাট চাষে উৎসাহ ফিরে পান, সেটাই মায়ের মাধ্যমে আমার আবেদন। আমি চাই আমার কর্ম মানুষের মধ্যে জাগ্রত হয়ে থাকুক। এটা তো অর্থ দিয়ে বিচার করা যাবে না। আমি চাই আমার কর্ম (Jute Craft) মানুষ দেখুক, আমার যেটুকু পারিশ্রমিক সেটুকু পেলেই আমি খুশি। যারা ক্ষুদ্র শিল্পী তারাও হারিয়ে যাওয়া পাট শিল্পে মনোনিবেশ করে নানান ধরনের জিনিস তৈরি করুক এবং এইসব নিয়ে ভাবুক। সেই কারণেই প্রতি বারই আলাদা আলাদা নতুনত্ব জিনিস দিয়ে পরিবেশ সচেতনতার মাধ্যমে মা দুর্গার চিন্ময়ী রূপ (Durga Puja 2024) ফুটিয়ে তুলি। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: “নবপত্রিকাবাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ”, নবপত্রিকা আসলে মা দুর্গারই বৃক্ষ রূপ!

    Durga Puja 2024: “নবপত্রিকাবাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ”, নবপত্রিকা আসলে মা দুর্গারই বৃক্ষ রূপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহা সপ্তমীর (Durga Puja 2024) সকালে জলাশয় থেকে ঘটে করে নিয়ে আসা হয় জল। সেই জলেই হয় দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা। এই ঘটের সঙ্গেই স্নান করিয়ে নিয়ে আসা হয় নবপত্রিকাকে। নবপত্রিকা স্নান (Kola Bou) লোকমুখে কলাবউ স্নান হিসেবেই বেশি পরিচিত। কোনও কোনও শাস্ত্রবিদের মতে, এক সময় যখন দেবী প্রতিমা রূপকল্পনা হয়নি, তখন মানুষ দুর্গাপুজো করতেন নবপত্রিকা বসিয়ে। পরে, কল্পনা হওয়ার পর তৈরি হয় মূর্তি। তার পর থেকে মহামায়ার সঙ্গে পুজো পেয়ে আসছে নবপত্রিকাও।

    কলা বউ আসলে কে? (Durga Puja 2024)

    দেবী দুর্গার (Durga Puja 2024) পরে যিনি সচরাচর লোকের চোখে পড়েন, তিনি হলেন কলাবউ। সাধারণ মানুষ ভাবেন, তিনি গণেশের স্ত্রী। আসলে কিন্তু তা নয়। কারণ, নবপত্রিকা থাকেন গণেশের ডান দিকে। হিন্দু মতে, স্ত্রী থাকবেন পুরুষের বাম পাশে। অর্থাৎ নবপত্রিকার সঙ্গে গণেশের কোনও সম্পর্কই নেই। তবে “কলা বউ” আসলে কার বউ? এক কথায় উত্তর হবে, শিব জায়া অর্থাৎ শিবের বউ। “কলা বউ” আসলে মা দুর্গার বৃক্ষ রূপ। তাই তিনি গণেশের স্ত্রী নন, বরং মা। এ প্রসঙ্গে জানা দরকার যে “কলা বউ” প্রচলিত নাম হলেও এটি ন’টি উদ্ভিদের সমষ্টি বা সমাহার। তাই “কলা বউ”-এর আসল নাম “নবপত্রিকা”। এই ন’টি উদ্ভিদের বর্ণনা রয়েছে এই শ্লোকটিতে-রম্ভা কচ্চী হরিদ্রাচ জয়ন্তী বিল্ব দাড়িমৌ। অশোক মানকশ্চৈব ধান্যঞ্চ নবপত্রিকা। রম্ভা (কলা), কচ্চী (কচু), হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব (বেল), দাড়িম্ব (ডালিম), অশোক, মানকচু ও ধান গাছ। নবপত্রিকায় একটি পাতা যুক্ত কলাগাছের সাথে অপর আটটি উদ্ভিদকে শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। তার পরে পরানো হয় শাড়ি-সিঁদুর।

    কেন কলা বউ পুজো করা হয়?

    অতি প্রাচীন কাল থেকেই প্রকৃতি পুজো (Durga Puja 2024) ভারতীয় উপমহাদেশের রীতি। অগ্নি, জল, বায়ু, মাটি, পাহাড়, গাছ, নদী সব কিছুতেই ঈশ্বর বিরাজমান, এই ধারণা থেকেই “নবপত্রিকা” বা “কলা বউ”-এর পুজো। উদ্ভিদ প্রকৃতির সজীব অংশ। খাদ্যশস্য, নিঃশ্বাসের বাতাস, জীবনদায়ী ওষুধ-এ সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে উদ্ভিদ। ভক্তদের কল্যাণকারী মা দুর্গা তাই অধিষ্ঠাত্রীদেবী নবপত্রিকার এই উদ্ভিদগুলিতে। তিনি সর্বত্র বিরাজমান। নবপত্রিকা মা দুর্গার বৃক্ষ রূপ হিসেবে পরিচিত। মহা সপ্তমীর সকালে “নবপত্রিকা”-র পুজোতে মন্ত্র পাঠ করা হয় “নবপত্রিকাবাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ” যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় – নবপত্রিকা বাসিনী নবদুর্গা।

    নবপত্রিকার সঙ্গে দুর্গাপুজোর সম্পর্ক

    নবপত্রিকার সঙ্গে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সম্পর্ক নিয়ে পণ্ডিত মহলে নানা মত রয়েছে। মার্কণ্ডেয় পুরাণে নবপত্রিকার কোনও বিধান নেই। আবার কালিকা পুরাণে সপ্তমীতে “পত্রিকা” পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়। কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামচন্দ্র কর্তৃক নবপত্রিকা পুজোর কথা আছে। “বাঁধিল পত্রিকা নববৃক্ষের বিলাস”। পণ্ডিতদের মত অনুযায়ী, সম্ভবত শবর সম্প্রদায় কোনও এক সময়ে ন’টি উদ্ভিদের মাধ্যমে মা দুর্গার পুজো করতেন। সেই থেকেই হয়তো “নবপত্রিকা” বা “কলা বউ” পুজো হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতির বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন ১৯৬১ সালের অ্যাকাডেমিক পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক শশিভূষণ দাশগুপ্ত। নবপত্রিকা পুজোর বিষয়ে তিনি তাঁর “ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য গ্রন্থের” ২৫-২৬ পাতায় লিখছেন, “বলা বাহুল্য এসবই হল পৌরাণিক দুর্গা দেবীর সঙ্গে এই শস্য দেবীকে (পড়ুন “নবপত্রিকা”) সর্বাংশে মিলিয়ে নেওয়ার এক সচেতন চেষ্টা। এই শস্য দেবী, মাতা পৃথিবীরই রূপভেদ। সুতরাং আমাদের জ্ঞাতে অজ্ঞাতে দুর্গা পুজোর ভিতরে এখনও সেই আদিমাতা পৃথিবীর পুজো, অনেক খানি মিশিয়া আছে “। যুগ যুগ ধরে হওয়া সেই প্রথা ও ঐতিহ্যকে এখনও ধরে রেখেছেন সকলে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: দুর্গাপুজোয় কেন হয় বলিদান? সন্ধিপুজোর সঙ্গে এর কি কোনও সম্পর্ক আছে?

    Durga Puja 2024: দুর্গাপুজোয় কেন হয় বলিদান? সন্ধিপুজোর সঙ্গে এর কি কোনও সম্পর্ক আছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সময় বনেদি বাড়িতে পশু বলি দেওয়ার প্রথা ছিল। বিশেষ করে অধিকাংশ জমিদার বাড়িতে এক মসয় এই প্রথা ছিল। এমনিতেই শুধু দুর্গা পুজো নয়, হিন্দু ধর্মে বহু পুজোতেই পশুবলি দেওয়ার রেওয়াজ আছে। কালের বিবর্তনে সেই নিয়ম এখন অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার অনেকে পশু হত্যাকে সমর্থন করেন না। তাই ছাগ বলির পরিবর্তে আখ, চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয় পুজোয়। সন্ধি পুজোতেও (Sandhi Puja) বলি দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে।

    বলি শব্দের অর্থ কী? (Durga Puja 2024)

    প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ‘বলি’ শব্দটির অর্থ। যজ্ঞে দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত সব কিছুকেই বলি বলা হয়। আগেকার দিনে যজ্ঞের আগুনে ঝলসে দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করে, পরে তা প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করতেন মুনি-ঋষিরা। পশু থেকে ফল, সব কিছুই হতে পারে বলির উপাদান। তবে সাধারণ মানুষ পশুবলিকেই একমাত্র বলি হিসেবে জানেন। দেব-দেবীর (Durga Puja 2024) উদ্দেশে এই উৎসর্গ আদতে প্রতীকী। সন্ধি পুজোতেও প্রতীকী হিসেবেই বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে।

    সন্ধি পুজোর সঙ্গে বলির কী সম্পর্ক? (Durga Puja 2024)

    পৌরাণিক কাহিনি সূত্রে জানা গিয়েছে, অষ্টমী (Durga Puja 2024) এবং নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে স্বর্ণ ভূষণে সজ্জিতা হন দেবী দুর্গা। স্বর্ণ বর্ণ ধারণ করেন। মহিষাসুর বধের প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। তবে মহিষাসুর দেবীর লক্ষ্য পূরণে বাধা দিতে তার দুই অনুচর চণ্ড এবং মুণ্ডকে দেবীকে আক্রমণ করতে পাঠান। আকস্মিক পিছন থেকে তাঁরা দেবীকে আক্রমণ করেন। সে সময় দেবী ক্রোধে রক্তবর্ণা হয়ে ওঠেন। ধারণ করেন চামুণ্ডা রূপ। খড়েগর কোপে চণ্ড ও মুণ্ডের মুণ্ডচ্ছেদ করেন দেবী। এর সঙ্গেই অশুভ শক্তির বিনাশ হয়। সে কারণেই চণ্ড-মুণ্ডের প্রতীক হিসেবে মনের অশুভ চিন্তা, খারাপ প্রবৃত্তিকে দেবীর সামনে যজ্ঞের পবিত্র আগুনে ভস্ম করতেই বলি দেওয়া হয়। মহিষাসুরের প্রতীক হিসেবে বেশিরভাগ যজ্ঞের আগে মোষ বলি দেওয়ার রীতি ছিল। পরবর্তীতে তা অনেক ক্ষেত্রে পাঁঠাবলিতে রূপান্তরিত হয়। প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ হওয়ার পর এখনও বহু বনেদি বাড়িতে চালকুমড়ো, আখ ইত্যাদি বলি দেওয়ার চল রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share