Tag: bengal poll violence

bengal poll violence

  • Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটগ্রহণে আক্রান্ত বিজেপি। দিকে দিকে বিজেপি প্রার্থী বা এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে।

    ভাঙল অগ্নিমিত্রার গাড়ির কাচ

    আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের উপর হামলার অভিযোগ। তাঁর গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণের হীরাপুর থানা এলাকায়। অগ্নিমিত্রার গাড়ির পিছনের দিকের কাচ বেশির ভাগটাই ভেঙে গিয়েছে। হীরাপুর থানায় গিয়ে ইতিমধ্যে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। অগ্নিমিত্রা জানান, তিনি বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। রহমতনগর হাই স্কুলের বুথ পরিদর্শন করে বেরোন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, সেই সময়েই চলন্ত গাড়িতে পিছন থেকে পাথর ছোড়া হয়েছে।

    রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুর

    প্রথম দফার ভোটে রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুরও। মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার এজেন্টের। আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থীর এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। জানা গিয়েছে, বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভ্রমরকল অঞ্চলে ৬৮ নম্বর বুথে সকাল থেকেই অশান্তির খবর আসছিল। সেই অশান্তির খবর পেয়েই বুথ পরিদর্শনে যান বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তাঁকে ঘিরে ফেলে কিছু লোকজন। অভিযোগ, মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আক্রান্ত বিজেপি নেতাকে। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আজকে আমি বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ফেরার সময়ে আমার উপরে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন হামলা চালায়। আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।’ বিশ্বজিৎ বর্তমানে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্বজিৎ ছাড়াও লাভপুরের প্রার্থীর দেবাশিস ওঝার ছেলে বিশ্বরূপ ওঝাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে ‘বেধড়ক মার’

    দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের স্বয়ং প্রার্থীকেই মারধরের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পুলিশের সামনেই কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। যাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিছু আগেই তাঁর এজেন্টকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ছাঞ্চল্য ছড়ায়! দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করতে দেখা যায় স্বয়ং বিজেপি প্রার্থীকেই। তারা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বলে অভিযোগ ওঠে। কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন প্রার্থী শুভেন্দু সরকার।

    মালদার চাঁচলে আক্রান্ত বিজেপি

    মালদার চাঁচল বিধানসভার ২২১ নম্বর বুথের ধুম সাডাগী পানপাড়া এলাকায় বিজেপির এক নির্বাচনী এজেন্টের উপর হামলার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ওই এজেন্টের পরনের পাঞ্জাবিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলল তৃণমূল। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। শেষে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সিতাই-ঘাটালে আক্রান্ত বিজেপি

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে ছুরি মারার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সিতাই বিধানসভার ২৭০ নম্বর বুথের ঘটনা। বিজেপির পোলিং এজেন্ট বুথ থেকে বাড়িতে খেতে যান। তখনই তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করার অভিযোগ। আহত এজেন্টকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। ঘাটালের মারিচা গ্রামে ‘আক্রান্ত’ বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। ঘাটালের ৫ নম্বর অঞ্চলের ১৭০ নম্বর বুথে উত্তেজনা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে, অভিযোগ শীতল কপাটের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হামলাকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে।

  • West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “এখানে বেড়াতে আসেননি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। কাজ ঠিকমতো না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে রাজ্যের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, “বাংলায় ভোটের যে কালচার ছিল, এবার তার পরিবর্তন হবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলায় ভোট মানেই হিংসার অভিযোগ—এবার সেই সংস্কৃতি বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কমিশন।

    দু’দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত

    সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর সিইও জানান, দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় নির্বাচন হবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    • ● প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল — ১৫২টি আসন
    • ● দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল — ১৪২টি আসন
    • ● ভোটগণনা: ৪ মে
    • ● সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ: ৬ মে

    আসনসংখ্যা ও সংরক্ষণ

    পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এর মধ্যে—

    • ● ৬৮টি এসসি (তফশিলি জাতি)
    • ● ১৬টি এসটি (তফশিলি উপজাতি) আসন সংরক্ষিত

    কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা

    কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৫৫টি ক্রিটিক্যাল বুথ চিহ্নিত হয়েছে। স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর বুথের তালিকা এখনও প্রস্তুত হচ্ছে, ফলে সংখ্যা বাড়তে পারে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের। প্রতি দফায় ভোট করাতে কত করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, তারও আভাস দিলেন মনোজ। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও তুলে ধরেন তিনি। সেই বিষয়ে জানাতে গিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি গুরুত্বের কথা বলেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিআরপিএফ ঠিক ভাবে কাজ করবে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।’’ কমিশন জানিয়েছে, বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেক্টর অফিসে জানাবে। তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করবে। বুথের মধ্যে যে কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই। সিইও বলেন, ‘‘সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোট করাতে হবে সকলকে। দায়িত্বে গাফিলতি হলে পদক্ষেপ করা হবে।’’ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—

    • ● প্রতিটি দফায় ২২০০–২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা
    • ● প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং
    • ● প্রয়োজনে ড্রোন নজরদারি
    • ● ২৯৪টি আসনে ২৯৪ জন পর্যবেক্ষক
    • ● পুলিশ প্রশাসনের ওপর কড়া নজর
    • –

    মনোজ জানান, প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং থাকবে, যা তিনটি আলাদা কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। কোনও বুথের ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে, সেই ক্ষেত্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করা হবে। এছাড়া, রাজ্যের ২৮টি পুলিশ জেলা ও ৬টি পুলিশ কমিশনারেটে দুজন করে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। কলকাতায় ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ

    থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র বা বোমা মজুত থাকলে ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ভোট চলাকালীন বা ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্য পুলিশকেই জবাবদিহি করতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। সিইও সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ধরা পড়লে সংবিধানের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করা হবে।

    ভোট প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যোগ

    স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—

    • ● প্রতিটি ইভিএমে থাকবে প্রার্থীদের রঙিন ছবি
    • ● ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশন দেবে
    • ● বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ পৌঁছে দেবেন
    • ● এই স্লিপে থাকবে ভোটারের নাম, বুথের বিবরণ ও পার্ট নম্বর।

    ভোটার তালিকা ও বিশেষ উদ্যোগ

    ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিচারাধীন ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে। এই কাজে রাজ্যজুড়ে ৭০৫ জন বিচারপতি নিযুক্ত রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১.৫-২ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

    বয়স্ক ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    • ● ৮৫ বছরের ঊর্ধ্ব ভোটারদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা (ওলা/উবারের সঙ্গে আলোচনা)
    • ● বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট
    • ● রাজ্যে ১০০ বছরের বেশি ভোটার: ৬,৬৫৩ জন

    মনোজ বলেন, ‘‘ভোটার ইনফর্মেশন স্লিপে কিউআর কোড থাকবে। এর আগে রাজনৈতিকদল ওই স্লিপ দিত। এ বার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন।’’ ৮৫ বা তার বেশি বয়সি ভোটারেরা বাড়ি থেকে ভোটদান করতে পারবেন। সিইও বলেন, ‘‘ওই ভোটারেরা বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট দিতে পারবেন। বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভোট নিয়ে আসা হবে।’’

LinkedIn
Share