Tag: bengali Film industry

bengali Film industry

  • Tollywood: ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর তুঘলকি কাণ্ডে ৫০০ কোটির ক্ষতি টলিপাড়ার! তাও চুপ রাজ্য

    Tollywood: ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর তুঘলকি কাণ্ডে ৫০০ কোটির ক্ষতি টলিপাড়ার! তাও চুপ রাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন। কয়েক দিন ধরে এই শব্দগুলি শোনা যায়নি টলি-পাড়ায় (Tollywood)। প্রতিবাদের আঁচ পড়েছিল স্টুডিও পাড়ায়। সিনেমা-সিরিয়াল টু ওটিটি- সব শুটিং ছিল বন্ধ। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে নাকি কাজ শুরু হল স্টুডিও পাড়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচালক-টেকনিশিয়ানদের বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে তারকা-সাংসদ দেব জানিয়েছিলেন ফেডারেশনের সঙ্গে পরিচালকদের দ্বন্দ্বে দাঁড়ি পড়তে চলেছে। কিন্তু আদতে কি দাঁড়ি পড়ল নাকি টালিগঞ্জের প্রযোজক-পরিচালকরা একপ্রকার বাধ্য হলেন তাঁদের ক্ষতিটা মেনে নিতে? আসলে ফেডারেশনের তথাকথিত যেসব ‘নিয়ম’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন টলিপাড়ার পরিচালক এবং প্রযোজকেরা সেসব নিয়ম-কানুন পাল্টে যাবে, এমনটাই আশ্বাস মিলেছে। কিন্তু সেই নিয়ম পাল্টাবেন কে? ফেডারেশনের সমস্ত রকমের নিয়ম কানুন নিয়ে একটি রিভিউ কমিটি তৈরি হচ্ছে। সেই কমিটির মাথায় রয়েছেন রাজের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি আবার ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের (Swarup Biswas) দাদা। অতএব ক্ষমতার অদলবদল হল না আদপে পাট্টা রইল “বিশ্বাস ব্রাদার্সের” হাতেই!

    অনিশ্চিত কাজের পরিবেশ

    বুধবার টালিগঞ্জের (Tollywood) কলাকুশলীদের সংগঠনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)  জানান, পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের বিষয়ে তাঁদের আরও কিছু আলোচনা বাকি রয়েছে। তার জন্য কয়েকদিন প্রয়োজন। ফেডারেশনের আওতাভুক্ত টেকনিশিয়ানরা রাহুলের পরিচালনায় কাজ করবেন কি না মূলত সেই বিষয়ে আলোচিত হবে আগামী কয়েকদিনের ফেডারেশনের বৈঠকে। বক্তব্য শেষে স্বরূপ আরও জানান, ৫ অগাস্ট নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে ফেডারেশন। অতএব এখনও কিন্তু কোনও নিশ্চয়তা নেই। 

    স্বজনপোষণ

    যে বিষয়গুলি এখনও অস্পষ্ট, তা হল স্রেফ স্বজনপোষণের ভিত্তিতেই কি চলতে থাকবে গিল্ডের কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া? না কি যোগ্যতার নিরিখে বিচার করা শুরু হবে?  আর তা যদি না হয়, তাহলে  মেধাবী ছাত্ররা যেমন চলে যাচ্ছেন, সে রকম মেধাবী পরিচালকরাও বাংলা ছেড়ে ভিন্-রাজ্যে পাড়ি দেবেন। না, ফেডারেশনের সভাপতি কোনও দিনই ‘ব্যানড’ শব্দটি সমর্থন করেন না। পরিবর্তে, অসহযোগ নীতিকেই টেকশিয়ানদের আন্দোলনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চান। ফলে, পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায় যখন ফেডারেশনকে লুকিয়ে বাংলাদেশে শুটিং করেন, তখন ফেডারেশনের তরফে রাহুলের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে লেখা, “চিরন্তন মুখোপাধ্যায় (রাহুল) ফেডারেশনের নিয়মবিরুদ্ধ কাজ করেছেন। সেই সূত্রে ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (ডিএইআই) তাঁকে শুটিং সংক্রান্ত কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।”

    বাজেট বেশি

    ফেডারেশনের মতে, এক একটা শুটিংয়ে গড়ে ১২০ জন টেকশিয়ান নিতে হবে। অর্থাৎ, মানুষ বেশি, ছবির বাজেট বড়। ছবির বাজেট ছোট হলে চলবে না। কিন্তু এই বাজেট দিতে রাজি হন না কোনও প্রযোজক। অতএব সমস্যায় পড়েন পরিচালকরা। ফেডারেশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’ কলকাতা থেকে চলে গেল। স্বরূপ ওরফে ফেডারেশনের দাবি, বাংলাদেশ হল ‘বিদেশ’। তাই এখানকার টেকনিশিয়ানরা কাজ করার জন্য চারগুণ বেশি অর্থ নেবেন। স্বাভাবিক ভাবেই ‘চরকি’ সেই টাকা দেবে না, ফলে তারা বাইরে চলে গেল। ধরা যাক, একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বছরে ১২টি ছবি ও ১২টি ওয়েব সিরিজ নিয়ে আসে। ওয়েব সিরিজের খরচ ধরা যাক গড়ে ১.৫ কোটি। তা হলে ১২টি ওয়েব সিরিজের খরচ ১৮ কোটি। গড়ে একটি ওটিটি ছবির খরচ যদি ১ কোটি হয়, তা হলে ১২টি ছবির হিসেবে ১২ কোটি। অতএব, ‘চরকি’ চলে যাওয়ায় মোট ৩০ কোটির আর্থিক ক্ষতি হল পশ্চিমবঙ্গে! ‘চরকি’ কলকাতায় শুটিং করতে পারলে আরও অনেক ওটিটির শুটিং হত এখানে। যদি কম করে তিনটি ওটিটির শুটিং হত, তা হলে অঙ্ক দাঁড়াত মোটামুটি দেড়শো কোটি! 

    আরও পড়ুন: ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে শুক্রবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা

    কত টাকার ক্ষতি

    কলকাতায় কোনও হিন্দি ছবি শুট করা হলে চোখ বন্ধ করে ৬.৫ কোটি বাজেট থাকে টেকশিয়ানদের জন্য। তামিল, তেলুগু ছবির ক্ষেত্রেই একই হিসেব। যদি ৫টি হিন্দি ছবি আর ৫টি দক্ষিণী ছবি কলকাতায় হয় তা হলে অঙ্ক দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি। মাঝেমধ্যে তা ১০০ কোটিও ছুঁয়ে ফেলে। হিন্দি ওটিটির শুটিং সব বাইরে চলে গিয়েছে। হিন্দি ওটিটি থেকে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারত। শুধুমাত্র ফেডারেশনের কঠোর নিয়মাবলির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

    বাংলা ছবি কমেছে

    আগে বছরে ১৪০টি বাংলা (Tollywood) ছবি হত। এই বছরে তা ৬৫ থেকে ৭০। প্রতিটি ছবি যদি ১.৫ কোটির হয়, তা হলে প্রায় মোট প্রায় একশো কোটি। যদি বিজ্ঞাপনী ফিল্মের কথা বলা হয়, কলকাতার বিজ্ঞাপনী ফিল্মের বাজেট থাকে ২৫ লক্ষ, মুম্বইয়ের ক্ষেত্রে তা ৭০ লক্ষ। আগে পুজোর সময় অধিকাংশ বিজ্ঞাপনী ফিল্মের শুটিং হত কলকাতায়। ঠিক যে রকম আইপিএলের মরসুমে শুটিং হয় মুম্বইয়ে। সে ক্ষেত্রে হিসেব করলে আয় হতে পারত একশো কোটি। ফেডারেশনের পরিকাঠামোর জন্য সেই পথও বন্ধ! নানাদিক দিয়ে হিসেব করলে দেখা যাবে বিশ্বাস ব্রাদার্সের তৈরি নানান নিয়মে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে টলিপাড়ার। তবু উদাসীন রাজ্য সরকার।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ashima Mukherjee: প্রয়াত হলেন বাংলা চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সুরকার অসীমা মুখোপাধ্যায়

    Ashima Mukherjee: প্রয়াত হলেন বাংলা চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সুরকার অসীমা মুখোপাধ্যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত হলেন বাংলা চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সুরকার অসীমা মুখোপাধ্যায় (Ashima Mukherjee)। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ নিজের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শিল্পীর। মৃত্যুকালে এই সুরকারের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অসীমাদেবী বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে অসীমার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

    অভিনেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী অসীমাদেবী

    ‘চৌরঙ্গী’ ছবিতে অসীমার (Ashima Mukherjee) সুরে ‘বড় একা লাগে এই আঁধারে’ গানটি গেয়েছিলেন মান্না দে। এই গান আজও সমান জনপ্রিয়। অসীমাদেবীর অন্য একটি পরিচয়ও অবশ্য রয়েছে, তিনি অভিনেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী। প্রযোজক হিসেবেও যথেষ্ঠ সফল ছিলেন অসীমাদেবী। ‘মেমসাহেব’, ‘বাঘবন্দী খেলা’  ছবিগুলি তাঁরই প্রযোজনায় তৈরি হয়েছিল। তাঁর সুরে গান গেয়েছেন মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখোপাধ্যায়, হৈমন্তী শুক্লার মতো শিল্পীরা। প্রসঙ্গত, কলকাতা এবং জামশেদপুর আকাশবাণীতে সহ-অধিকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন অসীমাদেবী। একাধিক ছবিতে (Ashima Mukherjee) হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও মান্না দের সঙ্গে গানও গেয়েছিলেন অসীমাদেবী। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠান আজও মহালয়ার ভোরে প্রতি হিন্দু বাঙালি বাড়িতে বেজে ওঠে। এই অনুষ্ঠানে আরতি মুখোপাধ্যায় ও শ্যামল মিত্রর সঙ্গে ‘শুভ্র শঙ্খরবে’ গানটি অসীমাদেবী গেয়েছিলেন।

    উত্তমকুমারকে ভাইফোঁটা দিতেন অসীমাদেবী

    সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বছরকয়েক আগে অসীমাদেবী (Ashima Mukherjee) জানিয়েছিলেন, ভাইফোঁটার দিন তিনি যেতেন উত্তমকুমারের বাড়ি। সঙ্গে নিতেন সব উপকরণ। মোট চার বছর মহানায়ককে ভাইফোঁটা দিয়েছিলেন তিনি। উত্তম কুমার বয়সে বড় হয়েও, সুরকারকে ‘অসীমাদি’ বলে সম্বোধন করতেন। উত্তম কুমার একবার ভাইফোঁটায় তাঁকে ‘আমার আমি’ নামের জীবনী বইটি উপহার দিয়েছিলেন। আর তারপর শাড়িই দিতেন প্রতি বছর।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share