Tag: bengali news Pakistan Medicine Shortage

  • Pakistan Medicine Crisis: আর্থিক দেউলিয়াত্ব-প্রশাসনিক ব্যর্থতা! ওষুধ সঙ্কটে ভেঙে পড়ার মুখে পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা

    Pakistan Medicine Crisis: আর্থিক দেউলিয়াত্ব-প্রশাসনিক ব্যর্থতা! ওষুধ সঙ্কটে ভেঙে পড়ার মুখে পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর্থিক দেউলিয়াত্ব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতায় জেরবার পাকিস্তান। এবার এক চরম স্বাস্থ্য সঙ্কটের মুখে পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan Medicine Crisis)। জীবনদায়ী ওষুধের (Life-saving Medicines) তীব্র ঘাটতির কারণে সে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। ওষুধের দাম নির্ধারণ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের দীর্ঘসূত্রতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই সঙ্কটকে আরও গভীর করে তুলেছে। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো মারণব্যাধির ওষুধ না পেয়ে সে দেশে হাহাকার শুরু হয়েছে। অথচ, এই একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশ্বের ‘ফার্মেসি’ (Pharmacy of the World) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বের দরবারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে।

    পরিস্থিতি হাতের বাইরে (Healthcare Crisis)?

    পাকিস্তানে জীবনদায়ী ওষুধের সাম্প্রতিক সঙ্কট ও উৎপাদন কমে যাওয়ার পিছনে মূল কারণগুলো অনুসন্ধান করেছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘ড্র্যাপ’ (DRAP)। ওষুধ তৈরির খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কারণ দায়ী। পাকিস্তানি রুপির রেকর্ড পরিমাণ মূল্যপতনের ফলে আমদানির খরচ আকাশচুম্বী। ওষুধ তৈরির আমদানিকৃত কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন এবং শ্রমিকদের মজুরি বা শ্রমের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া ও ব্যাংক ঋণ বা অর্থায়নের অতিরিক্ত খরচ ইত্যাদি এই সংকটের জন্য দায়ী।

    অন্যদিকে, দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারের বর্তমান মূল্য নির্ধারণ নীতি (Pricing policy) মেনে ওষুধ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই তোলা সম্ভব হচ্ছে না। লোকসান এড়াতে অনেক কোম্পানি বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ (Dawn)-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের পিছনে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতাও বড় ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ওষুধ তৈরি করা ফার্মা কোম্পানিগুলোর জন্য আর লাভজনক ছিল না। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ড্র্যাপ (DRAP) দুই বছরেরও বেশি সময় আগে ১০৫টি অতি প্রয়োজনীয় বা সঙ্কটকালীন ক্যাটাগরির (Hardship category) ওষুধের দাম পুনর্বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। দুর্ভাগ্যবশত, সেই প্রস্তাবগুলো এখনও পাকিস্তানের ফেডারেল ক্যাবিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।

    দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি সিদ্ধান্ত না আসায় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ওষুধের উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলস্বরূপ, বেশ কিছু উৎপাদক সংস্থা বাজারে অতি প্রয়োজনীয় ও জীবনদায়ী ওষুধের জোগান পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশজুড়ে তীব্র ওষুধ সঙ্কট (Pakistan Medicine Crisis) তৈরি হয়েছে।

    দেউলিয়া পাকিস্তানের ব্যর্থতা

    অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পাকিস্তান সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে ওষুধের দাম বাড়াতে দিচ্ছে না, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ফার্মা কোম্পানিগুলি ওষুধ তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ইনসুলিন, ক্যানসারের কেমোথেরাপির ওষুধ, হেপারিন এবং সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের মতো জরুরি ড্রাগ।

    ধুঁকছে পাকিস্তান, বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে ভারতের ফার্মা সেক্টর

    পাকিস্তানের এই শোচনীয় পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাকিস্তান যখন সামান্য প্যারাসিটামল বা ইনসুলিনের জন্য অন্যান্য দেশের দিকে হাত পাতছে, ভারত তখন সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল হয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করছে। ভারত আজ বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী দেশ। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত ভ্যাকসিনের ৬০ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয় ভারতে। ভারতের শক্তিশালী ফার্মা পরিকাঠামোর কারণে এখানে অত্যন্ত কম মূল্যে জীবনদায়ী ওষুধ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, যা পাকিস্তানের কাছে কল্পনা করাও অসম্ভব। পাকিস্তানের রোগীরা আজ নিজেদের দেশে ন্যূনতম চিকিৎসা না পেয়ে ভারতের উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

LinkedIn
Share