Tag: Bengaluru

Bengaluru

  • India’s 1st Bullet Train: ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন! ৮টি কোচে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী

    India’s 1st Bullet Train: ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন! ৮টি কোচে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এবার ভারতের মাটিতেই তৈরি হচ্ছে প্রথম দেশীয় প্রযুক্তির বুলেট ট্রেন (India’s 1st Bullet Train)। মুম্বই-আমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরের জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক ট্রেনের উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড (BEML)-এর কারখানায়। বিদেশি প্রযুক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে এই ট্রেন। দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু এবং রেল চলাচলের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এর নকশা তৈরি করা হয়েছে।

    কত গতিতে ছুটবে বুলেট ট্রেন?

    নতুন এই বুলেট ট্রেনের সর্বোচ্চ পরীক্ষামূলক গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার। তবে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেনটি ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার গতিতে চলবে। ট্রেনটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ২০২ মিটার। থাকবে মোট ৮টি কোচ। এর মধ্যে চারটি মোটর কার এবং চারটি ট্রেলার কার। একসঙ্গে মোট ৫৫৭ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন। বিশেষভাবে সক্ষম এবং চলাফেরায় অসুবিধা রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্যও থাকছে দুটি নির্দিষ্ট আসন। ট্রেনটিতে সাতটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাসের কোচ থাকবে, যেখানে ৩×২ আসন বিন্যাসে বসার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি একটি এক্সিকিউটিভ ক্লাসের কোচে থাকবে ২×২ আসন বিন্যাস। ট্রেনের দু’প্রান্তেই থাকবে চালকের কেবিন। অত্যাধুনিক অনবোর্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে।

    যাত্রীদের আরামের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    যাত্রীদের আরামদায়ক সফরের কথা মাথায় রেখে ট্রেনের ভিতরের নকশা তৈরি করা হয়েছে। থাকবে প্রশস্ত আসন, পর্যাপ্ত লেগরুম এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ সজ্জা। প্রতিটি কোচের মধ্যে সংযোগকারী বিশেষ সিল করা গ্যাংওয়ে থাকবে, যার সাহায্যে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারবেন। প্রতিটি আসনের সারির পাশে থাকবে বড় জানালা। ফলে যাত্রাপথের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। আধুনিক এলইডি আলো, মাথার উপরে লাগেজ রাখার জায়গা এবং বড় ব্যাগ রাখার জন্য আলাদা স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাও থাকছে। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য প্রতিটি আসনের কাছে থাকবে পৃথক পাওয়ার আউটলেট। এছাড়াও পরিবেশবান্ধব বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট থাকবে ট্রেনটিতে। এর ফলে বর্জ্যের পরিবেশগত প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

    থাকছে আধুনিক তথ্য ও বিনোদন ব্যবস্থা

    যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে প্রতিটি কোচে থাকবে এলসিডি ডিসপ্লে। ইংরেজি, হিন্দি এবং আঞ্চলিক ভাষায় ট্রেনের বিভিন্ন তথ্য দেখতে পারবেন যাত্রীরা। পাশাপাশি থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস এবং স্বয়ংক্রিয় ঘোষণার ব্যবস্থা। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য থাকছে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই নির্ভর ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে আগে থেকে লোড করা বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন তাঁরা। জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ ইমার্জেন্সি টক-ব্যাক ইউনিট।

    বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

    সকলের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেনের মেঝে এবং প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা একই রাখা হবে, যাতে সহজেই ওঠানামা করা যায়। ট্রেনের দরজায় থাকবে প্রত্যাহারযোগ্য ফুটস্টেপ, যা প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মধ্যবর্তী ফাঁক কমাতে সাহায্য করবে। বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের উপযোগী করে তৈরি করা হবে দরজা ও শৌচাগার। দৃষ্টিহীন যাত্রীদের জন্য থাকবে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশিকা ও তথ্যচিহ্ন। সারা বছর যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে প্রতিটি কোচে থাকবে ডুয়াল-ইউনিট এইচ-ভ্যাক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোচের ভিতরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি শব্দদূষণ কমানোর জন্য ট্রেনের বডি এবং মেঝেতে বিশেষ সাউন্ড ইনসুলেশন ও নয়েজ ড্যাম্পিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

    শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি

    ২৫ কেভি এসি ওভারহেড বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় চলবে এই বুলেট ট্রেন। শক্তি সাশ্রয়ের জন্য থাকছে অত্যাধুনিক রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম। ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে বৈদ্যুতিক গ্রিডে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। এছাড়াও ট্রেনের সামনের অংশ এবং সম্পূর্ণ বডি বিশেষ অ্যারোডাইনামিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে এর নকশা তৈরি করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা। এর ফলে বাতাসের বাধা কমবে, টানেলের মধ্যে প্রবেশের সময় বায়ুর চাপজনিত শব্দ ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সব মিলিয়ে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বুলেট ট্রেন ভারতের রেল পরিকাঠামোয় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে। গতি, আরাম, নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতের হাইস্পিড রেল পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

  • Vande Mataram: কর্নাটক বিধানসভায় দুই স্তবকের পর ‘বন্দে মাতরম’ থামতেই পুরো গান গাইলেন বিজেপি বিধায়করা, উত্তপ্ত বিধান পরিষদও

    Vande Mataram: কর্নাটক বিধানসভায় দুই স্তবকের পর ‘বন্দে মাতরম’ থামতেই পুরো গান গাইলেন বিজেপি বিধায়করা, উত্তপ্ত বিধান পরিষদও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটক বিধানসভা ও বিধান পরিষদের অধিবেশন শুরুর সময় সরকারিভাবে ‘বন্দে মাতরমে’র (Vande Mataram) রেকর্ডিং দুই স্তবক গাওয়ার পর থেমে যায়। এরপর বিজেপির বিধায়ক ও পরিষদ সদস্যরা নিজেরাই গানটির বাকি অংশ গেয়ে পুরো গানটি শেষ করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিধানসভায় ও বিধান পরিষদে (Karnataka Assembly Council) শাসক কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও বিক্ষোভ হয়।

    রাজ্যের খরা পরিস্থিতি এবং পশ্চিমঘাটের পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল নিয়ে কস্তুরীরঙ্গন কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার থেকে কর্নাটক বিধানসভার তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। বিধানসভায় অধিবেশন শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মাধ্যমে। কিন্তু সরকারিভাবে বাজানো রেকর্ডিং দুই স্তবকের পর বন্ধ হয়ে যায়।

    ‘বন্দে মাতরম’ গাইলেন বিজেপি বিধায়করা (Vande Mataram)

    এর পর বিধানসভার অধ্যক্ষ জি এস পাটিল সম্প্রতি প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শোকজ্ঞাপন পাঠ শুরু করেন। সেই সময় বিজেপি বিধায়করা ‘বন্দে মাতরমে’র বাকি স্তবকগুলি গাইতে শুরু করেন এবং পরে স্লোগান দেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক আরবি শিরিয়ান্নাভারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন।

    বিধান পরিষদেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিষদের সভাপতি সলিম আহমেদ নিয়ম অনুযায়ী সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ শুরু করলেও বিজেপির সদস্যরা ‘বন্দে মাতরমে’র বাকি স্তবকগুলি আবৃত্তি করতে থাকেন। পরে পূর্ণ গান পরিবেশন না করার জন্য তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

    এর জেরে বিধান পরিষদে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী সদস্যরা সভাকক্ষের মধ্যবর্তী অংশে নেমে বিক্ষোভ দেখান। কংগ্রেস সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিজেপি সদস্যরা সভাপতির নির্দেশ মানছেন না এবং ইতিমধ্যেই পাঠ করা সংবিধানের প্রস্তাবনা ফের পড়ে সভার কার্যপ্রণালী ব্যাহত করছেন।

    সভাপতি সলিম আহমেদ জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা ইতিমধ্যেই পাঠ করা হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’ দুই স্তবক পর্যন্ত পরিবেশনের সিদ্ধান্ত সরকারই নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

    কর্নাটক সরকার ৮ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দিয়েছিল, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী অথবা রাজ্যপাল উপস্থিত না থাকলে রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচিতে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২৮ জানুয়ারির নির্দেশিকায় অবশ্য সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরমে’র ছয়টি স্তবক গাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হলে আগে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরে ‘জন গণ মন’ গাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    বিধান পরিষদে সরকারের তরফে পরিষদ নেতা তথা মন্ত্রী যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া বলেন, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যপাল উপস্থিত থাকা অনুষ্ঠানগুলি বাদ দিয়ে সরকারি কর্মসূচিতে শুধু দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই কক্ষেই দুই স্তবক পরিবেশন করা হয়েছে।

    এদিকে বিজেপি সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অসম্মান দেখানোর অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। পাল্টা কংগ্রেস সদস্যরা বিজেপির বিরুদ্ধে সংবিধানের প্রস্তাবনাকে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন। দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

    কংগ্রেসের পরিষদ সদস্য বিকে হরিপ্রসাদ বলেন, পরিষদে বর্তমানে ‘বন্দে মাতরমে’র দুই স্তবকই গাওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০১১ সালে বিজেপির সদস্য সভাপতি থাকাকালীন চারটি অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছিল।

    বিতর্কের মধ্যে যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া বলেন, বিধানসভায় মানুষের সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলনেতা চলবাদী নারায়ণস্বামী এবং অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। সভাপতির ভূমিকা নিয়ে যতীন্দ্রের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নারায়ণস্বামী দাবি করেন, সভাপতির উচিত যতীন্দ্রের বক্তব্যের জন্য তাঁকে ভর্ৎসনা করা।

    সভাপতি সলিম আহমেদ জানান, তিনি কার্যবিবরণীর নথি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজন হলে আপত্তিকর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। তবে তাতেও বিরোধী দলনেতা সন্তুষ্ট হননি। যতীন্দ্র পাল্টা অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    এর পর উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, বিরোধীরা খরা ও কস্তুরীরঙ্গন রিপোর্টের মতো জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়, বরং শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সরব হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্যে বিজেপি সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সভায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

    পরমেশ্বর কস্তুরীরঙ্গন রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করতেই বিজেপি সদস্যরা দুই স্তবকে ‘বন্দে মাতরম’ সীমাবদ্ধ করার প্রতিবাদে সভার মধ্যবর্তী অংশে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।পরমেশ্বর বক্তব্য শেষ করার পর সভাপতি কিছু সময়ের জন্য সভা মুলতুবি করেন।

    পরে সভা ফের শুরু হলে সভাপতি জানান, ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) নিয়ে তিনি শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে কীভাবে পরবর্তী আলোচনা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত (Karnataka Assembly Council) নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। সভাপতির এই প্রস্তাব মেনে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন বিজেপি সদস্যরা।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা, বৈষম্য ও বিদ্বেষের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। অন্তত এমনই দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Hindus Under Attack)। খুন, ধর্মান্তরে চাপ, জমি দখল, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে (Weekly Roundup)।

    প্রতিবেদনটির দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘটনাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ঘটলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে এর ব্যাপকতা ও গভীরতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে হিন্দুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোট (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোটে জানানো হয়েছে, ভারতে এবং বিদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি তুলে ধরাই এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সেখানে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও হিন্দুরা বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন—এই বাস্তবতা সামনে আসা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

    প্রতিবেদনে ধর্মনিরপেক্ষতা, সর্বধর্মসমভাব এবং “বসুধৈব কুটুম্বকমে”র মতো ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, এর কয়েকটি ধারণাকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অতিরিক্ত সহনশীলতার ফলে কিছু বিদ্বেষমূলক অপরাধ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। হিন্দু সমাজকে ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

    ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়কালের ঘটনাগুলির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    মেঘালয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ

    মেঘালয়ে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গির্জার প্রভাবের কারণে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর একাংশ পদ্ধতিগত জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংগঠনের একটি সমাবেশের পর অসমীয়া ও বাঙালি বাসিন্দা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এগুলির অধিকাংশই অসম থেকে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়ি বলে দাবি করা হয়েছে। বাঙালি ও অসমীয়াদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং শারীরিক হামলার অভিযোগও রয়েছে।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ও মূর্তিতেও হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

    হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রচারপত্র

    তামিলনাড়ুর হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরে নারকেল ভাঙা, চুলে ফুল পরা, কর্পূর ও ধূপজাতীয় সামগ্রী ব্যবহার-সহ বিভিন্ন প্রচলিত আচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওই প্রচারপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    মুম্বইয়ে গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    মুম্বইয়ের মাজগাঁওয়ে গণেশ মণ্ডলের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শোভাযাত্রার সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছুড়ে দেন। ঘটনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    বরলক্ষ্মী ব্রত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক

    দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বরলক্ষ্মী ব্রত পালন করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী চিন্ময়ী শ্রীপাদার একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, নিজেকে নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া চিন্ময়ী হিন্দু নারীদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর পুরনো রমজান-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে তিনি লিখেছিলেন, “রমজানের উপবাসে থাকা বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উপবাস ভাঙার আগে পর্যন্ত তাদের সামনে খাওয়া বা পান না করি।”

    টিপু সুলতানকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কমাগালুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪০ ফুট উচ্চতার টিপু সুলতানের প্রতিকৃতি-সহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যার সঙ্গে পাক সেনা ও মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত একটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল (Weekly Roundup)।

    আফরিদ নামে ওই যুবককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    স্কুলের দেওয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান

    পাঞ্জাবের বঠিন্ডা জেলার জয় সিংহ ওয়ালা গ্রামের একটি সরকারি স্কুল এবং অন্য একটি দেওয়ালে “শহিদ দিলাওয়ার বাব্বর” এবং শিখস ফর জাস্টিসের উল্লেখ-সহ উসকানিমূলক স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষা বাজেট নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে মহারাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে বাজেট কমে যাওয়া এবং মারাঠি-মাধ্যমের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।প্রতিবেদনের বক্তব্য, নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার জন্য বরাদ্দ অর্থের সামান্য অংশও যদি ওই স্কুলগুলির জন্য ব্যবহার করা যেত, তাহলে বেশ কয়েকটি স্কুলকে রক্ষা করা সম্ভব হত। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে হজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও গির্জার জন্য সরকারি অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মাদ্রাসার অর্থায়ন খতিয়ে দেখছে এটিএস

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্যের হাজার হাজার মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব, অর্থের উৎস এবং পড়ুয়াদের নথি পরীক্ষা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে সরকারি অনুদান ছাড়াই পরিচালিত প্রায় ১৬ হাজার মাদ্রাসার অর্থের উৎস, আয়-ব্যয় এবং সেখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঈদ-ই-মিলাদ মিছিল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর বাসবনগুড়ি এলাকায় ঈদ-ই-মিলাদ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলের বলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন হিন্দু যুবকের ওপর হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপে হামলার শিকার হিন্দু যুবক এবং ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পরিকল্পিত আমেরিকা সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    সংস্থাটি আরএসএসের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার” অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান আসিফ মাহমুদের পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে লেখকদের অভিমত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈরিতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্ম হিন্দুবিদ্বেষ দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না এবং প্রচলিত আইন ও নীতির ধরন বিশ্লেষণ করলেই তা বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণের দিক থেকে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হলেও, হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির মধ্যে থাকা সামঞ্জস্যহীনতা বিবেচনা করলে বিষয়টি নতুনভাবে দেখা (Weekly Roundup) প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনটির এই সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Hindus Under Attack:  হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, ভারতজুড়ে একাধিক ঘটনার অভিযোগ

    Hindus Under Attack:  হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, ভারতজুড়ে একাধিক ঘটনার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলেই অভিযোগ। বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন, ধর্মান্তরে বাধ্য করা, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি (Weekly Round up) অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি, এই ঘটনাগুলির সামগ্রিক মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি।

    ৯ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে হিন্দুদের ওপর হামলা ও বৈষম্যের অভিযোগে ছ’টি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার সম্ভব হয়নি।

    অবৈধ অভিবাসনবিরোধী পুলিশের অভিযান (Hindus Under Attack)

    বেঙ্গালুরুতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী পুলিশের অভিযানে বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

    শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। ইলেকট্রনিক সিটি ও হোয়াইটফিল্ড বিভাগের অভিযানে যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২,৮৯৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করাই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

    হিন্দুত্ববাদী কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    আহিল্যানগর পুরসভার বিদ্যুৎ দফতরের চুক্তিভিত্তিক কর্মী ধীরজ কাচারুসিংহ রাজপুত ওরফে পরদেশিকে মুকুন্দনগরে একদল মুসলিম মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    তাঁর স্ত্রী ও কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের অভিযোগ, মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় কপালে তিলক পরায় তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে মারধর করা হয়েছিল। ঘটনাটিকে তাঁরা পরিকল্পিত হামলা হিসেবে দাবি করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    কানওয়ার যাত্রা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বামপন্থী সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ নিয়মিতভাবে কানওয়ারিয়া ও কানওয়ার যাত্রাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। এর মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার একটি বিশেষ রাজনৈতিক ব্যাখ্যা প্রচার করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দ্য ওয়্যারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হিন্দুবিদ্বেষী প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি লেখাকে তুলনামূলকভাবে পরোক্ষ পদ্ধতিতে একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেখক আকাশ জোশী প্রথমে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও গাড়ির মালিকদের দৃষ্টিতে কানওয়ারিয়াদের যানজট এবং নিরাপত্তার জন্য সমস্যা হিসেবে দেখিয়েছেন। পরে তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর, অর্থাৎ কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি কর্তৃপক্ষ কানওয়ার যাত্রীদের যাত্রা সহজ করার চেষ্টা করছে।

    বেঙ্গালুরুতে কৌতুক অনুষ্ঠান বাতিল

    বেঙ্গালুরুর চার্চ স্ট্রিটের দ্য কমেডি থিয়েটারে নাসিফ আখতারের প্রস্তাবিত কৌতুক অনুষ্ঠান “ডিসরাপ্টেড” অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। হিন্দু সংগঠনগুলির আপত্তির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয় (Hindus Under Attack)।

    সংগঠনগুলির আশঙ্কা ছিল, অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। তাঁদের আপত্তির পরেই অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে খবর।

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এখন মতাদর্শের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের প্রতিষ্ঠাতা তথা মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জোসেফ  সংবিধাননির্ভর ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা বলেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর দল রাজনৈতিক পরিসরে খ্রিস্টধর্মকে ক্রমশ বেশি করে জায়গা দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    দিল্লিতে কিশোরকে হত্যা, কানওয়ার যাত্রার যোগসূত্রের দাবি

    দিল্লির আদর্শনগরের লালবাগ বস্তিতে ১২ অগাস্ট বুধবার রাতে ১৬ বছর বয়সী নীরজকে প্রথমে ছুরি মেরে এবং পরে গুলি করে খুন করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আমান মুল্লার সঙ্গে বিবাদের পর এই হামলা ঘটে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীরজ একটি কারখানায় কাজ করতেন। ১১ আগস্ট কানওয়ার যাত্রা থেকে ফিরেছিলেন তিনি। তাঁর কানওয়ার যাত্রায় অংশগ্রহণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হামলার সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে থাকা হিন্দুবিদ্বেষী মনোভাব থেকে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক অপরাধের জন্ম হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কেবল প্রকাশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, আপাতদৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে থাকা সূক্ষ্ম বৈষম্যও হিন্দুবিদ্বেষকে উৎসাহিত করতে পারে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের যুক্তি, নিষেধাজ্ঞার পেছনে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখানো হলেও, আদতে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বিষয়টি নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন উঠতে পারে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং মতামতকে তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আদালতের নথি এবং স্বাধীন সংবাদসূত্র দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন (Weekly Round up)। বিশেষ করে ধর্মীয় বিদ্বেষ, হত্যাকাণ্ড ও অবৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hindus Under Attack)।

     

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, উৎসবে বাধা, হিংসা এবং (Hindus Under Attack) প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং হিন্দু পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ (Roundup Week)। ১ থেকে ৮ অগাস্ট ২০২৬ সময়ের ঘটনাগুলির একটি সাপ্তাহিক সংকলনে এমনই কয়েকটি অভিযোগ ও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিসির সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুঘল শাসকদের অত্যাচারকে আড়াল করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত তথ্য-জালিয়াতদের পক্ষ নেওয়া পর্যন্ত এমন এক ধরনের বয়ান প্রচার করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে আড়াল করে। প্রতিবেদনে তাঁর সাংবাদিকতার ধরনকে হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। হায়দরাবাদের দুধবাউলি এলাকার শান্তিনিকেতন হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বাধ্যতামূলক প্রাতঃকালীন সমাবেশে কয়েকশো অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়ার সামনে একটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বহিরাগত অতিথিকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছিল এবং বিদ্যালয় চত্বরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রদর্শিত হয়েছিল। স্কুলের পরিবেশে এমন কর্মসূচির যথার্থতা নিয়ে এরপর প্রশ্ন ওঠে।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিসরের একটি অংশে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের অবজ্ঞার প্রকাশ। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও আচারকে বিদ্রূপ করার প্রবণতাও এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঞ্জাবের মোহালি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মোহালির ধাকোলি এলাকার এক হিন্দু মহিলা। তিনি মোহালির পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মীর আরফাক আলি বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁকে একটি জবরদস্তিমূলক সম্পর্কে আটকে রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তড়িঘড়ি বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় (Hindus Under Attack)। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে বিহারের নিজের গ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

    শপিং মলে একী কাণ্ড!

    উত্তরপ্রদেশের ইন্দিরাপুরমের একটি শপিং মলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাতে বড় একটি ছুরি নিয়ে এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া বুরিটো খাবারের দোকানের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে পরপর চড় মারছেন। এক মহিলা সহকর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে গবাদি পশু পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নুহ পুলিশ ৩০ বছর বয়সি জাবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, জাবির দীগ জেলার পাহাড়ি থানার ঘাটমিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিচালনার সময় তাঁর বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে নালহারের শহিদ হাসান খান মেওয়াতি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর সহযোগী সাহুন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে (Roundup Week) তল্লাশি। বেঙ্গালুরুর দেবরা জীবনহল্লি এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি আধিকারিক কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দস্তগীর, ইয়ারব এবং ইকবালের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

    বিদেশের ছবি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক করিশ্মা রেড্ডির অভিযোগ, তাঁর নিজের কপালের টিপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তিনি বর্ণবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। পেশায় প্লাস্টিক সার্জন করিশ্মা জানান, ভিডিওটিতে তিনি এক রোগীর সঙ্গে একটি হালকা মেজাজের কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসতে শুরু করে। কয়েকজন ইউজার তাঁকে ভারতে ফিরে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, করিশ্মার জন্ম ও বেড়ে ওঠা (Hindus Under Attack) যুক্তরাষ্ট্রেই।

    হিন্দুবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

    বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ বহু ঘৃণাজনিত অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায় বলেই অভিযোগ। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এর কারণ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনের বক্তব্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির ক্ষেত্রে নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যায় (Hindus Under Attack)।

    মনে রাখতে হবে, ওপরের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই অভিযোগ, দাবি কিংবা বিতর্কের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, আদালতেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবিও এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে (Roundup Week) না।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে (Hindus Under Attack)। হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—বিভিন্ন ধরনের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে সাপ্তাহিক এক প্রতিবেদনে (Roundup Week)। ২৬ জুলাই থেকে ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বহু অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পেছনে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতে একাধিক ঘটনা নিয়ে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ছাত্রদের একটি বিক্ষোভ চলাকালীন জেলে থাকা ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের প্রশংসাসূচক লেখা-সহ উসকানিমূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের আড়ালে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিবিসির ভারতীয় সংবাদকর্মী গীতা পাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হিন্দু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহাকুম্ভকে “দৃশ্য প্রদর্শনী”, রামমন্দিরকে “ধ্বংস করা মসজিদ” এবং “জয় শ্রী রাম”-কে “হত্যার স্লোগান” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    অবৈধ ধর্মান্তর

    উত্তরপ্রদেশে অবৈধ খ্রিস্টান ধর্মান্তর কার্যকলাপের অভিযোগে একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। লখনউয়ের মোহনলালগঞ্জ এলাকা থেকে পরিচালিত ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত যাজক ড্যানিয়েল এবং তাঁর স্ত্রীও রয়েছেন। তামিলনাড়ু থেকে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল এবং প্রলোভন ও সংগঠিত প্রার্থনাসভার মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষকে ধর্মান্তরের জন্য নিশানা করা হত বলে দাবি পুলিশের। শিক্ষা সংস্কার এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন-উত্তর সময়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের রূপ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তির বক্তব্য ছিল হিন্দু-বিরোধী এবং মুসলিমপন্থী। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য আন্দোলনের মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    হিন্দু ধর্ম অবমাননা!

    দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বলে সন্দেহ করা ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। উপ-পুলিশ কমিশনার রোহিত রাজবীর সিংয়ের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং এডিটেড সরকারি বিবৃতি ব্যবহার করে জনমত বিভ্রান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য একটি আন্তঃসীমান্ত অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্ম অবমাননা করার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেদকরা। বিজেপির সমালোচনার আড়ালে তিনি ধারাবাহিকভাবে হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রধান বিচারপতির সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অভিজিৎ দীপকেকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হিন্দু ধর্মকে অপমান করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    হিন্দু ‘সেজে’ বিপাকে মনোয়ার আনসারি

    ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার বারহেটের বাসিন্দা মনোয়ার আনসারির বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে রাঙ্গার এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে প্রলোভিত করার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির মায়ের দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে মনোহর বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁকে জেলে পাঠিয়েছে। আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে মেয়েটির বয়ানও (Roundup Week)। এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ভয়াবহ এক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শোয়েব, সালমান এবং আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। হোটেল থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে আসার সময় জনৈক হিমাংশু পটেল, দেবেন্দ্র পটেল এবং নির্দোষ রাঠোর তাঁর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন বলে (Hindus Under Attack) অভিযোগ। শারীরিক ও মানসিক আঘাতে জর্জরিত নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী শেষমেশ আত্মহত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ

    জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা ভি কামাকোটিকে উদ্দেশ করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি “গোমূত্র” শব্দ ব্যবহার করে কটাক্ষ করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এক তরুণীকে ভুয়ো পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের মা ও মাসির হুমকির পর ওই তরুণী বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত আরমান, তাঁর মা ও মাসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কর্নাটকে হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির গুরু পূর্ণিমা মহোৎসব নিয়ে এসডিপিআই নেতা আশরাফের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বান্টওয়াল থানায় অভিযোগ দায়ের করে তিনি আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং গুরু পূর্ণিমার অনুষ্ঠানকে “দেশ-বিরোধী” বলে অভিহিত করেন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও ভক্তরা।

    হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনটির দাবি, অধিকাংশ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। আইন, সরকারি নীতি এবং সামাজিক আচরণের দীর্ঘমেয়াদি ধারা বিশ্লেষণ করলে এর উপস্থিতি বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, বৃহত্তর পরিসরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির (Roundup Week) মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের ওপর আক্রমণ ও বৈষম্যের ঘটনাগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে (Hindus Under Attack) বৃহত্তর মানবাধিকার সঙ্কটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

     

  • Hindus Under Attack: রাজস্থানে শিশু পাচারের অভিযোগ থেকে দিল্লি দাঙ্গা মামলার রায়, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে চার্জশিট, আর কী?

    Hindus Under Attack: রাজস্থানে শিশু পাচারের অভিযোগ থেকে দিল্লি দাঙ্গা মামলার রায়, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে চার্জশিট, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলা। এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বহু অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর (Roundup Week) নির্যাতনের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ হিন্দুদের ওপর হওয়া হামলার প্রকৃত ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে উপেক্ষা করে এসেছে। এর পেছনে হিন্দুবিরোধী পক্ষপাতমূলক মনোভাব কাজ করছে বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য-সহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দুদের অস্তিত্ব ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্রমশ আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ১৯ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাবলির ভিত্তিতে তৈরি এই সাপ্তাহিক প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা অপরাধগুলির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা এবং এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে বিশ্বের আরও বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

    ধর্মীয় উত্তেজনায় চাঞ্চল্য (Hindus Under Attack)

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় উত্তেজনা এবং প্রশাসনিক অভিযানের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজস্থানে আদিবাসী শিশুদের পাচারের অভিযোগ, ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গায় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া, চেন্নাইয়ে হিন্দু মুন্নানির নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, বিহারে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে এনআইএর চার্জশিট, তামিলনাড়ুর এক মন্দিরের জমি নিয়ে বিতর্ক এবং মহারাষ্ট্রে খাদ্য সুরক্ষা আইনে একটি বেকারি বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলি সামনে এসেছে।

    শিশু পাচারের অভিযোগ

    বিনামূল্যে শিক্ষাদানের টোপ দিয়ে রাজস্থানের উদয়পুর জেলা থেকে তামিলনাড়ুতে পাচার করা হচ্ছিল সাত আদিবাসী শিশুকে। খবর পেয়ে উদ্ধার করা হয় তাদের। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে দুজন মেয়ে এবং পাঁচজন ছেলে। তাদের বয়স সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে। গোয়া রেল পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করে। অভিযোগ, রাজস্থান, গুজরাট এবং গোয়া হয়ে তামিলনাড়ু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ, ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে এই নেটওয়ার্ক কাজ করছিল (Hindus Under Attack)। এদিকে, ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গায় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর (Roundup Week) তাহির হুসেন-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দিল্লির একটি আদালত। এই মামলার রায়কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    বাছুর জবাইয়ের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে হিন্দু মুন্নানির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রী শিবাজি অভিযোগ করেন, বাছুর জবাইয়ের খবর পেয়ে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান এবং ঘটনাস্থলে পুলিশকে নিয়ে যান। অভিযোগ, এরপর প্রায় ২০০ জন মুসলিম ধর্মাবলম্বী সেখানে জড়ো হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁর গাড়ি কেড়ে নেওয়া হয়, দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে বলেও অভিযোগ (Hindus Under Attack)। বিহারের ছাপরা শহরের একটি বেসরকারি স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক ইনাম রাজার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এক হিন্দু ছাত্রীর পরিবারের তরফে এমন অভিযোগ পেয়ে ওই শিক্ষককে ভগবান বাজার থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এই ঘটনায় দায়ের হয়েছে এফআইআর, চলছে তদন্তও। ঘটনার জেরে বেসরকারি ওই স্কুলটির ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

    এনআইএর চার্জশিট

    অন্যদিকে (Roundup Week), জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ পাঁচজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। অভিযোগ, তারা আইএস জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা বেঙ্গালুরুর যুবকদের চিহ্নিত করা, উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের ষড়যন্ত্রে জড়িত। তদন্তকারীদের দাবি, “ইকরা ক্যাম্প” নামে ব্যক্তিত্ব বিকাশ শিবির এবং নিয়মিত কোরআন পাঠ চক্রের আড়ালে মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তার ও নিয়োগের কাজ চলত (Hindus Under Attack)। তামিলনাড়ুর বেদারণ্যমের বেদারণ্যেশ্বরের মন্দিরের হাজার হাজার একর জমি এবং অন্যান্য সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে দখল, বিতর্ক বা আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে বলে সরকারি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। করুর ইনাম জমি বিতর্কের মধ্যেই এই বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

    বেকারি বন্ধ

    মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের মোশি এলাকার আকসা বেকারি বন্ধ করে দিয়েছে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন। খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ওই বেকারি পরিদর্শনের পর অবিলম্বে সেটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে বেকারির আড়ালে সেখান থেকে চালানো হচ্ছিল একটি অবৈধ গোমাংস কষাইখানা। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বলে খবর (Hindus Under Attack)। বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ ঘৃণাপ্রসূত অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ কাজ করে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, আপাতদৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির, যেমন ভারতের, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি এক ধরনের সূক্ষ্ম বিদ্বেষ বিদ্যমান। এই পরিবেশই হিন্দুবিদ্বেষ এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে বলে অভিযোগ।

    দ্বৈত মানদণ্ড কেন?

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের সূক্ষ্ম ও দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না। তবে প্রচলিত আইন, নীতি এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন ঘটনার ধারা বিশ্লেষণ করলে তার উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলির সময় আতশবাজি বা পটকা ফাটানোর ওপর ধাপে ধাপে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, আপাতভাবে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ দূষণ রোধের পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর (Roundup Week) আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেই সিদ্ধান্তগুলির পক্ষে পর্যাপ্ত ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার অভাব পর্যালোচনা করলে দ্বৈত মানদণ্ডের বিষয়টি জলের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • Wipro: “বস জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন”, অভিযোগ উইপ্রোর প্রাক্তন মহিলা কর্মীর

    Wipro: “বস জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন”, অভিযোগ উইপ্রোর প্রাক্তন মহিলা কর্মীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বস ধর্মীয় কারণে আমায় হয়রান করেছেন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার (Forced religious conversion) চেষ্টা করেছেন। এই মানসিক চাপের কারণেই আমায় চাকরি ছাড়তে হয়েছে।” এমনই অভিযোগ করলেন পুনের উইপ্রো (Wipro) ক্যাম্পাসের এক প্রাক্তন মহিলা কর্মী। ওই বসের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা। অভিযোগ জানিয়েছেন রাজ্যের মানবাধিকার কমিশনের কাছেও। অভিযুক্ত বসও একজন মহিলা। তিনি থাকেন বেঙ্গালুরুতে।

    অভিযোগকারিণীর দাবি (Wipro)

    উইপ্রোর এক মুখপাত্র রীতিমতো বিবৃতি জারি করে জানান, সংস্থাটি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। পুনে পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ও তথ্যও জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, পুনের হিঞ্জেওয়াড়ি এলাকার উইপ্রো ক্যাম্পাসে কাজ করার সময় কয়েকজন সিনিয়র ম্যানেজার ও টিম লিডার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তাঁকে টার্গেট করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করতে নিরন্তর চাপ দেওয়া হত। চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় কর্মক্ষেত্রে হয়রানি আরও বেড়ে যায়। ম্যানেজার তাঁকে খারাপ পারফরম্যান্স রিভিউ দেওয়ার এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। অভিযোগকারিণীর দাবি, মানসিক চাপ ও হয়রানির কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না মেলায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি (Wipro)।

    পুলিশের বক্তব্য

    পুনে পুলিশের এক প্রবীণ আধিকারিক জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বালাজি পান্ধারে নামের ওই পুলিশ কর্তা বলেন, “উইপ্রোর এক মহিলা প্রোজেক্ট ম্যানেজার অভিযোগ করেছেন যে তাঁর মহিলা বস, যিনি বিমা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ওই বস তাঁকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বলেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বেঙ্গালুরুতে থাকেন এবং সেখান থেকেই কাজ করেন। আমরা এটাও খতিয়ে দেখব যে কোম্পানি এ পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে (Forced religious conversion)।”

    কী বলল উইপ্রো

    উল্লেখ্য, হিন্দু জনজাগ্রুতি সমিতি (Hindu Janajagruti Samiti) বুধবার পুনেতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সেখানে ওই মহিলা ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উইপ্রোয় কাজ করার সময় তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। পুলিশ অভিযোগের প্রতিটি দিক এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথিপত্র খতিয়ে দেখছে (Wipro)। উইপ্রো তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, “উইপ্রোয় কর্মীদের কল্যাণ, মর্যাদা এবং সম্মান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। আমরা যে কোনও ধরনের অসদাচরণ, বৈষম্য, হয়রানি অথবা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি এবং পুনে পুলিশের কাছে প্রাসঙ্গিক সমস্ত নথি ও তথ্য দিয়েছি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় আমরা মামলার নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। সকল কর্মীর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সম্মানজনক কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইটি সংস্থাগুলিতে কর্মীদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে টিসিএসের (TCS) নাসিক ইউনিটে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হয়েছিল। একাধিক ভুক্তভোগী তাঁদের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ আনেন (Wipro)। সেই মামলায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (Forced religious conversion)।

     

  • Karnataka Politics: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন সিদ্দারামাইয়া, জানুন আসল কারণ

    Karnataka Politics: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন সিদ্দারামাইয়া, জানুন আসল কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে প্রাতরাশ বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানেই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও। এই শিবকুমারই সিদ্ধারামাইয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। এদিনই বিকেলে সিদ্ধারামাইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলেই খবর। সিদ্ধারামাইয়া জানান, যদিও রাজ্যপাল ব্যক্তিগত কাজে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তবুও তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। কর্নাটক বিধানসভার নেতা নির্বাচনের জন্য শীঘ্রই কংগ্রেস বিধায়ক দলের বৈঠক হবে।

    এবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে কে (Karnataka Politics)

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, সিদ্ধারামাইয়া শিবকুমারকে আলিঙ্গন করছেন। আর একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর, কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছ থেকে রাজ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়ার পর সিদ্ধারামাইয়া রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। তবে লোকভবনের সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এখনও কোনও অনুরোধ করা হয়নি। তিনি ব্যক্তিগত কারণে ইন্দোরে গিয়েছেন। বুধবার কংগ্রেস নেতা তথা কর্নাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুর্যেওয়ালা (Randeep Singh Surjewala) জানিয়েছিলেন, দল কংগ্রেস বিধায়ক দলের কোনও বৈঠক ডাকেনি। এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। সংবাদ মাধ্যমকে জল্পনা এড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

    সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কেন

    প্রসঙ্গত, বুধবারই বেঙ্গালুরু পৌঁছে সুরজেওয়ালা সিদ্ধারামাইয়া ও দলের অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অসমর্থিত সূত্রের খবর, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বলেছেন। তাঁকে জাতীয় স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সিদ্ধারামাইয়া এখনও সেই প্রস্তাবে হ্যাঁ বলেননি বলেই খবর। ওই সূত্রেরই খবর, সিদ্ধারামাইয়া পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারণ এই বার্তাটি সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে দিয়েছেন। এর আগে সিদ্ধারামাইয়া বলেছিলেন, “লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা যদি তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন, তবে তিনি তা করবেন।” জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধারামাইয়া এবং শিবকুমারকে দলীয় নেতৃত্ব তলব করেছিল দিল্লিতে। কংগ্রেসের সদর দফতরে আয়োজিত ওই বৈঠকে রাহুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, কেসি বেণুগোপাল এবং রণদীপ সিং সুর্যেওয়ালা। সেই বেশ কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে। তার পরেই সতীর্থদের কাছে পদত্যাগের ইচ্ছের কথা জানান সিদ্দারামাইয়া।

     

  • Mission ‘Drishti’: ভারতের ‘দৃষ্টি’ এড়াতে পারবে না প্রতিবেশী শত্রু দেশ! দেশের অপ্টোএসএআর উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

    Mission ‘Drishti’: ভারতের ‘দৃষ্টি’ এড়াতে পারবে না প্রতিবেশী শত্রু দেশ! দেশের অপ্টোএসএআর উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ অভিযানে নতুন মাইলফলক। ‘মিশন দৃষ্টি’-র (Mission ‘Drishti’) সফল উৎক্ষেপণের জন্য ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ‘গ্যালাক্সিআই’-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই উৎক্ষেপণকে ভারতের মহাকাশ যাত্রার একটি ‘প্রধান মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। এই অর্জনকে দেশের উদ্ভাবনী পরিবেশের প্রতিফলন হিসেবেও প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এই অভিযানে রয়েছে বিশ্বের প্রথম অপ্টোএসএআর উপগ্রহ ( OptoSAR Satellite)। এটি ভারতে কোনও বেসরকারি সংস্থার তৈরি বৃহত্তম উপগ্রহ।

    প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা

    বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক স্টার্টআপ ‘গ্যালাক্সিআই’ (GalaxEye)-এর তৈরি বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইট ‘মিশন দৃষ্টি’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল। রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে স্পেসএক্স (SpaceX)-এর ফালকন-৯ (Falcon 9) রকেটে করে মহাকাশে পাঠানো হয় এই স্যাটেলাইটটি। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নিজের এক্স-হ্যান্ডলে লেখেন, ‘গ্যালাক্সআই-এর ‘মিশন দৃষ্টি’ আমাদের মহাকাশ যাত্রায় একটি বড় সাফল্য। বিশ্বের প্রথম অপ্টোএসএআর উপগ্রহ এবং ভারতে বেসরকারি ভাবে নির্মিত বৃহত্তম উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ উদ্ভাবন ও দেশ গড়ার প্রতি আমাদের তরুণদের আবেগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গ্যালাক্সিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পুরো দলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।’

    কী বিশেষত্ব এই স্যাটেলাইটে?

    ‘মিশন দৃষ্টি’ বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইট, যেখানে একসঙ্গে ইলেক্ট্রো অপটিকাল (Electro-Optical) ও সিন্থেটিক অ্যাপারেটর রেডার (Synthetic Aperture Radar বা SAR) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ইলেক্ট্রো অপটিকাল সেন্সর পরিষ্কার আকাশে ও দিনের আলোতে উচ্চমানের ছবি তোলে। এসএআর প্রযুক্তি মেঘ, বৃষ্টি বা অন্ধকার—সব পরিস্থিতিতেই নিরবচ্ছিন্ন ছবি দিতে সক্ষম। ফলে, এই স্যাটেলাইট থেকে ২৪ ঘণ্টা, সব আবহাওয়ায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। দাবি করা হচ্ছে, ১৯০ কেজি ওজনের ‘দৃষ্টি’ই হল ভারতে বেসরকারি ভাবে নির্মিত সবচেয়ে বড় ভূ-পর্যবেক্ষণ (আর্থ অবজার্ভেশন) কৃত্রিম উপগ্রহ।

    কী কাজে লাগবে?

    আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়ার একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে ভারতীয় সংস্থার তৈরি এই কৃত্রিম উপগ্রহটি মহাকাশে পাঠানো হয়। ভারতীয় সময় রবিবার দুপুর ১২টা ২৯ মিনিটে ‘দৃষ্টি’ সফল ভাবে উৎক্ষেপিত হয়। বেসরকারি পরিসরে মহাকাশ গবেষণা এবং অভিযানের ক্ষেত্রে ‘দৃষ্টি’র মহাকাশযাত্রা এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘গ্যালাক্সি আই’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এত দিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা দূর করতে এ বার সাহায্য করবে এই উপগ্রহটি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত পরিস্থিতিতে আরও ধারাবাহিক এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতেও সাহায্য করবে। সংস্থার আরও দাবি, ভূ-পর্যবেক্ষণের এই কৃত্রিম উপগ্রহটি কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা, সমুদ্রে নজরদারির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সাহায্য করবে দেশকে। এছাড়াও, এটি ভারতের বিদ্যমান আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ‘গ্যালাক্সিআই’-র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সুয়াশ সিং জানান, স্যাটেলাইটটি এখন সফলভাবে কক্ষপথে রয়েছে। শীঘ্রই এর কমিশনিং সম্পন্ন করা হবে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে এর ডেটার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের কাছে দৃষ্টি কথার মানে হল যে কোনও কিছুকে ভিতর থেকে দেখা। সেই ভাবনা থেকেই কৃত্রিম উপগ্রহটির নাম রাখা হয়েছে ‘দৃষ্টি’। এর বিশেষত্ব হল, একই কৃত্রিম উপগ্রহতে একটি মাল্টিস্পেকট্রাল ক্যামেরা এবং একটি সিন্থেটিক অ্যাপারচার র‌েডার ইমেজার রয়েছে। এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার এই প্রথম।” ইন্ডিয়ান স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের (Indian Space Association) ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল একে ভাট বলেন, “একটি প্ল্যাটফর্মে অপটিক্যাল ও এসএআর প্রযুক্তি একত্রিত করা বড় সাফল্য—যা কেবল কয়েকটি দেশই করতে পেরেছে।” ‘অপ্টোএসএআর’ হল এক ধরনের হাইব্রিড প্রযুক্তি, যেখানে দুই ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধা একটিই প্লাটফর্ম থেকে পাওয়া যায়।

    সীমান্তে সদা নজরদারি

    ভারতের মতো উষ্ণ মণ্ডলীয় দেশে অধিকাংশ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। ফলে সাধারণ অপটিক্যাল স্যাটেলাইট দিয়ে স্পষ্ট ছবি পাওয়া কঠিন হয়। ‘দৃষ্টি’ সেই সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে বা খারাপ আবহাওয়াতেও নজরদারি চালাতে সক্ষম হওয়ার জন্য সীমান্ত রক্ষায় এই উপগ্রহ কাজে লাগবে। তাই প্রতিবেশী শত্রু দেশের জন্য চিন্তার করাণ ভারতের তৈরি এই কৃত্রিম উপগ্রহ। প্রধানমন্ত্রী মোদি ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-ও এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “এই উৎক্ষেপণ বিশ্বমঞ্চে ভারতের সক্ষমতাকে আরও উজ্জ্বল করবে।” এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh) বলেন, এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পৃথিবীর পৃথিবীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যেকোনো সময়েই মেঘে ঢাকা থাকে, যা নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য এই ধরনের হাইব্রিড সিস্টেমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। দ্বৈত-সেন্সর ক্ষমতা নিরবচ্ছিন্ন পৃথিবী পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করে, যা কৌশলগত এবং অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই ধরনের ব্যবস্থা বিদেশি স্যাটেলাইট তথ্যের উপর নির্ভরতা কমায়, বিশেষ করে সংঘাত বা সংকটের সময় যখন এর নাগাল পাওয়া সীমিত থাকতে পারে। ‘গ্যালাক্সিআই’ ২০৩০ সালের মধ্যে ‘মিশন দৃষ্টি’-কে কেন্দ্র করে ১০টি স্যাটেলাইটের একটি কনস্টেলেশন গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে ভারত একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর আর্থ অবজারভেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে। ‘মিশন দৃষ্টি’ শুধু একটি স্যাটেলাইট নয়—এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তির শক্তি ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।

     

LinkedIn
Share