Tag: Betting and Gambling Websites

  • Online Gaming Act: যুবসমাজকে জুয়ার নেশা থেকে বাঁচাতে অনলাইন গেমিংয়ে কড়াকড়ি! আরও ২৪২ ওয়েবসাইট ব্লক করল কেন্দ্র

    Online Gaming Act: যুবসমাজকে জুয়ার নেশা থেকে বাঁচাতে অনলাইন গেমিংয়ে কড়াকড়ি! আরও ২৪২ ওয়েবসাইট ব্লক করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের যুবসমাজকে জুয়ার নেশা থেকে বাঁচাতে, তাদের আর্থিক দিক থেকে সর্বস্বান্ত হওয়া আটকাতে ফের ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’ কেন্দ্রের। সরকারি সূত্র অনুযায়ী খবর, বুধবার ২৪২টি বেআইনি অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ব্লক করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৮০০-র বেশি বেআইনি বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন গেমিং আইন (Online Gaming Act) কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই ক্ষেত্রে নজরদারি ও আইনের বাস্তবায়ন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে যুব সমাজ

    কেন্দ্রের দাবি, এই ধরনের অবৈধ প্ল্যাটফর্ম আর্থিক প্রতারণা, সামাজিক অবক্ষয় ও এই ধরণের জুয়ার প্রতি আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে যুব সমাজ। সেই কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ। এই সাইটগুলি মূলত, তরুণদের লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়। প্রথমে অল্প টাকা জিতিয়ে, পরে বড় অঙ্কের টাকা হারাতে বাধ্য করে এবং তাদের ঋণের জালে পুরো ফাঁসিয়ে দেয়। এইরকম একাধিক উদাহরণ রয়েছে।

    অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

    সরকারি সূত্র আরও জানাচ্ছে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অনলাইন বেটিং-গ্যাম্বলিংয়ের মাধ্যমে হওয়া আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি রুখতেই এই অভিযান জারি থাকবে। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তির সাহায্যে এমন বেআইনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস। এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা—অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতিতেই চলছে কেন্দ্র।

    অর্থ পাচার, সামাজিক অবক্ষয় রোধ

    গত বছরের অগস্টে সংসদে পাশ হয়েছিল ‘দ্য প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর থেকেই এই আইন কঠোর ভাবে কার্যকর করা শুরু হয়। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত ৭,৮০০-টিরও বেশি এই ধরনের অবৈধ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেক অ্যাপ আবার অর্থ পাচার এবং হাওয়ালা লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয় বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। গেমিং আসক্তিকে ইতিমধ্যেই একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই অ্যাপগুলি তরুণ প্রজন্মকে ফাঁদে ফেলে। যার জেরে বহু পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়ছে। এমনকী বাড়ছে এর জেরে আত্মহত্যার ঘটনাও। জুয়ার আসক্তির কারণে মানসিক চাপ, আত্মহত্যার প্রবণতা এবং পারিবারিক সমস্যা প্রতিরোধ করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

    এখনও পর্যন্ত ৭৮০০-এর বেশি সাইট বন্ধ

    এটা প্রথমবার নয়। গত কয়েক বছর ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের অগস্টে সংসদে পাশ হয়েছিল ‘দ্য প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর থেকেই এই আইন কঠোর ভাবে কার্যকর করা শুরু হয়। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত ৭,৮০০-টিরও বেশি এই ধরনের অবৈধ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া বা আইন লঙ্ঘনকারী কোনো সাইটই এখন থেকে আর ছাড় দেওয়া হবেনা।

    অনলাইন গেমিং আইন, ২০২৫

    অনলাইন গেমিং আইন, ২০২৫ ( Promotion and Regulation of Online Gaming Act, 2025) ভারতের দ্রুত-বর্ধনশীল অনলাইন গেমিং খাতে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। এই আইনে বৈধ অনলাইন গেম ও নিষিদ্ধ জুয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
    নতুন আইনে অবৈধ রিয়েল-মানি বেটিং বা চ্যান্স-ভিত্তিক গেম চালালে ভারী জরিমানা ও ফৌজদারি শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আর্থিক লেনদেন ট্র্যাক করা, পেমেন্ট গেটওয়ে খতিয়ে দেখা এবং অবৈধ বেটিং অ্যাপের প্রচারে যুক্ত সেলিব্রিটি বা ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    কীভাবে ব্লক করা হচ্ছে ওয়েবসাইট

    অবৈধ ওয়েবসাইট ব্লক করার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৯এ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধারায় জনস্বার্থবিরোধী বা অবৈধ কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে ব্লকিং নির্দেশ পাঠাচ্ছে।

    পরবর্তী পদক্ষেপ কী

    সরকার একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ‘অনলাইন গেমিং অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংস্থার কাছে দেওয়ানি আদালতের (Civil Court) মতো ক্ষমতা থাকবে। তারা যেকোনো অবৈধ গেম বন্ধ করা, তলব করা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখবে। অনলাইন গেমিং আইন, ২০২৫ ( Promotion and Regulation of Online Gaming Act, 2025) অনুযায়ী, অবৈধ অনলাইন জুয়া খেলালে বা সেই সুবিধা প্রদান করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এই ধরণের প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন দিলে ২ বছরের জেল এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রয়েছে।

    ডিজিটাল ইন্ডিয়া, সুরক্ষিত ইন্ডিয়া

    “ডিজিটাল ইন্ডিয়া একটি সুরক্ষিত ইন্ডিয়াও হওয়া উচিত” – এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যে কতটা দৃঢ়, তা এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলি থেকেই আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল। সরকার স্পষ্ট করেছে, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য কেবল অবৈধ জুয়া বা বেটিং আটকানো। এর প্রভাবে যাতে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ ব্যাহত না হয়, তার জন্য ই-স্পোর্টস বা শিক্ষামূলক ও গঠনমূলক গেমগুলিকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল দুনিয়াকে নিরাপদ করার পথে এক বড় পদক্ষেপ।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share