Tag: Bhagat Singh

  • UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে বোমা তৈরির তথ্য-সম্বলিত হাতে লেখা একটি নোট উদ্ধারের ঘটনায় আরও বাড়ানো হয়েছে তদন্তের পরিসর (Jai Shri Ram Kurta)। তদন্তের সূত্র এবার পৌঁছেছে বলরামপুরে। অযোধ্যা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। ঘটনার পর প্রথম বর্ষের প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে নাইট শিফট শেষ হওয়ার পর হাতে লেখা ওই নোটটি পাওয়া যায়। কর্মীরা নোটটি কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

    বলরামপুরে সরফরাজের বাড়িতে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)

    ৩১ জুলাই, শুক্রবার গভীর রাতে অযোধ্যা পুলিশের একটি দল বলরামপুরের সিটি কোতয়ালি এলাকার পুরাইনিয়া তালাবে সরফরাজের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও সরফরাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে পুলিশ। পরের দিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ওই বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তালা ঝুলছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সরফরাজ মিশুকে স্বভাবের ছিল। এলাকায় কোনও বিবাদ বা ঝামেলায় তাঁকে কখনও জড়াতে দেখা যায়নি।

    বাড়িওয়ালার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    তদন্তের সময় সরফরাজ গত ছ’মাস ধরে যে ভাড়া বাড়িতে থাকছিল, সেখানেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যান। ঘর থেকে গেরুয়া রঙের একটি কুর্তা উদ্ধার হয়েছে, যাতে “জয় শ্রী রাম” লেখা ছিল। হলুদ রংয়ের একটি ধুতিও পাওয়া যায়। বাড়িওয়ালার দাবি, সরফরাজ ওই গেরুয়া কুর্তা ও হলুদ ধুতি পরে একাধিকবার অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, কয়েকজনের সঙ্গে সরফরাজ সরযূ নদীতে স্নানও করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা বা কোথা থেকে এসেছিলেন, তা জানেন না বলে জানান বাড়িওয়ালা। এরপরেই তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—সরফরাজ কেন হিন্দু ধর্মীয় পোশাক পরে অযোধ্যায় যাতায়াত করতেন? তাঁর ওই সফরের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, নাকি সেগুলি ছিল নিছকই ব্যক্তিগত সফর—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া হলুদ ধুতিটি পরীক্ষার জন্য নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ঘর থেকে হাতে লেখা একটি কবিতাও উদ্ধার হয়েছে। সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (Jai Shri Ram Kurta)।

    কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা?

    ১ অগাস্ট সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। মর্নিং শিফটে কর্মরত পড়ুয়ারা রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে রুমের ভেতরে হাতে লেখা একটি কাগজ দেখতে পান। ওই কাগজে বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নির্দেশনা লেখা ছিল বলে খবর। পড়ুয়ারা সঙ্গে সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেন।অনলাইনে প্রকাশিত নোটটির একটি অনুলিপি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা কাগজে ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট, অ্যালুমিনিয়াম কার্বোনেট, লাল ফসফরাস, সালফার, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং কার্বলিক অ্যাসিডের মতো একাধিক রাসায়নিকের উল্লেখ রয়েছে। আগুন ধরানো, তাপ ও বিস্ফোরণের বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপাদান চিহ্নিত করা হাতে আঁকা কিছু চিত্রও রয়েছে, যেগুলি বিস্ফোরক যন্ত্রের নকশার মতো দেখতে।নথিতে ব্যাখ্যামূলক টীকা এবং একটি মোটামুটি আঁকা রেখাচিত্রও রয়েছে। এর থেকে তদন্তকারীদের ধারণা, যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করতে পারে তা বোঝানোর উদ্দেশ্যেই নোটটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নোটটি অনলাইনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়ে থাকতে পারে।

    সরফরাজের দাবি

    দর্শন নগর থানার পুলিশ সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তাঁর সঙ্গে নাইট শিফটে কাজ করছিলেন অভিষেক। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সুলতানপুরের বাসিন্দা আর এক সহকর্মী সুভাষ অবশ্য ওই দিন সকালেই নিজের গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে সরফরাজ দাবি করেন, নাইট শিফটে তাঁর ঘুম আসছিল না। সেই সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপে ভগত সিংকে নিয়ে একটি সিনেমা দেখতে শুরু করেন। তাঁর দাবি, সেই সিনেমায় বোমা তৈরির কিছু পদ্ধতি দেখানো হয়েছিল। তিনি সেগুলি একটি কাগজে লিখে রেখেছিলেন, এবং পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, পরে সাফাইকর্মী ও সকালের শিফটে কর্মরত কর্মীদের হাতে কাগজটি আসে (Jai Shri Ram Kurta)। সরফরাজের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ইন্টারনেট অনুসন্ধানের তথ্য পান। তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণ সংক্রান্ত একাধিক ছোট ভিডিওর সন্ধান মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এসব অনুসন্ধান নিছকই কৌতূহলবশে করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    সরফরাজের বন্ধুদেরও খোঁজ

    সরফরাজের রুমমেটের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি বস্তিতে নিজের বাড়িতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সরফরাজ যখন অযোধ্যায় যেতেন, তখন তাঁর সঙ্গে যে বন্ধুরা থাকতেন বলে জানা যাচ্ছে, তাঁদের পরিচয়ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সরফরাজ সবার ছোট। তাঁর দাদা বলরামপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। আর এক ভাই শ্রাবস্তীতে একটি দাঁতের চিকিৎসাকেন্দ্র চালান। অন্য এক ভাই সৌদি আরবে কাজ করেন, এবং পরিবারে আর্থিক সাহায্য করেন। প্রায় দেড় বছর আগে সরফরাজের বাবা মারা যান। তাঁর মা ও অবিবাহিত বোন বলরামপুরে থাকেন। বিবাহিত এক বোন মুম্বইয়ে থাকেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সরফরাজ প্রায় প্রতি শনিবার বাড়িতে ফিরতেন, সোমবার ফিরতেন অযোধ্যায়।

    পুলিশের বক্তব্য

    ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল, এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও করছেন তদন্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। প্রতিটি তথ্য যাচাই করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে অনুমান বা গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)।

     

  • Bhagat Singh: প্রত্যক্ষ সংগ্রামের প্রতীক ছিলেন ভগত সিং, যুবসমাজের আইকন

    Bhagat Singh: প্রত্যক্ষ সংগ্রামের প্রতীক ছিলেন ভগত সিং, যুবসমাজের আইকন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৮ সেপ্টেম্বর আজ স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগত সিং (Bhagat Singh)- এর জন্মদিন। আজ সারা দেশজুড়ে এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর জন্মজয়ন্তী (Birth Day) পালন করছে। পরাধীন ভারতে তিনি ছিলেন নির্ভীক অকুতোভয়ী এবং অদম্যসাহসী। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে যোগদান করেছিলেন। তাঁকে ঘিরে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল ব্রিটিশ শাসকদের। ফাঁসির মঞ্চে হাসির জয়গান দিয়ে বরণ করেছিলেন মৃত্যু। এই বিপ্লবীর অবদান স্বাধীনতা উত্তর ভারতে আজও অম্লান। ভগত সিং এখন শুধু নাম নয় অনুপ্ররণা।

    প্রত্যক্ষ সংগ্রামকেই একমাত্র শ্রেষ্ঠপথ(Bhagat Singh)

    ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন পশ্চিম পঞ্জাবে জন্মগ্রহণ (Birth Day) করেছিলেন ভগত সিং (Bhagat Singh)। মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের জীবনকে ভারত মাতার মুক্তির জন্য উৎস্বর্গ করে দিয়েছিলেন। তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন রাজগুরু ও সুখদেব। তাঁদের ব্রিটিশ বিরোধী কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ভাবে বদলে দিয়েছিল। ১৯৯১ সালে জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ড ব্যাপক ভাবে মনে প্রভাব ফেলছিল। যে ভাবে ব্রিটিশ শাসক জেনারেল ডায়ার নিরাপরাধ নারী ও শিশুদের হত্যা করেছিল, তাতে ব্রিটিশ বিরোধী প্রত্যক্ষ সংগ্রামকেই একমাত্র শ্রেষ্ঠপথ বলে মনে করেন ভগত সিং।

    জন সন্ডার্সকে হত্যা করেছিলেন

    ভগত সিং (Bhagat Singh) ভারতকে স্বাধীন করতে হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তাঁর কর্মকাণ্ড অল্প সময়ের মধ্যেই গোটা দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে ছিল। ব্রিটিশদেরও চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন নিজে। তিনি ভালো ভাবেই জানতেন আবেদন-নিবেদন নীতিতে দেশের স্বাধীনতা আসবে না। প্রয়োজন একটি বড় সংগ্রামের। বধির ভারতীয়ের মনে-প্রাণে যাতে সাড়া জেগে ওঠে সেই জন্যই প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অংশ নেন ভগত সিং। তিনি লালা লাজপত রায়কে হত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। প্রতিবাদে ১৯২৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর লাহোর জেলা পুলিশের সদরদফতরের বাইরে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার জন সন্ডার্সকে হত্যা করেছিলেন। ১৯২৮ সালের ৮ এপ্রিল বটুকেশ্বর দত্তের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিধানসভায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। তিনি বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক বা ইনকিলাব জিন্দাবাদের ধ্বনিও তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সরকার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কাণ্ডারি হিসেবে গ্রেফতার করেছিল। ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ তাঁর ফাঁসি হয়েছিল। তাঁর আত্মবলিদান দেশের জন্য আজও স্মরণীয়।

  • Shaheed Diwas 2025: আজ শহিদ দিবস, এদিনই ফাঁসিতে ঝোলানো হয় তিন দেশপ্রেমিককে

    Shaheed Diwas 2025: আজ শহিদ দিবস, এদিনই ফাঁসিতে ঝোলানো হয় তিন দেশপ্রেমিককে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২৩ মার্চ। প্রতি বছর দিনটি পালিত হয় শহিদ দিবস (Shaheed Diwas 2025) হিসেবে। ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন দান করেছিলেন, দেশবাসী এই দিনে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। এই দিনে ব্রিটিশ সরকার আমাদের জাতির তিন বীর – ভগৎ সিং, শিবরাম রাজগুরু এবং সুখদেব থাপারকে ফাঁসিতে লটকে দিয়েছিল (Bhagat Singh)।

    শহিদ দিবস (Bhagat Singh)

    ভারতে অবশ্য শহিদ দিবস বিভিন্ন তারিখে পালিত হয়। ৩০শে জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধীর স্মরণে শহিদ দিবস পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি সন্ধ্যার প্রার্থনার সময় বিড়লা হাউসে নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হন তিনি। মহাত্মার স্মরণে দিনটি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

    যাইহোক, ভগত সিং, তাঁর সহযোগী শিবরাম রাজগুরু এবং সুখদেব থাপারের সঙ্গে তাঁদের সাহসী অভিযানের জন্য দেশের যুব সমাজের কাছে একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। ১৯২৯ সালের ৮ এপ্রিল, ভগত সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত দিল্লির কেন্দ্রীয় অ্যাসেম্বলি হলে বোমা নিক্ষেপ করেন। “ইনকিলাব জিন্দাবাদ!” ধ্বনি দেন। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ভগত সিং ও তাঁর বিপ্লবী সহযোগী রাজগুরু ও সুখদেবকে ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

    ভগৎ সিং

    ভগৎ সিংয়ের জন্ম ১৯০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, ফয়সলাবাদ জেলার বঙ্গা গ্রামে, শিখ পরিবারে। এলাকাটি (Shaheed Diwas 2025) বর্তমানে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত। শৈশব থেকেই ভগৎ সিং তাঁর পরিবারের দেশপ্রেমের চেতনায় প্রাণিত হয়েছিলেন। তাঁর জন্মের সময়, তাঁর বাবা কিষান সিং কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারণ তিনি ক্যানাল কলোনাইজেশন বিল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্তার সিং সরাভার ফাঁসি তরুণ ভগৎ সিংয়ের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এর পরেই তিনি দেশের জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করার শপথ নেন।

    গ্রামের স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করার পর, ভগৎ সিং লাহোরের দয়ানন্দ অ্যাংলো-বেদিক স্কুলে ভর্তি হন। মহাত্মা গান্ধী ও অন্যান্য জাতীয়তাবাদী নেতাদের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বয়কটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে, তিনি তাঁর স্কুল ছেড়ে লাহোরের ন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হন। বাড়িতে বিয়ের জন্য চাপাচাপি করতে ভগৎ সিং (Bhagat Singh) বাড়ি ছেড়ে কানপুরে চলে যান। চাকরি নেন প্রতাপ প্রেসে। কয়েক মাস পরে তিনি ফেরেন লাহোরের বাড়িতে। ১৯২৬ সালের মার্চ মাসে নওজওয়ান ভারত সভা গঠিত হয়। ভগৎ সিং ছিলেন এর প্রধান সংগঠকদের একজন। তিনি হন এর সচিব। ভগৎ সিংয়ের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর, পুলিশ তাঁর দেহ গোপনে হুসাইনিওয়ালায় দাহ করে এবং দেহাবশেষ ফেলে দেয় শতদ্রু নদীতে।

    ১৯৫০ সালে, ভগৎ সিং ও তাঁর সহযোগীদের দাহ করা জমি পাকিস্তানের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হয়। নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া পুরানো স্মৃতিসৌধটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। ভগৎ সিংকে শাহিদ-ই-আজম, অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ শহিদ হিসেবে স্মরণ করা (Shaheed Diwas 2025) হয়।

    রাজগুরু

    ১৯০৮ সালের ২৪ আগস্ট মহারাষ্ট্রের খেদেতে এক মরাঠি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রাজগুরু। মাত্র ছবছর বয়সেই বাবাকে হারান তিনি। পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর দাদা দিঙ্করের ওপর। অল্প বয়সেই তিনি সেবা দলে যোগ দেন। তিনি ঘাটপ্রভায় ডক্টর এনএস হার্ডিকার পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন।

    রাজগুরু হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। তিনি ভগৎ সিং ও সুখদেব থাপারের সহকর্মী হয়ে ওঠেন। এক ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারকে হত্যা করেন তিনি। তাঁর সম্মানে তাঁর জন্মস্থান খেদের নাম পরিবর্তন করে রাজগুরুনগর রাখা হয়। রাজগুরুনগর মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার খেদ তহসিলের একটি জনগণনা নগর (Shaheed Diwas 2025)।

    সুখদেব

    ১৯০৭ সালের ১৫ মে লুধিয়ানার নৌঘরায় জন্মগ্রহণ করেন সুখদেব। তাঁর শৈশব ছিল চ্যালেঞ্জিং। অল্প বয়সে বাবা রাম লাল থাপরকে হারানোর পর, সুখদেবকে তাঁর মা এবং কাকা লালন-পালন করেন। সুখদেব ছিলেন হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। তিনি পাঞ্জাব এবং উত্তর ভারতের অন্যান্য অংশে বিপ্লবী কোষ গঠন করেন। সুখদেব লাহোরের ন্যাশনাল কলেজে যুবকদের শিক্ষা দিতেন (Bhagat Singh) এবং তাঁদের ভারতের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে অনুপ্রাণিত করতেন।

    ১৯২৬ সালে সুখদেব অন্যান্য বিখ্যাত বিপ্লবীদের সঙ্গে লাহোরে ‘নওজওয়ান ভারত সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। যুবকদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে এবং সাম্প্রদায়িকতা দূর করতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় এই সভার। সুখদেব বেশ কয়েকটি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পুরোভাগে ছিলেন। ১৯২৯ সালের জেল হাঙ্গার স্ট্রাইক ছিল জেলখানায় বন্দিদের প্রতি অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ (Bhagat Singh)। সুখদেব মাত্র ২৪ বছর বয়সে শহিদ হন। আত্মত্যাগ, বীরত্ব এবং সাহসের জন্য সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি (Shaheed Diwas 2025)।

LinkedIn
Share