Tag: bhai phonta

bhai phonta

  • Bhai Phonta: আজ ভাইফোঁটা! এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনী

    Bhai Phonta: আজ ভাইফোঁটা! এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জলযোগে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি জাতীয় খাবার, লুচি, ঘুগনি। দুপুরে মাংস অথবা মাছ-ভাত। ভাইফোঁটা মানেই যে কোনও বাঙালি বাড়ির পাতে এগুলি থাকবেই‌। সকাল থেকেই বাঙালি বাড়িতে ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে‌‌। একদিকে জলযোগের আয়োজন তো অন্যদিকে সাজগোজ। ভাই-দাদারা পাঞ্জাবি পড়বে তো দিদি-বোনেরা শাড়ি। হিন্দু ধর্মের যে কোনও পুজো বা ব্রত সম্পন্ন হয় পরিবার, আত্মীয়স্বজনের মঙ্গল কামনার উদ্দেশে। ভাইফোঁটা (Bhai Phonta) হল ভাই ও বোনের মঙ্গল কামনার ব্রত। উভয়ের জীবনেই যেন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি বিরাজ করে , সেই প্রার্থনাই ভাই-বোনেরা একে অপরের উদ্দেশে করে থাকেন এই বিশেষ তিথিতে। বাঙালির ঘরোয়া এই উৎসবে অন্যান্য পুজোর মতো রীতি, আচার বা মন্ত্রোচ্চারণ সেভাবে নেই বললেই চলে। ছড়ার মতো পাঠ করা হয় –
    ‘‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, 
    যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
    যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, 
    আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।’’

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাইফোঁটার (Bhai Phonta) আলাদা আলাদা নাম

    ভাইফোঁটা (Bhai Phonta) যেন বাঙালির নিজস্ব উৎসব। সবকিছুতেই বাঙালি মোড়ক। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাইফোঁটার বিভিন্ন নাম রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের এই উৎসব ভাইদুজ (Bhai Dooj) নামে পরিচিত। সেখানে ভাইফোঁটা পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্নাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ। নেপালে ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে এই উৎসব পরিচিত ভাইটিকা নামে পরিচিত। ভাঁইফোটা, ভাই ও বোনদের  উপহার পাওয়ার দিনও বটে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আধুনিক প্রজন্মকে ভাঁইফোটার দিন ভাই ও বোনদের জন্য পছন্দ মতো ‘গিফট আইটেম’ কিনতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও সামাজিক সদ্ভাবনার উদ্দেশে গণ ভাইফোঁটার আয়োজন করা হয়।

    যমুনা ও যমের পৌরাণিক আখ্যান

    ভাইফোঁটার (Bhai Phonta) নেপথ্যে  রয়েছে বেশ কয়েকটি পৌরাণিক কাহিনী। কথিত আছে, সূর্যদেব ও তার পত্নী সংজ্ঞার, যমুনা নামে কন্যা এবং যম নামে পুত্র ছিল। পুত্র কন্যা সন্তানের জন্মের পরে সূর্যদেবের উত্তাপ স্ত্রী সংজ্ঞা সহ্য করতে পারতেন না। তিনি তখন নিজের প্রতিলিপি ছায়াকে স্বর্গলোকে রেখে মর্তে নেমে আসেন। সংজ্ঞার প্রতিরূপ হওয়ার কারণে, দেবতারা ছায়াকে চিনতে পারে না। স্বর্গে বিমাতা ছায়া যমুনা ও যমের প্রতি দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন। কিন্তু ছায়ার মোহে অন্ধ সূর্যদেব কোনও প্রতিবাদ না করায় অত্যাচারের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে। এভাবেই একদিন বিমাতা কর্তৃক স্বর্গরাজ্য থেকে বিতাড়িত হন যমুনা।  যমুনার বিয়ে হয় এক উচ্চ বংশ জাত পরিবারে। বিয়ের পর দীর্ঘকাল যমুনাকে দেখতে না পেয়ে মনে আকুলতা তৈরী হয় যমের। এরপরই মন শান্ত করতে দিদির বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যম। কালী পুজোর দুদিন পরে যমুনার বাড়ি পৌঁছায় যম। ভাইয়ের আগমনে, নানা রকমের খাবারের আয়োজন করেন দিদি যমুনা। দিদির আন্তরিকতায় ও ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে দিদিকে উপহার স্বরূপ বরদান প্রার্থনা করতে বলেন যম। সেই সময় যমুনা ভাইয়ের কাছে প্রার্থনা করেন যে, ‘ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দিন প্রত্যেক ভাই যেন তার বোনের কথা স্মরণ করে এবং প্রত্যেক বোন যেন তার ভাইয়ের মঙ্গল ময় দীর্ঘ জীবন কামনা করে।’ তখন থেকেই নাকি ভাইফোঁটার প্রচলন।

    অন্যান্য পৌরাণিক গল্প

    অন্য একটি পৌরাণিক কাহিনী হল ,  নরকাসুর বধের পূর্বে শ্রী কৃষ্ণ , সুভদ্রার কাছে আসেন। সুভদ্রা তখন শ্রী কৃষ্ণের মঙ্গল ও বিজয় কামনা করে , কপালে ফোঁটা (Bhai Phonta) দিয়ে মিষ্টি খেতে দেন শ্রী কৃষ্ণকে। এরপরই নরকাসুরকে বধ করেন শ্রী কৃষ্ণ।  আবার আরও একটি কাহিনী হলো, বালির হাতে পাতালে বন্দি হন ভগবান বিষ্ণু। তখন মাতা লক্ষ্মী বালিকে ভাই হিসেবে স্বীকার করে তাঁর কপালে তিলক এঁকে দেন। বালি উপহার স্বরূপ মাতা লক্ষ্মীকে কিছু দিতে চাইলে , দেবী লক্ষ্মী ভগবান বিষ্ণুকে চেয়ে নেন। তখন থেকেই নাকি ভাঁইফোটা প্রচলিত। অন্য একটি কাহিনী অনুযায়ী, জৈন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মহাবীরের নির্বাণকালে তাঁর ভাই রাজা নন্দীবর্ধন খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। সেই সময় বোন সুদর্শনা রাজা নন্দীবর্ধনকে সান্ত্বনা দেন এবং এই পরিস্থিতি থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন। অনেকের ধারনা, সেইসময় থেকেই ভাইফোঁটা অথবা ভাইদুজের (Bhai Dooj)।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bhai Phonta: ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা’! ভাইফোঁটা কেন পালিত হয়? জানুন নেপথ্য-কাহিনি

    Bhai Phonta: ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা’! ভাইফোঁটা কেন পালিত হয়? জানুন নেপথ্য-কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জলযোগে লুচি, আলুর দম, ফুলকপির তরকারি সঙ্গে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি। দুপুরে মাংস অথবা মাছ-ভাত। ভাইফোঁটা মানেই যে কোনও বাঙালি বাড়ির পাতে এগুলো থাকবেই‌। সাধারণত কালীপুজোর দুদিন পর সম্পন্ন হয় ভাইফোঁটা (Bhai Phonta)। এদিন সকাল থেকেই বাঙালি বাড়িতে ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে‌‌। একদিকে জলযোগের আয়োজন তো অন্যদিকে সাজগোজ। ভাই-দাদারা পাঞ্জাবি পরবে তো দিদি-বোনেরা শাড়ি। হিন্দু ধর্মের যে কোনও পুজো বা ব্রত সম্পন্ন হয় পরিবার, আত্মীয় স্বজনদের মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে। ভাইফোঁটা হলো ভাই ও বোনের মঙ্গল কামনার ব্রত। উভয়ের জীবনেই যেন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি বিরাজ করে, সেই প্রার্থনাই ভাই-বোনেরা একে অপরের উদ্দেশ্যে করে থাকে এই বিশেষ তিথিতে।

    পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই উৎসব কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়াতে উদযাপিত হয়। মাঝে মধ্যে এটি শুক্লপক্ষের প্রথম দিনেও উদযাপিত হয়ে থাকে। বাঙালির ঘরোয়া এই উৎসবে অন্যান্য পুজোর মতো রীতি, আচার বা মন্ত্রোচ্চারণ সেভাবে নেই বললেই চলে। ছড়ার মতো পাঠ করা হয়—

    ‘‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা—
    যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা॥’’

    বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন নামে পরিচিত

    ভাইফোঁটা যেন বাঙালির নিজস্ব উৎসব। সবকিছুতেই বাঙালি মোড়ক। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাইফোঁটার বিভিন্ন নাম রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের এই উৎসব ‘ভাই দুজ’ নামে পরিচিত। সেখানে ভাইফোঁটা পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ‘ভাই বিজ’। নেপালে ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে এই উৎসব ‘ভাই টিকা’ নামে পরিচিত। ভাঁইফোটা, ভাই ও বোনদের উপহার পাওয়ার দিনও বটে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রজন্মকে ভাইফোঁটার দিন ভাই ও বোনদের জন্য পছন্দ মতো ‘গিফট আইটেম’ কিনতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও সামাজিক সদ্ভাবনার উদ্দেশ্যে গণ ভাইফোঁটার (Bhai Phonta) আয়োজন করা হয়।

    কী করা উচিত ও উচিত নয়

    এই পবিত্র দিনে বোনেরা ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেন। বাস্তুতন্ত্র অনুসারে ভাইকে ফোঁটা দেওযার সময় তাঁর মুখ পূর্ব, উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে থাকা উচিত। এই দিনে ভাইকে ফোঁটা দেওয়ার আগে কিছু খাওয়া উচিত নয়। ভাইয়ের থেকে পাওয়া উপহার যেমনই হোক না কেন, তার দেওয়া উপহারকে কখনও অসম্মান করবেন না। ভাইফোঁটার দিন কপালে ফোঁটা দেওযার আগে দুজনেই কিছু খাবেন না। ওই দিন মিথ্যা কথা একেবারেই বলবেন না। এদিন কালো কাপড় একেবারেই পরা উচিত নয়। 

    ভাইফোঁটার পৌরাণিক কাহিনি

    তবে, ভাইফোঁটার (Bhai Phonta) নেপথ্যে  রয়েছে বেশ কয়েকটি পৌরাণিক কাহিনী। কথিত আছে, সূর্যদেব ও তার পত্নী সংজ্ঞার যমুনা নামে কন্যা এবং যম নামে পুত্রসন্তান ছিল। পুত্র-কন্যা সন্তানের জন্মের পরে সূর্যদেবের উত্তাপ স্ত্রী সংজ্ঞা সহ্য করতে পারতেন না। তিনি তখন নিজের প্রতিলিপি ছায়াকে স্বর্গলোকে রেখে মর্ত্যে নেমে আসেন। সংজ্ঞার প্রতিরূপ হওয়ার কারণে দেবতারা ছায়াকে চিনতে পারতেন না। স্বর্গে বিমাতা ছায়া যমুনা ও যমের প্রতি দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন। কিন্তু ছায়ার মোহে অন্ধ সূর্যদেব কোনও প্রতিবাদ না করায় অত্যাচারের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে। এভাবেই একদিন বিমাতা কর্তৃক স্বর্গরাজ্য থেকে বিতাড়িত হন যমুনা। যমুনার বিয়ে হয় এক উচ্চ বংশজাত পরিবারে। বিয়ের পর দীর্ঘকাল যমুনাকে দেখতে না পেয়ে মনে আকুলতা তৈরি হয় যমের। এরপরই মন শান্ত করতে দিদির বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন যম। কালী পুজোর দুদিন পরে যমুনার বাড়ি পৌঁছান যম। ভাইয়ের আগমনে তার জন্য জন্য নানা রকমের খাবারের আয়োজন করেন দিদি যমুনা। দিদির আন্তরিকতায় ও ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে দিদিকে উপহার স্বরূপ বরদান প্রার্থনা করতে বলেন যম। সেই সময় যমুনা ভাইয়ের কাছে প্রার্থনা করেন যে, ‘ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দিন প্রত্যেক ভাই যেন তাঁর বোনের কথা স্মরণ করে এবং প্রত্যেক বোন যেন তাঁর ভাইয়ের মঙ্গলময় দীর্ঘজীবন কামনা করে।’ যমুনা আশীর্বাদ চাইলে যম বলেন যে, এই তিথিতে যে ভাই নিজের বোনের বাড়ি গিয়ে তাঁর পুজো স্বীকার করবে ও তাঁর হাতে তৈরি রান্না গ্রহণ করবে, তাঁর ভাগ্যে অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না। তখন থেকেই নাকি ভাইফোঁটার প্রচলন।

    অন্য একটি পৌরাণিক মতে, নরকাসুর বধের পূর্বে সুভদ্রার কাছে আসেন শ্রী কৃষ্ণ। সুভদ্রা তখন শ্রী কৃষ্ণের মঙ্গল ও বিজয় কামনা করে কপালে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টি খেতে দেন শ্রী কৃষ্ণকে। এরপরই নরকাসুরকে বধ করেন শ্রী কৃষ্ণ। আরও একটি কাহিনী মতে, বালির হাতে পাতালে বন্দি হন ভগবান বিষ্ণু। তখন মাতা লক্ষ্মী বালিকে ভাই হিসেবে স্বীকার করে তাঁর কপালে তিলক এঁকে দেন। বালি উপহার স্বরূপ মাতা লক্ষ্মীকে কিছু দিতে চাইলে, দেবী লক্ষ্মী ভগবান বিষ্ণুকে চেয়ে নেন। তখন থেকেই নাকি ভাঁইফোটা (Bhai Phonta) প্রচলিত।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Bhai Phonta: ভাইফোঁটার ভুরিভোজের সময় স্বাস্থ্যের দিকটি খেয়াল রাখছেন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Bhai Phonta: ভাইফোঁটার ভুরিভোজের সময় স্বাস্থ্যের দিকটি খেয়াল রাখছেন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বছরের বিশেষ দিন ভাইফোঁটা (Bhai Phonta)! ভাই-বোনের সম্পর্ক উদযাপনের এই বিশেষ দিন। তাই এই দিনে খাওয়ার পর্বও হয় বিশেষ! দাদা-ভাইদের জন্য ভুরিভোজের আয়োজন হয় বিস্তর। কিন্তু স্বাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখাও জরুরি। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এমন পদ খাবারে রাখা জরুরি, যাতে স্বাস্থ্যের সমস্যা না হয়।

    কোন ধরনের খাবারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা? 

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভাইফোঁটায় (Bhai Phonta) দেদার মিষ্টি খাওয়ার চল রয়েছে। কিন্তু নানান রকম মিষ্টি একসঙ্গে খেলে একাধিক শারীরিক সমস্যা হতে পারে। বিশেষত ডায়বেটিস রোগীদের কিংবা যাদের রক্তে সর্করার মাত্রা বেশি থাকার ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করে। তাই নানান মিষ্টির পরিবর্তে ভাইফোঁটায় থাকুক নানা রকমের ফল। কমলালেবু, আপেল, কলা, নাশপাতি, বেদানা, কিউই, বেরির মতো ফল থাকুক পাতে। পুষ্টিবিদেরা জানাচ্ছেন, এতে, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ফাইবারের মতো উপাদান শরীর পাবে। আবার নানান রকমের সম্ভার ও হবে। 
    লুচির মতো তেলেভাজাকে এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। জলখাবারের মেনুতে লুচির বদলে থাকুক সব্জির পুর দেওয়া পরোটা। কম তেলে আটা কিংবা ময়দার ভিতরে ফুলকপি, আলু, গাজর, ব্রকোলি, ক্যাপসিকামের মতো সব্জি ভরে পরোটা তৈরি করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। এতে হজমের সমস্যা দূর হবে। পাশপাশি খেতেও ভালো লাগবে। তাছাড়া, ডুবো তেলে ভাজা লুচি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ভাইফোঁটায় সুস্থ থাকতে কম তেলে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    দুপুরের খাবারে নিয়ন্ত্রণ

    দুপুরের খাবারেও তেল-মশলায় নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলেই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। মটন, ইলিশের মতো প্রচুর ফ্যাট জাতীয় খাবার একেবারেই কম পরিমাণে খাওয়া উচিত বলে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। ঘী দিয়ে তৈরি পোলাওয়ের মতো খাবারের পরিবর্তে ভাইফোঁটায় (Bhai Phonta) পাতে থাকুক হার্ব রাইসের মতো স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, চিকেন কিংবা মটন, দু’পিসের বেশি একসঙ্গে খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। পাশপাশি, এই ধরনের প্রাণীজ প্রোটিন রান্নার সময় খেয়াল রাখা জরুরি, তেল ও মশলার ব্যবহারে। অতিরিক্ত তেল ও মশলার ব্যবহার বিপজ্জনক। এতে একদিকে স্থুলতার সমস্যা তৈরি করে। আবার কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

    কোন ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি? (Bhai Phonta)

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ভাইফোঁটায় খাওয়ার পরেও সুস্থ থাকার জন্য নজরে থাকুক খাদ্যতালিকা। তাই ফাস্টফুড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তারা জানাচ্ছেন, বিরিয়ানি, মোগলাইয়ের মতো অতিরিক্ত মশলাদার খাবার একসঙ্গে খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা হতে পারে। পেটের সমস্যা ও দেখা দিতে পারে। আবার পিৎজা, বার্গারের মতো খাবারেও রাশ টানার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কারণ, এগুলোতে ব্যবহৃত একাধিক রাসায়নিক শরীরে সমস্যা তৈরি করে। তাই বাড়ির তৈরি কম তেল-মশলার খাবারেই হোক ভাইফোঁটার ভুরিভোজ (Bhai Phonta)। এমনি পরামর্শ বিশেষজ্ঞ মহলের।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Bollywood Bhai Dooj: ভাইফোঁটার আনন্দে মেতে উঠেছেন বলিউডের তারকারা, দেখুন ছবি

    Bollywood Bhai Dooj: ভাইফোঁটার আনন্দে মেতে উঠেছেন বলিউডের তারকারা, দেখুন ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাইফোঁটা বা ভাই দুজ (Bhai Dooj) ভাই-বোনের বন্ধনের উৎসব। এই দিন বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বাংলায় এই উৎসব ভাইফোঁটা হিসেবে পালিত হলেও গোটা ভারতে এই উৎসব ভাই দুজ নামে পরিচিত। ফলে এদিন বলিউডের তারকারাও ভাই দুজ বেশ জাঁকজমকভাবেই উদযাপন করে থাকে। প্রতিবছরের মত এবছরও তাঁরা তাঁদের ভাই-বোনদের সঙ্গে ভাই দুজ উদযাপন করে তার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। বুধবার বিকেল থেকেই বলিউড (Bolywood Bhai Dooj) অভিনেত্রীরা ভাইদের মঙ্গল কামনায় ভাই দুজ (Bhai Dooj) পালন করছেন। সোহা আলি খান থেকে শ্বেতা বচ্চন, একতা কাপুর, কঙ্গনা রানাউত, সারা আলি খান সহ অনেকেই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ভাইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করেছেন।

    ভাই সইফ আলি খানকে ভাইদুজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সোহা আলি খান এবং বোন সাবা পতৌদিও। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সইফের সঙ্গে একটি ভিডিও পোস্ট করে সোহা লিখেছেন, “আমাকে সবসময় নিজের প্রতি সৎ থাকতে অনুপ্রাণিত করার জন্য এবং সেরা সময় এখনও আসেনি এটা আমাকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। শুভ ভাই দুজ”। আবার সাবা পতৌদির মা শর্মিলা ঠাকুররের সঙ্গে সইফ এবং তাঁর ও সোহার পারিবারিক ছবি পোস্ট করে লিখেছেন “দাদা পাক্কা প্র্যাঙ্কস্টার”।

    [insta]https://www.instagram.com/reel/CkK8GjPjfQU/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

    [insta]https://www.instagram.com/p/CkKl9q0Iess/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

    অমিতাভ বচ্চনের কন্যা শ্বেতা বচ্চনও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া আ্যকাউন্টে ভাই অভিষেক বচ্চনকে ভাইদুজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অভিষেকের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে শ্বেতা লিখেছেন “সব সময় সূর্যের মতো উজ্জ্বল এবং রামধনুর মতো রঙিন থেকো। শুভ ভাই দুজ”।

    [insta]https://www.instagram.com/p/CkK13XYS1hp/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

    ভাই দুজের (Bollywood Bhai Dooj) দিনে শার্টলেস সাদা-কালো  ছবিতে ভাইজান (Bhaijan) সকলের মন কেড়ে নিয়েছেন। ছবিটির সঙ্গে বলিউড সুপারস্টার লিখেছেন ‘শুভ ভাই দুজ’ (Subha Bhai Dooj) অর্থাৎ ‘শুভ ভাইফোঁটা’।

    [insta]https://www.instagram.com/p/CkLdUHpveyT/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

    কার্তিক আরিয়ানও তাঁর দিদির থেকে আশীর্বাদ নেওয়ার মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।

    [insta]https://www.instagram.com/p/CkNNT0FPIMc/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

    ভাই তুষার কাপুরকে ভাই দুজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রযোজক একতা কাপুরও।

    [insta]https://www.instagram.com/reel/CkLEL42phcz/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

    দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর পর এবার জমিয়ে ভাইফোঁটা উদযাপন করলেন কাজল ও তানিশা। কাজল ভাইফোঁটার দিন মা তনুজা, বোন তানিশা মুখোপাধ্যায় ও জ্ঞাতি ভাই-বোন সম্রাট মুখোপাধ্যায়, সুজয় মুখোপাধ্যায় ও শর্বাণী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।

    [insta]https://www.instagram.com/reel/CkLauv4A31A/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

    অন্যিদকে পরিণীতি চোপড়া ও মানিশ মালহোত্রা বরুণ ধাওয়ান, কঙ্গনা রানাউত, সারা আলি খান তাঁদের ভাই দুজ উদযাপনের মুহূর্ত শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

    [insta]https://www.instagram.com/p/CkIFgKWoDy3/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

    [insta]https://www.instagram.com/p/CkLNTY1Ig1q/?utm_source=ig_web_copy_link[/insta]

  • bhai phonta:  দুদিন ভাইফোঁটা! জেনে নিন কখন এবং কীভাবে ভাইকে ফোঁটা দেবেন

    bhai phonta: দুদিন ভাইফোঁটা! জেনে নিন কখন এবং কীভাবে ভাইকে ফোঁটা দেবেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা/যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা  এই মন্ত্র উচ্চারণ করেই ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেয় বোনেরা। ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে। ভাইয়েরাও বোনেদের জন্য প্রার্থনা করে। আর দাদারা তাঁদের আশীর্বাদী হাত রাখে বোনেদের মাথায় । দিদিরাও ভাইদের বড় হওয়ার আশীর্বাদ করে।  প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া বা ভাই ফোঁটা পালিত হয়। তবে এ বছর ভাই ফোঁটা দুই দিন। কারও মতে ২৬ অক্টোবর ভাই ফোঁটা আবার কেউ কেউ ২৭ অক্টোবর ভাই ফোঁটা পালন করবেন। 

    আরও পড়ুন: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

    পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৬ অক্টোবর দুপুর ২টো ৪২ মিনিট থেকে দ্বিতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে। যা ২৭ অক্টোবর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। অর্থাৎ ২৬ ও ২৭ অক্টোবর এই দুই দিনই দ্বিতীয়া তিথি থাকবে। শাস্ত্রে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া তিথিটি যম দ্বিতীয়া নামেও পরিচিত। এই তিথিতে নিজের বোন যমুনার বাড়ি যান যম। কাহিনি অনুযায়ী কার্তিক শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথি বোনের নিমন্ত্রণ স্বীকার করে তাঁর বাড়ি যান যম। সে দিন যমুনার পুজো গ্রহণ করে তাঁর গৃহ ভোজন করেন তিনি। যমুনা আশীর্বাদ চাইলে যম বলেন যে, এই তিথিতে যে ভাই নিজের বোনের বাড়ি গিয়ে তাঁর পুজো স্বীকার করবে ও তাঁর হাতে তৈরি রান্না গ্রহণ করবে, তাঁর ভাগ্যে অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না। 

    আরও পড়ুন: জানুন, সাতের দশকের কলকাতার ডন ‘ফাটাকেষ্ট ও তাঁর কালীপুজোর গল্প‌’

    এই পবিত্র দিনে বোনেরা ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেন। বাস্তুতন্ত্র অনুসারে ভাইকে ফোঁটা দেওযার সময় তাঁর মুখ যেন পূর্ব, উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে থাকা উচিত। এই দিনে ভাইকে ফোঁটা দেওয়ার আগে কিছু খাওয়া উচিত নয়। ভাইফোঁটার দিন ভাই-বোনেরা যেন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করবেন না। ভাইয়ের থেকে পাওয়া উপহার যেমনই হোক না কেন ,তাকে ও তার দেওয়া উপহারকে কখনও অসম্মান করবেন না। ভাইফোঁটার দিন কপালে ফোঁটা দেওযার আগে দুজনেই কিছু খাবেন না। ওই দিন মিথ্যা কথা একেবারেই বলবেন না। পুজোর সময় কালো কাপড় একেবারেই পরবেন না।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Bhai phonta: ভাইফোঁটার শুরু কবে জানেন? এর পিছনের গল্পগুলো ভারি সুন্দর

    Bhai phonta: ভাইফোঁটার শুরু কবে জানেন? এর পিছনের গল্পগুলো ভারি সুন্দর

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: জলযোগে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি জাতীয় খাবার, লুচি,ঘুগনি। দুপুরে মাংস অথবা মাছ ভাত। ভাইফোঁটা মানেই যে কোনও বাঙালি বাড়ির পাতে এগুলো থাকবেই‌। সাধারণত কালীপুজোর  এক দিন পর সম্পন্ন হয় ভাইফোঁটা। এবছর অবশ্য ব্যতিক্রম। সকাল থেকেই বাঙালি বাড়িতে ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে‌‌। একদিকে জলযোগের আয়োজন তো অন্যদিকে সাজগোজ। ভাই-দাদারা পাঞ্জাবি পড়বে তো দিদি-বোনেরা শাড়ি। হিন্দু ধর্মের যে কোনও পুজো বা ব্রত সম্পন্ন হয় পরিবার, আত্মীয় স্বজনদের মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে। ভাইফোঁটা হলো ভাই ও বোনের মঙ্গল কামনার ব্রত। উভয়ের জীবনেই যেন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি বিরাজ করে , সেই প্রার্থনাই ভাই-বোনেরা একে অপরের উদ্দেশ্যে করে থাকে এই বিশেষ তিথিতে।

    পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই উৎসব কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়াতে উদযাপিত হয়। মাঝেমধ্যে এটি শুক্লপক্ষের প্রথম দিনেও উদযাপিত হয়ে থাকে। বাঙালির ঘরোয়া এই উৎসবে অন্যান্য পুজোর মতো রীতি, আচার বা মন্ত্রোচ্চারণ সেভাবে নেই বললেই চলে। ছড়ার মতো পাঠ করা হয় – 
    “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
    যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, 
    আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা”॥

    ভাইফোঁটা যেন বাঙালির নিজস্ব উৎসব। সবকিছুতেই বাঙালি মোড়ক। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাইফোঁটার বিভিন্ন নাম রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের এই উৎসব ভাইদুজ নামে পরিচিত। সেখানে ভাইফোঁটা পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ। নেপালে ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে এই উৎসব পরিচিত ভাইটিকা নামে পরিচিত। ভাঁইফোটা, ভাই ও বোনদের  উপহার পাওয়ার দিনও বটে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আধুনিক প্রজন্মকে ভাঁইফোটার দিন ভাই ও বোনদের জন্য পছন্দ মতো ‘গিফট আইটেম’ কিনতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও সামাজিক সদ্ভাবনার উদ্দেশ্যে গণ ভাইফোঁটার আয়োজন করা হয়।  

    আরও পড়ুন: হিন্দু যুবককে গোমাংস খাইয়ে, সুন্নত করিয়ে ইসলামে দীক্ষা, কাঠগড়ায় কং নেতা সহ ১১

    ভাইফোঁটার নেপথ্যে  রয়েছে বেশ কয়েকটি পৌরাণিক কাহিনী। কথিত আছে, সূর্যদেব ও তার পত্নী সংজ্ঞার যমুনা নামে কন্যা এবং যম নামে পুত্র সন্তান ছিল। পুত্র কন্যা সন্তানের জন্মের পরে সূর্যদেবের উত্তাপ স্ত্রী সংজ্ঞা সহ্য করতে পারতেন না। তিনি তখন নিজের প্রতিলিপি ছায়াকে স্বর্গলোকে রেখে মর্তে নেমে আসেন। সংজ্ঞার প্রতিরূপ হওয়ার কারনে, দেবতারা ছায়াকে চিনতে পারে না। স্বর্গে বিমাতা ছায়া যমুনা ও যমের প্রতি দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন। কিন্তু ছায়ার মোহে অন্ধ সূর্যদেব কোন প্রতিবাদ না করায় অত্যাচারের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে। এভাবেই একদিন বিমাতা কর্তৃক স্বর্গরাজ্য থেকে বিতাড়িত হন যমুনা।  যমুনার বিয়ে হয় এক উচ্চ বংশ জাত পরিবারে। বিয়ের পর দীর্ঘকাল যমুনাকে দেখতে না পেয়ে মনে আকুলতা তৈরী হয় যমের। এরপরই মন শান্ত করতে দিদির বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যম। কালী পুজোর দুদিন পরে যমুনার বাড়ি পৌঁছায় যম। ভাই এর আগমনে তারজন্য জন্য নানা রকমের খাবারের আয়োজন করেন দিদি যমুনা। দিদির আন্তরিকতায় ও ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে দিদিকে উপহার স্বরূপ বরদান প্রার্থনা করতে বলেন যম। সেই সময় যমুনা ভাইয়ের কাছে প্রার্থনা করেন যে, ‘ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দিন প্রত্যেক ভাই যেন তার বোনের কথা স্মরণ করে এবং প্রত্যেক বোন যেন তার ভাইয়ের মঙ্গল ময় দীর্ঘ জীবন কামনা করে।’ তখন থেকেই নাকি ভাইফোঁটার প্রচলন।

    অন্য একটি পৌরাণিক মত হলো ,  নরকাসুর বধের পূর্বে শ্রী কৃষ্ণ , সুভদ্রার কাছে আসেন। সুভদ্রা তখন শ্রী কৃষ্ণের মঙ্গল ও বিজয় কামনা করে , কপালে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টি খেতে দেন শ্রী কৃষ্ণকে। এরপরই নরকাসুরকে বধ করেন শ্রী কৃষ্ণ।  আবার আরও একটি কাহিনী হলো, বালির হাতে পাতালে বন্দি হন ভগবান বিষ্ণু। তখন মাতা লক্ষ্মী বালিকে ভাই হিসেবে স্বীকার করে তাঁর কপালে তিলক এঁকে দেন। বালি উপহার স্বরূপ মাতা লক্ষ্মীকে কিছু দিতে চাইলে , দেবী লক্ষ্মী ভগবান বিষ্ণুকে চেয়ে নেন। তখন থেকেই নাকি ভাঁইফোটা প্রচলিত।

LinkedIn
Share