Tag: bharat

bharat

  • Cash Transfers: মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ, বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত

    Cash Transfers: মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ, বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’দশক আগে মহিলাদের জন্য সরাসরি নগদ অর্থ হস্তান্তরকে (Cash Transfers) একটি পরীক্ষামূলক নীতি হিসেবে দেখা হত। একে অনেক সময় আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী উদ্যোগ বলে খারিজ করা হয়েছিল। কিন্তু আজ এই ব্যবস্থা ভারতের কল্যাণমূলক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে তামাম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে (Bharat)।

    ভারতের মোট ব্যয় (Cash Transfers)

    ২০০৫ সালে এই ধরনের নগদ হস্তান্তরে ভারতের মোট ব্যয় ছিল আনুমানিক ১,৩০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে এসে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৪৬ লক্ষ কোটি টাকায়। রাজ্যস্তরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫টি রাজ্যের ১৩ কোটিরও বেশি নারী সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। এই দ্রুত বিস্তারই প্রমাণ করে, কীভাবে সরাসরি নগদ হস্তান্তর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি নতুন ধারণা থেকে স্বাভাবিক নীতিতে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে দ্রুত হয়েছে। ২০২০ সালে নারীদের জন্য বৃহৎ পরিসরের নগদ হস্তান্তর প্রকল্প ছিল মাত্র একটি রাজ্যে। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫। এই প্রবৃদ্ধি রাজ্যগুলির কল্যাণ ভাবনায় এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। খণ্ডিত ভর্তুকির ব্যবস্থা থেকে সরে এসে সরাসরি আয় সহায়তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা এখন স্পষ্ট। এই প্রকল্পগুলির মূল নীতিটি সহজ হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। অর্থ সরাসরি একজন নারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। তাই তিনি নিজেই ঠিক করতে পারেন কীভাবে সেই অর্থ সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করবেন। তবে এর ফল শুধু পারিবারিক ভোগব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব বিস্তৃত অনেক দূর পর্যন্ত।

    পণ্যভিত্তিক ভর্তুকি

    সম্পদ, কর্মসংস্থানের অবস্থা বা পণ্যভিত্তিক ভর্তুকির সঙ্গে যুক্ত প্রচলিত কল্যাণমূলক কর্মসূচির তুলনায় সরাসরি নগদ হস্তান্তর পদ্ধতি বেশি পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ। সুবিধাভোগীদের কাছে এর অর্থ হল আয়ের সাহায্য পাওয়ার নিশ্চয়তা। সরকারের ক্ষেত্রে এটি পরিমাপযোগ্য ফল ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে, পাশাপাশি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমায়। নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়েও প্রমাণ বলছে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক ফল দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত নগদ হস্তান্তর পারিবারিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করে এবং গৃহস্থালির সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করে। বহু ক্ষেত্রে নারীরা জানিয়েছেন, সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ ব্যবস্থাপনায় তাঁদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে (Cash Transfers)।

    গড় মাসিক মাথাপিছু ব্যয়

    যে অর্থনীতিতে নিম্ন আয়ের পরিবারের গড় মাসিক মাথাপিছু ব্যয় ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে, সেখানে প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পারিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এটি কোনও প্রতীকী সহায়তা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ মাসিক বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নগদ সহায়তা দানের মূল ধারণা এক হলেও, রাজ্যগুলি তাদের জনসংখ্যাগত বাস্তবতা ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলির নকশা নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। তেলঙ্গনার মহালক্ষ্মী প্রকল্পে যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়া হয়, যার জন্য বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯,২০০ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাডকি বহিন যোজনায় মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়, যার ফলে রাজ্যের বার্ষিক খরচ প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকা (Bharat)।

    গৃহলক্ষ্মী যোজনা

    কর্নাটকের গৃহলক্ষ্মী যোজনা পরিবারপ্রধান নারীদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা দেয়, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০,৬০৮ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প, যা ২০২১ সালে চালু হয়, মাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দেয়। এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ নারী-কেন্দ্রিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের লাডলি বেহনা যোজনা, বৃহৎ পরিসরে শুরু হওয়া প্রাথমিক উদ্যোগগুলির একটি। এখানে মাসে ১,২৫০ টাকা দেওয়া হয়। এটি পরবর্তীকালে চালু হওয়া একাধিক প্রকল্পের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করেছে (Cash Transfers)।

    বার্ষিক এককালীন অর্থ

    বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ কিছু রাজ্য মাসিক অর্থ দেওয়ার বদলে বার্ষিক এককালীন অর্থ মঞ্জুর করার পথ বেছে নিয়েছে। অন্য রাজ্যগুলি গৃহস্থালির ব্যয়চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মাসিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেয়। যোগ্যতার মানদণ্ডও রাজ্যভেদে ভিন্ন। কোথাও শুধুমাত্র বিবাহিত নারীরা অন্তর্ভুক্ত, আবার কোথাও বিধবা, অবিবাহিত নারী বা পরিবারপ্রধান নারীরাও এই প্রকল্পের আওতায় পড়েন। এই ভিন্নতা সত্ত্বেও, সব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য একটাই, নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা।

    নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচি

    নারীদের জন্য নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচির আর্থিক প্রভাব নিঃসন্দেহে ব্যাপক। একাধিক রাজ্যে এই প্রকল্পগুলির ব্যয় এখন মোট রাজ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় দুই থেকে তিন শতাংশের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্নাটকে নারীকেন্দ্রিক নগদ হস্তান্তর খাতে ব্যয় সামগ্রিক কল্যাণ বাজেটের (Bharat) একটি প্রধান অংশ দখল করে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহ্যবাহী কল্যাণমূলক কর্মসূচির সম্মিলিত বরাদ্দকেও ছাপিয়ে গিয়েছে (Cash Transfers)। জাতীয় স্তরে, ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে এই নগদ হস্তান্তর ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ০.২ শতাংশের সমান ছিল। ২০২০–২১ সালে যেখানে এই হার ছিল মাত্র ০.০৪ শতাংশ, সেখান থেকে এই দ্রুত বৃদ্ধি নীতিটির দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রতিফলন।

    ব্যয়ের পরিমাণ

    অনেকের মতে, ব্যয়ের পরিমাণ বড় হলেও তা অযথা বা অপচয়মূলক ভোগে পরিণত হয় না। বরং এই নগদ হস্তান্তরগুলি আয়ের একটি স্থিতিশীল সহায়ক হিসেবে কাজ করে, যা পরিবারগুলিকে মূল্যবৃদ্ধি, মৌসুমি আয়ের ওঠানামা এবং আকস্মিক খরচ সামাল দিতে সাহায্য করে। রাজ্যস্তরের বিভিন্ন সমীক্ষায় একটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে, নারীরা এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করেন। সন্দেহপ্রবণ ধারণার বিপরীতে, এই অর্থ খুব কম ক্ষেত্রেই বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হয়। বরং এটি পারিবারিক বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকই খাদ্য খাতে ব্যয় হয়, আর কর্নাটকে এই হার বেড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশে পৌঁছায়। ব্যয়ের অন্যান্য প্রধান ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ, বিদ্যুৎ ও জল বিল পরিশোধ, এবং অনানুষ্ঠানিক ঋণ শোধ।

    মাসিক নগদ হস্তান্তর

    গ্রামীণ এলাকায় মাসিক নগদ হস্তান্তর প্রায়ই মাথাপিছু ব্যয়ের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের সমান হয়। এর ফলে এটি অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবে কাজ করে—বিশেষত কৃষি বা অনানুষ্ঠানিক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির জন্য। অনেক নারীর কাছে এই অর্থের পরিমাণের মতোই এর নিয়মিত ও পূর্বানুমেয় প্রাপ্তি সমান গুরুত্বপূর্ণ (Cash Transfers)। অর্থনৈতিক সূচকের সীমা অতিক্রম করে সরাসরি নগদ হস্তান্তর কর্মসূচিগুলি এখন পরিবারভিত্তিক সামাজিক সম্পর্কের ভেতরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। নারীদের কেবল গৌণ সুবিধাভোগী হিসেবে না দেখে সরাসরি প্রাপক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে (Bharat)। উপভোক্তা নারীরা জানাচ্ছেন, সংসারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁদের মতামতের গুরুত্ব বেড়েছে—নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা থেকে শুরু করে সন্তানের শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় নির্ধারণ পর্যন্ত। নিজের নামে নিয়মিত আয়ের একটি উৎস থাকার মানসিক প্রভাব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলে, যেখানে এতদিন নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সীমিত ছিল।

    কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জবাবদিহি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নারীরা ক্রমশ আরও সোচ্চার হচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, নারী-কেন্দ্রিক নগদ হস্তান্তর কর্মসূচিগুলি একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী ভোটব্যাঙ্কের উত্থানে সহায়তা করছে, যা রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী কৌশলকে নতুন করে রূপ দিচ্ছে। তবে বিরোধীরা এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে বাড়তি আর্থিক চাপ এবং বিকল্প খাতে ব্যয়ের সুযোগ হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বাজেট সংক্রান্ত আপস বাস্তব হলেও বহু নীতিবিশেষজ্ঞের মতে, সরাসরি নগদ হস্তান্তরকে স্বল্পমেয়াদি অনুদান হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উন্নত পুষ্টি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা, স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর প্রবেশাধিকার এবং গভীরতর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো সুফলগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো ও প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি) ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচিগুলি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থাকেও আরও মজবুত করছে (Cash Transfers)।

    ভারত যখন কল্যাণমূলক পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছে, তখন নারীদের লক্ষ্য করে চালু করা এই নগদ হস্তান্তর প্রকল্পগুলি তাদের সরলতা, দক্ষতা ও মর্যাদাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। রাজনৈতিকভাবে সতর্ক এক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে যার সূচনা হয়েছিল, তা আজ ধারাবাহিক (Bharat) ব্যাঙ্ক হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতের কল্যাণ রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

  • India Russia Relation: ঐতিহাসিক ভারত সফরে আসছেন পুতিন, পঞ্চস্তরীয় নিরাপত্তার বলয়ে দিল্লি

    India Russia Relation: ঐতিহাসিক ভারত সফরে আসছেন পুতিন, পঞ্চস্তরীয় নিরাপত্তার বলয়ে দিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার দু’দিনের ঐতিহাসিক ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (India Russia Relation)। রুশ প্রেসিডেন্টের আসার প্রতীক্ষার (Vladimir Putin) প্রহর গুণছেন ভারতবাসী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-পোস্টারে ছয়লাপ করে দেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লির রাস্তা-অলি-গলি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মধ্যে দিয়ে রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আর মজবুত হবে।

    ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন (India Russia Relation)

    পুতিন এদিনই ভারতে তাঁর দুদিনের সফর শুরু করবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর নয়াদিল্লি আগমনের অল্প সময় পরেই ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করবেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলন এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লির ওপর শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা, এবং বাণিজ্য ও জ্বালানি অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হবে। ইউক্রেন আক্রমণের পর এটি হবে পুতিনের প্রথম ভারত সফর। শুক্রবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। তার পরেই শুরু হবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। উচ্চ পর্যায়ের এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের সফর যাতে নিরাপদ ও বিঘ্নহীন হয় সেজন্য কঠোর করা হয়েছে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থা। শীর্ষ সম্মেলনের আগে পাঁচ-স্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

    আঁটসাঁট নিরাপত্তা

    এই ব্যবস্থায় রয়েছে অভিজাত ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG) কমান্ডো, সম্ভাব্য যাতায়াতপথে নিযুক্ত স্নাইপার, ড্রোন নজরদারি, অননুমোদিত সংকেত বন্ধে জ্যামার এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এআই-নিয়ন্ত্রিত মনিটরিং সিস্টেম (Vladimir Putin)। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণের জন্য উচ্চ প্রযুক্তির মুখ চিনতে পারা ক্যামেরাও লাগানো হয়েছে (India Russia Relation)।নয়াদিল্লিতে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার ৪০ জনেরও বেশি সিনিয়র নিরাপত্তা আধিকারিক পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁরা এনএসজি এবং দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছেন, যাতে রাষ্ট্রপতির কনভয়ের প্রতিটি মুহূর্ত রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য যে কোনও হুমকি নিষ্ক্রিয় করা যায়। বহুস্তরীয় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কৌশলগতভাবে ভাগ করা হয়েছে এভাবে, বাইরের স্তরগুলি এনএসজি দলের এবং দিল্লি পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকবে, আর ভেতরের স্তরগুলি পরিচালনা করবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস।

    রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় গাড়ির

    রুশ প্রেসিডেন্ট যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কোনও বৈঠক করবেন, এসপিজির কমান্ডোরা মূল নিরাপত্তা বলয়ে যুক্ত হবেন। পুতিন যে হোটেলে থাকবেন এবং যেসব জায়গায় যেতে পারেন, সম্ভাব্য সেই সব জায়গাগুলিও সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা ও সুরক্ষিত করা হচ্ছে। নিরাপত্তায় কোনও ধরনের ত্রুটি যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রাণপাত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় গাড়ির আগমন, শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা সমৃদ্ধ আর্মার্ড অরাস সেনাট লিমুজিন, যেটি বিশেষভাবে এই সফরের জন্য উড়িয়ে আনা হয়েছে ভারতে (India Russia Relation)।

    রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজ

    এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেবেন পুতিন। শুক্রবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হবে রাষ্ট্রপতি ভবনে। পরে তিনি যাবেন রাজঘাটে, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে। এদিনই হায়দরাবাদ হাউসে হবে মোদি-পুতিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। পরে ভারত মণ্ডপমে একটি অনুষ্ঠান এবং পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আতিথ্যে ডিনারে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের (Vladimir Putin)। এবার রুশ প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর অরাস সেনাট লিমুজিন গাড়িটিও। মস্কো থেকে বিশেষ বিমানে করে উড়িয়ে আনা হয়েছে এই লাক্সারি এই গাড়িটিকে। ২০১৮ সালে বাজারে আসার পর থেকেই এই গাড়িটি হয়েছে পুতিনের সরকারি গাড়ি। গাড়ি নয়, বরং সাঁজোয়া বলা যেতে পারে। অনেকেই বলেন এটি হল ভ্রাম্যমাণ একটি দুর্গ। মাস কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন চিনে গিয়েছিলেন এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে, তখন পুতিনের সঙ্গে এই গাড়িতেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে (India Russia Relation)।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

    প্রসঙ্গত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চক্ষুশূল হয়েছে ভারত। শুল্ক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তিও করেনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। এই আবহেই ভারতে আসছেন পুতিন। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের পোক্ত সম্পর্ক। মিস্টার পুতিনের এই (Vladimir Putin) সফর তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের অটোনমি কোনও একটা দেশের কাছে বন্ধক রাখতে পারি না। বরং সব দেশের সঙ্গেই আমাদের স্বাধীন সম্পর্ক থাকা উচিত। আশা করি, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরালো হবে (India Russia Relation)।”

  • Madhya Pradesh: গণবিবাহের আসরে বিয়ে করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে! কেন জানেন?

    Madhya Pradesh: গণবিবাহের আসরে বিয়ে করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে! কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পুত্র। আর পাঁচটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর (Madhya Pradesh) ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়েতে যেমন জাঁক হয়, তাঁর বিয়েতে তেমন দেখা গেল কই! শুধু তাই নয়, তাঁর বিয়ে হল গণবিবাহের আসরে। আজ্ঞে, হ্যাঁ। শুনতে অবাক লাগলেও, এমনভাবেই ছেলের (Abhimanyu Yadav) বিয়ে দিয়ে নজির গড়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির মোহন যাদব। তাঁরই ছোট ছেলের বিয়ে হয় ৩০ নভেম্বর, রবিবার। আরও ২১ জোড়া যুগলের সঙ্গে নববধূর সঙ্গে এদিন সাত পাকে বাঁধা পড়েন মন্ত্রীপুত্রও।

    গণবিবাহ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পুত্রও (Madhya Pradesh)

    মোহন যাদবের ছোট ছেলে অভিমন্যু উজ্জ্বয়িনীতে আয়োজিত গণবিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে ইশিতা যাদবের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর-কনেদের সকলেই জমকালো পোশাকে সেজেছিলেন। বিবাহস্থলে এসেছিলেন ঘোড়া এবং সুসজ্জিত রথে চড়ে। গণবিবাহের আসরে ছেলের বিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব সময় জোর দেন বিয়ে সরলভাবে হওয়া উচিত। তাই সবাই একসঙ্গে বিয়ে করছে।”

    সমাজে বার্তা

    বিয়ের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও। তিনি বলেন, “গণবিবাহের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজে একটি অত্যন্ত বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে।” নিজের বিবাহ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অভিমন্যু বলেন, “এটি একটি রাজকীয় বিবাহ – অনেক বর আমার সঙ্গে এখানে উপস্থিত আছেন।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যোগগুরু রামদেব এবং বাগেশ্বর ধামের প্রধান পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীও (Madhya Pradesh)।

    জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২৫ হাজার অতিথি। এঁদের সিংহভাগই বর এবং কনের পরিবারের। শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী নিজের বাসভবন গীতা কলোনিতে পুজোর্চনা করেন। শনিবার তাঁর পরিবারের সদস্যরা পালন করেন বিয়ের সমস্ত রীতিনীতি। প্রসঙ্গত, গত বছরও বড় ছেলে বৈভবেরও বিয়ের অনুষ্ঠান খুবই সাদামাঠাভাবে করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল (Abhimanyu Yadav) রাজস্থানে। তবে সেটি ছিল নিতান্তই সাদামাঠা একটি অনুষ্ঠান। আর এবার গণবিবাহের আসরে ছোট ছেলের বিয়ে দিয়ে দেশবাসীকে চমকে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী। সমাজকেও বার্তা দিয়েছেন অপ্রয়োজনীয় খরচ-খরচা থেকে শত হাত দূরে থাকতে।

  • CAA: বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসা ১২ শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দিল মোদি সরকার

    CAA: বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসা ১২ শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দিল মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুসলমানদের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে কোনও মতে এক কাপড়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন অনেক হিন্দু। এমনই ১২ জন হিন্দু শরণার্থীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব (Indian Citizenship) দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) -এর অধীনে তাঁদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র দিয়েছে সরকার। ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হাতে পেয়ে তাঁরা যেন হাতে চাঁদ পেয়েছেন। যার জেরে অবসান ঘটল বহু দশকের অনিশ্চয়তার। সেই সঙ্গে সূচনা হল এক নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে থাকলেও, নিরন্তর অত্যাচারের কারণে ভারতকেই তাঁরা তাঁদের মাতৃভূমি হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন। শেষমেশ সেই দেশেই চিরকালের জন্য ঠাঁই জুটল সহায়-সম্বলহীন এই ১২জন হিন্দু শরণার্থীর।

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাত্রা (CAA)

    এই হিন্দু পরিবারগুলির বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাত্রাটি ছিল যথেষ্ট বেদনাদায়ক। তাঁদের অনেকেই পূর্ব বাংলা ছেড়ে আসেন কেবল পরণের পোশাকটি সম্বল করে। ধর্ম, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের কারণে তাঁদের জোর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেছিলেন শুধু এই বিশ্বাস নিয়েই যে ভারত তাঁদের রক্ষা করবে। ভারতে বসবাস করলেও বস্তত তাঁরা ছিলেন রাষ্ট্রহীন। নাগরিকত্ব না থাকায় তাঁরা নিয়মিত চাকরির জন্য আবেদন করতে পারতেন না, পাসপোর্ট পেতেন না, কিংবা অন্যান্য মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। কোনও নথির প্রয়োজন হলেই তাঁদের বলা হত ১৯৭১ সালের আগের কাগজপত্র দেখাতে। কার্যত এটি ছিল তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। কারণ নিরন্তর হিংসার মধ্যে তাঁরা এ দেশে চলে এসেছিলেন কোনওক্রমে।

    লড়াই চলেছে দশকের পর দশক ধরে

    শরণার্থী এই হিন্দুদের লড়াই চলেছে দশকের পর দশক ধরে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তাঁদের নাগরিকত্ব পেতে দেরি হয়েছে। তৃণমূল তো বটেই, সিপিএম এবং কংগ্রেসের বহু নেতাও তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। যার ফলে এই দেশের হাজার হাজার হিন্দু শরণার্থী দিন কাটিয়েছেন ভয়ে ভয়ে। এই ভয় পাছে কখনও ফের বাংলাদেশে ফিরতে হয়, সেই ভেবে, কখনও বা কাজ হারানোর ভয়ে, এবং যে দেশকে তারা নিজেদের ঘর মনে করত, সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ভয় (CAA)।

    সিএএ

    শরণার্থী পরিবারগুলির জন্য স্বস্থির হাওয়া বয়ে নিয়ে এসেছে সিএএ। মোদি সরকার এই সিএএ-এর বিধি জারি করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পর পরিবর্তন হতে থাকে তাঁদের পরিস্থিতির। এই সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে যে অগ্রগতি হয়েছে তাকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে মতুয়া এবং অন্যান্য হিন্দু সম্প্রদায়দের জন্য যাঁরা দেশভাগের সময় ও পরবর্তী কালে ভারতে এসেছেন। অথচ, এই সিএএ-রই প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলবল (Indian Citizenship)।মতুয়া সম্প্রদায়ই রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী গোষ্ঠী। তাঁরা মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। বহু দশক ধরে ঠাকুরবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় বহু পরিবার কাগজপত্র ছাড়াই বসবাস করতেন। তাঁরা সব সময় আশঙ্কায় থাকতেন যে তাঁদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। এখন, নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর তাঁরা বলছেন, এখন তাঁরা নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারবেন।

    বিজেপির অবদান

    এই অগ্রগতির একটি বড় অংশই সম্ভব হয়েছে মাস দুয়েক ধরে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিজেপির খোলা সহায়তা কেন্দ্র এবং ক্যাম্পগুলির জন্য। নদিয়া, কোচবিহার এবং অন্যান্য অঞ্চলের ক্যাম্পগুলি হাজার হাজার শরণার্থীকে সিএএর ফর্ম পূরণ, তথ্য যাচাই এবং কাগজপত্র ঠিকঠাক করতে সাহায্য করেছে। যাঁরা একসময় মনে করতেন তাঁরা কখনওই বৈধ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না ভারতে, তাঁরাই এখন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন (CAA)।

    কী বলছেন নাগরিকত্ব পাওয়া ভারতীয়রা

    সম্প্রতি ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার এক ব্যক্তি। নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে সংখ্যালঘু মানুষ, বিশেষ করে হিন্দুরা ভারতে এসেছিলেন। আমার অভিজ্ঞতায়, যখন আমরা ভারতে এসেছিলাম, তখন রেলওয়ে স্টেশনে জিআরপি আমাদের আটক করে বারাসত ও শিয়ালদহে নিয়ে গিয়েছিল। তখন (Indian Citizenship) আমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পাসপোর্ট অফিসে যেতে গিয়েও নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমাদের সন্তানদের পরীক্ষায় বসা বা ভর্তি হতেও বহু নথিপত্র জমা দিতে হয়েছে। এখন সরকারের প্রণীত আইনের আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার ফলে উদ্বাস্তু মানুষরা অনেক উপকৃত হয়েছে। উদ্বাস্তুদের পক্ষ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানাই (CAA)।”

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack) চলছেই। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই নিপীড়ন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির গভীরতা ও ব্যাপ্তিকে উপেক্ষা করেছে (Roundup Week)। কারণ এর পেছনে রয়েছে ভয়াবহ হিন্দু-বিদ্বেষমূলক মানসিকতা। জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবের ওপর আক্রমণ, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই হিন্দুরা এখন তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ ও অভূতপূর্ব হিন্দু-বিদ্বেষের মুখোমুখি। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক গত ২৩ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই সপ্তাহে কী কী ঘটনা ঘটেছে দেশ এবং বিদেশে।

    উত্তরাখণ্ডে নারীর ধর্মান্তর (Hindus Under Attack)

    প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে বাংলাদেশের নাগরিক মামুন হাসানকে অবৈধভাবে অবস্থান, নথি জালিয়াতি এবং রীনা চৌহান নামে এক নারীর ধর্মান্তর ও পরবর্তী বিবাহের পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।   উত্তরপ্রদেশে জুনাইদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে আর্যন রাজপুত নামে ভুয়ো পরিচয়ে একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল তৈরি করে এক হিন্দু নাবালিকাকে প্রলোভন দেখায়, যৌন নির্যাতনও করে। এডাপাডাভুরে স্কুটারে থাকা চারজন যুবকের একটি দল সোমবার সন্ধ্যায় ২২ বছর বয়সী অখিলেশের ওপরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন, পরে গ্রেফতার করা হয় আরও একজনকে।

    ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে হিন্দু মেয়েকে প্রলোভন

    ইউপির সীতাপুর জেলার খৈরাবাদ এলাকার পণ্ডিত পুরওয়ার বাসিন্দা নাজিম। সে পেশায় ট্রাক চালক। অভিযোগ, সে অজয় নামে ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম পরিচয় ব্যবহার করে নিজের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে এক হিন্দু মেয়েকে প্রলোভন দেখায়। পরে তাকে নিয়ে পালিয়েও যায়। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে (Roundup Week)। ২৫ নভেম্বর অযোধ্যায় রাম মন্দিরে ধ্বজারোহন উপলক্ষে (Hindus Under Attack) এক বিরাট অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরের চূড়ায় গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেন। প্রত্যাশিতভাবেই, পাকিস্তান, কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী এবং ভারতের ‘ওয়োক’ মহলের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা ও সমালোচনা করা হয়েছে। কালাবুরগী শহরের রামনগর এলাকায় রিং রোডে ঘটে যাওয়া এক উদ্বেগজনক ঘটনায় রোহিত এবং অনিল নামে দুই ব্যক্তি একটি লরি থামিয়ে তাতে অবৈধভাবে গবাদি পশু বহনের সন্দেহে নথি পরীক্ষা করতে চান। অভিযোগ, তাঁরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তাঁদের ওপর সহিংস হামলা চালানো হয়।

    বাংলাদেশের ছবিটাও বিশেষ বদলায়নি। এখানে প্রায় ১৫০ বছরের পুরানো ‘সুন্দরী মিত্র বাড়ি দুর্গা মন্দির’, যা সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল ছিল, রাতারাতি ভেঙে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ, এটি বেআইনি জমি দখল করতেই করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

  • India vs South Africa: রোহিত-কোহলি-অশ্বিনের অভাব বুঝছেন গম্ভীর! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪০৮ রানে হার ভারতের

    India vs South Africa: রোহিত-কোহলি-অশ্বিনের অভাব বুঝছেন গম্ভীর! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪০৮ রানে হার ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রোহিত, কোহলি এবং অশ্বিন দীর্ঘ দিন ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। দেশের মাটিতে একের পর এক সাফল্য দিয়েছেন দলকে। এই তিন জনের অভাব যে পূরণ করা যায়নি তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) কাছে হারের পর। এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীর বলেন, “এই হারের দায় সকলের। তবে শুরুটা আমাকে দিয়েই হবে। আসলে এটাই হল রূপান্তরের (ট্রানজিশন) শুরু। আপনাকে সময় দিতেই হবে।” উদাহরণ হিসাবে গম্ভীর তুলে ধরেছেন ওয়াশিংটন সুন্দরের কথা। তিনি বলেছেন, “আমরা ওয়াশিংটনকে যতটা বেশি সম্ভব সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আপনি যদি ভাবেন ১০০-র বেশি টেস্ট খেলা অশ্বিনের মতো খেলে দেবে ওয়াশিংটন, তা হলে তরুণ ছেলেটার উপরে অবিচার করা হবে। এটা নিয়ে আপনাদেরও ভাবা উচিত। সবে ১০-১২-১৫টা টেস্ট খেলেছে ওরা। এখনও শেখার অনেক জায়গা রয়েছে। বিভিন্ন পরিস্থিতি, বিভিন্ন পরিবেশে বল করা শিখছে।”

    ক্রিকেটারদের সময় দেওয়া দরকার

    এর পরেই গম্ভীর বলেছেন, “এত বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে একসঙ্গে হারালে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। এই জন্যই এটাকে রূপান্তর বলছি। এই ক্রিকেটারদের সময় দেওয়া দরকার। আমার মনে হয় না আগে কখনও একই সঙ্গে ব্যাটিং এবং বোলিং দুই বিভাগেই রূপান্তর হয়েছে বলে। আগে ব্যাটিং বিভাগ ভালো থাকত। বোলিং বিভাগে রূপান্তর হত। অথবা উল্টোটা। এই দলে পুরোটাই নতুন করে তৈরি হচ্ছে। সকলের এটা বোঝা উচিত, এই দলে যারা বসে আছে তাদের সেই যোগ্যতা এবং দক্ষতা রয়েছে। আমরা সকলেই টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা দেখতে চাই। সেটার জন্য অভিজ্ঞতা দরকার। এর পর যখন ওরা কঠিন পরিবেশে গিয়ে খেলবে, ঠিক কাজের কাজ করে দেবে।”

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকা

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকাতেও লজ্জার মুখে পড়ল ভারত। পাঁচ নম্বরে নেমে গেল ভারত। ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে দক্ষিণ আফ্রিকা দুই নম্বরে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল। তারা চারটি টেস্ট খেলে তিনটিতেই জিতেছে। একটিতে হেরেছে। তাদের শতকরা পয়েন্ট এখন ৭৫.০০। শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। তারা চারটি টেস্ট খেলে চারটিতেই জিতেছে। তাদের শতকরা পয়েন্ট ১০০। বুধবার গুয়াহাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দ্বিতীয় টেস্টে ৪০৮ রানে হেরে গেল ভারত। গুয়াহাটি টেস্টে ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ৫৪৯ রানের। ভারত হেরেছে ৪০৮ রানে। টেস্ট ক্রিকেটে রানের নিরিখে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০০৪ সালের। সে বার নাগপুরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩৪২ রানে হেরেছিল তারা। জেসন গিলেসপি এবং গ্লেন ম্যাকগ্রার বোলিংয়ের সামনে দুই ইনিংসেই গুটিয়ে গিয়েছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে সাড়ে ৩ দিনেই শেষ গম্ভীরের ভারত। ৪০৮ রানে গুয়াহাটি টেস্টে হারতে হল ভারতকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪০ রানে গুটিয়ে গেল ভারত।

  • Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ! ভারতীয় মহিলাকে হেনস্থা, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ! ভারতীয় মহিলাকে হেনস্থা, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh) চিনের অংশ। এই দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে ড্রাগনের দেশ। তবে শি জিনপিংয়ের দেশের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ ভারতেরই ছিল, আছে এবং থাকবেও (Shanghai Airport)। তবে ভারত এবং চিনের এই দোটানার মধ্যে পড়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হল অরুণাচল প্রদেশের এই মহিলাকে।

    ১৮ ঘণ্টা আটকে, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Arunachal Pradesh)

    আদতে অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা ওই মহিলা বর্তমানে থাকেন ব্রিটেনে। ২১ নভেম্বর সাংহাই পুডং বিমানবন্দরে তাঁকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। ওই মহিলার নাম প্রেমা ওয়াংজম থংডক। বিমানবন্দরে থাকা কয়েকজন চিনা আধিকারিক দাবি করেন, তাঁর পাসপোর্টটি ভারতীয়। জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ রয়েছে অরুণাচল প্রদেশের। ওই আধিকারিকরা জানান, এটি অবৈধ। কারণ ওই প্রদেশ চিনের অংশ। খবরটি দ্রুত পৌঁছে যায় ভারতীয় কর্তাদের কানে। সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাঁরা। তীব্র প্রতিবাদ জানান চিনা কর্তৃপক্ষের কাছে। সাংহাইয়ে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেটও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে এবং প্রেমাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেয়।

    অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা

    প্রেমা অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম কামেং জেলার রূপা এলাকার বাসিন্দা। গত ১৪ বছর ধরে কর্মসূত্রে ব্রিটেনে বসবাস করছেন তিনি। ঘটনার দিন লন্ডন থেকে জাপানে যাচ্ছিলেন তিনি (Arunachal Pradesh)। এর মধ্যে সাংহাই পুডং বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টার ট্রানজিট ছিল। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মহিলা জানান, নিরাপত্তা তল্লাশির সময় চিনা ইমিগ্রেশনের এক আধিকারিক তাঁকে (Shanghai Airport) আলাদা করে ডেকে নেন। তিনি যখন তাঁকে আটকে রাখার কারণ জানতে চান, তখন ওই আধিকারিক জানান যে তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট ‘অবৈধ’। কারণ অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ। প্রেমা বলেন, “আমি যখন তাঁদের প্রশ্ন করতে চেষ্টা করলাম এবং জানতে চাইলাম সমস্যাটা কী, তাঁরা বললেন, ‘অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অংশ নয়’। তাঁরা আমায় উপহাস করতে শুরু করল। তাঁরা বলতে লাগল, ‘তোমার চিনা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা উচিত। তুমি চিনা, ভারতীয় নও’”। তিনি বলেন, “এর আগে আমি কোনও সমস্যা ছাড়াই সাংহাই হয়ে ট্রানজিট করেছি। আমি অনেকক্ষণ আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, পারিনি।” ভারতীয় ওই মহিলা বলেন, “লন্ডন থেকে ১২ ঘণ্টা ভ্রমণ করার পর আমায় ১৮ ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয় (Arunachal Pradesh)। তারা আমার পাসপোর্ট নিয়ে নেয় এবং আমায় বের হতে দেয়নি। আমি খাবারও পাইনি। চিনে গুগল নেই, তাই কোনও তথ্যও পেতে পারছিলাম না। তারা আমায় জাপানে যেতে দিতে অস্বীকার করেছিল। যদিও আমার বৈধ জাপানি ভিসা ছিল। তারা জোর করে বলে যে আমায় হয় ব্রিটেনে ফিরে যেতে হবে, নয়তো ভারতে যেতে হবে।”

    ওঁদের আচরণ অত্যন্ত অপমানজনক

    প্রেমা বলেন, “ওঁদের আচরণ ছিল অত্যন্ত অপমানজনক এবং সন্দেহজনক, ইমিগ্রেশন স্টাফদের যেমন, তেমনই আচরণ করেছেন এয়ারলাইন স্টাফরাও। আমি সাংহাই এবং বেজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাসে ফোন করি। এক ঘণ্টার মধ্যেই (Shanghai Airport) ভারতীয় কর্তারা বিমানবন্দরে এসে আমায় কিছু খাবার দেন। তাঁদের সঙ্গে সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেন এবং আমায় দেশ থেকে বের হতে সাহায্য করেন। এটি ছিল দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার একটা লড়াই। কিন্তু আমি এখন খুশি যে এখন আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি (Arunachal Pradesh)।”

    ত্রাতার ভূমিকায় ভারতীয় কর্তারা

    জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরে বেশ কয়েক ঘণ্টা আটকে থাকার পর প্রেমা একটি ফোন এবং তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত তিনি ব্রিটেনে থাকা তাঁর বন্ধুদের ফোন করেন। তাঁরা তাঁকে সাংহাইয়ের ভারতীয় কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করাতে সাহায্য করেন। ভারতীয় কনস্যুলেটের কর্তারা এক ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছন এবং তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সাহায্য করেন। অরুণাচল প্রদেশের ওই মহিলা বলেন, “আমি কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরে, সেখান থেকে ছ’জন কর্তা এক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দরে এসে আমায় খাবার দেন। তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন যেন আমায় জাপানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু চিনা আধিকারিকরা তা কোনওভাবেই মানেনি। তাঁরা জোর করেছিলেন যে আমি যেন শুধু চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমেই দেশ ছাড়ার টিকিট বুক করি। শেষ পর্যন্ত আমি তাইল্যান্ডে ট্রানজিট-সহ ভারতের ফ্লাইট বুক করি, এবং এখন তাইল্যান্ডেই থেকে কাজ করছি।” প্রেমা বলেন, “অনেক বছর ব্রিটেনে থাকার পরেও আমি আমার ভারতীয় পাসপোর্ট (Shanghai Airport) ছাড়িনি। কারণ আমি আমার দেশকে ভালোবাসি এবং নিজের দেশেই বিদেশি হতে চাই না (Arunachal Pradesh)।”

  • RSS: “আরএসএসের মতো সংগঠন আর দ্বিতীয়টি নেই”, মণিপুরে দাঁড়িয়ে বললেন ভাগবত

    RSS: “আরএসএসের মতো সংগঠন আর দ্বিতীয়টি নেই”, মণিপুরে দাঁড়িয়ে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আরএসএসের (RSS) মতো সংগঠন আর দ্বিতীয়টি নেই। যেমন সমুদ্র, আকাশ, মহাসাগরের তুলনা নেই, তেমনি সংঘেরও নেই।” মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে দাঁড়িয়ে কথাগুলি বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। মণিপুর সফরের প্রথম দিনে ইম্ফলে বিশিষ্টজনেদের এক সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি। নিজের বক্তব্যে ভাগবত সংঘের সভ্যতাগত ভূমিকা, জাতীয় দায়িত্ব এবং শান্তিপূর্ণ ও দৃঢ় মণিপুর গঠনের জন্য যেসব চেষ্টা চলছে, সে কথাও তুলে ধরেন। ভাগবত বলেন, “সংঘ প্রতিদিনই দেশব্যাপী আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এর অনেকটাই ধারণা ও প্রচারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।”

    আরএসএস (RSS)

    এর পরেই সরসংঘচালক বলেন, “আরএসএসের মতো সংগঠন আর নেই। যেমন সমুদ্র, আকাশ, মহাসাগরের তুলনা নেই, তেমনি সংঘেরও নেই। সংঘ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছে এবং প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পরে এর কর্মপদ্ধতি দৃঢ়ভাবে স্থির করা হয়। সংঘকে বোঝার জন্য শাখায় যেতে হয়। সংঘের লক্ষ্য সমাজে কোনও ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি করা নয়, বরং বিরোধীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে সমগ্র হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করা।” তিনি জানান, ১৯৩২–৩৩ সাল থেকেই আরএসএসকে (RSS) নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য প্রচার করা শুরু হয়, বিশেষত ভারতের বাইরে থেকে, যেখানে ভারতের সভ্যতাগত চরিত্র সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না। তিনি সত্যের ভিত্তিতে সংঘকে বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “হেডগেওয়ার ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র, জন্মগত দেশপ্রেমিক এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সকল ধারায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।”

    সংঘ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা

    তিনি বলেন, “সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও গুণগতভাবে উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই হেডগেওয়ার সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংঘ মানুষ গড়ার একটি পদ্ধতি।” মানুষকে শাখা ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘকে বোঝার আহ্বান জানান তিনি। ভাবগত বলেন, “হিন্দু শব্দটি কোনও ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত (RSS) শব্দ। হিন্দু একটি বিশেষণ, বিশেষ্য নয়।” তিনি বলেন, “একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য গুণমান ও ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রের উন্নতি কেবল নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য দরকার শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ একটা সমাজের (Mohan Bhagwat)।” হিন্দু ভাবনার অন্তর্ভুক্তির উদাহরণ হিসেবে ভাগবত শাস্ত্রের একটি বচন উদ্ধৃত করে বলেন, “একং সদ্‌ বিপ্রাঃ বহুধা বদন্তি। সত্য, করুণা, পবিত্রতা ও তপস্যাই ধর্মের সারসত্তা।” তিনি বলেন, “বৈচিত্র্য কোনও মিথ নয়। বৈচিত্র্য সমাজের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রকাশ (RSS)।”

    ভারতের প্রাচীন রাষ্ট্রভাবনা

    ভারতের প্রাচীন রাষ্ট্রভাবনা সম্পর্কে সরসংঘচালক বলেন, “ভারত পশ্চিমী রাষ্ট্রব্যবস্থার অনুসরণে গঠিত হয়নি। এটি আবির্ভূত হয়েছে মানবকল্যাণের জন্য প্রাচীন ঋষিদের তপস্যার ফল হিসেবে। বসুধৈব কুটুম্বকম প্রাচীন হিন্দু দর্শনের বিশ্বজনীন মানবিকতার প্রতিফলন (Mohan Bhagwat)।” এদিনের সভায় সরসংঘচালক একজোট হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজ যত শক্তিশালী হবে, বিশ্ব আমাদের কথা তত শুনবে। দুর্বলদের কথা কেউ শোনে না। সংঘের লক্ষ্য হল শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল হিন্দু সমাজ গঠনের জন্য সক্ষম ব্যক্তিদের প্রস্তুত করা (RSS)।” ভাগবত বলেন, “আরএসএস নিজের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য কাজ করে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তেরা বৈভব অমর রহে মা, হম দিন চার রহে না রহে। একথা আমাদের গুরুরাই বলেছেন।”

    পঞ্চ পরিবর্তন

    আরএসএসের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে যে পঞ্চ পরিবর্তন চলছে, এদিন সেই উদ্যোগগুলির কথাও উল্লেখ করেন ভাগবত। তিনি বলেন, “এই পঞ্চ পরিবর্তন (Mohan Bhagwat) হল, সামাজিক সমরসতা (সামাজিক ঐক্য), কুটুম্ব প্রবর্তন (পারিবারিক জাগরণ), প্রয়াভরণ সংরক্ষণ (পরিবেশ রক্ষা), স্ববোধ (স্বদেশি ভাবনা ও আত্মপরিচয় শক্তিশালী করা) এবং নাগরিক কর্তব্য। আরএসএস প্রধান মণিপুরের শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন, বিশেষত উৎসব-অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা ও মাতৃভাষা ব্যবহারের। এগুলিকে আরও সুদৃঢ় করার পরামর্শও দেন তিনি (RSS)।

    ভাগবতের বক্তব্য

    মণিপুরের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, “সমাজ ও সম্প্রদায়স্তরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ধ্বংস কয়েক মিনিটে হয়, কিন্তু নির্মাণে লাগে বহু বছর, বিশেষত সেটি যদি আবার সকলকে সঙ্গে নিয়ে এবং কাউকে আঘাত না দিয়ে করতে হয়। শান্তি স্থাপনে ধৈর্য, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু সরকারের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না, সমাজের দায়িত্বও বিশাল। স্বনির্ভর সমাজ গড়তে হবে, তবেই স্বনির্ভর ভারত সম্ভব। সংঘ সবসময় শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তির ওপর জোর দেয়।” দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন ভাগবত। তিনি বলেন, “একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী সমাজ গঠনের জন্য দক্ষতা (Mohan Bhagwat) উন্নয়ন ভীষণ প্রয়োজন। ভাবগত বলেন, “সজ্জন শক্তির দ্বারা সম্পূর্ণ সমাজ গঠন করাও প্রয়োজন (RSS)।”

  • Pakistan: “ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান”, তোপ হাসিনার প্রাক্তন সহকারীর

    Pakistan: “ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান”, তোপ হাসিনার প্রাক্তন সহকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পাকিস্তান (Pakistan) ভারতবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে।” অন্তত এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মোহিবুল হাসান চৌধুরী। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাদের উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশকে (Bangladesh) পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের একটি ক্রীড়নক রাষ্ট্রে পরিণত করা।

    চৌধুরীর তোপ (Pakistan)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইউনূস সরকার পাকিস্তানের উগ্রপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী, যেমন, আইএসআই, সেনাবাহিনী, পাঞ্জাবি এলিটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।” চৌধুরী বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাক্তন সহকারী। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের সাংগঠনিক সম্পাদকও। গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয় তাঁকে। এটাই সুগম করে ইউনূসের ক্ষমতা গ্রহণের পথ। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গে চৌধুরী বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ তারা শুধু পাকিস্তানের উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএসআই, সেনাবাহিনী, পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জাবি এলিটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়, যারা গত পঁচাত্তর বছর ধরে দেশটিকে শোষণ করে আসছে। এটি নীতি, মূল্যবোধ কিংবা বন্ধুত্বের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিষয়, বঙ্গবন্ধুর দেশকে একটি ক্রীড়নক দেশে পরিণত করার বিষয়।”

    হাসিনার এই প্রাক্তন সহকর্মীর অভিযোগ

    হাসিনার এই প্রাক্তন সহকর্মী মনে করিয়ে দেন, আওয়ামি লিগ যখন গণহত্যার অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করে, তখন পাকিস্তান তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বাংলাদেশে তারা আইএসআই-সংক্রান্ত কার্যকলাপও শুরু করেছিল। তিনি বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত দেশ পরিচালনা করার সময়, তারা বাংলাদেশকে ভারতবরোধী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সন্ত্রাস রফতানির ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছিল।” চৌধুরীর মতে, এই ধরনের কার্যকলাপ ফের শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি দেশ নয় যেখানে পাকিস্তান (Pakistan) খুব আন্তরিকভাবে গ্রহণযোগ্য, এবং পাকিস্তানের প্রতি তেমন সহানুভূতিও নেই। তবুও, হঠাৎ করেই সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানে, আমরা জানি পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কী, এটা মূলত আইএসআইয়েরই একটি মুখোশ। অধিকাংশ (Bangladesh) পাকিস্তানি সামরিক কর্তা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সে কাজ করেন, যা তাঁদের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিদেশে সন্ত্রাস রফতানির জন্য পরিচিত।”

  • Sheikh Hasina: ইউনূস জমানায় রমরমা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামির, ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র

    Sheikh Hasina: ইউনূস জমানায় রমরমা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামির, ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন দুই আগেই বাংলাদেশের দেশান্তরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। তার পরেই ভারতের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিল জামাত-ই-ইসলামি । জামাতের (Jamaat-E-Islami) সাধারণ সম্পাদক মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, “প্রতিবেশী দেশ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছে, যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক আইন মেনে হাসিনাকে বাংলাদেশে আইনের কাছে পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

    জামাতের বাড়বাড়ন্ত (Sheikh Hasina)

    এমন পরিস্থিতিতে পদ্মা পারে জামাতের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত ভারতের।” তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামি এখন ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে। তিনি বলেন, “এই গোষ্ঠী প্রচুর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দিয়েছে। অথচ পূর্বতন সরকার জঙ্গি কার্যকলাপের দায়ে কারাদণ্ড দিয়েছিল তাদের। হাসিনা-পুত্রের মতে, এসব মুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি জানান, ভারত সরকার এই সব ঘটনা সম্পর্কে অবগত এবং তারা এটাও বুঝতে পারছে যে এগুলির সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থেও। ওয়াজেদ এও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাজত্বে বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈবার নেটওয়ার্কও আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করছে।” তাঁর দাবি, এই সংগঠন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি লস্করের বাংলাদেশ শাখা এবং দিল্লির সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

    ভারতের জন্য গুরুতর উদ্বেগের

    তিনি বলেন (Sheikh Hasina), “এই ঘটনাগুলি ভারতের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।” তাঁর মতে, দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি এসব নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। ওয়াজেদ বলেন, “পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই কার্যকলাপগুলি আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশীদারদের কঠোর নজরদারির দাবি রাখে।” ওয়াজেদ বলেন, “বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা সন্ত্রাস-সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্ভবত কড়া নজর রাখছেন। ভারতীয় নেতৃত্ব বোঝেন যে প্রতিবেশী দেশে এই উগ্রবাদী সংগঠনগুলি ভারতের জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (Jamaat-E-Islami)।” হাসিনা-পুত্র বলেন, “ভারত সরকার সব সময় আইনি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করে।”

    হাসিনার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ

    এদিকে, বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ছাত্র–নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশকে ক্রমেই অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, দেশকে সম্পূর্ণ উগ্রবাদিতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, “দেশটি এখন এমন উগ্রপন্থীদের হাতে রয়েছে, যাদের পেছনে মদত রয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিরও।” অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতাও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। তাদের দাবি, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস একজন পুতুল। তিনি সেই অনুযায়ী কাজ করছেন, যেভাবে তাঁকে দিয়ে করানো হচ্ছে।”

    জামাতের চিন সফর

    প্রসঙ্গত, চলতি (Sheikh Hasina) বছরের জুলাই মাসে ফের চিন সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠন জামাত ইসলামির একটি প্রতিনিধি দল। ৯ সদস্যের ওই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সংগঠনের প্রধান সফিকুর রহমান। মাসখানেকর মধ্যে ওটাই ছিল তাদের দ্বিতীয় চিন সফর। বাংলাদেশের ওই মৌলবাদী সংগঠনের ঘন ঘন চিনে যাতায়াতকে ভালো চোখে দেখেননি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরাও। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, চিন-জামাতের সখ্যতা বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের জন্য আদৌ কোনও ভালো ইঙ্গিত দেয় না। একই সঙ্গে এটি সুখকরও নয় (Jamaat-E-Islami)।

    চিনা দূতাবাসে জামাত নেতারা

    এর আগে ঢাকায় থাকা তাদের দূতাবাসে জামাত নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চিন। ওই ঘটনাকে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি ভারত। কারণ জামাত প্রকাশ্যেই নানা সময় ভারত বিরোধী মন্তব্য করে থাকে। সেক্ষেত্রে চিন জামাতকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে উসকানি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে। যদিও এনিয়ে ভারত কিংবা বাংলাদেশের সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচন হতে পারে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের ‘নৌকা’ বাদ দিয়েই। তবে এই নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব করার দাবি জানিয়েছিল জামাত। গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে এনিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে এই মৌলবাদী সংগঠনটি। শুধু তাই নয়, ঢাকার ওই সমাবেশ থেকেই জামাত ইসলামি জানিয়ে (Jamaat-E-Islami) দিয়েছে, বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার ও সংসদকে কাজ করতে হবে ইসলামি বিধি-বিধান অনুযায়ী (Sheikh Hasina)।

    এহেন আবহে হাসিনা-পুত্রের ভারতের প্রতি এই সতর্কবার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বই কি!

LinkedIn
Share