Tag: Bharatiya Janata Party

Bharatiya Janata Party

  • Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন (Assembly Elections 2026)। ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে নিচু স্তরের কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে কমিশনের। সূত্রের খবর, গত নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল সেগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসডিপিও-দেরও। পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়েছে কমিশন। এসডিপিও-দের নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশের মহকুমা ও জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই ভোট যেন হয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ।

    এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশিকা

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের তরফে কড়া নির্দেশিকা, আগেরবারের ভোটের (Assembly Elections 2026) সময় দায়ের হওয়া সমস্ত ফৌজদারি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সমস্ত জামিন-অযোগ্য ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে। কোনও ওয়ারেন্ট ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়া, থানায় থানায় সমস্ত ঘোষিত ‘পলাতক’ ও ‘ওয়ান্টেড’ আসামিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তরফে সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে যে সব জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বিক্ষোভ বা গোলমালের ইতিহাস রয়েছে সেখানে বিশেষ পদক্ষেপ করতে হবে। কারা সম্ভাব্য গোলমালকারী, তাও চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

    অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করতে হবে

    নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের এলাকা চিহ্নিত করে, সেখানে সারাক্ষণ টহল ও পিকেটিং চালাতে হবে। দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধীরা থাকতে পারে এমন সন্দেহজনক হোটেল, বার, ধর্মশালা ইত্যাদি জায়গায় নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে। নির্বাচনী অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলার ঘটনার খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লুক আউট নোটিস জারি করতে হবে পুলিশকে।

    আন্তঃজেলাভিত্তিক নাকা চেকিং

    আন্তঃজেলাভিত্তিক বেআইনি কার্যকলাপ, বিশেষ করে অবৈধ মদের কারবারের তথ্য দুই জেলার পুলিশদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেইসঙ্গে আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে দিনরাত নাকা চেকিং চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে, সীমান্তবর্তী সমস্ত রাস্তা, একাধিক লিঙ্ক রোড ও কাঁচা রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে নজরদারি জারি রাখতে হবে, নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। থানায় থানায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, নাকা পয়েন্টে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি জোরদার করতে হবে। নাকায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা সচল আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

    রাজনৈতিক সভায় নজরদারি

    রাজনৈতিক দলের সভা-জমায়েতও নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্রার্থী, সভা, রোড শো, পথসভা ইত্যাদির নিরাপত্তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটের প্রচারে আসা হুমকির মুখে থাকা ভিআইপি বা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন আধিকারিকদের সফরেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে।

    কমিশনের নিয়ন্ত্রণে

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) স্পষ্ট বার্তা, ভোটের সময় সকল সরকারি কর্মচারী কমিশনের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন। কমিশনের বার্তা, এই নির্দেশ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। যদি কেউ নিজের কাজ ঠিক ভাবে না করেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। শুধু ভোটের দিনেই নয়, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতেও সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। গণনা পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে ও প্রয়োজনে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনের কাছে।

    বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো

    ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা হয়েছে একাধিক নির্দেশ। প্রচারের উত্তাপে জমে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। ঠিক এই আবহেই ভোট প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও নিরপেক্ষ রাখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। বুথে পাঁচ মিনিট ক্যামেরা বন্ধ থাকলে রিপোল হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেই মর্মেই এবার বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

    বিশেষ পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব

    কমিশন সূত্রে খবর, সাধারণ নির্বাচন হোক বা উপনির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব থাকবে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের উপর। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ও অশান্তি প্রবণ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। বুথভিত্তিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোটের দিন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা অভিযোগের খবর মিললেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাও পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

     

     

     

     

  • Mamata on Ram Navami: শুভেচ্ছাতেই শেষ! সারাদিন রাজ্যে রামনবমীর কোনও অনুষ্ঠানে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা, জানেন কেন?

    Mamata on Ram Navami: শুভেচ্ছাতেই শেষ! সারাদিন রাজ্যে রামনবমীর কোনও অনুষ্ঠানে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা, জানেন কেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা দেশের পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে পালিত হল রাম নবমী (Mamata on Ram Navami)। নির্বাচনের আগে ঈদের নামাজ আদায় করতে রেড রোড গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু রাম নবমীর দিন কোথাও রাম নবমীর কোনও মিছিলে, পুজোয়, খুঁজে পাওয়া গেল না তাঁকে। হিন্দুদের উৎসব বাসন্তী পুজো অন্নপূর্ণা পুজো এবং রামনবমী। নির্বাচনের আগে এটা হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব বলা যায়। অথচ অদ্ভুত কান্ড। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামনবমীর একটা নমো নম করে পোস্টার বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছাড়া তার আর কিছুই করলেন না।

    সংখ্যালঘু তোষণই নীতি

    নির্বাচনের আগে নিজের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে হাতে রাখার জন্য কোনও কসুর ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঈদের দিন বৃষ্টির মধ্যেই সকাল সকাল তিনি চাদর গায়ে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন রেড রোডে ঈদের মঞ্চে। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে তিনি হিন্দি ভাষায় অনর্গল বিজেপিকে আক্রমণ করে যান। তবে রামনবমীকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু পোস্টার। দেখলে অবাক হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামনবমীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মানুষকে। কিন্তু সেখানে শ্রী রামচন্দ্রের কোন ছবি নেই। কেবলমাত্র তার হাসি হাসি মুখের একটি ছবি রয়েছে। যাই হোক এই ছবি পোস্ট করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনভর সেটা নিয়ে সমালোচনা হয়।

    মমতার হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস

    সমালোচকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু  ভোট ব্যাংকের জন্য চিন্তা করেন না। আর সেই জন্যই রামনবমীতে কোনও অনুষ্ঠান দেখা গেল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আসলে, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে বাঙালি হিন্দুর মধ্যে তার জাতীয়তাবাদী সত্তাটা খানিক চাপা পড়ে গিয়েছিল, বারবারি রাজ্যে হিংসা-হানাহানি হলেও বামেদের প্রচারের কারণে নিজেদের বিপদটা বুঝতে পারতেন না বাঙালি হিন্দুরা। তারপর ক্ষমতায় এলেো তৃণমূল। বামেদের দেখানো পথেই সংখ্যালঘুতোষণ শুরু করলো তারা। পশ্চিমবঙ্গে লেগে রইল হিংসা। বাদুড়িয়া কালিয়াচক ধূলাগড় সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুরা অত্যআচারিত হল। কিন্তু ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসার বছর খানেক পর থেকে এই রাজ্যে পাল্টে যেতে শুরু করে পরিস্থিতি। হিন্দুরা তাদের হিন্দুত্ব নিয়ে গর্ব করতে শুরু করে সেই প্রথম। জাগতে শুরু করে হিন্দুরা। ধীরে ধীরে রাজ্যজুড়ে ধুমধাম করে পালন হতে শুরু করে রামনবমী। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ নানা হিন্দু সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে, জায়গায় জায়গায় ধুমধাম করে রামনবমী পালন শুরু হয়। হিন্দুরা জাগতে ধীরে ধীরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামে। তিনি আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরতে শুরু করেন মুসলিম ভোট ব্যাংককে। এরপর ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপির ১৮টি আসন পাওয়ার পর রামচন্দ্র রাতারাতি হয়ে যান বহিরাগত।

    মমতার দ্বিমুখী আচরণ

    তারপর নদী দিয়ে কত জল গড়িয়ে গিয়েছে, কত বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলার হিন্দু সমাজ আরো বেশি করে একত্রিত হয়েছে। আর তত বেশি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরে গিয়েছেন মুসলিম ভোট ব্যাংকের কাছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে তিনি অপমান করেছেন হিন্দুদের।। কোন প্রতিবাদ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাননি। হিন্দুদের পবিত্রতম সমাবেশ মহাকুম্ভকে তিনি ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কোটি কোটি পুণ্যার্থীর আধ্যাত্মিক আবেগকে এভাবে অমঙ্গলজনক শব্দের মাধ্যমে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। জনসমক্ষে দেবীর আরাধনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভুলভাবে সরস্বতী মন্ত্র পাঠ করেন। মন্ত্রের শুদ্ধতা নষ্ট করা এবং ভুল উচ্চারণ ধর্মীয় শাস্ত্রের প্রতি তাঁর উদাসীনতা ও অবজ্ঞাকেই প্রকাশ করে। আধ্যাত্মিক আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনী ও বাণী গুলিয়ে ফেলেন। এই ধরনের ভুল মহাপুরুষদের আদর্শের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন। শ্রীরামকৃষ্ণের কালজয়ী বাণী “যত মত তত পথ”-কে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে “যত মাটি তত টাকা” বলে ব্যাখ্যা করেন। এই মহান আধ্যাত্মিক দর্শনকে অর্থের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ব্রিগেডে লক্ষকণ্ঠে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে তিনি যাননি এবং সেটিকে রাজনৈতিক তকমা দিয়েছিলেন। অথচ রেড রোডের নামাজে নিয়মিত গিয়ে রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়া তাঁর দ্বিমুখী আচরণকেই স্পষ্ট করে।

  • West Bengal Elections 2026: তৃণমূল সরকারের ‘১৪টি ব্যর্থতা’ নিয়ে চার্জশিট প্রকাশ শনিবার, শুক্র-রাতেই শহরে অমিত শাহ

    West Bengal Elections 2026: তৃণমূল সরকারের ‘১৪টি ব্যর্থতা’ নিয়ে চার্জশিট প্রকাশ শনিবার, শুক্র-রাতেই শহরে অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) রণকৌশল স্থির করতে কোমর বেঁধে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবার কলকাতায় এক বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটি ‘চার্জশিট’ বা অভিযোগপত্র প্রকাশ করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নিজেই এই কর্মসূচি থেকে গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের ১৪টি প্রধান ‘ব্যর্থতা’র খতিয়ান তুলে ধরবেন। মমতার বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ দিতে শুক্রবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছচ্ছেন অমিত শাহ। শনিবার নিউ টাউনের হোটেলে শ্বেতপত্র ও ইস্তাহার প্রকাশের পর ফিরে যাবেন দুপুরেই।

    ৩৫-৪০ পাতার একটি চার্জশিট (West Bengal Elections 2026)!

    আগামী নির্বাচন উপলক্ষে (West Bengal Elections 2026) বিজেপি ৩৫-৪০ পাতার একটি চার্জশিট প্রকাশ করবে। ভোটমুখী বাংলায় মমতা জমানার একগুচ্ছ সমস্যা, অবনতি, অবক্ষয়ের কথা তুলে ধরছে গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করেছে ওই চার্জশিট। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এটি শনিবার প্রকাশ করবেন বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। চার্জশিটের মলাটেই অশান্ত বাংলার ছবি তুলে ধরেছে বিজেপি। বিজেপি সূত্রে খবর, আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা হবে। মমতার সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রকাশ্যে আনতে চলেছে চার্জশিটে। তার পর প্রকাশিত হবে বিজেপির সংকল্পপত্র। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে আগামিদিনে বিজেপি কী কী করবে, তা বিস্তারিত বলা থাকবে সেখানে।

    জেলায় জেলায় স্থানীয় মানুষের সমস্যা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ‘চার্জশিট’ আগেই যদিও প্রকাশ করা হয়েছে। এবার গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ, নারী নির্যাতন, বঞ্চনা, বেকারত্ব, গণতন্ত্র হরণ সহ ইত্যাদি নানা বিষয়কে তুলে ধরা হচ্ছে চার্জশিটে। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য এবং কাটমানি থেকে সিন্ডিকেট সহ একাধিক বিষয়ে রাজ্যে চলা দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারিগুলিকে তুলে হবে চার্জশিটে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির বেআইনি কার্যকলাপ, অনুপ্রবেশ, জঙ্গি-জেহাদির মুক্তাঞ্চল সম্পর্কে বলা একাধিক বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ১৭৫২০ কোটি টাকার রোজভ্যালি চিটফান্ডকাণ্ড

    বিশেষ করে কয়লা পাচার, বালি পাচার, নিয়োগ কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিতে একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের নাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ লক্ষ ভুয়ো জবকার্ড, মিড ডে মিলের ১০০ কোটি টাকা লুট, ১৭৫২০ কোটি টাকার রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতির উল্লেখ থাকার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে চার্জশিটে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত বঞ্চনার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হবে। চার্জশিটে (West Bengal Elections 2026) আনন্দপুর কাণ্ডে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাধা দান, সীমান্ত কাঁটাতার না বসানো, জেলায় জেলায় বোমা তৈরির কারখানারও উল্লেখও থাকতে পারে। সম্পূর্ণ বিষয় প্রকাশ করবেন অমিত শাহ (Amit Shah)।

    অভিযোগপত্রের মূল বিষয়গুলি

    বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের দাবি, শাসকদলের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। মানুষ জানুক গত দেড় দশকে তাঁদের অধিকার কীভাবে হরণ করা হয়েছে। ফলে বিজেপি সূত্রে খবর, এই চার্জশিটে মূলত ১৪টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দাবি করছে। এইগুলি হল—

    • ১>দুর্নীতি এবং কেলেঙ্কারি
    • ২>প্রশাসনিক নৈরাজ্য এবং অপশাসন
    • ৩>আইনশৃঙ্খলার ধ্বংসস্তূপ
    • ৪>নারীর নিরাপত্তাহীনতা
    • ৫>গণতন্ত্রের উপরে হামলা
    • ৬>শিল্পের ধ্বংসস্তূপ পশ্চিমবঙ্গ
    • ৭>শিক্ষার সর্বনাশ
    • ৮>স্বাস্থ্যের সঙ্কট
    • ৯>কৃষকের দুর্দশা
    • ১০>বঙ্গ সংস্কৃতির ধ্বংস
    • ১১>উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা
    • ১২>চা বাগান শ্রমিকদের বঞ্চনা
    • ১৩>কলকাতার বেহাল অবস্থা
    • ১৪>রাঢ়বঙ্গজুড়ে সিন্ডিকেট রাজ

    এগুলি ছাড়াও রয়েছে–

    আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন।

    দুর্নীতি ও নিয়োগ কেলেঙ্কারি: শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম।

    নারী নিরাপত্তা: আরজি কর কাণ্ড-সহ সাম্প্রতিক একাধিক নারী নিগ্রহের ঘটনা।

    কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বঞ্চনা: কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছানো।

    অনুপ্রবেশ ও জাতীয় সুরক্ষা: সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন।

    ডিএ বকেয়া ও কর্মসংস্থান: সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব।

    বিজেপির রণকৌশল

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের উপস্থিতিতে হওয়া সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে স্থির হয়েছে যে, এই চার্জশিট কেবল শহরকেন্দ্রিক থাকবে না। প্রতিটি বুথ স্তরে এই অভিযোগপত্র (West Bengal Elections 2026) পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে আলাদাভাবে ‘লোকাল চার্জশিট’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপি কেবল হিন্দুত্ব বা জাতীয়তাবাদ নয়, বরং তৃণমূলের ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’ ও ‘দুর্নীতি’-কে প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে। অমিত শাহের এই সফরের মাধ্যমে দলের নীচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং সংগঠনের ফাঁকফোকরগুলো ভরাট করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমতকে আরও প্রবল ভাবে বাস্তবায়ন করতে বিজেপির নেতা কর্মীদের (West Bengal Elections 2026) উৎসাহ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

    বিজেপির এই পদক্ষেপকে (West Bengal Elections 2026) গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের দাবি, নির্বাচনের আগে দিল্লির নেতারা এসে কুৎসা ছড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না। বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর তাঁদের আস্থা অটুট রয়েছে। তবে এইবারের নির্বাচন যে মমতার জন্য খুব একটা সহজ হবে না তা অনেক রাজনীতিবিদ মনে করছেন।

  • Ratna Debnath: ‘‘আর মুখ ঢেকে নয়…’’ আদালতের অনুমতি নিয়ে ৫৯৪ দিন পরে প্রকাশ্যে ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথ

    Ratna Debnath: ‘‘আর মুখ ঢেকে নয়…’’ আদালতের অনুমতি নিয়ে ৫৯৪ দিন পরে প্রকাশ্যে ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন আরজিকরকাণ্ডের নির্যাতিতা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ। ৫৯৪ দিন পর সামনে এসে সাংবাদিকদের জানালেন মেয়ের ন্যায় বিচারের দাবি। আরজিকরে নিজের মেয়েকে হারানোর পর অন্তরাল থেকেই ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করছিলেন। অবশেষে রাজনৈতিক ময়দানে সম্মুখ সমরে তিনি। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পানিহাটি (Panihati BJP Candidate) বিধানসভা আসনটি। বিজেপি সেখানে প্রার্থী করেছে আরজি করের নির্যাতিতা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথকে (Ratna Debnath)। বুধবার দলের তৃতীয় তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। এবার সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘অভয়া’র বাব-মা।

    “অভয়ার মা” থেকে রত্না দেবনাথ

    একসময় গোটা রাজ্যের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন শুধু “অভয়ার মা” বা “তিলোত্তমার মা” হিসেবে। তবে সেই পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এবার নিজের নামেই সামনে আসতে চলেছেন তিনি—রত্না দেবনাথ। আর মুখ ঢেকে নয়, এবার প্রকাশ্যেই লড়াই লড়বেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ জানান, আদালতের অনুমতি নিয়েই তিনি সামনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এবার আর মুখ ঢেকে নয়, সরাসরি লড়াই হবে।” তিনি আরও জানান, আদালত তাঁর নাম প্রকাশের অনুমতিও দিয়েছে।

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন, অভয়ার বাবা-মাকে প্রকাশ্যে আসার অনুমতি দিয়েছে আদালত। ফলে তাঁদের নাম প্রকাশ বা মুখ দেখানো নিয়ে আর কোনও আইনি বাধা নেই। অভয়ার বাবা জানান, এই বিষয়ে তাঁরা মানবাধিকার কমিশন ও মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর এখন তাঁরা স্বেচ্ছায় নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান। তাঁদের কাছে আদালতের নির্দেশের কপিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আদালত থেকে নির্বাচনী ময়দান (Panihati BJP Candidate)

    সাধারণত, ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার পরিচয় নাম, ঠিকানা, বাবা মায়ের নাম প্রকাশ করা যায় না। গত দেড় বছরে ন্যায় বিচারের লড়াইতে নিজের নাম আর মুখকে আড়ালে রেখেই আন্দোলনে ছিলেন। এবার আইনি জটিলতা এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ্যে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়বেন। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath), আদালতের নির্দেশের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন তিনি জনতা জনার্দনের দরবারে বিচার চাইতে এসেছেন। বিজেপি প্রার্থী (Panihati BJP Candidate) হয়ে তিনি বলেন, “মেয়ের বিচার এবং রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। পানিহাটির মানুষ আমার সঙ্গে আছেন।”

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া

    এই হাই-প্রোফাইল বিজেপি প্রার্থীকে (Panihati BJP Candidate) নিয়ে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রত্না দেবনাথের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে বলেছেন, “রত্না দেবী (Ratna Debnath) কেবল একজন মা নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদের প্রতীক। পানিহাটিতে তাঁকে জেতানো মানেই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইকে জয়ী করা।” শুভেন্দু আরও যোগ করে বলেন, “আদালত তার কাজ করছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই অপশাসনের জবাব দেবে বাংলার মানুষ।”

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। সেই সময় থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থেকেছে বিজেপি (Panihati BJP Candidate)। এখন রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করে বিজেপি সেই প্রতিবাদের স্বরকেই বিধানসভায় নিয়ে যেতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট এই আসনে কলতান দাশগুপ্তকে প্রার্থী করায় লড়াই এবার ত্রিমুখী এবং বেশ কঠিন হতে চলেছে। পানিহাটির সাধারণ মানুষ এই নতুন সমীকরণকে কীভাবে গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে।

  • Assembly Election 2026: ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষের নিষ্পত্তি! প্রায় ৪০ শতাংশের নাম বাতিল, জানাল কমিশন

    Assembly Election 2026: ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষের নিষ্পত্তি! প্রায় ৪০ শতাংশের নাম বাতিল, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের (Assembly Election 2026) আগে রাজ্যে বাদ যাওয়া নামের পরিসংখ্যান সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিবেচনাধীন) তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩২ লক্ষের তথ্য নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ বাদ পড়েছে। অর্থাৎ নতুন করে ১৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। বুধবার এমনই তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commisson Of India)।

    এখনও পর্যন্ত বাদ ৭৬ লক্ষ নাম!

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা। তার আগে খসড়া তালিকাতেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ যায়। মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট (SIR Supplementary List)। সেই তালিকায় কতজনের নাম আছে, কতজনের নাম নতুন করে বাদ পড়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা। বুধবার সন্ধ্যায় কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ১০ লক্ষ নাম রয়েছে। আরও জানা গিয়েছে যে, ৩২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ বাদ পড়েছে। অর্থাৎ ১৩ লক্ষ নাম নতুন করে বাদ পড়েছে। হিসেব বলছে সব মিলিয়ে ৭৬ লক্ষ নাম বাদ পড়ল এখনও পর্যন্ত।

    রাজ্যে কত জনের নাম বাদ যেতে পারে

    এসআইআর শুরু হওয়ার আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম। সেই তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে বাদের হিসেব দাঁড়িয়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ নাম। এই হিসেবে যদি চলা হয়, তাহলে আগামী তালিকাতেও বাদ পড়তে পারে প্রায় ৪০ শতাংশ নাম। আর এমন হলে এখনও প্রায় ১২ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে বলেই খবর সূত্রের। ফলে, সব মিলিয়ে বাদ পড়তে পারে ৮৭ থেকে ৮৮ লক্ষ ভোটারের নাম। এখনও প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি বাকি। আর যদি এমন ঘটে তাহলে রাজের মোট ভোটারের ১১ শতাংশের বেশি নাম বাদ পড়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এসআইআর শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। ফলে, এসআইআর শেষ হলে ভোটারের সংখ্যা হতে পারে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ।

    বিজেপি’র দাবি মিলছে

    বুধবার পটাশপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি জনসভায় বাদ পড়া ভোটারের নিজস্ব হিসেব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘‘৩২ লক্ষ ভোটারের সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লক্ষ বৈধ ভোটার, ১৪ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। সব মিলিয়ে অবধি ৭৯ লক্ষের নাম বাদ পড়ল। এখনো ২৮ লক্ষের নাম বিবেচনায় রয়েছে।’’ বিরোধী দলনেতার দাবি, রাজ্য বহু কেন্দ্রে অনেক ভুয়ো এবং মৃত ভোটার ছিল। এ ছাড়াও একটা বড় সংখ্যায় বাংলাদেশি মুসলিম ভোটারের নাম ছিল বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁরা ভারতের নাগরিক নন। তাঁদের নাম বাদ যাওয়াই উচিত।’’ প্রসঙ্গত, বিজেপিই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মুখে রাজ্যে এক কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা বলেছিল। এখন হিসেব করলে দেখা যায়, নাম বাদের সংখ্যাটা সেই দিকেই যাচ্ছে।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

    পশ্চিমবঙ্গে কেন এসআইআর নিয়ে এত সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্টও। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘বাংলা ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা হয়নি৷ কোনো বিবাদও হয়নি৷ অন্য রাজ্যেও তো বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে!’’ রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, অন্য রাজ্যে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়ে এত গোলমাল হয়নি। এটার জন্যই পশ্চিমবঙ্গে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কোর্টের নির্দেশেই জুডিশিয়াল অফিসাররা নথি যাচাই করছেন। সেই অনুযায়ী প্রকাশিত হচ্ছে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে তাকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, কমিশন প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি নামের তালিকা প্রকাশ করতে চায়।

    দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কবে

    আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হবে বলে সূত্রের খবর। তবে সেই তালিকা বেরনোর কথা নিশ্চিত করেনি কমিশন। প্রতিদিন তালিকা বের করা হবে কি না, তাও ভেবে দেখছে কমিশন। আগামী তালিকাতেও বাদ পড়তে পারে অনেক নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন বিবেচনাধীন ভোটার ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এই তালিকা ৭০৫ জন বিচারক নিষ্পত্তি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা ধাপে ধাপে বার করার কথা জানিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা বার হয়।

  • Assembly Election 2026: “১৭৭ আসনে জিতবে বিজেপি”, রামনগরের সভায় স্পষ্ট বললেন শুভেন্দু

    Assembly Election 2026: “১৭৭ আসনে জিতবে বিজেপি”, রামনগরের সভায় স্পষ্ট বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) বিজেপি অন্তত ১৭৭টি আসন দখল করবে, বিজেপি৷ পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে এমনই দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে একটি সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)৷ সেখানেই তিনি বলেন, “বিজেপি এবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ূবে৷ আমার কথা রেকর্ড করে রাখুন৷ ২০১৬-তে ৩, ২০২১-এ ৭৭, ২০২৬-এ ১৭৭-এর নীচে নামবে না৷ তার উপরে কোথায় যাবে বলছি না৷ ৪ মে বিকেলে দেখা হবে৷”

    ৭৯ লক্ষের নাম বাদ

    মঙ্গলবার ভবানীপুরে প্রচার করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, তৃণমূল এবার ‘ডাবল ডিজিটে’ উঠবে না। অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারীর পূর্বাভাস অনুসারে, বিধানসভা ভোটে ৯৯ পেরোতে পারবে না তৃণমূল। আর বুধবার সকালে রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে সভা করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এবার বিধানসভা ভোটে ১৭৭-র নীচে নামবে না বিজেপি। এখানেই শেষ নয়। তৃণমূলকে ফের একবার শুভেন্দু মনে করিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর-প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। শুভেন্দু তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় বলেন, “প্রথম রাউন্ড ব্রেকফাস্টে নাম বাদ গেছে ৫৮ লক্ষ। লাঞ্চে নাম বাদ গেছে ৬০ লক্ষ। সন্ধেবেলায় লিকার চা আর চিনাবাদাম হয়েছে, এখনও ডিনার হয়নি। এর মধ্যে ১৪ লক্ষ নাম বাদ গেছে। এখনও পর্যন্ত বাদ গেছে ৭৯ লক্ষের নাম, কত বাদ যাবে আর কিছু বলব না।”

    মহিলাদের তিন হাজার টাকা

    রামনগরের সভা থেকেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা৷ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের বার বলেছিলাম নন্দীগ্রামে এসেছেন হারিয়ে পাঠাবো৷ এবারে বলে গেলাম ভবানীপুরে আপনাকে হারাবো৷” এছা়ড়াও শুভেন্দু ঘোষণা করেন, আগামী ১ জুন থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে দেবে বিজেপি সরকার। তিনি বলেন, “ভোটের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসছেই। মে মাসে বিজেপি সরকার গঠন হয়ে গেলেই চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে। আর তারপর জুনের ১ তারিখ থেকে মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।” এর আগেও অন্নপূর্ণা প্রকল্পে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

  • Assembly Election 2026: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন?’ ভবানীপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত, দাবি শুভেন্দুর

    Assembly Election 2026: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন?’ ভবানীপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত, দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে জিতবে বিজেপিই। ভবানীপুরে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে লড়তে ভয় পাচ্ছেন, দাবি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে জনসংযোগ করার সময় শুভেন্দু জানিয়েছেন, “কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, অন্তত ২৫ হাজার ভোটে আমি জিতব।” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) ভবানীপুর কার পাশে দাঁড়াবে? এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে লড়বেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এত ভয় কেন?

    ভবানীপুরে হেভিওয়েট ডুয়েলের আগে কোমর বেঁধে ভোট ময়দানে নেমেছেন দুজনেই। নন্দীগ্রামের অফিসারকে ভবানীপুরে বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। আর তারই জবাব দিতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে খোঁচা দিলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। বললেন, “নিজের বাড়ি, তাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত কেন ভয়?” রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন? নিজের বাড়ি। নিজের জায়গা। যেখানে তিনি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করেন বলে বলেন। তাহলে কেন এসব বলছেন? উনি হারের আতঙ্ক থেকে এই ধরনের কথা বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারবেন। বিজেপি জিতবে। ভবানীপুর বিজেপির জায়গা। ২০১৪ সালে তথাগত রায় প্রথম দক্ষিণ কলকাতায় লড়েছিলেন এবং ভবানীপুরে লিড হয়েছিলেন। আমার পরম প্রাপ্তি তথাগত রায় আমায় মেসেজ করেছেন, আমি এই বয়সেও তোমার জন্য ভবানীপুরে কিছু করতে চাই। কি করতে হবে বলো, কবে যেতে হবে বলো। কর্মসূচিগুলো আমায় সূচনা দেবে। এটা পরম প্রাপ্তি আমার কাছে।”

    বিজেপির জয় সময়ের অপেক্ষা

    ভবানীপুরের নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের হিসাবও দিলেন শুভেন্দু। বললেন, “তিন দফাতে ৫১ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। প্রথমে ৪৫ হাজার। পরে ২ হাজার। আর বিবেচনাধীন তালিকায় প্রায় ৪ হাজার। এই ৫১ হাজার ভুয়ো ভোটের মালিক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যথাটাও জানি। যন্ত্রণাটাও জানি। বুঝতে পারছেন আগামিদিনে কী হবে। পৃথিবীর কোনও শক্তি, কোনও মেডিসিনি নেই, এই কোমাতে চলে যাওয়া তৃণমূলকে পুনরুজ্জীবিত করে, বিজেপির জয় এখন সময়ের অপেক্ষা।” ভবানীপুরের পাশাপাশি, নন্দীগ্রাম নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “সেখানকার মানুষ জানেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় আমার ভূমিকা, সেখানকার মানুষ জবাব দেবে।” বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভবানীপুরে রামনবমীর মিছিলে তিনি থাকবেন বলেও এদিন জানিয়ে দেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এবছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফায় রয়েছে ১৫২টি আসন, ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসন, ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ভোটগণনা হবে ৪ মে ।

  • I-PAC: “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে?” মমতার আইনজীবীকে তোপ সুপ্রিম কোর্টের

    I-PAC: “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে?” মমতার আইনজীবীকে তোপ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর আইনি সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করা এই সংস্থার বিরুদ্ধে ইডির তদন্ত এবং তা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের সওয়াল-জবাব এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মমতার আইনজীবী কপিল সিব্বালের মন্তব্য, “আদালত কি এখনই ধরে নিচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী অপরাধী।” পাল্টা বিচারপতিদের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে? তীব্র বাক বিতণ্ডায় উত্তাল সুপ্রিমকোর্ট।”

    অনুচ্ছেদ ৩২-এর অপব্যবহারের যৌক্তিকতা (I-PAC)?

    আইপ্যাক মামলায় রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও পার্টি বা পক্ষ করেছিল ইডি। তখন রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন রাজীব কুমার। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। বিচারপতি (Supreme Court) পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা চলছে। শুনানিতে একদিকে যেমন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকদের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল কেন্দ্রের এক্তিয়ার এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এর অপব্যবহার নিয়ে জোরালো সওয়াল করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্যে উত্তাল হয়ে ওঠে আদালত চত্বর।

    তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে পরিচিত সংস্থা আই-প্যাকের (I-PAC) বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি। এই তদন্তের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।

    ইডির কি মৌলিক অধিকার নেই?

    বিচারপতি (Supreme Court) পি কে মিশ্র ইডির আধিকারিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও অধিকারের বিষয়টি শুনানির সময় তুলে ধরেন। রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী বারবার বলছিলেন যে ইডি একটি সরকারি সংস্থা এবং সংস্থার কোনও মৌলিক অধিকার নেই। আর তখন বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন— যারা তদন্ত করতে গিয়ে বাধার (I-PAC) সম্মুখীন হয়েছেন বা আক্রান্ত হয়েছেন, সেই আধিকারিকদের কি কোনও মৌলিক অধিকার নেই? বিচারপতি মিশ্র স্পষ্টভাবে বলেন, “আপনারা শুধু ইডি নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু সেই আধিকারিকদের কথা ভুলে যাচ্ছেন যারা এই ঘটনায় মামলার আবেদন করেছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি প্রতিকার চাইতে পারেন না?”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    এই মামলাটি কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং তৃণমূল বনাম বিজেপি-র রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার আড়ালে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বিরোধী কণ্ঠরোধে ব্যবহার করা হচ্ছে। আই-প্যাককে (I-PAC) নিশানা করে আসলে বাংলার শাসক দলের নির্বাচনী পরিকাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। অপর দিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে যুক্তি, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তকে প্রভাবিত করছেন। দুর্নীতির তদন্তকে প্রভাবিত করে আসল অপরাধীদের আড়াল করতে চেয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর

    রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলাকে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করা হয়েছে। সিব্বলের যুক্তি, কোনও অপরাধ যদি রাজ্যের সীমানার মধ্যে ঘটে, তবে তদন্তের (I-PAC) প্রাথমিক দায়িত্ব সেই রাজ্যের পুলিশের। তদন্তে গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর এভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ রাজ্যের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে খর্ব করে।

    অপর দিকে বিচারপতি (Supreme Court) এন ভি অঞ্জারিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি বলেন, “মৌলিক অধিকার সবসময় কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে হবে, এমন নয়। আইনের শাসন নিজেই একটি মৌলিক নীতি। যদি সেই নীতি লঙ্ঘিত হয়, তবে আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ সমস্ত পক্ষের যুক্তি শোনার পর মামলাটি খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের ওপর অন্তর্বর্তী কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে কি না, বা ইডির ক্ষমতা কতটুকু কার্যকর থাকবে, তা আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করছে। আইপ্যাক মামলার শুনানি এদিনের মতো শেষ। পরবর্তী শুনানি ১৪ এপ্রিল।

  • Assembly Election 2026: রাজ্যে ৭৩ রিটার্নিং অফিসারকে বদলি কমিশনের, তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরও

    Assembly Election 2026: রাজ্যে ৭৩ রিটার্নিং অফিসারকে বদলি কমিশনের, তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নির্বাচনের (Assembly Election 2026) দিন ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। এ বার সেই তালিকায় যোগ হলো রিটার্নিং অফিসারদের (Returning Officer) নাম। সোমবার একটি বিবৃতি জারি করে রাজ্যের ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারে বদলি করে দিল কমিশন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই এসিডও অর্থাৎ মহকুমাশাসক। উল্লেখ্য, এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারও রয়েছেন।

    কেন এই পদক্ষেপ

    সোমবারই রিটার্নিং অফিসার বদলি সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করে কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের প্রস্তাব মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছে, ১৯ মার্চ এবং ২৩ মার্চ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক যে ইমেল করেছিলেন,তার জবাবে এই বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মঙ্গলবার, অর্থাৎ, ২৪ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে তালিকায় নাম থাকা সমস্ত রিটার্নিং অফিসারকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যেতে হবে। বুধবার ২৫ মার্চ সকাল ১১টা থেকে প্রশিক্ষণ পর্বে অংশ নিতে পারবেন তাঁরা। গোটা বিষয়টার দিকে কড়া নজর দিতে বলা হয়েছে কমিশনের তরফে। অফিসার বদলি প্রসঙ্গে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার জন্য এমন পদক্ষেপ। এই সব সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অনেক কারণ রয়েছে। পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে, সব জায়গায় পরিস্থিতি এক নয়। অন্যত্রও অফিসার বদলি করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়।

    কোথায়, কত বদলি

    নির্দেশিকা অনুসারে, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, মালদা সদর, মুর্শিদাবাদের লালবাগ, ব্যারাকপুর, বিধাননগর, বারাসত, ক্যানিং, বারুইপুর, আলিপুর, হাওড়া সদর, বুগলি সদর, তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া, এগরা, ঘাটাল, দুর্গাপুর, আসানসোলে নতুন এসডিও নিয়োগ করা হয়েছে। তুফানগঞ্জের এসডিও হয়েছেন শান্তনু কর্মকার, জলপাইগুড়িতে নির্মল ঘরামি, ব্যারাকপুরের এসডিও হয়েছেন যাদব সূর্যভান আচ্ছেলাল, হাওড়া সদরের এসডিও হয়েছেন বিবেক পঙ্কজ, তমলুকে এসডিও হয়েছেন সৌভিক মুখোপাধ্যায়, বিধাননগরে প্রিয়াংশা গর্গ, মুর্শিদাবাদে পূজা মীনা। অন্যদিকে, ভবানীপুরে ল্যান্ড অ্যান্ড রেকর্ডসের অতিরিক্ত ডিরেক্টর হিসেবে নাম রয়েছে সুরজিত রায়ের। সবচেয়ে বেশি রদবদল হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে ১৩ জন আরও-কে রদবদল করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১০ জন আরও-কে রদবদল করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরেও সংখ্যাটা একই। কলকাতায় ভবানীপুর এবং রাসবিহারী কেন্দ্রের আরও বদলি হয়েছেন।

  • Assembly Elections 2026: প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, কত নাম বাদ?

    Assembly Elections 2026: প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, কত নাম বাদ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের (Assembly Elections 2026) আগে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। মধ্যরাতে প্রকাশিত হল বিবেচনাধীন ভোটারদের এই তালিকা। জাতীয় নির্বাচন কমিশন এর ওয়েবসাইটে লিস্ট প্রকাশ করা হল। জানা গিয়েছে, এই লিস্টে মোট ২৯ লক্ষের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু, ঠিক কত লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বা যুক্ত হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। সোমবার রাত ১২টার কয়েক মিনিট আগে ওই তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। বুথ অনুযায়ী দু’টি ভাগে তালিকাটি প্রকাশ করেছে কমিশন। নাম বাদ পড়া ভোটারদের জন্য আলাদা তালিকা বার করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে

    কমিশন সূত্রে খবর, বুথমাফিক অতিরিক্ত ভোটার তালিকা ডাউনলোড করে নাম রয়েছে কি না কোনও ভোটার জানতে পারবেন। তালিকা প্রকাশ করা হলেও প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ। বেশির ভাগ বুথের অতিরিক্ত তালিকা ডাউনলোড করা যাচ্ছে না। এমনকি এপিক নম্বর দিয়েও নাম দেখা যাচ্ছে না।  এসআইআর শুরুর আগে, এ রাজ্যের মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম। সেই তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। পরে শুনানিতে বাছাই করে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়, এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে বাদের হিসাব দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনে। ওইদিন প্রকাশিত হওয়া প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। তার মধ্যে আবার ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বিবেচনাধীন পর্যায়ে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করছেন বিচারকেরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করেছেন। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৭০৫ জন বিচারক ওই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে।

    নাম বাদ পড়লে ট্রাইবুনাল গঠন

    সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, রাত ৯টা নাগাদ তালিকা প্রকাশিত হবে। শেষ পর্যন্ত রাত ১২টার কয়েক মিনিট আগে বিবেচনাধীন ভোটারদের একাংশের চুড়ান্ত তালিকা বার করা হল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে সেই ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। এই তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়বে তাঁরা সেখানে আবেদন করতে পারবেন।

LinkedIn
Share