মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবাসীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও গদি ছাড়েননি রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হেরো তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! উল্টে তাঁর এবং তাঁর দল তৃণমূলের (নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন, কোম্পানি) হারের জন্য কাঠগড়ায় তোলেন নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission)। সেই কারণেই হেরে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা ইস্তফা দেননি বুধবার সকাল পর্যন্তও।
নির্বাচন কমিশনের সাফ কথা (Election Commission)
যদিও তাদের বিরুদ্ধে মমতার তোলা সব অভিযোগই খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সিসিটিভি বন্ধের অভিযোগ ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না বলা পর্যন্ত গণনা থামানো হয়নি। তারপর তাঁকে জানিয়ে, গাইডলাইন মেনে ফের শুরু হয় গণনা। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, “আমি ৩২ হাজার ভোটে জিতছিলাম। তারপরেই বিজেপির প্রার্থী ২০০-র বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকে হুমকি দেওয়া শুরু করে। কাউন্টিং সেন্টারে যাওয়ার সময় আমাকে আটকে দেয়। আমাকে নিগ্রহ করা হয়। তখন সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আমি বলেছিলাম যে কাউন্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি থাকব। কিন্তু আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বের করে দেয়। দল কর্মীদের সঙ্গে আছে। আমরা লড়াই করে ফিরব। এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, যেমন অন্য রাজ্যেও হয়েছিল।”
মমতার তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন
দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকের (DEO) পক্ষ থেকে দেওয়া রিপোর্টে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভবানীপুরে মমতার তোলা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। কমিশনের সাফ কথা, ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম-আইন মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা কখনওই বন্ধ করা হয়নি। ভবানীপুরের প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কমিশন এও জানিয়েছে, প্রার্থীর জেদের কারণে গণনার কাজ কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পরে নিয়ম মেনে তাঁকে জানিয়েই আবারও গণনার কাজ শুরু করা হয়েছিল (Election Commission)।
ভবানীপুরে গোহারা মমতা
প্রসঙ্গত, সোমবার, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার দিন গোটা দেশের (Mamata Banerjee) নজর ছিল হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রেই দ্বৈরথ হয়েছে মমতা ও তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর। গণনা শুরুর পর থেকেই সমানে সমানে টক্কর চলছিল মমতা-শুভেন্দুর। যদিও শেষ দিকে এগোতে থাকেন শুভেন্দু। তার পর আর তাঁর নাগাল পাননি মমতা। হাজার পনেরো ভোটে হেরে যান ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ মমতা। রাজ্যে গোহারা হারে তাঁর দল, তৃণমূলও। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে, সব অফিসারকে বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে (Mamata Banerjee) লাগিয়ে ভোট লুঠ করেছে।’ এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি! হারলে পদত্যাগ করতাম (Election Commission)।”
