Tag: Bihar Assembly Election 2025

  • Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘কারচুপিমুক্ত’ রাখার দাবি তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সমর্থনে সরব হলেন ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা ও আধিকারিক। গত (SIR) ১০ অক্টোবর, শনিবার, প্রাক্তন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা, ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আধিকারিকেরা দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে একটি (Election Commission) খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুললে তার স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণও দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয় বলেও মত তাঁদের। গত ৭ অক্টোবর ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতিও নির্বাচন কমিশনের সমর্থনে একই ধরনের একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন। বিরোধীদের তরফে কমিশনকে নিশানা করার প্রবণতার সমালোচনা করে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

    অতীতের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা (Election Commission)

    খোলা চিঠিতে প্রাক্তন আধিকারিকেরা জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁরা নির্বাচন পরিচালনা করেছেন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁদের মতে, একসময় বুথ দখল, হিংসা, ব্যালট বাক্স লুট এবং ভুয়ো ভোটদানের মতো ঘটনা ছিল নির্বাচনের পরিচিত সমস্যা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ১৯৮৯ সালে বুথ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

    এই প্রসঙ্গে বিহারের ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ১৯৫১ সালের পর বিহারে ওই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার নথিভুক্ত হয়েছিল। বিশেষ করে, রেকর্ড সংখ্যক মহিলা ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পাশাপাশি, রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবার কোনও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকেরা লিখেছেন, “কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন, তা আমরা জানি। এমন সময়ে আমরা কাজ করেছি, যে সময়ের কথা আপনারা শুধু সিনেমায় দেখেছেন—বুথে আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুগামীদের দৌরাত্ম্য, ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়া বা লুট করা এবং ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া। বুথ দখল এতটাই সাধারণ ঘটনা ছিল যে ১৯৮৯ সালে সংসদ একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। যখন হিংসা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।”

    ভোটে কারচুপি ঠেকাতে একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে চিঠিতে ভোটগ্রহণের বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিনিধি ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ভোট গণনার পর স্বাক্ষরিত নথিও তাঁরা পান। ভোটযন্ত্র সিল করার সময় নির্বাচনী প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং যন্ত্রগুলি নিরাপদ কক্ষে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা নজরদারি করতে পারেন (Election Commission)।

    এ ছাড়া, ভোটযন্ত্রে গণনা করা ভোটের সঙ্গে কাগজের ভোট-স্লিপ মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থাও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই সুরক্ষাব্যবস্থাকে বহাল রেখেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের কথায়, “কর্মকর্তারা সাধু হয়ে গিয়েছিলেন বলে এই পরিবর্তন ঘটেনি। বরং নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা ব্যবস্থা কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি প্রার্থীর প্রতিনিধি প্রতিটি বুথের ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রদত্ত ভোটের গণনার স্বাক্ষরিত নথি সঙ্গে নিয়ে যান। ভোটযন্ত্রগুলিতে প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর-সহ সিল করা হয় এবং সেগুলিকে নিরাপদ কক্ষে পাহারার মধ্যে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের নজরদারির সুযোগ থাকে।”

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের কারচুপি করতে হলে হাজার হাজার সরকারি আধিকারিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে একযোগে নীরব থাকতে হবে। অথচ এমন কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি বলে দাবি তাঁদের।

    নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, কমিশনকে একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনও এক ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়। ১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই কাঠামো বহাল রেখেছিল। তিন নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি বিষয় বিবেচনা করেন। ফলে কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেই তাকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায় না।

    ভোটার তালিকা পরিষ্কারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন জরুরি

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, বিহারে ২০০৩ সালের পর থেকে ভোটার তালিকার এমন নিবিড় সংশোধন হয়নি। সাম্প্রতিক প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ লাখ মৃত ভোটারের নাম, সাত লাখের মতো দ্বৈত নাম নথিভুক্তি এবং স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বহু মানুষের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে (SIR)।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্যের নামে ভোটদান আটকাতে এই ধরনের নাম বাদ দেওয়া জরুরি। আধিকারিকদের কথায়, “পরিমার্জন না করা ভোটার তালিকা ভোটারকে সুরক্ষা দেয় না, বরং জালিয়াতকে সুরক্ষা দেয় (Election Commission)।”

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, খসড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত নয়। তালিকায় কারও নাম না থাকলেই যে তাঁর নাম স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছে, এমন নয়। কোনও নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে এবং নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দু’টি স্তরে আপিলের ব্যবস্থাও রয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার নতুন ভোটারের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিও বুথ স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে।

    চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, “বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া আসলে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে তালিকা পরিমার্জন করা হয় এবং ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অসুবিধা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রকে আরও সুস্থ করে তোলার জন্য নেওয়া বড় উদ্যোগগুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের অসুবিধা স্বাভাবিক।”

    সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি ও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, আদালত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি। তবে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ৬৫ লাখ মানুষের নাম এবং তাঁদের নাম বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল।

    এ ছাড়া, অনলাইনে দাবি জানানোর সুযোগ, পরিচয়পত্র হিসেবে আধার গ্রহণ এবং আপিলের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কোনও বেআইনি পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণ মিললে এই সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে বলেও আদালত সতর্ক করেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আধিকারিকেরা আরও জানান, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বহাল রাখে। একই সঙ্গে ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।

    রাজনৈতিক ফলের ভিত্তিতে কমিশনকে বিচার করা উচিত নয়

    প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, নির্বাচনের ফল পছন্দসই না হলেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তিযুক্ত নয়। তাঁদের বক্তব্য, একই কমিশনের অধীনে হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও শাসক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

    তাঁরা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাবা-মা, প্রতিবেশী এবং কর্মসূত্রে অন্যত্র বসবাসকারী পরিযায়ী শ্রমিকদেরও তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারও নাম না থাকলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দাবি জানিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    বুথ স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই শিক্ষক এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ভোটার তালিকার তথ্য আপডেট করতে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা (Election Commission)।

    চিঠির শেষে তাঁরা লিখেছেন, “সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলুন। কিন্তু কেউ যখন বলেন নির্বাচন ‘কারচুপিপূর্ণ’, তখন তাঁর কাছে এমন প্রমাণ চান, যার পক্ষে তিনি শপথ করে দাঁড়াতে পারবেন।”

    তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। তবে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ থাকা জরুরি এবং তা আইনি পথে জানানো উচিত। ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানো কিংবা হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন দাখিল করার মতো বৈধ পথও রয়েছে।

    চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, প্রমাণ ছাড়া বারবার নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুললে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হতে পারে। কোনও দল জিতলে যে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ বলা হচ্ছে, সেই একই ব্যবস্থাকে পরাজয়ের পর (SIR) অসৎ বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা।

     

  • Bihar Poll Victory: দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বরখাস্ত করা হল বিহারের দুই বিজেপি নেতাকে

    Bihar Poll Victory: দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বরখাস্ত করা হল বিহারের দুই বিজেপি নেতাকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরের দিন শনিবারই বিজেপি (Bihar Poll Victory) থেকে বহিষ্কার করা হল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরকে সিংকে (BJP)। বরখাস্ত করা হয়েছে বিজেপিরই এমএলসি অশোক আগরওয়ালকেও। শুক্রবারই প্রকাশিত হয় বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল। ৮৯টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। তার পর শনিবারই শাস্তির খাঁড়া নেমে এল দলের দুই নেতার ওপর।

    সাসপেনশান লেটার (Bihar Poll Victory)

    আরকে সিংকে সম্বোধন করে সাসপেনশান লেটারে লেখা হয়েছে, “আপনার কার্যকলাপ দলের বিরুদ্ধে। এটি দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে। দল এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং এটি দলের ক্ষতি করেছে।” চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “অতএব, নির্দেশ অনুসারে আপনাকে দল থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে এবং কেন আপনাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হচ্ছে। এই চিঠি পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে আপনার অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।” বিজেপি সূত্রে খবর, সিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অন্যতম একটি কারণ হল, সাম্প্রতিক বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ। প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁর নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন (Bihar Poll Victory)।

    দল বিরোধী কাজের অভিযোগ

    বিহার বিধানসভার নির্বাচন হয় চলতি মাসের ৬ এবং ১১ তারিখে। এর আগে অক্টোবর মাসে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে ভোটারদের অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা নেতাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে জেডিইউয়ের অনন্ত সিং এবং বিজেপির সম্রাট চৌধুরীর মতো বেশ কয়েকজন এনডিএ প্রার্থীও ছিলেন। সম্রাট বিহারের বিদায়ী মন্ত্রিসভায় উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।আরকে সিংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দলবিরোধী মন্তব্য ও আচরণের জেরে বারবার ক্ষতি হয়েছে দলের। কাটিহারের মেয়র ঊষা আগরওয়ালকেও এই কারণে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিহার বিজেপির প্রধান অরবিন্দ শর্মা এদিন সকালে ওই তিন নেতার কাছে শোকজ-সহ বরখাস্তের নোটিশ পাঠান। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে (BJP) তাঁদের আচরণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সংগঠনের ভাবমূর্তিরও (Bihar Poll Victory)।

  • Bihar Assembly Election 2025: রক্তপাতহীন নির্বাচন দেখল বিহার, এনডিএ জমানায় শেষ ‘জঙ্গলরাজ’!

    Bihar Assembly Election 2025: রক্তপাতহীন নির্বাচন দেখল বিহার, এনডিএ জমানায় শেষ ‘জঙ্গলরাজ’!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নীতীশ কুমারের জমানায় জঙ্গলরাজের অবসান বিহারে (Bihar Assembly Election 2025)। এ রাজ্যে শেষ কবে গোলাগুলি, বুথদখল ছাড়া নির্বাচন হয়েছে, তা মনে করতে পারছেন না বিহারের প্রবীণ বাসিন্দারাও। তবে এবার হল (Violence)। ২০২৫ সালের নির্বাচন রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে স্থাপন করল নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। দু’দফায় ভোট হয়েছে রাজ্যে, তবে হিংসার কোনও ঘটনা ঘটেনি, হয়নি পুনর্নিবাচনও। কয়েক দশক ধরে চলে আসা রক্তাক্ত নির্বাচনের বিপ্রতীপ ছবিই দেখা গেল এবারের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে।

    কংগ্রেস জমানায় রক্তারক্তিকাণ্ড (Bihar Assembly Election 2025)

    স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিরে যাওয়া যাক আটের দশকে। ১৯৮৫ সালে রাজ্যে  নির্বাচনের সময় মৃত্যু হয়েছিল ৬৩ জনের। পুনর্নির্বাচন হয়েছিল ১৫৬টি বুথে। সেই সময় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেসের চন্দ্রশেখর সিং। ওই নির্বাচনের পর রাজ্যের হাল ধরেন কংগ্রেসেরই বিন্দেশ্বরী দুবে। এর ঠিক পাঁচ বছর পরে ১৯৯০ সালে যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল, সেই ভোটে রক্ত ঝরেছিল আরও অনেক বেশি। সেবার নির্বাচনী হিংসার বলি হয়েছিলেন ৮৭ জন। সেবারই পালাবদল ঘটেছিল বিহারে। কংগ্রেসের জগন্নাথ মিশ্রর হাত থেকে বিহারের রাজপাটের রশি যায় আরজেডির লালু প্রসাদ যাদবের হাতে।

    নজিরবিহীন হিংসা

    পরের বিধানসভা নির্বাচনের ছবিটা আরও করুণ। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার টিএন শেষন নজিরবিহীন হিংসা ও নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে চার-চার বার স্থগিত করে দিয়েছিলেন বিহারের নির্বাচন। পরে দু’বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসেন লালু (Bihar Assembly Election 2025)। তাঁর পরে ওই আসনে বসেন তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল ২০০৫ সালেও। সেবার হিংসা ও বিশৃঙ্খলার কারণে পুনর্নির্বাচন হয় ৬৬০টি বুথে। ক্ষমতায় আসেন জেডিইউয়ের নীতীশ কুমার।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচন হয় দু’দফায়। প্রথম দফার নির্বাচন হয় ৬ নভেম্বর, তার পরের দফার ভোট হয় ১১ তারিখে। এই দু’দফার ভোটেই মেলেনি (Violence) কোনও হিংসার খবর, প্রয়োজন হয়নি পুনর্নির্বাচনেরও (Bihar Assembly Election 2025)।

  • Bihar Assembly Election 2025: বিহার পদ্মময়, কুর্সিতে ফিরছে এনডিএ, রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন মহাজোটেই!

    Bihar Assembly Election 2025: বিহার পদ্মময়, কুর্সিতে ফিরছে এনডিএ, রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন মহাজোটেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনডিএ (NDA) ঝড়ে বিহারে (Bihar Assembly Election 2025) কুপোকাত আরজেডি-কংগ্রেস-বামেদের মহাজোট। কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে উঠে এল বামেরা। লালু প্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বীর আরজেডি নেমে গেল তিন নম্বরে। বিহার বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৪৩টি। এর মধ্যে এনডিএর ঝুলিতে যেতে পারে ২০৮টি। তেজস্বীর দল এগিয়ে রয়েছে ৪১টি আসনে। এনডিএ যে ২০৮টি আসনে জয় পেতে চলেছে, তার মধ্যে পদ্মের একার ঝুলিতেই পড়েছে ৯০টিরও বেশি আসন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী জেডিইউয়ের হাতে যেতে চলেছে ৮১টি আসনের রাশ।

    উল্লসিত বঙ্গ বিজেপি (Bihar Assembly Election 2025)

    বিহারের গেরুয়া ঝড়ে যারপরনাই উল্লসিত বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিহারে গেরুয়া ঝড়। এবার পালা বাংলার। এসআইআর দিয়ে শুদ্ধ ভোটার তালিকায় ভোটে জিতবে বিজেপি। একদম চিন্তা করবেন না, বিহারে এসআইআরের পরে ভোট হয়েছে। অপশাসনের তৃণমূলকে হারিয়ে বাংলাকে পরিষ্কার করবে বিজেপি।” প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁয়ের গলায়ও। তিনিও বলেন, “বিহারে জয়ের পথে আমরা, এবার পালা বাংলার।” চলতি বছরই নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে চালাচ্ছে এসআইআর কর্মসূচি। এই কর্মসূচির নান্দীমুখ হয়েছিল বিহারে। তার পরেই এনডিএর বিপুল জয়ে ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়েছে বিরোধী দলগুলি।

    কুর্সি ধরে রাখার লড়াই

    কেবল এসআইআর নয়, বিহারের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে এবার আরও একটি কারণে দেশবাসীর আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল নীতীশ কুমারের এই রাজ্য। নীতীশের নেতৃত্বে এ রাজ্যে এনডিএ লড়লেও, তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে ভোটের ময়দানে নামে আরজেডি-কংগ্রেস-বামেদের মহাগটবন্ধন। নীতীশের কাছে এই নির্বাচন ছিল ২০ বছরের কুর্সি ধরে রাখার লড়াই। আর তেজস্বীর লড়াই ছিল বিহারের মসনদে বসা। নির্বাচন হওয়ার পরেই যে প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছিল রাজনীতির অন্দরমহলে, সেটি হল তেজস্বী কি পারবেন নীতীশকে মাত দিতে? নাকি ক্ষমতা ধরে রাখবে বিহারে জঙ্গলরাজের অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন ফেরানো ‘সুশাসন বাবু’? নীতীশ জমানায় বিহারে যে সুশাসন ফিরেছে তার হাতে গরম প্রমাণ তো এই বিধানসভা নির্বাচনই। এ রাজ্যের একটি বুথেও পুনর্নির্বাচন হয়নি। লাঠালাঠি-হানাহানির কোনও খবরও মেলেনি কোথাও (NDA)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে বিহারবাসী ভোট দিয়েছেন দু’হাত উপুড় করে।

    এনডিএর জয়জয়কার

    এদিন সকালে গণনা শুরু হতেই দেখা যায়, একের পর এক আসনে এগিয়ে চলেছে এনডিএ। এনডিএর জয়ের লেখচিত্র যেমন তরতরিয়ে (Bihar Assembly Election 2025) ওপর দিকে উঠছে, ঠিক তেমনিই দ্রুত নীচে নামছে মহাগটবন্ধনের জয়ের গ্রাফ। ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পর দেখা গিয়েছিল, বিজেপি ছাপিয়ে গিয়েছিল নীতীশের জেডিইউকে। সেবার ১১৫টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল নীতীশের দল, জয়ী হয়েছিল মাত্র ৪৩টি আসনে। আর ১১০টি আসনে লড়ে ৭৪টিতে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত গণনার ফল অনুযায়ী, ২০৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ। আর মহাগটবন্ধনের ঝুলিতে পড়তে চলেছে মাত্র ৩৬টি আসন। গেরুয়া ঝড়ে পায়ের তলায় মাটিই খুঁজে পায়নি কংগ্রেস। তারা এগিয়ে রয়েছে মাত্র একটি আসনে। এমতাবস্থায় রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে থাকা কংগ্রেসকে ডুবন্ত নৌকার সঙ্গে তুলনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। তিনি বলেন, “তিনি (রাহুল) নিজেও ডুবছেন, জোটসঙ্গীদেরও ডোবাচ্ছেন। তিনি সব সময় অ্যাটম বোমা, হাইড্রোজেন বোমার কথা বলে বেড়ান। আমার মনে হয়, তিনি সব বোমা নিজের দল এবং জোটসঙ্গীদের ওপরই ফাটিয়েছেন। অন্তত ভোটের ফল তো তা-ই বলছে (Bihar Assembly Election 2025)।”

    মহাগটবন্ধন ভূপতিত

    এদিকে, বিহারে মহাগটবন্ধন ভূপতিত হতেই ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়লেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের শোচনীয় হালে মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ শশী থারুর। তিনি বলেন, “বিপুল সংখ্যক মানুষের রায় যে এনডিএর সঙ্গেই রয়েছে, তা ভীষণভাবে (NDA) স্পষ্ট। এটি হতাশাজনক। যদি শেষ পর্যন্ত এটিই চূড়ান্ত ফল হয়, তা হলে আমাদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। আত্মসমালোচনা বলতে আমি শুধু এ বিষয়ে বসে চিন্তাভাবনা করার কথা বলছি না। কৌশলগত দিক থেকে বার্তা দেওয়ার দিক থেকে এবং সাংগঠনিক দিক থেকে আমাদের কী ভুল হয়েছে, তাও দেখতে হবে।” থারুর বলেন, “আমি বিহার ভোটে প্রচার করিনি। আমাকে প্রচার করার জন্য ডাকাও হয়নি। তাই আমি এ বিষয়ে সরাসরি কোনও তথ্য দিতে পারব না (Bihar Assembly Election 2025)। তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোথায় ভুল হয়েছে, তা অবশ্যই আমাদের দলের নেতাদের গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা উচিত।”

    পিন্ডি চটকাল ইন্ডির!

    লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে পরাস্ত করতে বিজেপি বিরোধী ২৬টি রাজনৈতিক দল যে জোট গঠন করেছিল, সেই ‘ইন্ডি’ জোটে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। বিহারে মহাগটবন্ধন পরাভূত হতেই কংগ্রেসকে নিশানা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তাদের সাফ কথা, বিজেপি বিরোধিতায় কংগ্রেস যে ব্যর্থ, তা আরও একবার প্রমাণিত (NDA)। এনডিএ ঝড়ে বিহারে কাবু ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টিও। এই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক-ই মমতার দলকে গত বিধানসভায় নির্বাচনী বৈতরণী পার করে দিয়েছিল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের। সেই ‘কিং-মেকারে’র দলই স্বভূমিতে (পিকে বিহারেরই বাসিন্দা) স্বখাত সলিলে। নিজের রাজ্যেই খাতা খুলতে পারেনি পিকের দল। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। এমতাবস্থায় পিকে মমতার দলকে জেতাতে কতটা সফল হবে, ইতিমধ্যেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের অন্দরে।

    রেকর্ড ভাঙল এনডিএ

    বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলে এনডিএ ভেঙে দিয়েছে নিজেই নিজের রেকর্ড (Bihar Assembly Election 2025)। ২০১০ সালের তারা পেয়েছিল ২০৬টি আসন। এবার এদিন বিকেল পর্যন্ত এনডিএ এগিয়ে রয়েছে ২০৮টি কেন্দ্রে। প্রসঙ্গত, বিহার বিধানসভার নির্বাচন হয় দু’দফায়। প্রথম দফায় ভোট হয়েছিল ৬ নভেম্বর, দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট হয়েছে ১১ নভেম্বর। সব মিলিয়ে দু’দফায় ভোটদানের হার ছিল ৬৭.১৩ শতাংশ। বেশিরভাগ এক্সিট পোলে এনডিএর ক্লিন সুইপের পূর্বাভাস মিললেও, আরজেডির তেজস্বী যাদব সেই ভবিষ্যদ্বাণী উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছিলেন, মহাজোট বিরাট ব্যবধানে জয়ী হয়ে সরকার গড়বে। যদিও সেই আশা আপাতত দূরঅস্ত।

    পতনের পথে তেজস্বী

    এদিন বিকেল ৪টে পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, নিজের গড় রাঘোপুর আসনে পিছিয়ে পড়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তেজস্বীর পাশাপাশি হারতে চলেছেন লালুর আর এক ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবও। আরজেডি থেকে তাঁকে বহিষ্কার করেছিলেন লালু। তার পরেই ‘জনশক্তি জনতা দল’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নেমে পড়েন লড়াইয়ের ময়দানেও। মহুয়া কেন্দ্রে প্রার্থী হন তেজপ্রতাপ স্বয়ং। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে তিনি নেমে গিয়েছেন চতুর্থ স্থানে (Bihar Assembly Election 2025)। এদিকে, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার ভোটযুদ্ধে নেমেই কিস্তিমাত করে দিয়েছেন জনপ্রিয় গায়িকা মৈথিলী ঠাকুর। আলিনগর কেন্দ্রে জিততে চলেছেন (NDA) তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী নীতীশই!

    এনডিএর জয়জয়কারের ছবি সামনে আসতেই রাজধানী পাটনায় নীতীশ কুমারের কার্যালয়ে উচ্ছ্বাসের ছবি। সেলিব্রেশনে মেতেছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরাও। জানা গিয়েছে, বিহারে দশমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন নীতীশ কুমার। গত বারের চেয়ে এবার আরজেডির শক্তি কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। এদিন সন্ধেয় নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর কার্যালয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    মোদি-শাহ জুটি

    রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারে বিজেপির হয়ে বাজিমাত করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জুটি। বিজেপির এই দুই সৈনিক যেসব জায়গায়ই প্রচারে গিয়েছেন, সেখানেই পদ্মের রমরমা। এঁদের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত (Bihar Assembly Election 2025) দিয়েছেন নীতীশের দলের নেতা-কর্মীরা। সব মিলিয়ে বিহার ফের এনডিএর (NDA) দখলে।

  • Bihar Assembly Election 2025: বিহারে পড়ল ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে এনডিএ, প্রত্যয়ী প্রধানমন্ত্রী

    Bihar Assembly Election 2025: বিহারে পড়ল ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে এনডিএ, প্রত্যয়ী প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শেষ হল বিহার বিধানসভার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ (Bihar Assembly Election 2025) পর্ব। ২৪৩টি আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভার ১২১টিতে ভোট গ্রহণ হয়েছে বৃহস্পতিবার। দুপুর ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল (First Phase) ৬০.১৩ শতাংশ।

    উপমুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলা (Bihar Assembly Election 2025)

    এদিন মোটের ওপর শান্তিতেই নির্বাচন হলেও, তাল কাটল দুপুরের দিকে। বিহারের বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী তথা লখীসরাই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিজয়কুমার সিনহার কনভয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। তিনি যখন নিজের নির্বাচনী এলাকায় একটি বুথে যাচ্ছিলেন, সেই সময় তাঁর কনভয়ে থাকা গাড়িগুলি লক্ষ্য করে পাথর, গোবর এবং হাওয়াই চপ্পল ছোড়া হয়। যদিও নিরাপদ এবং সুস্থই রয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে আরজেডির দিকে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে লালু প্রসাদ যাদবের দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় দেখা যায়, কয়েকজন উপমুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে ঘিরে ধরে ‘মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এরা সব আরজেডির গুন্ডা। ওরা জানে এনডিএ ক্ষমতায় আসছে। তাই গুন্ডামি করছে।”

    পুলিশকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ কমিশনের

    কনভয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিজয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা না হলে ধর্নায় বসবেন বলে জানিয়ে দেন তিনি। পরে অবশ্য পুলিশ গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রীকে নিরস্ত করে।উপমুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলার খবর পেয়েই সক্রিয় হয়ে ওঠে নির্বাচন কমিশন। দেশের (Bihar Assembly Election 2025) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিহার পুলিশের ডিজিকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। কমিশন সাফ জানিয়ে দেয়, কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

    এদিকে প্রথম দফার নির্বাচনের পর যারপরনাই উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “বিহারে গণতন্ত্রের বৃহৎ উৎসবে মানুষের মধ্যে দারুণ উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা ইঙ্গিত করছে যে, বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ অভূতপূর্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে।” প্রসঙ্গত, বিহার বিধানসভার নির্বাচন হবে দু’দফায়। এদিন হয়েছে প্রথম দফার নির্বাচন (First Phase)। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হবে আগামী মঙ্গলবার। ফল গণনা হবে ১৪ নভেম্বর (Bihar Assembly Election 2025)।

  • Bihar Assembly Election 2025: বিহারে চলছে প্রথম দফার নির্বাচন, ভোটারদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Bihar Assembly Election 2025: বিহারে চলছে প্রথম দফার নির্বাচন, ভোটারদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’টি দফায় হবে বিহার বিধানসভার নির্বাচন (Bihar Assembly Election 2025)। প্রথম দফার (First Phase) ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে। এদিন ভোটগ্রহণ চলছে রাজ্যের ১৮টি জেলার ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে। চলবে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। কোনও কোনও জায়গায় অবশ্য বিকেল ৫টায়ই শেষ হয়ে যাবে ভোটগ্রহণ। এদিন যে জেলাগুলিতে ভোটগ্রহণ চলছে, সেগুলি হল পাটনা, দ্বারভাঙা, মধেপুরা, সহরসা, মুজফফরপুর, গোপালগঞ্জ, সিওয়ান, সারণ, বৈশালী, সমস্তিপুর, বেগুসরাই, লখীসরাই, মুঙ্গের, শেখপুরা, নালন্দা, বক্সার এবং ভোজপুর। বিহার বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৪৩টি। এদিন ভোট চলছে ১২১টি আসনে। ইভিএমে ভাগ্য বন্দি হবে ১ হাজার ৩১৪ জন প্রার্থীর। মূল লড়াই এনডিএ এবং বিজেপি বিরোধী মহাগঠবন্ধনের মধ্যে।

    ভাগ্য পরীক্ষায় যাঁরা (Bihar Assembly Election 2025)

    এদিন যেসব উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদের ছোট ছেলে তথা বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। তিনি লড়ছেন রাঘোপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। ময়দানে রয়েছেন লালুপ্রসাদের ‘বিদ্রোহী’ জ্যেষ্ঠপুত্র তথা জনশক্তি জনতা দল সুপ্রিমো তেজপ্রতাপ যাদবও। তাঁর কেন্দ্র মহুয়া। বিহারের দুই বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী বিজেপির সম্রাট চৌধুরী লড়ছেন তারাপুরে, আর বিজয়কুমার সিনহা প্রার্থী হয়েছেন লখীসরাইয়ে। ভোজপুরী গায়িকা মৈথিলী ঠাকুরের ভাগ্যও নির্ধারণ হবে আজ। পদ্ম চিহ্নে তিনি প্রার্থী হয়েছেন আলিনগর কেন্দ্রে। ভোজপুরী গায়ক তথা অভিনেতা আরজেডির প্রার্থী খেসারিলাল যাদব লড়ছেন ছাপরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। এদিন ভাগ্যপরীক্ষা হবে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের নয়া দল জন সুরাজ পার্টির কয়েকজন প্রার্থীরও (Bihar Assembly Election 2025)।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরেই ভোটারদের পূর্ণ উদ্যোমে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দিতে একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে লিখেছেন, “গণতন্ত্রের উৎসব আজ বিহারে প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এই পর্বে সকল ভোটারের কাছে আমার আবেদন, আপনারা পূর্ণ উদ্যমে ভোট দিন।” ওই পোস্টেই বিহারের নয়া ভোটারদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, “মনে রাখবেন, আগে ভোট, পরে আহার-বিশ্রাম।” মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদবও ভোটদানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আপনার ভোট বিহারের উন্নতির পথ প্রশস্ত করবে। আগে ভোট। অন্য কোনও কাজ কিছু সময় পরেও করা যেতে পারে।”

    প্রসঙ্গত, দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে বিহারে ভোটার তালিকার এসআইআর হয়েছে এবার। প্রথম দফায় ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৭৫ লাখেরও বেশি। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন হবে ১১ নভেম্বর (First Phase)। সেদিন ভোট হবে রাজ্যের ১২২টি আসনে। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর (Bihar Assembly Election 2025)।

LinkedIn
Share