মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট (Bengal Elections 2026) করাতে পণ করেছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। কোনও রাজনৈতিক দলই যাতে ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারে, তাই নির্বাচন শুরুর দুদিন আগে থেকেই মোটরসাইকেল (Motor Bike) ব্যবহারের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে। জানা গিয়েছে, নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে মোটরসাইকেল র্যালি বা শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না। সন্ধে ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ৷ তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা অনুরূপ বিশেষ কোনও প্রয়োজনের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হতে পারে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত মোটর সাইকেলে আরোহী বসানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷
যেসব ক্ষেত্রে মিলবে ছাড় (ECI)
তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা স্কুল পড়ুয়াদের আনা-নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিভিন্ন প্রয়োজনে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। ভোটদানের উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মতো অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেলে পরিবারের সদস্য নিয়ে যাওয়া যাবে। উপরোক্ত বিধিনিষেধ থেকে কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে অব্যাহতি বা ছাড়ের প্রয়োজন হলে, স্থানীয় থানা থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া যেতে পারে (ECI)। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক বা সোশাল মিডিয়া-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের প্রচারের মাধ্যমে উপরোক্ত বিধিনিষেধগুলি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় আদেশ বা নির্দেশাবলী জারি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই বিধিনিষেধগুলি কঠোরভাবে কার্যকর ও তদারকি করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এমন কোনও প্রকার বিধি-লঙ্ঘন যেন না ঘটে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভীতি প্রদর্শন বা বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ হতে পারে৷ সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Motor Bike)।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর আস্থা বাড়াতে ব্যবস্থা
এদিকে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করতে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আস্থা বাড়াতে প্রয়োজনে নির্দেশ ছাড়াই পদক্ষেপের ইঙ্গিত নির্বাচন কমিশনের। সূত্রের খবর, এবার ভোটে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে সরাসরি পদক্ষেপ করতে পারবে বাহিনী (ECI)। এদিকে, প্রথম দফার নির্বাচন বিঘ্নহীন করতে একাধিক বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের। সেখানে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কমান্ড্যান্টের নেতৃত্বে বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলেও, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বাধীন ভূমিকা নেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষা নয়
প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই বিক্ষোভ বা গোলমালের পরিস্থিতিকে তৎক্ষণাৎ নিয়ন্ত্রণে আনতে নিজের এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে যা পদক্ষেপ করা যায় সেটা করতে পারবে কমিশন। ভোটের সময় নিয়মিত রুট মার্চ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ ভোটারদের সঙ্গে (ECI) সরাসরি যোগাযোগও রাখার পাশাপাশি কোথাও কোনও সমস্যা বা অশান্তির আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত হস্তক্ষেপও করবে বাহিনী। এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে কুইক রেসপন্স টিম তৈরি করা হয়েছে৷ এদের গাড়িতে ক্যামেরা লাগানো থাকবে এবং সর্বক্ষণ সেই ক্যামেরাগুলি লাইভ মোডে থাকবে। এছাড়াও থাকছে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম (Motor Bike)।
বাইক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত
পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পৌঁছতে বা যেসব জায়গায় গাড়ি ঢোকে না, সেখানে যাতে দ্রুত পৌঁছে যাওয়া যায়, তাই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বাইক ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে নির্বাচনী কমিশনের। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বাইক ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা ও হাওড়া জেলায় এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর করা হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর। কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনার কথা মাথায় রেখে এবার কেবল আগ্নেয়াস্ত্র নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঠিও তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ লাঠি সরবরাহের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে খবর (ECI)।
যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, জারি করা হয়নি কোনও বিজ্ঞপ্তিও (Motor Bike)। তবুও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় তাঁদেরও দায়িত্ব পালনে অনেকটা সুবিধা হবে। আইনশৃঙ্খলাও থাকবে আঁটসাঁট।

