Tag: Birsa Munda

Birsa Munda

  • Narendra Modi: প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন বিরসা মুন্ডার গ্রাম, ঝাড়খন্ডে একাধিক প্রকল্পের সূচনাও করবেন মোদি

    Narendra Modi: প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন বিরসা মুন্ডার গ্রাম, ঝাড়খন্ডে একাধিক প্রকল্পের সূচনাও করবেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২ দিনের ঝাড়খন্ড সফরে প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিরসা মুন্ডা এয়ারপোর্টে নামেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণান এবং মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এয়ারপোর্ট থেকে নরেন্দ্র মোদি রাজভবন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের পথ অতিক্রম করেন রোড শো-এর মাধ্যমে। দু’পাশে দাঁড়ানো জনগণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। আজ বুধবার অনেকগুলি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাবেন বিরসা মুন্ডার গ্রাম। 

    ঝাড়খন্ডে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন মোদি

    ঝাড়খন্ডে আজ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট-এর উদ্বোধন করবেন তিনি যা জনজাতি এলাকাগুলিতে উন্নয়নের কাজে লাগানো হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, আজই রয়েছে ‘জনজাতি গৌরব দিবস’। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) উদ্বোধন করবেন ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’র। জানা গিয়েছে, বিকশিত সংকল্প যাত্রার মাধ্যমে জনসংযোগ করবে মোদি সরকার। মানুষকে সচেতন করা হবে সরকারের বিভিন্ন রকমের প্রকল্প সম্পর্কে। বিগত ৯ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছেন। যার মধ্যে অর্থনৈতিক পরিষেবা যেমন রয়েছে, তেমনই বিদ্যুৎ সংযোগ, বাড়িতে উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে গরিবদের ঘর দেওয়া, রেশনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা। এর পাশাপাশি স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে গ্রামগুলিতে শৌচাগারও স্থাপন করেছে মোদি সরকার। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার, ১৫তম ইনস্টলমেন্টে ১৮ হাজার কোটি টাকাও অনুমোদন করা হবে আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে। এর পাশাপাশি তিনি ঝাড়খন্ড রাজ্যের জন্য ৭,২০০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের সূচনাও করবেন।

    প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন বিরসা মুন্ডার গ্রাম

    বুধবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) পরিদর্শন করবেন ভগবান বিরসা মুন্ডা মেমোরিয়াল পার্ক যা রাঁচিতে অবস্থিত। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে যাবেন বিরসা মুন্ডার জন্মস্থান উলিহাতু গ্রামে, যা ঝাড়খন্ড রাজ্যের খুন্তি জেলাতে অবস্থিত। সেখানে ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাবেন মোদি। ৩ বছর আগে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ‘মন কি বাতে’, ‘ভগবান বিরসা মুন্ডা’র দুঃসাহসিক গল্প স্মরণ করেন এবং ঘোষণা করেন, তাঁর জন্ম-জয়ন্তী, প্রতি বছর ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ হিসাবে উদযাপন করা হবে। ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ আজকে তৃতীয় বছরে পা দিল। স্বাধীনতার পরে প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন বিরসার গ্রামে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Birsa Munda: আজ জনজাতি গৌরব দিবস, জানুন বিরসা মুন্ডার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস

    Birsa Munda: আজ জনজাতি গৌরব দিবস, জানুন বিরসা মুন্ডার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ড রাজ্যের খুন্তি জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম উলিহাতু। মেরেকটে আড়াইশো পরিবারের বাস গ্রামে। মোট জনসংখ্যা ১,১২৬। এমন গ্রামের সংখ্যা ভারতে নেহাত কম নয়। গুনতে গেলে কয়েক লাখে থামতে হবে। তবে হঠাৎ উলিহাতু নিয়ে আলোচনা কেন? কী এমন বিশেষত্ব রয়েছে এই গ্রামে ? উত্তর হল, ছোট্ট প্রত্যন্ত এই গ্রাম এক দেশ বিখ্যাত যোদ্ধার জন্মভূমি। যাঁকে তার অনুগামীরা ‘ধরতি আবা’ বলতেন। অর্থাৎ কিনা স্বয়ং ভগবান। যাঁকে দমানোর জন্য ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে পর্যন্ত মাঠে নামতে হয়েছিল। তিনি মুন্ডা বিদ্রোহের অবিসংবাদী নেতা ভগবান বিরসা মুন্ডা (Birsa Munda)। মুন্ডা শব্দটি সংস্কৃত থেকে উৎপত্তি হয়েছে যার প্রকৃত অর্থ ‘গ্রাম প্রধান’।

    ১৮৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন বিরসা, মুখস্থ ছিল রামায়ণ-মহাভারত

    ১৮৭৫ সালের ১৫ নভেম্বর এক গরীব পরিবারে জন্ম হয় বিরসা মুন্ডার (Birsa Munda)। পার্থিব জীবন মাত্র ২৫ বছরের ছিল কিন্তু তিনি আজও বেঁচে রয়েছেন শোষণ, বঞ্চনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে। জীবিত অবস্থাতেই তিনি ‘ভগবান বিরসা মুন্ডা’ নামে খ্যাতি লাভ করেন। কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে তিনি আসীন। ভারতের জনজাতি এলাকাগুলিতে খ্রিস্টান মিশনারীদের ধর্মান্তকরণ ব্রিটিশ আমল থেকেই চালু রয়েছে। ছোট্ট প্রত্যন্ত গ্রামে বিরসা মুন্ডাকে খ্রিস্টান ধর্মের উপাসনা করার জন্য জোর করা হলে, তিনি গ্রামের খ্রিস্টান স্কুল ত্যাগ করেন। বিরসা মুন্ডা হিন্দুধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন বলে জানা যায়। নিজগৃহের বিভিন্ন দেবতার প্রতি তাঁর পরম ভক্তি ছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বৈষ্ণব ধর্মগুরু আনন্দ পাঁড়ের কাছে দীক্ষা নেন। খাদ্যাভাসে ছিলেন নিরামিষাশী। কণ্ঠস্থ ছিল রামায়ণ-মহাভারত।

    অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য সেনাবাহিনী গঠন

    ১৮৯৪ সালে ভয়াবহ খরা দেখা দিল। নির্দয় ব্রিটিশ সরকার তবুও কর সংগ্রহ করছিল সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করে। ওই বছরেই ব্রিটিশ সরকার অরণ্য আইন বলবৎ করে। অরণ্যের উপর জনজাতিদের অধিকার খর্ব হয়। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংকল্পবদ্ধ হন তরুণ বিরসা মুন্ডা (Birsa Munda)। স্থানীয় মানুষজনকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সেনাবাহিনী তৈরির কাজ শুরু করেন। ১৮৯৫ সালেই ‘কর মুক্ত’ আন্দোলন করার অপরাধে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়। দুই বছর জেলে থাকার পরে ১৮৯৭ সালে তিনি মুক্তি পান। পুনরায় শুরু হয় বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক আন্দোলন। ছোটনাগপুরে শুরু হয় তীর ধনুক নিয়ে আন্দোলন।

    ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ

    ১৮৯৮ সালে টাঙ্গা নদীর তীরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিরসা মুন্ডার যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে ব্রিটিশদের পরাজিত করতে সমর্থ হন তিনি। যুদ্ধজয়ের পর তিনি বলেন, ‘‘প্রথমবার আমরা জয়লাভ করেছি। কিন্তু এর বিরূপ প্রভাব শত শত মানুষ ভোগ করেছে। শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতন করা হয়েছে। এত নির্যাতনের পরেও থামেনি মানুষের সংগ্রাম।’’ ১৯০০ সালে ডোবাড়ি পাহাড়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সংঘর্ষে অনেক নারী ও শিশু নিহত হন। বিরসা মুন্ডাকে ধরতে তাঁর মাথার দাম ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে ব্রিটিশ সরকার। নিরস্ত্র বিরসাকে জঙ্গলের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় গ্রেফতার করে ব্রিটিশ সরকার। কথিত আছে, কারাগারে থাকাকালীন খাবারে বিষ মিশিয়ে বিরসা মুন্ডাকে (Birsa Munda) হত্যা করা হয়‌। ১৯০০ সালের ৯ জুন স্বর্গযাত্রা করেন ভগবান বিরসা মুন্ডা।

    বিরসার জন্মদিন ‘জনজাতি গৌরব দিবস’

    ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তিসগড়, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশাতে আজও পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ ‘বিরসা মুন্ডা’কে ‘ভগবান বিরসা মান্দা’ হিসাবে পূজা করে থাকেন। এমন একজন ঐশ্বরিক ব্যক্তিত্ব যিনি তরুণ প্রজন্মের প্রেরণার কেন্দ্র ,- যিনি ভারতের সম্পদ, তিনি ব্রাত্য থেকেছে বরাবর। তাঁর প্রাপ্য সম্মান পাননি। স্বাধীনতার পর থেকেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কয়েক বছর আগে ‘মন কি বাতে’, ‘ভগবান বিরসা মুন্ডা’র দুঃসাহসিক গল্প স্মরণ করেন এবং ঘোষণা করেন, তাঁর জন্ম-জয়ন্তী, প্রতি বছর ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ হিসাবে উদযাপন করা হবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Birsa Munda: আদিবাসীদের অধিকারের জন্য লড়েছিলেন বিরসা

    Birsa Munda: আদিবাসীদের অধিকারের জন্য লড়েছিলেন বিরসা

    তরুণকুমার পণ্ডিত

    ১৫ নভেম্বর ‘জনজাতি গৌরব দিবস’। গত বছর থেকে এই দিনটি অর্থাৎ বিরসা মুন্ডার (Birsa Munda) জন্মদিনটিকে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ হিসেবে পালন করছে। ১৮৭৫ সালের ১৫ নভেম্বর ঝাড়খণ্ডে ‘আদিবাসী ভগবান’ বিরসা মুন্ডা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং সমাজ সংস্কারক রূপে মাত্র ২৫ বছর বয়সে শহিদের মৃত্যুবরণ করে অমর হয়ে গেছেন। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য অত্যাচারী ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে জনজাতি সমাজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি লড়াই করে মুন্ডা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিরসা মুন্ডার বীরত্বপূর্ণ কার্যকলাপ এবং মহৎ কাজ, তাঁকে অসংখ্য অনুগামীর কাছে মহান তথা ধরতি আবা অর্থাৎ ভগবান হিসাবে চিহ্নিত করেছিল।

    ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ সরকার অরণ্য আইন প্রবর্তন করে ভারতের বিস্তীর্ণ জঙ্গলমহলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিলে, আদিবাসীদের হাজার হাজার বছর ধরে জঙ্গলের ওপর যে অধিকার ছিল, তা কেড়ে নেওয়া হয়। সে সময় ব্রিটিশরা ছোটনাগপুর ও পূর্ব ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে জনজাতিদের কৃষিব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে ধ্বংস করে একটি সামন্ততান্ত্রিক জমিদারি প্রথা চালু করেছিলেন। এছাড়াও বনবাসীদের শোষণ, তাঁদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক লোকাচারকে অপমান এবং তার ওপর হস্তক্ষেপ করে মিশনারি ক্রিয়াকলাপ নিরবিচ্ছিন্নভাবে ব্রিটিশ রাজের সক্রিয় সমর্থনে কাজ করতে থাকে। সে সময়ই কিশোর বিরসা (Birsa Munda) জনজাতিদের নিজস্ব অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে এই অঞ্চলে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৫ বছর বসয়ে তিনি বড়গাঁওয়ে বৈষ্ণব ধর্মগুরু আনন্দ পাঁড়ের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হন। রামায়ণ, মহাভারত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করে পবিত্র পৈতা ধারণ করেন এবং তুলসী গাছে পূজার্চনা করে নিরামিষাশী হন। 

    ছোটনাগপুরের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ব্রিটিশরা দখল করার উদ্যোগ নিতেই বিরসা মুন্ডার (Birsa Munda) নেতৃত্বে গেরিলা বাহিনী তির-ধনুক ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৮৯৫ সালে ব্রিটিশ পুলিশ বিরসাকে বন্দি করে দু’বছরের কারাদণ্ড দেয়। ছাড়া পাওয়া মাত্রই ফের তিনি ব্রিটিশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৮৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাঁচি ও গুপ্তি শহরে বিরসা বাহিনীর ঝটিকা আক্রমণে বেশ কিছু পুলিশ-সহ নিহত হন অনেক মানুষ। আক্রমণের জবাবে ব্রিটিশ সরকার ১৫০ জনের সেনাবাহিনী নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে ডোম্বারি পাহাড়ে। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ৪০০ জন আদিবাসীকে। কিন্তু, বিরসা মুন্ডাকে ধরতে না পেরে তার মাথার দাম ৫০০ টাকা ঘোষণা করে। ১৯০০ সালে চক্রধরপুরে বনের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় নিরস্ত্র বিরসাকে বন্দি করা হয়। অবশ্য এর পিছনে ছিল নিজেদের অন্তর্ঘাত। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আদেশ দেয়। কিন্তু, বন্দি অবস্থায় জেলে বিষ প্রয়োগ করায়, কারও কারও মতে, কলেরা হয়ে বিরসা মুন্ডা মাত্র ২৫ বছর বয়সে শহিদের মৃত্যুবরণ করেন। 

    কর্নাটকে মহীশূর ও কোদাও জেলার আদিবাসীরা আজও ধুমধাম করে বিরসার বিরসার (Birsa Munda) জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে থাকেন। এছাড়া বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দর, বিরসা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বিরসা মুন্ডা সেন্টার ফর ট্রাইবাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ চালু হয়েছে আদিবাসী জীবন নিয়ে গবেষণার জন্য। ২০০৪ সালে বিরসার জীবন নিয়ে ‘উলগুলান এক ক্রান্তি’ নামে একটি হিন্দি সিনেমা প্রদর্শিত হয়। আবার এই মহান জনজাতিকে নিয়ে মহাশ্বেতা দেবী একটি উপন্যাস লিখেছেন, যার নাম ‘অরণ্যের অধিকার’। এই উপন্যাসের জন্য তিনি সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ভারতীয় পার্লামেন্ট মিউজিয়ামে একমাত্র আদিবাসী নেতা হিসাবে বিরসার ছবি সযত্নে রাখা আছে। ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ রেকেই ২০০০ সালে বিরসার জন্মদিনে অর্থাৎ ১৫ নভেম্বর ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠন করা হয়। ভারতের জনজাতি সমাজের অগ্রদূত স্বাধীনতা সংগ্রামী বিরসা মুন্ডার জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই। 

  • Akhil Giri Issue: রাষ্ট্রপতিকে কুরুচিকর মন্তব্যের জের, প্রতিবাদে পথে জনজাতি সমাজ

    Akhil Giri Issue: রাষ্ট্রপতিকে কুরুচিকর মন্তব্যের জের, প্রতিবাদে পথে জনজাতি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মুকে নিয়ে রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরির  কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জেরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। জনজাতি সমাজের প্রথম রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর সমর্থনে ইতিমধ্যে রাস্তায় নেমেছে জনজাতি সমাজ। বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপি জেলায় জেলায় বিক্ষোভ করছে এই ইস্যুতে। কারা মন্ত্রী অখিল গিরির কাঁথির বাসভবনের সামনেও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গিয়েছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। বর্ণবিদ্বেষমূলক এই মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির গাড়ি আটকে জনজাতি সমাজের বিক্ষোভও নজর এড়ায়নি রাজ্যের মানুষের। গত রবিবার সকালে বাঁকুড়ার খাতড়ায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অখিল গিরিকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানাতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। এই বিক্ষোভের জেরে গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে এলাকা ছাড়তে হয় মন্ত্রীকে। রাজ্য মন্ত্রিসভায় জনজাতি সমাজের অন্যতম মুখ  বীরবাহা হাঁসদা অবশ্য এই ইস্যুতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। জনজাতি সমাজের বিক্ষোভের এই উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেই আগামীকাল দেশ জুড়ে পালিত হবে ‘জনজাতি গৌরব দিবস’। 

     ভগবান বীরসা মুন্ডার ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম 

    আগামী কাল ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মদিন। গত বছর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এই দিনটিকে ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ হিসেবে পালন করছে। বিরসা মুন্ডার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে তাঁর জন্মদিনেই ২০০০ সালের ১৫ই নভেম্বর ঝাড়খন্ড রাজ্য গঠন করেছিল তৎকালীন বাজপেয়ী সরকার। ‌বিমানবন্দর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবকিছুই রয়েছে ভগবান বিরসা মুন্ডার নামে। জনজাতি সমাজের এই অবিসংবাদী নেতা ১৮৭৫ সালের ১৫ই নভেম্বর ঝাড়খন্ডে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রিটিশ বিরোধী  মুন্ডা বিদ্রোহে তাঁর বীরত্ব গাথা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে দেশের জন্য আত্ম বলিদান করেন মুন্ডা বিদ্রোহের এই নেতা। জনজাতি সমাজে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের জন্যই তাঁকে ভগবান বা ধরতি আবা বলা হয়। জনজাতিদের উপর হওয়া শোষণ এবং তাদের অধিকারের দাবিতে কিশোর বয়স থেকেই সক্রিয় ছিলেন ভগবান বিরসা মুন্ডা। জনজাতিদের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং হিন্দু ধর্মের রীতিনীতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এই নেতা। বৈষ্ণব ধর্মগুরু আনন্দ পাঁড়ের কাছে মাত্র ১৫ বছর বয়সে দীক্ষা গ্রহণ করেন বিরসা মুন্ডা। তিনি পৈতে ধারণ করতেন। খাদ্যাভাসে নিরামিষাষী ছিলেন। কন্ঠস্থ ছিল তার রামায়ণ-মহাভারত সমেত অন্যান্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থ।

    আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে অখিলের মন্তব্যের জের, বিজেপির আন্দোলনে উত্তাল রাজ্য

    ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশরা অরণ্য আইন বলবৎ করে। এই আইনের দ্বারা জঙ্গলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় । গর্জে ওঠেন জনজাতি সমাজের মানুষজন। ছোটনাগপুরে তীর ধনুক নিয়ে শুরু হয় বিদ্রোহ। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হলে, ব্রিটিশ সরকার ১৮৯৫ সালে গ্রেফতার করে বিরসা মুন্ডাকে। বিচারে তাঁর দুবছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করে ব্রিটিশ সরকার। কারাগার থেকে মুক্ত হয়েই বিরসা মুন্ডা পুনরায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাপক আকার ধারণ করে মুন্ডা বিদ্রোহ। ১৮৯৯ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর বিরসা মুন্ডার বাহিনী ঝাড়খণ্ডের রাঁচি শহরে ব্রিটিশ পুলিশদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ঘটনায় অনেক পুলিশ কর্মী নিহত হন। ব্রিটিশ সরকার তখন পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। নামানো হয় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী। ইংরেজ সৈন্যদের আক্রমণের লক্ষ্য হয় ডোম্বারি পাহাড়। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় জনজাতি সমাজের ৪০০ মানুষকে।  সেনারা বিরসা মুন্ডাকে ধরতে ব্যর্থ হয়। ঘোষণা করা হয় তাঁর মাথার দাম। সে সময়ে ভগবান বীরসা মুন্ডার মাথার দাম ছিল ৫০০ টাকা। ১৯০০ সালের এক গভীর রাতে চক্রধরপুর জঙ্গলে ঘুমিয়ে ছিলেন বিরসা মুন্ডা। ঘুমন্ত এবং নিরস্ত্র বিরসা মুন্ডাকে বন্দী করে ব্রিটিশ সরকার। বিচারে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়। কারাগারেই মৃত্যু হয় তাঁর। এ নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কারো ধারণা তাঁকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছিল, তো কারও ধারণা অনুযায়ী, কলেরাতেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর।

LinkedIn
Share