Tag: BJP Bengal

BJP Bengal

  • NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    মাধ্যাম নিউজ ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসাত্মক আক্রমণ এবং গোলমালের ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াচক-১ (Kaliachak Mothabari Case) নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ এবং সুজাপুর অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি ইউসুফ শেখ-কে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই জোড়া গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও জিজ্ঞাসাবাদ (NIA)

    এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার ঠিক প্রাক্কালে সুজাপুর বিধানসভার প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুর রহমান এবং ব্লক সভাপতি সারিউল শেখসহ মোট ৯ জন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় শুরুতে তাঁরা হাজিরা এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবে সাড়া দিতে বাধ্য হন। এরপর হাজিরা দিতে গেলেই তথ্য়ে গোলমাল ঘটলে গ্রেফতার করা হয়। গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় সারিউল ও ইউসুফের (Kaliachak Mothabari Case)  মোবাইল ফোন দুটি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। এরপর শুক্রবার পুনরায় তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে ম্যারাথন জেরা করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ।

    অভিযোগের নেপথ্যে

    তদন্তকারীদের (NIA) দাবি, মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সুজাপুর হাসপাতালের নিকটবর্তী জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ উস্কানি ও যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, ধৃত ইউসুফ শেখ সুজাপুর হাসপাতালের সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনেই সেই দিন জনতাকে সংগঠিত করে বড়সড় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে জাতীয় সড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অবরোধের পিছনে আরও বড়সড় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই তদন্তে এই সমস্ত বিষয়গুলিকেও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ

    কালিয়াচকে (Kaliachak Mothabari Case) এনআইএ-র (NIA) এই অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাসকদলের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার নামও বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই এলাকায় আরও কিছু প্রভাবশালীর গ্রেফতারির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। বর্তমানে এই দুই ধৃত নেতাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং বাকি সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে এনআইএ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ঠিকানা আলিপুরের ‘সৌজন্য’, আপাতত এটাই তাঁর বাসভবন

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ঠিকানা আলিপুরের ‘সৌজন্য’, আপাতত এটাই তাঁর বাসভবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কলকাতায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বদলাতে চলেছে। সূত্রের খবর আলিপুরের ভিভিআইপি গেস্ট হাউস ‘সৌজন্য’ হবে শুভেন্দুর থাকার জায়গা। একই ভাবে নবান্নতে (Nabanna Meeting) আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কেন্দ্রীয় জনমুখী প্রকল্পকে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ।

    ‘সৌজন্য’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার (Suvendu Adhikari)

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। মূলত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা ভিভিআইপিদের থাকার জন্য এটি তৈরি করা হলেও, এখন এটিই হতে চলেছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সরকারি বাসভবন। ইতিমধ্যেই ‘সৌজন্য’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈঠকও সেরে ফেলা হয়েছে।

    পৈতৃক ভিটে ‘শান্তিকুঞ্জ’ ও পারিবারিক মুহূর্ত

    শপথ নেওয়ার পর প্রথম রবিবারটি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কাটিয়েছেন তাঁর কাঁথির পৈতৃক বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ। ৯ মে শপথ গ্রহণের পর শনিবার রাতেই মেদিনীপুরের তিনি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। রবিবার দিনভর মা ও মাসির হাতের রান্না করা বাঙালি খাবারে আপ্যায়িত হন তিনি। মেনুতে ছিল— করলা সেদ্ধ, মোচার তরকারি থেকে শুরু করে সর্ষে ইলিশ ভাপা ও মুরগির মাংস। এরপর বিকেলেই তিনি প্রশাসনিক কাজের উদ্দেশ্যে কলকাতার পথে রওনা দেন।

    আজকের প্রশাসনিক কর্মসূচি

    নবান্নে (Nabanna Meeting) প্রথম দিন আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ব্যস্ত দিন। তাঁর সূচিতে রয়েছে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। বিকেল তিনটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে। পাশাপাশি তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। প্রথম বৈঠকটি দুপুরে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পর বিকেল ৪টে নাগাদ সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক। বিকেল ৫টা নাগাদ ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, সিপি ও এসপিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন ইনিংসের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

  • West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আরও একবার ফিরে এল জনমানসে। ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে প্রাণ হারানো এক বিজেপি (BJP Bengal) প্রার্থীর পরিবার দীর্ঘ কয়েক বছরের নীরবতা ভেঙে এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হন। মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী ছিলেন ধূর্জটি সাহা ওরফে মানস সাহা। তাঁকে ২ মে ২০২১ সালের ভোটের ফল ঘোষণার পর পিটিয়ে হত্যা করেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিজেপির সরকার গড়ার প্রেক্ষাপটে নিহতের কন্যা এবার প্রশাসনের কাছে খুনিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (West Bengal Election 2021)

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে এসেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমে সেই সময় নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রার্থী মানসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ (BJP Bengal) ছিল, তৎকালীন শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল। সেই সময় দেশজুড়ে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলেও, ন্যায়বিচার অধরাই থেকে গিয়েছিল।

    ভয় ও নীরবতা ভেঙে প্রতিবাদ

    নিহত প্রার্থীর কন্যা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বিগত বছরগুলিতে (West Bengal Election 2021) প্রাণের ভয়ে এবং পরিস্থিতির চাপে আমরা মুখ খুলতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক সমীকরণে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আর তাই আমরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা শুধু বিচার চাই। আমার বাবার খুনিরা আজও খোলা আকাশে নীচে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    ন্যায্য তদন্তের দাবি

    বিজেপি প্রার্থীর (BJP Bengal) পরিবারটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর তাদের আস্থা নেই। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পুনরায় তদন্ত শুরু করা হোক। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোরতম সাজা দেওয়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

    রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন

    রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই পরিবারের (BJP Bengal)  পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি পুনরায় সামনে আসায় তৎকালীন রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলি আবারও আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভোটের রাজনীতিতে (West Bengal Election 2021) মানুষের জীবনের মূল্য ঠিক কতটুকু, সেই প্রশ্নই আবার তুলে দিল এই ঘটনা। ন্যায়বিচারের আশায় থাকা এই পরিবারটির লড়াই এখন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

  • President Murmu: “শৌচাগারে জল নেই, রাস্তায় আবর্জনা” রাষ্ট্রপতি সফর ইস্যুতে মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব শাহি মন্ত্রকের

    President Murmu: “শৌচাগারে জল নেই, রাস্তায় আবর্জনা” রাষ্ট্রপতি সফর ইস্যুতে মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব শাহি মন্ত্রকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির (President Murmu) তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Minister of Home Affairs) অমিত শাহের মন্ত্রক। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে দোষারোপের খেলা চলাকালীন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের সময় কথিত ত্রুটির বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির অপমানের কারণে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরও কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    কেন মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না (President Murmu)?

    রাষ্ট্রপতির (President Murmu) রাজ্য সফর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্নে ব্যাপক সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। বিজেপির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ পদের অপব্যবহার করছে। রাষ্ট্রপতি মুর্মু বাংলায় তাঁর যোগদানের অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন এই বলে যে মুখ্যমন্ত্রী কেন তাঁর সফরের সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। এই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্র সচিব (Minister of Home Affairs) চারটি বিষয়ে জানতে চেয়েছে। এগুলি হল, ১) রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে এবং বিদায় জানাতে কেন মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব এবং পুলিশের ডিজিপি উপস্থিত ছিলেন না? ২) রাষ্ট্রপতির জন্য তৈরি শৌচাগারে জল ছিল না। ৩) প্রশাসন যে পথ বেছে নিয়েছিল, তা আবর্জনায় ভরা। ৪) দার্জিলিং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দায়ী। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলেছেন।

    জরুরি সরকারি কাজ ছিল

    কেন তিনি রাষ্ট্রপতির (President Murmu) অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তার ব্যাখ্যায় মমতা বলেন, “আমার আগে থেকে নির্ধারিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক এবং জরুরি সরকারি কাজ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতিকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। আমাদের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই, যা বিজেপি রঙ চড়িয়ে প্রচার করছে। কেন ছোটখাটো প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নজিরবিহীন রাজনীতি করা হচ্ছে?”

    মমতা আরও বলেন, “বিজেপি বাংলা-বিরোধী। তারা বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে। তারা আদিবাসী আবেগকে হাতিয়ার করে আমাদের সরকারকে আক্রমণ করছে, কিন্তু বাংলার মানুষ জানে আমরা আদিবাসী ভাই-বোনদের উন্নয়নের জন্য কতটা কাজ করেছি।”

    আমি জানি না তিনি বিরক্ত কিনা

    প্রথা অনুযায়ী, যখন কোথাও রাষ্ট্রপতি (President Murmu) যান, তখন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকেন। কিন্তু তিনি আসেননি। রাজ্যপাল পদত্যাগ করেছেন, তাই তিনিও আসতে পারেননি। রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠান এমন জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে মানুষের আসা কঠিন। সম্ভবত রাজ্য সরকার আদিবাসীদের কল্যাণ চায় না, এবং সেই কারণেই তাদের এখানে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে… আমি জানি না তিনি বিরক্ত কিনা, এবং সেই কারণেই স্থানটি স্থানান্তরিত করা হয়েছে। যাই হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। আপনারা সবাই ভালো থাকুন।” এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে মমতার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় শুরু হয়েছে।

  • PM Modi Mega Rally: ১৪ মার্চ ঐতিহাসিক ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা, রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দেবেন মোদি

    PM Modi Mega Rally: ১৪ মার্চ ঐতিহাসিক ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা, রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দেবেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। আর এই নির্বাচনী লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। আগামী ১৪ মার্চ কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সমাবেশের মাধ্যমেই বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সুর বেঁধে দিতে চাইছে বিজেপি। গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ কতটা পিছিয়ে পড়েছে সেই খতিয়ান তুলে ধরবেন মোদি। একদিকে দুর্নীতির পাহাড় এবং অপরদিকে নারী নির্যাতন এই ইস্যুতে চরম আক্রমণ করবে বিজেপি। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্রিগেড সভা (PM Modi Mega Rally) শাসক দল তৃণমূলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার এক বড় হাতিয়ার।

    রথযাত্রার মহামিলন (PM Modi Mega Rally)

    রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলার পাঁচটি ভিন্ন প্রান্ত থেকে যে পাঁচটি ‘পরিবর্তন রথ’ যাত্রা শুরু হয়েছে। এবার সেগুলির গন্তব্য ব্রিগেড। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—রাজ্যের প্রতিটি কোণ ছুঁয়ে আসা এই পাঁচটি রথ ১৪ মার্চ সকালেই কলকাতায় এসে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi Mega Rally) উপস্থিতিতে এই পাঁচটি রথ একসঙ্গে ব্রিগেডে মিলিত হওয়ার মাধ্যমে পরিবর্তনের ডাককে আরও জোরালো করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

    ‘আসল পরিবর্তন’-এর ডাক

    রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, ব্রিগেডের এই জনসভাটি হবে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এর আগে গত লোকসভা নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Mega Rally) একাধিক জনসভা করেছিলেন, তবে বিধানসভা ভোটের আগে এই ব্রিগেড সমাবেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মনে করা হচ্ছে, এই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবেন এবং ‘আসল পরিবর্তন’-এর ডাক দেবেন।

    পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত

    বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার এই পাঁচটি রথ রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র পরিক্রমা করে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ এবং আশীর্বাদ সংগ্রহ করেছে। ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Mega Rally) যখন ভাষণ দেবেন, তখন এই পাঁচটি রথ হবে জনসমর্থনের প্রতীকী প্রতিফলন। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ব্রিগেড সমাবেশের মূল লক্ষ্য হল, রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ব্রিগেডে নিয়ে আসা। বিশেষ করে গ্রামবাংলার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে বুথ স্তর পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, ব্রিগেডের জনসমাগমই প্রমাণ করে দেবে যে বাংলার মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই মুখ

    রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যখন তাদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে জনসমর্থন ধরে রাখতে চাইছে, তখন পাল্টা বিজেপিও প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi Mega Rally) স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উন্নয়নের খতিয়ানকে হাতিয়ার করছে। ১৪ মার্চের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো ইস্যুগুলোতে রাজ্য সরকারকে নিশানা করতে পারেন।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডের এই জনসভা শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী সভা নয়, বরং এটি বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির এক বড় প্রদর্শন হতে চলেছে। মার্চ মাসের এই সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্যজুড়ে একটি জোরালো হাওয়া তৈরি করা যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi Mega Rally) এই সফরের পর বিজেপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতারাও দফায় দফায় রাজ্যে প্রচারে আসবেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে, ১৪ মার্চের ব্রিগেড সমাবেশকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক আঙ্গিনা।

    পোস্টার ফ্লেক্সে প্রচার তুঙ্গে

    মোদির (PM Modi Mega Rally) সমাবেশকে ঘিরে আগামী ১৪ মার্চের এই মেগা র‍্যালি সফল করতে কোমড় বেঁধে নেমেছে বঙ্গ বিজেপি। প্রতিটি জেলা থেকে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বাসে করেও কয়েক লক্ষ কর্মীকে কলকাতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোদির এই ব্রিগেড সভাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে শুরু হয়েছে পোস্টার ও ফ্লেক্সের দাপট।

    ২০২১ সালের কথা মাথায় রেখে ২৬ সালের রণনীতি স্থির

    ইতিমধ্যে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় (PM Modi Mega Rally) অংশ গ্রহণ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় হেভিওয়েট নেতারা। যেমন- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্করসিং ধামী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, বিপব দেব, ভুপেন্দ্র সিং, অর্জুন মুন্ডা সহ আরও অনেকে। ২০২১ সালের কথা মাথায় রেখে ২৬ সালের রণনীতি স্থির হবে। সংগঠন এবার যথেষ্ট শক্তিশালী। টিকিট বিতরণের ক্ষেত্র নেওয়া হবে একাধিক পদক্ষেপ। প্রত্যেক জেলায় প্রতিটি আসনের তরফে তিন জন করে নাম প্রস্তাব করা হবে। এরপর নির্বাচন বিষয়ক কমিটির ভিত্তিতে দেওয়া হবে। জেলা স্তরের রিপোর্ট এবং কেন্দ্রীয় স্তরের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হবে প্রার্থী তালিকা। ইতিমধ্যে সল্টলেকের অফিসে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, বিপ্লব দেব এবং ভুপেন্দ্র সিং যাদব ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন।

  • Suvendu Adhikari: ক্ষমতা থাকলে ২৬ সালের ভোটে আর একবার লড়াই করুন, নন্দীগ্রামে মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ক্ষমতা থাকলে ২৬ সালের ভোটে আর একবার লড়াই করুন, নন্দীগ্রামে মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের একবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে ২০ হাজার ভোটে হারাব। ক্ষমতা থাকলে ২৬ সালের ভোটে আর একবার লড়াই করুন। তখন শুধু হিন্দুরা ছিলেন, এবার মুসলমানরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। গরিব মুসলমানরা দেবে ভালো করে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম ভোট ভাগ হবে, আর তার ফয়দা লুটবে বিজেপি। ফলে সমীকরণ বদলে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

    হিন্দুত্বই বড় বিষয় (Suvendu Adhikari)

    ২০১৪ সালের পর থেকে বঙ্গে বিজেপির পালে হাওয়া লেগেছে। দিলীপ ঘোষের আমলে ২০১৯ সালে বিজেপি সব থেকে বেশি ১৮টি আসন পেয়েছিল লোকসভায়। ২০২১ সালে বিজেপি হিন্দুত্বের জোয়ারে ভেসে ৩ থেকে ৭৭টি  বিধানসভার আসন পেয়েছে। কিন্তু মমতার সীমাহীন মুসলিম তোষণ একদিকে যেমন হিন্দু জনমনে বিরাট অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে, একইভাবে আবার বহু মুসলিমের বিরুদ্ধে হিন্দুকে খেপিয়েও তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রগতিশীল মুসলিম এবং রাষ্ট্রবাদী মুসলমান সমাজের অবশ্য দাবি, মুসলিম সমাজের উন্নয়নের নামে আদতে একটি পরিবারের শুধু আয় বেড়েছে। আপামর জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান বদলায়নি। তবে বঙ্গ বিজেপি হিন্দুত্বকেই বড় বিষয় হিসেবে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতে চাইছে। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) খুব স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “আমরা ৩৯ শতাংশ আছি, আর ৫-৬ শতাংশ হিন্দুরা একজোট হলেই ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে।”

    এক সঙ্গে লড়াই করার আহ্বান

    দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যও (BJP Bengal) তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দল-মত সব কিছু ভুলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। হিন্দুরা সুরক্ষিত থাকলে তবেই বাংলায় গণতন্ত্র থাকবে। এই লড়াই হিন্দু অস্তিত্বের বড় লড়াই। লাগামছাড়া দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, বেকারত্ব, কয়লা, বালি, পাথর, মাটি চুরি এখন চরম শিখরে। বাংলায় কর্মসংস্থান নেই। কলকারখানা নেই। তাই বাংলাকে ফেরাতে বিজেপিকেই চাই। এইভাবেই বাংলায় রাজনৈতিক বদলের কথা প্রচার করছে বিজেপি। ২০২৬ সালে এর প্রভাব কতটা ভোট বাক্সে পড়ে, এখন তা-ই দেখার।

  • 150 Years of Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম শব্দ হাজার অনুভূতি দ্বারা আবৃত, খুব সহজে মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এই মন্ত্র’, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    150 Years of Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম শব্দ হাজার অনুভূতি দ্বারা আবৃত, খুব সহজে মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এই মন্ত্র’, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ১৮৭৬। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সংস্কৃত ও বাংলার মিশ্রণে লিখলেন ‘বন্দে মাতরম’। জাতীয়তাবোধে কেঁপে উঠল বাঙালি। উদ্বেলিত হল আসমুদ্র হিমাচল। ১৮৮২ সালে গানটি প্রকাশিত হল আনন্দমঠ উপন্যাসে। আগামী বছর সেই ‘বন্দে মাতরম’ স্তোত্রের দেড়শো বছর পূর্ণ হতে চলেছে। তাই সেই বিশেষ সময়কে আরও বিশেষ করে তুলতে উদ্যোগী হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়া দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্‌’ – এর সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে বর্ষব্যাপী উদযাপনের সূচনা করলেন মোদি। ৭ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে এই উদযাপন চলবে ৭ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত।

    বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা

    ভারতের জাতীয় স্তোত্র-এর দেড়শো বছর উপলক্ষে এদিন বিশেষ উদযাপনের কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনসাধারণের কাছেও আর্জি রাখলেন, ‘বন্দেমাতরম’-এর দেড়শো বছরকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য। এদিন সকাল সাড়ে নটা নাগাদ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী এই উপলক্ষ্যে একটি স্মারক ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। যে কালজয়ী রচনা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছিল এবং এখনও জাতীয় গর্ব ও ঐক্যবোধ’কে জাগিয়ে তোলে, তার সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের সূচনা হল এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ‘বন্দে মাতরম্‌’ – এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ সমবেতভাবে গাওয়া হয়। সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

    ভারতের ঐক্য ও আত্মসম্মানবোধের জাগ্রত চেতনা

    ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অক্ষয় নবমীর পুণ্যতিথিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গান লিখেছিলেন বলে মনে করা হয়। তাঁর আনন্দমঠ উপন্যাস যখন বঙ্গদর্শন পত্রিকায় পর্বে পর্বে প্রকাশিত হচ্ছিল, তখন তাতে এই গানটি প্রথম দেখা যায়। পরবর্তীকালে ১৮৮২ সালে আনন্দমঠ উপন্যাসটি বই হিসেবে প্রকাশিত হয়। সেই সময়ে ভারত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলছিল এবং জাতীয় পরিচয় ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল। মাতৃভূমিকে শক্তি, সমৃদ্ধি ও দেবত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে অভিবাদন জানিয়ে এই গানটি ভারতের ঐক্য ও আত্মসম্মানবোধের জাগ্রত চেতনাকে কাব্যিক রূপ দেয়। অচিরেই এটি স্বদেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

    বন্দেমাতরম সভ্যতার ভিত্তি

    অনুষ্ঠান থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের জাতীয় স্তোত্র বন্দেমাতরম সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করে। এই গানের প্রথম লাইনটাই প্রতিটি ভারতীর মনে অনুভূতির জোয়ার তৈরি করতে সক্ষম। কারণ, বন্দেমাতরম এই একটা শব্দই হাজার অনুভূতি দ্বারা আবৃত। যা খুব সহজ ভাবে মাতৃভূমির সঙ্গে আকর্ষণ তৈরি করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ১৪০ কোটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষমতা রয়েছে বন্দেমাতরমের মধ্যে। যদি কোনও বিপদ আসে, তখন বন্দেমাতরম স্তুতি করুন। এটাই আমাদের দেশাত্মবোধকে জাগিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।’

    কংগ্রেসকে নিশানা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায়,  বেদ ভারতীয় সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করার সময় এই অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল যে, পৃথিবী মাতা এবং আমি তার সন্তান। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দেমাতরম’ লিখে মাতৃভূমি এবং তার সন্তানদের মধ্যে সম্পর্ককে একই ভাবে আবেগের জগতের এক মন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সেই সঙ্গে কংগ্রেসকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বলেন, ‘‘ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে দেশের সুরক্ষার সঙ্গে আপস করা হয়েছে। কংগ্রেস ব্রিটিশের দাস ছিল। ওরা বন্দেমাতরমের একটি অংশ বাদ দিয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যেই নিহিত ছিল দেশভাগের বীজ।

    বন্দে মাতরম্-এর মূল অনুভূতি হলো ভারত, মা ভারতী

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের ঐক্য, আত্মবিশ্বাস ও অবিচল দেশপ্রেমের বার্তা প্রতিধ্বনিত হয়। তাঁর মতে, বন্দে মাতরম্ কেবল একটি গান নয়, বরং এটি ভারতের আত্মা ও মাতৃভূমির প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও গৌরবের প্রতীক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি আরও বলেন, “বন্দে মাতরম্-এর মূল অনুভূতি হলো ভারত, মা ভারতী। ভারত এক এমন জাতি, যে অতীতের প্রতিটি আঘাত সহ্য করেও আরও উজ্জ্বল রূপে উঠে এসেছে, এবং ঐক্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে অমরত্ব অর্জন করেছে।” আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “আমাদের এমন একটি জাতি গড়ে তুলতে হবে, যা জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষে থাকবে।”  তিনি আরও বলেন, “যখন শত্রু আমাদের নিরাপত্তা ও সম্মানে সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে আঘাত করার সাহস দেখিয়েছিল, তখন বিশ্ব দেখেছে — ভারত কীভাবে দুর্গার রূপ ধারণ করে নিজের সম্মান রক্ষা করতে জানে।” প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায়, “‘বন্দে মাতরম্‌’ ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কণ্ঠস্বর, এটি প্রতিটি ভারতবাসীর অনুভূতিকে প্রকাশ করেছিল। এই শব্দবন্ধ আজও আমাদের বর্তমানকে আত্মবিশ্বাসে ভরিয়ে তোলে এবং এমন সাহস দেয় যে কোনও লক্ষ্যই আমাদের নাগালের বাইরে নয়।”

LinkedIn
Share