Tag: BJP West Bengal

BJP West Bengal

  • WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, দ্বিতীয় দফায় (Second Phase Polling) ভোট হচ্ছে ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটদান। বিভিন্ন বুথে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হচ্ছে আজ, বুধবার ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন?

    এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর সঙ্গে জুড়বে ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ করা আরও ১,৪৬৮ নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

    কতজন প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

    বুথের সংখ্যা কোথায় কত

    দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

    কোন কেন্দ্রে কতজন করে প্রার্থী?

    দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড়জু কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দা, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপাদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (র্বএসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচপাঁলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

  • WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (WB Assembly Polls 2026 Second Phase)। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তার জন্য একাধিক কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম।

    কোথায় কত বাহিনী…

    দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— মোট ৫০৭ কোম্পানি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

    আরও বাহিনী…

    হাওড়া জেলার হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি। হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব বর্ধমানে মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি। কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন।

    আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ

    দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ২৬ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও। ব্যারাকপুরে নিয়ে আসা হল অতিরিক্ত ৪ জন পুলিশ অফিসারকে। অন্যদিকে, হাওড়া-কৃষ্ণনগরে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। বারাসাত-বসিরহাট-বারুইপুরে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। পূর্ব বর্ধমান, চন্দননগর, হাওড়া গ্রামীণ, হাওড়া শহরে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসার। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবারে অতিরিক্ত ৩ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। আর সুন্দরবন ও বনগাঁয় অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বাহিনীর বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর

    বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কোঅর্ডিনেটর সিআরপিএফের আইজি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। ভোটের দিন কোনও সমস্যা হলে বা অভিযোগ থাকলে হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে। দুটো মোবাইল ও একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর দুটি হল- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও ল্যান্ড লাইন নম্বরটি হল- ০৩৩২৩৬৭১১১৭। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘প্রথম দফার থেকেও বেশি ভোট পড়বে দ্বিতীয় দফায়। নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোটই হবে দ্বিতীয় দফাতেও।’’

  • WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে কলকাতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

    বিশেষ বৈঠকে কমিশন

    শহরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সূত্রের খবর, বৈঠকে যোগ দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরাও। পাশাপাশি, জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO), রিটার্নিং অফিসার (RO) সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই এই সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে বুথে বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারি, রুট মার্চ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সেই বার্তাই স্পষ্ট।

    কলকাতায় আলাদা করে নজর

    কলকাতার পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ ভাবনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার সমস্ত সিভিল সেক্টর অফিসার, পুলিশ সেক্টর অফিসার, জেনারেল অবজ়ার্ভার, পুলিশ অবজ়ার্ভার, স্পেশ্যাল অবজ়ার্ভার, পুলিশের সিনিয়র আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। বৈঠক পর নগরপাল জানান, বুথ ধরে ধরে যে সব পরিকল্পনা রয়েছে, কোথায় কত কুইক রেসপন্স টিম, কন্ট্রোল রয়েছে, অভিযোগ জানানোর কী ব্যবস্থা আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব কী কী, কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কী করা হবে, এই সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

    বাইকে টহল পুলিশ-আধাসেনার

    সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটে গোটা শহর জুড়েই টহল দেবে পুলিশ-আধাসেনার বাইক। অজয় জানান, কলকাতা জুড়ে মোট ১৬০টি বাইক টহল দেবে। এই কাজ পুলিশ এবং আধাসেনা মিলে করবে। পাশাপাশি, বুথে বুথে নজরদার ক্যামেরা থাকবে। বুথের পরিস্থিতি বুঝে আরও ক্যামেরা লাগানো হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ড্রোনের সংখ্যা বৃদ্ধি

    তবে শুধু কলকাতা নয়, সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনতে চাইছে কমিশন। কমিশন সূত্রেই খবর, স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি চালাতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এ ছাড়াও শুধু বুথ বা বুথ সংলগ্ন এলাকা নয়, এ বার বুথ‌মুখী সব রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত‌ নিয়েছে কমিশন। মূলত কলকাতা এবং হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি বা ঘনবসতি এলাকায় যে সমস্ত বুথ থাকবে, সেই সমস্ত বুথের ক্ষেত্রেই তা মেনে চলা হবে। ‌

  • PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

    PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিন। ব্যারাকপুরের ভাটপাড়ায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে, বড়মার ছবি তুলে দেওয়া হয়। ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে ভাষণ শুরু করেন নরেন্দ্র মোদি। যাঁরা তাঁর ছবি এঁকে এনেছিলেন, তাঁদের থেকে তা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রার্থীদের ডেকে নেন পাশে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াইকে শক্তি জুগিয়েছিল। আজ এই ভূমি বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার।’’ রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষণা ৪ মে। এই প্রেক্ষিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন পরবর্তী সরকার গঠনের সময় বঙ্গে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, ‘‘সকাল সকাল আমাকে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন বহু মানুষ। হেলিপ্যাড থেকে যখন আসছিলাম, রাস্তার দু’পাশে মানুষের উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত। কল্পনা করতে পারিনি। এই ভোটে আমার এটা শেষ সভা। বাংলায় যেখানে যেখানে গিয়েছি, মানুষের যা মেজাজ দেখেছি, এই বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছি যে, ৪ মে-র পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতেই হবে।’’

    অঙ্গ, কলিঙ্গের পর বঙ্গ…

    বাংলার এই ভোটকে পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার সেবা করা, সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাকে রক্ষা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট। যখন ভারত সমৃদ্ধ ছিল অতীতে, তখন তিনটি মজবুত স্তম্ভ ছিল— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার, বাংলা, ওড়িশা। এই তিন স্তম্ভ দুর্বল যখন হয়, গোটা ভারতে ঝটকা লেগেছে। আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পরের পরিপূরক। ২০১৩ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে বলছি, পূর্ব ভারত যখন এগোবে, তখন দেশ এগোবে। অঙ্গ, কলিঙ্গে কমল ফুটেছে। এখন বাংলার পালা।’’

    বাংলায় পূর্বোদয় হচ্ছেই…

    বাংলায় পূর্বোদয় যে হচ্ছেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের নারীশক্তি ভরসা করে বিজেপি-তে। বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সাংসদ করেছিল। তার প্রেরণা বিজেপির সঙ্কল্প হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে তাঁর একটি সঙ্কল্প পূরণ করেছি। আরও একটি সঙ্কল্প রয়েছে শ্যামাপ্রসাদের— বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন হলে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ‘‘বাংলায় যে বিজেপি সরকার আসছে, তারা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করবে। ভারতের প্রগতি, সংস্কৃতি, স্বাধীনতায় বাংলার সন্তানদের ভূমিকা ছিল বড়। কিছু দূরে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তিতে বাংলাও ঐতিহাসিক পরিবর্তন করতে চলেছে। বন্দে মাতরম দাসত্ব থেকে মুক্তির মন্ত্র ছিল। এ বার বাংলার নব নির্মাণের মন্ত্র তৈরি করতে হবে। সুজলং, সুফলংকে নীতি করব, শস্য শ্যামলং -কে রোজগারের পথ করব। মলয়জ শীতলং-কে সুখ সমৃদ্ধির পথ করব। দুর্গার শক্তিকে সুরক্ষার গ্যারান্টি করব।’’

    তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই…

    মোদি জানান, বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। তাই কোনও তৃণমূল নেতা রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। তিনি বলেন, ‘‘প্রচারের সময় বাংলার বিকাশ নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তৃণমূলের নেতারা একবারও মা-মাটি-মানুষের নাম নেয়নি এই ভোটে। যে মন্ত্র নিয়ে তারা বাংলায় সরকার গড়েছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছর ওদের সুযোগ দিয়েছেন, মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্য কিছু করেনি। কিছু বলার নেই বলে একটাই ফর্মুলা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে। তৃণমূলের এক জন নেতাও রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। যারা নিজের কাজের রিপোর্ট দিতে পারে না, তাঁদের কি সুযোগ দেওয়া উচিত? কিছু করেন, বরবাদীর জন্য সুযোগ দেবেন?’’ বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। কী করা হবে, কোথায় নিয়ে যাবে, তা-ও বলে না তৃণমূল। কারণ ওদের কোনও ইচ্ছা নেই, দূরদর্শিতা নেই।’’

    তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক

    ব্যারাকপুরে কেন পরিবর্তন প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা এদিন সভায় দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পরিবর্তন কেন জরুরি, তা ব্যারাকপুরের থেকে বেশি কেউ জানে না। যে ব্যারাকপুরে আগে বাইরে থেকে লোক আসতেন, কাজের জন্য, আজ সেখান থেকে লোক পালিয়ে যাচ্ছেন। বাধ্য হচ্ছেন। এখানে কারখানার শব্দ আসত এক সময়, আজ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। অকল্যান্ড পাটকলে কী হল, সবাই দেখেছেন। আজ ব্যারাকপুরের দুর্ভাগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাট, কাপড়কল বন্ধ হয়েছে একটার পর একটা। ব্যারাকপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্টে গত কয়েক মাসে এক ডজন পাটকল বন্ধ হয়েছে।’’ এক সময় শিল্পের জন্য পরিচিত ব্যারাকপুর এখন গুলি-বোমার জন্য কুখ্যাত। সেই কথা মনে করিয়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক দেন মোদি। বলেন, ‘‘আপনাদের রোজগার বন্ধ হচ্ছে। গুন্ডাদের রোজগারের জায়গা, বোমার কারখানা ফুলেফেঁপে উঠছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেটের দোকান বাড়ছে। এটাই ওদের জঙ্গলরাজ। নিজের বাড়ি, দোকান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ওদের সিন্ডিকেটকে জিজ্ঞেস করতে হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ভাগাতে হবে, ওদের হারাতে হবে। তৃণমূলকে সরাবেন তো? আজ ভারতের জন্য গোটা দুনিয়া উৎসাহিত। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, কলকাতা এবং আশপাশের এসব এলাকা মেক ইন্ডিয়ার বড় হাব হবে। বিজেপি সরকার কারখানা নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করবে। পরিকল্পনা করব। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন। পিএম, সিএম এক সঙ্গে উন্নয়ন করবে।’’

    মোদির গ্যারান্টি…

    ক্ষমতায় এলে বিজেপি কী কী করবে, তার একটা আভাস দিয়ে রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এখানে রোজগার নেই। তাই যুবসমাজ বাধ্য হয়ে বাইরে কাজ করতে গিয়েছে। বৃদ্ধেরা একা হয়ে গিয়েছেন। বৃদ্ধাবাসের সংখ্যা বাড়ছে। বিজেপি সরকার এসে বাংলার যুবকদের এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। সরকারি নিয়োগ সময়ে হবে। নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে। শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে। সরকারি কর্মীদের তৃণমূলের ভয় থেকে মুক্ত করা হবে। মোদির গ্যারান্টি শুনে নিন, সপ্তম কমিশনের লাভ পাবেন সরকারি কর্মীরা। এখানে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিস্তার হবে। আর্ট, গেমিং ক্ষেত্রে নতুন মঞ্চ করা হবে যুবসমাজের জন্য। বাংলার স্কুলে যাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব হয়, সেই চেষ্টা করা হবে। গ্রামে ১২৫ দিনের আয়ের গ্যারান্টি দেওয়া হবে। জিরামজি আইন কার্যকর করা হবে। পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, মৎস্য যোজনা কার্যকর করা হবে, যাতে কারিগর, শিল্পীরা, মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি হবে।’’ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হয়ে জোর সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পিএম স্বনিধি যোজন, ফুটপাথে যারা কাজ করেন, তারাও ব্যাঙ্ক থেকে সাহায্য পাবেন। এগুলো মোদির গ্যারান্টি। এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন, ডাবল ইঞ্জিনের লাভ পাবেন। কলকাতায় মেট্রোর যাতে দ্রুত বিস্তার হয়, তাই বিজেপি-কে ভোট দিন। বৈদ্যুতিন বাসের নতুন নেটওয়ার্ক হবে।

    মহিলাদের বিশেষ প্রতিশ্রুতি…

    মহিলাদের ওপর হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের প্রত্যেকটা হিসেব নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এই মাটি রানি রাসমণির সাহসের গাঁথায় সমৃদ্ধ। সেখানকার মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল। এই রাজ্যকে অসুরক্ষিত করেছে মহিলাদের জন্য। ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে গুন্ডাদের কথা মনে করবেন। যে বোনদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাঁরা ন্যায় পাবেন। হিসাব নেব। সব ফাইল খুলব। মহিলাদের রোজগার, চিকিৎসা বিজেপির প্রাথমিক লক্ষ্য। বাংলায় বিজেপি সরকার গর্ভবতীদের ২১ হাজার টাকা দেবে। মেয়ে হলে সুকন্যা সমৃদ্ধির সুবিধা দেবে। কলেজে ভর্তি হলে টাকা পাবেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। পাকা ঘর পাবেন। তৃণমূল আপনাদের অধিকারের চাল লুটে নেয়। বিজেপি বন্ধ করবে। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্ত চিকিৎসা হবে। ১৫ বছরে কলকাতার পরিচয় বদলে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের এনেছে। সকলে মিলে এ সব বন্ধ করব। কলকাতাকে সিটি অফ ফিউচার করব।’’

    বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি করার ডাক

    বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য সব ধর্মের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘বিজেপি জমানায় কোনও ভারতীয় নাগরিক, যে ধর্মেরই হোন তিনি, তাঁদের সমস্যা হবে না। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের ছাড়া হবে না। মতুয়া, নমশূদ্রদের বলছি, নাগরিকত্ব মিলবেই। সব কাগজ, অধিকার পাবেন, যা ভারতীয় নাগরিকেরা পান। এটা মোদির গ্যারান্টি। নেতাজি বলেছিলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। আপনারা ৭০ বছর কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে দিয়েছেন। আজ তারা সব জোটে রয়েছে। একটা সুযোগ বিজেপি-কে দিন, মোদিকে দিন, সকলে মিলে বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি দেব। হিংসা, তৃণমূলের দুর্নীতি, ভয়, সিন্ডিকেট, অনুপ্রবেশকারী, বেকারত্ব, পরিবারবাদ, তোষণের রাজনীতি থেকে মুক্তি দেব। পুরনো গৌরব ফিরে আসবে। সব বুথ থেকে তৃণমূলকে সাফ করুন। কমল চিহ্নে ভোট দিন।’’

  • BJP: বাংলায় কি ঘুরছে হাওয়া! বিজেপির অন্দরমহলে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ, সামনে দ্বিতীয় দফা, কী পরিকল্পনা দলের?

    BJP: বাংলায় কি ঘুরছে হাওয়া! বিজেপির অন্দরমহলে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ, সামনে দ্বিতীয় দফা, কী পরিকল্পনা দলের?

    সুশান্ত দাস

    প্রথম দফার ভোট মিটতেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শিবিরে যেন এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণের পর দলের অন্দরমহলে আশাবাদের সুর ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। এই আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্য— প্রথম দফাতেই ১১০-র বেশি আসন জয়ের সম্ভাবনা— দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

    শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের ছাপ

    কলকাতায় সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। তাঁর মতে, এবারের ভোট শুধু আসনসংখ্যা বাড়ানোর লড়াই নয়, বরং ব্যবধান বাড়ানোর লড়াইও। ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে জনসমাগম দেখা গিয়েছে, সেটিকেই তিনি বিজেপির পক্ষে জনমতের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে মধ্যমগ্রামের রোড শো-এর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা তীব্র।

    ‘এই লড়াই জেতা সম্ভব’

    বিজেপির অন্দরে এই মুহূর্তে যে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা হল— ‘এই লড়াই জেতা সম্ভব।’ দলের নেতাদের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে শাসকবিরোধী মনোভাব বেড়েছে, আর সেই ক্ষোভই এবার ভোটে প্রতিফলিত হচ্ছে। নারী সুরক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে বিজেপি নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

    “ভয়মুক্ত ভোট”-এর বার্তা

    একই সঙ্গে বিজেপির প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল “ভয়মুক্ত ভোট”-এর বার্তা। অমিত শাহের অভিযোগ, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে বিজেপি সমর্থকরা ভয়ের কারণে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলেই দলের বিশ্বাস। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে নিজেদের সমর্থকদের আরও সক্রিয় করতে চাইছে, অন্যদিকে নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যেও আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

    সংগঠন আরও মজবুত করায় নজর

    দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিজেপি এখন সংগঠন আরও মজবুত করার দিকে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় তৃণমূলের শক্তি বেশি বলে ধরা হয়, সেখানেই বাড়তি নজর দিচ্ছে দল। দমদমের জনসভায় শাহের আক্রমণাত্মক ভাষণ সেই প্রস্তুতিরই অংশ। তিনি সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে—আর সেই অভিযোগের জবাব দিতেই বিজেপি নেতৃত্ব আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে।

    ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট

    প্রচারের পাশাপাশি ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট করতে চাইছে বিজেপি। নারী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ, কৃষকদের জন্য গবেষণা কেন্দ্র, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত— এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে সামনে এনে দল বোঝাতে চাইছে, তারা শুধু ক্ষমতায় আসতে চায় না, বরং প্রশাসনিক পরিবর্তন আনতেও প্রস্তুত।

    বিজেপি শিবিরে বার্তা একটাই…

    সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের পর বিজেপির প্রচারে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, তা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও তৈরি করছে। এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা অবশ্য নির্ভর করবে পরবর্তী দফার ভোট এবং চূড়ান্ত ফলাফলের উপর। তবে আপাতত বিজেপি শিবিরে বার্তা একটাই— এই লড়াইয়ে তারা পিছিয়ে নেই, বরং এগিয়ে থাকার বিশ্বাস নিয়েই পরবর্তী পর্যায়ে ঝাঁপাচ্ছে।

  • PM Modi Brigade Rally: ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা মোদির! কলকাতা ডকেও সংস্কার, রেল-হাইওয়ে উন্নয়নে জোর

    PM Modi Brigade Rally: ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা মোদির! কলকাতা ডকেও সংস্কার, রেল-হাইওয়ে উন্নয়নে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার মানুষের জন্য উন্নয়নের ডালি নিয়ে কলকাতায় হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। শনিবার ব্রিগেডের সরকারি মঞ্চ থেকে প্রায় ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের (West Bengal Projects) উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতীয় রেলকে আধুনিক করার যে কর্মযজ্ঞ দেশজুড়ে চলছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গ যেন কোনওভাবেই পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য।

    রেল যোগাযোগে বিপুল বিনিয়োগ

    দেশের রেলব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে কাজ করছে কেন্দ্র সরকার এবং সেই উন্নয়নের ধারায় পশ্চিমবঙ্গও যাতে পিছিয়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এদিন ব্রিগেডের প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে রাজ্যের একাধিক পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রেল যোগাযোগে গতি আনতে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে বাংলার ৬টি স্টেশন— আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম, সিউড়ি এবং কামাখ্যাগুড়ির আধুনিকীকরণের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Brigade Rally)। পাশাপাশি চালু হলো পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল এক্সপ্রেস।

    সড়ক যোগে সাড়া

    এদিন প্রধানমন্ত্রী ৪২০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের বেশ কয়েকটি জাতীয় সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যার সম্মিলিত ব্যয় প্রায় ১৬,৯৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পানাগড়-পালসিট (৬৮ কিমি) এবং বারওয়া আড্ডা-পানাগড় (১১৫ কিমি) পর্যন্ত ৬ লেনের রাস্তা। এ ছাড়াও ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ভেদিয়াতে ৪ লেনের আরওবি এবং ইছামতী নদীর ওপর স্বরূপনগর ব্রিজেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

    বন্দর ও জলপথের উন্নয়ন

    সড়ক এবং রেল যোগাযোগ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, জলপথের সংস্কারও ততটাই প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সে এ জন্য সংস্কার হচ্ছে। কলকাতা ডকেও সংস্কার হচ্ছে। এর ফলে পূর্ব ভারতের ‘লজিস্টিক সিস্টেম’ আরও উন্নতি হবে। কেবল সড়ক বা রেল নয়, জলপথ পরিবহণেও বিশেষ জোর দিয়েছেন মোদি। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের ৫ নম্বর বার্থের সংস্কার এবং ২ নম্বর বার্থের যান্ত্রিকীকরণের কাজ শুরু হলো, যা পরিবেশ-বান্ধব পণ্য পরিবহণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি খিদিরপুর ডক সংস্কার প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এ ছাড়াও কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর ওপর নতুন ব্রিজ এবং হাওড়া ব্রিজের তট সুরক্ষার মতো প্রকল্পের শিলান্যাস এদিন সম্পন্ন হয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল

    এদিন দুপুরে রেসকোর্সের হেলিপ্যাড থেকে সড়কপথে ব্রিগেডে (Brigade) পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর হাতে গৌর-নিতাইয়ের মূর্তি তুলে দেন। সরকারি অনুষ্ঠান শেষে মোদি একই মাঠের পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন।

  • Modi Brigade Rally: “ইট ছুড়ে আটকে রাখা যাবে না”, ব্রিগেড থেকে তৃণমূলকে নিশানা শমীকের

    Modi Brigade Rally: “ইট ছুড়ে আটকে রাখা যাবে না”, ব্রিগেড থেকে তৃণমূলকে নিশানা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বহুত্ববাদের মাটি। এই মাটিকে কখনও বিভেদের রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। ব্রিগেডের দিন (Modi Brigade Rally) স্পষ্ট ভাষায় একথা জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সভাকে ঘিরে শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ের মধ্যেই অন্য মেজাজে দেখা যায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। স্টেশনের বাইরে কর্মী-সমর্থকদের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী ক্যাম্পে দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই নিজে হাতে কর্মী-সমর্থকদের খাবার পরিবেশন করতে দেখা গেল বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে ব্রিগেডের মঞ্চে শমীক বলেন, ‘‘আমাদের একটাই লক্ষ্য: ২০২৬ সালের নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন। এটা কোনও ধর্মশালা নয়। এদেশের মানুষকেই আমরা এদেশে রাখব, ভোটার তালিকায় রাখব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্যে বিজেপি আসছে। এটা কালের দেওয়াল লিখন। একে কেউ বদলাতে পারবে না।’’ রাষ্ট্রপতিকে অপমান নিয়েও তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন তিনি।

    খাওয়া দাওয়া সেরে ব্রিগেড যাবেন কর্মীরা

    শিয়ালদা স্টেশনের বাইরে বিজেপির তরফে যে ক্যাম্প করা হয়েছে, সেখানে সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দূর জেলা থেকে আসা অনেকেই দীর্ঘ সফর শেষে ওই ক্যাম্পে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং জলখাবার বা খাবার সেরে ব্রিগেডমুখী হচ্ছেন। সেই ক্যাম্পেই এদিন কর্মীদের মাঝে নেমে পড়েন শমীক ভট্টাচার্য। মোট ১ লক্ষ লোকের রান্না করা হয়েছে। মেনুতে রয়েছে ভাত, সবজি, ডাল। যাঁরা এখানে আসবেন, তাঁদের থাকার জন্যও ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাওয়া দাওয়া সেরে ব্রিগেড যাবেন কর্মীরা। ফেরার পথে এখানে খাওয়া দাওয়া সেরে তারপর ট্রেনে উঠবে। খাবার পরিবেশন প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। ছোটবেলা থেকেই জনসংঘ এবং বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মানুষকে খাবার পরিবেশন করার অভ্যাস রয়েছে তাঁর। যাঁদের এদিন খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকের বাড়িতেই তিনি দিনের পর দিন খেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, এটা তাঁর কর্তব্য।

    আমাদের আটকানো যায়নি

    বিজেপির আদর্শের কথা উল্লেখ করে এদিন শমীক ভট্টাচার্য বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আদর্শেই দল এগিয়ে চলছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশভাগের পর শিয়ালদা স্টেশনে উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই ঐতিহ্য থেকেই বিজেপি বাংলার মানুষের পাশে থাকার দাবি করে বলে জানান তিনি। এদিন রাজনৈতিক আক্রমণও শানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, “খুন করে আমাদের আটকানো যায়নি, ইট ছুড়ে আমাদের আটকে রাখা যাবে না।” পাশাপাশি তিনি বলেন, ৮০-র দশকেও ব্রিগেডে সভা করার চেষ্টা করেছিল বিজেপি, কিন্তু তখন সেই সভা ভরানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে বিজেপি নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আসন্ন নির্বাচন মূলত মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং সেই বার্তাই ব্রিগেডের সভা থেকে স্পষ্ট হবে।

     

  • PM Modi Brigade Rally: ব্রিগেডমুখী বাস লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, আক্রান্ত বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক

    PM Modi Brigade Rally: ব্রিগেডমুখী বাস লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, আক্রান্ত বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডে সভার (PM Modi Brigade Rally) আগে বেলদায় বিজেপি সমর্থকদের বাসে হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা। শনিবার কলকাতায় ব্রিগেডে মেগাসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi)। তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেবেন, সেই নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। কিন্তু ব্রিগেড আসার পথেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। অভিযোগ, তাঁদের বাস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, মারধর করা হয়েছে চালককেও। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে, বলে অভিযোগ বিজেপির।

    বেলদায় বাসে ভাঙচুর

    ভোর ৫.৩০ মিনিট নাগাদ আহার মুণ্ডা এলাকার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। বেশ কিছু দুষ্কৃতী বাসটিকে আটকায় এবং চালককে জিজ্ঞাসা করে বাসটি কোথায় যাচ্ছে। তখন তিনি জানান, ব্রিগেডের সভায় যাওয়ার জন্য তাঁরা বাসটিকে নিয়ে এসেছেন। তখনই বাসটিকে অতর্কিতে ঘিরে ধরে বাইক-বাহিনী। চারদিকে এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করে ভাঙচুর চালানো হয়। সেই সময় চালক ও খালাসির হাতে লেগেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ভাঙচুর চালিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, যেহেতু ব্রিগেডে সভা রয়েছে, সেই কারণেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাসটিতে হামলা চালিয়েছে।

    বাস থেকে খুলে নেওয়া হল দলীয় পতাকা

    অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশওয়াড়ি থেকে ব্রিগেডের দিকে আসা বাসেও আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, হামলা চালানোর পাশাপাশি চালককে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমনকি দলীয় পতাকাও খুলে ফেলতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের কয়েকজন চোট পেয়েছেন এই ঘটনায়। অভিযোগের তীর শাসক দল তৃণমূলের দিকেই। আজ, শনিবার, শহরে কার্যত বিজেপির মহাযজ্ঞ। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করবেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi Rally At Brigade)। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে এটাই বিজেপির শেষ সভা হতে চলেছে। তাই প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখছে না বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। এদিকে, মোদির সফরের আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতার নানা প্রান্তে দেখা গেল ‘গো ব্যাক মোদি’ লেখা হোর্ডিং। শহরের অন্যতম ব্যস্ত উড়ালপুল মা ফ্লাইওভার-সহ আশপাশের এলাকায় টাঙানো এই পোস্টার দ্রুতই পথচলতি মানুষ এবং যাত্রীদের নজর কেড়ে নেয়। শহরের একাধিক জায়গায় টাঙানো ওই হোর্ডিংয়ে ‘বয়কট বিজেপি’ স্লোগানও চোখে পড়েছে। তবে কে বা কারা এই হোর্ডিং লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম সেখানে উল্লেখ নেই। ফলে বিষয়টি ঘিরে চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

  • PM Modi Brigade Rally: ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি

    PM Modi Brigade Rally: ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ বছর পর ফের ব্রিগেডে সভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Modi Brigade 2026)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম কলকাতার ঐতিহাসিক ময়দানে ভাষণ দিতে চলেছেন তিনি। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে অসম থেকে সরাসরি কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সাজসাজ রব গেরুয়া শিবিরে। শেষ পর্বের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। এবারে ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন। প্রশাসনিক কর্মসূচির পর তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বার্তা দেবেন।

    বাঙালি অস্মিতায় জোর

    আজকের সমাবেশে বাঙালি অস্মিতায় জোর দিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ (PM Modi Brigade Rally) সেজে উঠছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে। ৮০ ফুট চওড়া মূল মঞ্চে থাকছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের ছবি। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ দক্ষিণেশ্বরের থিম হওয়ায় এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও চলছে জোরকদমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তকমার পাল্টা জবাব দিতেই ব্রিগেডের মঞ্চে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বাঙালিয়ানা’কে। মঞ্চের পটভূমিতে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিকৃতি থেকে শুরু করে বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা শিল্প, দার্জিলিঙের চাবাগান, পটের কাজ, এবং বাউল-কীর্তনের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, বাঙালি সংস্কৃতির মিশেল মুগ্ধ করবে বাংলার মা-মাটি-মানুষকে।

    উন্নয়ন ও রাজনীতির যুগলবন্দি

    শুধু রাজনৈতিক জনসভা অবশ্য নয়, এ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর শেষ ছ’টি কর্মসূচির মতো এটির ক্ষেত্রেও প্রথমে প্রশাসনিক সভা, তার পরে জনসভা হবে। প্রশাসনিক সভাস্থল থাকছে মূল সভামঞ্চের একটু পিছন দিকে মাঠের এক পাশ ঘেঁষে। তার দায়িত্বে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, যে সব বিভাগের নানা প্রকল্পের শিলান্যাস বা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী শনিবার ব্রিগেডে দাঁড়িয়েই করবেন। এবারের ব্রিগেড সমাবেশ কেবল রাজনৈতিক ভাষণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দুটি বিষয়ের ওপর— প্রথমত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সরকারকে প্রধানমন্ত্রী কোন পথে আক্রমণ শানান এবং দ্বিতীয়ত, অমিত শাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতির পর প্রধানমন্ত্রী নিজে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন কোনও বড় ঘোষণা করেন কি না।

    সংঘাত ও রাজনৈতিক তর্জা

    প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলায় জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থেকে ব্রিগেডমুখী বাসে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের। এদিকে কলকাতা জুড়ে তৃণমূলের ‘বয়কট বিজেপি’ পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “তৃণমূল আসলে ভয় পেয়েছে। এই পোস্টারই ওদের আতঙ্কের প্রমাণ।” যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ১৪ মার্চ দিনটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে জমি আন্দোলনের ভূমি নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত দিনেই প্রধানমন্ত্রীর এই ব্রিগেড সভা বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় ঘোরায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

    বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনসমাগম

    মোদীর সভার জন্য শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনসমাগম হবে ব্রিগেডে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসবে মিছিল। বিজেপি সূত্রে খবর, হাওড়া, শিয়ালদার মতো স্টেশনগুলি থেকে মিছিল হওয়ার কথা। এ ছাড়াও, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্রিগেডমুখী মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সব মিছিল, জমায়েতের কারণে নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না-হয়, সে দিকে কড়া নজর থাকবে পুলিশের। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি ৫০টি পিকেট থাকবে। চেকিং হবে বিভিন্ন জায়গায়। পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা থাকবে মঞ্চ এবং সংলগ্ন এলাকায়।

    বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    শনিবার অসম থেকে মোদির বিমান নামবে কলকাতা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে চেপে তিনি আসবেন রেসকোর্সের মাঠে। সেখান থেকে গাড়ি করে তিনি পৌঁছোবেন সোজা ব্রিগেডের সভাস্থলে। ফলে ওই এলাকায় উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ। সূত্রের খবর, শনিবার মোদির সফরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কলকাতা পুলিশের তিন হাজার বাহিনী। পুরো এলাকা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে বলে খবর কলকাতা পুলিশ সূত্রে। জানা গিয়েছে, এই প্রতিটি সেক্টর বা ভাগের দায়িত্বে থাকবেন এক জন করে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার আধিকারিক। আবার এমন চার-পাঁচটা সেক্টর মিলিয়ে একটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক।

    শহরের রাস্তায় নিয়ন্ত্রিত যান-চলাচল

    শনিবার ভোটমুখী বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে কলকাতা পুলিশ। সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে আজ রাস্তায় থাকলে, কোন কোন রোড এড়িয়ে চলতে হবে, বুঝে নিন। ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কলকাতা কলকাতা পুলিশ এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক বা লরি, গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। তবে ছাড় রয়েছে এলপিজি সিলিন্ডার, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল/লুব্রিকেন্ট, অক্সিজেন, শাকসবজি, ওষুধ, ফলমূল, মাছ এবং দুধের গাড়ির ক্ষেত্রে। শনিবার ময়দান সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় পার্কিং-ও নিষিদ্ধ করেছে কলকাতা পুলিশ। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের আশেপাশে, এজেসি বোস রোড (মাঝখানে হেস্টিংস ক্রসিং এবং ক্যাথেড্রাল রোড), খিদিরপুর রোড, হাসপাতাল রোড, কুইন্সওয়ে, ক্যাথেড্রাল রোড, ক্যাসুয়ারিনা অ্যাভিনিউ ও লাভার্স লেনে পার্কিং নিষিদ্ধ। উল্লেখ্য, জনসভায় আসা গাড়ির জন্য ময়দানের আশপাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কলকাতা পুলিশ, রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা অধিকরণ এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। পুলিশের অনুমান, শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সভায় যোগ দিতে আসবেন। শিয়ালদা এবং হাওড়া থেকে অনেকেই পায়ে হেঁটে সভাস্থলের দিকে যেতে পারেন। ফলে ট্র্যাফিকে বিঘ্ন হতে পারে। এছাড়াও, কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এদিন প্রয়োজনে যানবাহন অন্যান্য রাস্তায় ডাইভার্ট করা হতে পারে।

    কোথায়-কখন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী মোদির মেগা সফর ঘিরে উৎসাহ বিজেপির। দুপুর ১টা ৪৫-এ কপ্টারে রেসকোর্সের হেলিপ্যাডে পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বেলা ১টা ৫৫-এ গাড়িতে ব্রিগেডে যাবেন মোদি। দুপুর ২টো-২টো ৩০ বিভিন্ন প্রকল্পর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, দুপুর ৩টে ৩৫- এ ব্রিগেডের সভাস্থল ছাড়বেন মোদি।

  • Suvendu Adhikari: “ছাব্বিশে বদল হলে সুদে আসলে আমরা বদল নেব”, তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “ছাব্বিশে বদল হলে সুদে আসলে আমরা বদল নেব”, তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা উত্তর লোকসভার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে একযোগে ময়দানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করেছে রাজ্য বিজেপি। একই ভাবে রাজ্যে লাগাতার নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার প্রতিবাদে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন সুকান্ত-শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    বদলাও হবে বদলও হবে (Suvendu Adhikari)

    বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর হামলার বিরুদ্ধে তোপ দেগে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পুলিশকে একমাস সময় দিয়েছি। তার মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে। না হলে বিজেপি ট্রিটমেন্ট করবে। নাগরাকাটার বুকেই ট্রিটমেন্ট হবে। বিজেপিকে মারধর করে ঘরের ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে না।” একই সঙ্গে মিছিলের শেষে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “রাজ্যের নানা প্রান্তে রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হচ্ছে অনেকেই। এই সরকার সম্পূর্ণ ভাবে আদিবাসী বিরোধী সরকার। মিছিলের শেষ মানে আন্দোলনের শেষ নয়। বদলা চাইলে বদল করতে হবে। ছাব্বিশে বদল হলে সুদে আসলে আমরা বদল নেবো। বদলাও হবে বদলও হবে।”

    তির-ধনুক নিয়ে মিছিল বিজেপির

    বঙ্গ বিজেপির এসটি মোর্চার ডাকে প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্বদেন বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পাশে স্বাভাবিক ভাবেই উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar), রাহুল সিনহা, দীপক বর্মণ সহ আরও অনেকে। মহিলা নেত্রীদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তবে শারীরিক অসুস্থতার জন্য মিছিলে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আদিবাসী সমাজের অস্ত্রকে মিছিলে প্রতীকী প্রতিবাদ রূপে ব্যবহার করতে দেখাও যায়। প্রত্যেক নেতানেত্রীর হাতে ছিল তির, ধনুক। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করে। এরপরেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্তদের ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়। বিজেপির স্পষ্ট দাবি অভিযুক্তরা সকলেই তৃণমূলের নেতা। আর তাই তৃণমূলের অঙ্গুলি হেলনেই দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করছে না পুলিশ।

LinkedIn
Share