Tag: BJP West Bengal

BJP West Bengal

  • Suvendu Adhikari: প্রথম পাহাড় সফরেই গুচ্ছের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, আর কী?

    Suvendu Adhikari: প্রথম পাহাড় সফরেই গুচ্ছের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবারই প্রথম পাহাড় সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এটাই ছিল তাঁর প্রথম দার্জিলিং সফর। কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ যোগ দিয়ে পাহাড়বাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা (Suvendu Adhikari)

    এদিন পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সর্বদলীয় এই অভ্যর্থনায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়বাসী এবার প্রকৃত অর্থেই ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের যে সব প্রকল্প আটকে ছিল, সেগুলি এবার দ্রুত বাস্তবায়িত হবে (Tourism Politics)। রাজনৈতিকভাবে দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং— তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে তাঁর সরকার যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

    উন্নয়নের রোডম্যাপ

    এদিন, পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। জোর দেওয়া হবে পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও। তিনি এও জানান, রাজ্যের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসবেন। ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে পাহাড়ে। যুব সমাজের খেলাধুলোর উন্নয়নের জন্য ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু। বিদ্যুৎ বিলের সরকারি ভর্তুকি আগের মতোই বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।

    আগের সরকারকে নিশানা

    তৃণমূল পরিচালিত পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের আমলে শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধই ছিল না, জিটিএতেও ব্যাপক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হবে, এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে প্রচুর পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে। কার্শিয়ঙের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে পদ্ম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার পাহাড়কে গুরুত্ব দিত না। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে শুধু পর্যটক হিসেবে আসতেন, উন্নয়নের জন্য কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেননি।” তিনি বলেন, “আমি পর্যটক হয়ে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষের কাছে সরকারের সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

    শহিদ সেনানীদের অবদান স্মরণ

    এদিনের সভা থেকে দেশ রক্ষায় পাহাড়ের বীর জওয়ান ও শহিদ সেনানীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “দেশের সঙ্কটের সময় পাহাড়ের মানুষ সবসময় দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে।” প্রসঙ্গত, কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে প্রশাসনের ১৯টি দফতরের বিভিন্ন জনমুখী পরিষেবা নিয়ে বর্তমানে ‘জনকল্যাণ শিবির’ চলছে (Tourism Politics)। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শিবির পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। খতিয়ে দেখেন বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার কাজকর্ম (Suvendu Adhikari)।

  • Suvendu Adhikari Cabinet: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দফতর? চমকে দেওয়া দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ

    Suvendu Adhikari Cabinet: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দফতর? চমকে দেওয়া দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় আরও পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নেন। এরপর ১ জুন দ্বিতীয় দফায় শপথ গ্রহণ করেন রাজ্যের আরও ৩৫ জন মন্ত্রী। এই ৩৫ জনের মধ্যে— ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এবার হয়ে গেল তাঁদের দফতর বণ্টন।

    উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিশেষ গুরুত্ব

    নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১০ জন মন্ত্রী স্থান পেয়েছেন রাজ্য মন্ত্রিসভায়। একই সঙ্গে জঙ্গলমহল অঞ্চলকেও উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজ জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও চার জন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৭ জন মহিলা মুখ।

    দিল্লিতে বৈঠকের পর চূড়ান্ত দফতর বণ্টন

    দফতর বণ্টনের আগে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়। বুধবার নবান্ন থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের কাছেই রাখলেন শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের অধীনেই রেখেছেন। তাঁর হাতে থাকা দফতরগুলি হল—

    • ● স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক
    • ● তথ্য ও সংস্কৃতি
    • ● বিদ্যুৎ
    • ● ভূমি ও ভূমি সংস্কার
    • ● উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন

    শুভেন্দুর সরকারের নতুন টিমে কোন মন্ত্রী কোন দফতরের দায়িত্ব পেলেন

    পূর্ণ মন্ত্রী

    • ● দীপক বর্মন – স্কুলশিক্ষা এবং আবাসন দফতর এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতর
    • ● তাপস রায়- শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ
    • ● শঙ্কর ঘোষ- পর্যটন, সংসদীয় বিষয়ক
    • ● মনোজ কুমার ওঁরাও- বন ও পরিবেশ
    • ● অর্জুন সিংহ- পরিবহণ এবং শ্রম
    • ● গৌরী শঙ্কর ঘোষ-গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ
    • ● জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়- উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
    • ● স্বপন দাশগুপ্ত- অর্থ
    • ● শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-স্বাস্থ্য
    • ● কল্যাণ চক্রবর্তী- তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন
    • ● অরূপ কুমার দাস- সেচ ও জলপথ
    • ● অজয় কুমার পোদ্দার-পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি
    • ● দুধকুমার মণ্ডল- কৃষি
    • ● নিশীথ প্রামাণিক- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন
    • ● অশোক কীর্তনীয়া- খাদ্য সরবরাহ, সমবায়
    • ● ক্ষুদিরাম টুডু- অনগ্রসর, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা
    • ● দিলীপ ঘোষ- পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন
    • ● অগ্নিমিত্রা পাল- পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর

    স্বাধীন দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী

    • ● মালতি রাভা রায়- নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও কর্মসংস্থান এবং পরিসংখ্যান দফতর
    • ● রাজেশ মাহাতো- প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও মৎস্য দফতর
    • ● ইন্দ্রনীল খাঁ- ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতর

    প্রতিমন্ত্রী

    • ● জোয়েল মুর্মু- আদিবাসী উন্নয়ন এবং সেচ ও জলপথ
    • ● হরেকৃষ্ণ বেরা- উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
    • ● আনন্দময় বর্মন- অর্থ
    • ● অশোক দিন্দা- কৃষি বিপণন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র
    • ● নাদিয়ার চাঁদ বাউরি- পূর্ত এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ
    • ● বিশাল লামা- মাদ্রাসা শিক্ষা
    • ● শান্তনু প্রামাণিক- পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, খাদ্য ও সরবরাহ
    • ● মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র- শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি
    • ● উমেশ রাই- নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক, সংসদীয় বিষয়ক
    • ● পূর্ণিমা চক্রবর্তী- পর্যটন
    • ● কৌশিক চৌধুরী- শিক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপন ও জরুরি পরিষেবা
    • ● ভাস্কর ভট্টাচার্য- শ্রম এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি
    • ● দিবাকর ঘরামি- সমবায়, বন ও পরিবেশ
    • ● অমিয় কিস্কু- কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন
    • ● কলিতা মাজি- আবাসন
    • ● গার্গী দাস ঘোষ- বিদ্যুৎ, অপ্রচলিত এবং পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি
    • ● বিরাজ বিশ্বাস- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং আইন ও বিচার
    • ● দীপঙ্কর জানা- সুন্দরবন বিষয়ক
    • ● সুমনা সরকার- স্বাস্থ্য
  • Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে লেপচা, ভুটিয়া-সহ বিভিন্ন জনজাতির জন্য গঠিত ১৬টি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে পাহাড়ের স্বশাসিত প্রশাসনিক সংস্থা জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-কেও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার দার্জিলিং, মিরিক ও দুধিয়া এলাকা পরিদর্শনের সময় অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগের সরকার পাহাড়ে বারবার এলেও প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। ১৬টি বোর্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব দিতে হবে। প্রতিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। জিটিএ-ও কোনও ছাড় পাবে না।”

    পাহাড় চষে বেড়ালেন মন্ত্রী

    সোমবার সকালেই দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। এরপর পাহাড়ের একাধিক এলাকা ঘুরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। তিনি প্রথমে যান শহরের প্রধান পানীয় জলের উৎস সিনচেল এলাকায়। সেখানে চলমান জল প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে হ্যাপি ভ্যালির একটি আইসিডিএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    মিরিককে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনা

    পরিদর্শনের পর মন্ত্রী মিরিক লেকে যান এবং পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, মিরিককে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, মিরিক লেক সংলগ্ন পার্ক ও পর্যটন অবকাঠামোকে নতুনভাবে সাজানো হবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন পশুপতিনাথ মন্দিরেও যান মন্ত্রী।

    দুধিয়া সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২৭ সালের মধ্যে

    দিনের শেষ কর্মসূচি ছিল দুধিয়া এলাকায়। সেখানে গত বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন অগ্নিমিত্রা। সেতুটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন তিনি। মন্ত্রী জানান, “দুধিয়া সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের মধ্যেই শেষ করা হবে। আমাদের সরকার উন্নয়ন করতে এসেছে, শুধুমাত্র সফর করতে নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত বর্ষায় যাঁদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাঁদের জন্য আগের সরকার প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ দেয়নি। অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গঠনের ঘোষণা

    এর আগে রবিবার উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায়-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জনপ্রতিনিধি, জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকরা। বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ছিল ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্প। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক— এই পাঁচটি শহরকে একত্রে পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন, পানীয় জল, পরিবহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবার ব্যাপক আধুনিকীকরণ করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, সরকারি জমিতে আবাসন নির্মাণ এবং আধুনিক জনশৌচাগার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ টাস্ক ফোর্স

    সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গে নারী ও শিশু পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই প্রেক্ষিতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা করেছে।
    প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, কিশোরী গর্ভধারণ এবং মানবপাচার রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    পরিচ্ছন্নতা ও প্লাস্টিক বিরোধী কঠোর অভিযান

    শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হবে। পাশাপাশি যত্রতত্র থুতু ফেলা, অবৈধ পার্কিং এবং রাস্তা দখলের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, ১ জুলাই থেকে পার্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটোমেটেড করা হবে। নির্মল বন্ধু কর্মীদের উপস্থিতিও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

    মাদকচক্র ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান

    উত্তরবঙ্গ জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাঁজা, ব্রাউন সুগার এবং অন্যান্য মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি বেআইনি মাদ্রাসাগুলির উপর নজরদারি এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও শিক্ষা ও পরিকাঠামোর মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ধর্মীয় পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্পে জোর

    উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলির তালিকা আগামী ২০ জুনের মধ্যে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মন্দিরে সারা বছর বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমাগম হয়, সেই এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও মন্দিরকেন্দ্রিক ধূপকাঠি শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজনৈতিক জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তরকন্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। যদিও তিনি সেদিন শিলিগুড়িতেই ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর অনুপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে অগ্নিমিত্রা পালের। সেখানে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

  • Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দুই দশক আগে সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প সরে যাওয়ার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনার জেরে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে দেশ-বিদেশে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা বদলাতে এবার সিঙ্গুরে ফের টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক বলেন, টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের ফিরে আসা হবে না, বরং তা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা চাই টাটারা আবার সিঙ্গুরে ফিরুক। এর মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে যে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং এখানে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।”

    ন্যানো প্রকল্পের প্রস্থান ও তার প্রভাব

    ২০০৮ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত তৈরি হয়। জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে স্থানান্তরিত হয়। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে দেশের শিল্পমহলের একাংশ পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-বিরোধী মনোভাবের প্রতীক হিসেবে দেখেছিল। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ন্যানো প্রকল্প চলে যাওয়ার পর রাজ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, সিঙ্গুরে টাটা প্রকল্পের সমাপ্তি শুধু একটি শিল্প উদ্যোগের অবসান ছিল না, বরং তা বাংলার শিল্পোন্নয়নের পথেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তিনি বলেন, “টাটার প্রস্থান রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করেছে। অনেক কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই।”

    শিল্পায়নের পথে নতুন বার্তা

    বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, টাটা গোষ্ঠী অটোমোবাইল শিল্পে ফিরুক বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুক, মূল লক্ষ্য হল বাংলায় বৃহৎ শিল্পের পুনরুজ্জীবন। তিনি মনে করেন, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বস্ত শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নতুন করে শিল্পপতিদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। শমীকের বক্তব্য, “টাটাদের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সংস্থার ফিরে আসা নয়। এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সম্ভাবনার উপর নতুন করে আস্থা স্থাপনের প্রতীক। দেশ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এর একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।” তাঁর দাবি, ন্যানো প্রকল্পের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে কাটমানি সংস্কৃতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ শিল্প পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিল্পের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন জরুরি বলে মনে করছে বিজেপি।

    সিঙ্গুরে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ার পরিকল্পনা

    শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সিঙ্গুরে কৃষকরা জমি ফিরে পেলেও সেই জমি আর আগের মতো কৃষিকাজের উপযোগী নেই, কারণ দীর্ঘদিনে তার চরিত্র বদলে গিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় একটি শিল্পকেন্দ্র বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের পাশে সরকার থাকবে। সিঙ্গুরকে শিল্পোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যাতে পশ্চিমবঙ্গে আবারও ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়।

    সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব

    সিঙ্গুর শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের স্থান নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়েছিল। তবে বিজেপির মতে, যে সিঙ্গুর একসময় শিল্প ও জমি আন্দোলনের সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই সিঙ্গুরকেই এখন শিল্প প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শমীক বলেন, “সিঙ্গুরকে শিল্পের বিদায়ের প্রতীক থেকে শিল্পের প্রত্যাবর্তনের প্রতীকে রূপান্তরিত করা গেলে তা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।”

    জমি নীতি নিয়েও ইঙ্গিত

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গে জমি অধিগ্রহণ নীতির প্রশ্নও উত্থাপন করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, সুস্পষ্ট ও কার্যকর ভূমিনীতি ছাড়া বৃহৎ শিল্পায়ন সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিল্পপতিদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জমি সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয়।” যদিও সম্ভাব্য নতুন ভূমিনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনে তার ফল দৃশ্যমান হবে।

    রাজ্যের প্রাকতিক সম্পদও নজর শমীকের

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে অশোকনগর তেলক্ষেত্র, রানাঘাটের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার এবং ম্যাঙ্গানিজ আকরিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুর বা কালিম্পং অঞ্চলের কোথাও সোনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পুরুলিয়ায় বিরল খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু নিলাম হলে পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের মুখ দেখতে পারে।

    বিজেপির শিল্পায়ন রূপরেখা

    বিজেপির দাবি, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে সিঙ্গুরকে আবার শিল্প মানচিত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হলে তা শুধু সিঙ্গুর নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে নতুন বার্তা দেবে। একইসঙ্গে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছেও রাজ্যকে একটি শিল্প-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা সিঙ্গুরকে ঘিরে আবারও শিল্পায়নের নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। টাটা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন আদৌ বাস্তবায়িত হয় কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে বিজেপি ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে সামনে আনতে শুরু করেছে।

  • CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে ও ধ্বনিভোটে স্পিকার পদে নির্বাচিত হন তিনি। সকালে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রথীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল। বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি মেনে বিরোধীরা আলাদা প্রার্থী না দেওয়ায় প্রথমবারের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের আসনে বসান।

    বিধানসভায় লাইভ টেলিকাস্ট

    নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ফলে বিধায়করা কীভাবে কাজ করছেন এবং সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা মানুষ সরাসরি দেখতে পারবেন। তাঁর কথায়, বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম টেলিকাস্টের আওতায় আসবে। পাশাপাশি, বর্তমান বিধানসভা ভবনের আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, এখনও ভোটিংয়ের জন্য কাগজে নির্ভর করতে হয়, যা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার সময় এসেছে। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশনের ফলে আসন সংখ্যা বাড়লে নতুন বিধানসভা ভবনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

    “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”

    বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী অতীতের বিধানসভা পরিচালনা নিয়ে পরোক্ষভাবে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, আগে বিরোধী দলের তরফে মন্ত্রীদের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তার উত্তর মিলত না। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি বদলাতে চায়। এখন থেকে শুধু প্রাপ্তিস্বীকার নয়, সমস্যার সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”—এই নীতিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিধানসভার কাজ চলবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের মত প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু আরও বলেন, বিরোধীরা চাইলে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং তাঁদের সমস্যা বা দাবি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন, যদি দলীয় অনুমতি থাকে। তিনি বিজেপি বিধায়কদেরও নির্দেশ দেন, বিরোধী দলের সদস্যরা দেখা করতে চাইলে তাঁদের সময় দিতে হবে। তাঁর দাবি, দেশের অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধারা বজায় থাকবে।

    বিরোধীদের বড় বার্তা শুভেন্দুর

    বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বিধানসভায় নিজের নানা অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু জানান, অতীতের তিক্ততা ভুলে তিনি নতুনভাবে এগোতে চান। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা বহুদলীয় গণতন্ত্রের মঞ্চ, তাই নিয়ম ও শালীনতা বজায় রেখেই কাজ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও বিধায়ক যাতে শারীরিক হেনস্থার শিকার না হন বা অযথা শাস্তির মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং এটি হওয়া উচিত গঠনমূলক বিতর্ক ও জবাবদিহির ক্ষেত্র। সংবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিধানসভার কাজ পরিচালনা হবে বলেও তিনি জানান। নতুন স্পিকার সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধানসভা পরিচালনা করবেন এবং তাঁর নির্দেশ সবাই মেনে চলবেন—এমন আশ্বাসও দেন শুভেন্দু। বিরোধীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, তাঁরা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করেন এবং বিধানসভার নিয়মবিধি মেনে চলেন। একইসঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, বিরোধী দলের বিধায়করা দেখা করতে চাইলে যেন তাঁদের সময় (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন স্পিকারের কার্যকালের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আপাত সমঝোতামূলক ও উদার বার্তা ভবিষ্যতে বিধানসভার পরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।

  • Suvendu Adhikari on BSF: পদ্মঝড় গঙ্গাপারে, আতঙ্ক পদ্মাপারে! শুভেন্দুর সীমান্ত-ঘোষণায় তোলপাড় বাংলাদেশে

    Suvendu Adhikari on BSF: পদ্মঝড় গঙ্গাপারে, আতঙ্ক পদ্মাপারে! শুভেন্দুর সীমান্ত-ঘোষণায় তোলপাড় বাংলাদেশে

    সুশান্ত দাস

    কথায় বলে, ‘একা রামে রক্ষে নেই, সুগ্রীব দোসর’। প্রাচীন প্রবাদবাক্যটা যথার্থ বাংলাদেশের পক্ষে। এতদিন নিজেদের পূবদিকে ব্রহ্মপুত্রের কোল ঘেঁষা বিজেপি-শাসিত অসমের অনুপ্রবেশ-বিরোধী অবস্থান নিয়ে জেরবার ছিল বাংলাদেশ। এখন পশ্চিমদিকে, গঙ্গাপারও গেরুয়াময় হয়ে ওঠায় আশঙ্কার শেষ নেই পদ্মাপারে। রীতিমতো, উভয় সঙ্কটে ভুগছে ওপারের কট্টরপন্থীরা, যারা অনুপ্রবেশকে এতদিন নিজেদের কায়েমি অধিকার হিসেবে দেখে এসেছিল। যারা, কিছুদিন আগে পর্যন্তও এরাজ্য়ের সাম্প্রদায়িক ও রাষ্ট্র-বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বদান্যতায় কাঁটাতার-বিহীন সীমান্ত দিয়ে ইচ্ছামতো যত্রতত্র ভারতে ঢুকে জনবিন্যাসে হেরফের ঘটাত এবং অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করত। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গবাসী সেই স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করে দেওয়ায় বাজ পড়েছে বঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া অবৈধ বাংলাদেশিদের মাথায়।  ভারতের মোদি সরকারের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধ বাংলাদেশি তাড়ানো অভিযান আগেই শুরু হয়েছিল। এবাং বঙ্গেও নতুন সরকার আসায় সেই কাজ শুরু হল বলে। লক্ষ্য হল, ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের স্বভূমে ফেরত পাঠানো, এবং একইসঙ্গে এই গণ-অনুপ্রবেশকে যথাসম্ভব আটকানো। ফলে, সব মিলিয়ে  বাংলাদেশের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এখন তিনটি শব্দ— ‘বিজেপি’, ‘কাঁটাতার’ ও ‘পুশব্যাক’।

    প্রমাদ গোনা শুরু বাংলাদেশে…!

    নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বিরাট ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়ে দেন, বাংলা-সীমান্তে আউটপোস্ট বসাতে এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে। এর পর থেকেই যেন প্রমাদ গুণতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এমনিতে, রাজ্যে পালাবদল ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসা থেকেই বাংলাদেশিদের একাংশ টার্গেট করা শুরু করেছে শুভেন্দুকে। তার ওপর সোমবার শুভেন্দুর বিএসএফকে জমি দেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সেই আক্রমণ আরও বেড়ে গিয়েছে। গঙ্গাপারের নবান্ন থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তা নিয়ে পদ্মাপারের সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে— তবে সেই সংবাদ যে সব ইতিবাচকভাবে পরিবেশন করা হয়েছে, তেমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

    হিন্দুত্ববাদকে ভয় পাচ্ছে বাংলাদেশ…!

    তবে বিজেপির বঙ্গজয় ও রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরে একটা বিষয় পরিষ্কার। তা হল, হিন্দুত্ববাদের শক্তিকে ক্রমশ ভয় পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘‘সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জয়ী হয়েছে বিজেপি, এটা একটা গেরুয়া পতাকা। এই গেরুয়া পতাকা বাংলাদেশের কাছে এসে গেছে। মুসলমানরা যদি সজাগ না থাকে, যদি ইমানি বক্তা না থাকে তাহলে কিন্তু এই পতাকা আমরা ঠেকাতে পারব না।’’ শুভেন্দুর কথার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে যে প্রতিক্রিয়া উঠে আসছে, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, এপার বাংলায় বিজেপির উত্থানে বাংলাদেশের একটা বড় অংশ আশঙ্কিত। আর এই শঙ্কা কেবলমাত্র জনমানসে নয়, একেবারে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরেও বর্তমান।

    ‘‘বাংলার সুরক্ষার প্রশ্ন, দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন’’

    সোমবার, নবান্নে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর একগুচ্ছ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। যার মধ্যে অন্যতম ছিল সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ঘোষণা। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “এটা আমাদের দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। বাংলার সুরক্ষার প্রশ্ন। যেভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে, আজ প্রথম দিনেই আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর ও বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল। ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।”

    কী বলেছেন ইউনূস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা?

    বাংলাদেশ এনসিপির নেতা তথা ইউনূস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইঁয়া শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই বিভিন্ন সময় আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। আবার পশ্চিমবঙ্গ এবং জেএনইউ-তে যখন সিএএ-বিরোধী আন্দোলন হয়, তখন আমরা তাদের সমর্থন জানিয়েছি।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘এই অঞ্চলের মুসলমানরা হামলার শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, তারা যেন কূটনৈতিকভাবে আরও তৎপর হয় এবং ভারতের কাছে এই নিয়ে সরব হয় এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ায়। এই সরকার যেন দেশের স্বার্থ দেখে নয়ত আমরা আমাদের সম্ভাব্য বন্ধুদের হারাব। আমরা এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও আবেদন জানাতে চাই।’’

    শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঢাকায়…!

    আবার ঢাকায় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের দেখান একদল মানুষ। ‘ভয়েস অফ বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামক একটি এক হ্যান্ডেল থেকে ভাইরাল হয় বেশ কিছু ছবি। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ হাতে ফেস্টুন নিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। জানা যাচ্ছে, ‘অঞ্জুমানে ছালেকীন বাংলাদেশ’ নামক একটি সংগঠনের তরফে ডাকা হয় এই বিক্ষোভ মিছিল। পশ্চিমবঙ্গে নাকি সংখ্যালঘু মুসলিমরা নির্যাতিত এবং নিপীড়িত হচ্ছে! এমন দাবি সামনে রেখেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পা বাড়িয়েছে ওপার বাংলার ওই সংগঠনটি।

    ঢাকাকে চাপ দিল্লির…

    এমনিতে, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ঢাকার ওপর ক্রমাগত চাপসৃষ্টি করছে দিল্লি। অবৈধ বাংলাদেশিদের ‘পুশব্যাক’ করার কথা ঘোষণা করেই রেখেছেন অসমে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। যা নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। সেই সময়ও বাংলাদেশের স্বস্তির জায়গা ছিল পশ্চিমবঙ্গ। কারণ, যতদিন গঙ্গাপার তৃণমূলের দখলে ছিল, ততদিন বেশ নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছিল বাংলাদেশের জামাত-বাহিনী। তার ওপর সেখানকার নির্বাচনে ভারত-সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলিতে জয় পাওয়ার পর থেকেই যেন জামাতের একপ্রকার ডানা গজিয়েছে।

    ক্ষমতার ‘হাতবদল’ এপারে, ঘুম উড়েছে ওপারে…!

    কিন্তু, এপার বাংলায় ক্ষমতার ‘হাতবদল’ হতেই রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে ওপার বাংলায়। সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে জামাতরা। তারা হারে হারে টের পাচ্ছে, এতদিন তারা যে পশ্চিমবঙ্গ তাদের কাছে অনুপ্রবেশের নিরাপদ মাধ্যম ছিল, তা রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে। উল্টোদিকে উঠেছে মস্ত প্রাচীর। বর্তমানে বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা ভারতের অঙ্গ রাজ্যগুলির মধ্যে— অসম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও সিকিম বিজেপি-শাসিত। এখন সেই তালিকায় ঢুকে পড়ল, তাদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া পশ্চিমবঙ্গ। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। অতীতে ভারতের বিএসএফ (BSF) সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ করতে গেলে বিভিন্ন জায়গায় বাধার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে বিজিবি (BGB)-এর ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে, বিজিবির কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, সীমান্তে বিএসএফের গুলি চালানোর ঘটনা ঘটলেই বাংলাদেশে বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং কট্টরপন্থী মহলের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

    ‘পুশব্যাক’-এর আশঙ্কা! হাই অ্যালার্টে বিজিবি…

    ঢাকা মনে করছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, এবং অসম ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারের ত্র্যহস্পর্শ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হলে অনুপ্রবেশকারীদের নতুন করে ‘পুশব্যাক’ করার বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার হতে পারে। শুভেন্দুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর ঢাকায় জানান, বাংলাদেশ সরকার আশা করে ‘পুশব্যাক’ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনী প্রচারে যা বলেছেন, সরকার পরিচালনায় সেই কড়া পদক্ষেপ বজায় রাখবে না, পশ্চিমবঙ্গের সরকার। হুমায়ুন কবিরের দাবি, এই বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার আর কাঁটাতারের বেড়ার ভয় পায় না। বাংলাদেশেরও সীমান্ত নিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা ভারতের এই প্রশাসনিক গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-কে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। ‘পুশব্যাক’-এর সম্ভাবনা রুখতেই বিজিবি-কে সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অবিলম্বে কেন্দ্রের নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও শুরু হবে।

    মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    এই ঘোষণা করতে গিয়েই আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া-র দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে রাজ্যে আসন্ন জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল সরকার সংবিধান এবং রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছিল, যাতে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর না হয়। আজ মন্ত্রিসভা অবিলম্বে ওই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছে।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জনগণনা?

    ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়। শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

    জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার বিষয় নয়, এর উপর নির্ভর করে—

    • ● কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা
    • ● খাদ্য নিরাপত্তা ও রেশন বণ্টন
    • ● স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো পরিকল্পনা
    • ● নগরায়ণ ও আবাসন নীতি
    • ● ভবিষ্যতের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation)
    • ● মহিলাদের সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক তাৎপর্য
    • ● বিরোধী রাজ্যগুলি এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে!

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে নতুন সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে নতুন জনগণনা এবং পরবর্তী ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি। এই কারণেই জনগণনা বিলম্বিত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল। বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী শাসিত কিছু রাজ্য পরোক্ষে এই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।

    কী কী প্রস্তুতি শুরু হবে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর জেলাশাসক, ব্লক প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় শুরু করবে।

    প্রাথমিক পর্যায়ে যে কাজগুলি শুরু হতে পারে—

    • ● প্রশাসনিক সীমানা ও ওয়ার্ড সংক্রান্ত তথ্য আপডেট
    • ● বাড়ি তালিকাকরণ (House Listing)
    • ● তথ্য সংগ্রহের জন্য ফিল্ড স্টাফ ও এনুমেরেটর প্রস্তুতি
    • ● ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহের অবকাঠামো গড়ে তোলা
    • ● জেলা ও পুরসভা স্তরে সমন্বয় বৈঠক

    রাজ্য প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, ক্যাবিনেট অনুমোদনের পর থেকেই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজ শুরু হবে।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের এটি অন্যতম প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সরকার ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়ানোর মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল জনগণনা। নতুন সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা কেন্দ্রের নীতি ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য স্থাপন করছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় সময়সূচি

    যদিও জনগণনা শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি।

    এখনও জানা যায়নি—

    • ● বাড়ি তালিকাকরণ কবে শুরু হবে
    • ● মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কবে হবে
    • ● জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ করতে কত সময় লাগবে

    তবে সরকারি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয়ের পর বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

  • West Bengal Government: ‘‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে’’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর বার্তা শমীকের

    West Bengal Government: ‘‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে’’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর বার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “সরকার তার নিজস্ব নিয়মে চলবে। বিজেপির সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় থাকবে। তবে এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।” শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বেশ স্পষ্ট। বার্তাটা পরিষ্কার, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে।

    শমীকের বাড়িতে শুভেন্দু

    সোমবার সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় প্রথমে পৌঁছয় সল্টলেকের বিএইচ ব্লকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পৈতৃক বাড়িতে। সেখানে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন দু’জন। কিছু সময় ব্যক্তিগত আলাপচারিতার পর শমীকের সঙ্গে একই গাড়িতে বিজেপির সেক্টর ফাইভের রাজ্য কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই শমীকের বাড়ির সামনে ভিড় জমায় বহু সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে পদ্মফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বাড়ির ভিতরে শমীক ভট্টাচার্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেন্দুর পরিচয়পর্ব ও সৌজন্য বিনিময় হয়। মিষ্টিমুখ এবং এক কাপ চায়ের পর দু’জনে একসঙ্গে দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে যান।

    ফুলে-মালায় বরণ শুভেন্দুকে

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেক্টর ফাইভের দলীয় দফতরে শমীক-শুভেন্দুর বৈঠক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে তার আগে রাজ্য সভাপতির বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ছিল সৌজন্যমূলক। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজ শুরুর আগে শুভেচ্ছা জানাতেই তিনি শমীকের বাড়িতে যান বলে দলীয় সূত্রের দাবি। এদিকে, বিজেপির সল্টলেক কার্যালয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। শঙ্খধ্বনি, উত্তরীয় এবং ২০৭টি পদ্মফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করা হয়। মহিলা বিজেপি কর্মীরা বরণডালা নিয়ে শুভেন্দুকে স্বাগত জানান এবং তাঁকে মা দুর্গার একটি মূর্তি উপহার দেন।

    ‘‘বিজেপি সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার’’

    এরপর বিজেপির রাজ্য দফতরে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে শমীক আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরকার দলীয় সীমারেখা ছাড়িয়ে রাজ্যের স্বার্থে কাজ করবে। তিনি বলেন, “এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।”  এই বার্তার মাধ্যমে মূলত নতুন সরকারকে শুধুমাত্র দলীয় সরকারের ছাপ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন। শমীক বলেছেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে, দলের সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়নে যোগাযোগ থাকবে।” অর্থাৎ দল নীতিগত দিশা দেবে, কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। এতে বোঝানো হচ্ছে যে সরকার শুধুমাত্র পার্টি অফিস থেকে পরিচালিত হবে না।

    নবান্নয় শুভেন্দুর কর্মসূচি

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সোমবার প্রথম নবান্নে শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা। আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বিকেল তিনটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে। পাশাপাশি তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। প্রথম বৈঠকটি দুপুরে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পর বিকেল ৪টে নাগাদ সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক। বিকেল ৫টা নাগাদ ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, সিপি ও এসপিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দু।

  • CM Suvendu Adhikari: মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে বিধানসভায় বসল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নাম, ১৫ বছর পর আমূল বদলের ছবি

    CM Suvendu Adhikari: মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে বিধানসভায় বসল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নাম, ১৫ বছর পর আমূল বদলের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর সঙ্গে বিধানসভাতে (West Bengal Assembly) পরিবর্তন লক্ষ্য করে গেল। যেখানে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেমপ্লেট ছিল। সেখানে আজ বসানো হল শুভেন্দু অধিকারীর নেমপ্লেট। বাকি ঘরগুলিও খোলা হয়েছে। দফতর নির্ধারিত হওয়ার পরেই সেখানেও নেপপ্লেট বসে যাবে। এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে রাজ্য বিধানসভা চত্বরে। বিধানসভা রং করা থেকে শুরু করে সংস্কারের কাজ চলছে জোরকদমে। বিধানসভাকে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গেরুয়া আলোয়৷ ইতিমধ্যেই বসানো হচ্ছে ৩৫০টি আলোর সেট।

    ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল…

    ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিধানসভার ভেতর ও বাইরের সাজসজ্জাও অনেকটা বদলে গিয়েছে। এ বার আর বিরোধী দলনেতা নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানসভায় প্রবেশ করবেন শুভেন্দু। তাঁর বসার ব্যবস্থাও মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘরে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বসবেন অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের কথা মাথায় রেখে এবং অন্য কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ঠিক হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরেই বসবেন শুভেন্দু। নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিন তোড়জোড় দেখা গেল বিধানসভায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি জিনিসপত্র গোছগাছের কাজ চলছে। শুক্রবার পর্যন্ত বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে ছিল মমতার নামে নেমপ্লেট। শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, ওই ঘরে বসল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেমপ্লেট। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে ঘরে বসতেন শুভেন্দু, সেখান থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    বিধানসভায় আমূল পরিবর্তন…

    বিধানসভায় প্রত্যেক দফতরের মন্ত্রীর জন্য বসার নির্দিষ্ট ঘর রয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মলয় ঘটক, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ফিরহাদ হাকিমরা যে ঘরগুলিতে বসতেন, সেগুলি পরিস্কার করা হয়েছে। এমনকি নেমপ্লেটও বদল করা হয়েছে। প্রায় চার বছর পর খোলা হল রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ওই ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার তালা খুলে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বিধানসভার সব ফ্লোরেই পরিবর্তন চোখে পড়েছে। প্রাক্তন সরকারি মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলক স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খোলা হয়। সরকারি প্রটোকল মেনে ঘরগুলি ‘স্যানিটাইজ’ করছে পিডব্লিউডি বা পূর্ত দফতর। নতুন আসবাবপত্র আনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক আমূল পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়ছে বিধানসভার অলিন্দে।

    বিধানসভাতেই তৈরি হবে সিএমও

    এদিকে, বিধানসভাতেই তৈরি হবে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় (Chief Minister’s Secretariat)। এতদিন নবান্ন থেকে সরকার পরিচালনা করতেন মমতা। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর গঙ্গার ও পারে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, বছর দশেকের মধ্যে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ শেষ হলে আবার সচিবালয় ফিরবে সেখানে। যদিও তিনি ফেরেননি। তবে বিজেপি নেতৃত্ব আগেই জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসে নবান্ন নয়, রাজ্য সচিবালয় চলবে রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণ থেকেই। তবে, সেখানে সংস্কারের কাজ ৫০ শতাংশও হয়নি। মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জন্য নির্দিষ্ট ঘর এখনও তৈরি হয়নি। ফলে যতদিন না তা তৈরি হচ্ছে, ততদিন বিধানসভার বাইরের প্ল্যাটিনাম জুবলি কক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় কাজ করবেন তিনি। সূত্রের খবর, মহাকরণে সংস্কারের জন্য আপাতত মাস ছয়েক বিধানসভা থেকে সচিবালয় চালাতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় বা সিএমও-র আধিকারিকরা আপাতত বিধানসভার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী স্মারক ভবনে বসবেন বলেই ঠিক হয়েছে। এই ভবনে দু’টি হল, গ্রন্থাগার ছাড়াও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কোনও দপ্তরের মন্ত্রী বা সচিবের সেখান থেকে অফিসে করতে কোনও সমস্যা হবে না। রাইটার্স বিল্ডিংসের সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে গোটা সচিবালয় সেখানে উঠে আসার কথা। তবে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ কোনও মন্ত্রী না–বসলেও কিছু দফতর সেখানে থাকতে পারে।

  • WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, দ্বিতীয় দফায় (Second Phase Polling) ভোট হচ্ছে ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটদান। বিভিন্ন বুথে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হচ্ছে আজ, বুধবার ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন?

    এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর সঙ্গে জুড়বে ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ করা আরও ১,৪৬৮ নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

    কতজন প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

    বুথের সংখ্যা কোথায় কত

    দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

    কোন কেন্দ্রে কতজন করে প্রার্থী?

    দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড়জু কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দা, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপাদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (র্বএসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচপাঁলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

LinkedIn
Share