Tag: bjp workers are homeless

bjp workers are homeless

  • BJP: ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস! আলিপুরদুয়ার ও বালুরঘাটে ঘরছাড়া বহু বিজেপি কর্মী

    BJP: ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস! আলিপুরদুয়ার ও বালুরঘাটে ঘরছাড়া বহু বিজেপি কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে দক্ষিণ দিনাজপুরে ঘর ছাড়া শতাধিক বিজেপি (BJP) কর্মী সমর্থক। বালুরঘাটে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। প্রতিদিন ঘরছাড়াদের সংখ্যা বাড়ছে জেলায়। একই অবস্থা আলিপুরদুয়ার জেলাতেও। সেখানে মহিলা সহ শিশুরা আশ্রয় নিয়েছে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে।

    দক্ষিণ দিনাজপুরে ঘর ছাড়া বিজেপি (BJP) কর্মী সমর্থকরা

    জেলাজুড়ে বর্তমানে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে ১০০ বেশি দলীয় কর্মী সমর্থক আশ্রয় নিয়েছেন। তারা সকলেই শাসক দলের দুষ্কৃতিদের দ্বারা অত্যাচারিত। শুধুমাত্র বিজেপির জেলা কার্যালয়ে নয় অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন নিকট আত্মীয়র বাড়িতে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রাণ সংশয়ের হুমকি দেওয়া হয়েছে ঘরছাড়াদের, ভাঙা হয়েছে বাড়িঘর। বাড়িঘর ছেড়ে এখন এই সমস্ত বিজেপি নেতা কর্মীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপি কার্যালয়। জেলা কার্যালয়ে তাদের থাকা ও খাওয়ার সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর, তপন, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট সহ বিভিন্ন এলাকার বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হুমকি ও ভয় দেখানো হচ্ছে। বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে প্রাণ নাশের হুমকি। ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে জেলার শতাধিক বিজেপি (BJP) কর্মী সমর্থক ঘরছাড়া। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি যে সব জায়গায় জয়ী ও পরাজিত হয়েছে সব জায়গাতেই এই সন্ত্রাস সমান ভাবে চলছে। ঘরছাড়াদের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। পুলিশকে হামলার প্রসঙ্গে জানালে সবকিছু হয়ে যাওয়ার পর তারা আসছে। ততক্ষণে তো সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। তাই প্রাণভয়ে পরিবার সহ বিজেপি কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। তারা আদৌ ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রতিদিনই ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা বাড়ছে জেলায়। এই বিষয়ে এক ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মী বলেন, ‘‘আমাদের ওপর ভোটের আগে থেকে তৃণমূলের কর্মীরা হামলা করছে, প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে ও বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি কিন্তু পুলিশের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। সেই জন্য আমরা জীবন বাঁচাতে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছি।’’ বিজেপি জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী জানান, ভোটের আগে এবং ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস চলছে। ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। শতাধিক কর্মকর্তারা বাড়ি যেতে পারছে না। তাঁদেরকে হুমকি দিচ্ছে তাই তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে  পার্টি অফিসে আশ্রয় নিয়েছে।

    আলিপুরদুয়ারেও একই ছবি 

    জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী পঞ্চায়েত সদস্যরা এখন ঘরছাড়া। অভিযোগ, শাসক দল আশ্রিত  দুষ্কৃতীদের হুমকি, চমকানিতে তাঁরা নিজেদের বাড়িতেই থাকতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই এসে আশ্রয় নিয়েছেন বিজেপি (BJP) জেলা কার্যালয়ে। সাত মাসের দুধের শিশু কোলে সদ্য নির্বাচিত এক পঞ্চায়েত সদস্যা সহ আরও কয়েকজন মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যার এখন ঠিকানা দলের জেলা কার্যালয়। এছাড়া পুরুষ পঞ্চায়েত সদস্যরাও অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন দলের জেলা কার্যালয়ে। বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে তাঁরা এসে জেলা কার্যালয় আশ্রয় নিলেও এখন যেন তারা সকলে একটি পরিবারের মতো একসঙ্গে ঢালা বিছানায় রাতে ঘুমোচ্ছেন, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া সারছেন। ওই নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যরা জানেন না, তাঁরা ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা। বিজেপির মিডিয়া সেলের জেলা মুখপাত্র শংকর সিনহা বলেন, ‘‘আলিপুরদুয়ারের পাতলাখাওয়া, চকোয়াখেতি পূর্ব কাঠালবাড়ি তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এবারেও তৃণমূলের ভোট লুট,বুথ জ্যামের পরেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি সদস্যরা সেখানে জয়ী হয়েছেন। বিজেপি তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড  দখল করতে পারবে, সেটা বুঝতে পেরেই শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা দলের নবনির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের উপর দলত্যাগের চাপ সৃষ্টি করেছে। বাধ্য হয়ে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় আমাদের রাখার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।’’ সাত মাসের শিশু পুত্রকে কোলে নিয়ে জেলা কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া নবনির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যা বলেন, ‘‘এলাকার মানুষ বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু শাসকদলের স্থানীয় কিছু নেতা আমাকে বিজেপি (BJP) ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মানুষের রায়কে সম্মান জানাতে দুধের শিশুকে কোলে নিয়েই পার্টি অফিসে চলে এসেছি। গ্রাম পঞ্চায়েত  বিজেপির বোর্ড গঠন না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফিরব না।’’ জেলা পার্টি অফিসে আশ্রয় নেওয়া আরেক পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, ‘‘আমাকে টাকা পয়সা দিয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তাতে রাজি না হওয়ায় নানাভাবে  মানসিক চাপ দিচ্ছে এলাকারই কিছু শাসকদলের নেতা। তাই বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে পার্টি অফিসে এসে আশ্রয় নিয়েছি।’’ 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share