Tag: Bone Health

  • Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভিটামিন, ফাইবারের মতোই সমান জরুরি খনিজ! শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন যাপনের জন্য শরীরের প্রয়োজন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ পদার্থের জোগান। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরে খনিজ পদার্থের সামান্য চাহিদা থাকে। তবে এই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেই একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখের নীচে কালো দাগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদরোগের সমস্যা, এমন একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশপাশি মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো নানান মানসিক সমস্যাও তৈরি একটি একটি খনিজের ঘাটতি! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীরে প্রতিদিন ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেও একাধিক বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রতিদিন মাত্র ৩১০-৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঝুঁকি শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে‌। পেশিতে টান ধরে। বারবার খিঁচুনির মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার হাত-পায়ে দূর্বলতা বোধ হয়। তাই ক্লান্তি গ্রাস করে। যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মহিলাদের ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলারা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই তাঁদের হাড়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ম্যাগনেশিয়াম বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের পাশপাশি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যা দেখা যায়। ফলে যেকোনো কাজে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঠিকমতো পুষ্টির অভাবে যেকেউ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন। কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এই ধরনের খনিজের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যায় ভুগলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স্কদের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। আবার মদ্যপানে আসক্তদের শরীরেও এই খনিজের ঘাটতি হয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কীভাবে এই খনিজের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে?

    পালংশাক

    আয়রন, ভিটামিন এ-র পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে পালংশাকও। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সমৃদ্ধ এই শাকটি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এক কাপ বা ১৮০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

    কাঠবাদাম

    ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদাপূরণে সকালে উঠে কাঠবাদাম ভেজানো খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা সন্ধ্যের জলখাবারে শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাঠবাদামও খাওয়া যায়। মোটামুটি ২০-২২টি কাঠবাদামে ৭৬-৮১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যাবে।

    ডার্ক চকোলেট

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়াম কোকো থেকে তৈরি হওয়া ডার্ক চকোলেট থেকেও পাওয়া যায়। কতটা পরিমাণ কোকোর ব্যবহার হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা।

    কাজুবাদাম

    সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় থাকুক কাজুবাদামও। এমনটাই পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ আউন্স অর্থাৎ ১৭-১৮টি কাজুবাদামে প্রায় ৮৩ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিনে অন্তত ৮-১০টি করে কাজু খেলে শুধু ম্যাগনেশিয়াম নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাবে শরীর। হৃদ্‌যন্ত্র ভাল রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জরুরি।

    কুমড়োর বীজ

    কুমড়ো বীজে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। হৃদ্‌যন্ত্র ঠিক রাখার জন্য, ম্যাগনেশিয়াম জরুরি উপাদান। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, রক্তবাহী নালিকার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে খনিজটি সাহায্য করে। ২০ গ্রাম কুমড়ো বীজে ১০০-১১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। দৈনন্দিন চাহিদার অনেকটাই পূরণ হতে পারে, দিনে অল্প কিছু কুমড়োবীজ খেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুদিন কুমড়োর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Juvenile Arthritis: খেলতে গিয়ে হাঁটতে কষ্ট, বারবার জ্বর? অবহেলা করবেন না, শিশুর হাড়েও বাসা বাঁধতে পারে আর্থারাইটিস!

    Juvenile Arthritis: খেলতে গিয়ে হাঁটতে কষ্ট, বারবার জ্বর? অবহেলা করবেন না, শিশুর হাড়েও বাসা বাঁধতে পারে আর্থারাইটিস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাঝেমধ্যেই জ্বর, গায়ে ব্যথা আবার কখনো হাঁটতে বা ছুটতে গেলেই ক্লান্তি গ্রাস করে! পরিবারের একরত্তি সদস্যের এমন সমস্যায় উদ্বেগ বাড়ে অভিভাবকদের! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণ এমন উপসর্গ জটিল রোগের জানান দেয়। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। রোগ সম্পর্কে জানলে তবে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জুলাই মাস জুভেনাইল আর্থারাইটিস অ্যাওয়ারনেস মান্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর হাড়েও সমস্যা হতে পারে। আর্থারাইটিস প্রৌঢ় বয়সে দেখা দেয়। কিন্তু শিশুদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে কয়েক লাখ শিশু আর্থারাইটিসের মতো রোগে কাবু। সম্প্রতি এই রোগের প্রকোপ আরও বেড়েছে। তাই এই নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    জুভেনাইল আর্থারাইটিস কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৬ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের হাড় এবং দেহের একাধিক জয়েন্টে যন্ত্রণা এবং হাড়ের ক্ষমতা কমতে থাকার এক ধরনের অসুখ হলো জুভেনাইল আর্থারাইটিস।

    কেন এই রোগ হয়?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জুভেনাইল আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণ থাকে না। তবে কয়েকটি ঘটনা এই রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পরিবারের কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হলে শিশুর জুভেনাইল আর্থারাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়‌। এই রোগ জিনগত। তাই বংশানুক্রমিক ভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ পরিবারের কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত থাকলে, পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। শিশুর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আর্থারাইটিস অনেক সময়েই অটোইমিউন ডিজিজ হিসাবে দেখা যায়। অর্থাৎ নিজের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করছে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে এমন জটিলতা থাকলে, এই ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরিবেশগত কারণেও জুভেনাইল আর্থারাইটিস হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা। অর্থাৎ এমন কোনো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ শিশু দেহে হতে পারে, তার থেকে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়‌।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তানের সমস্যা রয়েছে কিনা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকলেই এই রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে অভিভাবকদের নজর দেওয়া জরুরি। বারবার জ্বর হওয়া, ত্বকে নানান রকম দাগ দেখা দেওয়া, হাঁটাচলা বা খেলার সময়ে হঠাৎ করেই পায়ে অসুবিধা হয়ে যাওয়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে হাঁটতে অসুবিধা হওয়া কিংবা পায়ের জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিশুর বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া। অর্থাৎ ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কিনা, উচ্চতাও ঠিকমতো বাড়ছে কিনা এগুলো নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি‌ থাকে। আবার ১২-১৬ বছর বয়সিদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ নতুন করে বেশি দেখা দিতে পারে। তাই এই বয়সে বাড়তি নজরদারি জরুরি।

    সন্তানকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগের ঝুঁকি কমানো জরুরি। কিন্তু পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়‌। এই রোগে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠাও সম্ভব হয় না।‌ এই রোগে আক্রান্তের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। শিশুর প্রত্যেক দিন সুষম খাবার প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। তাছাড়া এই রোগে শিশুর শরীরে ক্লান্তিবোধ আরও তৈরি হয়। তাই প্রোটিন ও ভিটামিন জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত শিশুকে দুধ, ডিম, মাছ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সব্জি খাওয়াতে হবে। যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ হয়। শিশুর নিয়মিত শারীরিক কসরত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শারীরিক কসরত করলে তবেই হাড়, পেশি, স্নায়ু সচল থাকে। জুভেনাইল আর্থারাইটিসের মতো রোগের মোকাবিলায় শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত জরুরি। দিনে নূন্যতম তিরিশ মিনিট যাতে শিশু শারীরিক কসরত করে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম হলে তবেই শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাবে। ক্লান্তি দূর হবে। আবার পেশি ও স্নায়ুর উপরেও চাপ কমবে। ফলে শিশু স্বাভাবিক কাজ সহজেই করতে পারবে। এছাড়াও নিয়মিত চিকিৎসার ফলোআপ করানো জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Bone Health: চুপিসারে ক্যালসিয়াম কমাচ্ছে এই ৫ জনপ্রিয় খাবার— আপনি কি খাচ্ছেন?

    Bone Health: চুপিসারে ক্যালসিয়াম কমাচ্ছে এই ৫ জনপ্রিয় খাবার— আপনি কি খাচ্ছেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একটানা কয়েক মিনিট হাঁটার পরেই হাঁটুতে যন্ত্রণা অনুভব হয়। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে কোমড়ে তীব্র ব্যথা। আবার কখনো কখনো হাত-পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। বয়সের সংখ্যায় আর এই সব ভোগান্তি আটকে নেই। তিরিশ থেকে আশি, সব বয়সীদের মধ্যেই কম বেশি এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাড়ের সমস্যায় কাবু অধিকাংশ ভারতীয়। আর তার জেরেই নানান ভোগান্তি বাড়ছে। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলেও হাড়ের জোর কমছে। আর নেপথ্যে রয়েছে পাঁচ খাবার! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের হাড়ের শক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ, ক্যালসিয়াম ক্ষয়। অনেকক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরেও অনেকেই হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন। তার কারণ, ভুক্তভোগীদের অনেকেই এমন পাঁচ খাবার নিয়মিত খাচ্ছেন, যা তাঁদের হাড়ের ক্ষয়ের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ভারতে হাড়ের সমস্যা কতখানি প্রবল?

    ভারতে হাড়ের রোগ মহামারির আকার নিচ্ছে। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সীদের মধ্যেও হাড়ের নানান রোগ দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া এক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৬ কোটি মানুষ অস্ট্রিওপোরেসিস রোগে আক্রান্ত। অস্ট্রিওপোরেসিস হাড় ক্ষয় রোগ। এছাড়াও, ওই তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ অস্ট্রিওপেনিয়ায় আক্রান্ত। অর্থাৎ, অধিকাংশ ভারতীয়ের হাড় দূর্বল। একাধিক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি পাঁচ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন হাড়ের ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। পুরুষ ও মহিলার তুলনায় মহিলারাই বেশি হাড়ের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের মধ্যে হাড়ের রোগের প্রকোপ বেশি।

    কোন পাঁচ খাবারে হাড়ের ক্ষয় বাড়াচ্ছে?

    হাড়ের রোগের ঝুঁকি কমাতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশপাশি এমন খাবার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে, যাতে হাড়ের ক্ষয় না হয়। অর্থাৎ, শরীরের ক্যালসিয়াম নষ্ট করে এমন খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয়দের নিয়মিত খাবারের তালিকায় এমন কিছু খাবার ও পানীয় থাকছে, যা হাড়ের ক্ষতি করছে। যার ফলে হাড়ের সমস্যা আরও বাড়ছে।

    অতিরিক্ত নুন দেওয়া খাবার!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের অতিরিক্ত নুন খাওয়ার অভ্যাস একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত নুন শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। শৈশব থেকেই চিপস, আচার বা প্রক্রিয়জাত এমন নানান খাবারে ভারতীয়েরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যেগুলো অতিরিক্ত নুন দেওয়া হয়। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম গেলে, ক্যালসিয়াম নষ্ট হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত নুন জাতীয় খাবার খেলে ক্যালসিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে। হাড়ের ক্ষতি হবে।

    অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় পানীয়!

    অধিকাংশ ভারতীয় বাড়তি এনার্জি পাওয়ার জন্য ভরসা রাখেন চা কিংবা কফিতে! আর এই অতিরিক্ত চা কিংবা কফি খাওয়ার অভ্যাসের জেরেই হাড়ের রোগ দেখা দিতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় প্রসাবের সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। দিনে তিন বারের বেশি কফি বা চা পান করলে শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ক্ষয় হতে পারে।

    সফট ড্রিংকস বাড়াচ্ছে বিপদ!

    বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ উদযাপনে হোক কিংবা গরমের সাময়িক আরাম দিতে, সঙ্গী হয় সফট ড্রিংকস। কিন্তু প্যাকেটজাত এই পানীয় বিপদ বাড়ায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। সফট ড্রিংকসে থাকে ফসফরিক অ্যাসিড। এই উপাদান শরীরের ক্যালসিয়াম নষ্ট করে দেয়।

    অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ায় অভ্যাস!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের সমস্যা বাড়াচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু ভারতীয় নিয়মিত রান্নায় মাত্রাতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করেন। আবার অনেকেই নিয়মিত পেস্ট্রি, কেক বা অন্যান্য মিষ্টি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখেন। চিনি বা মিষ্টি শুধু শরীরের অতিরিক্ত ওজন বাড়িয়ে দেয় না। মিষ্টি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে বাধা দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিম, দুধ, লেবুর মতো খাবার শরীরে ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। কিন্তু নিয়মিত মিষ্টি খেলে শরীর সেই ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে না। ক্যালসিয়াম গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়।

    মদ্যপান!

    ভারতীয়দের মধ্যে মদ্যপানের অভ্যাস বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, উদযাপনের অঙ্গ হয়ে উঠছে মদ্যপান। লিভার, কিডনির ক্ষতি করার পাশপাশি মদ্যপান হাড়ের ক্ষয় রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত মদ্যপান করলে হাড়ের ক্যালসিয়ামের ক্ষয় হয়। ফলে হাড় দূর্বল হয়। ভোগান্তি বাড়ে।

LinkedIn
Share