Tag: bonedi barir pujo

bonedi barir pujo

  • Durga Puja 2023: নন্দীবাড়িতে বৃহৎ শঙ্খ বাজানোর পর শঙ্খচিল উড়তে দেখেই শুরু হত পুজো

    Durga Puja 2023: নন্দীবাড়িতে বৃহৎ শঙ্খ বাজানোর পর শঙ্খচিল উড়তে দেখেই শুরু হত পুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরামবাগের প্রাচীনতম বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল হাটবসন্তপুর গ্রামের নন্দীবাড়ির দুর্গাপুজো। প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে এই নন্দীরা ছিলেন জমিদার। সেই সময় তাঁদের কোনও এক বংশধর পরিবারের সুখশান্তি কমনায় দালান বানিয়ে শিবদুর্গার আরাধনা (Durga Puja 2023) শুরু করেছিলেন। তখন থেকে একই ভাবে এই পুজো হয়ে আসছে। এই পুজোর বিশেষত্ব হল, এখানে হরপার্বতী অর্থাৎ শিবদুর্গার শান্ত মূর্তি পূজিত হয় এবং প্রাচীনতম বৃহৎ আকারের একটি শঙ্খ ও তামার জালা আছে সেই সময়কার, যা এখনও ব্যবহার করা হয় এই পুজোতে। কথিত আছে, ওই বৃহৎ শঙ্খ বাজানোর পর আকাশে শঙ্খচিল উড়তে দেখেই শুরু হত পুজো। এছাড়াও ওই বড় তামার জালায় নৌকায় করে গঙ্গা থেকে জল আসে পুজোর জন্য। সেই গঙ্গা জল দিয়েই চার দিন ধরে চলে পুজো।

    ভগ্নদশা প্রাচীন দুর্গাদালানের (Durga Puja 2023)

    পরিবারের সদস্যরা জানান, এখন জমিদারি প্রথা না থাকলেও আজও প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই পূজিত হন হরপার্বতী। তবে এখানে কোনও পশু বলি হয় না। এক সময় গোটা গ্রামের মানুষ পুজোর চার দিন নিমন্ত্রিত থাকত নন্দীবড়িতে। তবে তা এখন আর হয় না। পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে অনেকেই সারা বছর বাইরে থাকলেও পুজোর সময় সবাই ফিরে আসেন এই বাড়িতে। সকলে মিলে একসাথে পুজোর (Durga Puja 2023) অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা, একে অপরের সাথে দেখা করা, সারা বছর ধরে জমিয়ে রাখা কথা, চার দিন ধরে চলে খুব আনন্দ। দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে বাড়ির আট থেকে ৮০ সকলেই। তবে নন্দীবাড়ির বতর্মান সদস্যরা পুজোয় আধুনিকত্ব বাড়ালেও এবং ভগ্নদশা প্রাচীন দুর্গাদালানের রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করলেও বেশিরভাগটাই নষ্ট হয়ে গেছে। চুনসুরকি দেওয়া ইটের দেওয়াল। শালের কড়িকাঠের উপর চুনসুরকির বানানো ছাদে ফাটল ধরেছে অনেক জায়গাতেই। প্রাচীন ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন নন্দী পরিবারের সদস্যরা।

    হই হই করে কাটে পুজোর দিনগুলো (Durga Puja 2023)

    নন্দী পরিবারের সব থেকে বয়স্ক সদস্য বর্তমানে প্রশান্ত নন্দী। বয়স প্রায় ৮৬ বছর। তিনি বলেন, আমার ঠাকুরদা, দাদু, বাবা সবাই একই ভাবে পুজো করেছে, তা দেখে এসেছি। তাই আমিও সেই দায়িত্ব পালন করছি। এখন পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই কর্মসূত্রে বাইরে চলে গেছে। কিন্তু পুজোর (Durga Puja 2023) সময়ে সবাই ফিরে আসে। আনন্দে হই হই করে কাটে পুজোর দিনগুলো। তবে আগের মতো এখন আর সেই জৌলুস নেই। গোটা গ্রাম নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয় না। পুজোয় আধুনিকত্ব বেড়েছে, কিন্তু কোথাও যেন একটা ভাটা পড়েছে। এই এত বড় দুর্গাদালান রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করেও সম্ভব হচ্ছে না, বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। ভেঙে ভেঙে পড়ছে চুনসুরকির ছাদ। আগামী দিনে হয়তো এই দুর্গাদালান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্মৃতি হয়ে যাবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: পুজোয় সুরুলের সরকার বাড়ি আলোকিত হয়ে ওঠে বিদ্যুৎ নয়, তেলের প্রদীপে!

    Durga Puja 2023: পুজোয় সুরুলের সরকার বাড়ি আলোকিত হয়ে ওঠে বিদ্যুৎ নয়, তেলের প্রদীপে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শহরের জাঁকজমক থেকে দূরে সরে আমাদের গ্রাম বাংলায় এমন দুর্গাপুজো হয়, যেগুলি গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের নজর কাড়ে। ঠিক সেরকম একটি ঐতিহ্যবাহী পুজো হল সুরুলের রাজবাড়ি তথা সুরুলের সরকার বাড়ির পুজো (Durga Puja 2023)। এই জমিদার বাড়ির প্রত্যেকটি দেওয়ালে আছে ইতিহাসের ছোঁয়া। পুজোর কটা দিন যেন অন্য রূপে সেজে ওঠে সরকার বাড়ি। ষষ্ঠীর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজো।

    কী এই রাজবাড়ির ইতিহাস?

    সুরুল রাজবাড়ির ইতিহাস জানতে গেলে একটা কথা প্রথমেই বলে রাখা দরকার। তা হল, এই রাজবাড়ির সমস্ত সদস্যর পদবী সরকার। কিন্তু এটি এঁদের আসল পদবী নয়। ইংরেজদের থেকে পাওয়া পদবী। এঁদের আসল পদবী ঘোষ। প্রায় অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে বর্ধমানের নীলপুর থেকে সুরুলে আসেন ভরতচন্দ্র সরকার। এখানে বাসুদেব ভট্টাচার্যের বাড়িতে তিনি আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান হয়, যার নাম কৃষ্ণ হরি। এর পর থেকে সুরুলেই থাকতে শুরু করে সরকার পরিবার। কৃষ্ণ হরির পরবর্তী প্রজন্ম তাঁর ছেলে শ্রীনিবাস ইংরেজদের সাথে ব্যবসার কাজে যুক্ত ছিলেন এবং খুব সুনাম অর্জন করেছিলেন। এতে তাঁর প্রভাব ও প্রতিপত্তি বেড়েছিল। জাহাজের পাল তৈরির কাপড় এবং নীল চাষের ব্যবসার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। সুরুলের সরকার বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) ভরতচন্দ্রের আমল থেকেই শুরু হয়েছিল।

    জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সম্পর্ক

    ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সুরুল রাজ পরিবারের সঙ্গে জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারের খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত এই সরকার বাড়িতে আসতেন। একবার মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে কবিগুরু এই রাজবাড়িতে একটি রাতও কাটিয়েছেন। এখনও সুরুল রাজবাড়িতে (Durga Puja 2023) তাঁর স্মৃতি ধরে রাখা হয়েছে। শোনা যায়, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই রাজ পরিবারের কাছ থেকে শান্তিনিকেতনের বেশ অনেকটা জমি পেয়েছিলেন।

    কীভাবে হয় সরকার বাড়ির দুর্গাপুজো?

    সরকার পরিবারের এক সদস্য জানান, রথের দিন থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। প্রতিমাকে ডাকের সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। এছাড়াও পুজোর (Durga Puja 2023) কয়েকটি দিন রাজবাড়ির সোনার গহনা দিয়ে মা দুর্গাকে সাজানো হয়। পঞ্চমীর দিন নাটমন্দির থেকে সমস্ত রাজবাড়িতে বেলজিয়াম থেকে আনা রঙিন বাতি আর ঝাড়বাতিতে সাজিয়ে তোলা হয়। আর দেবীর হাতে থাকে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো অস্ত্রশস্ত্র। এখানে আরও একটি বিশেষত্ব হল, পুজোর দিনগুলিতে কোনও ইলেকট্রিক লাইট ব্যবহার না করে গোটা রাজবাড়িকে তেলের প্রদীপে আলোকিত করা হয়। এখানে সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী–তিন দিনই বলি হয়। সপ্তমীতে চালকুমড়ো, অষ্টমীতে পাঁঠা, আর নবমীতে চালকুমড়ো ও আখ বলি দেওয়া হয়। এখানে দুর্গা প্রতিমা ছাড়াও নারায়ণের পুজো করা হয়। আর নারায়ণ যেহেতু বলি প্রথার বিরুদ্ধে, তাই বলির সময় নারায়ণকে সরিয়ে অন্য মন্দিরে রেখে আসা হয়। অন্য সময়ে তাঁর নিজের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। গোটা গ্রাম এই পুজোর কয়েকটা দিন এই  রাজবাড়িতে মেতে থাকে। রোজ সন্ধ্যায় মন্দিরের সামনে নাটমন্দিরে যাত্রার আসর বসে। দেশ-বিদেশ থেকে সরকার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মরা পুজোর কয়েকটা দিন এখানে আসেন। এভাবেই প্রায় ৩০০ বছরের বেশি দিন ধরে একই ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে চলেছে এই সরকার বাড়ি বা সুরুল রাজবাড়ির পুজো।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: আসানসোল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আগুরিপাড়ার ৯টি দুর্গাপুজো

    Durga Puja 2023: আসানসোল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আগুরিপাড়ার ৯টি দুর্গাপুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসানসোলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এখানকার একটি গ্রামের বহু পুরনো দুর্গাপুজোর ইতিহাস (Durga Puja 2023)। আসানসোলেরই গ্রাম আগুরিপাড়ার দুর্গাপুজো তারই সাক্ষী হয়ে রয়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, আসানসোল গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা নকড়ি রামকৃষ্ণ রায় এইসব দুর্গাপুজোর পত্তন করেন। আগুরিপাড়ায় মোট ৯টি দুর্গাপুজো হয। যার মধ্যে আটটিতে হয় মূর্তি পুজো এবং একটিতে হয় ঘট পুজো। বলা হয়, আসানসোল শহরের প্রথম জনবসতি এই আগুরিপাড়া। ২৮৯ বছর ধরে এখানে পুজো হয়ে আসছে।

    পুজোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের যোগ (Durga Puja 2023)

    এই পুজো শুরুর সঙ্গে রয়েছে আসানসোল প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের যোগ। কাশিপুরের রাজা সম্পত্তি, জমি এবং গাছপালা রক্ষা করতে নকড়ি রামকৃষ্ণ রায়কে পাঠিয়েছিলেন এখানে। তারপরে তাঁরা আসানসোল গ্রামে বসতি শুরু করেন। সেখানে আসান গাছের আধিক্য থাকায়, নাম হয় আসানসোল। তাঁর হাত ধরেই শুরু হয় এই দুর্গাপুজো। তিনি দুটি দুর্গা মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বড় এবং মেজ। সেখান থেকেই পরে আরও পুজোর সূচনা হয়। দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2023) সময় আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন আসানসোলের বাসিন্দারা। দেখার মতো হয় দোলা বিসর্জন। একসঙ্গে নটি দুর্গা মন্দিরের দোলা একত্রিত হয় নানান বাজনার মাধ্যমে এবং সিঁদুর খেলে রাম শায়রে যায়। এক সময় পুজোয় মহিষ বলি করা হত। সময় বদলেছে, এখন পাঁঠা বলি করা হয়।

    দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন হয় দেখার মতো (Durga Puja 2023)

    এখানকারই একটি পুজোর কোষাধ্যক্ষ শ্রীকান্ত রায় বললেন, যখন বর্গি হানা হয়েছিল, তখন নকড়ি রামকৃষ্ণ রায় এদেরকে রুখে দিয়েছিল। সেই থেকে আমরা উগ্র ক্ষত্রিয় নামে পরিচিত। তিনিই জমিজমা, সম্পত্তি দিয়ে আমাদের এখানে বসবাস শুরু করান। এখানে যত ঠাকুর-দেবতা আছে, যেমন ঠাকুর বুড়ি, শিব মন্দির বা মা কালী, ন’টি দুর্গা প্রতিমা, সব উনিই তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন। তখন থেকেই আমাদের পুজোর সৃষ্টি। তারপর থেকেই আমাদের দাদুরা বা পূর্ব পুরুষরা এই পুজো করে আসছেন। এখানে ৯ টি পুজো হয়। তার মধ্যে একটিতে ঘট পুজো হয়। বড় মা, সেজ মা, ছোট মা এইভাবে আমরা নাম দিয়েছি। এখানে কোনও চাঁদা তোলা হয় না। দুর্গা মায়ের যে সম্পত্তি (পুকুর ইত্যাদি) আছে, তা থেকেই এইসব পুজোর অনুষ্ঠান করা হয়। এখন আরও জাঁক জমক করে হচ্ছে। রাম শায়রে নব পত্রিকা আনতে যায় পুরো গ্রাম। কয়েক হাজার লোক হয়। দশমীর দিনও প্রতিমা বিসর্জন হয় দেখার মতো (Durga Puja 2023)। ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ জমা হন। হয় আতশবাজির প্রদর্শনী।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: সিউড়ির বসাক বাড়িতে দেবী মনসার পুজো শেষ করে তবেই শুরু হয় দুর্গাপুজো

    Durga Puja 2023: সিউড়ির বসাক বাড়িতে দেবী মনসার পুজো শেষ করে তবেই শুরু হয় দুর্গাপুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমের সিউড়ি শহরের বুকে বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোগুলির (Durga Puja 2023) মধ্যে অন্যতম সিউড়ির বসাক বাড়ির দুর্গাপুজো। শহরের ঐতিহ্যপূর্ণ পুজোর মধ্যে এটি একটি। সব থেকে নজর কাড়ে যে বিষয়টি, সেটি হল এই দুর্গাপুজো মানেই দুই বাংলার মিলন ক্ষেত্র। এর রীতিনীতি পালিত হয়ে আসছে ওপার বাংলার রীতিনীতি মেনেই। পঞ্চমীর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজো।

    কত বছরের পুরনো এই দুর্গাপুজো? কী এর ইতিহাস?

    আনুমানিক কত বছরের পুরনো এই বসাক বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023), তা এখনও সঠিক জানা যায়নি। সিউড়িতে বসাক বাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয় বসাক পরিবারের তৎকালীন প্রধান যামিনী বসাকের হাত ধরে। আজ এই পুজোর ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে চলেছেন তাঁরই বংশধররা। পরিবারের বর্তমান সদস্য মৌমিতা বসাক জানান, এই পুজোর ইতিহাস বহু বছরের পুরনো। এটি শুরু হয় প্রথমে বাংলাদেশের ঢাকার ধামরাই গ্রামে। পঞ্চমীর দিন থেকেই পুজো শুরু হয়ে যেত, এখনও সেটাই হয়ে আসছে। আগে মাটির মূর্তিতে পুজো হলেও বর্তমানে দেবীর চিরস্থায়ী পিতলের মূর্তিতেই তা হয়ে থাকে। পাঁচদিন ধরে চলত পুজো। আর দশমীতে বিসর্জন করা হত (Durga Puja 2023)। সময় বদলের সাথে সাথে বাংলাদেশের এই পুজোর স্থানও পরিবর্তিত হয়েছে। দেশ ভাগের পর ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় চলে আসেন বসাক পরিবারের তৎকালীন সদস্যরা। আর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সিউড়িতে আবার নতুন করে শুরু হয় বাংলাদেশের ধামরাই গ্রামের সেই ঐতিহ্যবাহী পুজো। কিন্তু রীতিনীতিতে কোনও ভেদাভেদ হয়নি আজও। সেই পুরনো নিয়ম ধরে আজও পুজো হয় বসাক বাড়িতে। বাংলাদেশের সেই ধামরাই গ্রামের দুর্গা বেদির আদলেই তৈরি হয়েছে সিউড়ির বসাক বাড়ির দুর্গা বেদি। আর যে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি হুবহু বাংলাদেশের পুরনো মন্দিরটির আদলেই। সামনে আছে একটি বিশাল নাট মন্দির।

    আগেই দেবী মনসার পুজো

    সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রীতিতে এখানে পুজো শুরু হয়। বসাক পরিবার যখন দেশভাগের সময় এপার বাংলায় আসে, তখন সঙ্গে করে নিয়ে আসে তাদের পূজিতা দেবী মনসার ঘট। আর সেই ঘটকে এই মন্দিরেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকে আজও দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশের মন্দিরের মতোই পঞ্চমীর দিন সর্বপ্রথম দেবী মনসার পুজো শেষ করে দুর্গাপুজো আরম্ভ হয়। পুজোর পাঁচটি দিন বীরভূমের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের সমাগম ঘটে এই বসাক বাড়িতে। আগে বাংলাদেশ থেকে বসাক বাড়িতে পরিচিতরা এলেও এখন আর কেউ আসেন না বলেই জানান পরিবারের সদস্যরা। পুজোর কটা দিন আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই। দিন বদল হলেও আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে চলেছে এই বসাক বাড়ির প্রাচীন পুজো (Durga Puja 2023)।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: আসানসোলের গ্রামে সুপ্রাচীন ‘আদি দুর্গাপুজো’ চলে টানা ১৫ দিন ধরে!

    Durga Puja 2023: আসানসোলের গ্রামে সুপ্রাচীন ‘আদি দুর্গাপুজো’ চলে টানা ১৫ দিন ধরে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আকাশে বাতাসে পুজোর ছোঁয়া। দেবীপক্ষ শুরুর অপেক্ষায় মানুষ। তার মধ্যে শুরু গেল দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023)। আসানসোলের গাড়ুই গ্রামে শুরু হয়ে গেল আদি দুর্গাপুজো। টানা ১৫ দিন ধরে চলবে এই পুজো। এমনই রীতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কৃষ্ণ পক্ষের নবমী থেকে গাড়ুই গ্রামে এই পুজো শুরু হয়। পুজো চলে মহা নবমী পর্যন্ত।

    গ্রামের সবচেয়ে প্রাচীন পুজো (Durga Puja 2023)

    কয়েক শতাব্দী ধরে এই পুজো চলে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা অনিমেষ মুখার্জি বলেন, এটি গ্রামের সবচেয়ে প্রাচীন পুজো (Durga Puja 2023)। তাঁদের জন্মের আগে থেকে এই পুজো চলে আসছে। পূর্ব পুরুষরা এই পুজো করে আসছেন। এই পুজোর ইতিহাস সঠিকভাবে বলতে না পারলেও, তিনি জানিয়েছেন, কৃষ্ণপক্ষের নবমী থেকে এই পুজো শুরু হয়ে যায়। চলে ১৫ দিন ধরে। ১৫ দিন ধরে হয় পুজোপাঠ, চণ্ডীপাঠ। গ্রামের সকলেই এই পুজোর প্রতি ভক্তিশীল বলেও তিনি জানিয়েছেন। পুজোর যাবতীয় রীতিনীতি যতটা সম্ভব মেনে চলা হয়।

    আনন্দে মেতে ওঠেন স্থানীয় মানুষজন (Durga Puja 2023)

    এই পুজোর পুরোহিত বিপত্তারণ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, পুজোটি (Durga Puja 2023) প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো। এটি একটি সাবেকি পুজো। সর্বজনীন যে সব পুজো হয়, এটা কিন্তু সেরকম নয়। এই পুজোর অনেকজন সেবাইত আছে, তারাই এই পুজোটা করে। এই পুজোর বেশ কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। নিষ্ঠা ভরে এই পুজো করতে হয়। এটি তাঁদের কাছে কোন উৎসব নয়। এটি শুধু তাঁদের কাছে পুজো। এই পুজোয় নবম্যাদি কল্পারম্ভ হয়। অর্থাৎ কৃষ্ণপক্ষের নবমী থেকে মহা নবমী পর্যন্ত এই পুজো চলে। প্রতিদিনই ভোগ হয়, আরতি হয়। দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগে থেকেই গাড়ুই গ্রামের এই আদি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে ওঠেন স্থানীয় মানুষজন। তবে আগে এই মন্দির পুরনো ছিল। পরে সবাই মিলে এর সংস্কার করেছে। ছোঁয়া লেগেছে আধুনিকতার।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: ৮০০ বছরের প্রাচীন জমিদারি বাড়ির পুজোয় মিলল কেন্দ্রের হেরিটেজ তকমা

    Durga Puja 2023: ৮০০ বছরের প্রাচীন জমিদারি বাড়ির পুজোয় মিলল কেন্দ্রের হেরিটেজ তকমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শোনা যায়, রাজা নরপতি ঘোষ এলাকার মানুষজনের মঙ্গল কামনার্থে ৮০০ বছর আগে পাঁচথুপি পুরাতন বাটি চণ্ডী মণ্ডপের এই পুজো চালু করেছিলেন। দিনের হিসেবে প্রাচীনতম না হলেও পাঁচথুপি পুরাতন বাটির পুজোয় (Durga Puja 2023) কেন্দ্রীয় হেরিটেজ তকমা পেয়ে মিলল এক নতুন পালক। এই পুজো নিয়ে জনশ্রুতি অনেক আছে। শোনা যায়, একবার পূজোর সময় এই বাড়িতেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু দেবীর অলৌকিক মহিমায় সেই অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে সবাই রেহাই পান। পরিবারে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। এখানে একসঙ্গে শাক্ত ও বৈষ্ণব মতে দেবীর পুজো হওয়ার কারণে অন্যান্য পুজোর থেকে এই পুজো কিছুটা আলাদা।

    কীভাবে এল হেরিটেজ তকমা? (Durga Puja 2023)

    পরিবারের এক কর্তা জানান, ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রাচীন দুর্গা নিয়ে একটি অনুসন্ধান চালায়। সেখানে এই পুজোর আচার এবং সংস্কৃতিগত তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রককে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছিল। সেখান থেকেই এই পুজোকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গত বছর কলকাতা জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজা নরপতি ঘোষের ৮০০ বছরের আগের এই পুজোকে (Durga Puja 2023) হেরিটেজ সম্মান জ্ঞাপন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বীকৃতিতেই খুশি ঘোষ হাজরা পরিবার। এই পুজোকে হেরিটেজ ঘোষণা করায় তাঁরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রককে।

    বোধন হয় কৃষ্ণা নবমীর দিন (Durga Puja 2023)

    এই পুজোর বোধন হয় কৃষ্ণা নবমীর দিন। চলে দশমী পর্যন্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমিদারি বিলুপ্ত হওয়া সত্বেও তাদের বংশধরেরা আজও এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও বা উনিশ শতকের প্রথম দিকে এই পাঁচথুবিতে ৩০ টি দুর্গাপুজোর অস্তিত্ব ছিল তার মধ্যে ১৩ টি বর্তমানে বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে সর্বজনীন পুজো হিসাবে কিছু পুজো আত্মপ্রকাশ করেছে। এই গ্রামের লৌকিক পুজোর বৈশিষ্ট্য ও প্রতিমার প্রাচীন রীতি ও অনুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য মানুষকে আজও টানে। পাঁচথুপি পুরাতন বাটি চণ্ডী মণ্ডপের দুর্গাপূজো বোধনের দিন থেকে শুরু হয়, এই দুর্গাপুজোয় নবমীর দিন মহিষ বলির প্রচলন আছে বলে জানান প্রদ্যুৎ ঘোষ হাজরা। পাঁচথুপির পুরাতন বাটি চণ্ডী মণ্ডপের দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) আজও তার প্রাচীন নিদর্শন বহন করে চলেছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: তালচিনানের পাঠক বাড়ির দুর্গাপুজোয় বিসর্জনেও থাকে অনন্য বৈশিষ্ট্য

    Durga Puja 2023: তালচিনানের পাঠক বাড়ির দুর্গাপুজোয় বিসর্জনেও থাকে অনন্য বৈশিষ্ট্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ধি পুজোর আগে নিয়ম করে শূন্যে গুলির আওয়াজে মায়ের আগমনী বার্তা (Durga Puja 2023) জানানোই ছিল এই বাড়ির রেওয়াজ। ২২৯ বছরে পড়ল পাঠক বাড়ির দুর্গাপূজা। এই সাবেকি পুজো চালু করেছিলেন তালচিনানের জমিদার কৃষ্ণকান্ত পাঠক। সূত্র অনুযায়ী, বর্ধমান মহারাজার জনার্দন মন্দিরের সেবাইত ছিলেন পাঠকরা। মহারাজা তাঁদের খুশি হয়ে হুগলির তালচিনান গ্রামের জমিদারির স্বত্ব দেন। কৃষ্ণকান্ত পাঠক হয়ে যান তালচিনানের জমিদার। চুঁচুড়া স্টেশন থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে পোলবা-দাদপুর ব্লকের একটি গ্রাম এই তালচিনান। ওই জমিদার বংশের বংশধর রাজকমল পাঠক জানান, কৃষ্ণকান্ত শুধু তালচিনান নয় এরপর ক্রমশ চাঁদপুর, মহেশপুর, হিরণ্যবাটি তৌজির মালিক হয়ে যান। দশ হাজার বিঘা খাস জমি ছিল তাঁদের। ভাবতে পারা যায়! প্রজাদের দেওয়া খাজনায় চলত জমিদারি।

    কুলদেবতা জনার্দন

    পাঠকদের কুলদেবতা জনার্দন। তাই জমিদারির পাশাপাশি জনার্দনের মন্দিরও গড়ে ওঠে। কৃষ্ণকান্ত জমিদারি পেয়েই দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) চালু করেন। তবে জনার্দনের পূজারি হওয়ায় এখানে পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। আজও তালচিনানে পাঠক বাড়ির দুর্গাপুজো দেখতে ভিড় করেন গ্রামের পর গ্রামের মানুষজন। আসলে এঁরাই ছিলেন এক সময় এই জমিদারের প্রজা। বছরভর এই পাঠকবাড়ি সুনসান থাকলেও পুজোর কটা দিন প্রায় সমস্ত আত্নীয়স্বজন চলে আসেন। ভবনের খান বত্রিশেক ঘর তখন গমগম করে। বাড়ির সামনে বিশাল দুর্গা দালান, সেখানে তিনখিলানের মাঝে একচালা কাঠামোয় দেবী বিরাজ করেন। কথিত আছে এই পুজোর শুরু থেকে আজ অবধি কাঠামোর কোনও পরিবর্তন হয়নি। এখানে বলি হয় তবে আখ, চালকুমড়ো, বাতাবি লেবু, শসা ভিন্ন কিছু নয়। অষ্টমী-নবমীতে কুমারী পুজোর প্রচলনও আছে।

    অদ্ভুত এক মানসিক শান্তি

    এই জমিদার বাড়িতে অদ্ভুত একটা মানসিক শান্তি বিরাজ করে। নিস্তব্ধ নিঝুম মহলের চারপাশে পায়রার বক বকম…। মনটা যেন ফিরে যেতে চায় পিছনে, আরও পিছনে। “আসলে আমি ছাড়া আর কেউ আসে না এই বাড়িতে পুজোর সময়টুকু ছাড়া। প্রত্যেকেই বাইরে থাকেন, কেউ রাজ্যের, কেউ দেশের। সময় কোথায়? তাই আমিই মাঝে মাঝে কলকাতা থেকে ছুটে আসি। কাটিয়ে দিই কয়েকটা দিন।” জানালেন রাজকমল পাঠক। তিনি বলেন, যে রীতি পূর্বপুরুষরা করে গিয়েছিলেন, সেই রীতিই যতটা সম্ভব আমরা পালন করি। যেমন এই জমিদার বাড়িরই নিজস্ব পুকুর থেকে মাটি এনে দেবীর মূর্তি (Durga Puja 2023) গড়া হয়। পুরোহিত বংশ সেই একই। আগে বাড়ির দোনলা বন্দুক থেকে তোপ ফাটানো হত সন্ধিক্ষণে, এখন আমার লাইসেন্স প্রাপ্ত বন্দুক থেকে ফাটাই। পুজোর প্রতিটা দিন আমাদের কাছে বিশেষ দিন।

    নিরঞ্জনেরও কিছু বৈশিষ্ট্য

    ষষ্ঠীর (Durga Puja 2023) দিন বোধন। ওইদিন পরিবারের সদস্যরা সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। সপ্তমীর দিন আমিষ হয়। আগে নিজেদের পুকুর থেকে মাছ ধরে খাওয়ানো হত। এখন পুকুর লিজে দেওয়ার ফলে বাজার থেকেই কাতলা মাছ এনে এই গ্রামের জ্ঞাতি, ব্রাম্ভণরা এখানে ভুরিভোজ করেন একসঙ্গে। অষ্টমীর দিন গ্রামের মহিলারা এখানে দুপুরে লুচি খান। নবমীতে বর্গক্ষত্রিয়রা আসেন। দশমীতে থাকে লুচি, বোঁদে আর সিদ্ধি। ঠাকুর বরণের পর হয় সিঁদুর খেলা। তাতে গ্রামের মহিলারাও যোগ দেন। পাঠকবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জনেরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। বাঁশের মাচায় তোলা হলে গ্রামের বর্গক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের মানুষজন কাঁধে করে প্রতিমা গোটা গ্রাম ঘুরিয়ে স্থানীয় পুকুরে বিসর্জন দেন। পাঠক বাড়ির প্রতিমা বিসর্জন না হলে গ্রামের অন্য কোনও প্রতিমার বিসর্জন হয় না। এটাই এই গ্রামের রীতি। এটাই পুরনো জমিদারবাবুদের প্রতি গ্রামের মানুষের শ্রদ্ধা। আর এইভাবেই চলে আসছে বাংলার বনেদি বাড়ির পুজো। জমিদারি প্রথা উঠে গেলেও জমিদারি রীতিনীতি এখনও প্রাণপণে রক্ষা করতে মরিয়া উত্তরসূরিরা।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: হাওড়ায় এই বাড়ির দুর্গাপুজোতেই আসতেন ঠাকুরবাড়ির সরলা দেবী চৌধুরানী

    Durga Puja 2023: হাওড়ায় এই বাড়ির দুর্গাপুজোতেই আসতেন ঠাকুরবাড়ির সরলা দেবী চৌধুরানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ‍্য হাওড়ার ২৮ নম্বর কালী কুণ্ডু লেনের প্রাচীন বন্দ‍্যোপাধ্যায় পরিবারের বাড়িটির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সেই একই রয়ে গিয়েছে মন্দির এবং চাতাল নিয়ে উঠোনটি, যে মন্দিরে সাবেকি আদলে ১১৫ বছর ধরে পূজিতা হচ্ছেন মৃন্ময়ী মা দুর্গা। এই পুজোর (Durga Puja 2023) প্রতিষ্ঠাতা বিংশ শতাব্দীর এক ঋজুদেহী, পৌরোহিত‍্যে মৌলিকতার অনুষঙ্গী বিজয়কৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়। হুগলির বাসিন্দা বিজয়কৃষ্ণই হাওড়ার কালি কুণ্ডু লেনে নিবারণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এই পুজো প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ ভারতে অখণ্ড বঙ্গদেশের অন্তত দশ-দশটি জেলার পুণ‍্যার্থীরা আসতেন এই পুজো দেখতে। আসতেন প্রতিষ্ঠিত ব‍্যক্তিরাও। যেমন আসতেন ঠাকুরবাড়ির সরলা দেবী চৌধুরানী। রবীন্দ্রনাথের ভাগ্নী ১৯৩৫ থেকে ১৯৪৪ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কখনও দুর্গাপুজোয়, কখনও জগন্মাতা পুজোয় উপস্থিত হতেন।

    সরলা দেবী চৌধুরানীর পরিচয়

    এই বাড়িতে ‘জগন্মাতা’ পুজোও হয়ে এসেছে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত। পরে সেটি স্থানান্তরিত হয় কালী ব‍্যানার্জি লেনের ‘মাতৃ মন্দিরে’। যে সরলা দেবী স্বদেশি যুগে পঞ্জাবের শ্বশুরবাড়ি থেকে জালিয়ানওয়ালাবাগের হত‍্যাকাণ্ডের বিবরণ নিজের গানের স্বরলিপির মধ‍্যে সুকৌশলে এই বাংলায় পৌঁছে দেন, যিনি মা স্বর্ণকুমারী দেবীর ‘সখি সমিতি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল’ গঠনে সদর্থক ভূমিকা পালন করেছিলেন, সকল মহিলাদের অন্তঃপুরে থেকেও ক্ষমতাবান করে তোলার প্রচেষ্টায় যিনি নিয়ত থেকেছেন, যিনি নিরাকার ব্রাহ্ম আবহে মানুষ হওয়া ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত ঠাকুরবাড়ির বিদূষী প্রতিনিধি, তিনি কেমনভাবে সাকার দেবীর পুজোয় অংশগ্রহণ করেন, তা এখনও অনেকের কাছে বিস্ময় বলে মনে করেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অনুপম মুখোপাধ্যায়। যিনি ৭২ বছর বয়সেও নিয়মিত এই পুজোয় (Durga Puja 2023) অংশ নেন। অনুপমবাবু বলেন, আদপে ওই মাথা উঁচু করে চলা সরলা দেবী ১৯৩৫ সালেই জীবনবোধের কিছু মূল প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এই দুর্গাপুজোর প্রবর্তকের কাছে। যিনি প্রতি বছর এই পুজোতে হাজির হতেন ও লিখে রাখতেন বিজয়কৃষ্ণের উপদেশাবলী ও বিজয়কৃষ্ণের দুর্গাপুজো পদ্ধতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমার হাত থেকে বাঁচাতে শ্রুতিলিখনে সংগৃহীত সেই উপদেশাবলী লুকিয়ে রেখেছিলেন ব‍্যাঙ্কের ভল্টে। পরে যেগুলি পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়।

    কারা আসতেন এই পুজোয়? (Durga Puja 2023)

    সরলাদেবীর সঙ্গে কোনওবার হায়দরাবাদ নিজামের প্রধান সরকারি কর্মচারী, কোনওবার কলকাতার বিজ্ঞান সভায় যোগ দিতে আসা বিদেশি বিজ্ঞানীরা চলে আসতেন এই পুজো প্রাঙ্গনে পুজো দেখতে। যেমন স্বতন্ত্রভাবে আসতেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, সেরাইকেলার রাজারা, বিখ্যাত ডাক্তার থেকে মহিলা শিল্পীরা, ঢাকার বিখ্যাত পরিবার ভাগ‍্যকুলের রায়েরা কিংবা ব্রিটিশ পুলিশের জাঁদরেল আইবি অফিসার। ঘটনাচক্রে ওই প্রাঙ্গনেই হাওড়ার জাতীয়তাবাদী অনুশীলন সমিতির সদস‍্যরাও অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে পুজো নিবেদন করতেন ধরা পড়ার ভয়ে। সাত ঘড়া পবিত্র জলে মৃন্ময়ী দেবীকে স্নান করানো হত, যা এখনও হয়। এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা বিজয়কৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় নিজেই পুজো (Durga Puja 2023) করতেন তাঁর সৃষ্ট সংস্কৃত মন্ত্র ও সঙ্গে বাংলা তর্জমায়। যা বিজয়কৃষ্ণের থেকে শুনে পরবর্তীকালে বই আকারে লিখে রেখেছিলেন সরলা দেবী। এখনও সেই বই মেনেই পুজো হয় এখানে।

    বাসন্তী রঙের ত্রিনয়নী মূর্তি (Durga Puja 2023)

    বিংশ‍ শতাব্দীর প্রথম দশকে বিজয়কৃষ্ণের গীতার যৌগিক ব‍্যাখ‍্যা সাড়া ফেলেছিল বঙ্গ যুবদের মধ‍্যেও। তৎকালীন বাংলা পারিবারিক ইতিহাসেও তা মুদ্রিত হয়েছিল। এই বংশের বর্তমান সদস্য বিজয়কৃষ্ণের সুযোগ্য শিষ্য দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাতি চণ্ডীদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজয়কৃষ্ণ একজন পণ্ডিত মানুষ ছিলেন। যিনি হুগলি জেলার বাসিন্দা হলেও কলকাতায় চাকরি সূত্রে হাওড়ায় থাকতেন। দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা নিবারণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সদর ঘরে প্রতিদিন গীতা পাঠ করতেন। সেখানেই তিনি প্রথমে ঘটপুজো চালু করেন। পরে নিবারণবাবুর স্ত্রী শরতসুন্দরী দেবীর চোদ্দ টাকা আর্থিক সাহায্যে মাটির প্রতিমা এনে পুজো (Durga Puja 2023) শুরু করেন। বর্তমানে একই ধরনের জটাধারী বাসন্তী রঙের ত্রিনয়নী মূর্তি প্রতি বছর পুজো হয়। পুজোর মাস খানেক আগে থেকেই শুরু হয় মূর্তি তৈরির কাজ। প্রতিমাকে চার দিনই স্নান করিয়ে নতুন বেনারসি কাপড় পরানো হয় এবং ফুল দিয়ে সাজানো হয়। সন্ধি পুজোয় মাকে চামুন্ডা কালী রূপে পুজো করা হয়।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: দেবীপক্ষের আগেই ঝাড়গ্রামের মল্লদেব রাজ পরিবারের দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গেল

    Durga Puja 2023: দেবীপক্ষের আগেই ঝাড়গ্রামের মল্লদেব রাজ পরিবারের দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষের আগেই ঝাড়গ্রাম শহরের পুরাতন ঝাড়গ্রামের মল্লদেব রাজ পরিবারের দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) শুরু হল। আশ্বিন মাসের জীতাষ্টমীর পরের দিন কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে অর্থাৎ শনিবার থেকেই শুরু হল দুর্গাপুজো। চলবে বিজয়া দশমী পর্যন্ত। প্রায় চারশো বছর ধরে চলে আসছে এই প্রথা। তবে এখানে দেবী হল পটেশ্বরী। এদিনই রাজ পরিবারের কূলদেবতার মন্দির থেকে প্রাচীন একটি খড়্গ নিয়ে এসে পুজো শুরু হয়। এই অস্ত্রপুজোর মাধ্যমে দেবী দুর্গার পুজো শুরু হয়।

    চারশো বছরের পুরনো হলেও ইতিহাস অজানা

    রাজ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজবাড়ির সেই দস্তাবেজে পুজো শুরুর আনুমানিক সনের উল্লেখ ছিল ১০১৬ বঙ্গাব্দে। সেই অনুযায়ী এবার পুজোর ৪১৬ তম বর্ষ। ঝাড়গ্রাম রাজ পরিবারের এই পুজো অনুমানিক চারশো বছরের পুরনো হলেও পুজো শুরুর ইতিহাস অজানা। এখানে রয়েছে রাজবংশের কয়েক শতাব্দীর প্রাচীন কুলদেবী সাবিত্রী দেবীর মন্দির। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে পৃথক চণ্ডীমণ্ডপ। সেখানেই পটে আঁকা ছবিতে দুর্গাপুজো হয়। কুলদেবী সাবিত্রীর নিত্যপুজো হয় দুর্গার ধ্যানমন্ত্রে। সেই জন্য কুলদেবী থাকায় আলাদা প্রাচীন পটটি ছিল শালপাতার ঝালরের আঁকা। বর্তমানে চণ্ডীমণ্ডপের বেদীর সামনে দেওয়ালে চিত্রিত দেবীর পটে নবকলেবর করা হয়। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের জীতাষ্টমী তিথিতে সাবিত্রী মন্দিরের প্রাঙ্গণে বেলগাছের তলায় মঙ্গলঘট স্থাপন করা হয়। একে অধিবাস বলে। জীতাষ্টমীর পরের দিন কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথি থেকে পুজো (Durga Puja 2023) শুরু হয়। নবমী তিথি থেকেই আবার অস্ত্রপুজো শুরু হয়।

    দেবীপক্ষের আগে কেন পুজো শুরু?

    তবে দেবীপক্ষের আগে কেন পুজো শুরু হল, তা নিয়ে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। জনশ্রুতি, কয়েকশো বছর আগে গড় ঝাড়গ্রামের জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে হারিয়ে রাজ্যপাট দখল করেন রাজপুতানার সর্বেশ্বর। তাঁর রাজ্যাভিষেকের দিনটিকে স্মরণ করে রাখার জন্য ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে ইন্দ্রাভিষেক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জনশ্রতি, সেই উৎসবের রেশ ধরেই আশ্বিন মাসে পরিবারের সমৃদ্ধি ও প্রজাদের মঙ্গলকামনায় রাজবাড়িতে জীমূতবাহন অর্থাৎ ইন্দ্রের পুজো হয়। এর পাশাপাশি, শক্তিলাভের কামনায় জীতাষ্টমীর পর দিন কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে অস্ত্রপুজোর মাধ্যমে দেবী দুর্গার পুজো শুরু হয়। আবার মহাষষ্ঠীর দিন রাতে বেলগাছের তলায় মঙ্গলঘট স্থাপন করা হয়। তারপর সপ্তমীর দিন সকালে শোভাযাত্রা সহকারে খড়্গ, রাজলক্ষ্মী, শালগ্রাম শিলা ও ঘট মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় (Durga Puja 2023)।

    প্রাচীন খড়্গ নিয়ে এসে পুজো শুরু

    রাজ পরিবারের উত্তরসূরী দুর্গেশ মল্লদেব ও জয়দীপ মল্লদেব বলেন, কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে রাজ পরিবারের প্রাচীন খড়্গ নিয়ে এসে পুজো (Durga Puja 2023) শুরু হয়। রাজ পরিবারের এই পুজোটি ঝাড়গ্রামে সবচেয়ে প্রাচীন। রাজ পরিবারের নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন দেবীর পুজো ও চণ্ডীপাঠ-হোম চলবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: চাঁদপাল ঘাটের সঙ্গে বাঁকুড়ার সোমসারের মেলবন্ধন ঘটায় পালবাড়ির দুর্গাপুজো

    Durga Puja 2023: চাঁদপাল ঘাটের সঙ্গে বাঁকুড়ার সোমসারের মেলবন্ধন ঘটায় পালবাড়ির দুর্গাপুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর (Durga Puja 2023) কটা দিন জমিদার বাড়ি সেজে উঠত আলোর রোশনাইয়ে। নহবতের মূর্ছনা আর ঢাকের বাদ্যিতে মুখর হত ঠাকুর দালান। থাকত যাত্রাপালা, কবিগান, রামলীলা, পুতুল নাচের আসর। এখন সে সব অতীত। জমিদারির রমরমা আর নেই। নেই আগের মতো পুজোর জৌলুস। তবে পরম্পরা মেনে আজও পাল পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম ফি বছর ব্রতী হন দেবী দুর্গার আরাধনায়। গত কয়েক বছর কোভিডের জেরে এই পুজোর ছন্দপতন ঘটেছিল। গত বছর থেকে পুরনো ছন্দে ফেরা শুরু। এবার স্বাভাবিক ভাবেই পুজোর আয়োজনে খানিক জৌলুস বাড়াতে চাইছেন পাল পরিবারের সদস্যরা।

    ইট, কাঠ, পাথরে জমিদারির সাক্ষ্য

    জেলার অন্যতম প্রাচীন এই জমিদার বাড়ির পুজোর (Durga Puja 2023) সঙ্গে রয়েছে কলকাতার চাঁদপাল ঘাটের যোগসূত্র। কথিত আছে, যার নামে চাঁদপাল ঘাট, তাঁর পোশাকি নাম চন্দ্রমোহন পাল। তিনিই সোমসারের এই দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন৷ এই চন্দ্রমোহন পাল সেই সময় কলকাতায় বিলিতি কাপড়ের ব্যবসা করে ফুলে-ফেঁপে উঠেছিলেন। তিনিই কাপড়ের ব্যবসার জন্য গঙ্গায় গড়ে তুলেছিলেন ফেরি ঘাট, যা বর্তমানে চাঁদপাল ঘাট নামে পরিচিত। চন্দ্রমোহনবাবুই আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর আগে বর্ধমান রাজাদের কাছ থেকে ইন্দাসের ৬ টি মৌজা কিনে নিয়ে জমিদারির পত্তন করেন। সোমসারে গড়ে তোলেন সুবিশাল জমিদার বাড়ি। সেই বাড়ি আজও ইতিহাস বহন করে চলেছে। তবে সেই বাড়ি জুড়ে বয়সের ছাপ স্পষ্ট। ২৫০ বছরের পুরনো এই বাড়ির প্রতিটি ইট, কাঠ, পাথর জমিদারির সাক্ষ্য বয়ে চলেছে আজও। চন্দ্রমোহন পাল সেই সময় সোমসারের প্রজাদের জন্য দামোদর ঘাটে কলকাতা থেকে পুজো উপলক্ষ্যে বিলিতি কাপড় আনতেন এবং বিলি করতেন গ্রাম জুড়ে।

    অষ্টমী ও নবমীতে মাসকলাই বলি (Durga Puja 2023)

    চন্দ্রমোহনের আমল থেকে এখানে হিন্দু, মুসলিম সকলেই সমান ভাবে অংশ নেন পুজোর উৎসবে। ফলে পুজোর (Durga Puja 2023) চার দিন মিলন মেলায় পরিণত হয় সোমসারের পালবাড়ির ঠাকুর দালান। পালবাড়ির সকল সদস্য, আত্মীয়স্বজন সবাই পুজোর কটা দিন সোমসারে আসেন। এই পরম্পরা সমানে চলে আসছে। সোমসার পালবাড়ির অন্যতম সদস্য উদয়কুমার পাল তাঁর ছোটবেলার পুজোর স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বলেন, ছোটবেলায় এই পুজোর যে জৌলুস ও জাঁকজমক ছিল, তা দিন দিন ফিকে হয়ে আসছে। তবে সেই পুজোর গোড়পত্তনের দিন থেকে একই নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে পুজো চলে আসছে। সেই রীতি মেনে এখনও অষ্টমী ও নবমীতে মাসকলাই বলি দেওয়া হয়। এখন পঞ্জিকা দেখে বলিদান হলেও আগে বর্ধমানের রাজবাড়ির সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দিরের তোপধ্বনি শুনে সন্ধিক্ষণ নির্ধারণ করা হত। এখন অবশ্য সেই প্রথার বিলুপ্তি ঘটেছে। তবে, পাল পরিবারের দেশে-বিদেশে যেখানে যাঁরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন, তাঁরা এই দুর্গাপুজোর সময় এসে মিলিত হন। ফলে কার্যত এই পুজো চাঁদপাল ঘাটের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটায় সোমসারের। জমিদারি নেই, নেই এই পুজোর আগের মতো আড়ম্বর। তবে জমিদারির ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবার এখানে পুজোর বাদ্যি বেজে ওঠে। এবারও পাল বাড়িতে মা আসছেন। চলছে সাজ সাজ রব।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share