Tag: bonedi barir pujo

bonedi barir pujo

  • Durga Puja 2023: পাঁচথুপির সিংহবাহিনী বাড়ির দুর্গাপুজোয় নবমীতে হয় মহিষ বলি

    Durga Puja 2023: পাঁচথুপির সিংহবাহিনী বাড়ির দুর্গাপুজোয় নবমীতে হয় মহিষ বলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে একটি ছোট্ট গ্রাম, নাম তার পাঁচথুপি। এই গ্রামের অন্যতম প্রধান উৎসব হল সিংহবাহিনী বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023)। শোনা যায়, এই পুজো সাতশো বছরের পুরনো। এই গ্রামে ২২ টি দুর্গাপুজো হত, তার মধ্যে ষোলটি পারিবারিক। এদের বংশধরদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৩৪৯ বঙ্গাব্দে এই মন্দিরটির নির্মাণ করেন হরিপদ ঘোষ হাজরা। তারপর জমিদার পরিবারের ষষ্ঠ পুরুষ দেবী দাস ঘোষ হাজরা আনুমানিক ১৭ শতকে হুগলি জেলার পাণ্ডুয়া থেকে অষ্টধাতু নির্মিত দেবী সিংহ বাহিনীকে প্রতিষ্ঠা করেন।

    ১২৫ ফুট উঁচু সুদৃশ্য মন্দির

    যে মন্দিরে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়, সেটি ১২৫ ফুট উঁচু সুদৃশ্য এবং ত্রিতল বিশিষ্ট। মন্দিরের প্রথম দুটি তল অষ্টকোণ বিশিষ্ট, দোতলায় হচ্ছে মূল মন্দিরটি। আর তৃতীয় তলটি অষ্টকোণ বিশিষ্ট সরু হয়ে চূড়ার সৃষ্টি করেছে। সেই চূড়ার উপরে আমলোক এবং পতাকা দণ্ড। অষ্টধাতু নির্মিত দেবী এই পরিবারের গৃহদেবতা, যেটি প্রতিদিন পুজো (Durga Puja 2023) করা হয়। বাড়ির বর্তমান সদস্যরা জানিয়েছেন, অষ্টধাতুর মূর্তির সঙ্গে দুর্গোৎসবে মাটির প্রতিমা দেবী দুর্গা পূজিতা হন। এখানে বোধনের আগের দিন জীতাষ্টমী থেকে পুজোর সূচনা হয় এবং দশমীর দিনে প্রতিমা নিরঞ্জন।

    চতুর্দশীর দিন মায়ের পুজো শেষ (Durga Puja 2023)

    অতীতে জমিদারি প্রথা অনুযায়ী দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হলেও আজ তা সবই অতীত। সপ্তমীর দিন মধ্যরাত্রিতে পুজো হয়। বিশেষত্ব ঢাক-কাঁসর না বাজিয়ে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। যদিও পুজোপাঠ সার্ত্যক মতে হয়, তবুও প্রতিদিন পায়েস ভোগ দেওয়া হয়। এছাড়া পুজোর চার দিন দেবীর পুজোপাঠের জন্য সমস্ত নতুন পিতলের বাসন ব্যবহার করা হয়। এই বাসন প্রতিদিনই নতুন দেওয়া হয় বলে জানান বাড়ির সদস্যরা। এই সিংহবাহিনীর পুজোয় (Durga Puja 2023) অষ্টমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন দুটি করে ছাগ বলি হয়, নবমীর দিন এখানে মহিষ বলির প্রচলন আছে। দশমী পুজোর বিসর্জনের পর বাড়িতে এসে অপরাজিত পুজো অনুষ্ঠিত হয়। চতুর্দশীর দিন মায়ের পুজো শেষ হয়। ওইদিনও ছাগ বলি হয়। এই পুজোকে কেন্দ্র করে পরিবারের সকল সদস্য, এমনকি যাঁরা বাইরে থাকে, সবাই একত্রে মিলিত হন। শুধু তাই নয়, এই পুজোকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক গ্রামের লোকজনের ভিড় থাকে সব সময়।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: বারুইপুরের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজোয় এসেছিলেন তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং

    Durga Puja 2023: বারুইপুরের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজোয় এসেছিলেন তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমিদারি প্রথা চলে গিয়েছে। কিন্তু আজও জমিদারি প্রথার রীতি বহন করে ১৪১ বছর ধরে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) হয়ে আসছে বারুইপুরের রামনগরের ঘোষবাড়িতে। ইংরেজ আমলে তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং ছিলেন জমিদার নরেন ঘোষের অতি ঘনিষ্ঠ। তাই ক্যানিং যাওয়ার পথে দুর্গাপুজোয় এসেছিলেন লর্ড ক্যানিং। পুজোয় কয়েক ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। ছাগ বলি প্রথা বন্ধ হয়ে গেলেও নিয়ম করে আখ, চালকুমড়ো বলি হয়ে আসছে পুজোয়। অষ্টমীর দিন ঘোষবাড়ির পুজোয় নিরামিষ আহার খেতেই ভিড় জমান গ্রামের লোকজন, এমনই বললেন পরিবারের প্রবীণ সদস্য মলয় ঘোষ।

    ইংরেজ আমলে ঘোষবাড়িতে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023)

    রামনগরের ঘোষ বাড়ির প্রথম জমিদার ছিলেন কৈলাস ঘোষ। তাঁর নামানুসারে বাড়ির নাম কৈলাস ভবন। কৈলাসবাবুর ছেলে নরেন ঘোষ ইংরেজ আমলে ঘোষবাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন। বাড়ির দুর্গা দালানে এখন চলছে প্রতিমা তৈরির জোর প্রস্তুতি। কয়েকদিন পরেই সাজ সাজ রব পড়ে যাবে জমিদার বাড়িতে। কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন ঘোষ পরিবারের সদস্যরা। সবাই পুজোর কয়েকদিন মিলিত হয়ে যান ঘোষবাড়ির দুর্গা দালানে (Durga Puja 2023)। আগে ষষ্ঠীর দিন রাঁধুনি সোনা ঠাকুরের কচু, দেশি চিংড়ির ঝোল রান্না খেতে প্রচুর মানুষের সমাগম হত। অষ্টমীর দিন এখনও নিরামিষ লুচি, ফুলকপির ডালনা খেতে গ্রামের মানুষজন আসেন। তবে সংখ্যা কিছুটা কমেছে। সপ্তমী থেকে দশমী চালকুমড়ো বলি হয়। সন্ধি পুজো দেখতেই আশপাশের গ্রামের মহিলারাও জড়ো হয়ে যান।

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে পুজো (Durga Puja 2023)

    প্রবীণ সদস্য মলয় ঘোষ বলেন, ইরেজ আমলে বারুইপুর থেকে ক্যানিং যাওয়ার রাস্তা ছিল মাটির। তাই ক্যানিং যাওয়ার সময় বড়লাট লর্ড ক্যানিং তাঁর ফিয়ট গাড়ি বাড়ির পিছনে রেখে দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ক্যানিং যেতেন। পূর্বপুরুষ নরেন ঘোষের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় দুর্গাপুজোয় তিনি বাড়িতে এসে পুজো দেখেওছিলেন। এছাড়া প্রায় সময়ই ইংরেজ সাহেবরা তাঁদের গাড়ি রাখার জন্য আসতেন বাড়িতে। পরিবারের আর এক সদস্য প্রিয়জিত সেন বলেন, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে আমাদের পুজো (Durga Puja 2023) হয়ে আসছে। জমিদারি প্রথার রীতি মেনেই বিসর্জনের দিন কাঁধে করেই ঢাক ঢোল বাজিয়ে মাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির পুকুরে। সেই পুকুর হেদুয়ার পুকুর বলে এলাকায় পরিচিত। এই পুকুরেই ইংরেজ সাহেবরাও স্নান করতে আসতেন।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: কান্দির দত্ত পরিবারের পুজোয় অন্ন নয়, মাকে ৩ দিনই দেওয়া হয় লুচি ভোগ

    Durga Puja 2023: কান্দির দত্ত পরিবারের পুজোয় অন্ন নয়, মাকে ৩ দিনই দেওয়া হয় লুচি ভোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির জজান গ্রামে দত্ত পরিবারের দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) এবার ১৮৫ বর্ষে পদার্পণ করল। কথিত আছে, তৎকালীন সময়ে প্রাণকৃষ্ণ দত্ত নামে এক বণিক ভরতপুরের ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে দেবী দশভূজার স্বপ্ন দেখতে পান। তারপরই তিনি এই দুর্গাপুজো শুরু করেন। সেই সময় থেকে এই ২০২৩ সাল পর্যন্ত উমা বন্দনায় মেতে ওঠে গোটা জজান গ্রাম সহ পারিপার্শ্বিক গ্রামগুলি।

    মা দুর্গার বাহন নৃসিংহ (Durga Puja 2023)

    মা দুর্গার বাহন আমরা জানি সিংহ। কিন্তু এখানে মা দুর্গার বাহন নৃসিংহ বা নরসিংহ অবতার। সাবেকি মূর্তিতে প্রথম থেকেই এই দেবীকে পুজো করার রীতি চলে আসছে বলে জানান অসিতকুমার দত্ত। এই পুজোয় আজ পর্যন্ত বনেদিয়ানার ছাপ (Durga Puja 2023) স্পষ্ট। পুজোকে কেন্দ্র করে দত্ত বাড়ির সঙ্গে এলাকার মানুষের উদ্দীপনা থাকে দেখার মতো। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বোধনের দিন থেকে নবমীর দিন পর্যন্ত প্রতিদিন দু’বেলা করে টেকরা বাজে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের বাজনা অনেক জায়গায় দেখতেই পাওয়া যাবে না। টেকরা এক ধরনের বাজনা, ওর সঙ্গে থাকে সানাই।

    কোনও অন্ন ভোগের ব্যবস্থা নেই (Durga Puja 2023)

    এই দুর্গাপুজোয় কোনও অন্ন ভোগের ব্যবস্থা নাই। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী- দু’বেলা মাকে লুচি ভোগ এবং ওর সঙ্গে সাত রকম ভাজা দেওয়া হয়। এখানের পুজো পুরোপুরি বৈষ্ণব মতে হয়। প্রবীর দত্ত নামে এক সদস্য জানান, মায়ের পুজোর এই তিন দিন মা দুর্গাসহ সাত জনকে প্রতিদিন শরবত দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কোনও অতিথি বাড়িতে এলে আমরা যেমন প্রথমেই তাঁকে শরবত দিই, ঠিক তেমনি মা বাড়িতে আসার কারণে তাঁদেরকে শরবত দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, বিসর্জনের (Durga Puja 2023) সময় ৩০-৪০ জন মানুষ কাঁধে করে মাকে নিয়ে যাবেন। তারপর সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সামনে পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: পুত্রকন্যা নয়, দেবী দুর্গা ঘটক পরিবারের পুজোয় আসেন জয়া-বিজয়ার সঙ্গে

    Durga Puja 2023: পুত্রকন্যা নয়, দেবী দুর্গা ঘটক পরিবারের পুজোয় আসেন জয়া-বিজয়ার সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উমা আসছেন ঘরে ঘরে (Durga Puja 2023)। শিউলির গন্ধ আর কাশফুলের শুভ্রতায় প্রকৃতিও আহ্বান করতে প্রস্তুত ঘরের মেয়ে উমাকে। কৈলাস থেকে সপরিবারে আসছেন দেবী দুর্গা বাঙালির মন্দিরে মন্দিরে। কিন্তু মলানদিঘির ঘটক পরিবারের দেবী দুর্গা পুত্রকন্যাদের সঙ্গে নয়, দুই সখী জয়া-বিজয়ার সঙ্গে আসেন এবং চারদিন ধরে ধুমধামের সঙ্গে পূজিতা হন। কিন্তু এমন কেন? পুত্র-কন্যা নয়, দুই সখী জয়া-বিজয়া কেন? প্রশ্নের উত্তরে দুই প্রবীণ সদস্য গিরিজাশঙ্কর ভট্টাচার্য এবং শ্যামাচরণ ভট্টাচার্য বলেন, “দেবীর সৃষ্টির মধ্যেই এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। দেবীর সৃষ্টি হয় ধ্যানের মন্ত্রের মধ্য দিয়ে, সেই সময় তাঁর পুত্রকন্যাদের সৃষ্টি হয়নি। দেবী মহিষাসুর বধে যান তাঁর দুই সখী জয়া-বিজয়াকে নিয়ে। দেবীর রণংদেহী মূর্তির আরাধনা করা হয় তাই পুত্রকন্যাদের সঙ্গে নয়, তাঁর সঙ্গে থাকেন দুই সখী”।

    ভট্টাচার্য কীভাবে হয়ে গেল ঘটক?

    কাঁকসা থানার মলানদিঘির ঘটক পরিবার। আসলে এই পরিবারের আদি পদবী ছিল ভট্টাচার্য। হেতমপুরের মহারাজা মলানদিঘির ভট্টাচার্য পরিবারকে সংস্কৃত ভাষায় শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত হওয়ার জন্য ঘটক পদবী উপাধি হিসাবে দেন। সেই থেকেই এই পরিবার মলানদিঘির ঘটক পরিবার (Durga Puja 2023) নামেই পরিচিত। মলানদিঘির ঘটক পরিবার সংস্কৃত ভাষায় পণ্ডিত পরিবার। এই পরিবারের এক গর্বের ইতিহাস রয়েছ। শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত পরিবারের ইতিহাস গর্বে ভরিয়ে দেয় জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের। শ্যামাচরণ ভট্টাচার্যের পিতা ছিলেন কাব্যতীর্থ অন্নদাচরণ ভট্টাচার্য আর গিরিজাশঙ্কর ভট্টাচার্যের পিতা ছিলেন সপ্ততীর্থ বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য। বিদ্যাসাগর মহাশয় তখন বিধবা বিবাহ নিয়ে বিভিন্ন শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতের কাছে মতামত নিচ্ছিলেন, সেই সময় বিদ্যাসাগর মহাশয় মলানদিঘির ঘটক পরিবারের বিখ্যাত শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত ন্যায়রত্ন তর্কালঙ্কার বিষ্ণুপদ ভট্টচার্য মহাশয়ের কাছে পরামর্শ চেয়ে চিঠি পাঠান। বিষ্ণুপদ ভট্টাচার্য শাস্ত্র ব্যাখ্যা করে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে দেখান বিধবা বিবাহ হিন্দু শাস্ত্রমতে শাস্ত্রসম্মত। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার পত্রালাপ হয় উভয়ের মধ্যে। জানা গিয়েছে, সেই চিঠি আর এখন ঘটক পরিবারের হাতে নেই। পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক সেই চিঠিগুলি গবেষণার জন্য নিয়ে যান। কিন্তু তারপরে আর ফেরত দেননি তিনি। এভাবেই মহামূল্যবান চিঠি হাতছাড়া হয়ে যায় ঘটক পরিবারের সদস্যদের হাত থেকে।

    আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরনো (Durga Puja 2023)

    মলানদিঘির ঘটক পরিবারের দেবী দুর্গা ঠিক কত বছরের, তা পরিবার সূত্রে বলা সম্ভব হয়নি। অনুমান ৪০০ বছরের কাছাকাছি তাঁদের পরিবারের এই দেবী দুর্গা। কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তারও কোনও ইতিহাস নেই বর্তমান প্রজন্মের কাছে। ঘটক পরিবারের দেবীর আরাধনা (Durga Puja 2023) সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিবারের দেবীর আরাধনায় শুদ্রজাত কোনও ব্যক্তির দান গ্রহণ করা হয় না। সপ্তমীর দিন নবপত্রিকা আনা হয়। পরিবারের নিজস্ব তালপাতার পুঁথি থেকে পাঠ করা হয় মন্ত্র। এই মন্ত্র আসলে ধ্যান মন্ত্র। মহাষ্টমীতে সন্ধীপুজোর আগে এক চক্রাকারের ভিতরে প্রাকৃতিক রঙে আটতি পদ্ম আকারের পাপড়ি আঁকা হয়। এই সময় তালপাতার পুঁথি থেকে ধ্যান মন্ত্র পাঠ করা হয়। এরপরে বলি দেওয়া হয় চালকুমড়ো এবং আখ। পুর্বে ঘটক ছাগবলির প্রথা ছিল। কিন্তু প্রায় ৫৫ বছর আগে অন্নদাচরণ ভট্টাচার্য এই ছাগবলি প্রথা তুলে দিয়ে চালকুমড়ো বলি প্রথা নিয়ে আসেন। পরিবারের গৃহবধূদের মধ্যে সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীতে সিঁদুর খেলার প্রচলন আছে। সপ্তমীতে নবপত্রিকা আসার পরে, অষ্টমীতে বলির পরে এবং বিজয়াতে নিরঞ্জনের জন্য বরণের পরে। মহিলারা নবপত্রিকা নিরঞ্জনের পরে নবপত্রিকার ভিতরে থাকা হলুদ প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করেন।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: আউশগ্রামের কালিকাপুর রাজবাড়ির পুজোয় বোধন হয় ১৩ দিন আগে!

    Durga Puja 2023: আউশগ্রামের কালিকাপুর রাজবাড়ির পুজোয় বোধন হয় ১৩ দিন আগে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ধমান রাজার দেওয়ান ছিলেন পরমানন্দ রায়। তিনি ৪০০ বছর আগে দেওয়ান ছিলেন রাজবাড়ির। রাজার সুনজরে পড়ায় তিনি কাঁকসার এক বড় অঞ্চলের জমিদারিত্ব পান। তখন তিনি সেখানে সমস্ত জঙ্গল কেটে বাড়ি বানিয়ে থাকতে শুরু করেন। তিনিই সেখানে তৈরি করেন দুর্গামন্দির থেকে পুকুর, বাগান, সমস্ত কিছুই। পরবর্তীকালে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের এই বাড়ি কালিকাপুর রাজবাড়ি নামে খ্যাতি অর্জন করে। কিন্তু একটা সময় এখানে সাতজন ভাই মিলে একত্রে পুজো (Durga Puja 2023) করতেন বলে সকলে এই পুজোটিকে সাত ভাইয়ের পুজো বলেই চেনেন।

    নবমীতে দেওয়া হত মহিষ বলি (Durga Puja 2023)

    এখানে একটি আটচালা মণ্ডপে পুজো হয়, যার তিনদিক ঘেরা। অতীতের সমস্ত রীতিনীতি মেনেই এখনও পুজো হয়ে থাকে এখানে। তবে সেই জৌলুস হারিয়েছে। কৃষ্ণনবমীতে পাঁঠাবলি দিয়ে দেবীর বোধন করা হয় এই পুজোতে। এছাড়া পুজোর মধ্যেও তিনদিন বলি দেওয়ার প্রথা আছে (Durga Puja 2023)। ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী পর্যন্ত বলি হয় এই রাজবাড়িতে। আগে অবশ্য নবমীতে মহিষ বলি দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    একাধিক ছবির শ্যুটিং

    এই বাড়িতে একাধিক ছবির শ্যুটিং হয়েছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গয়নার বাক্স ও গুপ্তধন রহস্য। এমনকি খণ্ডহর ছবি যা মৃণাল সেন পরিচালনা করেছিলেন, তারও শ্যুটিং হয়েছিল এখানে। অভিনয় করেছিলেন নাসিরউদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি। এই বাড়ির আনাচে কানাচে রয়েছে একাধিক ইতিহাস। পুজোর (Durga Puja 2023) কটা দিন গ্রামের সমস্ত মানুষ এই পুজো দেখতে আসেন। এখনও সেখানে গেলেই সাত ভাইয়ের পুজোর গল্প শোনা যায়।

    সপ্তমীর দিন কলা বৌকে চতুর্দোলায় স্নান

    দুর্গাপুজোয় বোধন হয় পুজোর ১৩ দিন আগে। পুজোর (Durga Puja 2023) তিন দিন হয় ছাগবলিও। পূর্ব বর্ধমানের কালিকাপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় এ ধরনের বেশ কয়েকটি নিয়ম রয়েছে। প্রায় ৩৫০ বছর প্রাচীন এই পুজোর ঐতিহ্য আজও রয়ে গিয়েছে। কথিত, ৩৫০ বছর আগে এ পুজো শুরু করেন বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজার দেওয়ান পরমানন্দ রায়। সে ধারা বজায় রেখেছেন তাঁর অষ্টম পুরুষেরা। কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকলেও পুজোর সময় তাঁরা জড়ো হন কালিকাপুর রাজবাড়িতে। আজও যেখানে মহারাজ বিজয়চাঁদ এবং মহারাজ উদয়চাঁদের নামে ফি-বছর পুজো দেওয়া হয়। দুর্গাপুজোর প্রতি দিনই টেরাকোটার প্রাচীন একটি শিবের মূর্তি পুজো হয়। এই সপ্তমীর দিন কলাবৌকে চতুর্দোলায় করে স্নান করানো হয়। দুর্গাপুজোয় এক সময় প্রতি দিনই নাটক, যাত্রানুষ্ঠান হত।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: ন’টি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনায় ব্রতী সারা মল্লভূমবাসী

    Durga Puja 2023: ন’টি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনায় ব্রতী সারা মল্লভূমবাসী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কামানের ৯টি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মল্লরাজ বংশের কুলদেবী মৃন্ময়ীর মন্দিরে সূচনা হল শারদীয়ার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023)। এই পুজো বলিনারায়ণী রীতি মেনে হয়ে আসছে। তাই নবম্যাদি কল্পারম্ভে শুরু হয় পুজো। পটে আঁকা বড় ঠাকুরানি, মেজ ঠাকুরানি ও ছোট ঠাকুরানির পুজো এখানকার মুল বৈশিষ্ট্য। ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে উনবিংশতম মল্লরাজ জগৎ মল্লের প্রতিষ্ঠিত এই পুজো এবার ১০২৭ বছরে পড়ল। এই পুজো মল্লভূম তথা বিষ্ণুপুরের রাজ পরিবারের ইতিহাসকে প্রতি বছর মনে করিয়ে দেয় প্রতিটি মল্লভূমবাসীকে। মল্লরাজাদের রাজ্যপাট না থাকলেও মল্লভূম তথা সারা বিষ্ণুপুরের বাসিন্দারা আজও এই পুজোয় মাতেন। রাজ পরিবারের সদস্যরা পুজোর আয়োজন করে আসছেন যথারীতি।

    কী জানালেন পরিবারের সদস্য? (Durga Puja 2023)

    মল্লরাজ পরিবারের অন্যতম সদস্য জ্যোতিপ্রকাশ সিংহ ঠাকুর বলেন, রাজ পরিবারের এই পুজোয় জৌলুস, জাঁকজমকের থেকেও প্রাধান্য দেওয়া হয় নিয়ম, নিষ্ঠার ওপর। আজও রাজ পুরোহিত মল্লভূমের হাজার বছরেরও প্রাচীন পুঁথি মেনে পুজো করে আসছেন। এখানকার রীতি অনুযায়ী মল্লভূমে আজ থেকেই সূচনা হয়ে গেল শারদ উৎসব অর্থাৎ দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2023)।

    কী জানালেন পরিবারের পুরোহিত? (Durga Puja 2023)

    মল্লরাজ পরিবারের পুরোহিত সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, জিতা অষ্টমীতেই এখানে দেবীর আবাহন হয় এবং নবম্যাদিকল্পে দেবীর পুজোর (Durga Puja 2023) সুচনা হয়। এই পুজোর আচার বলিনারায়ণী রীতি অনুযায়ী হয়ে থাকে। যার সঙ্গে অন্য কোনও পুজোর মিল নেই। এক সময় দেবী মৃন্ময়ীর পুজোর জৌলুস ছিল নজরকাড়া। এখানকার কামানের তোপধ্বনি শুনে সারা মল্লভূম জুড়ে সন্ধিক্ষণ নির্ণয়ের চল ছিল। এখনও নবম্যাদিকল্প থেকে সন্ধিক্ষণ পর্যন্ত কামানের তোপধ্বনির রেওয়াজ চালু আছে। তবে আগের বিশালাকার কামান ফাটানো হয় না। আকারে অনেক ছোট কামানের তোপ দাগা হয়। আজ নটি তোপধ্বনি দিয়ে দেবীর আরাধনায় ব্রতী হলেন সারা মল্লভূমবাসী।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: ঝাড়গ্রাম শহরে সেন পরিবারের পুজোয় মহানবমীর অন্নভোগে থাকে এঁচড়ের ডালনা

    Durga Puja 2023: ঝাড়গ্রাম শহরে সেন পরিবারের পুজোয় মহানবমীর অন্নভোগে থাকে এঁচড়ের ডালনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ববঙ্গের জমিদারের পুজোয় মহানবমীতে দেবীর নৈবেদ্যর পাতে থাকত থরে থরে পাকা কাঁঠালের কোয়া। ময়মনসিংহের আকুয়াপাড়ায় সেন পরিবারের বাগানে কাঁঠাল গাছের সংখ্যাও ছিল অগুনতি। আশ্বিন মাস পর্যন্ত ফল মিলত গাছগুলি থেকে। পূর্ববঙ্গের সেই ঐতিহ্যের পুজো (Durga Puja 2023) ঠাঁইনাড়া হয়ে এখন হয় ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবায় সেন পরিবারের উত্তরসূরীদের বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপে।

    কাঁঠালের বদলে এঁচড় (Durga Puja 2023)

    ভাদ্রের পর ঝাড়গ্রামের বাজারে পাকা কাঁঠাল মেলে না। সেনদের চারটি গাছেও এই সময় পাকা কাঁঠাল থাকে না। তাই সাবেক প্রথা ধরে রাখতে কাঁঠালের পরিবর্তে মহানবমীর দিন দেবীকে নিবেদন করা হয় এঁচড়। তবে দক্ষিণ ভারতের সেই এঁচড় কিনে আনা হয় কলকাতার বাজার থেকে। ময়মনসিংহের আকুয়াপাড়ায় সেনবাড়ির দুর্গাপুজোর জাঁক ছিল দেখার মতো। ১২৩৫ বঙ্গাব্দে পুজোটি শুরু করেছিলেন ভূস্বামী রামরতন সেনশর্মা। সেই ঐতিহ্যের পুজো (Durga Puja 2023) ঠাঁইনাড়া হয় দেশভাগের পরে। রামরতনের উত্তরসূরীরা চলে আসেন ঝাড়গ্রামে। পূর্ববঙ্গে পুজো হত একচালার প্রতিমায়। পঞ্চাশের দশকের গোড়ায় ঝাড়গ্রামে পুজো শুরু হয় ঘটে। প্রায় ছ’দশক পরে ২০১৩ সাল থেকে ফের মূর্তি গড়ে পুজো হচ্ছে। পূর্ববঙ্গের সময় থেকে ধরলে এ বার পুজোর ১৯৬তম বর্ষ। এ ছাড়াও সেনবাড়িতে লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোও হয়। আর্থিক সমস্যা সত্ত্বেও পারিবারিক ঐতিহ্যের পুজো ও অনুষ্ঠান বন্ধ হতে দেননি রামরতনের উত্তরসুরীরা।

    নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার ছোঁয়া (Durga Puja 2023)

    পরিবারের প্রবীণ সদস্য সুবোধ সেন জানালেন, পূর্ববঙ্গের পুজোর (Durga Puja 2023) দিনগুলিতে হাজার খানেক পাত পড়ত। যাঁরা প্রসাদ গ্রহণ করতেন, তাঁদের সকলকে নতুন কাপড় ও নগদ পঞ্চাশ পয়সা দেওয়া হত। জমিদারের পুজোর সেই জৌলুস আজ ইতিহাস। তবে সেন পরিবারের পুজোয় রয়েছে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার ছোঁয়া। এখনও দর্শনার্থীদের দেবীর প্রসাদ দেওয়া হয়। দেবীপক্ষের প্রতিপদে দেবীর ঘট ওঠে। চণ্ডীপাঠও হয়। সাধ্যমতো আয়োজন হয়। পুজোর সময় পরিবারের কেউই আমিষ স্পর্শ করেন না। পুজোয় বলিদানের প্রথা নেই। সপ্তমী থেকে নবমী তিনদিনই দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। প্রথা অনুযায়ী, মহাষ্টমীর নৈবেদ্যে আম এবং মহানবমীর নৈবেদ্যে কাঁঠাল দিতেই হয়।

    পরিবারের সকলকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে পুজো

    সেন পরিবারের আর এক প্রবীণ সদস্য বরুণকুমার সেনের আক্ষেপ, “পূর্ববঙ্গে পুজোর (Durga Puja 2023) সময় কাঁঠাল মিলত। কিন্তু আশ্বিন মাসে ঝাড়গ্রামের বাজারে কাঁঠাল পাওয়া যায় না। সেই কারণে এখন কলকাতা থেকে এঁচড় কিনে আনা হয়। মহানবমীতে দেবীকে অন্নভোগের সঙ্গে এঁচড়ের ডালনা দেওয়া হয়। পরিবারের তরুণ সদস্য দেবব্রত সেন বলেন, “করোনা কালে এঁচড় পেতে খুবই সমস্যা হয়েছিল। তাই সেবার অনলাইনে বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থার কাছ থেকে অনলাইনে এঁচড় কেনা হয়।” দেবব্রত জানালেন, পুজোর সময় দূরে থাকা সদস্যরা আসেন। পরিবারের সকলকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে পুজোর চারটে দিন ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: কাঁথির কিশোরনগর রাজবাড়িতে হোমের আগুন জ্বালানো হয় সূর্যের আলোতে!

    Durga Puja 2023: কাঁথির কিশোরনগর রাজবাড়িতে হোমের আগুন জ্বালানো হয় সূর্যের আলোতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাচীন বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে কাঁথির কিশোরনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো অন্যতম। আনুমানিক ১৭১৭ সালে প্রথম এই পুজো শুরু হয়। স্বর্গীয় রাজা যাদবরাম রায় দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশে পুজো শুরু করেন। বর্তমানে পুজোর (Durga Puja 2023) বয়স ৩০০ বছরের বেশি।

    পুজোর বেশ কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য (Durga Puja 2023)

    রাজাও নেই, রাজত্বও নেই। তবুও বিগত তিন শতাব্দী ধরে ধর্মীয় সকল রীতিনীতি ও পরম্পরা মেনে আজও কিশোরনগর রাজবাড়িতে পুজো হয়ে আসছে। রাজকীয়তা বা জৌলুস কমলেও দিনে দিনে রাজবাড়ির পুজো ঘিরে বেড়েছে মানুষের টান ও ভালোবাসা। কিশোরনগর রাজবাড়ির পুজোর বেশ কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন, এখানে মায়ের ঘট পশ্চিমমুখী। এছাড়াও পুজোয় হোমের আগুন জ্বালানো হয় সূর্যের আলোতে, আতস কাচ ব্যবহার করে। যদি বৃষ্টির কারণে আতস কাচ কাজ না করে, তবে ব্যবহার করা হয় বিশেষ চকমকি পাথর। এক সময় এখানে মায়ের কাছে বলি দেওয়ার প্রথা থাকলেও এখন আর তা হয় না। পশু বলির পরিবর্তে আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয় (Durga Puja 2023) রীতি মেনে। এখানে মায়ের প্রসাদ হিসেবে কাজুবাদাম দিয়ে তৈরি এক বিশেষ ধরনের ভোগপ্রসাদ দেওয়া হয়।

    হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন (Durga Puja 2023)

    কিশোরনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয় ষষ্ঠীর দিন ঘটোত্তলনের মধ্য দিয়ে। ঠাকুর এখানে এক চালার। মন্দির পাকা হলেও ঐতিহ্য মেনে মায়ের মন্দিরে মায়ের মাথার উপরে আজও রয়েছে খড়ের চালা। নিয়ম মেনেই মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, সন্ধিপুজো, মহানবমী এবং দশমীর পুজো ও বিসর্জন হয়। মহাষ্টমীর দিন অঞ্জলি দেওয়ার জন্য মানুষজন ভিড় করে রাজবাড়ির দালানে। নিয়ম মেনেই সন্ধিপুজো হয় একশোটি প্রদীপ জ্বালিয়ে। পুজোর (Durga Puja 2023) দিনগুলিতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন রাজবাড়ির পুজো দেখতে, পুষ্পাঞ্জলি দিতে, প্রসাদ খেতে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার হাজার হাজার মানুষ ছাড়াও পাশের রাজ্য ওড়িশা থেকে বহু মানুষ আসেন কাঁথির কিশোরনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো দেখতে। রাজবাড়ির গড় বা ময়দানে নবমীর দিন বসে বিশাল আখের মেলা। ঠাকুর দেখে বাড়ি ফেরার সময় মানুষজন কিনে নিয়ে যান আখ। লক্ষ লক্ষ টাকার আখ বিক্রি হয় এই মেলায়। আজও এখানে পরম্পরা মেনে প্রতিমা কাঁধে চাপিয়েই বিসর্জন হয়। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় সামিল হন কাঁথি শহরের শত শত মানুষ।

    মন্দির হয়ে ওঠে মিলনক্ষেত্র

    রাজকীয়তা বা জৌলুস কমলেও কিশোরনগর রাজবাড়ির পুজো (Durga Puja 2023) ঘিরে মানুষের আগ্রহ কিন্তু কমেনি। কর্মসূত্রে বা বৈবাহিক সূত্রে সারা দেশে বা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা রাজ বাড়ির সদস্যরা মিলিত হন পুজোর দিনগুলিতে। রাজবাড়ির সদস্যরা, তাঁদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনরা সকলে মিলিত হন পুজো উপলক্ষ্যে। কিশোরনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর মন্দির হয়ে ওঠে এক মিলনক্ষেত্র।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: বৈকুন্ঠপুর রাজ পরিবারের পুজোর ইতিহাসে নরবলি! প্রতিমার গায়ের রং তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা

    Durga Puja 2023: বৈকুন্ঠপুর রাজ পরিবারের পুজোর ইতিহাসে নরবলি! প্রতিমার গায়ের রং তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়িতে প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই জন্মাষ্টমীর পর দিন দুর্গামণ্ডপে কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর শুরু হয়। এই বছর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো ৫১৩ বছরে পদার্পণ করবে। রাজ পরিবারের কূলপুরোহিত শিবু ঘোষাল জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নিরঞ্জনের পর প্রতিমার মূল কাঠামোকে জল থেকে তুলে রাজবাড়ির মণ্ডপে রেখে দেওয়া হয়। সেই কাঠামোকেই পুজো (Durga Puja 2023) করা হয়। কাঠামো পুজোর পর নান্দোৎসব এবং দধিকাদা খেলা হয়। কাদা খেলার মাটি দিয়েই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়।

    ইতিহাসে নরবলির কথা

    বৈকুন্ঠপুর রাজ পরিবারের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে নরবলির কথা শোনা যায়। রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা শিষ্য সিংহ পাঁচশো বছর আগে জঙ্গলে শিকারে গিয়ে দেবীর পুজো করার জন্য নরবলির প্রয়োজন মনে করেন। তাঁদেরই এক সঙ্গীকে বলি দিয়ে সেই রক্ত দিয়ে দুর্গার পুজো (Durga Puja 2023) করা হয়েছিল। সেই থেকে প্রতিমার গায়ের রং তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা। এখন চালের মণ্ডকে মানুষের প্রতিকৃতি বানিয়েই প্রতীকী নরবলি দেওয়ার রেওয়াজ আছে।

    শূন্যে রাইফেলের গুলি 

    ইংরেজি ১৫১৫ সালে বৈকুন্ঠপুর রায়কত রাজ এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা শিষ্য সিংহ নরবলি দিয়ে মৃন্ময়ী মা ভগবতীর পুজোর (Durga Puja 2023) সূচনা করেছিলেন। শিষ্য সিংহের ভাই বিশ্ব সিংহ ছিলেন কোচবিহার রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। রাজবাড়ির পুজাকে ঘিরে শহর ও শহরতলির মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। স্মরণাতীত কালের প্রথা মেনেই রাজবাড়ির দিঘিতে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। এমনকি পুরানো প্রথা মেনে শূন্যে ১ বা দুই রাউন্ড রাইফেলের থেকে গুলি ছোঁড়া হয়। রাজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জনের পরেই শহরের অন্যান্য প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

    একচালার প্রতিমা

    দেবী দুর্গা এখানে একচালা (Durga Puja 2023)। এই একচালার মধ্যেই দেবী বিগ্রহের সাথে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, দেবীর বাহন থাকে। দেবীর বাম দিকে সহচরী জয়া, ডান দিকে বিজয়া একচালার বাইরে থাকেন। ডানদিকে শিব, ব্রহ্মা এবং ছোট সিংহাসনে ঘটের সামনে বিষ্ণু বা বৈকুন্ঠনাথ অবস্থিত থাকেন। রাজ পরিবারের সদস্য প্রণত বসু বলেন, রাজ বংশের এই পুজো অতীতের সমস্ত রীতি রেওয়াজ মেনেই নিষ্ঠার সাথে করা হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: দুর্গাপুরের হাকিম বাড়ির পুজোয় নবপত্রিকা আনা হয় আগমনী গান গেয়ে

    Durga Puja 2023: দুর্গাপুরের হাকিম বাড়ির পুজোয় নবপত্রিকা আনা হয় আগমনী গান গেয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বৃটিশ ভারতে একজন ইংরাজি শিক্ষায় শিক্ষিত যুবক। নেমে পড়েন বৃটিশদের সঙ্গে ঠিকাদারি ব্যবসায়। প্রচুর অর্থ আয়ের পর তিনি মাত্র ৩৯ বছর বয়সে জমিদারি কেনেন। গড়ে তোলেন বড় দালান আর দুর্গামন্দির। ১২৭৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেবী দুর্গার। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের দেবী দুর্গা এবার ১৫৬ বছরে পা দিল। গোপালপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার সে যুগ থেকে এ যুগ খুবই অভিজাত এবং শিক্ষিত পরিবার। বৃটিশ ভারতে সেই আমলে আসানসোলে আদালত ছিল। সেই সময় ভারতীয় বিচারকদের সাম্মানিক ভাতা দেওয়া হত। রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের মধ্যম সন্তান সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্য্যায় ছিলেন সেই আমলের সাম্মানিক বিচারক। তাই গোপালপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজোকে হাকিম বাড়ির পুজো বলা হয়। অভিজাত এই পরিবারের ছেলেমেয়েরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বাস করেন কর্মসূত্রে। তবে পুজোর চারদিন তাঁরা ফিরে আসেন নিজের গ্রামে, নিজেদের পুজোর (Durga Puja 2023) আনন্দ উপভোগ করতে।

    একই হাঁড়িতে ভোগ ১৫৬ বছর ধরে (Durga Puja 2023)

    রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রথায় পুজো (Durga Puja 2023) করতেন, আজও সেভাবেই পুজো চলে। শরীকী প্রথায় ভাগ হয়নি এই পুজো। একই হাঁড়িতে ভোগ হয় একসঙ্গে ১৫৬ বছর ধরে। মাটির থালা-বাটি-গ্লাসে ভোগ দেওয়া হয় দেবী দুর্গাকে। ১০৮ পদ্ম দেওয়া হয় অষ্টমীর মাহেন্দ্রক্ষণে। এখনও জমিদারি প্রথা মেনে অষ্টমীর মাহেন্দ্রক্ষণে বলির সময় বন্দুক চালানো হয়। ১৫৬ বছর আগে শুরু হয়েছিল আগমনী গান গেয়ে নবপত্রিকা আনা। আজও সেই প্রথা রয়েছে। কবি নীলকন্ঠ মুখোপাধ্যায় রচিত আগমনী গান গেয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের নবপত্রিকা আনা হয়। লক্ষ্মী মন্দিরে স্থাপনের পরেই দেবীর নবপত্রিকা মন্দিরে নিয়ে আসা হয়।

    এই প্রজন্ম বলি প্রথার বিরুদ্ধে (Durga Puja 2023)

    আগে নবমীর দিনে (Durga Puja 2023) গ্রামের তিন দেবতার কাছে ছাগ বলি দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এই প্রজন্ম বলি প্রথার বিরুদ্ধে বলে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে দেবীর উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া হয় চালকুমড়ো। দশমীর দিনে সিঁদুর খেলার প্রচলন রয়েছে। দেবীকে নিরঞ্জনের সময় বরণ করেন পরিবারের গৃহবধূরা। আগে দেবীর নিরঞ্জনের সকালে অর্থাৎ দশমীর সকালে নীলকন্ঠ পাখি ছাড়া হত কৈলাসে বার্তা দেওয়ার জন্য, উমা বাপের বাড়ি থেকে শিবের কাছে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন নীলকন্ঠ পাখি আর মেলে না, তাই সেই প্রথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। 
    বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১৫৫ পার হয়ে এবার ১৫৬ বছরে পা দিয়েছে রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত দেবী দুর্গা এবং এখনও যৌথ পারিবারিক পুজো হয়ে আজও জেলার মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে।”

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share