Tag: Border Trade

  • Nathu La Sikkim: ছয় বছর পর ফের শুরু নাথুলা দিয়ে ভারত-চিন সীমান্ত বাণিজ্য

    Nathu La Sikkim: ছয় বছর পর ফের শুরু নাথুলা দিয়ে ভারত-চিন সীমান্ত বাণিজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সিল্ক রুট ধরে নাথুলা সীমান্ত (Nathu La Sikkim) দিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে ফের শুরু হল বাণিজ্য (India China Border Trade)। কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে ছ’বছর ধরে বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে পূর্ব সিকিমের নাথুলা গিরিপথ দিয়ে ফেল চালু হয়ে গেল সীমান্ত বাণিজ্য। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য (Nathu La Sikkim)

    নাথুলা দিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য প্রথম শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ৬ জুলাই। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর ৪৪ বছর বন্ধ থাকার পরে ওই বছর জুলাইয়ে এই ঐতিহাসিক পথটি আবারও খুলে দেওয়া হয়েছিল। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবিকার উন্নতির লক্ষ্যে এই বাণিজ্যকে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারি ছড়িয়ে পড়ার পর নাথুলা দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রাও বন্ধ হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছ’মাস সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকবে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলবে। বর্তমানে অনুমোদিত ৩৬টি পণ্যের তালিকা অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হবে। নাথুলা যৌথ সীমান্ত পরীক্ষা চৌকির পরিকাঠামো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পাশাপাশি কঠোর হিমালয়ান শীতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফের বাণিজ্য চালুর আগে সেই পরিকাঠামো সংস্কার করে কার্যকর করা হয়েছে।

    আমদানি-রফতানি সামগ্রী

    বর্তমানে থাকা চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে ৩৬টি অনুমোদিত পণ্য চিনে পাঠানো যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হস্তশিল্প, হস্তচালিত তাঁতের সামগ্রী, কম্বল, কৃষিকাজের সরঞ্জাম, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শুকনো শাকসবজি, মশলা, তৈরি পোশাক, বাসনপত্র এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সামগ্রী। অন্যদিকে তিব্বত থেকে ভারতে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, জুতো, চমরী গাইয়ের বিভিন্ন সামগ্রী, মাখন, বোরাক্স, ছাগল, লেপ-কম্বল এবং অন্যান্য অনুমোদিত পণ্য (Nathu La Sikkim)। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালনায় সাহায্যের জন্য নাথুলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করবে ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ। প্রথমবারের মতো সেখানে একটি সম্পূর্ণ মহিলা দলও মোতায়েন করা হচ্ছে। একটি বাণিজ্য মরশুমে সর্বোচ্চ ৪০০ জন ব্যবসায়ীকে অনুমতিপত্র দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক অনুমতিপত্রই অনুমোদিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য গোয়েন্দা শাখার যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আরও ব্যবসায়ীকে অনুমতিপত্র দেওয়া হতে পারে।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, নাথুলা দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রাও সম্প্রতি ফের শুরু হয়েছে। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় ভারত ও চিনের মধ্যে (Border Trade) সীমান্তপারের যোগাযোগ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে বলেই (Nathu La Sikkim) ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

  • S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের (India China Ties) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ, বাণিজ্যিক ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

    ভারত-চিন সম্পর্ক (S Jaishankar)

    বৈঠকের শুরুতেই জয়শঙ্কর বলেন, “গত কয়েক মাসে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর থেকেই ইতিবাচক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। পরে তিয়ানজিনে দুই দেশের নেতার আরও একটি বৈঠকে সেই ইতিবাচক দিকটি আরও জোরদার হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। এমন একটি সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়া এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক কখনও স্বাভাবিক হতে পারে না। তাঁর কথায়, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত।”

    দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর থেকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয় দেশই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যে সব দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলিকে পূর্ণ সমর্থন এবং আরও শক্তিশালী উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। ভারত ও চিন উভয়ই বৃহৎ এবং প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব আগেই একমত হয়েছিলেন যে মতপার্থক্য কখনও বিরোধে পরিণত হওয়া উচিত নয় (S Jaishankar)। তিনি বলেন, “দু’টি বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও চিনের নিজস্ব স্বার্থ থাকবেই। কিন্তু আমাদের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়। সেই মতভেদকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই কূটনীতির দায়িত্ব (India China Ties)।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর

    বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগ, ভিসা ব্যবস্থার আপডেট, আবারও কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার মতো পদক্ষেপ সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকাই রাখছে। তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান হওয়া বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য আনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা এবং সরকারি ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যে ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং সরকারি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারণ করা জরুরি (S Jaishankar)।”

    বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়

    বৈঠকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। চলতি বছরে ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই প্রসঙ্গে চিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “এ বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই সময়ে ব্রিকসের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগে চিন যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই (India China Ties)।” আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই এই বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মতবিনিময়ের জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ।” বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পর ভারত-চিন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এই (S Jaishankar) বৈঠককেও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও ভারত ও চিন নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। জয়শঙ্কর বর্তমানে দু’দিনের সফরে ফিলিপিন্সে রয়েছেন। এই সফরে তিনি আসিয়ান কাঠামোর আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান-ভারত বিদেশমন্ত্রী বৈঠক, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক। এই (India China Ties) সব বৈঠকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত (S Jaishankar)।

     

LinkedIn
Share