Tag: Boxing

Boxing

  • Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের ১৩তম দিনটি ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকল। একদিনেই ৬টি সোনা, ২টি রুপো এবং ২টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ১০টি পদক জিতে নিল ভারত। তিরন্দাজি, বক্সিং, কুস্তি এবং হকিতে একের পর এক সাফল্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতের পদক তালিকা। দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে—৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) সোনা জিতে তারা সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে জায়গা নিশ্চিত করল। শেষে মহিলা হকি দলের ১-০ ব্যবধানে চিনকে হারানো সেই দিনকে আরও স্মরণীয় করে তুলল। চলতি এশিয়ান গেমসে ১৬টি সোনা হল ভারতের।

    ৪৪ বছর পর মহিলা হকিতে এশিয়ান গেমস সোনা

    দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে। গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ফাইনালে চিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে মহিলা হকির সোনা জেতে ভারত। ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। এই সোনার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত হওয়ায়। এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারত সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৮২ সালে প্রথম এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতেছিল ভারত। তার পর এ বারই সোনা জিতল তারা। ম্যাচের আগে সম্মান জানানো হয় লালরেমসিয়ামিকে। তিনি ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন গোল করে। তাঁর একমাত্র গোলেই ভারত এশিয়াডে সোনা জিতল দীর্ঘ দিন পর। গত অলিম্পিক্সে রুপো পেয়েছিল চিন। মহিলাদের হকিতে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে তারা। বার বার ঢুকে পড়তে থাকে ভারতের ডি বক্সে। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে প্রথম কোয়ার্টারেই এগিয়ে যায় ভারত। চিনের ডি বক্সে বল পেয়েছিল ভারত। বৃত্তের মধ্যে থেকে লালরেমসিয়ামির শট গোলে ঢুকে যায়। লেখা হয়ে যায় ইতিহাস।

    জন্মদিনে সোনার মুকুট লাভলিনার

    নিজের জন্মদিনেই সোনা জিতে নিলেন ভারতীয় বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই। মহিলা ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের বাও জিই-কে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। এই সাফল্যের ফলে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হলেন লাভলিনা। এর আগে ২০১৪ সালে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন এমসি মেরি কম। আগের এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন লাভলিনা। এবার সেই রুপোকে সোনায় বদলে দিলেন তিনি। জয়ী হওয়ার পর লাভলিনা বলেন, “আমি খুব ভালো অনুভব করছি। ভেবেছিলাম জন্মদিনে নিজেকেই সোনার পদক উপহার দিতে হবে। এক মুহূর্তের জন্যও হারার কথা মাথায় আসেনি। লড়াইটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি সব সময় ভেবেছি যে আমাকে জিততেই হবে।”

    প্রত্যাবর্তনের পর পারভিন হুডার সোনা

    বক্সিংয়ে ভারতের দ্বিতীয় সোনা আসে পারভিন হুডার হাত ধরে। মহিলা ৬৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনা তাইপেইয়ের চেন নিয়েন-চিনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন পারভিন। চেন নিয়েন-চিন প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী। তাঁর বিরুদ্ধে এই জয় তাই পারভীনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও নাম লেখালেন পারভীন। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা ভারতীয় মহিলা বক্সারদের তালিকায় তিনি তৃতীয়। এর আগে ২০১৪ সালে মেরি কম এবং এদিনই লভলিনা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

    মহিলা রিকার্ভ দলগত তিরন্দাজিতে ঐতিহাসিক সোনা

    দিনের শুরুতেই ইতিহাস গড়ে ভারত। মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতে অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা এবং ১৭ বছরের কুমকুম মহোদের দল। কঠিন আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের মধ্যেও ভারতীয় তিরন্দাজরা অসাধারণ সংযম দেখান। সেমিফাইনালে চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ভারত। এরপর কুমকুম মহোদ ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিশ্র রিকার্ভ দলগত ইভেন্টেও ফাইনালে পৌঁছন। এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে প্রথমবার ফাইনালে ওঠে ভারত। তবে ফাইনালে চিনের কাছে ৩-৫ ব্যবধানে হেরে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

    সুজিতের অবিশ্বাস্য কামব্যাক

    কুস্তির ম্যাটেও দেখা গেল নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। পুরুষদের ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের ফাইনালে তাজিকিস্তানের আবদুলমজিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে একসময় ২-৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন সুজিত কালকাল। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে দুর্দান্ত আক্রমণে ফিরে আসেন ভারতীয় কুস্তিগির। শেষদিকে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০-৯ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। সেমিফাইনালেও বড় চমক দিয়েছিলেন সুজিত। জাপানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোটারো কিয়োকাওয়াকে ৩-৩ ব্যবধানে আটকে দিয়ে ক্রাইটেরিয়ায় ফাইনালে ওঠেন তিনি।

    ২০১৮-এর পর পুরুষ বক্সিংয়ে আবার সোনা

    ভারতের তৃতীয় বক্সিং সোনা আসে পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে। আনকুশ পাংহাল জিতে নেন এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। এই সাফল্যের মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার কোনও ভারতীয় পুরুষ বক্সার এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেন। ফলে একই দিনে লাভলিনা, পারভিন এবং আনকুশ—তিন ভারতীয় বক্সারের হাত ধরে তিনটি সোনা আসে।

     

     

     

     

  • Asian Games 2026: চিনকে হারিয়ে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে সোনা! বিশ্বরেকর্ড স্কোর, রিলে রেসেও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা

    Asian Games 2026: চিনকে হারিয়ে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে সোনা! বিশ্বরেকর্ড স্কোর, রিলে রেসেও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারি টিম ইভেন্টে সোনা জিতে চমক দেখাল ভারত। বুধবার ফাইনালে চিনকে ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জয় করল ভারতের মহিলা দল। শেষ তিনটি তীরেই পরপর তিনটি ‘১০’ মেরে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সে ম্যাচ শেষ করেন জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, চিকিথা তানিপারথি ও পৃথিকা প্রদীপ। এই জয়ের ফলে চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাতটিতে। সব মিলিয়ে ভারতের পদক সংখ্যা এখন ৫৩—সোনা ৭, রুপো ২১ এবং ব্রোঞ্জ ২৫। ভারতের ২৩৮ স্কোরটি ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গড়া বিশ্বরেকর্ডের সমান। অর্থাৎ এদিন ফাইনালে ভারতের পারফরম্যান্স বিশ্বরেকর্ডের স্কোর ছুঁয়ে ফেলেছে। জ্যোতি সুরেখার জন্য এটি এশিয়ান গেমসে চতুর্থ সোনা। অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে অভিষেকেই সোনা জয়ের স্বাদ পেলেন চিকিথা তানিপারথি ও পৃথিকা প্রদীপ।

    শুরু থেকেই ভারতের দাপট

    ফাইনালের শুরু থেকেই চিনের উপর চাপ তৈরি করে ভারত। প্রথম তিনটি তীরেই তিনটি ‘১০’ মারেন জ্যোতি, চিকিথা ও পৃথিকা। চিনের তিনটি শট ছিল ‘৯’। ফলে প্রথম থেকেই এগিয়ে যায় ভারত। পরের সেটেও তিনটি নিখুঁত ‘১০’ আসে ভারতের কাছ থেকে। চিনের একটি শট রিভিউয়ের পর ‘১০’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় প্রথম সেট শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৬০-৫৮। পরের সেটে ভারত একটি পয়েন্ট হারালেও ৮৯-৮৭ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। এরপর আবার তিনটি ‘১০’ মেরে হাফটাইমে ভারত লিড বাড়িয়ে নেয় ১১৯-১১৬। দ্বিতীয়ার্ধে চিন নিখুঁত একটি সেট দিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে। ভারতও পাল্টা তিনটি ‘১০’ মেরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে। আরও একটি রিভিউয়ের পর চিনের স্কোর বাড়লেও ভারত তখনও ১৭৮-১৭৬ ব্যবধানে এগিয়ে।

    শেষদিকে আর কোনও সুযোগ দেয়নি ভারত

    ফাইনালের নির্ণায়ক মুহূর্তে চিন একটি ‘১০’ এবং দুটি ‘৯’ মারে। ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ২০৮-২০৪-এ। এরপর সোনা নিশ্চিত করতে শেষ তিনটি তীরই লক্ষ্যভেদ করেন ভারতের তিন সদস্য। চিকিথা, পৃথিকা এবং জ্যোতি—তিনজনই শেষ শটে ‘১০’ মারেন। ফলে ভারত ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং বিশ্বরেকর্ডের স্কোর স্পর্শ করে।

    সেমিফাইনালেও কঠিন লড়াই

    ফাইনালের আগে সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল ভারতকে। ভারত ২৩৫-২৩৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। শুরুতে দুই দলই ৫৯-৫৯ সমতায় ছিল। এরপর ভারত এগিয়ে গিয়ে হাফটাইমে ১১৮-১১৫ লিড নেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পরপর নিখুঁত সেট মেরে ম্যাচে ফিরে আসে দক্ষিণ কোরিয়া। একসময় স্কোর হয়ে যায় ১৭৫-১৭৫। শেষদিকে ভারত আবার সামান্য ব্যবধান তৈরি করে এবং শেষ সেটের আগে ২০৫-২০৪-এ এগিয়ে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ২৩৩-এ থামার পর চিকিথা ও পৃথিকা ১০ করে এবং জ্যোতি ৯ মারেন। ভারত পৌঁছে যায় ২৩৫-এ এবং ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। তবে ফাইনালে চিনের বিরুদ্ধে আর কোনও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেয়নি ভারতীয় দল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে শেষ তিনটি নিখুঁত ‘১০’-এ সোনা নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়ল জ্যোতি-চিকিথা-পৃথিকার দল।

    রিলে রেসে-ও সোনা ভারতের মেয়েদের

    নীরু ধান্ডার পর এবার সোনা এল ৪*৪০০ রিলে রেসে। এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) শেষ দিনে অ্যাথলেটিক্সে প্রথম সোনা জিতল ভারত। বিথ্যা রামরাজ, কিরণ, প্রাচী এবং মাচেত্তিরা পোভাম্মার ভারতীয় মহিলা রিলে দল দেশের মুখ উজ্জ্বল করে দেশকে সোনা এনে দিলেন। তারা ৩:২৯.৬৯-এ দৌড় শেষ করে পোডিয়ামে শীর্ষে জায়গা করে নেন। বাহারিন ৩:৩০.২১-এ শেষ করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। তৃতীয় স্থানে শেষ করে চিন। ৪০০ মিটার হার্ডেলেও রামরাজ পদক জিতেছিলেন। সেক্ষেত্রে তাঁর ঝুলিতে এসেছিল ব্রোঞ্জ। তবে এবার একেবারে সোনা জিতলেন তিনি।

    রিলে রেসে ব্রোঞ্জ ছেলেদের

    মহিলারা ৪x৪০০ মিটার রিলেতে সোনা দিলেও পুরুষরা এবার ব্যর্থ। হিটের মতো পারফরম্যান্স করতে পারলেন না ভারতীয়েরা। ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ভারতকে। মরসুমের সেরা সময়ের ধারে কাছেও দৌড় শেষ করতে পারলেন না ধর্মবীর চৌধরী, মনু থেক্কিনিল, জয় কুমার, বিশাল থেনারসু। হিটে ৩ মিনিট ০.৩২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করা ভারতীয় দল ফাইনালে সময় নিলেন ৩ মিনিট ১.৬১ সেকেন্ড। হিটের সময়ে দৌড় শেষ করতে পারলেও সোনা জিতত ভারত।

    মিক্সড ৪x১০০ মিটার রিলেতেও চমক

    নাগোয়ায় চমক দেখাল ভারতের মিক্সড ৪x১০০ মিটার রিলে দল। হরিতা ভদ্র, অনিমেষ কুজুর, স্নেহা সত্যনারায়ণ এবং গুরবিন্দর সিংহ দৌড় শেষ করলেন ৪১.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ব্রোঞ্জ জিতলেন। মরসুমের সেরা সময় করলেন তাঁরা ফাইনালে। এই ইভেন্ট থেকে পদকের তেমন আশা অবশ্য ছিল না।

    নজির গড়লেন গুলবীর

    নজির গড়লেন গুলবীর। ৫০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতলেন ১৩ মিনিট ৩২.৭৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। এর আগে ১৫০০ মিটার এবং ১০ মিটারে রুপো জিতেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালের গেমসে উষা পদক জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তাঁর পর গুলবীরই হলেন ভারতের প্রথম অ্যাথলিট যিনি একটি গেমস থেকে অন্তত তিনটি ব্যক্তিগত পদক পেলেন। উষা অবশ্য সে বার চারটি পদক জেতেন। ২০০ মিটার, ৪০০ মিটার এবং ৪০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জেতেন। সঙ্গে ১০০ মিটারে জেতেন রুপো। এ ছাড়াও সোনাজয়ী ৪x৪০০ মিটার রিলে দলেও ছিলেন তিনি।

    মেয়েদের হাই জাম্পেও পদক

    পদক এসেছে মেয়েদের হাই জাম্পেও। ১.৮৪ মিটার উচ্চতা টপকে ব্রোঞ্জ জিতেছেন পূজা সিংহ। এ বারের গেমসে অ্যাথলেটিক্সে ভারতের আর কোনও ইভেন্ট নেই। বক্সিংয়ে এল প্রথম পদক। ছেলেদের ৯০+ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পেলেন নরেন্দর বেরওয়াল। তিনি সেমিফাইনালে কাজ়াখস্তানের আইবেক ওরালবের কাছে ০-৫ ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন। তবে মেয়েদের ৬৫ কেজি বিভাগে পারভীন হুডা এবং ছেলেদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল ফাইনালে উঠেছেন। তাঁদের রুপোর পদক নিশ্চিত। মোট ছ’জন বক্সার পদক নিশ্চিত করেছেন। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কাতারকে হারিয়ে ছেলেদের ভলিবলের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভারত। প্রথম দু’সেট হারার পরও ম্যাচ বের করেছে ভারতীয় দল। তা-ও দু’টি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে। টান টান ম্যাচে ভারতীয় দল জিতেছে ২৬-২৮, ২৫-২৭, ২৫-২৩, ২৫-২০, ২৪-২২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

    পদক জয়ের লক্ষ্যে

    এছাড়াও মেয়েদের স্কোয়াশে পদক নিশ্চিত করল ভারত। মেয়েদের সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন তানভি খান্না এবং অনাহত সিং। ইতিমধ্যেই পদক তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে উঠে এসেছে ভারত। এবার সেই সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ ভারতীয় কুস্তিগীর, বক্সার এবং তিরন্দাজদের ওপর। ফাইনালের ছাড়পত্র সংগ্রহের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে মেয়েদের হকি দল। তারকা জুডোকা অশ্মিতা দেবও বুধবার নামবে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জয়ী নীরু ধান্ডাও এদিন মিক্সড টিম ইভেন্টে নামবে।

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও নেপালকে সাহায্য ভারতের, গুয়াহাটিতে অনুশীলন নেপালি বক্সারদের

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও নেপালকে সাহায্য ভারতের, গুয়াহাটিতে অনুশীলন নেপালি বক্সারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল ক্রীড়া সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এশিয়ান গেমসের আগে নেপালের বক্সিং দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে ভারত। স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (SAI) গুয়াহাটি ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্সে (NCOE) দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমানের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিয়েছেন নেপালের বক্সাররা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানে শুরু হতে চলেছে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। তার আগে নেপাল বক্সিং ফেডারেশনের অনুরোধে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাত জন বক্সার এবং দুই জন কোচ নিয়ে নেপালের দলটি গত ১০ আগস্ট থেকে গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শিবির শেষ করে এখান থেকেই সরাসরি জাপানের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তাদের।

    নেপালের দলে ৭ বক্সার

    নেপাল দলের সাত বক্সার হলেন রামিশা শ্রেষ্ঠা, অস্মিতা দুওয়াল, কুসুম তামাং, চন্দ্র বাহাদুর থাপা, খগেন্দ্র রোকা মাগার, দান বাহাদুর দারলামি এবং রবিন নেপাল। তাঁরা বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সাই-এর কোচ নরেন্দ্র রানা, ত্রিদীপ বোরা এবং প্রণমিকা বোরার তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁদের প্রশিক্ষণ। বক্সারদের টেকনিকের উন্নতি, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার জন্য মানসিকভাবে তৈরি করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মেঘালয়ের বক্সারদের সঙ্গে নেপালের খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও স্প্যারিংয়ের সুযোগ। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের বক্সিং স্টাইল ও কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নেপালের বক্সাররা। নেপালের বক্সার রামিশা শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, গুয়াহাটিতে কঠোর অনুশীলন এবং দক্ষ ভারতীয় বক্সারদের সঙ্গে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসের আগে তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “এখানে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কঠোর হয়েছে। অসাধারণ ও দক্ষ বক্সারদের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি। ফলে এশিয়ান গেমসের জন্য আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও প্রস্তুত।” ভারতীয় খেলোয়াড় ও সাই-এর কর্মীদের আতিথেয়তারও প্রশংসা করেন তিনি।

    ভারত ও নেপালের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক

    সাই-এর গুয়াহাটির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর ডি কে মিত্তল বলেন, প্রথমবার নেপালের বক্সিং দল গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছে। তাঁর আশা, এই শিবির থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা জাপানে নেপালের বক্সারদের ভাল ফল করতে সাহায্য করবে। তিনি জানান, শিবির চলাকালীন প্রায় পাঁচ দিনের একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছিল, যা ভারত ও নেপাল—দুই দেশের বক্সারদেরই উপকৃত করেছে। সাই (SAI)-এর উপর কোনও আর্থিক বোঝা না রেখেই এই শিবির পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াত, ভিসা, চিকিৎসা বিমা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করছে নেপাল বক্সিং ফেডারেশন। নেপালের বক্সারদের এই প্রশিক্ষণ শিবির শুধু এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেই সাহায্য করছে না, ভারত ও নেপালের মধ্যে ক্রীড়া এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গুয়াহাটির গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে।

  • PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি রেস্তোরাঁয় ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শনের (Distorted India Map) প্রতিবাদ করায় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোজয়ী বক্সার লভলিনা বরগোহাঁইয়ের দেদার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ক্রীড়া সাফল্য উদ্‌যাপনের সময়ও দেশের মানচিত্রের গুরুত্বের বিষয়টি নজরে রাখার জন্য লভলিনার এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রবিবার নিজের বাসভবনে কমনওয়েলথ গেমসের পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

    ভারতের বিকৃত মানচিত্র (PM Modi)

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতেছিলেন অসমের লভলিনা। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মজা করে তাঁকে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসার বিষয়টি জানতে চান মোদি। তিনি বলেন, “কী হয়েছিল, রেস্তরাঁর লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন?” হেসে লভলিনা জানান, গেমসে সাফল্য পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা রেস্তোরাঁয় গিয়ে উদ্‌যাপন করছিলেন। সেখানেই তিনি ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র দেখতে পান। তাঁর কথায়, “স্যার, সেটি আনন্দের মুহূর্ত ছিল। আমরা সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলাম। কিন্তু ভারতের বিকৃত মানচিত্রটি দেখে আমার ভালো লাগেনি। আমি তাঁদের বিষয়টি বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছিলাম এবং তাঁরা পরে সেটি সংশোধনও করেন।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    লভলিনার এই সচেতনতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যখন সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলেন এবং গেমস শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেই সময়ও আপনি ওই মানচিত্রের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। আমি সত্যি বলছি, ওই ভিডিওটি সাধারণ কোনও ঘটনা ছিল না। বহুদিন ধরে মানুষ একে মনে রাখবে।” ঘটনাটি সামনে আসে গ্লাসগোর ওই রেস্তরাঁয় প্রদর্শিত ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনুপস্থিত থাকার পর। সহ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাফল্য উদ্‌যাপন করার সময় বিষয়টি লভলিনার নজরে পড়ে। তিনি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানান। পরে কর্তৃপক্ষ মানচিত্রটি সংশোধন করতে সম্মত হয় (PM Modi)। গ্লাসগোতেই লভলিনা প্রথম কমনওয়েলথ গেমস পদক অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাই চানুর সঙ্গে ভারতের পতাকাবাহকদের অন্যতম ছিলেন।

    কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্য

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় ক্রীড়াবিদরা গেমসের আগে ও গেমস চলাকালীন (Distorted India Map) তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। পাশাপাশি পদকজয়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন হালকা মুহূর্তও ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২৩ জুলাই থেকে ২ অগাস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পদক তালিকায় ভারত ছিল চতুর্থ স্থানে (PM Modi)। এদিকে, গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ভারতের পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কৃতিত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাওয়ার জন্য ক্রীড়াবিদদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) লেখেন, “যাঁরা খেলবেন, তাঁরাই এগিয়ে যাবেন। সব সময় ভারতের জন্য গলা মেলান। ভারত মাতা কি জয়!” ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হকি এবং শুটিংয়ের মতো ভারতের পদকসমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি খেলা এবারের সূচিতে ছিল না।

    বক্সিংয়ে দুর্দান্ত সাফল্য ভারতের

    গ্লাসগো থেকে ভারতের বক্সিং দল ফিরেছে মোট ১০টি পদক নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে (Distorted India Map) ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো। সোনাজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি), জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), সাক্ষী চৌধুরী (৫১ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), অরুন্ধতী চৌধুরী (৭০ কেজি), সচিন সিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাংঘাল (৮০ কেজি)। রুপো জিতেছেন যদুমণি সিং (৫৫ কেজি), অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই (৭৫ কেজি) এবং নরেন্দর বেরওয়াল (৯০ কেজির বেশি)। ভারতের বক্সিং দলের সোনাজয়ী সাক্ষী চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “কমনওয়েলথ গেমসের সমস্ত পদকজয়ীকে আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী। তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমরা খুবই আনন্দিত।” এবারের সাতটি সোনা কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলা বক্সারদের সর্বকালের সেরা সাফল্যও এনে দিয়েছে।

    জুডোতেও ভারতের নজির

    জুডোতেও নিজেদের সেরা কমনওয়েলথ গেমস সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। গ্লাসগোয় ভারত ১২টি জুডো ইভেন্টে অংশ নিয়ে মোট চারটি পদক জিতেছে—দুটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। ২০২২ সালের প্রতিযোগিতায় তিনটি পদক পেলেও, সেবার একটিও সোনা জিততে পারেনি ভারত। ভারতের জুডো সাফল্যের অন্যতম প্রধান মুখ খেলো ইন্ডিয়ার ক্রীড়াবিদ অস্মিতা দে এবং হর্ষ সিং। তাঁরা জুডোয় কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। অস্মিতা প্রথম ভারতীয় মহিলা জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন। আর হর্ষ সিং প্রথম ভারতীয় পুরুষ জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। অ্যাথলেটিক্স থেকে ভারত (PM Modi) পেয়েছে ১০টি পদক। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি রুপো এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ। ভারতের গুলভীর সিং কমনওয়েলথ গেমসের এক আসরে ব্যক্তিগতভাবে দু’টি পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ক্রীড়াবিদ হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। পুরুষদের ১০ হাজার মিটার দৌড়ে তিনি রুপো এবং ৫ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেছেন (Distorted India Map)।গ্লাসগোর এই সাফল্যকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক খেলায় অংশ নিয়েও ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের এমন সাফল্য আগামী দিনে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

     

  • Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তরাঁয় ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোহাঁই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ (Glasgow Restaurant) ক্ষমা চেয়ে মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে (Incomplete India Map), নাকি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফর (Glasgow Restaurant)

    ঘটনার সূত্রপাত ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফরকে ঘিরে। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতীয় বক্সিং দল মোট ১০টি পদক—সাতটি সোনা ও তিনটি রুপো—জিতে দেশে গৌরব এনে দেয়। সেই সাফল্য উদ্‌যাপন করতেই দলের সদস্যরা গ্লাসগোর ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া, দ্য হোম অব কারি’ রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন। উৎসবের সেই আয়োজনই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়, লভলিনা রেস্তরাঁর ছাপানো একটি ন্যাপকিন হাতে নিয়ে তাতে থাকা ভারতের মানচিত্রের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

    লভলিনার অভিযোগ

    তাঁর অভিযোগ, মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। লভলিনা বলেন, “দয়া করে বিষয়টি অন্যভাবে নেবেন না। এতে আমি কিছুটা কষ্ট পেয়েছি। ভারতের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নেই। হ্যাঁ, বাইরেও যে মানচিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বের একজন মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাদের সত্যিই কষ্ট দেয়। আমি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম। পরের বার দয়া করে বিষয়টি মনে রাখবেন। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।” অসমের এই বক্সারের বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাদ দেওয়া বা উপেক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে অভিযোগ রয়েছে, লভলিনার বক্তব্য সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে আসে (Glasgow Restaurant)।

    প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের

    সমালোচনার পর দ্রুত বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চান রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩২ বছর ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁরা ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “সবার আগে আমরা ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি। এটি সংশোধনের জন্য আমরা অবিলম্বে পদক্ষেপ করব। আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমরা কাউকে আঘাত করতে চাইনি। বরং ভারতীয় দলের জন্য গর্বের সঙ্গে পরিষেবা দিতে চেয়েছিলাম।” ভারতীয় দলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানান, বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের আতিথেয়তা করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, “সঠিক মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তন করা হবে। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় দলের অসাধারণ সাফল্যের পর তাঁদের পরিষেবা দিতে পারা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। সমস্ত ক্রীড়াবিদ এবং অতিথিরা তাঁদের সন্ধ্যাটি উপভোগ করেছেন। এই স্মৃতি আমাদের কাছে ভারতের সঙ্গে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

    অদৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট

    ক্ষমা চাওয়ার পরেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যাকাউন্টটি কি কর্তৃপক্ষ নিজেই নিষ্ক্রিয় করেছেন, নাকি সম্পূর্ণ মুছে (Incomplete India Map) দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হবেন কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয় (Glasgow Restaurant)।

     

LinkedIn
Share