Tag: Breach Candy Hospital

  • Actress Mithu Mukherjee: প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়, নিভৃত জীবনেই থামল ‘কলকাতার রেখা’র পথচলা

    Actress Mithu Mukherjee: প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়, নিভৃত জীবনেই থামল ‘কলকাতার রেখা’র পথচলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের চক্কর থেকে সরে গিয়েছিলেন আগেই। এবার জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকেই চিরতরে বিদায় নিলেন অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় (Actress Mithu Mukherjee)। একসময় জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

    মিঠুর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের আবহ টলিপাড়ায়। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রয়াত অভিনেত্রীর ছবি শেয়ার করে শোকপ্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক (Cancer Battle)। তাঁর স্মৃতি ও তাঁর কাজ আমাদের মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকবে। গভীর শ্রদ্ধা।”

    ভিন্ন মেজাজে মিঠু (Actress Mithu Mukherjee)

    সাতের দশকের বাংলা ছবিতে মিঠুর উপস্থিতি ছিল স্বতন্ত্র। সৌন্দর্য, সাবলীল অভিনয় এবং সহজাত আকর্ষণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কখনও প্রেমিকা, কখনও প্রাণবন্ত তরুণী, আবার কখনও সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। নিজেকে কোনও নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে আটকে রাখেননি অভিনেত্রী।

    তাঁর অভিনয়ে যেমন ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা, তেমনই ক্যামেরার সামনে ছিল প্রাণখোলা উপস্থিতি। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘মৌচাক’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’র মতো একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

    মিঠুর সৌন্দর্য ও পর্দার আকর্ষণের সঙ্গে বলিউডের অভিনেত্রী রেখার মিল খুঁজে পেতেন দর্শকদের একাংশ। সেই কারণেই তাঁকে ভালোবেসে ‘কলকাতার রেখা’ নামে অভিহিত করা হয়েছিল। তবে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও খুব বেশি দিন আলোয় থাকেননি মিঠু।

    মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পর বাংলা ছবির জগতে মিঠুই এমন এক নায়িকা, যিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও স্বেচ্ছায়  নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। ব্যক্তিগত জীবনকে রেখেছিলেন সম্পূর্ণ আড়ালে। কেন তিনি এই দূরত্ব তৈরি করেছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে গিয়েছে।

    সরে যান বিনোদন জগতের আলো থেকে

    অভিনেত্রীর শেষ ছবি ছিল ‘আশ্রিতা’। ছবিটি দর্শকের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। শুধু অভিনয়ই নয়, ছবিটির প্রযোজনার দায়িত্বও সামলেছিলেন মিঠু। ‘আশ্রিতা’র সাফল্যের পর তাঁর সামনে আরও কাজের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি। বরং ধীরে ধীরে সরে যান বিনোদন জগতের আলো থেকে (Actress Mithu Mukherjee)।

    তাই দীর্ঘদিন মিঠুকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। জীবনের শেষ পর্বও কেটেছে নিভৃতেই। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার রাতে থেমে গেল সেই লড়াইও।

    মিঠুর প্রয়াণের (Cancer Battle) সঙ্গে সঙ্গে যেন বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও অবসান হল। একসময়ের আলোচিত এই অভিনেত্রী পর্দা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অভিনয় ও উপস্থিতির স্মৃতি (Actress Mithu Mukherjee) থেকে যাবে অমলিন।

     

  • Asha Bhosle: ভারতীয় সঙ্গীত জগতে নক্ষত্র পতন, প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে

    Asha Bhosle: ভারতীয় সঙ্গীত জগতে নক্ষত্র পতন, প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। আজ, রবিবার ১২ এপ্রিল প্রয়াত হন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে (Legendary singer) ভারতীয় সিনেমা ও সঙ্গীতের সুরভুবনকে গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সে-ই তিনিই পেছনে রেখে গেলেন এক অমর উত্তরাধিকার।

    প্রয়াত আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)

    মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সামদানি আশার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আজ ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে আশা ভোঁসলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বহু অঙ্গ বিকলের কারণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।” আশার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে বলেন, “আজ আমার মা প্রয়াত হয়েছেন। আগামিকাল সকাল ১১টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্রান্ডে, যেখানে তিনি বাস করতেন, সেখানে মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।”

    ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন

    ১১ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় চরম ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল আশাকে। তাঁর নাতনি জানাই ভোঁসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতিতে আশার অসুস্থতার খবর জানিয়ে পরিবারের জন্য গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমার দিদা আশা ভোঁসলে চরম ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা চলছে। আশাকরি, সব ঠিক হয়ে যাবে (Asha Bhosle)।” ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা। অল্প বয়সেই শুরু করেছিলেন সঙ্গীতজীবন। পাঁচের দশকে তিনি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছন। পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন (Legendary singer)।

    আশার অসাধারণ অবদান

    আশার কণ্ঠ ছিল চঞ্চল, আবেগপূর্ণ এবং অসাধারণভাবে বহুমাত্রিক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় তিনি হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। ধ্রুপদী, গজল, ক্যাবারে, পপ ও লোকসঙ্গীত সব ধরনের ধারায়ই তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। শীর্ষস্থানীয় সুরকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে আশার সহযোগিতায় হিন্দি সিনেমার অনেক কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে, যা তাঁকে এক চিরন্তন সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে। আশার অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান, পদ্ম বিভূষণ (Asha Bhosle)।

    ভারতীয় সঙ্গীতে মহিলা কণ্ঠ

    ২০১১ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আশাকে সঙ্গীত ইতিহাসে সর্বাধিক রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জীবনের শেষ পর্বেও তিনি সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, মাঝে মাঝে পরিবেশন করতেন এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করতেন। তাঁর প্রভাব শুধু প্লেব্যাক গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি ভারতীয় সঙ্গীতে মহিলা কণ্ঠের ভূমিকা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন (Legendary singer)। আশা ভোঁসলের বহুমুখিতা কিংবদন্তি—‘দিল চিজ কিয়া হ্যায়’-এর মতো আবেগঘন গজল থেকে ‘পিয়া তু আব তো আজা’র মতো সুললিত গানে তিনি সমান পারদর্শী। ‘মেরা কিছু সামান’ ও ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’র মতো গানেও তাঁর কণ্ঠের জাদু অনন্য। লোকসঙ্গীত থেকে পপ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর কণ্ঠ ভারতীয় সঙ্গীতের এক রঙিন প্রতিচ্ছবি (Asha Bhosle)।

     

LinkedIn
Share