Tag: Breaking News Bengal

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বারুইপুর নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এখনও কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আগেই পৌঁছল বিজেপির প্রতিনিধি দল

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’’ একইসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তদন্তে গতি, গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরাও গেলেন

    মঙ্গলবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক নেতা। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর

    গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীর খুনের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও এসআইটি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “নির্যাতিতার বাবা যা যা চেয়েছেন, সবটাই করা হবে। পরিবার আমাদের উপর আস্থা রেখেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” মঙ্গলবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করতে পারেন বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Chandranath Rath Murder Case: চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় মোড়, তদন্তভার নিল সিবিআই, গঠন বিশেষ সিট

    Chandranath Rath Murder Case: চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় মোড়, তদন্তভার নিল সিবিআই, গঠন বিশেষ সিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের (Chandranath Rath Murder Case) তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে নিল সিবিআই। রাজ্য পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সিবিআই তদন্তের (CBI Investigation) দায়িত্ব গ্রহণ করছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক পঙ্কজ কুমার সিং।

    সিবিআই সিট গঠন

    সিবিআই সূত্রে খবর, দিল্লি, পটনা, রাঁচি, ধানবাদ ও লখনউ-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট সাতজন অভিজ্ঞ অফিসারকে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বিশেষ টিম। কলকাতা জ়োনের যুগ্ম নির্দেশকের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে দলটি। তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও আধিকারিক যুক্ত করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই মধ্যমগ্রাম থানার পাশাপাশি সিআইডি-র হাতে থাকা সমস্ত নথি দ্রুত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর গাড়ির সামনে আচমকা একটি চারচাকা গাড়ি এসে দাঁড়ায়, ফলে তাঁর গাড়ি থেমে যায়। ঠিক সেই সময় দুই দিক থেকে বাইকে চেপে আসে হামলাকারীরা এবং চন্দ্রনাথ ও তাঁর চালককে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। গুরুতর জখম চালক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম ময়ঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য ও রাজ সিং। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে অন্তত একজন পেশাদার শুটার। ময়ঙ্ক ও ভিকিকে বিহারের বক্সার জেলা থেকে এবং রাজকে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে ধরা হয়েছে। আদালত ধৃতদের ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

    ৮ থেকে ৯ জন জড়িত!

    প্রথমে মামলার তদন্তে রাজ্য পুলিশ একটি সিট গঠন করেছিল, যেখানে এসটিএফ ও সিআইডি-র আধিকারিকরাও যুক্ত ছিলেন। সেই টিমই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গোটা ঘটনায় মোট ৮ থেকে ৯ জন জড়িত থাকতে পারে। খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল বলেও সন্দেহ। ওই গাড়ি থেকে বালি টোল প্লাজ়ায় অনলাইনে পেমেন্টের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের হদিশ মেলে বলে জানা গিয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং একাধিক সূত্রের ভিত্তিতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে অভিযান চালানো হয়েছিল। এবার এই বহুচর্চিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে সিবিআই।

LinkedIn
Share