Tag: BRICS Success

  • BRICS Summit Success: ব্রিকসের সাফল্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস! ৫ রাজ্যে আসন্ন ভোটে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে হাতিয়ার বিজেপির

    BRICS Summit Success: ব্রিকসের সাফল্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস! ৫ রাজ্যে আসন্ন ভোটে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে হাতিয়ার বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সাফল্য দেশবাসীর কাছে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা ফের প্রমাণ করেছে। সফলভাবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit Success) আয়োজনের পর কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির আত্মবিশ্বাস এখন পাহাড়ের চূড়ায়। এমনই অভিমত রাজনৈতিক মহলের। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে জি-২০-র পর ফের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনকে মোদি সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। দলের আশা, এই সাফল্য নিট বিতর্ক ও ছাত্র আন্দোলনের ধাক্কা কাটিয়ে ফের বিজেপির জমি শক্ত করবে।

    ব্রিকসের বাজিমাত

    সফলভাবে ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit Success) আয়োজন ভারতের আন্তর্জাতিক প্রভাব ফের সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি। সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশকে ভারতীয় কূটনীতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ঘোষণাপত্রে পাহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দাও ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসের লাগাতার আক্রমণের জেরে সংসদের বাদল অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ওই অধিবেশনে সরকার কোনও বড় সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেনি। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট পেশও পিছিয়ে দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সাফল্যে বিজেপি বাজিমাত করেছে বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

    ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও চিন

    রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বিজেপি। সম্মেলনের ফাঁকে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইরানের মধ্যে আলোচনা, ইরানের প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা এবং টানা তৃতীয় বছর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাকে কংগ্রেসও স্বাগত জানিয়েছে, যদিও দলের তরফে কিছু আপত্তি ও শর্তের কথা জানানো হয়েছে।

    ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    আয়োজক দেশের নেতা হিসেবে তিন দিন ধরে ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তাঁর উষ্ণ সম্পর্ক এবং ব্যস্ত কর্মসূচি বিশেষ নজর কেড়েছে। তিন দিনে ১৫ জন রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। পাশাপাশি একাধিক অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর ছিল আন্তর্জাতিক মহলের। বিজেপির মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত যে এই ধরনের বৃহৎ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষমতা রাখে, তাও প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ভারতের দাবিও আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছে দলটি।

    আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচি

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে ঘিরে দেশীয় রাজনৈতিক আবহ বদলে দেওয়া অবশ্য মোদি সরকারের জন্য নতুন ঘটনা নয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সফল জি-২০ সম্মেলনের সময়ও সরকারের বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। এর আগে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে রোডশো আয়োজনের ঘটনাও দেখা গিয়েছে। বিজেপির কাছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর এই কৌশল যথেষ্ট কার্যকর বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন ব্রিকসের সাফল্যকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই বিজেপি ও সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন।

    ব্রিকস নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা

    দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন থেকে শুরু হতে চলা এক মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এ ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী মোদির জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তির বিষয়টিও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হবে। তাঁর বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক সাফল্যের তালিকায় ব্রিকস সম্মেলনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেছে বিজেপি। সম্মেলনের আগে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম ব্রিকস আয়োজন করে ভারতের কী লাভ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই বক্তব্যকেই হাতিয়ার করে বিরোধীদের আক্রমণ করতে চাইছে বিজেপি।

    ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি

    ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি এবং সম্মেলনের সাফল্য দেশজুড়ে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। একই সঙ্গে ব্রিকসের নৈশভোজে সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু নিয়ে রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতাদের সমালোচনাকেও কটাক্ষ করছে বিজেপি। দলের নেতাদের বক্তব্য, এত বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সমালোচনা করার মতো বিষয় না পেয়ে শুধুমাত্র নৈশভোজের মেনু নিয়ে আপত্তি তোলাই বিরোধীদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যেই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সংসদ এখনও স্থগিত বা প্রোয়োগ করা হয়নি। ফলে প্রয়োজনে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করাতে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা খোলা রয়েছে।

    বিধানসভা নির্বাচনে ব্রিকস নিয়ে প্রচার

    একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়েও আলোচনা চলছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন টিম গঠনের পর দলের সংসদীয় বোর্ড, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি, জাতীয় কার্যনির্বাহী এবং জাতীয় পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে বিজেপি। এর পাশাপাশি আগামী বছরের গোড়ায় পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে দল।

LinkedIn
Share