Tag: BSF

BSF

  • Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) কান্ধমাল জেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা মাওবাদীদের অস্ত্র (Maoist Arms) ও বিস্ফোরকের ভাণ্ডারের হদিস পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দারিংবাড়ি থানার আওতায় মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে এই অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত পাঁচ দিনে ওড়িশার বিভিন্ন জঙ্গলে এটি তৃতীয় মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা।

    অভিযানে মিলল প্রচুর অস্ত্র (Odisha)

    ২৮ অগাস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কান্ধমাল জেলার একাধিক জঙ্গল এলাকায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় মাওবাদীদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য পাওয়ার পরেই অভিযান শুরু হয়। সশস্ত্র তল্লাশি অভিযানে বিশেষ অভিযান গোষ্ঠী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। রায়কিয়া, বালিগুড়া, দারিংবাড়ি এবং কোটগড় থানার আওতাধীন বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের আওতায় বাবুতি, জিমাবাড়ি, কারাহাপাঙ্গা, গারারমহা, জিমারাহা, তেলসি, সিদুপদর, পদলামালা, মাতাবাড়ি, তেরানিপাঙ্গা, ঝাঝিবাড়ি, টুকুবাড়ি, সাতারি, সালাকিঙ্গিয়া, পরিগড়া এবং পেনামাল-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে মাটির নীচে বা জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারটির সন্ধান পান।

    উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে একটি ১২ বোরের রাইফেল, একটি একনলা রাইফেল এবং একটি এসবিএল গ্রেনেড। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ১৯টি বৈদ্যুতিক ডেটোনেটর, দুটি টিফিন-বাক্স আইইডি, এক বান্ডিল কর্ডেক্স এবং দুটি জেলাটিন স্টিক। অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ১৩ রাউন্ড শূন্য দশমিক ৩০৩ ক্যালিবারের গুলি এবং একনলা রাইফেলের ১০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাওবাদীদের শিবিরে ব্যবহৃত আরও বেশ কিছু সামগ্রী, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিস্ফোরক সামগ্রী থাকায় সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় ও সরিয়ে নেওয়ার জন্য বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলকে অভিযানে মোতায়েন করা হয়।

    ন’টি দল নিয়ে অভিযান

    কান্ধমালের পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, এই অভিযানে একাধিক নিরাপত্তা দল অংশ নিয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযান গোষ্ঠীর পাঁচটি দল, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১০৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের তিনটি ইউনিট এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একটি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই জঙ্গলে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধানে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কান্ধমালকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, জেলায় তল্লাশি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব জঙ্গল এলাকায় অতীতে মাওবাদীদের সক্রিয়তা ছিল, সেখানে পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নজর দেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক এই উদ্ধার প্রাক্তন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় পড়ে থাকা অবশিষ্ট পরিকাঠামো চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

    অভিযান চলবে

    জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি এবং নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করার পাশাপাশি পুরনো মাওবাদী ঘাঁটিগুলিকে যাতে ফের সশস্ত্র কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য (Odisha)।

    পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতীতে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। সাম্প্রতিক অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা কান্ধমালে অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    আগেও মিলেছে মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ

    কান্ধমালে চলতি বছরে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৬ জুন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীতাগুড়হা, গঞ্জুগুড়হা, কুটিবারহি, গুড়িকিয়া এবং লাঞ্জাম গ্রামের আশপাশের জঙ্গল থেকে আরও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছিল। এলাকাগুলি কোটগড়, বালিগুড়া এবং তুমুড়িবান্ধা থানার আওতাধীন।

    এর আগে ১১ জুন বালিগুড়া এলাকাতেও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

    কান্ধমালকে ৩১ মার্চ ২০২৬ মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, বারবার অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো মাওবাদী পরিকাঠামোর সন্ধানে তল্লাশি এখনও জারি রয়েছে।

    ২৬ অগাস্ট মালকানগিরিতেও অস্ত্র উদ্ধার

    কান্ধমালের ঘটনার দু’দিন আগে, ২৬ অগাস্ট ওড়িশা-ছত্তিশগঢ় সীমান্তবর্তী মালকানগিরি জেলার একটি জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অস্ত্রভাণ্ডারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এরপর জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মথিলি থানার আওতাধীন চেরকোটলা, কিরমিটি, কোটওয়াপদর এবং কাদাভাটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালান।

    কৌশলগত দিক থেকেও এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্রতিবেশী ছত্তিশগঢ়ের বস্তার জেলার দরভা থানা এলাকা এবং সুকমা জেলার পুসপাল থানা এলাকার সংলগ্ন।

    অস্ত্র মিলেছিল সুন্দরগড়েও

    এর আগে ২৪ অগাস্ট সুন্দরগড় জেলার কে বালাং থানার আওতাধীন সিলকুটা সংরক্ষিত জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের একটি গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলের যৌথ অভিযানে এই উদ্ধার হয়।

    আত্মসমর্পণকারী নকশালদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। পুলিশের মতে, অস্ত্রভাণ্ডারটি প্রায় চার বছরের পুরনো। সেখান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক সামগ্রী, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়।

    অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভাঙতেই নজর

    মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওড়িশার তিনটি জঙ্গল এলাকা থেকে মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, চিরুনি তল্লাশি এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও মাওবাদী পরিকাঠামোর অবশিষ্ট অংশগুলি (Maoist Arms) সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করা গেলে ভবিষ্যতে নতুন করে মাওবাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমানো সম্ভব হবে (Odisha)।

     

  • Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এই কৌশলগত অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার উপস্থিতি (National Security) বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার করিডরটির নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি আরও নির্দেশ দেন, শিলিগুড়ি করিডরকে সব ধরনের দখলদারি থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

    শিলিগুড়ি করিডর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড। এটি ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই করিডরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ, উত্তরে তিব্বত তথা চিনের অবস্থানের মাঝে রয়েছে এই করিডরটি। একই সঙ্গে এটি নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে শিলিগুড়ি করিডরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    বৈঠকে শাহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শিলিগুড়ি করিডরে অসামরিক প্রতিরক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা পর্যালোচনা (Amit Shah)

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের সময়ই শাহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের কার্যকলাপ, জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈঠকে উঠে আসে।

    বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক, সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রেল সুরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশকও।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সব সংস্থাকে করিডরে তাদের প্রতিষ্ঠান ও পরিকাঠামোর সংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

    করিডরের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তাও পর্যালোচনা করেন তিনি। সেগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি করিডরকে দখলদারি থেকে মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, “শিলিগুড়ি করিডরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।”

    বৈঠকে বহু সংস্থার সমন্বিত কাঠামোর অধীনে শিলিগুড়ি করিডরের জন্য গঠিত বিশেষ মনোযোগী গোষ্ঠী এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার জন্য তাদের সুপারিশ তুলে ধরে।

    এ ছাড়াও করিডরের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশল

    বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রচলিত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Amit Shah)।

    এই চার স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সশস্ত্র সীমা বলের মতো সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী; অবৈধ অনুপ্রবেশ, স্থানীয় গতিবিধি ও অপরাধী চক্রের ওপর নজর রাখা রাজ্য পুলিশের মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা; অসামরিক প্রশাসন এবং স্থানীয় জনসমাজ।

    শাহ নির্দেশ দেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি স্তম্ভকেই সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এই সমন্বিত কৌশল পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

    শিলিগুড়ি করিডরের পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলির গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যে সমস্ত কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    উত্তরবঙ্গে আরও বেশি সৈনিক বিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্যও রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেন শাহ। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে জাতীয় ক্যাডেট বাহিনীর সিনিয়র ক্যাডেটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগী হতে বলেন তিনি।

    গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহের

    শিলিগুড়িতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোর্খা সাংসদ, বিধায়ক এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। দীর্ঘদিনের দাবি ও গোর্খা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উদ্বেগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ন্যায়সঙ্গত, মর্যাদাপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত পথরেখা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকের পর শাহ জানান, গোর্খা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং প্রকৃত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরির বিষয়েও কথা হয়েছে।

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার এই বিষয়গুলির সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে গোর্খা সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হবে (Amit Shah)।”

    শাহ এও বলেন, সরকার এমন একটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে, যা গোর্খা সম্প্রদায়ের প্রত্যাশাকে সম্মান করবে, তাদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখবে এবং আরও ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।”

    গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে (National Security)।

    গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আশা

    বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানান, বৈঠকের ফলে গোর্খাল্যান্ড সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “গোর্খাল্যান্ড সমস্যা নিয়ে আমরা যে সমাধান চাইছি, তা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হবে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে আমাদের মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজের নেতৃত্বেই ওই কমিটি কাজ করবে।”

    শ্রিংলা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিলিগুড়ি করিডরে একশো শতাংশ নিরাপত্তা থাকবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।”

    বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানান, বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে উদ্বেগ এবং উত্তরবঙ্গকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিভিন্ন প্রচেষ্টার বিষয়টিও (Amit Shah) উঠে আসে এদিনের আলোচনায় (National Security)।

     

  • Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ বিমানে শিলিগুড়িতে পৌঁছন তিনি। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ এবং পাহাড়ের একাধিক সমস্যা।

    বিমানবন্দর থেকে অমিত শাহ সুকনার একটি হোটেলে যান। সেখানেই রাতে থাকার পর শুক্রবার সকালে তাঁর সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-র সুকনা শিবিরে যাবেন। সেখানে ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পরপর দু’টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বৈঠকগুলিতে বিএসএফ-এর শীর্ষ আধিকারিকদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নজরে ‘চিকেনস নেক’, বাড়ছে নিরাপত্তার গুরুত্ব

    উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে এসএসবি শিবিরের বৈঠকগুলিকে। ভারতীয় ভূখণ্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কয়েক দশক কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডরই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। ফলে এই এলাকার নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কেন্দ্রের বিশেষ নজর রয়েছে। শুক্রবারের বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ করিডরের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উত্তরবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘চিকেনস নেক’-এর কৌশলগত গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কাওয়াখালি ময়দানে বিএনএস প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    এসএসবি শিবিরে বৈঠক শেষ করে অমিত শাহের শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে যাওয়ার কথা। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। আগামী ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। সাধারণ মানুষের কাছে নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি-র পরিবর্তে কার্যকর হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় কোন পুরনো ধারার পরিবর্তে কোন নতুন ধারা এসেছে, প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা তুলে ধরা হবে। নতুন আইন এবং তার বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    দলীয় বৈঠক, শনিবার পাহাড় নিয়ে পরপর দুই বৈঠক

    শুক্রবারের সরকারি কর্মসূচি শেষ করে ফের সুকনার হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের শেষ দিন শনিবারও ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সুকনার হোটেলেই পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা তাঁর। পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা এবং প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

    সমস্ত বৈঠক ও কর্মসূচি শেষ করে শনিবারই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা, অন্যদিকে পাহাড়ের সমস্যা এবং নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে জনসচেতনতা—সব মিলিয়ে অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একইসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ৪১ পাতার বিশেষ বই প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’ (Sankalp Achievements) শীর্ষক এই বইয়ে নয়া সরকারের প্রথম ১০০ দিনের বিভিন্ন কাজ, সামাজিক প্রকল্প, বিনিয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। বইয়ের প্রচ্ছদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা, এই বইয়ের তথ্য নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

    প্রথম ১০০ দিনের সাফল্য (BJP)

    রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়ানোই পদ্মশিবিরের মূল লক্ষ্য। নিউটাউনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কত মানুষ পেয়েছেন, রাজ্যে কত বিনিয়োগ এসেছে এবং উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রকাশিত বইটিতে এ সংক্রান্ত একাধিক পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার এই প্রকল্প চালু করেছে। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৮ লাখেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন এবং যোগ্য বাকি প্রাপকদেরও প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

    একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, নারীকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। জুন মাসে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরগুলিতেও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, সুকন্যা সমৃদ্ধি, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা হয়েছিল (Sankalp Achievements)। শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতিকে সরকারের সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বইয়ে উল্লিখিত মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দলীয় প্রকাশনার পরিসংখ্যান হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে (BJP)।

    সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষাও এই প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নতুন সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭২.৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মোট ১,০২৪.৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ রোখার বিষয়টিও বিজেপির প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বিএসএফকে জমি দেওয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার জানিয়েছে রাজ্য সরকার। দলীয় প্রকাশনায় কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বা এই বিষয়ে কতগুলি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও রাখা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    সংগঠন নিয়ে কড়া বার্তা

    ১০০ দিন পূর্তির এই প্রচারের পাশাপাশি সংগঠন নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নিউটাউনের প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কোনওরকম আপস করবে না। শিবিরে তিনি বলেন, “বিধায়ক বা জেলা স্তরের কোনও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তাঁকে বরখাস্ত করতে দ্বিধা করবে না।” এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমতি নিয়েই বলা হয়েছে বলেও জানান শমীক। দলীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন দল ছেড়ে চলে গেলেও, সংগঠনের উপর তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না—এমন বার্তাও শিবিরে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনই যে বড়, এই অবস্থানও স্পষ্ট করতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব। ক্ষমতায় আসার পর দলের অভ্যন্তরে ‘শুদ্ধিকরণে’র যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সঙ্গেও এই বার্তার যোগ রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা (BJP)।

    দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড বহু নেতা-কর্মী

    বিজেপির অন্দরে ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সাসপেন্ডের সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জেলা স্তরের সংগঠন নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে। কয়েকটি জেলায় সভাপতিরা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও (Sankalp Achievements) দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই খুব শীঘ্রই এক ডজনেরও বেশি জেলা সভাপতিকে সরিয়ে সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করা হতে পারে বলে খবর।

    বঙ্গ সফরে আসছেন শাহ!

    এমন আবহে শাহের সম্ভাব্য বঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, তিন দিনের সফরে আগামী ২০ অগাস্ট কলকাতায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১ ও ২২ অগাস্ট তাঁর একাধিক দলীয় ও সরকারি কর্মসূচি থাকতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, শাহ নবান্নেও যেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সেখানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকেও উপস্থিত থাকতে পারেন শাহ। ফলে তাঁর সফরকে একই সঙ্গে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    বিজেপির অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে

    আগামী ১৯ অগাস্ট রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সেই উপলক্ষে একদিকে যেমন সরকারের কাজের প্রচারকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তেমনি সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে (BJP)। ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান সম্বলিত বই সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি প্রচার, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য তুলে ধরা, সীমান্ত সুরক্ষায় জমি হস্তান্তরের পরিসংখ্যান জানানো এবং সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তার মধ্যেই শাহের সম্ভাব্য সফর এবং জেলা স্তরে সাংগঠনিক (Sankalp Achievements) রদবদলের জল্পনা—সব মিলিয়ে সরকারের ১০০ দিন পূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে (BJP)।

  • Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ (Human Trafficking In Bengal) করিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে একটি বড় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্তকারীদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং বাগদা সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র অবৈধ অনুপ্রবেশের কাজ চালিয়ে আসছিল। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মণ্ডল-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সদস্য। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করানো হতো।

    কীভাবে চলত অবৈধ অনুপ্রবেশ

    তদন্তে উঠে এসেছে, সীমান্ত (Indo-Bangladesh Border) পার হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে সড়কপথে হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হতো। সেখান থেকে ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করে তাদের দিল্লি, মুম্বই, পুণে, সুরাট, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই চক্র শুধুমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তারা এমন একটি সুসংগঠিত ট্রানজিট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যার মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়েই দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ত অনুপ্রবেশকারীরা। গোটা চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং বিদেশি যোগসাজশ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    তদন্তকারী সংস্থার মতে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে সহজে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসায় সম্পূর্ণ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে এনআইএ। অনুপ্রবেশ ঠেকানো মোদি সরকারের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগেই এই কথা বারবার বলে এসেছেন বিজেপির নেতারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেলন, সরকার ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-কে দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। উপদ্রুত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং-এর কথা বলেছেন। প্রয়োজনে আরও আধুনিক যন্ত্র আনার কথাও হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ

    এই ঘটনাকে ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিষয়টি। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-র দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি না পাওয়ায় অনেক এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল। রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রায় ১,০২৫ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা সফরেরও কথা রয়েছে, যেখানে বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গে। যার একটা বড় অংশ উত্তরবঙ্গের।

    প্রভাবশালী যোগাযোগ

    তবে তদন্তকারী মহলের একাংশের মতে, এত বড় মানবপাচার ও অনুপ্রবেশ চক্র কোনও প্রভাবশালী যোগাযোগ ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারির রাশ (India Bangladesh Border Security) আরও শক্ত করতে ইতিমধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের চেনা ছক সম্পূর্ণ বানচাল করতে এক অভিনব ও কঠোর যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাতে কোনওভাবেই অনুপ্রবেশ না ঘটতে পারে, তার জন্য নিশ্ছিদ্র ব্লু-প্রিন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে (Bengal Border Infiltration Plan)। সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম এলাকাগুলিতে নজরদারি দ্বিগুণ করা, সীমান্তে যে কোনও ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ করা, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় আরও মজবুত করা এবং সবচেয়ে বড় কথা, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যে কোনও গোপন বা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি গতিশীল ও মসৃণ করার উপর জোড় দেওয়া হয়েছে।

  • Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ফুলবাড়ির জুমাগছে সরেজমিন পরিদর্শন

    শুক্রবার রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। শনিবার সকালে অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যৌথভাবে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের স্পর্শকাতর গ্রাম জুমাগছ পরিদর্শন করেন। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত অংশ এবং অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য রুটগুলি খতিয়ে দেখা হয়।

    রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, উত্তরবঙ্গে বাড়ছে নজরদারি

    উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আউটপোস্ট উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে তৈরি হবে। প্রশাসনের মতে, নতুন এই পরিকাঠামো চালু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

    স্মার্ট ফেন্সিং ও থার্মাল নজরদারিতে জোর

    বৈঠকে সীমান্তে আধুনিক ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর যেসব অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন এবং উন্মুক্ত রয়েছে, সেখানে ভার্চুয়াল স্মার্ট ফেন্সিং, উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, জলপথ ব্যবহার করে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশের সুযোগ রাখা হবে না।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ জুমাগছ?

    প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ফুলবাড়ি থেকে নারায়ণজোত পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। জুমাগছ থেকে রাবভিটার দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মহানন্দা নদীর বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত অংশ, যেখানে বর্ষাকালে নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা থেকেই যায়।

    বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও চিনা উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা

    নিরাপত্তা মহলের নজরে রয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে চলা বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পও। সীমান্তের ওপারে ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি কর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডর ও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ছয় জেলার প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের ডাকা হয়। বিএসএফ উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজির উপস্থিতিতে সীমান্তে জমি-সংক্রান্ত জট দ্রুত মিটিয়ে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডর কেন ভারতের ‘লাইফলাইন?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সংযোগ। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের আপসের প্রশ্নই নেই। নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং, ভার্চুয়াল নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্তকে আরও অভেদ্য করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্তের ওপারে দ্রুত বদলে যাওয়া কৌশলগত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের এই পরিকাঠামোগত ও নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।

    ৪৫ দিনে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানোর দাবি

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২টি বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই হোল্ডিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্ত পার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ ওই কেন্দ্রগুলিতে রয়েছেন বলেও তিনি জানান। সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে পাঠানোর পরিবর্তে প্রথমে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণ করে পরে তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে।

    ১ অগাস্ট থেকে ডিজিটাল জাতিগত জনগণনার পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১ অগাস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতিগত জনগণনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বা স্ব-ঘোষণার সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সমীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের জনবিন্যাসের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

    পশ্চিমবঙ্গে আসছে কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

    এদিকে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি শীঘ্রই বিভিন্ন রাজ্য সফর শুরু করবে। প্রথম পর্যায়েই পশ্চিমবঙ্গ তাদের সফরসূচিতে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিটি ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করেছে। বিভিন্ন সীমান্ত রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।

  • West Bengal Cabinet: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বড় সিদ্ধান্ত! কাঁটাতার বসানোর কাজে কেন্দ্রকে ৫৪ একর জমি দিল রাজ্য

    West Bengal Cabinet: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বড় সিদ্ধান্ত! কাঁটাতার বসানোর কাজে কেন্দ্রকে ৫৪ একর জমি দিল রাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, নতুন সীমান্ত চৌকি গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলিকে ৫৪.২৪ একর সরকারি খাস জমি স্থায়ীভাবে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবে অনুমোদন

    বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, জমিগুলি মূলত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-র প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা হবে।

    ৬ জেলায় জমি হস্তান্তর

    সরকারি সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক সীমান্তবর্তী জেলায় এই জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা। যেসব এলাকায় এখনও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হয়নি অথবা নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে এই জমি কাজে লাগানো হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হস্তান্তরিত জমিতে নতুন সীমান্ত চৌকি নির্মাণের পাশাপাশি অসম্পূর্ণ কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষ করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল ও যাতায়াত আরও সহজ করতে নতুন রাস্তা তৈরির কাজও করা হবে।

    জমি-জটে আটকে কাঁটাতারের কাজ

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন অংশে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ থমকে ছিল। এই ইস্যুতে অতীতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধও সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত না মেলায় সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে দ্রুত সীমান্ত বেড়া সম্পূর্ণ করার ওপর বরাবরই জোর দিয়ে এসেছে কেন্দ্র।

    বিএসএফ ও এসএসবি-র সুবিধা

    সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগের ফলে সেই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের গতি বাড়বে, পাশাপাশি বিএসএফ ও এসএসবি-র কাজ পরিচালনাও আরও সহজ হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।

  • Infiltration in West Bengal: এসআইআর ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে থমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্র! বছরে ৯০০ কোটির ‘ধুর পারাপার’ ব্যবসা কার্যত বন্ধ

    Infiltration in West Bengal: এসআইআর ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে থমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্র! বছরে ৯০০ কোটির ‘ধুর পারাপার’ ব্যবসা কার্যত বন্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ অনুপ্রবেশের বিশাল চক্র কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে  এই চক্র একেবারেই কাজ করতে পারছে না। সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় এই নেটওয়ার্কের কার্যপদ্ধতি এবং তার আর্থিক বিস্তার পুরোপুরিভাবে ব্যহত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা থেকে শুরু করে সুন্দরবন পর্যন্ত সোনাই ও ইছামতী নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য ‘ঘাট’, যেগুলির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করানো হতো মানুষকে। স্থানীয় ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হতো ‘ধুর পারাপার’। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই কাজ এখন প্রায় বন্ধ।

    কীভাবে চলত অনুপ্রবেশের চক্র?

    সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের দিকের দালালরা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গতিবিধি নজরে রেখে অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তের কাছে জড়ো করত। অন্যদিকে ভারতের অংশে থাকা ‘লাইনম্যান’রা ধান ও পাটখেতের আড়ালে থেকে বিএসএফের টহল পর্যবেক্ষণ করত। নিরাপদ সংকেত মিললেই ‘ঘাট পার্টি’ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত পার করিয়ে আনত। যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হতো সীমান্তের দুই দেশের সিম কার্ড। আর্থিক লেনদেন চলত মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অ্যাপ বিকাশ (bKash)-এর মাধ্যমে।

    বছরে ৮০০-৯০০ কোটি টাকার কারবার!

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে ভারতে প্রবেশের জন্য প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি টাকা দিতে হতো। এর মধ্যে ভারতীয় দালালদের ভাগে আসত প্রায় ৩ হাজার টাকা, যা বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। অনুপ্রবেশকারীদের পরে শিয়ালদহ বা হাওড়ার মতো বড় পরিবহণ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল গাইডদের ওপর। শুধু হাকিমপুর সীমান্ত এলাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জনের অবৈধ প্রবেশ ঘটত বলে দাবি করা হয়েছে। এক একটি ঘাট থেকে মাসে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা আয় হতো। হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১,০০০টি ঐতিহাসিক পারাপার-পয়েন্টকে কেন্দ্র করে এই অবৈধ ব্যবসার মাসিক আয় ছিল ৭০-৮০ কোটি টাকা। বার্ষিক হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা।

    জাল নথি তৈরির অভিযোগ

    এই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়া। কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও ব্লকস্তরের কর্মীরা ভুয়ো জন্মসনদ, ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরিতে সহায়তা করতেন। স্বরূপনগরের এক প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এমনই এক জালিয়াতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নকল জন্মসনদকে পুরনো দেখানোর জন্য বিশেষ কৌশলে কাগজে দাগ তৈরি করে এবং চালের বস্তার মধ্যে রেখে কৃত্রিমভাবে ‘পুরনো’ করে তুলেছিলেন। ফলে নথিটি প্রথমদিকে যাচাই প্রক্রিয়াতেও ধরা পড়েনি।

    কড়া নজরদারিতে ভেঙে পড়েছে চক্র?

    ভোটার তালিকা সংশোধন, নথি যাচাই এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় এই সিন্ডিকেট এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সীমান্তের একাধিক চেকপোস্টে আত্মসমর্পণের ঘটনাও বেড়েছে বলে। পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট” (শনাক্তকরণ, বাতিল ও বহিষ্কার) নীতি গ্রহণ করে একটি কঠোর অভিযান শুরু করেছে। এই উদ্যোগের ফলে উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদার মতো জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং অনেক অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে যেতে শুরু করেছে।

    রাজ্য সরকারের নতুন পদক্ষেপ

    রাজ্যে পালাবদলের পরে অনুপ্রবেশ রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের তরফে বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

    • সরাসরি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর: আটক অবৈধ বাংলাদেশিদের আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশকে (RPF) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • হোল্ডিং সেন্টার: অবৈধ বিদেশিদের যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ার আগে রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” বা আটককেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
    • সীমান্ত কাঁটাতার: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অনুপ্রবেশ চক্র রুখতে রাজ্য সরকার বিএসএফের হাতে দ্রুত জমি হস্তান্তর করছে।  ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ- এর যতটা জমি প্রয়োজন, ততটাই স্থানান্তর করা হবে, বলে জানিয়েছে শুভেন্দু সরকার। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্তের সুরক্ষার্থে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এর আগে বহুবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর মুখে পূর্বের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অভিযোগ শোনা গিয়েছে সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে।
    • সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা: সীমান্ত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাসাম্প্রতিক অভিযানে হাজার হাজার সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কোচবিহারের কুচলিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তে বিএসএফের সতর্ক নজরদারির কারণে একাধিক বড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

  • Murshidabad Border: মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হল ১৭ অনুপ্রবেশকারীকে, অপেক্ষায় আরও ৯

    Murshidabad Border: মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হল ১৭ অনুপ্রবেশকারীকে, অপেক্ষায় আরও ৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের (Infiltrators) খুঁজে বের করতে রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে প্রশাসনিক তৎপরতা। এরই মধ্যে বড় খবর মিলল মুর্শিদাবাদে (Murshidabad Border)। ভারত-বাংলাদেশের রানিনগর সীমান্ত চৌকি দিয়ে ১৭ জন বাংলাদেশিকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাল বিএসএফ। সূত্রের খবর, শনিবার জেলা প্রশাসনের তরফে লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে থাকা এই ১৭ জনকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ওদিকে, বাংলাদেশ সরকারের তরফে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। বাংলাদেশ প্রশাসনের সবুজ সঙ্কেত মেলার পরেই হয় হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

    বাংলাদেশি সন্দেহে পাকড়াও ২৬ (Murshidabad Border)

    জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার তরফে বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ দফায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মোট ২৬ জনকে। জেরায় তারা কবুল করে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। সূত্রের খবর,   এদের মধ্যে অন্তত সাতজন কেরলে গিয়ে কাজ করছিল পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে। লাগাতার জেরায় অনুপ্রবেশকারীরা জানায়, সীমান্ত পারাপার করায় যেসব দালাল, কিছুদিন আগেই তারা বার্তা পাঠায় এই মর্মে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে (Murshidabad Border)। নেওয়া হচ্ছে কড়া ব্যবস্থাও। ধরা পড়ার ভয়ে ওই বাংলাদেশিরা জলঙ্গি সীমান্তের বিদুপুরের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। যদিও সীমান্তে পৌঁছনোর আগেই ছাঁকনিতে আটকে যায় তারা। পরে ঠাঁই হয় হোল্ডিং ক্যাম্পে। এদিন হল বাংলাদেশে ফেরানো।

    বাড়ানো হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টারের পরিকাঠামো

    জানা গিয়েছে, শনিবারই পড়শি দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১৭ জনকে। তাই লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে রয়েছে ৯ জন। যেহেতু অনুপ্রবেশকারীদের পাকড়াও করতে শুরু হয়েছে ধরপাকড়, এবং ধরাও পড়ছে, তাই তাদের রাখতে হোল্ডিং সেন্টারের পরিকাঠামোও আরও বাড়ানো হচ্ছে। ভগবানগোলার স্বপন নগর মার্কেট কমপ্লেক্সে একটি নয়া হোল্ডিং সেন্টারও গড়ে তুলেছে জেলা প্রশাসন (Infiltrators)।প্রসঙ্গত, অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ডাবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসতেই অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে পদ্ম-সরকার। অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে চালানো হচ্ছে অভিযান। সেই অভিযানেই মিলছে সাফল্য (Murshidabad Border)।

LinkedIn
Share