মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হলদিয়াকে ঘিরে একাধিক শিল্প ও পরিকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের বিশ্বকর্মা পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে (Haldia Plant) তিনি জানান, আগামী ১৪ অক্টোবর, ষষ্ঠীর ঠিক আগে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রকল্পটি ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে তৈরি হয়েছে।
গর্বের প্রতিষ্ঠান আইওসি (Suvendu Adhikari)
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন গর্বের প্রতিষ্ঠান। জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে এর সুনাম রয়েছে। ভারত সরকারের লাভদায়ক নবরত্ন প্রতিষ্ঠান।”
হলদিয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে থাকার সময়ে এলাকায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে ডাউনস্ট্রিম পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প বা ক্র্যাকার ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল। আগামী দিনে হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েলের আরও একটি বড় প্রকল্প আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে জমি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
হলদিয়ায় পেপসিকোর কারখানার সম্ভাবনা
হলদিয়ায় নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা হিসেবে পেপসিকোর কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সংস্থার প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যেই হলদিয়া ও কল্যাণীতে জমি দেখানো হয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, “আমার কাছে বহু নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান আসছে। গতকালও পেপসি কোম্পানিকে হলদিয়ায় পাঠিয়েছিলাম জায়গা দেখার জন্য। তারা কল্যাণী, হলদিয়ার জায়গা দেখে গিয়েছেন। যিনি জমি চাইবেন, সেখানে তাঁদের ৩০-৪০ একর জমি দেওয়া হবে। একটি বড় পেপসি প্ল্যান্ট আসবে।”
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটি পছন্দের জায়গা চূড়ান্ত করলে জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
৬ হাজার কোটির প্রকল্পের উদ্বোধন
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংস্থার কর্ণধার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই একাধিকবার তাঁর বৈঠক হয়েছে। ১৪ অক্টোবর হলদিয়ায় গিয়ে নতুন প্রকল্পটি রাজ্যবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করার কথা তাঁর।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগামী ১৪ অক্টোবর, ষষ্ঠীর ঠিক আগেই ৬ হাজার কোটি টাকার প্ল্যান্টের উদ্বোধনে আমি উপস্থিত থাকব। এটিই রাজ্যবাসীর কাছে পুজোর উপহার হিসেবে তুলে দেব।”
প্রকল্পটি হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানা। সংস্থার প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন ইউনিটে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার টন ফেনল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে (Suvendu Adhikari)।
সঞ্জীব গোয়েঙ্কার নতুন প্রকল্পের ইঙ্গিত
হলদিয়ায় শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সংস্থার নতুন প্রকল্পের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, হলদিয়া এনার্জির হাতে থাকা কিছু উদ্বৃত্ত জমির পাশাপাশি আরও জমির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে গোয়েঙ্কার সংস্থা নতুন একটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্পাঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়েও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্প দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ হয়ে থাকা ট্রমা সেন্টারের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ৫০ শয্যার ট্রমা সেন্টারের সঙ্গে বার্ন ইউনিটও চালু করা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই কাজ শেষ করা হবে (Suvendu Adhikari)।
উন্নয়নের পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে হলদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জল জমার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পুরসভাকে এই বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথাও জানান।
হলদিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এমনভাবে সেতুটি তৈরি করা হবে যাতে জাহাজ চলাচলে কোনও সমস্যা না হয় এবং সাধারণ মানুষ নৌকার পরিবর্তে গাড়ি ও মোটরসাইকেলে সরাসরি যাতায়াত করতে পারেন (Haldia Plant)।
এর পাশাপাশি রেলপথ, জাতীয় সড়ক এবং স্থানীয় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
