Tag: CAA

CAA

  • Anti Goonda Act: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে রেয়াত নয়, গুন্ডাদমন আইনের অংশ কার্যকর বাংলায়

    Anti Goonda Act: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে রেয়াত নয়, গুন্ডাদমন আইনের অংশ কার্যকর বাংলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়া পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। সোমবার থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে গিয়েছে গুন্ডাদমন আইনের (Anti Goonda Act) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্দোলন, বিক্ষোভ কিংবা অন্য কোনও অজুহাতে সরকারি বা জনসম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির জন্য বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।

    সোমবার সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সদ্য পাস হওয়া আইন কার্যকর করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানেই বলা হয়, “আজ, সোমবার থেকেই গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ কার্যকর করা হল পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

    সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে হিংসাত্মক আন্দোলন বা অরাজকতার নামে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতির মূল পরিমাণের তিন গুণ অর্থ আদায় করা হবে। সেই অর্থ কড়ায়-গন্ডায় সুদ-সহ আদায়ের ব্যবস্থাও করা হবে। শুধু সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ নয়, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায়ও দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    জুলাইয়েই বিধানসভায় পাস গুন্ডাদমন বিল (Anti Goonda Act)

    রাজ্য থেকে অপরাধমূলক ও অসামাজিক কার্যকলাপ নির্মূল করার লক্ষ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতেই বিধানসভায় পেশ ও পাস করা হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’। সাধারণ মানুষের কাছে যা গুন্ডাদমন বিল নামে পরিচিত হয়েছে। বিধানসভায় বিলটি পাসও হয়।

    বিল পেশের সময় সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, সম্পূর্ণ গুন্ডামুক্ত বাংলা গড়ে তোলাই এই আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয় (Anti Goonda Act)।

    এর পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে রাজ্যে আগে থেকেই চালু থাকা আইনি কাঠামোয় সংশোধন এনে পাস করা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষণ আইন সংশোধনী বিল, ২০২৬’। দু’টি আইন একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা এসেছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে প্রতিরোধমূলক আটক করার পাশাপাশি অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।

    অতীতের হিংসার প্রসঙ্গ তুলে কড়া বার্তা

    সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের অতীতের একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। রেল স্টেশন, ট্রেন এবং সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি করা হয়। কয়েকটি এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    হাওড়ার সাঁকরাইলেও সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলা হয়। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে (Anti Goonda Act)।

    সরকারি সম্পত্তি নষ্টে জিরো টলারেন্সের বার্তা

    বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলায় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আন্দোলনের নামে হিংসা, অরাজকতা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Suvendu Adhikari)।

    সরকারের বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসম্পত্তি সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। গুন্ডামি ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নেবে এবং আইন ভাঙলে তার আর্থিক ও আইনি—দুই ধরনের পরিণতিই ভোগ করতে হবে (Anti Goonda Act)।

     

  • Amit Shah on CAA: সিএএ-তে আবেদনকারী বাংলাদেশি শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব, বড় ঘোষণা শাহের

    Amit Shah on CAA: সিএএ-তে আবেদনকারী বাংলাদেশি শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব, বড় ঘোষণা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আসা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে আবেদন করা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব (CAA Citizenship) দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah on CAA)। শুক্রবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাওয়াখালিতে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এটা আমার প্রতিশ্রুতি।” তিনি জানান, সিএএ-র আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলাশাসককে সিএএ-র অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বিশেষ ক্ষমতা

    নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। সেইসব জটিলতা কেটে যাবে। সেই বার্তাও এদিন দিয়েছেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সমস্ত শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলাশাসকদের সিএএ-র অধীনে পড়ে থাকা আবেদনগুলি প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা দেয়। এর আগে এই আবেদনগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা হত। ওই কমিটিতে জনগণনা দফতর, গোয়েন্দা ব্যুরো এবং ডাক বিভাগের আধিকারিকরাও থাকতেন। অমিত শাহ জানান, সিএএ-র অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ৮ জন জেলা শাসককে ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁর দাবি, সমস্ত যোগ্য শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

    সিএএ প্রসঙ্গে মমতাকে নিশানা শাহ-র

    নরেন্দ্র মোদি সরকার নাগরিকত্ব আইন চালু করেছে। বাংলা-সহ ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে আগেই বার্তা দিয়েছে বিজেপি সরকার। বাংলাদেশ থেকে এই বাংলাতেও অনেক শরণার্থী এসেছেন অতীতে। তাঁদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, সেই কথা জানানো হয়েছিল। অনেকেই সিএএ-তে আবেদন করে ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে আসছিল। এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। শিলিগুড়িতে (Amit Shah in Siliguri) ফের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় বার্তা দিলেন শাহ। এদিন সিএএ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শাহ। তাঁর দাবি, CAA চালুর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইন কার্যকর হতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন। শাহ বলেন, “মমতাদিদি সিএএ কার্যকর করতে রাজি হননি। দেশের সুরক্ষার ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করছেন মমতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাকেও যেতে হয়েছে, আপনার সরকারকেও যেতে হয়েছে। এখন এখানে বিজেপির সরকার রয়েছে।” নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী—বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা যোগ্য হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সিএবং খ্রিষ্টান অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।

    শ্যামাপ্রসাদ-এর সংকল্প

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বার্তা দিতেন। কংগ্রেস সেই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ ছিল! স্বাধীনতার সময় জওহরলাল নেহরু ও লিয়াকতের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেসময় হিন্দু শরণার্থীরা, বিশেষ করে বাংলার হিন্দুরা আরও কোণঠাসা হয়েছিলেন বলে মত রাজনীতিকদের একাংশের। ভিটেমাটি-সহ সব কিছুই হারিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এদিন অমিত শাহ বলেন, “সেই চুক্তি যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পড়েছিলেন, তিনি বলেন কংগ্রেস পূর্ব পাকিস্তান ও পাকিস্তানের হিন্দুদের কথা চিন্তা করেননি। ভারতের মুসলমানের চিন্তা করেছেন কিন্তু হিন্দুদের কথা বলেনি।” শাহ জোর গলায় এদিন বলেন, “এখন শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিক করছেন। আমরা বাকিদেও নাগরিকত্ব দেব।”

    অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার

    ভারতের নতুন তিনটি ফৌজদারি আইনের ওপর শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করবে এবং তাদের রাজ্য থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে সরকার ‘শনাক্ত, বাতিল এবং বহিষ্কার’ (ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট) নীতি অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলার মানুষকে আবারও প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত করা হবে।’ বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থলসীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে হওয়া অভিবাসন ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি) প্রতিনিয়ত রাজ্যে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সিএএ বাস্তবায়নকে তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

  • CM Suvendu Adhikari: জনগণনা শুরু রাজ্যে, অনলাইনে ৩৩ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    CM Suvendu Adhikari: জনগণনা শুরু রাজ্যে, অনলাইনে ৩৩ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজ্যে শুরু হল জনগণনার কাজ। দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো এ রাজ্যেও প্রথম বার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা করা হচ্ছে। এই পর্বে অনলাইনে ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে স্ব-শুমারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নবান্নে বসেই তিনি নিজের পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করেন। পাশাপাশি রাজ্যবাসীকেও (Census) স্ব-শুমারির সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    স্ব-শুমারি প্রথম বার (CM Suvendu Adhikari)

    এ বারের জনগণনায় স্ব-শুমারি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ—এই দুই বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ বারের জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১০০ শতাংশ ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। সেলফ এনুমারেশন অর্থাৎ স্ব-শুমারি হচ্ছে প্রথম বার।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “রাজ্যবাসীর দেওয়া তথ্য গোপন এবং আইনগত ভাবে সুরক্ষিত থাকবে। একমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের জন্য তা ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের সুযোগ নেই।”

    ‘জনগণের জনকল্যাণ’

    এ বারের জনগণনার মূল বার্তা ‘জনগণের জনকল্যাণ’। জনগণনা সফল ভাবে সম্পন্ন হলে উন্নত ভারত গঠনের পরিকল্পনায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্যও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ১৫ অগস্ট স্ব-শুমারি পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হবে বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের কাজ। ১৬ অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণনাকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখবেন। কোথাও ভুল বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগও থাকবে। এ বার গোটা জনগণনা প্রক্রিয়াই ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য গণনাকারীদের বিশেষ মোবাইল ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হবে। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে তথ্য সংগ্রহের কাজ আগের তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কাগজের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে (CM Suvendu Adhikari)।

    মিলবে জাতিগত সুবিধা

    স্ব-শুমারির ৩৩টি প্রশ্নে নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিচয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বসবাসের ধরন-সহ নানা তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই জনগণনায় প্রথম বার জাতিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জাতিগত ভিত্তিতে স্থায়ী পরিসংখ্যান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এর ফলে সাধারণ মানুষ জাতিগত সুবিধা পাবেন। আলাদা করে তাঁদের লাইনে দাঁড়াতে হবে না। জাতিগত তথ্যে স্থায়ী পরিসংখ্যান থাকবে।” জনগণনার প্রস্তুতি নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার সময়মতো কাজ শুরু করেনি। বর্তমান সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন যাঁরা

    এ দিকে, যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনার তালিকায় এখনও বিবেচনাধীন, তাঁরা স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। এর মধ্যে কিছু নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে, ট্রাইবুনালও হয়েছে এবং প্রায় সাত লাখ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের তরফে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসা মানুষদের নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে একাংশ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন এবং অন্য অংশ শরণার্থী। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি (CM Suvendu Adhikari)।

    শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী

    শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অন্যেরা হলেন শরণার্থী। সিএএর আওতায় হিন্দু, শিখ, জৈন পারসিরা কিন্তু শরণার্থীর পর্যায়ে পড়েন। ২০১৯ সালের আইন, ২০২৪ সালের রুলে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তাঁরা শরণার্থী। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাণ, ধর্ম বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এ রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হবে না। পুলিশ হয়রানি করতে পারবে না।” জনগণনার (Census) মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এখন নজর আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলা স্ব-শুমারি পর্বে রাজ্যের মানুষ কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, তার দিকে (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্কিত শর্মা হত্যা (IB Officer Murder Verdict) মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন। তারপর মঙ্গলবার আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির (BJP) জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তাঁর দাবি, তাহির হুসেনের পাশাপাশি এই ঘটনার সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কারণ তিনি হুসেনকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন।

    বিজেপি নেতার বক্তব্য (IB Officer Murder Verdict)

    সাংবাদিক বৈঠকে আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে গৌরব বলেন, “এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন তাহির হুসেন। ওই সময় তিনি আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর ছিলেন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আজ তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন, ৩৬৫ ধারায় অপহরণ এবং ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাহির হুসেনের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটেছিল এবং পরে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।” ভাটিয়ার দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিহত প্রায় ৬০ জনের জন্য কিংবা অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেজরিওয়াল একটি কথাও বলেননি।

    জনতাকে উসকে দেন তাহির

    আদালতের পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “আদালত জানিয়েছে, অঙ্কিত যখন নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনতার সামনে এসেছিলেন, তখন তাহির জনতাকে উসকে দেন। আদালত আরও বলেছে, অভিযুক্তরা একটি ষড়যন্ত্র ও অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে হিন্দুদের হত্যা করতে চেয়েছিল এবং সেই কারণেই অঙ্কিত শর্মাকেও হত্যা করা হয়।” তাঁর প্রশ্ন, “কেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাহিরকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন? কেন তিনি অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি?” আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লা খানের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। ভাটিয়ার অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে আম আদমি পার্টি। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী অঙ্কিতের দেহে ৫১টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অভিযোগ, এত নৃশংস ঘটনার পরেও কেজরিওয়াল কখনও শর্মা পরিবারের পাশে দাঁড়াননি।

    আপ এবং কংগ্রেসকেও নিশানা

    কংগ্রেসকেও নিশানা করেন এই বিজেপি কর্তা। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ভুয়ো আতঙ্ক ছড়িয়ে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তিনি বলেন, “সংসদে আইন পাস হওয়ার পর সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যাতে মনে হয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আজ আমি জানতে চাই, কতজন ভারতীয় মুসলিম তাঁদের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন? উত্তর একটিও নয়।” সোনিয়া গান্ধীর ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে (IB Officer Murder Verdict) ভাটিয়া বলেন, “যখন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল না, তখন এই লড়াই কীসের জন্য ছিল?” রাহুলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “তিনি (রাহুল) দাঙ্গা কবলিত এলাকায় গিয়ে একটি মসজিদে গিয়েছিলেন, যদিও অঙ্কিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। এটি নিরাময়ের স্পর্শ নয়, বরং রক্তাক্ত করার স্পর্শ ছিল।”

    শেষে বিজেপির পক্ষ থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর কাছে দিল্লিবাসী ও দেশের মানুষের উদ্দেশে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে আমানতুল্লা খান এবং ইমরান মাসুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা (BJP) নেওয়ারও দাবি তোলেন ভাটিয়া। তিনি বলেন, “যে-ই যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রত্যেক অপরাধীকেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে (IB Officer Murder Verdict)।”

     

  • Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের রাজনীতিতে বহু দশক ধরে অসমীয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ছিল সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত। ভাষা, অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন, নাগরিকত্ব এবং কর্মসংস্থানকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের ফলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) নেতৃত্বে সেই সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলেই দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তু এবং অনুপ্রবেশকারী মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরার রাজনৈতিক বার্তা এই পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেই সামনে এসেছে।

    কী বলছে হিমন্তর সরকার (Himanta Biswa Sarma)

    সরকারের বক্তব্য, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বা পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বেআইনি অভিবাসীদের এক শ্রেণিতে ফেলা উচিত নয়। এই অবস্থানকে সামনে রেখেই গত কয়েক বছরে অসমে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয়েছে। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে আইডিয়া এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত সন্দেহভাজন ভোটারদের প্রসঙ্গে বলেন, “এখন বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। এক সময় এই সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ। ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, এবং আমি মনে করি খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি এও বলেন, “আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে একজনও বাঙালি হিন্দু নেই। এটাই সবচেয়ে ভালো খবর। সবার আধার হয়েছে। আগে যেখানে সাড়ে চার লাখের মতো মানুষ ছিলেন, এখন তা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধগুলির নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।”

    যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক সময় হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায় মিলিয়ে এই সংখ্যা ছিল ১২ থেকে ১৪ লাখের মধ্যে। বর্তমানে তা কমে ৩.৫৪ লাখ হয়েছে এবং তার মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা এক লাখেরও কম। তবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (nrc) প্রকাশিত হলে প্রথমদিকে আবার কিছু মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাঙালি হিন্দুরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি কিছুটা জটিল হলেও, আমরা ধাপে ধাপে এর সমাধান করছি।” রাজ্য সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (caa) নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি করেছে। সেই কারণেই বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বিষয়টি বেআইনি অনুপ্রবেশের প্রশ্নের থেকে (Himanta Biswa Sarma) আলাদা করে দেখা উচিত বলেই দাবি সরকারের।

    নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

    এই অবস্থানের পাশাপাশি অসম চুক্তিতে নির্ধারিত ২৪ মার্চ ১৯৭১-কে বেআইনি অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করার গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা হিসেবেও বারবার তুলে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পঞ্জির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে যাঁরা প্রকৃত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অসমীয়া হিন্দু এবং বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কমানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। অসমের শাসক দল বিজেপির দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনকে ব্যবহার করলেও, বর্তমানে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি (Himanta Biswa Sarma) হয়েছে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ।

    গলেছে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু সম্পর্কের বরফ

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন বিভিন্ন জনসভায়ও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে পদ্ম শিবিরের তরফে। ২০২৫ সালের অগাস্টে শিলচরে হিমন্তর সভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। একইভাবে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর একাধিক সভায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। শাসক শিবিরের মতে, অসমে ভাষাগত বিভাজনের পরিবর্তে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর ঐক্যের বার্তাই এখন রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে এই ইস্যু এখনও জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে (Himanta Biswa Sarma)।

    অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য

    প্রসঙ্গত, অনেক আগেই হিমন্ত অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্দু বাঙালিরা, যাঁরা নিজেদের ‘ধর্ম’ রক্ষার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি এবং শত শত বছরের বংশানুক্রমিক সম্পদ খুইয়েছিলেন, তাঁরা অবশেষে তাঁদের বহু-প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনও হিন্দু বাঙালিকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দেওয়া হবে না বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “হিন্দু বাঙালিদের বিদেশি হিসেবে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই, কারণ তাঁরা ১৯৭১ সালের আগেই এসেছেন। তাই অসমে সিএএর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।” ২০১৯ সালে অসমে যখন জাতীয় এনআরসির ত্রুটিপূর্ণ খসড়া প্রকাশিত হয়, এবং প্রায় ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ পড়ে তালিকা থেকে, তখনই হিমন্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই প্রক্রিয়াটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’। নতুন করে এনআরসি করার ডাকও দিয়েছিলেন অসমের পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী (Himanta Biswa Sarma)।

     

  • Suvendu Adhikari: সিএএ মামলার পুরনো ফাইল খুলে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর, কীভাবে আদায় করা হবে ক্ষতিপূরণ, জানেন?

    Suvendu Adhikari: সিএএ মামলার পুরনো ফাইল খুলে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর, কীভাবে আদায় করা হবে ক্ষতিপূরণ, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের (CAA Protest Investigation) সময় ভাঙচুর করা হয়েছিল রেলের সম্পত্তি, আগুন লাগানো হয়েছিল ট্রেনে। ঘটনায় ফের তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে পুরনো মামলার ফাইল আবার খোলার নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    রেলমন্ত্রীর কাছে পদক্ষেপ করার অনুরোধ (Suvendu Adhikari)

    সূত্রের খবর, নবান্নে রেলের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বৈঠকের সময় রেলমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন শুভেন্দু। ২০১৯ সালে মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায় সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় ট্রেনে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল রেলের। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হয়েছিল রেল পরিষেবা। বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং ঘুরপথে চালিয়ে সামাল দেওয়া হয়েছিল পরিস্থিতি। জানা গিয়েছে, ভবানীপুরে আরপিএফের একটি বিশেষ অফিস গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বসেই পুরনো নথি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলবে। তদন্তে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা দেওয়ার জন্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

    ক্ষতিপূরণ আদায়

    আইন অনুযায়ী, রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা বা ভাঙচুর করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের অপরাধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশ, ক্ষতিগ্রস্ত রেল সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে। কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে, আইন অনুযায়ী তার সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করতে হবে (CAA Protest Investigation)। উল্লেখ্য, এই বিষয়ে সরকারি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি আদালতে। তাই নেওয়া হয়নি ব্যবস্থাও। এবার সেই ফাইল ফের খুলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোমর কষে নেমেছে রাজ্যের পালাবদলের সরকার (Suvendu Adhikari)।

     

  • CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণার নির্দেশ কেন্দ্রের

    CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণার নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯-এ সংশোধন এনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা যেসব ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের নিজের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণা করা (CAA) বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি (CAA)

    সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে (Passport), আবেদনকারীদের এখন ঘোষণা করতে হবে যে তাঁদের কাছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ সরকারের জারি করা বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কোনও পাসপোর্ট নেই। যদি কোনও আবেদনকারীর কাছে বর্তমানে সচল পাসপোর্ট থাকেও, তবে তাঁকে পাসপোর্ট নম্বর, কোথায়, কবে ইস্যু হয়েছে, এবং মেয়াদ শেষের তারিখ-সহ সমস্ত তথ্য জমা দিতে হবে।

    আবেদনকারীদের আরও একটি অঙ্গীকারপত্র

    সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের আরও একটি অঙ্গীকারপত্র দিতে হবে এই মর্মে যে, নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাঁরা তাঁদের বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট বা সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্টের কাছে জমা দেবেন। নয়া এই বিধানটি নাগরিকত্ব বিধির সিডিউল আইসি (Schedule IC)-এর পরে সংযোজন করা হয়েছে। এটি আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ভুক্ত নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন (CAA)। এই পদক্ষেপটি সিএএ (Citizenship Amendment Act, 2019)-এ কার্যকর করতে করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আগত নথিবিহীন অ-মুসলিম অভিবাসীরা, যাঁরা (CAA) ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ (Passport) পাবেন।

    নাগরিকত্ব বিধির প্রথম বিজ্ঞপ্তি

    প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব বিধি (CAA) সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রথমে জারি হয়েছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে। সর্বশেষ সংশোধিত হয়েছে ১১ মার্চ, ২০২৪ সালে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সংসদে পাস হয়েছিল নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (CAA)। আইনটি নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেছিলেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় নির্যাতনের মুখে পড়ে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের স্বস্তি দেওয়াই এই আইনের উদ্দেশ্য। তিনি এও জানিয়েছিলেন, এই আইন ভারতের কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় (Passport)। ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে। নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণের ভিত্তিতে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

    অমিত শাহের দাবি

    শাহ বলেছিলেন, এই আইনে যে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, তা ভারতে প্রবেশের তারিখ ও বছর থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং যোগ্য আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে যেসব আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, এই সব অভিবাসীদের পাসপোর্ট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও, তাঁদের অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য করা হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে (Passport) সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বছরের পর বছর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। তাই বহু মানুষ ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছেন (CAA)।

     

  • Ashok Kirtania: লক্ষ্য ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন’, জাল রেশন কার্ড নিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

    Ashok Kirtania: লক্ষ্য ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন’, জাল রেশন কার্ড নিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বঙ্গ-বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যকে ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন’ উপহার দেওয়ার কথা বলেছিলেন (Ration Card) বিজেপির শীর্ষ নেতারাও। পালাবদলের পর প্রতিনয়ত এই চেষ্টাই করে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই খাদ্য দফতরকে দুর্নীতিমুক্ত করার ডাক দিয়েছিলেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিজেপির অশোক কীর্তনিয়া (Ashok Kirtania)।

    জাল রেশন কার্ড নিয়েও হুঁশিয়ারি (Ashok Kirtania)

    জাল রেশন কার্ড নিয়েও এবার কড়া পদক্ষেপ করার কথা জানালেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, ভারতের নাগরিক না হলে সমস্তরকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। রবিবার বনগাঁয় এক সাংবাদিক বৈঠকে খাদ্য ও সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানান, এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁরা কোনও সরকারি সুবিধা পাবেন না। রেশনও পাবেন না। এসআইআরের পরেও ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁদের রেশন কার্ড বাতিল করা হবে। তবে, যেসব ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের পরিষেবা চালু থাকবে। এসআইআর-উত্তর পর্বে মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকেরই নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। সেই সব ভোটারদের অবিলম্বে সিএএ-র জন্য আবেদন করার আর্জি জানান মন্ত্রী।

    মতুয়া সম্প্রদায়কে বার্তা

    তিনি বলেন, “যাঁরা উদ্বাস্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ, তাঁদের কোনও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে অনেক মানুষ সিএএ-তে আবেদন করেননি। আমি তাঁদের বার বার বলছি, শীঘ্রই আবেদন করুন। সিএএতে আবেদন করলেও তাঁরা কোনও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।’ নয়া খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সরকারি কর্মীর নামে রয়েছে বিপিএল তালিকাভুক্ত রেশন কার্ড। তাঁদের দ্রুত কার্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। না হলে কড়া পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দেন মন্ত্রী। দু’-এক দিনের মধ্যেই আধিকারিকদের না জানিয়ে খাদ্য দফতরের বিভিন্ন অফিসে সারপ্রাইজ় ভিজ়িট হবে বলেও জানান তিনি (Ashok Kirtania)।

    আদর্শ মুখ্যমন্ত্রী, লালবাতি গাড়ি ছাড়লেন খাদ্যমন্ত্রী

    এদিকে, মন্ত্রী হওয়ার পর লালবাতি লাগানো গাড়ি পেয়েছেন অশোক। যদিও তিনি চান না তাঁর গাড়িতে লালবাতি থাকুক। বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই।” তিনি বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী লালবাতি ব্যবহার করছেন না। তাই আমিও করছি না।” বনগাঁ উত্তরের দু’বারের বিধায়ক অশোক মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। মন্ত্রী হওয়ার পরেও একটুও বদলাননি মাটির কাছাকাছি থাকা এই মানুষটি। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বদ্ধপরিকর রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। সেই ব্যবস্থা করতেই রবিবার বনগাঁয় গিয়েছিলেন মন্ত্রী। জমি অধিগ্রহণ করতে স্থানীয়দের সঙ্গে সরকারি তরফে কথা বলাও শুরু হয়েছে। মন্ত্রী জানান, দেশের (Ration Card) সুরক্ষার স্বার্থে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি প্রয়োজন। মালিকদের জমি দেওয়ার অনুরোধও করেন তিনি (Ashok Kirtania)।

     

  • India: আরএসএস, ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের, রিপোর্ট পত্রপাঠ খারিজ ভারতের

    India: আরএসএস, ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের, রিপোর্ট পত্রপাঠ খারিজ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF) ২০২৬-এর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করল ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক। ওই প্রতিবেদনে আরএসএস (RSS) এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছিল। সোমবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই কমিশন ধারাবাহিকভাবে বাস্তব তথ্যের বদলে মতাদর্শগত বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের একটি বিকৃত ও নির্বাচিত চিত্র তুলে ধরছে।

    কী বললেন জয়সওয়াল? (India)

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা ইউএসসিআইআরএফের সর্বশেষ প্রতিবেদনটি লক্ষ্য করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে এর পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতের যে ছবি তুলে ধরা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করছি। বহু বছর ধরে ইউএসসিআইআরএফ সন্দেহজনক সূত্র ও মতাদর্শগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে ভারতের একটি বিকৃত ও একপাক্ষিক ছবি তুলে ধরছে। বারবার এই একই ধরনের ভুল উপস্থাপন কমিশনের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ণ করে।” প্রতিবেদনটিতে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। কমিশনের অভিযোগ, ভারত সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও উপাসনালয়গুলিকে টার্গেট করছে এবং ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছে যেন বাণিজ্যনীতি ও অস্ত্র বিক্রিকে মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

    কী বলা হয়েছে প্রতিবেদনে?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, “ভারতের কয়েকটি রাজ্য ধর্মান্তর বিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে কঠোর কারাদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আটক ও নাগরিক এবং ধর্মীয় শরণার্থীদের অবৈধ বহিষ্কারকে সহজতর করেছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণপিটুনি বা নজরদারি হামলাকে সহনীয়ভাবে দেখেছে (India)।” কমিশন ওয়াকফ সংশোধনী আইন এবং উত্তরাখণ্ড স্টেট অথরিটি ফর মাইনরিটি এডুকেশন অ্যাক্টের মতো আইনগুলির সমালোচনা করে। একই সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার জন্য কাঠগড়ায় তোলা হয়। ইউএসসিআইআরএফের সুপারিশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্টের ধারা ৬ প্রয়োগ করে ভারতের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করুক। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে এই সুপারিশ করা হয়েছে (USCIRF Credibility)।

    ভারতের ‘পরামর্শ’ আমেরিকাকে

    এই বাড়তে থাকা সুপারিশের জবাবে বিদেশমন্ত্রক (India) কমিশনকে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়। জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক সমালোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইউএসসিআইআরএফের উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, ভারতকে বেছে নিয়ে টার্গেট করা এবং ভারতীয় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাগুলির দিকে নজর দেওয়া, যা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।” বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন নয়। এর আগে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে ইউএসসিআইআরএফের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে এবং ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে তাদের সমালোচনার বিরোধিতা করেছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ২০২৫ সালের অনুরূপ বিতর্কে ভারতের বিদেশমন্ত্রক বলেছিল, বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা কমিশনের একটি পূর্বনির্ধারিত অ্যাজেন্ডার অংশ, প্রকৃত উদ্বেগ নয় (USCIRF Credibility)। তখনই মন্ত্রক ভারতের বহুত্ববাদী কাঠামোর ওপর জোর দিয়ে বলেছিল, ১৪০ কোটিরও বেশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এখানে সহাবস্থান করছে। তারা আরও বলে, “ভারতকে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে দুর্বল করার এই প্রচেষ্টা সফল হবে না। বরং ইউএসসিআইআরএফকেই একটি উদ্বেগজনক সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত (India)।”

  • Communal Violence: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশে মমতার ‘থ্রেট’, গত ১৫ বছর ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

    Communal Violence: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশে মমতার ‘থ্রেট’, গত ১৫ বছর ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমরা আছি বলেই আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না-থাকি, কোনও দিন সেই রকম আসে, এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপপ্রচারে কোনও দিন ভুল বুঝবেন না।” দিন কয়েক আগে ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে কথাগুলি বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নবান্নের গদি বাঁচাতে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে দিলেন তৃণমূলেশ্বরী (Mamata Banerjee)। অবশ্য (Communal Violence) এই প্রথম নয়, ২০১১ সালে মমতা এবং তাঁর দল তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বারবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। জনমানসে এটি রাজ্যের প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    ম্লান পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ (Communal Violence) 

    দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গকে দেখা হত একটি সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ, বৌদ্ধিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক সহাবস্থানের আঙ্গিকে। কিন্তু গত এক দশকে, মমতা জমানায় ধারাবাহিক দাঙ্গা, হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষ বাংলার এই ভাবমূর্তিকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় শোভাযাত্রা, রাজনৈতিক বিরোধ বা স্থানীয় উত্তেজনা থেকে শুরু হওয়া ঘটনাগুলি দ্রুতই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির একটি ঘটে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে, মালদার কালিয়াচকে। এক বিরাট উন্মত্ত জনতা হিংসাত্মক তাণ্ডব চালায় স্থানীয় থানায়, গাড়িতে আগুন লাগায়, ধ্বংস করে সরকারি সম্পত্তি। তাণ্ডবের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যত হিমশিম খেতে হয়।

    হাওড়ায় হিংসা

    ওই বছরেরই শেষের দিকে হাওড়া জেলার ধুলোগড়ে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ায়। এলাকার বহু বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগানো হয়, যার জেরে অনেক বাসিন্দাকে ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে হয়। কয়েকদিন ধরে চলা এই হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হয় উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ও বসিরহাটে, ২০১৭ সালে। উত্তেজনার আঁচ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো হিংসাত্মক ঘটনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা, মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    বঙ্গে অশান্তির আগুন

    এর ঠিক পরের বছরই ২০১৮ সালে, রাম নবমীর শোভাযাত্রায় হামলা হয় আসানসোল ও রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে। নতুন করে ছড়ায় হিংসার আগুন। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের জেরে কয়েকজন নিহত হন, নষ্ট করা হয় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি (Mamata Banerjee)। ২০১৯ এবং ২০২০ সালের শুরুতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর প্রতিবাদ জানানোর সময়ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বহু জেলায় রেললাইন অবরোধ করে, ভাঙচুর করে রেলস্টেশনে, ট্রেনে লাগিয়ে দেয় আগুন। হিংসা এবং বিক্ষোভের জেরে বহু জায়গায় ক্ষতি করা হয় জনসাধারণের সম্পত্তির।

    নির্বাচনোত্তর হিংসা

    আর একটি বড় হিংসার ঘটনা ঘটে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় ভোট-পরবর্তী হিংসা। বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘরে হামলা হয়, নষ্ট করা হয় সম্পত্তি, বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ (Communal Violence)। বাংলার এই হিংসাই জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ঘটনাগুলির তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে হয় আদালত ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের পর অনেক এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়, ঘরছাড়াও হতে হয়েছিল বহু মানুষকে।

    রামনবমীতেও হিংসার ছবি

    ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও রামনবমী উদযাপনের সময় হাওড়া, রিষড়া ও মুর্শিদাবাদে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। পাথর ছোড়া, তাজা বোমা নিয়ে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে (Mamata Banerjee)। কোনও কোনও এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে প্রশাসন জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সংঘর্ষের পর বিভিন্ন ভিডিও এবং প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভাঙাচোরা গাড়ি, পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া দোকান এবং শুনসান রাস্তাঘাটের ছবি। বারবার এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার জের পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নানা সময় উঠে এসেছে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। রাজ্য সরকারের সমালোচকরা দাবি করেন, স্থানীয় বিরোধকে সাম্প্রদায়িক হিংসার রূপ নেওয়া থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। শুধু তাই নয়, সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতেও পারেনি তারা।

    রাজনৈতিক উত্তেজনা

    রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য অনেক সময় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলিতে ইন্ধন জুগিয়ে পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তোলে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ঐতিহাসিক তুলনাও টানা হয়েছে হুসেন শহিদ সুরাবর্দির সময়ের সঙ্গে। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শাসনকাল ১৯৪৬ সালের ‘ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে’-র ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। সেই ঘটনা বাংলার ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় (Mamata Banerjee) আজও। এই ঘটনার গভীর ক্ষত এখনও রয়ে গিয়েছে বাংলার সামাজিক কাঠামোয় (Communal Violence)।

     

LinkedIn
Share