Tag: Calcutta HC

Calcutta HC

  • Durga Puja Donation: কেন দুর্গোৎসব কমিটিগুলোকে দেওয়া হচ্ছে অনুদান? রাজ্যের ব্যাখ্যা তলব হাইকোর্টের

    Durga Puja Donation: কেন দুর্গোৎসব কমিটিগুলোকে দেওয়া হচ্ছে অনুদান? রাজ্যের ব্যাখ্যা তলব হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Pending DA case) দেওয়ার টাকা নেই। অথচ, পুজো অনুদানের (Durga Puja Donation) নামে কোটি কোটি টাকা বিলোচ্ছে রাজ্য সরকার (Bengal Government)। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় (PIL Against Durga Puja Donation)  এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারের জবাব তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta Highcourt)।

    সম্প্রতি, রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ৬০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata)। কিন্তু কেন এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে? হলফনামা আকারে রাজ্য সরকারের কাছে তার স্পষ্ট কারণ জানতে চাইল হাইকোর্ট।

    গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের রেজিস্টার্ড ৪৩ হাজার পুজো কমিটিগুলিকে ৬০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। গত দু’বছর পুজো কমিটিগুলিকে রাজ্যের দেওয়া অনুদানের অঙ্ক ছিল ৫০ হাজার। সঙ্গে ক্লাবগুলোকে পূজায় বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রাজ্য। এর ফলে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে রাজ্যের কোষাগার থেকে। 

    আরও পড়ুন: বকেয়া ডিএ না মিটিয়ে পুজোয় অনুদান! দুর্নীতিকে আড়াল নাকি নজরে পঞ্চায়েত?

    এর বিরুদ্ধে গত ২৪ অগাস্ট কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী কাউন্সিল। পরে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়। এই পর্যন্ত মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে। মামলাগুলির মূল প্রশ্ন, রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, কেন এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে। 

    সোমবার প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। এদিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, “এই বিষয়ে এখনও সরকারের তরফে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। বিজ্ঞপ্তি জারি না হলে সরকারের তরফে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।” মামলাকারীর তরফে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “বৈঠক ডেকে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে টাকা দেওয়ার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।” 

    আরও পড়ুন: কলকাতা পুরসভার আপত্তিতে বন্ধের মুখে মহম্মদ আলি পার্কের দুর্গাপুজো

    রাজ্যের তরফে বলা হয়, বিগত কয়েক বছর ধরেই এই অনুদান দিয়ে আসছে রাজ্য। এই প্রেক্ষিতে অ্যাডভোকেট জেনারেল গত দু’বছরের অর্থাৎ ২০২০ ও ২০২১ সালের হাইকোর্টের দুটি নির্দেশের কপি আদালতে পেশ করেন জানান, হাইকোর্ট এই অনুদান দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তখন বলেন, “আপাতত অনুদান দেওয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিক আদালত। কারণ টাকা বিলি করা শুরু হয়ে গেলে সেটা ফেরত নেওয়া সম্ভব নয়।” 

    দুপক্ষের সওয়াল-পর্ব শোনার পর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশের সুযোগ দিয়েছে। রাজ্য সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, তার মধ্যেই কারণ জানিয়ে আদালতের কাছে হলফনামা পেশ করতে হবে সরকারকে। ৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Calcutta HC on Mamata: “বিচারব্যবস্থার মেরুদণ্ড এত নরম নয় যে…”, কী প্রেক্ষিতে বললেন বিচারপতি বিবেক চৌধুরী?

    Calcutta HC on Mamata: “বিচারব্যবস্থার মেরুদণ্ড এত নরম নয় যে…”, কী প্রেক্ষিতে বললেন বিচারপতি বিবেক চৌধুরী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিচারব্যবস্থার মেরুদণ্ড এত নরম নয় যে কারও মন্তব্যে ভেঙে পড়বে…।” মমতা (Mamata) বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা সমালোচনার প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Highcourt) বিচারপতি বিবেক চৌধুরী।

    রবিবার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিবেক চৌধুরীর এজলাসেই এসএসসি কাণ্ডে (SSC scam)  পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) শুনানি হয়। সেই শুনানিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ভুবনেশ্বর এইমস-এ (Bhubaneswar AIIMS) করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তী রায়ে বিবেক চৌধুরী বলেছিলেন, ভুবনেশ্বরের এইমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের টিম পরীক্ষা করবেন। চিকিৎসক দলে থাকবেন, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, এন্ডোক্রিনোলজির, রেসপিরেটরি মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

    প্রসঙ্গত, তাঁর এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সোমবার সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে বঙ্গভূষণ ও বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রদানের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের মহাসচিব তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিচারব্যবস্থা বিজেপি প্রভাবিত বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “পার্থকে কেন ভুবনেশ্বর এইমস-এ নিয়ে যাওয়া হল? আমার লজ্জা লাগছে, বাংলায় এত ভালো ভালো হাসপাতাল থাকতেও পার্থকে ভুবনেশ্বর এইমস-এ নিয়ে যাওয়া হল! কেন ওড়িশায় নিয়ে যাওয়া হল? কেন্দ্রের ছোঁয়া আছে বলে?”

    আরও পড়ুন: শুধু এসএসসি নয়, পার্থ-অর্পিতা জড়িত প্রাথমিক টেট দুর্নীতিতেও! আদালতে দাবি ইডি-র

    মমতার এই মন্তব্য আদালত অবমাননার সামিল উল্লেখ করে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন করেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। আদালত এই আবেদন গ্রহণ না করলেও, বিচারপতি বিবেক চৌধুরী তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, বিচারব্যবস্থার মেরুদণ্ড শক্ত রয়েছে। মেরুদণ্ড এত নরম নয় যে কারও মন্তব্যে ভেঙে পড়বে। ফলে কে কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। বিবেক চৌধুরী বলেন, “ওই মন্তব্যের কেন প্রতিবাদ করব? ওই মঞ্চে হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন। তিনি তো কোনও প্রতিবাদ করলেন না।”

    বিচারপতি বিবেক চৌধুরী বলেন, “আদালতের বাইরে করা এই মন্তব্যকে অবমাননা বলে ধরছি না। তাছাড়া ওই মন্তব্যের জেরে রায়ের কিছু এসে যাবে না। সব মামলাকারীকে চিনিও না। আমার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কেউ যদি উচ্চ আদালতে যেতে চায় যেতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমি মামলার মেরিট বিচার করি। সামনে কে রয়েছে, তা দেখি না। তাই রাতে নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমাতে পারি।” তবে বিচারপতি বিবেক চৌধুরী মনে করেন, বিচারব্যবস্থা নিয়ে যে সৌজন্যবোধ দেখা যেত, এখন তা ক্রমশ উধাও হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আগে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে একটা সৌজন্যবোধ ছিল। বিচারব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলা হত না। এখন সেটা ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে, এখন প্রকাশ্যেই সমালোচনা করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুন: অ্যারেস্ট মেমোয় মমতার নাম-নম্বর লিখলেন কেন পার্থ? জড়িয়ে দিতে নাকি বিপদের বন্ধু হিসাবে

  • TMC: একুশের ভোটে বনগাঁ দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী আদতে বাংলাদেশি নাগরিক? বলছে হাইকোর্টের রায়

    TMC: একুশের ভোটে বনগাঁ দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী আদতে বাংলাদেশি নাগরিক? বলছে হাইকোর্টের রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এপারের ভোটে লড়ছে ওপার বাংলার নাগরিক! 

    একুশের বিধানসভা নির্বাচনেই এমন কাণ্ড ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আলো রানী সরকার। 

    তবে, বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের কাছে দু’হাজার ভোটে হেরে যান তিনি। এরপরই বিতর্কের সূত্রপাত। নির্বাচনী ফলাফল মানতে রাজি হননি ভোটে হেরে যাওয়া আলো রানী। দাবি করতে থাকেন যে তিনিই জিতেছেন। তাঁর আরও দাবি যে, তাঁকে চুরি করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

    যেমন ভাবা তেমন কাজ। ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আর এতেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ে। তখনই জানা যায়, আলো রানী সরকার আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা! তাঁর নাম রয়েছে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায়!

    জানা গিয়েছে, ওপার বাংলার বরিশাল জেলায় জন্ম আলো রানীর। তাঁর ভাই-মা সহ পরিবার এখনও বরিশালের পিরোজপুরের বাসিন্দা। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের বাসিন্দা চিকিৎসক হরেন্দ্রনাথ সরকারের সঙ্গে আলো রানীর বিয়ে হয়। 

    নির্বাচনের সময় তৃণমূল প্রার্থী আলো রানীর দাবি ছিল, তাঁর জন্ম হুগলির বৈদ্যবাটিতে, বিয়ের পর তাঁর নাম কোনওভাবে বাংলাদেশের ভোটার কার্ডে উঠে যায়। তিনি প্রত্যাহার করার আবেদন জানিয়েছেন। যদিও এই মর্মে কোনও প্রামাণ্য নথিই তিনি জমা করতে পারেননি আদালতে। 

    এই প্রেক্ষিতে, কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল প্রার্থী আলো রানী সরকারের আবেদন খারিজ করে দিল। খারিজের কারণ হিসেবে বিচারপতি জানিয়েছেন, “আলো রানী সরকারের নাম রয়েছে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায়।”

    অর্থাৎ, এরাজ্যের তো নয়ই, এমনকী এদেশের বাসিন্দাও নন তিনি। তাহলে, কোন জাদুমন্ত্রে তিনি এরাজ্যের ভোটার হলেন? শুধু তাই নয়, কী করে ভোটে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলেন? আর কী করেই বা সেই যোগ্যতা অর্জন করলেন? 

    হাইকোর্ট তার রায়ে জানিয়েছে, ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, আলো রানী সরকারের বাংলায় তো বটেই, ভারতের কোনও প্রান্তে কোনও নির্বাচনেই প্রার্থী হওয়ার কোনও যোগ্যতা নেই।

    গোটা বিষয়টি ট্যুইট করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছেন, যে রাজনৈতিক দল একজন বাংলাদেশিকে নির্বাচনে প্রার্থী করতে পারে, সে রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে না কেন?

    [tw]


    [/tw]

  • TMC Agitation at Calcutta HC: বেনজির বিক্ষোভের সাক্ষী হাইকোর্ট, এবার তৃণমূলের রোষে খোদ বিচারপতি

    TMC Agitation at Calcutta HC: বেনজির বিক্ষোভের সাক্ষী হাইকোর্ট, এবার তৃণমূলের রোষে খোদ বিচারপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বর্তমান শাসক শিবিরের রোষের মুখে বারবার পড়তে হয়েছে বিরোধী দলগুলিকে। এটা নতুন কিছু নয়। বিরোধিতা করায় অনেক শিল্পী থেকে বুদ্ধিজীবীকেও হুমকি-হুঁশিয়ারি সহ্য করতে হয়েছে। এমনকী, অপ্রিয় সত্য খবর লেখার জন্য রাজ্য সরকারের শ্যেনদৃষ্টির সামনা-সামনি হতে হয়েছে ও হতে হচ্ছে সংবাদমাধ্যমকেও। 

    কিন্তু, ১৩ এপ্রিল এই সবকিছুকে ছাপিয়ে গেল তৃণমূলের ‘দাদাগিরি’।  এবার রাজ্যের শাসক শিবিরের রক্তচক্ষুর সামনে খোদ বিচারপতি! বলা ভাল, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যা ঘিরে বেনজির দৃষ্টান্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট। 

    কিন্তু, কেন হঠাৎ এই বিচারপতিকে টার্গেট করা শুরু করল তৃণমূল? বিচারপতি আবার কী ‘দোষ’ করলেন? আসলে এই যে রাজ্যে একের পর এক মামলা বা ঘটনার তদন্তভার পুলিশের হাত থেকে সরিয়ে তুলে দেওয়া হচ্ছে সিবিআইয়ের হাতে, এটাই ঘটনার মূল কারণ। 

    ভাদু শেখ থেকে বহটুই, তপন কান্দু থেকে হাঁসখালি — গত দশ দিনের মধ্য়ে রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকা পাঁচটি মামলা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে উচ্চ আদালত। আর সবকটিই নির্দেশই দিয়েছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। বলা বাহুল্য, এতে রাজ্য সরকারের মুখ  যারপরনাই পুড়েছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, রাজ্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলার ওপর আদালতের একেবারেই ভরসা নেই। 

    এই সব মামলার নির্দেশের ফলে, তৃণমূল যে চরম অস্বস্তিতে পড়েছিল, তা প্রমাণিত। এর ওপর তাতে ঘৃতাহুতি পড়ে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়া অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দৃষ্টান্ত-স্থাপনকারী নির্দেশ। 

    কিছুদিন আগে, গরু ও কয়লা পাচারকাণ্ডের তদন্তের স্বার্থে তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে ডেকে পাঠিয়েছিল সিবিআই। হাজিরার দিন, সিবিআই দফতর না পৌঁছে অনুব্রত সটান গিয়ে ভর্তি হয়ে যান এসএসকেএম হাসপাতালে।

    এমন ঘটনা যে প্রথম তেমনটা নয়। অতীতেও দেখা গিয়েছে সিবিআই তলব করতেই, তৃণমূলের একাধিক নেতা অসুস্থ হয়ে গিয়ে এই এসএসকেএমের দ্বারস্থ হয়েছেন। অনুব্রতর ক্ষেত্রেও অন্যথা হয়নি। আদালত তা নজরে রেখেছিল।

    এদিকে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি এবং নবম-দশম শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষিতে পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানোর জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই প্রক্ষিতেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানায়, হাজিরা দিতে হবে পার্থকে। এমনকী, তিনি এসএসকেএমে ভর্তিও হতে পারবেন না বলে নির্দেশ দেন বিচারপতি।

    এই নির্দেশের ফলেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তৃণমূলের রোষে পড়েন। যার নিটফল হল হাইকোর্টে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ-প্রদর্শন। যাঁদের মূল দাবি, বিচারপতি পরপর একপেশে নির্দেশ দিচ্ছেন। সেই জন্য অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়ের বেঞ্চ বয়কটের দাবি তোলেন তাঁরা। 

    তবে, রোষের মুখেও অবিচল বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দুর্নীতি দেখলে চুপ থাকতে পারবেন না। এজলাসে বিক্ষোভকারীদের তিনি কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। বিক্ষোভকারী তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আপনার হয়তো রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। কিন্তু দুর্নীতি দেখলে আদালত চুপ থাকবে না। যে দুর্নীতি করবে, সে যে রাজনৈতিক দলের হোক না কেন ছেড়ে দেওয়া হবে না।” 

    প্রবল বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েও নিজের সিদ্ধান্তে অটল এই দৃঢ়চেতা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, “আমার মাথায় বন্দুক ধরতে পারেন। মরতে রাজি। কিন্তু দুর্নীতি দেখে চুপ থাকবে না আদালত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে!” 

    সাম্প্রতিককালে, রাজ্যে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনাপ্রবাহে তৃণমূলের পায়ের তলার জমি ক্রমশ সরে যাচ্ছে। তা রাজ্যের শাসক দল ভালই টের পাচ্ছে। ফলস্বরূপ, দলের মধ্য়েও শুরু হয়েছে কোন্দল, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এমনকী, খোদ দলের সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর গলাতে শোনা গিয়েছে একাধিক হঠকারী ও বিতর্কিত মন্তব্য। 

    তার ওপর আদালতের পরের পর নির্দেশে প্রবল সমালোচনার মুখে রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অতএব, এসব বিষয়টিকে মাথায় রেখেই তৃণমূলের লক্ষ্য এখন সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে কব্জা করা। সেটা না করতে পেরে নৈরাশ্যের চরম উদাহরণ তুলে ধরছে রাজ্যের শাসক দল।

  • DA Case: এবার ডিএ মামলায় ধাক্কা রাজ্যের! ৩ মাসের মধ্যে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ হাইকোর্টের

    DA Case: এবার ডিএ মামলায় ধাক্কা রাজ্যের! ৩ মাসের মধ্যে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবার সেই হাইকোর্ট। আরও একটি মামলা। আরও একবার ধাক্কা খেল মমতা (Mamata) সরকার। এবার ইস্যু রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ (DA)। শেষমেশ স্যাটের (SAT) রায়ই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta HC) ডিভিশন বেঞ্চ।

    কেন্দ্রীয় হারেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। ডিএ মামলায় রাজ্যের আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, তিন মাসের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে। আদালত বলেছে, ‘‌সরকারি কর্মচারীরা আপনার শত্রু নন। আপনি তাঁদের অভিভাবক।’‌ 

    আরও পড়ুন: হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, রক্ষাকবচের জন্য ছুটছেন মন্ত্রী পার্থ, কিন্তু পাবেন কি?

    আদালতে রাজ্য জানিয়েছিল, তহবিলে টাকা নেই বলে উঁচু হারে ডিএ দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু রাজ্যের এই যুক্তি গ্রাহ্য করেনি ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত তাদের নির্দেশে জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে স্টেট অ্যাডমিনস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালের (State Administrative Tribunal)-এর রায় কার্যকর করতে হবে। ‘ডিএ সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার। ডিএ না পেলে কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে রাজ্যের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়’, মামলার শুনানিতে মন্তব্য করে আদলত। 

    রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে মামলাটি হয়েছিল ২০১৬ সালে। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল বা স্যাট-এ মামলা হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা মামলার পর স্যাট রাজ্য সরকারী কর্মীদের পক্ষেই রায় ঘোষণা করে। বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দেয় স্যাট। যদিও রাজ্য সরকার স্যাটের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা কলকাতা হাইকোর্টে মালাল করে। সেই মামলাতেই এবার স্যাটের রায় বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ। 

    অবশ্য জানা যাচ্ছে যে, এরপর রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তবে শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট কি রায় দেয়, সেটাই এখন দেখার।

     

  • West Bengal: ১৮ দিনে ৬ তদন্তভার সিবিআইকে, কেন মমতার পুলিশে আস্থা হারাচ্ছে আদালত? 

    West Bengal: ১৮ দিনে ৬ তদন্তভার সিবিআইকে, কেন মমতার পুলিশে আস্থা হারাচ্ছে আদালত? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সময়সীমা মাত্র ১৮ দিন। তার মধ্যেই ছ’টি মামলায় সিবিআই তদন্তের (CBI investigation) নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High court)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্রমেই রাজ্য পুলিশে (West Bengal police) আস্থা হারাচ্ছে আদালতও। তাই সত্য উদ্ঘাটনে দ্বারস্থ হতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (CBI)। 

    বামেরা বলছে, তাদের জমানার শেষের দিকে পাঁচ বছরে তিনটি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। আর তৃণমূল জমানায় ১৮ দিনেই ৬টি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিখাদ রাজনীতি করতে গিয়েই পুলিশকে দলদাসে পরিণত করেছে রাজ্যের শাসক দল। যার জেরে ক্রমেই বাড়ছে সিবিআই তদন্তের দাবি।

    পুরসভা ভোটের ফল বেরনোর পরে পরেই খুন হন কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। পুরুলিয়ার ঝালদার ওই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই শুরু। ওই ঘটনার পরে পরেই রহস্য মৃত্যু হয় তপন খুনের প্রত্যক্ষদর্শী নিরঞ্জন বৈষ্ণবের। ওই ঘটনার তদন্তের রাশও যায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। 
    এর পরেই ঘটে রাজ্য তোলপাড় করা ঘটনা। রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে খুন হন স্থানীয় উপপ্রধান তৃণমূলের ভাদু শেখ। ওই ঘটনার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই ঘরে আগুন লাগিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় ন’ জনকে। এই দুটি মামলাও গড়ায় আদালত অবধি। জোড়া ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। 

    সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এ যাবৎ কালের এখনও পর্যন্ত সব চেয়ে বড় কেলেঙ্কারি এসএসসির মাধ্যমে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে। ইন্টারভিউয়ের জন্য নির্ধারিত দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আলাদা করে ডেকে বেশ কয়েকজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই কেলেঙ্কারির রহস্যভেদ করতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। 

    সিবিআই তদন্তের নির্দেশের হাতে গরম উদাহরণ আরও আছে। নদিয়ার হাঁসখালিতে বছর চোদ্দর এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ। অতিরিক্ত রক্তক্ষণের জেরে মৃত্যুও হয় তার। ওই ঘটনায়ও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

    আদালতের বারবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশে একটা জিনিস খুব স্পষ্ট। সেটি হল, সাধারণ মানুষের মতো রাজ্য পুলিশে আস্থা হারাচ্ছে আদালতও। হারানোরই কথা। কারণ পুলিশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে সরব হয়েছেন খোদ রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শাসক দলের কোনও কর্মীকে কোনও অভিযোগে গ্রেফতার করা হলে, পুলিশকে মারধর করে আসামী ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও এ রাজ্যে ঘটেছে ঘাসফুল জমানায়। 

    ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দেওয়ার মন্ত্রে উজ্জ্বীবিত মারমুখী তৃণমূল কর্মীদের ‘ঝান্ডাঘাত’ থেকে বাঁচতে খোদ কলকাতার বুকে নির্লজ্জভাবে পুলিশকে আশ্রয় নিতে দেখা গিয়েছিল টেবিলের তলায়। এসব ঘটনা থেকে আমজনতা বুঝে গিয়েছে বাম জমানার মতোই তৃণমূল জমানায়ও পুলিশ পরিণত হয়েছে দলদাসে। পার্থক্য কেবল একটাই। বামেরা (Left Front) রেজিমেন্টড পার্টি। সব কিছু গুছানো। আর তৃণমূল (TMC)? ওয়ান উওম্যান শো! সব কিছুই বড্ড অগোছালো! তাই বারেবারেই মুখ পুড়ছে রাজ্য সরকারের (Mamata Banerjee government)। 

LinkedIn
Share