Tag: Cardiovascular Health

  • Heart Health Tips: ভাত-রুটি পুরো বাদ দেওয়া নয়! সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে এই সহজ ৫ অভ্যাসই যথেষ্ট

    Heart Health Tips: ভাত-রুটি পুরো বাদ দেওয়া নয়! সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে এই সহজ ৫ অভ্যাসই যথেষ্ট

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিদেশের দামী চা কিংবা ফল নয়। এমন কিছু প্রতিদিনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নয়। আবার এমন কিছু অভ্যাসের তালিকায় রাখার প্রয়োজন নেই, যা বছরের পর বছর সামলানোই কঠিন হয়ে যাবে। বরং জীবন যাপন হোক সাদামাটা। যা দিনের পর দিন অভ্যাস করতে সহজ হবে। আর সেই সহজ জীবনেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

    সহজ জীবন যাপনেই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি!

    সম্প্রতি ইউরোপিয়ান কার্ডিওলজি সোস্যাইটির তরফে এক রিপোর্টে এমন কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ।
    বিশ্ব জুড়ে হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। আর এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশপাশি, কিডনি, লিভার সহ একাধিক অঙ্গের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গবেষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই জীবন যাপনের ধরনে বদল আনছেন। কিন্তু এমন কিছু পরিবর্তন করছেন, যেটা স্বাস্থ্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, লাভ হচ্ছে না। তাঁদের পরামর্শ সহজ জীবন যাপনেই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি রয়েছে। শুধু প্রয়োজন সেই সম্পর্কে সচেতনতা।

    সহজ জীবনের কোন কৌশলের কথা বলছেন চিকিৎসকেরা?

    সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রে চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত একটা স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অভ্যাস জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, নিজের এলাকায় সহজেই পাওয়া যায় এমন কিছু ফল নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন।

    সহজেই পাওয়া যাবে এমন একটা ফল প্রত্যেক দিন!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব দামী ফল মানেই দারুণ উপকারি এমন নয়। ভারতে কলা, লেবু, পিয়ারার মতো সহজেই পাওয়া যায়। নিয়মিত এই ধরনের ফল খেলে শরীরে ফাইবার, ভিটামিন সি, আয়রনের জোগান সহজেই থাকবে। ভিটামিন এবং মিনারেল শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াবে, ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে। শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত একটা ফল খাওয়া জরুরি। কিন্তু অনেক সময়েই এমন কিছু ফল নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা হয়, যা সহজে পাওয়া যায় না। ফলে সমস্যা বাড়ে।

    সব্জি ও ডাল খাওয়ার অভ্যাস!

    খুব দামী দানাশস্য খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত পাতে থাকুক পর্যাপ্ত সবুজ সব্জি এবং ডাল খাওয়ার অভ্যাস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভাত কিংবা রুটি খেতে রাজি হন না। বরং তার পরিবর্তে নানান বিদেশি দানাশস্য খান। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গম-বাজরা-মিলেটের তৈরি রুটি কিংবা সহজলভ্য চালের ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি এবং ডাল খাওয়ার অভ্যাস থাকলেই শরীর সুস্থ থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি, লিভার এবং অন্ত্রের কার্যকরিতা বজায় রাখতে নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। তাছাড়া পর্যাপ্ত সব্জি খেলে তবেই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত পালং শাক, পটল, বিট, গাজর, ধনেপাতার মতো সবুজ সব্জি খাওয়া জরুরি। তবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও সুস্থ থাকতে ভাত এবং রুটি সম্পূর্ণ বর্জন করছেন। কিন্তু এভাবে দীর্ঘমেয়াদি জীবন যাপন সম্ভব নয়। এর ফলে ক্লান্তি বাড়বে। প্রত্যেক দিনের স্বাভাবিক কাজ করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই ভাত ও রুটি নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া প্রয়োজন। কারণ শরীরে কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন আছে। তবে পেট ভরাতে ভাত কিংবা রুটি নয়। বরং সব্জি এবং ডাল খাওয়া জরুরি।

    নিয়মিত বাদাম জাতীয় খাবার হৃদপিন্ড সুস্থ রাখবে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম, পেস্তা কিংবা চিনেবাদামের মতো খাবার সহজলভ্য। নিয়মিত এই ধরনের যেকোনও একটা বাদাম অল্প পরিমাণ খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। যেকোনও প্রকার বাদামেই প্রচুর পরিমাণে মিনারেল থাকে। শরীরের উপকারি চর্বি থাকে। যেগুলো হৃদপিন্ড সুস্থ থাকে। ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাবে। ফলে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অত্যন্ত দামী কিংবা দুর্মূল্য খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ খাবার না খেলেও চলবে। বরং প্রতিদিনের তালিকায় থাকুক সহজে পাওয়া যাবে এমন বাদাম জাতীয় খাবার। যাতে শরীর সুস্থ থাকে।

    পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক কসরত জরুরি!

    জটিল জীবন যাপন নয়। বরং, পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক কসরত এই দুই দিকে নজর দেওয়া দরকার। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। পর্যাপ্ত ঘুম হলে তবেই মস্তিষ্কের বিশ্রাম হয়। শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।‌ মানসিক চাপ এবং অবসাদ কমবে। তাছাড়া, স্নায়ুর সক্রিয়তা বজায় রাখতেও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তাছাড়া নিয়মিত সহজ শারীরিক কসরত করতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু মানুষ ওজন কমাতে নানান জটিল কসরত করছেন‌। তাতে সব সময় উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।‌ বরং, নিয়মিত আধ ঘণ্টা হাঁটা কিংবা সহজ কিছু যোগাভ্যাস এবং প্রাণায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি মানসিক উদ্বেগ এবং অবসাদ কমবে। ফলে শরীরের একাধিক রোগের মোকাবিলা সহজ হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। চৈত্র মাসের শেষ জানান দিচ্ছে, চলতি বছর গরমের প্রকোপ বাড়বে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তীব্র রোদ আর অস্বস্তিকর আবহাওয়া শরীরে গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশেষত, রক্তচাপ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকছে। গরমে বাড়তে পারে রক্তচাপ। কমবয়সী থেকে প্রৌঢ়, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই আবহাওয়া তাঁদের জন্য যেমন বাড়তি সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনি হঠাৎ করেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়ে, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন গরমে রক্তচাপ বাড়ে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার সঙ্গে শরীরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত তাপমাত্রার পরিবর্তনে শরীরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ঘাম হয়। এর ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণ জল কমে গেলে,রক্ত ঘন হয়ে যায়। তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
    • গরমে অস্বস্তি বাড়ে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতাও বাড়ে। তাই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
    • গরমের ঘাম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানসিক চাপ বাড়ায়। স্ট্রেস হরমোনের সঙ্গে শরীরের রক্তচাপের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্ট্রেস বাড়লেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়।
    • গরমে সাময়িক আরাম পেতে অনেকেই বারবার প্যাকেটজাত পানীয় খায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধরনের পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে লবন, মিষ্টি এবং নানান প্রক্রিয়াজাত পদার্থ থাকে। এগুলি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

    হঠাৎ রক্তচাপ বাড়লে কী বিপদ হতে পারে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃদপিণ্ডের ওপরে সরাসরি প্রভাব পড়ে। হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
    • হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। তার নেপথ্যে থাকে হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
    • রক্তচাপ বাড়লে চোখের ওপরে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তচাপ হঠাৎ বাড়লে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়।
    • তাছাড়া রক্তচাপ বাড়লে কিডনির উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। কিডনির কার্যকারিতা কমে। তাছাড়া বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও হতে পারে।

    কীভাবে এই আবহাওয়ায় রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখবন?

    • চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুক্তভোগীদের এই আবহাওয়ায় নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।
    • নিয়মিত পরীক্ষা করলে তাঁদের রক্তচাপ কতখানি ওঠানামা করছে, সেটা স্পষ্ট বোঝা যাবে। ফলে, আগাম সতর্কতা নেওয়া সহজ হবে। বড় বিপদ এড়ানো‌ যাবে।
    • লাগাতার প্রচন্ড মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
    • গরমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে হবে। তবে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। আরামের জন্য প্যাকেটজাত পানীয় নয়। ডাবের জল, টক দইয়ের সরবত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    • অতিরিক্ত লবন দেওয়া খাবার নয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার নয়। বরং নিয়মিত খাবারের তালিকায় সব্জি, ফল রাখা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এতে অস্বস্তি কমবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোলে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আধ ঘন্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share