Tag: Cattle smuggling case

Cattle smuggling case

  • Cattle smuggling: কেন গ্রেফতার অনুব্রতর দেহরক্ষী, এত সম্পত্তি হল কীভাবে?

    Cattle smuggling: কেন গ্রেফতার অনুব্রতর দেহরক্ষী, এত সম্পত্তি হল কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিবিআইয়ের (CBI) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল (TMC) নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) দেহরক্ষী সায়গল হোসেন। সিবিআইয়ের দাবি, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি মিলেছে ওই কনস্টেবলের কাছ থেকে। মিলেছে সোনা এবং নগদ। পরিবারের এক নিকটাত্মীয় মারা যাওয়ার পর তাঁর স্থানে পুলিশের (Bengal Police) চাকরিতে ঢোকেন সায়গল। ক্রমেই কেষ্ট মণ্ডলের দেহরক্ষী, তারপর থেকে প্রভাব এবং প্রতিপত্তি দুই-ই বিপুল হয়েছে। অভিযুক্ত হয়েছেন গরু পাচার (Cattle smuggling) মামলায়। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার।

    কিন্তু কেন সিবিআই সায়গলকে ধরল?

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, ২০১৭-১৮ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হওয়া বিএসএফের (BSF) কমান্ডান্ট জিবু ম্যাথু ধরা পড়ার পরই গরু পাচারের চক্রটি বেরিয়ে আসে। সিবিআইয়ের কোচি শাখা ওই মামলার তদন্ত করছে। তাতেই গ্রেফতার হয়েছিল গরু পাচারের অন্যতম মূল মাথা এনামুল শেখ (Enamul Sheikh)। আর এখান থেকেই যোগাযোগ মিলেছে সায়গলের। সায়গলের গুরু ঠাকুরদেরও খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে সিবিআই। শুধু কিছু সময়ের অপেক্ষা। 

    তদন্তকারীদের একাংশ জানাচ্ছেন, জেলে যাওয়ার আগে এনামুলের সঙ্গে সায়গলের এক বছরে শতাধিক বার টেলিফোনে কথা হয়েছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, এনামুলের ওই ফোনটি নেওয়া ছিল তাঁর এক ভাইয়ের নামে। তিনি স্বীকার করে নেন, তাঁর নামে ফোনটি নেওয়া হলেও সেটা ব্যবহার করতেন এনামুলই। 

    আরও পড়ুন: এসএসসি দুর্নীতিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন! গেছে কার পকেটে? তদন্তে ইডি

    প্রশ্ন, এনামুল বারবার সায়গলের সঙ্গে কথা বলতেন কেন? তদন্তকারীরা মনে করছেন, বীরভূম ছিল গরু পাচারের অন্যতম করিডর। জেলায় পাঁচটি গরুর হাট থেকে নিয়মিত গরু বাংলাদেশে পাচার হয়। এছাড়া সায়গলের ‘বস’ অনুব্রত মণ্ডল সেই সময় রাজনৈতিকভাবেও মুর্শিদাবাদ যাতায়াত শুরু করেছিলেন। তদন্তে জেরার সময় অনেকেই সিবিআইকে জানিয়েছেন, সায়গলের কাছে আসা অধিকাংশ ফোনই আসলে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলার জন্যই আসত। 

    পাঁচ দফা জেরাপর্বে সে কথা সায়গল স্বীকার করতে চাইছিলেন না। উল্টে এমন কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের সামনে তিনি নিয়ে এসেছিলেন যাঁদের বিষয়ে সিবিআইয়ের কাছে বিশদ তথ্য ছিল না। ফলে গরু পাচারের চক্রটি আরও বড় করে দিয়েছিলেন সায়গল। সপ্তাহে দু-তিন বার কেন এনামুল তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন, তা এবার হেফাজতে নিয়ে জানতে চাইবে সিবিআই। এপ্রিলের শেষে তাঁর গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। মারা যায় তাঁর ছোট্ট মেয়ে। তারপর থেকেই সায়গল কিছুটা তদন্তে সহযোগিতা শুরু করেন বলে খবর।

    এ তো গেল গরুপাচার নিয়ন্ত্রণে সায়গল এবং তাঁর মাথাদের যোগসূত্রের কথা। নামে-বেনামে সায়গলের সম্পত্তি দেখলে চোখ কপালে উঠবে সবার। সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা জেনেছেন, কয়েকশো কোটি টাকার মালিক তিনি। গত ১ এবং ২ জুন টানা তল্লাশি চালায় সিবিআই। কলকাতাতেই তাঁর তিনটি ফ্ল্যাট মিলেছে। এছাড়া ডোমকল ও বোলপুরে প্রাসাদের মতো বাড়ি। সবই হয়েছে গত পাঁচ ছয় বছরে। একটি বাড়ি থেকে মিলেছে নগদ ১৫ লক্ষ টাকা। সবমিলিয়ে পাওয়া গিয়েছে প্রায় ২ কেজি সোনা। তার মধ্যে একটি ফ্ল্যাট থেকেই ৯০০ গ্রাম সোনা পাওয়া গিয়েছে। 

    আরও পড়ুন: টানা চার ঘণ্টা জেরা, ধকল সইতে না পেরে হাসপাতালে অনুব্রত!

    তদন্তকারীদের দাবি, নামে-বেনামে পেট্রল পাম্প, রিসর্টেরও মালিক সায়গল। আরও বিস্ফোরক খবর হল, ডেউচা-পাচামির (Deucha Pachami) এক ক্রাশার মালিক সায়গলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন। সেই নথিও সিবিআইয়ের হাতে এসেছে। অনুব্রতর দেহরক্ষীর আয়কর রিটার্নে কোথাও এসবের উল্লেখই নেই। কেন কোনও ব্যবসায়ী তাঁকে এত বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠাচ্ছেন, তা এবার হেফাজতে থাকাকালীন জানাতে হবে সায়গলকে। তদন্তকারীরা জানতে চাইবেন, বেনামি সম্পত্তিগুলি আসলে কার? 

    সিবিআইয়ের এক তদন্তকারীর কথায়, যদি তৃণমূলের নেতা কেষ্ট মণ্ডলের দেহরক্ষীই এত বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হোন, তা হলে দলের আরও বড় মাথাদের কথা ভেবে দেখুন। গরুপাচার থেকে শুরু করে কয়লাপাচার (Coal Smuggling) ও এসএসসি নিয়োগ কেলেঙ্কারি (SSC Recruitment Scam) যোগে এঁদের সকলকেই এবার আইনি প্রক্রিয়ায় আসতে হবে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, গরু পাচারকাণ্ডে (Cattle Smuggling) শুধু সায়গল নন, জড়িত রয়েছেন বীরভূমের (Birbhum) বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার, রাজনৈতিক নেতা। তাঁদেরও বিচারের প্রক্রিয়ায় দ্রুত আনার জন্য তদন্তের জাল বিস্তার হচ্ছে।

  • Cattle smuggling case: কয়েক হাজার টাকা মাসমাইনেতে কীভাবে রাইস মিলের মালিক? অনুব্রত-কন্যা সুকন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের

    Cattle smuggling case: কয়েক হাজার টাকা মাসমাইনেতে কীভাবে রাইস মিলের মালিক? অনুব্রত-কন্যা সুকন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের সিবিআই (CBI) হানা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandol) বাড়িতে। শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বোলপুরের (Bolpur) নীচুপট্টি এলাকায় বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতির বাড়িতে হাজির হয়। কেষ্ট-কন্যা সুকন্যা মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআই আধিকারিকরা। সিবিআই সূত্রে খবর, এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। সুকন্যা মণ্ডলের বয়ান রেকর্ড করতে এদিন সকালেই পৌঁছয় সিবিআই টিম। কয়েক হাজার টাকা মাসমাইনেতে কীভাবে রাইস মিলের মালিক? প্রশ্নের উত্তর পেতে সুকন্যার বয়ান রেকর্ডের উদ্যোগ সিবিআইয়ের। সিবিআই দলে রয়েছেন বেশ কয়েকজন মহিলা অফিসার।  তাঁদের নিয়েই চলে কথোপকথন।

    অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতেই বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কার্যালয়। সেখানে বসেই যাবতীয় কাজকর্ম করতেন কেষ্ট। সেখানেই এদিন সিবিআই আধিকারিকরা চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন। অনুব্রত গ্রেফতারের পর থেকে বন্ধ ছিল এই ঘরটি। শুক্রবার তালা খুলে ঢুকতে হয় সিবিআই আধিকারিকদের। সকাল ১১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে সোজা পৌঁছে যান অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে। সিবিআই আধিকারিকদের হাতে ছিল একটি খাম। যা দেখে অনুমান করা হয়, সুকন্যাকে নোটিস ধরিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়েছে।

    আরও পড়ুন: নবান্ন অভিযানে গিয়ে ‘মিথ্যা’ মামলায় গ্রেফতার, হাইকোর্টের দ্বারস্থ বঙ্গ বিজেপি

    উল্লেখ্য, গত ১৭ অগাস্ট সুকন্যাকে জেরা করতে চেয়েছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা। কিন্তু মানসিক অসুস্থতার অজুহাতে সেদিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন কেষ্ট-কন্যা। তাই এবার যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সেরেই সিবিআই আধিকারিকরা সুকন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

    অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতারের পর একাধিক বেনামি সম্পত্তির হদিস পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরেই বিগত কয়েক দিন বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় সিবিআই। গোয়েন্দাদের অনুমান, দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের একাধিক সম্পত্তি মেয়ে সুকন্যার নামে রয়েছে। তাই দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছতে চান তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, গতকালই অসানসোল সংশোধনাগারে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। তার ঠিক পরেই সুকন্যাকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সিবিআই সূত্রের খবর, অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর দেহরক্ষী সায়গলকে জেরা করে যে সব তথ্য হাতে এসেছে, তার ভিত্তিতেই সুকন্যাকে জেরা করে সিবিআই।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Saigal Hossain: ফের সাতদিনের সিবিআই হেফাজতে অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেন

    Saigal Hossain: ফের সাতদিনের সিবিআই হেফাজতে অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের সাতদিনের সিবিআই (CBI) হেফাজতে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) দেহরক্ষী সায়গল হোসেন (Saigal Hossain)। গরুপাচার (Cattle smuggling) মামলায় এদিন আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে পেশ করা হয় তৃণমূলের (TMC) বীরভূম জেলা সভাপতির দেহরক্ষীকে। দেড় ঘণ্টা ধরে দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর এদিন সায়গল হোসেনকে ফের ৭ দিনের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। 

    কেন গ্রেফতার অনুব্রতর দেহরক্ষী, এত সম্পত্তি হল কীভাবে?

    সাতদিন সিবিআই হেফাজতে থাকার পর শুক্রবার আসানসোল বিশেষ সিবিআই আদালতে তোলা হয় অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে। কলকাতা নিজাম প্যালেস থেকে সিবিআই আধিকারিকরা সকালে রওনা দেন। আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে তাঁকে পেশ করা হয় সাড়ে ১১টা নাগাদ।

    এদিনের শুনানিতে সায়গলের পুনরায় হেফাজতের দাবি পেশ করে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার তরফে বলা হয়, সায়গলের কাছে গরু পাচার মামলার অনেক তথ্য রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এছাড়াও আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গেছে সায়গলের কাছ থেকে। ফলে, গরুপাচার মামলায় তদন্তের অগ্রগতির জন্য তাঁকে আরও জেরা করা প্রয়োজন। 

    তদন্তকারীদের একাংশ জানাচ্ছেন, জেলে যাওয়ার আগে এনামুলের সঙ্গে সায়গলের এক বছরে শতাধিক বার টেলিফোনে কথা হয়েছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, এনামুলের ওই ফোনটি নেওয়া ছিল তাঁর এক ভাইয়ের নামে। তিনি স্বীকার করে নেন, তাঁর নামে ফোনটি নেওয়া হলেও সেটা ব্যবহার করতেন এনামুলই। তদন্তকারীদের আরও দাবি, নামে-বেনামে প্রচুর সম্পত্তির মালিক এই সায়গল। সম্প্রতি, বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। সেই সম্পত্তির উৎস কী, তা জানতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। দু’পক্ষের সওয়াল-পর্ব শেষে সায়গলকে ফের সাত দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠিয়ে দেন বিচারক। এই মামলার পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৪ জুন।

    আরও পড়ুন: অনুব্রত মন্ডলের দেহরক্ষী সায়গলের বোলপুরের বাড়িতে সিবিআইয়ের তল্লাশি

  • Anubrata Daughter CBI: হতে পারে জিজ্ঞাসাবাদ, কেন সিবিআই স্ক্যানারে কেষ্ট-কন্যা?

    Anubrata Daughter CBI: হতে পারে জিজ্ঞাসাবাদ, কেন সিবিআই স্ক্যানারে কেষ্ট-কন্যা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুব্রতর পর সিবিআই (CBI)-এর স্ক্যানারে অনুব্রত মণ্ডলের কন্যা সুকন্যা মণ্ডল (Sukanya Mondal)। এবার তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে  চায় এই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CBI)। তদন্তে নেমে সুকন্যা মণ্ডলের নামে একাধিক সম্পত্তির হদিস পেয়েছেন সিবিআই আধিকারিকরা। আর এরপরেই বাড়িতে গিয়ে সুকন্যার সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

    আরও পড়ুন: গরু পাচারের ৪২ ঘাটে যুক্ত ৬২ আইসি-ওসি এবার সিবিআইয়ের আতসকাচে

    এর আগেই জানা গিয়েছিল যে, সুকন্যা মণ্ডলের নামে দুটি সংস্থা রয়েছে। সেই সংস্থা দুটিতে বহু বেআইনি লেনদেনের খোঁজ পেয়েছেন সিবিআই আধিকারিকরা। সংস্থাগুলিতে প্রচুর টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, মেয়ের নাম ব্যবহার করে সংস্থা দুটি চালাতেন কেষ্ট নিজেই। আর এই অনুমান সত্যি কি না তা জানতেই সুকন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তাঁরা। রেকর্ড করা হতে পারে তাঁর বয়ানও। 

    অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) মেয়ের নাম যে দুটি সংস্থার সঙ্গে জড়িয়েছে, তার মধ্যে একটি হল অ্যাগ্রো কেমিক্যাল সংস্থা। ওই সংস্থায় সুকন্য়া মণ্ডলের নামে বেশিরভাগ শেয়ার রয়েছে। এই সব সংস্থাগুলিতে কোনওভাবে গরুপাচার কাণ্ডের টাকা ঘুরপথে ঢুকত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। সেই কারণেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। সুকন্যাকে কোনও রকম অসুবিধায় ফেলতে চাইছেন না গোয়েন্দারা। তাই সিবিআই অফিসে না ডেকে বাড়িতে গিয়েই সুকন্যা মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তাঁরা। 

    আরও পড়ুন: অনুব্রতর বাড়িতে চিকিৎসক পাঠানোর নির্দেশ দিয়ছিলেন কে? এবার বিস্ফোরক দাবি সুপারের

    অনুব্রত কন্যা ছাড়াও আরও ১২-১৫ জন এই মামলায় সিবিআই – এর নজরে রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। মিলেছে তাঁর বিপুল সম্পত্তির খোঁজ। 

    সায়গলের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে তাতে অনুব্রত মণ্ডলের নাম রয়েছে। সিবিআই গোয়েন্দাদের অনুমান, অনুব্রতর হয়ে বাজার থেকে টাকা তুলতেন সায়গলই। আর এভাবেই তৈরি করেছেন এই বিপুল সম্পত্তি। এখনও পর্যন্ত কেষ্টর দেহরক্ষীর থেকে যে সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সেগুলি হল, ডোমকলে ৩৬টি জমির প্লট (বাজার দর ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা), বোলপুরে ৭ টি জমির প্লট (বাজার দর ১ কোটি ৫ লাখ টাকা), সিউড়িতে ৭টি জমির প্লট (বাজারদর ৭২ লাখ টাকা), বীরভূমের অন্যত্র পাঁচটি জমির প্লট (বাজার দর ৮৫ লাখ টাকা), নিউটাউন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট (বাজার দর ১০ লাখ), বিমানবন্দর নিউটাউন এলাকায় ৩টি ফ্ল্যাট (বাজার দর ৬০ লাখ টাকা), ইলামবাজারে একটি পেট্রোল পাম্প, ২টি লরি, ৩৭ লাখ টাকার গয়না এবং সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ। 

     

  • Anubrata Mondal: সিবিআই থেকে জেল হেফাজত হতেই কেষ্ট-‘কলঙ্ক’ ঝেড়ে ফেলতে চাইছে তৃণমূল?

    Anubrata Mondal: সিবিআই থেকে জেল হেফাজত হতেই কেষ্ট-‘কলঙ্ক’ ঝেড়ে ফেলতে চাইছে তৃণমূল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি তৃণমূলের (TMC) বীরভূম জেলা সভাপতি। এক সময় বীরভূমে তৃণমূলের যাবতীয় প্রচার-ফ্লেক্সে জ্বলজ্বল করত তাঁর হাসি মুখের ছবি। অথচ গরুপাচারকাণ্ডে (Cattle Smuggling Case)  সিবিআইয়ের (CBI) হাতে গ্রেফতার হতেই ফ্লেক্স-ফেস্টুন থেকে হাওয়া হয়ে গিয়েছেন  অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠ (Tarapith) ছয়লাপ তৃণমূলের ফ্লেক্সে। সেখানে জ্বলজ্বল করছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata) হাতজোড় করা ছবি। তাহলে কি কেষ্ট-‘কলঙ্ক’ ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব? উঠছে প্রশ্ন।

    ফি বার কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে মেলা ভিড় হয় তারাপীঠে (Tarapith)। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৌশলে প্রতিবার প্রচারের কাজটি সেরে ফেলে তৃণমূল। এবারও তাই করেছে। তবে ভক্তদের যেটা নজর কেড়েছে, সেটা হল অন্যান্যবার ফ্লেক্স-ফেস্টুনে উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকে অনুব্রতর। এবার তিনি নেই। তাঁর বদলে তারা মায়ের ছবির পাশে রয়েছেন দলনেত্রী স্বয়ং!

    তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, ফ্লেক্স-পরিকল্পনা যাঁর মস্তিষ্ক প্রসূত, তিনি তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর রামপুরহাট কিষাণ মান্ডিতে আয়াস অঞ্চলের বুথ ভিত্তিক আলোচনার সময় মেজাজ হারিয়ে আশিসকে ‘অপদার্থ’ বলেছিলেন অনুব্রত। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ফ্লেক্স থেকে অনুব্রতকে মুছে দিয়ে এবার সেই ‘অপমানে’র বদলা নিলেন আশিস। তাঁদের মতে, অনুব্রতকাণ্ডে ফের যাতে দলের মুখ না পোড়ে, তাই তাঁকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে দলে।

    আরও পড়ুন : সিবিআই হেফাজত শেষ, জেলেই গেলেন অনুব্রত

    রাজনৈতিক মহলের অনুমান যে নিছক কষ্ট-কল্পনা নয়, তার প্রমাণ মিলেছে বৃহস্পতিবারই। এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে বৈঠকে ডেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অনুব্রত মণ্ডল নন, এবার থেকে বোলপুর লোকসভার অন্তর্গত পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের দেখভাল করবেন জেলা নেতৃত্বই। এদিনের বৈঠকে অভিষেকের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও।

    আরও একটি কারণে তৃণমূলে অনুব্রতকে ছেঁটে ফেলা হতে পারে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সেটি হল, সিবিআই হেফাজত থেকে অনুব্রত গিয়েছেন জেল হেফাজতে। তদন্ত শুরু করতে চলেছে ইডিও। যার অর্থ, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের কিছু প্রমাণ মিলেছে।   

    তাহলে কি তৃণমূলে অবসান হতে চলেছে অনুব্রত-যুগের?

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।  

  • Cattle Smuggling Case: নিশুতি রাতে পাচার হত পাল পাল গরু, কীভাবে চলত অপারেশন?

    Cattle Smuggling Case: নিশুতি রাতে পাচার হত পাল পাল গরু, কীভাবে চলত অপারেশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষা সূয্যি ডোবার। তার পরেই অন্ধকার হয়ে যেত বীরভূম (Birbhum)-মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বিস্তীর্ণ অংশ। অন্ধকার ফুঁড়ে ছড়ি হাতে বের হত গরু পাচারকারীরা। নিশুতি রাতে কেবল শোনা যেত গরুর খুরের ঠক ঠক শব্দ। আর মাঝে মধ্যে পাচারকারীর হ্যাট, হ্যাট আওয়াজ। এভাবেই দিনের পর দিন পাচার হয়ে যেত পাল পাল গরু। দেশের সীমান্ত পেরিয়ে সেই গরু চলে যেত বিভুঁইয়ে, বাংলাদেশে (Bangladesh)। তারপর ভায়া কষাইখানা হয়ে সটান খানদানিদের টেবিলে টেবিলে। এই গরু পাচার চক্রেই নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandol)। বিএসএফের (BSF) এক শীর্ষ কর্তা সহ আরও কয়েকজনের। 

    কিন্তু কীভাবে চালানো হত গোটা অপারেশন? আসুন জেনে নেওয়া যাক, সেই গল্পই। সিবিআই সূত্রে খবর, যেসব গরু পাচার হত, তার সিংহভাগই আসত পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থান থেকে। যেসব গরুর প্রজনন ক্ষমতা নেই, বয়সের কারণে বাতিল হয়ে যাওয়া বলদই মূলত ঝাড়খণ্ড সীমান্ত হয়ে পাচারকারীদের হাত ধরে পৌঁছাত বীরভূমে। এই বীরভূমের ইলামবাজারে বসে বিরাট গরুর হাট। হাট চালাত গরু ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ। ব্যবসার খাতিরেই লতিফ সম্পর্ক রেখে চলত জেলার সর্বেসর্বা অনুব্রতর সঙ্গে। হাট থেকে ফের গরু চলে যেত পাচারকারীদের হাতে। ট্রাকে করে সেই গরু বীরভূমের ফুটিসাঁকো বা বাদশাহি রোড ধরে সটান চলে যেত মুর্শিদাবাদে। 

    সেখানেই গরু নিয়ে পাচারকারীরা অপেক্ষা করত সূয্যি ডোবার। কেবল সূর্য অস্ত গেলেই হবে না। পাচারকারীদের অপেক্ষা করতে হত বিএসএফ এবং কাস্টমসের একাংশের সবুজ সংকেতেরও। তারাই পাচারকারীদের জানিয়ে দিত, কোন দিন কখন লাইন খোলা হবে। নির্দিষ্ট দিনে এক কিংবা দু ঘণ্টার জন্য চোখে ঠুলি পরে বসে থাকত বিএসএফ। তার পর কখনও স্থলপথে কখনও বা জলপথে হাত বদল হয়ে যেত গরুর পাল। বাংলাদেশের পাচারকারীদের হাতে গরু তুলে দিতে পারলেই কেল্লাফতে। মিলবে মোটা অঙ্কের টাকা। পাঁচ হাজার টাকার গরুই হাত ফের হয়ে বিক্রি হয় আট থেকে দশগুণ বেশি দামে।
    আরও পড়ুন : গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার অনুব্রত মণ্ডল! নিয়ে যাওয়া হতে পারে সিবিআই ক্যাম্প অফিসে
    লাভের কড়ি মোটা হলেও, সে টাকার সবটা ভোগে লাগত না পাচারকারীদের। টাকার বখরা দিতে হত পুরো চ্যানেলে থাকা লোকজনকে। যেসব থানার ওপর দিয়ে আসত গরুর পাল, সেখানকার থানার কর্তা এবং শাসকদলের নেতাদের দিতে হত নজরানা। যিনি যেমন মাপের নেতা, তাঁর পকেটে ঢুকবে তেমন পরিমাণ টাকা। শুধু নেতাদের নজরানা দিলেই যে সব কিছু মসৃণ গতিতে চলবে, তা তো নয়! তাই বখরার একটা অংশ দিতে হত বিএসএফ কর্তাদের একাংশকেও। কারণ তাঁরাই ‘গোপন’ সীমান্ত  নির্দিষ্ট সময়ে ‘ওপেন’ করে দেন। তাই গরু-পাচারের টাকার ভাগ পেতেন বিএসএফের কমান্ডান্ট পর্যায়ের আধিকারিক, ডিআইজি কিংবা আইজি স্তরের একাংশও। এঁদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ। গ্রেফতার হয়েছেন বিএসএফ কমান্ডান্ট সতীশ কুমার, জেডি ম্যাথু। গরু পাচার মামলায় ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন অনুব্রত। গ্রেফতার হয়েছে তার দেহরক্ষী সায়গল হোসেনও। গ্রেফতার হয়েছে মূল অভিযুক্ত এনামূল হক। তবে এখনও অধরা হাটের মালিক লতিফ।

    আরও পড়ুন : গ্রেফতার হতে না হতেই কেষ্টকে ঝেড়ে ফেলল তৃণমূল!

    এখনও নিয়মিত বসে ইলামবাজারের হাট। বিক্রি হয় গরুও। তবে অনুব্রতরা গ্রেফতার হওয়ার পর ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়েছে পাচারকারীরা। তাই বিক্রি কমেছে গরুর। কমেছে দামও। কাজলকালো চোখে জল নিয়ে নতুন মালিকের অপেক্ষায় হা পিত্যেশ করে দাঁড়িয়ে থাকে হাটের গরু। 

     

LinkedIn
Share