Tag: cbi

cbi

  • Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৬ হাজার কোটি টাকার মহাদেব অনলাইন বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সফল হল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে নিয়ে আসে (Mahadev Betting Scam)। এই ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার তদন্তকারীদের নজর মহাদেব বেটিং চক্রের আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পলের দিকে। তদন্তকারীদের দাবি, উপ্পল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জারি করা রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে গত জুন মাসের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে রয়্যাল ওমান পুলিশ সৌরভকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ওমান কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনে। সোমবার তাঁকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা। চন্দ্রকর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দু’টি মামলার পাশাপাশি ইডির একটি পৃথক মামলায়ও অভিযুক্ত (Money Laundering Case)। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ছত্তিশগড়ের জুয়া নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে।

    রবি উপ্পলকে ফেরানোর তৎপরতা (Mahadev Betting Scam)

    সৌরভকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য উপ্পল। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা উপ্পল ২০১৯ সালে চন্দ্রকরের সঙ্গে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান। মহাদেব অনলাইন বেটিং ব্যবসার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম মালিক হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

    ২০২৩ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। যদিও ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, তাঁর কাছে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উপ্পল ফের দুবাইয়ে ফিরে এসেছেন।

    ইডির এক আধিকারিক জানান, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে উপ্পল বর্তমানে আবার দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তদন্তকারীদের দাবি, এই বেটিং চক্রে চন্দ্রকর ও উপ্পলের ভূমিকা ছিল আলাদা। চন্দ্রকর মূলত ব্যবসার প্রচার এবং দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। অন্যদিকে, উপ্পলের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন পরিচালনা এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার আর এক অভিযুক্ত বিকাশ ছাপারিয়াকেও দুবাই থেকে ভারতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি।

    কীভাবে চলত মহাদেব বেটিং চক্র?

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, মহাদেব অনলাইন বুক ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ অনলাইন বেটিং চক্র। ভারতের বাইরে থেকে এই ব্যবসা পরিচালিত হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত ছিল এর নেটওয়ার্ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩২০০টি প্যানেল ও শাখা ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ এবং বাজির টাকা আদায় করা হত। ক্রিকেট, ফুটবল, তাসের খেলা-সহ বিভিন্ন খেলার উপর বাজি ধরার সুযোগ দেওয়া হত এই ব্যবস্থায়।

    ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের আমলে এই বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও এই মামলায় অভিযুক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। তবে বাঘেল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত বিষয় মূলত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

    ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অপরাধলব্ধ অর্থের হিসাব

    এই বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ তদন্তকারীদের কাছেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মহাদেব অনলাইন বুক এবং স্কাই এক্সচেঞ্জ ও লোটাস ৩৬৫-এর মতো সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে গত প্রায় ১০ বছরে প্রায় ৯৪,৪০০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সংস্থাটি আদালতে জানিয়েছে, এই হিসাব প্রাথমিক এবং নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো বা অন্যের পরিচয়ে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে বাজির টাকা জমা করা হত। পরে একাধিক লেনদেনের স্তর তৈরি করে সেই অর্থের উৎস আড়াল করা হত। শেষ পর্যন্ত হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ ছত্তিশগড়ের সরকারি আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অবাধে এই অবৈধ ব্যবসা (Mahadev Betting Scam) চালানো যায়।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ১৪

    মহাদেব বেটিং মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্তে এখনও পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে ইডি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি এই মামলায় ছ’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে মোট ১১৬ জন ব্যক্তি ও সংস্থার নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে। বাজেয়াপ্ত ও আটক করা সম্পত্তির মূল্য ২,১০০ কোটি টাকারও বেশি বলে সাম্প্রতিক তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে।

    এই তদন্তের সূত্রেই চন্দ্রকরের বিপুল বিলাসবহুল জীবনযাপনও নজরে আসে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খাইমায় তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অনুষ্ঠানে অতিথিদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে আসে।

    সৌরভকে দেশে ফিরিয়ে আনার ফলে মহাদেব বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে (Money Laundering Case) উপ্পলকে ভারতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে এই বিপুল অবৈধ বেটিং সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা গোটা চক্রের (Mahadev Betting Scam) আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

     

  • 1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। নিজের দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিংয়ের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর হত্যার পরবর্তী পাঁচ দিন ভারতের স্বাধীনতা-উত্তর ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে (1984 Sikh Genocide)। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিল সংগঠিত হিংসার ভয়াবহতা। অভিযোগ, হাজার হাজার নিরপরাধ শিখকে খুন করা হয়, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। সেই সময় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছিল গুরুতর প্রশ্ন (RSS)।

    এই পরিস্থিতিতে আরএসএস এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি করা হয়। হিংসার পরিবেশে বহু শিখ পরিবারকে রক্ষা করতে সঙ্ঘের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিকল্পিত হিংসার অভিযোগ (1984 Sikh Genocide)

    ইন্দিরা হত্যার পর দিল্লিতে শিখবিরোধী হিংসা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে একাধিক তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একাংশ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন কথাও বলা হয় যে, শিখদের এমন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তাঁরা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না।

    অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করা হয়েছিল এবং বস্তি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির সমাজবিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শিখদের বাড়ি ও দোকান চিহ্নিত করা হয়। হামলার জন্য ট্রাক জোগাড় করা হয়েছিল। লোহার রড, কেরোসিন ও পেট্রল সংগ্রহেরও অভিযোগ ওঠে।

    ১ নভেম্বর ভোর থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু হয়। লোহার রড এবং কেরোসিন ও পেট্রলভর্তি পাত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে গুরুদ্বার-সহ শিখদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হামলার চেষ্টার ঘটনাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা গুরুদ্বারের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিতরে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক এক ব্যক্তি হামলাকারীদের ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি চালান। পরবর্তী সময়ে জনতার সংখ্যা আরও বাড়ে। ওই এলাকায় কংগ্রেস নেতা কমলনাথ ও বসন্ত সাঠেকেও দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কমলনাথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হিংসার ঘটনায় কমলনাথের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ ছিল, ১ নভেম্বর দুপুরে গুরুদ্বার ও তার আশপাশে হিংসার খবর পেয়ে তিনি কংগ্রেসের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক কখন তিনি পৌঁছেছিলেন এবং কতক্ষণ সেখানে ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

    বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গুরুদ্বার চত্বরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। অভিযোগ, দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ কমলনাথকে উত্তেজিত জনতার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনার সেখানে পৌঁছন বিকেল সাড়ে ৩টেয়। এই সময়ের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে তাঁর উপস্থিতির উদ্দেশ্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    শিখদের রক্ষায় আরএসএসের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সময় শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট শিখ বুদ্ধিজীবী তথা লেখক খুশবন্ত সিং। বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এ হিস্ট্রি অব দ্য শিখস’-এর লেখক খুশবন্তের বক্তব্য অনুযায়ী, হিংসার সময় কংগ্রেসের সদস্যদের একাংশ যখন শিখদের নিশানা করছিলেন, তখন আরএসএসের সদস্যরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ঢাল হয়ে।

    খুশবন্ত সিংয়ের বক্তব্য ছিল, ইন্দিরা হত্যার আগে ও পরে দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু-শিখ ঐক্য বজায় রাখতে আরএসএস সম্মানজনক ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরও বলেছিলেন, “সেই কঠিন সময়ে অসহায় শিখদের রক্ষা করতে সাহস দেখানোর জন্য আরএসএস এবং বিজেপিকে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো ব্যক্তিও কয়েকটি জায়গায় নিজে হস্তক্ষেপ করে অসহায় ট্যাক্সিচালকদের সাহায্য করেছিলেন।”

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ সময়ে দিল্লি-সহ বিভিন্ন শহরে শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের এই উদ্যোগ হিন্দু-শিখ ভ্রাতৃত্বের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে (RSS)।

    রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য

    ইন্দিরার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি মন্তব্যও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ১৯৮৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “ইন্দিরাজির হত্যার পর দেশে কিছু দাঙ্গা হয়েছিল। মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল এবং কয়েক দিন ধরে মনে হয়েছিল যেন গোটা ভারত কেঁপে উঠেছে। যখন একটি বিশাল গাছ পড়ে যায়, তখন তার আশপাশের মাটি কিছুটা কেঁপে ওঠা স্বাভাবিক।”

    এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সমালোচকদের বক্তব্য, শিখদের উপর সংগঠিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার পরিবর্তে রাজীবের বক্তব্যে সেই হিংসাকে একপ্রকার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক ও অস্ত্র বিলির অভিযোগ

    ১ নভেম্বর সকালে দিল্লির একাধিক এলাকায় কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারকে দেখা গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। পালাম কলোনিতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে, কিরণ গার্ডেনে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এবং সুলতানপুরীতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    পালাম কলোনির বাসিন্দা রাজকুমার নামে এক হিন্দু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, পালাম রেলওয়ে প্রধান সড়কে পৌঁছে তিনি একটি জিপে সজ্জন কুমারকে দেখতে পান। জিপটির পিছনে স্কুটার ও মোটরসাইকেলে চড়ে একদল উত্তেজিত মানুষ যাচ্ছিলেন।

    অভিযোগ, সজ্জন কুমারের বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে ওই জনতা শিখবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছিল, “শিখদের মেরে ফেলো!” এবং “ইন্দিরা গান্ধী আমাদের মা, আর এরাই তাঁকে হত্যা করেছে!” এই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

    জগদীশ টাইটলারের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের ৫ নভেম্বরের একটি ঘটনা তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিক সুদীপ মজুমদার। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস সি ট্যান্ডন সাংবাদিকদের সঙ্গে শহরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

    সেই সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, শিখবিরোধী হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুষ্কৃতীদের মুক্তি দিতে কংগ্রেস সাংসদ এবং দলের শীর্ষ নেতারা পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন কি না। পুলিশ কমিশনার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কংগ্রেস বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে পুলিশকে কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

    কিন্তু তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন দিল্লির সদর কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ জগদীশ টাইটলার। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন।

    সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘরে ঢুকেই টাইটলার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ট্যান্ডন সাহেব, কী হচ্ছে? আমি যে কাজের কথা বলেছিলাম, তা এখনও করেননি কেন?”

    এই ঘটনায় পুলিশ কমিশনার অস্বস্তিতে পড়েন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টাইটলার এরপরও কমিশনারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক সাংবাদিক তাঁকে সংবাদ সম্মেলনে বিঘ্ন না ঘটানোর অনুরোধ জানালে তিনি পাল্টা বলেন, “এটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

    এরপর সাংবাদিকরা টাইটলারকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে হিংসার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান। টাইটলার সেখানে বসে পুলিশ কমিশনারকে বলেন, “আমার লোকজনকে হেফাজতে রেখে আপনারা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।”

    সুদীপ মজুমদারের দাবি, এই ঘটনার পর কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে আর কোনও প্রশ্ন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি সেই সময়ের প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে (1984 Sikh Genocide)।

    দীর্ঘদিন পর বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার একাধিক পুরনো মামলা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার এবং জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিও ফের বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

    ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি আদালত সরস্বতী বিহার এলাকায় বাবা ও ছেলেকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সঙ্গে যুক্ত এই মামলার রায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সিবিআই জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। কয়েক দশক ধরে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে নতুন করে বিচারের আশা জাগায়।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা শিখ অধিকারকর্মী এইচ এস ফুলকা অতীতে ১৯৮৪ সালের ঘটনাকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের কিছু মুসলিম সমর্থকও হিংসায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। অন্যদিকে, বহু সাধারণ হিন্দু নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিখদের রক্ষা করেছিলেন (RSS)।

    ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়। শুধু ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংসতাই নয়, এই হিংসার পিছনে রাজনৈতিক মদত এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

    সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন বলে যে দাবি উঠে এসেছে, তা হিন্দু-শিখ সম্প্রীতি এবং বিপদের সময়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    তবে ১৯৮৪ সালের ঘটনাবলির পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের প্রশ্ন আজও ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। নিহতদের পরিবারগুলির ন্যায়বিচার, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মূল্যায়ন এবং ঐতিহাসিক সত্যের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানই এই অধ্যায়ের প্রকৃত নিষ্পত্তির জন্য অপরিহার্য (1984 Sikh Genocide)।

     

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

    শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

    প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

    পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

    এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

     

  • ED: আরজি করকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য সরকারি অনুমোদন পেল ইডি

    ED: আরজি করকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য সরকারি অনুমোদন পেল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (RG Kar Case) আর্থিক দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষমেশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পেল ইডি (ED)। বুধবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তারা জানায়, রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৭ জুলাই।

    মিলল সরকারের অনুমোদন 

    এর আগে ইডি এই মামলায় সন্দীপকে গ্রেফতার করেছিল। প্রথম চার্জশিটে তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তিনি সরকারি দায়িত্বে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ছিল। সেই কারণে এত দিন বিচারপ্রক্রিয়া এগোতে পারেনি। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন হাতে আসায় এবার মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ হল চওড়া।তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া চার্জশিটে সন্দীপ ছাড়াও দুই ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরার নাম রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এই দুই ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় এটিই ইডির (ED) প্রথম চার্জশিট। এর আগে এই একই মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছিল সিবিআই-ও।

    প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ!

    ইডির অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের কাছে পাঠানো বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিকল্পিতভাবে অন্যত্র সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছিল। সেই অর্থ নগদে তোলা বা বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। ইডির বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত উৎস এবং সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা আড়াল করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। এই আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় সন্দীপের বড় ভূমিকা রয়েছে (RG Kar Case) বলে দাবি ইডির। সরকারি অনুমোদন মেলায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া আরও (ED) দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজিও কমপ্লেক্সে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। রক্ষাকবচ ছাড়াই ইডি দফতরে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার তলব করেছে ইডি। এই মামলায় সিবিআইয়ের দেওয়া তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটের সূত্র ধরেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, বলে খবর। সেখানে ১৫ মিনিটের একটি কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে একাধিক বার জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এসেছে। চাকরি বিক্রি, ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা শোনা গিয়েছে সেই কথোপকথনে। সে বিষয়ে অভিষেককে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    কেন ইডির তলব অভিষেককে?

    ২০১৭ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত বলে পরিচিত ছিলেন। সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর বাড়িতেই একটা বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে একাধিক বিস্ফোরক বিষয় আলোচনা করা হয়েছিল, তারই উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে। বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছিল? চার্জশিট সূত্রে খবর, সুজয় বৈঠকে কুন্তল, শান্তনুদের জানিয়েছিলেন, অভিষেক জানতে পেরেছেন যে প্রাথমিক নিয়োগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোটা টাকা নিচ্ছেন। পার্থ যে টাকা নিয়েছেন, তার ভাগ তিনি কেন পাননি, সেই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। এমনকী, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পার্থ ও অভিষেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধে গিয়েছিল। সিবিআই চার্জশিট সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই যে বেআইনি নিয়োগ হয়ে গিয়েছিল, তার জন্য ১৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অভিষেক। টাকা না পেলে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতারির হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকী, জয়েনিং আটকানোরও হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

     অভিষেকের আর্থিক লেনদেন ইডির নজরে?

    ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) ১৫ মিনিটের ওই অডিও ক্লিপে যে অভিষেকের কথা বলা হচ্ছে, সেই অভিষেকই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কি না, স্পষ্ট নয়। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ছাড়া, কথোপকথনে এসেছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও। অভিষেকের সংস্থা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মচারী ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। সেই সংস্থার আর্থিক লেনদেনও ইডির নজরে রয়েছে। তা নিয়ে এর আগে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিষেকের অন্য সংস্থাগুলিকেও ইডি এ বার তদন্তের আওতায় আনতে চাইছে। সোমবার তা নিয়েও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

  • CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এক বড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। দীর্ঘ ৮ বছর আগে তৃণমূল জমানায় প্রত্যাহার করে নেওয়া সিবিআই (CBI)-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বা সাধারণ সম্মতি পুনরায় বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এর ফলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার তদন্তের গতি কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে ১৯৪৬ সালের ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ (DSPE) আইনের ৬ নম্বর ধারার অধীনে সিবিআই-কে পুনরায় সাধারণ সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

    সাধারণ সম্মতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বিষয়টি আসলে কী (CBI)?

    সিবিআই মূলত ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ আইনের অধীনে কা জ করে। যেহেতু পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের আওতাভুক্ত বিষয়, তাই কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে সিবিআই-এর (CBI) জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয়। প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে রাজ্যগুলো সাধারণত তদন্ত সংস্থাকে একটি ‘ব্লাঙ্কেট পারমিশন’ বা সাধারণ সম্মতি দিয়ে রাখে। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ফলে গত কয়েক বছরে নতুন কোনও মামলার তদন্ত শুরু করার আগে সিবিআই-কে প্রতিবার রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হতো অথবা আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। এবার থাকে এই নিয়মের বড় পরিবর্তন সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সিবিআই পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (CPSU) এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও পূর্ব অনুমতি ছাড়াই সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিশেষ শর্তও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI) সাধারণ সম্মতি ফিরে পেলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে কর্মরত রাজ্য সরকারি আধিকারিক বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে এখনও রাজ্য সরকারের লিখিত আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে।

    ২০১৮ সালে কেন এই সম্মতি কেড়ে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

    ২০১৮ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই-এর সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআই (CBI) এবং ইডি-র মতো সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। সারদা চিটফান্ড থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম জড়ানোয় তৎকালীন সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের মত। এর ফলে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছিল এবং বহু মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

    প্রশাসনিক সংস্কারে অনড় শুভেন্দু সরকার

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূল জমানার বিভিন্ন অনিয়ম সংশোধনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

    • নিয়োগ দুর্নীতি: গত মে মাসেই সরকার শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা নিয়োগ এবং সমবায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিবিআই-কে বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল।
    • ২০১৯-এর হিংসার তদন্ত: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের নামে রেলের যে ৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল, তার তদন্তের দায়িত্বও সম্প্রতি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
    • তদন্ত কমিশন: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১৮ই মে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে দুটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

    রাজ্যে পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ বন্ধ করা এবং দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে ফেলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআই-এর (CBI) সাধারণ সম্মতি পুনরুদ্ধার সেই পথে আরও একটি ইতিবাচক ধাপ।

  • NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘোর বিপাকে ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লা (Saokat Mullah)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গিয়ে (NIA) ঘরে সেঁধিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা! একা হয়ে গিয়েছেন সওকত। মাথার ওপর থেকে ‘মমতা ব্র্যান্ডে’র ছাতাটা সরে যেতেই ফোঁসফাঁস করা বন্ধ করে দিয়ে সওকত এখন মিউমিউ করছেন! এহেন ‘ভাঙড়ের ত্রাসে’র আস্তানায় হানা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। নির্বাচনোত্তর হিংসা এবং বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সওকতের খোঁজে ক্যানিংয়ে পৌঁছয় এনআইএ। এদিন প্রথমে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও আধাসেনা। তার পরেই জীবনতলা এলাকার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় এনআইএর বিশেষ দল৷ এদিন অবশ্য আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে সওকতকে পাননি। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে আটক করে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।

    সওকতের বাড়িতে এনআইএ (NIA)

    এদিন সাত সকালেই এনআইএর দু’টি দল জীবনতলা এলাকায় সওকতের বাড়িতে পৌঁছয়। তদন্তকারীরা অনেকক্ষণ ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। খবরাখবর নেওয়া হয় সওকত কোথায় রয়েছেন, সেই ব্যাপারে। তৃণমূলের রাজত্বে ‘কেউটে’ থেকে পদ্ম-রাজে ‘হেলে’ হয়ে যাওয়া সওকত বাড়িতে নেই বলেই দাবি করেন পরিবারের লোকজন। তখনই তদন্তকারীরা ইমরান নামে তাঁর এর ছেলেকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান (NIA)। তাঁকে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে৷ এনআইএর একটি দল সওকতের হোটেল এবং অন্যান্য ‘ঠেকে’ তল্লাশি চালায়, জানার চেষ্টা করে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে।

    নির্বাচনোত্তর হিংসায় এল সওকতের নাম

    গত ১৮ মার্চ ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া-বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। নির্বাচনোত্তর হিংসার একাধিক ঘটনার তদন্তেও নাম জড়িয়েছে সওকতের। সেই সূত্রেই তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, সওকত বর্তমানে কলকাতা কিংবা তার আশপাশের কোনও এলাকায় রয়েছেন (Saokat Mullah)। রাজনৈতিক মহলে সওকত পরিচিত মুখ। ভাঙড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দাপিয়ে ‘রাজ’ করছিলেন তিনি। একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের এই প্রাক্তন বিধায়কের। যদিও সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ (NIA) অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷

    সওকতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ 

    সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। কয়লাপাচার মামলার তদন্তে একাধিকবার সওকতকে তলব করেছিল আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই৷ সেই সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল দীর্ঘক্ষণ ধরে। যদিও ওই মামলায় কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। এবার ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে এনআইএ হানা দিয়েছে সওকতের (Saokat Mullah) ডেরায়। তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়কের পরিণতি কী হয়, তা জানতে রাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন (NIA)।

     

  • RG kar Case: ৩ সদস্যের সিট গঠিত, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু, আরজি কর মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

    RG kar Case: ৩ সদস্যের সিট গঠিত, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু, আরজি কর মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG kar Case) হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্যাতিতার পরিবারের তোলা অভিযোগ ও দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে সিবিআই-কে (CBI) পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই লক্ষ্যে সিবিআই-এর একজন জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শুরুর নির্দেশ

    আদালত জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের তদন্ত শুরু করবে সিট। ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে মৃতদেহ দাহ এবং প্রমান লোপাট সহ সব বিষয়ের তদন্ত হবে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, অপরাধের বীভৎসতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুন, বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই নবগঠিত বিশেষ দলটিকে আদালতে তাদের তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিশদ রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

    পুনরায় পরিদর্শনে যাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা (RG kar Case)

    আদালতের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

    • ঘটনাস্থল পুনঃপরিদর্শন: সিবিআই-এর (CBI) বিশেষ তদন্তকারী দলকে পুনরায় আরজি কর হাসপাতালের দুর্ঘটনাস্থলে যেতে হবে।
    • পরিবারের সঙ্গে সংযোগ: নির্যাতিতার (RG kar Case) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও আশঙ্কার জায়গাগুলি বিশদভাবে শুনতে হবে।
    • তথ্য পুনর্মূল্যায়ন: মামলার যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ, নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী কেস ডায়েরি নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

    উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানিতে (RG kar Case) ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই-এর কাছে কেস ডায়েরি, অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং আলোকচিত্রসহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি তলব করেছিল। গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শুনানির পর আদালত নির্দেশ দেয় যে, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে তদন্তকারী আধিকারিককে (IO) সমস্ত নথিসহ সশরীরে হাজিরা দিতে হবে।

    মঙ্গলবার শুনানির সময় ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে সিবিআই-কে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে—তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বহিরাগতরা অকুস্থলে প্রবেশ করছে? এর পরেই সেমিনার রুমসহ আরজি কর হাসপাতালের সংবেদনশীল অংশগুলি অবিলম্বে সিল করার জন্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

    মামলার প্রেক্ষাপট

    প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট তারিখে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG kar Case) কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। তবে মূল তদন্তের কিছু ফাঁকফোকর ও অন্যান্য রহস্য উদঘাটনের দাবি তুলে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার।

    আইনি জটিলতার কারণে ইতিপূর্বে হাইকোর্টের তিনটি পৃথক বেঞ্চ এই মামলার শুনানি থেকে একে একে সরে দাঁড়ায়। গত ১২ মে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির ওপর জোর দিয়ে এটি ছেড়ে দেন। এরপর প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় যে, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত আবেদনের শুনানি একটি নতুন ডিভিশন বেঞ্চে হবে। সেই নির্দেশানুসারেই বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন (CBI) রয়েছে।

  • NEET Paper Leak: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের কেন্দ্রে এনটিএর প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল

    NEET Paper Leak: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের কেন্দ্রে এনটিএর প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় আরও একজনকে গ্রেফতারের পর এবার তদন্তের কেন্দ্রে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল। সিবিআইয়ের এক আধিকারিক (CBI Probe) সংবাদ মাধ্যমে জানান (NEET Paper Leak), প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী পুরো কমিটি এবং এনটিএর শীর্ষ আধিকারিকদের তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও কয়েকজন গ্রেফতার হতে পারেন। প্রসঙ্গত, শনিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে পুণের উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মণীষা গুরুনাথ মান্ধারেকে। অভিযোগ, মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন তিনি।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের জাল (NEET Paper Leak)

    মণীষা ছিলেন এনটিএর নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ। কাজ করতেন প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী কমিটিতে। তদন্তকারীদের মতে, এর ফলে তিনি বোটানি ও জুলজি বিভাগের গোপনে রাখা প্রশ্নপত্র দেখার অধিকার পান। এর একদিন আগেই তদন্তকারী সংস্থা অবসরপ্রাপ্ত রসায়নের অধ্যাপক পিভি কুলকার্নিকে গ্রেফতার করে। তাঁকে তদন্তকারীরা এই কেলেঙ্কারির ‘মূল চক্রী’ বলে উল্লেখ করেন। অন্য এক আধিকারিক বলেন, “প্রশ্নফাঁসের তদন্তে এই প্রথম আমরা এনটিএর ভেতর থেকেই ফাঁসের উৎস খুঁজে পেয়েছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে মেসেজিং গ্রুপে পিডিএফ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত পরীক্ষার্থী এর সুবিধা পেয়ে থাকতে পারে। আমরা তাদের সবাইকে চিহ্নিত করব। তবে প্রথমে আমরা প্রশ্নফাঁসের উৎস ও তাদের সহযোগীদের খুঁজছি (NEET Paper Leak)।”

    বিশেষ কোচিং ক্লাস করিয়েছিলেন মান্ধারে!

    সিবিআইয়ের মতে, এপ্রিল মাসে মান্ধারে তাঁর পুণের বাড়িতে কিছু নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে বিশেষ কোচিং ক্লাস করাচ্ছিলেন। সেখানে তিনি বোটানি ও জুলজির প্রশ্ন বলে দিতেন, যেগুলির অনেকটাই পরে ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় এসেছিল (CBI Probe)।তদন্তকারীরা জানান, ছাত্রছাত্রীদের তাঁর কাছে নিয়ে আসতেন সহ-অভিযুক্ত মণীষা ওয়াঘমারে। তিনি পুণের একটি বিউটি পার্লারের মালিক। এই সপ্তাহের শুরুতেই গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা জানিয়েছে, “ক্লাস চলাকালীন মান্ধারে বোটানি ও জুলজির বিভিন্ন প্রশ্ন ব্যাখ্যা করতেন। ছাত্রছাত্রীদের সেগুলি খাতায় লিখে রাখতে ও বইয়ে চিহ্নিত করে রাখতে বলতেন। এই প্রশ্নগুলির অধিকাংশই নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায় (NEET Paper Leak)।”

    প্রমাণ লোপাট করতে প্রশ্নপত্র নষ্ট!

    আধিকারিকরা জানান, তদন্তে এনটিএর ভেতর থেকে বের হওয়া প্রশ্নফাঁসের দু’টি আলাদা সেটের সন্ধান মিলেছে—একটি হাতে লেখা, অন্যটি টাইপ করা। তদন্তকারীদের দাবি, কুলকার্নি রসায়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন, আর মান্ধারে করেছিলেন জীববিজ্ঞানের অংশ। অভিযোগ, কুলকার্নিও তাঁর পুণের বাড়িতে বিশেষ ক্লাস নিতেন। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর এবং সঠিক উত্তর লিখে নিতেন, যেগুলি পরে আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ‘হুবহু মিলে যায়’। শনিবার সিবিআই কুলকার্নি ও ওয়াঘমারেকে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ বিশেষ আদালতে হাজির করে, আবেদন জানায় ১৪ দিনের হেফাজতের। সংস্থা তাঁদের ‘সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য’ বলে দাবি করে। আদালত দু’জনকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠায়। সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ৩ মে-র পরীক্ষার পর প্রমাণ লোপাট করতে প্রশ্নপত্র নষ্ট করে দেয়। তদন্তকারীরা এও খতিয়ে দেখছেন, কুলকার্নি ও মান্ধারের আগেও কেউ কোনও প্রশ্নপত্রফাঁসকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না।

    মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ছড়িয়েছিল প্রশ্ন

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, ৫০০-৬০০টি প্রশ্ন সম্বলিত একটি পিডিএফ টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছিল। নাসিকের শুভম খৈরনার এই প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেন গুরগাঁওয়ের যশ যাদবের কাছে। যশ সেটি জয়পুরের মাঙ্গিলাল বিওয়াল ওরফে মাঙ্গিলাল খাটিকের কাছে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রায় ১৫০টি প্রশ্ন ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলবে (NEET Paper Leak)। গত ২৪ ঘণ্টায় ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, মোবাইল ফোন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    ৫ রাজ্য থেকে গ্রেফতার

    এখন পর্যন্ত পাঁচটি রাজ্য থেকে সব মিলিয়ে মোট ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন পুণের মান্ধারে, কুলকার্নি ও ওয়াঘমারে, আহিল্যানগরের ধনঞ্জয় লোকহান্ডা,  নাসিকের খৈরনার, জয়পুরের মাঙ্গিলাল বিওয়াল, বিকাশ বিওয়াল ও দীনেশ বিওয়াল, এবং গুরগাঁওয়ের যশ। সিবিআই জানিয়েছে, “এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ এবং পেশাদার তদন্তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” প্রতি বছর ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির (CBI Probe) প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি দেন। প্রশ্নফাঁসের পর ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ২১ জুন ফের (NEET Paper Leak) পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে সরকার।

     

LinkedIn
Share