Tag: ceasefire

ceasefire

  • Trump: “ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে’’! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প, কেন জানেন?

    Trump: “ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে’’! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁকে হত্যার চেষ্টা হলে ইরানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব সামরিক হামলার নির্দেশ আগে থেকেই দেওয়া রয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে তিনি জানান, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকার পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ ভয়াবহ সামরিক জবাব দেওয়া হবে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য (Trump)

    ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি কার্যকর করা হলে বা একজন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করা হলে ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে।’’ তাঁর আরও দাবি, প্রথম দফার হামলার পরপরই হাজার হাজার অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বছরের জন্য, প্রয়োজনে যার মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের সব এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” এর আগে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই তাদের টার্গেট। এটাই বাস্তবতা। যদি আমার সঙ্গে কিছু ঘটে, তা হলে এমন মাত্রায় ইরানে বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।’’

    ইরানের পয়লা নম্বর টার্গেট

    তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁকে হত্যার নতুন কোনও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য নেই। ইজরায়েল এই ধরনের নতুন কোনও তথ্য পেয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “না, না। ইজরায়েল এমন কিছুই পায়নি। আমি বহু দিন ধরেই ইরানের হত্যার তালিকায় এক নম্বরে আছি। এটাই বাস্তবতা।” চলতি সপ্তাহেই নিজেকে ইরানের পয়লা নম্বর টার্গেট বলে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। এদিন তিনি ফের জানান, ইরানকে কখনওই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। তবে ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে কোনও সংঘাত হলেও, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান। পরে মার্কিন প্রশাসন ট্রাম্পকে হত্যার একাধিক কথিত ইরান-যোগের ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ করলেও, তেহরান বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ!

    এদিকে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান ফের আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের কাছে আবার আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গিয়েছে।’’

  • Hormuz Strait: বন্ধ হরমুজ প্রণালী, কৌশলেই বাজিমাত করে চলেছে মোদির ভারত

    Hormuz Strait: বন্ধ হরমুজ প্রণালী, কৌশলেই বাজিমাত করে চলেছে মোদির ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরগুলির একটি হল হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait)। মাস তিনেক ধরে অবরুদ্ধ রয়েছে এই প্রণালী। ইরান ও ওমানের মাঝখানে থাকা (Indian Vessels) এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। তাই প্রণালী অবরোধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাহত হয়েছে সরবরাহ। প্রত্যাশিতভাবেই বেড়েছে জ্বালানির দামও। যদিও ৯ এপ্রিল ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বন্ধ হয়েছে সক্রিয় সংঘাত। তার পরেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি ওই প্রণালী পথে ভেসেলগুলির চলাচল। সংঘাতের জেরে জাহাজ চলাচল এখনও ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

    ধারাবাহিক জাহাজ চলাচল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Hormuz Strait)

    এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত বেশ কয়েকটি জাহাজ এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করেই চলাচল করছে। তার জেরে আঞ্চলিক বিস্তর বিঘ্ন সত্ত্বেও, ভারত তার জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে পেরেছে। এই ধারাবাহিক জাহাজ চলাচল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। প্রশ্ন হল, তাহলে কীভাবে ভারত বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পেরেছে, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি (US-Israeli) হামলার জবাবে ইরান বারবার বিভিন্ন জাহাজকে চাঁদমারি করেছিল? এই হামলাই সংঘাতের সূচনা করেছিল এবং এর ফলে বিশ্বের বহু শিপিং অপারেটর এই রুট এড়িয়ে চলতে শুরু করে (Hormuz Strait)। শুক্রবার শিপিংমন্ত্রকের কর্তারা উত্তেজনাপূর্ণ এই জলপথে ভারতের জাহাজ চলাচল বজায় রাখার কৌশল সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়েছেন, যদিও নিরাপত্তার কারণে তাঁরা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি (Indian Vessels) হননি।

    আধিকারিকের বক্তব্য

    বন্দর, নৌ-পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের পরিচালক (শিপিং) ওপেশ কুমার শর্মা বলেন, “ভারত ও ইরানের মধ্যে আমরা কীভাবে সমন্বয় করি, কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করি—স্বাভাবিক কারণেই আমি সেই বিষয়গুলি প্রকাশ করতে চাই না। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের (MEA) মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করি। বিষয়টি সেখানেই সীমাবদ্ধ (Hormuz Strait)।” তিনি “অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং সার মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে। সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে আমরা জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করি।”

    হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ

    সূত্রের খবর, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ১টি এলপিজি ট্যাঙ্কার, ৫টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, ১টি রাসায়নিক বা পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার, ৩টি কনটেইনার জাহাজ, ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১টি ড্রেজার (Indian Vessels)। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারত এই রুটে সামুদ্রিক বাণিজ্য বজায় রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যার দিক থেকে এখনও শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে রয়েছে (Hormuz Strait) ভারত। প্রসঙ্গত, ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের পর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বহু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এই রুট এড়িয়ে চলেছে। তবুও ভারত কৌশলগত সমন্বয় ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তার বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পেরেছে।

  • Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের (Pakistan)! বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং দ্বিমুখী আচরণ পাকিস্তানের মূল বৈশিষ্ট্য (US Attacks)। শাহবাজ শরিফের দেশের প্রকৃত চরিত্রের আর একটি উদাহরণ হল পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। এই একই সময়ে তারা ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার ‘মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকাও পালন করছিল। ১১ মে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের (CBS News) রিপোর্টে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানগুলিকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে তাদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

    পাকিস্তানের দ্বিচারিতা (Pakistan)

    রিপোর্টে বলা হয়, “এই সব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমানসম্পদকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিল, যদিও একই সময়ে আধিকারিকরা প্রকাশ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই ইরান তাদের সামরিক বিমান, যার মধ্যে একটি আরসি-১৩০ (RC-130) গোয়েন্দা বিমানও ছিল, পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। এই সব বিমান রাখা হয় পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই বিমানবন্দর (US Attacks)।

    বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই হইচই পড়ে যায় বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই। এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক ১২ মে এক বিবৃতিতে রিপোর্টটিকে ‘ভুল ও অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করে। তাদের দাবি, শান্তি-আলোচনা চলাকালীনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কিছু ইরানি ও মার্কিন বিমান পাকিস্তানে এসেছিল। পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দেয়, ইরানি বিমানগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সামরিক প্রস্তুতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি বিমানগুলি যুদ্ধবিরতির সময় পাকিস্তানে আসে। তবে এগুলির সঙ্গে কোনও সামরিক পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর (US Attacks)।”

    মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য

    মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত (Pakistan)। তিনি বলেন, “যদি এই খবর ঠিক হয়, তাহলে ইরান, আমেরিকা ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” বস্তুত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের শিকার। একদিকে পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে আমেরিকার স্বার্থকেই।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির অভিযোগ, পাকিস্তান নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় না।” তাঁর আরও অভিযোগ, আমেরিকা প্রথমে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। এর মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও ছিল। যদিও পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অভিযোগ, পাকিস্তান এই তথ্য গোপন করেছে (Pakistan)।

    শরিফের করা খসড়া সংস্করণ ফাঁস অনলাইনে

    এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের করা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের খসড়া সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয় (US Attacks)। সেখানে লেখা ছিল ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্সে লেখা মেসেজ’ (Draft – Pakistan’s PM Message on X)। পরে অবশ্য সংশোধিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। যদিও ততক্ষণে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শান্তি আলোচনা চলার সময়ই ইজরায়েল সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। ইজরায়েলকে তিনি ‘অভিশাপ’, ‘মানবতার ক্যানসার’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

    সমালোচকদের বক্তব্য

    এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তান ইরানের জন্য ছ’টি বাণিজ্যপথ খুলে দেয়। এর ফলে মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে আমেরিকার চাপ। সমালোচকদের একটা বড় অংশের মতে, পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না, বরং ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে (Pakistan)। একদিকে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে। ফলে পাকিস্তানকে অনেকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নয়, বরং ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেই মনে করছেন (US Attacks)।

     

  • JD Vance: ‘ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পকে দেওয়া পেন্টাগনের রিপোর্ট সঠিক নয়’, আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

    JD Vance: ‘ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পকে দেওয়া পেন্টাগনের রিপোর্ট সঠিক নয়’, আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং শীর্ষ সামরিক কর্তাদের ইরান যুদ্ধের (Iran War) অগ্রগতি নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন রিপোর্ট সঠিক নয় বলেই আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance)। তাঁর মতে, যুদ্ধে আমেরিকার সাফল্য সম্পর্কে পেন্টাগনের অতিরঞ্জিত উপস্থাপন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এই মতভেদ প্রকাশ করেছে ‘দ্য আটলান্টিক’।

    ভ্যান্সের সন্দেহ (JD Vance)

    প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের দাবি, আট সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, নিরাপদে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার। গোপন বৈঠকে ভান্স বারবার এসব দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর। ভ্যান্সের সন্দেহ, আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র মজুতে বড় ঘাটতি রয়েছে, এ তথ্য লুকিয়ে রেখেছে পেন্টাগন। তিনি ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, বর্তমান অস্ত্রসঙ্কট ভবিষ্যতে চিন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।

    পেন্টাগনের দাবি

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, আমেরিকা ইতিমধ্যেই তার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। পেন্টাগনের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার একটুও কমেনি। তবে ভ্যান্স মনে করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান এখনও তার বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার দুই-তৃতীয়াংশ ধরে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে সক্ষম ইরানি নৌযানও এখনও হুমকি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে (JD Vance)।

    সমালোচকদের অভিযোগ

    সমালোচকদের অভিযোগ, পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বাস্তব পরিস্থিতি জানানোর বদলে ট্রাম্প যা শুনতে চান, তাই বলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফক্স নিউজে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে হেগসেথ ট্রাম্পের মনোভাব অনায়াসেই বুঝতে পারেন (Iran War)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার আগেই ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, “এতে ব্যাপক প্রাণহানি হবে এবং অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।” তবে এখন ভ্যান্স অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছেন, কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের ভালো সম্পর্ক এবং ২০২৮ সালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়টি মাথায় রাখছেন।

    মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত

    এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত, ইরানের বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনও অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অভিযান চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে ইরানের (JD Vance)। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রায় ছ’ঘণ্টাব্যাপী এক শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শপথ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার এটাই ছিল তাঁর প্রথম উপস্থিতি। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সামনে হাজির হন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষা (Iran War) বিভাগের প্রধান আর্থিক কর্তা জুলস হার্স্ট।

    হেগসেথের বক্তব্য

    উদ্বোধনী বক্তব্যে হেগসেথ বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হল ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকানের বক্তব্য।” কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সংঘাতে ফেডারেল অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হার্স্ট জানান, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। এর বেশিরভাগটাই ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদ এবং সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে। খরচের পুরো হিসেব পরে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি আলোচনায় বসতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যদিও সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শেষ হয়নি (JD Vance)।

    প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর দাবি

    অর্থের বিষয়টি শুনানির বড় আলোচ্য বিষয় ছিল। হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে প্রতিরক্ষা বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি (Iran War)। হেগসেথ বলেন, “বাজেট প্রস্তাবটি সময়ের জরুরির বিষয়টি প্রতিফলিত করে।” জেনারেল কেইন বলেন, “১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ঐতিহাসিক অগ্রিম বিনিয়োগ, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখবে।” ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রায়ই ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চালানো ‘ব্যয়বহুল পছন্দের যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট জন গারামেন্ডি বলেন, “আপনি প্রথম দিন থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকান জনগণকে মিথ্যে বলে আসছেন, এবং প্রেসিডেন্টও তাই (JD Vance) করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ার আর একটি যুদ্ধে একেবারে কাদায় আটকে গিয়েছেন (Iran War)”।

     

  • Iran Speaker: ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী বললেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার?

    Iran Speaker: ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী বললেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবি উড়িয়ে দিলেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ (Iran Speaker)। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি মিথ্যে প্রচার করার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “ওয়াশিংটনের এই বয়ান দিয়ে না জেতা যাবে যুদ্ধ, না সফল হবে আলোচনা।” গালিবাফ এই মর্মে সতর্ক করে দেন যে বিশ্বের অন্যতম (Hormuz Strait) গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে না, যদি আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলিতে তাদের নৌ-অবরোধ চালিয়ে যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রণালীর মাধ্যমে যে কোনও চলাচল এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমতি ও নির্ধারিত রুটের ওপর নির্ভর করবে। এ থেকে একটি জিনিস স্পষ্ট, তা হল চাপ অব্যাহত থাকলে তেহরান নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে প্রস্তুত।

    ইরানের বক্তব্য (Iran Speaker)

    ইরানের তরফে এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন একটি সময়ে, যখন তেহরান নিজেই কিছুটা পরস্পরবিরোধী সংকেত দিচ্ছে। গালিবাফের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান ঘোষণা করেছিল, বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, সেই সময় প্রণালীটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খোলা। যদিও সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘিচি বিশ্ববাজারকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, “ইরানের পূর্ব-অনুমোদিত রুট ধরে জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।” এদিকে, ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি বৃহত্তর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ- অবরোধ চলবে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, আলোচনা একেবারে শেষ পর্যায়ে (Iran Speaker)। ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের বোমা ফেলা শুরু করতে পারে।”

    ভিত্তিহীন দাবি, বলল ইরান

    অন্যদিকে, তেহরান (ইরানের রাজধানী) ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষ করে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি আধিকারিকরা। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের কোনও প্রস্তাব কখনও আলোচনার অংশই ছিল না। প্রসঙ্গত, এহেন অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী—একটি সরু কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। যদিও ইরান এটি ফের খোলার কথা ঘোষণা করেছে, তা সত্ত্বেও রয়ে গিয়েছে অনিশ্চয়তা। নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না মেলায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল করছে সতর্কতা অবলম্বন করে (Hormuz Strait)।

    বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী এখন শুধু একটি বাণিজ্য পথ নয়, এটি কার্যত একটি চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার, প্রায় প্রতিরোধমূলক অস্ত্রের মতো, যার মাধ্যমে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ ছাড়াই ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যে চিত্রটি সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত ভঙ্গুর। যদিও বাস্তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সামরিক চাপ এবং তীব্রভাবে ভিন্ন বয়ানের দ্বারা পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রিত (Iran Speaker)।

  • Iran: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

    Iran: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পর দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরেই খুলে দেওয়া হয়েছিল হরমুজ প্রণালী। যদিও ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই ফের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হল ওই প্রণালীতে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। তাদের দাবি, লেবাননে হিজবুল্লাদের টার্গেট করে ইজরায়েল ১০০টি বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইজরায়েলের ওই হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস ইরানকে অবিলম্বে প্রণালী খুলে দিতে বলেছে। যদিও হরমুজ প্রণালী বন্ধের আগে দু’টি জাহাজকে প্রণালী পার হতে দেওয়া হয়েছিল।

    লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয় (Iran)

    ইজরায়েলের মতে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়, যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তেহরান বলেছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় ইজরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর হামলা-সহ সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হবে। এক শীর্ষ ইরানি আধিকারিক লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস ইহুদি আগ্রাসনের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি সবার জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।” ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা তথা বিদেশনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজেই এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস জায়নিস্ট আগ্রাসনের জবাবে এখনই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে হবে… লেবাননের মানুষ আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমরা তাদের এক মুহূর্তও একা ছেড়ে দিতে পারি না। যুদ্ধবিরতি হয় সব ফ্রন্টে হবে, নয়তো কোথাও নয়।” এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে প্রণালী খুলতে হবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিয়েছে।

    ইরানি আধিকারিকের বক্তব্য

    প্রবীণ এক ইরানি আধিকারিক জানান, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা হওয়ার আগে বৃহস্পতি বা শুক্রবারের মধ্যে ইরান অবরোধ কিছুটা শিথিল করতে পারে, যদিও জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতি লাগবে। হরমুজ প্রণালী ইরান এবং ওমান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে অবস্থিত একটি সঙ্কীর্ণ জলপথ। এটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বের দৈনিক তেল এবং এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই হয় এই প্রণালী-পথে। এসবই ঘটে যখন ইজরায়েল লেবাননে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা চালায় এদিন, যদিও হিজবুল্লাহ উত্তর ইজরায়েলে আক্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল এবং মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তির মধ্যেই ছিল ইজরায়েলি বাহিনীও।

    বেইরুটে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

    এদিন বেইরুটে শক্তিশালী বিস্ফোরণের জেরে শহর কেঁপে ওঠে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার মেঘ। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সংঘাতের সবচেয়ে বড় যৌথ হামলা চালিয়েছে, যেখানে বেইরুট, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে ১০০টিরও বেশি হিজবুল্লাহ ঘাঁটি টার্গেট করা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মতে, অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের ক্ষেত্রে ছ’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননে প্রযোজ্য নয়। তাই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।” উল্লেখ্য, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ শরিফ বলেছিলেন লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অধিকাংশ হামলা জনবহুল এলাকায় হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী।

    বর্বর আগ্রাসন

    এদিকে, হিজবুল্লাহ এই হামলাকে বর্বর আগ্রাসন বলে নিন্দে করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, “বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি কাঠামোর মধ্যে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।” ইরানের ইসলামিক রিভলুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা চললে তার জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হিজবুল্লাহর কারণে লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তিনি একে আলাদা সংঘর্ষ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও তিনি বলেন বিষয়টি সমাধান করা হবে। হোয়াইট হাউসের তরফেও একই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে ১,৫০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩০-এরও বেশি শিশু ও ১০০-এরও বেশি নারী রয়েছে। উল্লেখ্য যে, হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইজরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া শুরু করেছে।

     

  • Iran: ‘দ্রুত ইরান ছাড়ুন’, যুদ্ধবিরতির আবহে ভারতীয় নাগরিকদের পরামর্শ ভারতের দূতাবাসের

    Iran: ‘দ্রুত ইরান ছাড়ুন’, যুদ্ধবিরতির আবহে ভারতীয় নাগরিকদের পরামর্শ ভারতের দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে তারা যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তার নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই অপারেশনই আপাতত স্থগিত থাকছে। যুদ্ধবিরতির খবর চাউর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানে (ইরানের রাজধানী) অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জরুরি পরামর্শ জারি করে ভারতীয় নাগরিকদের এই সময়ে  দ্রুত ইরান ছেড়ে চলে যেতে বলে। দূতাবাস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নাগরিকদের অবশ্যই আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নির্ধারিত পথই ব্যবহার করতে হবে।

    কয়েকটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর (Iran)

    সতর্কবার্তায় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়, আগাম অনুমতি ছাড়া কোনও আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তে নিজ উদ্যোগে যাওয়া যাবে না। আধিকারিকরা বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের যাতায়াত দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই করতে হবে।” যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলেও জানান তাঁরা। ভারতীয় নাগরিকদের সাহায্যের জন্য দূতাবাস কয়েকটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করেছে। এগুলি হল—

    • +৯৮৯১২৮১০৯১১৫
    • +৯৮৯১২৮১০৯১০২
    • +৯৮৯১২৮১০৯১০৯
    • +৯৮৯৯৩২১৭৯৩৫৯

    ইরান ছাড়ার পরিকল্পনা করার সময় নাগরিকদের দূতাবাসের কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখান আহ্বানও জানানো হয়েছে।

    কী বলা হয়েছিল আগের নির্দেশিকায়

    নয়া এই নির্দেশনা জারির মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ইরানে থাকা সব ভারতীয় নাগরিককে ৪৮ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। দূতাবাস নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছিল সামরিক ও বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলুন, ভবনের উঁচুতলা থেকে দূরে থাকুন, চলাচল সীমিত রাখুন এবং সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলুন। যাঁরা দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় থাকা আবাসনে রয়েছেন, তাঁদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং সেখানে নিয়োজিত দূতাবাসের দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয়সড়কে যে কোনও ভ্রমণ অবশ্যই আধিকারিকদের জানিয়ে এবং তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে করতে হবে।

  • Iran: আমেরিকা-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, কী বলল তেহরান?

    Iran: আমেরিকা-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, কী বলল তেহরান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান (Iran)। সোমবারই ওই প্রস্তাব নাকচ করা হয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল ওই প্রস্তাব (US Ceasefire Plan)। এর পরিবর্তে ইরান যুদ্ধে ইতি টানতে একটি ১০ দফা রূপরেখা প্রস্তাব করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে। এই পরিকল্পনায় তেহরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের শর্তাবলীও তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা, সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ীভাবে শত্রুতা বন্ধ করা, এবং লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করা। এতে আমেরিকার সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

    প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিক (Iran)

    এই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল,  উত্তেজনা হ্রাসকে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত করা। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তারা এই কৌশলগত জলপথ ফের খুলে দেবে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি জাহাজের জন্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার ট্রানজিট ফি, ওমানের সঙ্গে আয় ভাগাভাগি, এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। ইরানের প্রস্তাব, এই আয় ক্ষতিপূরণের বদলে পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। এর আগে ইরান আমেরিকার প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনাকে “অত্যধিক দাবি-সম্পন্ন” ও অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ হলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। এ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, সংঘাত দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় ইরান আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে (Iran)।

    মার্কিন অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ 

    তেহরান ইসফাহানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই অভিযানটি ইউরেনিয়াম দখলের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। যদিও ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এটি একটি ভূপাতিত এফ-১৫ বিমানের সঙ্গে যুক্ত এক সেনা সদস্যকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত হয়েছিল। ইরান সতর্ক করেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ আস্থার সঙ্কট তৈরি করতে পারে (US Ceasefire Plan) এবং আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে (Iran)। ইরানের বিদেশমন্ত্রক সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী নিশ্চয়তা ছাড়া কোনও যুদ্ধবিরতি প্রতিপক্ষকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, যে কোনও চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শত্রুতার অবসান নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নিরাপদ নৌ-যাতায়াত নিশ্চিত করতে অব্যাহত রয়েছে ওমানের সঙ্গে আলোচনা।

  • Pakistan: মেরামতির চেষ্টা ব্যর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র ভাঙল পাকিস্তান

    Pakistan: মেরামতির চেষ্টা ব্যর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র ভাঙল পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র মেরামত ও পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছিল পাক বিমানবাহিনী (PAF)। তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাই কেন্দ্রটি (Pakistan) ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে উপগ্রহ চিত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এই কেন্দ্রটি পাকিস্তানের প্রধান মুরিদ বিমানঘাঁটি, যা চকওয়াল এলাকার কাছে অবস্থিত (Operation Sindoor)।

    মুরিদ এয়ার বেসে মেরামত (Pakistan)

    সংবাদ মাধ্যমের কাছে থাকা ভ্যান্টরের ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, মুরিদ এয়ার বেসে মেরামতের কাজ সফল হয়নি। ভবনের মাঝের অংশটি আগে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরে ত্রিপল দিয়ে সেটি ঢেকে রাখা হয়েছিল। এখন সেখানে অনিয়মিত গোলাপি-লাল ধ্বংসাবশেষ এবং মাটি দেখা যাচ্ছে, যা সফলভাবে পুনর্নির্মাণের বদলে ভবন ভেঙে ফেলা বা ধসে পড়ার ইঙ্গিত বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব প্রায় দশ মাস পরেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষক ডেমিয়েন সাইমন বলেন, “সাম্প্রতিক ছবিতে এখন নিশ্চিত হয়েছে যে ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে।” তিনি বলেন, “এটি ইঙ্গিত করে যে হামলার প্রভাব শুধু ছাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর গভীর অংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। প্রায় ৩৫×৩০ মিটার আকারের এই কাঠামোটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যায় যে বিমান হামলার ফলে ভবনের ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল, যার ফলে এটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ে, নিরাপদও নয়।”

    পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ১০ মে ভোর ২টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের দশটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় (অপারেশন সিঁদুর), যার মধ্যে মুরিদও ছিল। কয়েক ঘণ্টা পরেই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে সংঘাত বন্ধে আলোচনা শুরু করে (Operation Sindoor)। এই প্রতিবেদনে যে কাঠামোটির কথা বলা হয়েছে, সেটি এই ঘাঁটির ভেতরে থাকা একটি কমপ্লেক্স থেকে পরিচালিত মানববিহীন আকাশযানের (UAV) জন্য একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত বলেই অনুমান। একই ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনী একটি ভূগর্ভস্থ কাঠামোয়ও হামলা চালিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে (Pakistan)।

    গোলাবারুদের আঘাতে তৈরি গর্ত

    এর আগে সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই ভূগর্ভস্থ কাঠামোর দুটি প্রবেশপথের একটির মাত্র ৩০ মিটার দূরে প্রায় ৩ মিটার প্রশস্ত গোলাবারুদের আঘাতে তৈরি একটি গর্ত রয়েছে। সাইমন বলেন, “ভারতের মে ২০২৫-এর বিমান হামলার পর সংগৃহীত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলাকালীন সেটি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ডিসেম্বর ২০২৫-এর পরে তোলা ছবিতে দেখা যায় পুরো কাঠামোটি ত্রিপল ও রিপেয়ারিং নেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা মেরামতের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দেয় (Operation Sindoor)।”

    ক্ষয়ক্ষতির ছবি স্পষ্ট

    ১০ মে ২০২৫-এর স্যাটেলাইট ছবিতে হামলার কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্রীয় ভবনগুলিতে স্পষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ছবি দেখা যায়। ক্ষতির ধরন, ছাদে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রবেশ করে ভেতরে ধস নামা, ইঙ্গিত দেয় যে এটি শুধু সাধারণ বিস্ফোরণের ফল নয়। বরং এটি এমন পেনিট্রেটর ওয়ারহেড ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখায় যা শক্ত কংক্রিট ভেদ করে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি। সামরিক কমান্ড সেন্টারের মতো শক্তভাবে সুরক্ষিত টার্গেটে সাধারণত এই ধরনের অস্ত্রই ব্যবহৃত হয় (Pakistan)।

    স্ক্যাল্প মিসাইল

    ভারতীয় বিমানবাহিনী কখনও প্রকাশ্যে বলেনি কোন টার্গেটে তারা কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে ক্ষতির ধরন এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে দূরত্ব বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে যে ভারতীয় আকাশসীমা থেকেই রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা স্ক্যাল্প (SCALP) এয়ার-টু-সারফেস প্রিসিশন মিসাইল ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে (Operation Sindoor)। স্ক্যাল্প মিসাইল প্রায় ৪৫০ কেজি ওজনের বহু-ধাপবিশিষ্ট পেনিট্রেটর ব্যবস্থায় সজ্জিত হতে পারে। প্রথম ধাপটি একটি প্রাথমিক শেপড চার্জ, যা শক্ত কংক্রিটের মতো বাহ্যিক স্তর ভেঙে একটি প্রবেশপথ তৈরি করে। এরপর প্রধান বিস্ফোরক বহনকারী দ্বিতীয় ধাপটি কাঠামোর গভীরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়, ফলে ভেতরে শার্পনেল ও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে ব্যাপক ক্ষতি করে (Pakistan)।

    মেরামতের চেষ্টাও ব্যর্থ

    ২০২৫ সালের ২ জুন, অর্থাৎ হামলার প্রায় তিন সপ্তাহ পরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় ভবনের একটি অংশ সবুজ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়। তখনও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ শুরু হয়নি। ডিসেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি বড় লাল ত্রিপল দিয়ে পুরোপুরি ঢেকে রেখে মেরামতের চেষ্টা চলছিল। তবে কোনও নতুন স্থায়ী ছাদ বা কাঠামোগত মেরামতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি, যা ধীরগতির বা জটিল পুনর্নির্মাণের ইঙ্গিত দেয় (Operation Sindoor)। এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত নতুন স্যাটেলাইট ছবিটি দেখাচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত সেই মেরামতের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে (Pakistan)।

     

  • Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্তে যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)। সপ্তাহ তিনেক ধরে চলা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ফলে প্রায় দশ লাখ মানুষ তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে অবস্থানে সেনারা রয়েছেন, সেখানেই ফ্রন্টলাইন স্থির রাখা হবে, নতুন করে সেনা বা রসদ পাঠানো বন্ধ থাকবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব নিজ নিজ (Deadly Clash) বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি টানা ৭২ ঘণ্টা কার্যকর থাকলে, জুলাই মাস থেকে তাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

    যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)

    চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সহায়তায় দুই দেশের মধ্যে টানা কয়েক দিনের আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। চুক্তিটিতে বাস্তুচ্যুতদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাইন সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। তাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্খফানিত যুদ্ধবিরতিকে অন্য পক্ষের আন্তরিকতার একটি পরীক্ষা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হয় বা লঙ্ঘিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার তাইল্যান্ড বজায় রাখবে।” রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্কের আশা, এই যুদ্ধবিরতি শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক মুখপাত্রের বাস্তবায়নে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বানও জানান।

    যুদ্ধবিরতিতে গররাজি ছিল তাইল্যান্ড

    তাইল্যান্ড প্রথমে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে গররাজি ছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আগের যুদ্ধবিরতি সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি, কম্বোডিয়া সংঘাতটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা করছে বলে তাইল্যান্ড মনে করে, তাতেও তারা অসন্তুষ্ট ছিল। জুলাই মাসের আগের যুদ্ধবিরতির তুলনায় এবার একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যভাবে এতে যুক্ত ছিলেন না, যদিও আমেরিকার বিদেশ দফতর প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত ছিল। চলতি মাসের শুরুতেই সেই আগের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে, যখন নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire) ভাঙার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে। তাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাইল্যান্ডের সি সা কেট প্রদেশে কম্বোডিয়ার দিক থেকে গোলাবর্ষণের জবাবে তাদের সেনারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় দুজন তাই সেনা জখম হন।

    তাইবাহিনীর হানা

    অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দাবি, প্রথমে আক্রমণ চালায় তাইবাহিনী, প্রেয়াহ ভিহেয়ার প্রদেশে। তারা আরও জানায়, কম্বোডিয়া পাল্টা আক্রমণ করেনি। ডিসেম্বরজুড়ে সংঘর্ষ চলতে থাকে। শুক্রবার তাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার ভেতরে আরও বিমান হামলা চালায় (Deadly Clash)। তাই বিমান বাহিনীর দাবি, বেসামরিক লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তারা কম্বোডিয়ার একটি সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এসব হামলাকে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের ওপর নির্বিচার আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছে। এবার যুদ্ধবিরতি কতটা টিকে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। কারণ দুই দেশেই জাতীয়তাবাদী আবেগ তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

    যুদ্ধ ব্যাপক ক্ষয় কম্বোডিয়ার

    বিশেষ করে কম্বোডিয়া বিপুল সংখ্যক সেনা এবং উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। সীমান্তে আগে দখলে থাকা অবস্থানগুলো থেকে তাদের সরে যেতে হয়েছে এবং তাই বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এসব ক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে (Thailand Cambodia Ceasefire)। সীমান্ত নিয়ে এই দুই দেশের মতবিরোধের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো। তবে চলতি বছরের শুরুতে উত্তেজনা বেড়ে যায়, যখন বিতর্কিত একটি মন্দিরে কম্বোডিয়ার কয়েকজন নারী দেশাত্মবোধক গান গেয়েছিলেন (Deadly Clash)। মে মাসে এক সংঘর্ষে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হন। এর দুমাস পরে, জুলাইয়ে, সীমান্তজুড়ে টানা পাঁচ দিন ধরে তীব্র লড়াই চলে। এতে কয়েক ডজন সেনা ও নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান,  বাস্তুচ্যুত হন হাজার হাজার নাগরিক। মালয়েশিয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পরে দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়, যা অক্টোবরের শেষ দিকে স্বাক্ষরিত হয়।

    কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি

    ট্রাম্প এই চুক্তির নাম দেন “কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি”। এই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষকে বিতর্কিত অঞ্চল থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার করতে হবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষক দল গঠন করতে হবে। তবে নভেম্বর মাসে তাইল্যান্ড এই চুক্তি স্থগিত করে দেয়, যখন মাইন বিস্ফোরণে তাই সেনারা জখম হন। তাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সেই সময় জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তাজনিত হুমকি বাস্তবে একেবারেই কমেনি (Thailand Cambodia Ceasefire)।

LinkedIn
Share