Tag: Cervical Cancer Prevention

  • Cervical Cancer: ৪০ পেরোলেই বাড়ছে বিপদ! ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সার, বাঁচার বড় অস্ত্র এই টিকা

    Cervical Cancer: ৪০ পেরোলেই বাড়ছে বিপদ! ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সার, বাঁচার বড় অস্ত্র এই টিকা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরোলেই বাড়তে পারে বিপদ! দেশ জুড়ে ক্রমশ মহিলা স্বাস্থ্য নিয়ে তাই উদ্বেগ বাড়ছে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই রুখতে না পারলে সমস্যা বাড়বে! ভারতে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সারের দাপট। তাই ভারতীয় মহিলাদের এই জটিল রোগ থেকে বাঁচাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার টিকাকরণ! দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মীরাও সম্প্রতি টিকা দেওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ রাজ্যের মহিলাদের জরায়ুর ক্যান্সার রুখতেও তাই ভরসা টিকাকরণে!

    ভারতে জরায়ুর ক্যান্সার কতখানি বিপজ্জনক?

    প্রত্যেক বছরেই জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সময় মতো রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে জরায়ুর ক্যান্সার সম্পূর্ণ সেরে ওঠা সম্ভব। কিন্তু তারপরেও দেশে যে হারে প্রতি বছর জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু বাড়ছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগের। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৭৯ হাজার মহিলা নতুন করে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার মহিলা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই মৃত্যুর সংখ্যা খুবই উদ্বেগজনক।‌ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জরায়ুর ক্যান্সার শরীরে তৈরি হতে সময় নেয় আনুমানিক ১০ বছর। অর্থাৎ তরুণীর শরীরে সেই রোগের সূচনা হলেও, আক্রান্ত টের পায় মধ্য বয়সে। ভারতে অধিকাংশ জরায়ুর ক্যান্সার আক্রান্তের বয়স ৪০-৪৫ বছর। এই রোগ রুখতে এবং মৃত্যু হার কমাতে মূল হাতিয়ার লাগাতার রোগ পরীক্ষা এবং টিকাকরণ। কারণ, সময় মতো রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করতে পারলে এই রোগের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

    কেন ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি জরুরি। কতখানি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন, সেই স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোন ধরনের সংক্রমণ হতে পারে, কোন ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে, সে সম্পর্কে জানানো জরুরি। কিন্তু সেই সম্পর্কে আলোচনা হয় না। নানান সামাজিক ছুৎমার্গের জেরে খোলামেলা ভাবে স্কুল স্তর থেকে এই ধরনের আলোচনা হয় না। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ সচেতন নয়। যার ফলে এ দেশে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু হওয়ার অন্যতম কারণ, টিকাকরণের হার কম এবং লাগাতার স্ক্রিনিং নিয়েও অসচেতনতা। ক্যান্সার প্রাথমিক পর্বেই চিহ্নিত হলে, জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। কিন্তু রোগ নির্ণয় ঠিক সময়ে না হওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদিও সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে লাগাতার স্ক্রিনিং এবং টিকাকরণে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, টিকাকরণ কর্মসূচি লাগাতার চালালে আগামী কয়েক দশকে তার ফল পাওয়া যাবে! উল্লেখযোগ্য হারে মৃত্যু হার কমবে।

    কেন জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণ জরুরি?

    দেশ জুড়ে জরায়ুর ক্যান্সার মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার হয়ে উঠছে টিকাকরণ। বাদ নেই পশ্চিমবঙ্গ! সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের এই নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণেই সবচেয়ে বেশি ভরসা করছেন।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, এইচপিভি (HPV) সংক্রমণের জেরেই মহিলাদের শরীরে জরায়ুর ক্যান্সার হয়। তাই এইচপিভি টিকাকরণ হলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমবে। এই টিকা নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি শরীরে এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেও সক্ষম হবে। ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। পাশপাশি এই টিকরণে ভরসা রাখার আরেকটি কারণ হলো, প্রি-ক্যান্সার ক্ষত কমবে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ক্যান্সার হওয়ার আগে অস্বাভাবিক হারে কোষের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন রুখতেও টিকা সাহায্য করবে। টিকাকরণ হলে দেশ জুড়ে জরায়ুর ক্যান্সারের বোঝা কমবে। মৃত্যু হার কমবে। ফলে দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের আশঙ্কাও কমবে।

    টিকাকরণ হলেই কি সব বিপদ মুক্ত?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণ জরুরি। টিকাকরণ হলে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাও পাওয়া যাবে। কিন্তু টিকাকরণ হলেই যে সব বিপদ ঠেকানো যাবে এমনটা নয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, রোগ ঠেকাতে টিকা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। কিন্তু জরায়ুর ক্যান্সারের বিপদ কমাতে অন্যতম বড় অস্ত্র হলো, লাগাতার শারীরিক পরীক্ষা। শরীরে রোগ বাসা বাঁধছে কিনা, সে সম্পর্কে প্রাথমিক পর্বেই নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অধিকাংশ জরায়ুর ক্যান্সার আক্রান্তের চিকিৎসা অনেক দেরিতে শুরু হয়। এর ফলে, রোগ আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু হার কমাতে লাগাতার স্ক্রিনিং নিয়ে সচেতনতা জরুরি। তিরিশ উর্ধ্ব মহিলাদের বছরে অন্তত একবার শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। যাতে তাঁদের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিনা, কোষে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাহলেই এই জটিল রোগ মোকাবিলা সহজ হবে।

  • Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জরায়ুমুখ ক্যানসার (Cervical Cancer) প্রতিরোধে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা সংক্ষেপে এইচপিভি (Human Papillomavirus, HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই রাজ্যব্যাপী অভিযানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে জাতীয় এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছিল। এবার সেই জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গও।

    প্রথম পর্যায়ে ২৩৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম ধাপে রাজ্যের ২৩৫টি সরকারি হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলায় পৌঁছেছে ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা। সরকারের লক্ষ্য, শহর থেকে গ্রাম—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। সেই কারণে ধাপে ধাপে (Phased Expansion Plan) টিকাকরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০টি নতুন শয্যারও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কারা এই টিকা পাবে?

    বর্তমান পর্যায়ে এই বিনামূল্যের টিকাকরণ কর্মসূচি শুধুমাত্র ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের জন্য চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কৈশোরের এই বয়সকে এইচপিভি টিকা নেওয়ার জন্য ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়। কারণ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যেসব পরিবারের কন্যাসন্তানের বয়স ১৪ বছর, তারা নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করে টিকা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এইচপিভি টিকা?

    চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এইচপিভির কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রেন জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ। বিশেষ করে এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এইচপিভি ভ্যাকসিন এই ভাইরাসজনিত ক্যানসারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার ছাড়াও গলা, মলদ্বার এবং অন্যান্য এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

    বিধাননগরে উদ্বোধন

    শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, স্থানীয় বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, মহিলাদের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার (সার্ভাইক্যাল ক্যানসার) অন্যতম মারাত্মক, যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড় লক্ষ মহিলাকে আক্রান্ত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ পরিসরে এইচপিভি টিকাকরণ চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কিশোরী দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে।

LinkedIn
Share