মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চেক বাউন্সের ঘটনা নিয়ে এবার এক জরুরী ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বলা হয়েছে, চেকের ফর্ম ফিল আপ যেই করুক না কেন, যিনি চেকে সই করেছেন, তিনিই সেই চেকের দায়িত্বে থাকবেন। সেক্ষেত্রে চেক বাউন্স হলেও সেটির সমস্ত দায়ভার স্বাক্ষরকারীর।
অনেক সময়ই চেক বাউন্সের ঘটনা সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, সই করেছেন একজন ও ফর্ম ফিলাপ করেছেন অন্যজন। এই ক্ষেত্রে চেক বাউন্স হলে কে তার দায়ভার নেবে এই নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছিল, এবার এই বিতর্ক শেষ করে সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং এ এস বোপান্নার ডিভিশন বেঞ্চে একটি চেক বাউন্সের মামলা চলছিল। আর এই মামলা চলাকালীন তাঁরা জানালেন, চেক বাউন্স হলে দায়িত্ব স্বাক্ষরকারীর।
এই মামলায় অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন, তিনি একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক কেবল সই করে দিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর সেই চেক বাউন্স হলে পরে দিল্লি হাই কোর্ট এক হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞকে চেকটি পরীক্ষা করার অনুমতি দেয়। চেকটি ফিল আপ ও সই একজনই করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়।
আরও পড়ুন: মাত্র ৪ দিনেই নিষ্পত্তি প্রায় ১৩০০ মামলার, জানালেন সুপ্রিম কোর্টের নয়া প্রধান বিচারপতি
আর এরপরেই আসল সত্য জানা গেল, চেকটি যে ফিল আপ করেছেন আর যে স্বাক্ষর করেছেন, দুজনেই আলাদা। আর এই প্রসঙ্গেই এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, রিপোর্ট অনুসারে চেকটি ফিল আপ যদি অন্য কেউও করে থাকেন কিন্তু যিনি সেটিতে সই করেছেন, তাঁকেই এই চেকটির দায় নিতে হবে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, চেকটিতে যিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং সেটি তিনি অন্য কাউকে দিয়েছেন, ফলে এই ক্ষেত্রে তিনিই দায়বদ্ধ হবেন।
উল্লেখ্য, মে মাসেই সুপ্রিম কোর্ট তিনজন বিচারপতি এ নাগেশ্বরা রাও (L Nageswara Rao), বিআর গাভাই (BR Gavai), এস রবীন্দ্র ভাট (S Ravindra Bhat)-দের নিয়ে একটি বিশেষ আদালত গঠন করে। দেশের বিভিন্ন রাজ্য যেমন মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে অনেক চেক সংক্রান্ত মামলা জমে রয়েছে। তাই এই মামলাগুলি দ্রুত শেষ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট এই পদক্ষেপ নেয়। চেক বাউন্সের এই মামলাগুলি তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্যে এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট অনেকগুলি নির্দেশিকা জারি করেছিল। এবং কেন্দ্রকেও অনুরোধ করেছিল যে এমন ধরণের মামলার ক্ষেত্রে এক নিশ্চিত আইন তৈরি করতে হবে।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।