Tag: Children Health Tips

  • Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শহর থেকে জেলা, সেজে উঠেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের মেজাজে! রাস্তা জুড়ে মানুষের ঢল! দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতেছে আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ!
    দুর্গাপুজোয় রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা বাঙালির বহু দিনের অভ্যাস। কিন্তু একটানা দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকা, ভিড়ের মধ্যে হাঁটাহাঁটি, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, কম জল খাওয়া এবং ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফেরার পথে যাতায়াত—সব মিলিয়ে শরীরের উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বিশেষত শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। তাই রাত জেগে প্রতিমা দর্শন করলে কয়েকটি দিকে, বাড়তি নজর না রাখলেই বিপদ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রাত জেগে ঠাকুর দেখার কী বিপদ আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক ক্লান্তি!

    রাত জেগে ঠাকুর দেখা মানেই পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাঘাত! এর জেরেই একাধিক সমস্যা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঘুম কম হলে পরের দিন ঝিমুনি, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা, বিরক্তি এবং মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    জলশূন্যতা ও দুর্বলতা

    প্রতিমা দর্শন মানেই ভিড়ে হাঁটতে হয়! ভিড় ঠেলে এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, ঘাম হওয়া, গরমে ভিড়ের মধ্যে থাকা এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

    শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও অ্যালার্জি

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দূষণ এবং নানান পরিবেশগত সমস্যার কারণে শিশু থেকে বয়স্ক কম বেশি সকলেই ফুসফুসের নানান সমস্যায় ভোগেন। উৎসবের মরশুমে ভিড় এলাকায় ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। তাই একনাগাড়ে ধুলো, ধোঁয়া ও দূষণ থেকে হাঁপানি বা অ্যালার্জির উপসর্গও বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    পায়ে ব্যথা ও পেশির ক্লান্তি

    ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখা বাঙালির দুর্গা পুজোর চির পরিচিত ছবি। কিন্তু অনেক সময়েই অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য প্রতিমা দর্শনের জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পায়ের পেশিতে ব্যথা, কোমরে অস্বস্তি, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া এবং আগে থেকে থাকা হাঁটু বা কোমরের সমস্যার বেড়ে যেতে পারে।

    হজমের গোলমাল ও রক্তে শর্করার ওঠানামা

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত হজমের গোলমাল দেখা দেয়। তার উপরে উৎসবের দিনে অনেক সময়েই খাবারের অনিয়মিত দেখা দেয়। ঠিকমতো খাবার না খাওয়া, আবার অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মশলাদার খাবার এবং রাতের দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া বিপদ বাড়ায়। এতে অম্বল, গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাবার ও ওষুধের সময়ের পরিবর্তনে রক্তে শর্করার মাত্রাও ওঠানামা করতে পারে।

    হৃদরোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও জলের ঘাটতি, একসঙ্গে হলে শরীরের উপর চাপ বাড়তে পারে। তবে রাত জাগলেই হার্টের বড় সমস্যা হবে, এমন নয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘাম হলে সেটিকে ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

    বিপদ এড়াতে কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন?

    চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাধারণ স্বাস্থ্য-পরামর্শের ভিত্তিতে পুজোর রাতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ঘুমের ঘাটতি এড়ানো, পর্যাপ্ত জল পান এবং ভিড়ের মধ্যে বিরতি নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ঘুমের সময়ের সঙ্গে আপস নয়!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জেগে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত অন্তত ৭ ঘণ্টা এবং ৬–১২ বছরের শিশুদের ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পরপর কয়েক রাত ঘুম কমিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনো এড়িয়ে চলুন। বরং একটা রাত ঠিকমতো ঘুম না হলে, পরের দিন অন্তত যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

    পর্যাপ্ত জল পান করুন

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিমা দর্শনে বেরনোর সময় সঙ্গে জলের বোতল রাখতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল পান করতে হবে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরের অবস্থা অনুযায়ী তরল গ্রহণ করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এনার্জি ড্রিঙ্ক বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাবেন না।

    খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ঠিকমতো খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক সমস্যা এড়ানো সহজ হয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে হালকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা চলবে না । রাস্তার খাবার খেলে পরিষ্কারভাবে তৈরি, ভালোভাবে রান্না করা খাবার বেছে নিতে হবে এবং নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করতে হবে।

    শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে কী বিশেষ সতর্কতা জরুরি?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জাগার পরিবর্তে সন্ধ্যার দিকে ঠাকুর দেখানোর পরিকল্পনা ভালো। শিশুর ঘুম, খাবার ও জল খাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে। ভিড়ে মাস্ক ব্যবহার এবং ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। প্রবীণদের ক্ষেত্রেও বাড়তি নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা ও ভিড়ের মধ্যে থাকার পরিকল্পনা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধের সময় বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে বিপদ বাড়তে পারে।

LinkedIn
Share