Tag: Children’s mental health and puberty

  • Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে সময়! জীবন যাপনের অভ্যাস। আর বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকটাই বদলে গিয়েছে আমাদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তাই এগিয়ে এসেছে বয়ঃসন্ধিকাল। কয়েক দশক আগেও বয়ঃসন্ধিকাল বলতে ১৪-১৫ বছরের সময় বোঝানো হতো। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্ত লক্ষণ এখন এগিয়ে আসছে। এখন ১১-১২ বছর বয়স থেকেই ছেলেমেয়েরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে বয়ঃসন্ধিকালে পোঁছে যাচ্ছে। তাই অভিভাবদের ও আলাদা ভাবে প্রস্তুতি প্রয়োজন। সন্তানের সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য এই সন্ধিক্ষণের সময়ে সবরকম বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি।

    বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে যাওয়া কাকে বলে?

    ভারতের পাশপাশি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধিকালের লক্ষণ প্রকট হয়েছে। অর্থাৎ, গত কয়েক দশক আগেও যে সময়ে শিশু কৈশোরে পা দিতো, সম্প্রতি কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট বয়সের আগেই সে শারীরিক ও মানসিক ভাবে কৈশোর জীবনে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের ১৭ শতাংশ মেয়েদের ১২ বছরের আগে ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। ২০ শতাংশ ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ৮-১০ বছরের মধ্যেই গোপনীয়তা বোধ, জোরালো মতামত এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ে। এই লক্ষণগুলো মানসিকভাবে বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
    এই সমীক্ষার তথ্য জানান দিচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে এসেছে। অর্থাৎ ১৪-১৫ বছর বয়সের পরিবর্তন এখন ১০-১২ বছর বয়সেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    কেন এগিয়ে আসছে বয়ঃসন্ধিকাল?

    এই পরিবর্তনের মূলত তিনটি কারণ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসার মূলত কারণ খাদ্যাভ্যাস। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে শিশুদের অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। প্রয়োজনের বেশি প্রাণীজ প্রোটিন তারা নিয়মিত খায়। এর ফলে শরীরে স্থুলতা দেখা দেয়। এই জন্য দ্রুত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন শুরু হয়‌। তাছাড়া অধিকাংশ শিশু প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত। এই খাবারগুলোতে ব্যবহৃত রাসায়নিক শরীরের হরমোন পরিবর্তন ঘটায়। তাই বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসছে।

    শরীরের পাশাপাশি বয়ঃসন্ধিকালে মনের পরিবর্তন হয়। এই মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। ইন্টারনেট ও মোবাইল শিশুর জানার পৃথিবী পরিবর্তন করেছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এখন অনেক কিছুই শিশুর কাছে সহজলভ্য। বড়দের অনেক বিষয় তারা সহজেই জানতে পারছে‌। এর ফলে তাদের মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে। সময়ের আগেই গোপনীয়তা বোধ তৈরি হচ্ছে।

    পরিবারের ধরন বদলে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশু এখন আর যৌথ পরিবারে থাকে না। বাবা-মা এবং সন্তান। অধিকাংশ পরিবারে এখন তিন সদস্য। পরিবারের ছোট্ট সদস‌্য বাবা-মায়ের আলোচনা, কথা শুনেই বড় হচ্ছে। অনেক সময়েই বাবা-মায়ের আলোচনার বিষয় অনেক পরিণত হয়। সেগুলো সন্তানের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। সময়ের আগেই তারা এমন অনেক বিষয় জানতে পারে, যেগুলো পরিণত বয়সে জানা উচিত। পরিবারে একাধিক সদস্য থাকলে ছোটোদের নিজের আলাদা মেলামেশার সুযোগ বাড়ে। কিন্তু ছোটো পরিবারে সেটা সম্ভব নয়। এর ফলেও তাদের মধ্যে দ্রুত মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে।

    কীভাবে সন্তানের যত্ন নেবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আর্লি টিনএজ বা সময়ের আগেই দ্রুত বয়ঃসন্ধিকালে দাঁড়ানো, এখন বিশ্বজনীন সমস্যা। তাই এই সঙ্কট মোকাবিলার জন্য অভিভাবকদের আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। শিশুর ৮-১০ বছর বয়স থেকেই তাকে শরীর ও মনের পরিবর্তন সম্পর্কে জানানো জরুরি। বিশেষত মেয়েদের সেই পাঠ বাড়তি যত্নের সঙ্গে শেখানো জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ বড়‌ কোনো শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে, সন্তান ঘাবড়ে যেতে পারে। তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। জীবনের যে পরিবর্তনগুলো খুবই স্বাভাবিক সে সম্পর্কে জানানো জরুরি। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা প্রয়োজন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা বহু প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়েই জানতে পারে। কিন্তু সেই জানার মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণা মিশে থাকে। অভিভাবকদের কথা বলে সেগুলো স্পষ্ট করা জরুরি। তবেই মানসিক গঠন ঠিক মতো হবে। তাছাড়া তাদের মতামত শোনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে তারা আত্মবিশ্বাস পাবে। অকারণ গোপনীয়তা তৈরি হবে না। তবে সন্তান কী ধরনের কন্টেন্ট দেখছে, সেগুলো তার জন্য উপযুক্ত কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। কৈশোরে এমন অনেক বিষয়েই আগ্রহ জন্মায়, যা সময়োপযোগী নয়। কথা বলেই সে সম্পর্কে সজাগ করতে হবে।

    মানসিক চাপ কমানো এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তার পাশপাশি কৈশোরে পা দেওয়ার সময় শরীরের একাধিক পরিবর্তন হয়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থ খাওয়া জরুরি। খনিজ পদার্থ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। তাই ১০ বছরের পরে ছেলেমেয়েদের নিয়মিত বাদাম, কিসমিস, কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোট জাতীয় খাবার দেওয়া উচিত। যাতে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাহলে শরীর ও মন সুস্থ থাকবে‌।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share